Home Blog

ভোগান্তি ও জটিলতায় কমেছে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের হার

0

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন করতে গিয়ে নানা ধরনের জটিলতা ও ভোগান্তির মুখে পড়ছেন নাগরিকরা। কারও নিজের জন্মনিবন্ধন না থাকায় সন্তানের নিবন্ধন আটকে যাচ্ছে, আবার কারও নামের সঙ্গে দ্বিতীয় নাম না থাকায় অনলাইন আবেদনে তৈরি হচ্ছে জটিলতা। কোথাও আবার জন্মস্থান ও ভোটার এলাকার ভিন্নতার কারণে এক অফিস থেকে অন্য অফিসে ঘুরতে হচ্ছে। এসব সমস্যার পাশাপাশি দালালদের বাড়তি অর্থ দাবির অভিযোগও রয়েছে।

কুমিল্লার মুরাদনগরের আলীচর এলাকার সালমা বর্তমানে ঢাকার মিরপুরের ঝিলপাড় বস্তিতে থাকেন। জাতীয় পরিচয়পত্রে শুধু ‘সালমা’ নামেই পাসপোর্ট করেছেন তিনি। কিন্তু সন্তানের জন্মনিবন্ধনের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছেন। আবেদনে নিজের জন্মনিবন্ধন নম্বর দিতে বলা হলেও এক শব্দের নাম দিয়ে তার জন্মনিবন্ধন করা সম্ভব হচ্ছে না। নামের সঙ্গে ‘বেগম’, ‘আক্তার’ কিংবা অন্য কোনো দ্বিতীয় নাম যুক্ত করার প্রয়োজন হচ্ছে।

নিজের পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধনের তথ্য সংশোধন করতে সালমাকে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে স্থানীয় কার্যালয়ে বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এতে হয়রানির আশঙ্কায় এবং জীবিকার তাগিদে কাজ ফেলে সেই প্রক্রিয়ায় যেতে পারছেন না তিনি। ফলে তার নিজের জন্মনিবন্ধন যেমন হচ্ছে না, তেমনি আটকে আছে সন্তানের জন্মনিবন্ধনও।

জন্মনিবন্ধন না থাকায় সন্তানকে স্কুলে ভর্তি করাতেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ভবিষ্যতে সরকারি বিভিন্ন সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

সম্প্রতি ঢাকার মিরপুরের ঝিলপাড়, ট-ব্লক, চলন্তিকা ও আরামবাগ বস্তি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, একই ধরনের সমস্যায় রয়েছেন আরও অনেকে।

ঝিলপাড় বস্তির বাসিন্দা নুসরাতের তিন সন্তানের বয়স যথাক্রমে পাঁচ, তিন ও এক বছর। এখনো কারও জন্মনিবন্ধন হয়নি। কারণ, নুসরাতের নিজেরই জন্মনিবন্ধন নেই।

অন্যদিকে চার বছর বয়সী আব্দুল্লাহ আল বাসিতের বাবার নাম আ. মান্নান এবং মায়ের নাম ময়না। অভিভাবকদের নামের অসম্পূর্ণতার কারণে তারও জন্মনিবন্ধন করা যায়নি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। নিবন্ধন করিয়ে দেওয়ার জন্য একজন দালাল তাদের কাছে ১ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। বাড়তি এই অর্থ দেওয়ার সামর্থ্য না থাকায় নিবন্ধন করাতে পারেননি তারা।

জন্মনিবন্ধন করতে গিয়ে ভোগান্তির এমন অভিজ্ঞতার কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তুলে ধরেছেন অনেকে। সাবরিনা জান্নাত আরা নামে এক গৃহবধূ জানিয়েছেন, মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করাতে জন্মনিবন্ধন প্রয়োজন হওয়ায় তিনি নিবন্ধন করতে যান। সেখানে তাকে জানানো হয়, নতুন নিয়ম অনুযায়ী বাবা-মা দুজনেরই জন্মনিবন্ধন থাকতে হবে। তার নিজের জন্মনিবন্ধন থাকলেও স্বামীর জন্মনিবন্ধন না থাকায় নতুন করে সেটি করতে উদ্যোগ নিতে হয়।

কিন্তু স্বামীর জন্মস্থান ও বর্তমান ভোটার এলাকার ভিন্নতার কারণে একাধিক দপ্তরে যোগাযোগ করেও সমস্যার সমাধান হয়নি বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, একটি সাধারণ সরকারি সেবা নিতে গিয়েও নাগরিকদের বারবার ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে ‘নির্ভুল নিবন্ধন, নিশ্চিত হবে সুশাসন’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ মঙ্গলবার পালিত হচ্ছে জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস-২০২৬। দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি নিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এর মধ্যে রয়েছে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা এবং বিশেষ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ক্যাম্পেইন।

তবে এরই মধ্যে গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের হার কমে গেছে। বিষয়টি নিয়ে মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সম্প্রতি জেলা প্রশাসকদের চিঠি দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে জন্মের এক বছরের মধ্যে জন্মনিবন্ধনের হার ছিল ৬৩ শতাংশ এবং মৃত্যু নিবন্ধনের হার ৫৯ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে এই হার কমে যথাক্রমে ৪৩ শতাংশ ও ৫৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

সরকারের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে জন্ম ও মৃত্যুর এক বছরের মধ্যে নিবন্ধনের হার ছিল যথাক্রমে ৪৯ ও ৪৭ শতাংশ। পরের বছর তা বেড়ে জন্মনিবন্ধনে ৬৩ এবং মৃত্যু নিবন্ধনে ৫৯ শতাংশে পৌঁছায়। তবে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে জন্মনিবন্ধনের হার ২০ শতাংশীয় পয়েন্ট এবং মৃত্যু নিবন্ধনের হার ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠিতে বলা হয়েছে, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) এবং এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সিআরভিএস আঞ্চলিক কর্মপরিকল্পনার আওতায় বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে জন্ম ও মৃত্যুর এক বছরের মধ্যে শতভাগ নিবন্ধন সম্পন্ন করার আন্তর্জাতিক লক্ষ্য গ্রহণ করেছে। এই লক্ষ্য অর্জনে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন আবেদনের জটিলতা, তথ্যের অসঙ্গতি, দালালদের বাড়তি অর্থ দাবি এবং বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে অনেক মানুষ নিবন্ধনের বাইরে থেকে যাচ্ছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের কার্যক্রম সহজ করার প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে জটিলতা রয়ে গেছে। সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে এলাকাভিত্তিক ক্যাম্পেইন এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে সম্পৃক্ত করার পরামর্শ দেন তিনি। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে শিশু জন্মের পরপরই স্থায়ী ঠিকানা উল্লেখ করে জন্মনিবন্ধনের ব্যবস্থা করার ওপর গুরুত্ব দেন।

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের রেজিস্ট্রার জেনারেল আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে এক বছরের মধ্যে শতভাগ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের লক্ষ্য রয়েছে। তবে এই লক্ষ্য অর্জনের পথে ভুয়া নিবন্ধন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভুয়া নিবন্ধন বন্ধে অভিযান ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে চলতি বছর নিবন্ধনের হার কিছুটা কম দেখা যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

তার ভাষ্য, বাস্তব ও নির্ভুল তথ্যের ভিত্তিতে নিবন্ধন নিশ্চিত করতে গিয়ে সংখ্যাগতভাবে নিবন্ধনের হার কমেছে। আগে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে গিয়ে কিছু এলাকায় ভুয়া জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের ঘটনা ঘটেছিল বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মুর্শিদা শারমিন বলেন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের হার কমে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বদলি হয়ে যাওয়া এবং নতুন কর্মকর্তা দায়িত্ব নেওয়ার পর কাজের ধারাবাহিকতায় পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয় এর সঙ্গে জড়িত হতে পারে। তবে প্রকৃত কারণগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জুবায়ের বলেন, নাগরিকদের নির্ভুল ও সর্বজনীন তথ্য সংরক্ষণ সুশাসনের অন্যতম ভিত্তি। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন সংস্কার করে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধনের দায়িত্ব দেওয়া হলে ২০৩০ সালের মধ্যে শতভাগ নিবন্ধনের লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে।

নারী কথা থেকে ইতিহাসের পাতায়- চট্টগ্রামের প্রথম নারী জেলা প্রশাসক থেকে ঢাকার প্রথম নারী জেলা প্রশাসক—ফরিদা খানমকে অভিনন্দন-

-মো. কামাল উদ্দিনঃ
ইতিহাস কখনো শুধু তারিখ, পদবি কিংবা দায়িত্বের তালিকা দিয়ে লেখা হয় না। ইতিহাস তৈরি হয় মানুষের কর্মে, সাহসে, নিষ্ঠায় এবং মানুষের জন্য কিছু করার অদম্য ইচ্ছায়। আর সেই ইতিহাসে যখন কোনো নারীর পদচিহ্ন যুক্ত হয়, তখন তার তাৎপর্য আরও গভীর হয়ে ওঠে।
ফরিদা খানম—একটি নাম, একটি প্রশাসনিক পরিচয়, আবার একই সঙ্গে বাংলাদেশের নারী নেতৃত্বের অগ্রযাত্রার একটি উজ্জ্বল অধ্যায়।
গত ২০২৫ সালের এই দিনে, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের দায়িত্বে ছিলেন ফরিদা খানম। চট্টগ্রামের দীর্ঘ ১২৮ বছরের প্রশাসনিক ইতিহাসে প্রথম নারী জেলা প্রশাসক হিসেবে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণ ছিল নিঃসন্দেহে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। সেই সময় একজন লেখক ও সাংবাদিক হিসেবে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং নারীর জীবন, সংগ্রাম ও সাফল্য নিয়ে লেখা আমার প্রিয় গ্রন্থ ‘নারী কথা’ তাঁর হাতে তুলে দেওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার।
ছবিটি সেই দিনের। হাতে ‘নারী কথা’, সামনে একজন ইতিহাসসৃষ্টিকারী নারী প্রশাসক—আজ এক বছর পর ছবিটির দিকে তাকালে মনে হয়, সময় যেন সেদিনের সেই মুহূর্তটিকে আরও বড় একটি অর্থ দিয়ে দিয়েছে।
কারণ, চট্টগ্রামের সেই ইতিহাস পেরিয়ে আজ ফরিদা খানম ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আর এখানেও তিনি ঢাকার ইতিহাসে প্রথম নারী জেলা প্রশাসক হিসেবে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন।
অর্থাৎ, একজন নারী প্রশাসকের পথচলায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা—দুটি গুরুত্বপূর্ণ জেলার প্রশাসনিক ইতিহাসেই তিনি ‘প্রথম’ হয়ে রইলেন।
এটি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি বাংলাদেশের নারী সমাজের জন্যও এক অনুপ্রেরণার গল্প।
একজন নারী, যিনি পদকে নয়—কাজকে বড় করেছেন
জেলা প্রশাসকের পদ নিঃসন্দেহে রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাঠ প্রশাসনিক দায়িত্ব। একটি জেলার প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা, উন্নয়ন, জনসেবা, দুর্যোগ মোকাবিলা, সরকারি কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং সাধারণ মানুষের নানা প্রত্যাশার সঙ্গে এই দায়িত্ব ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
আর ঢাকা—দেশের রাজধানীর প্রশাসনিক বাস্তবতা আরও ব্যাপক, জটিল ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ।
এই বিশাল দায়িত্বের কেন্দ্রে একজন নারী হিসেবে ফরিদা খানমের দায়িত্ব পালন তাই নিছক একটি পদায়ন নয়; এটি সক্ষমতা, দক্ষতা, নেতৃত্ব এবং মানবিকতার এক বড় পরীক্ষা।
ইতোমধ্যে তাঁর কর্মধারায় যে বিষয়টি বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, তা হলো—প্রশাসনকে মানুষের কাছে নেওয়ার চেষ্টা।
সরকারের উন্নয়ন, জনকল্যাণ ও বিভিন্ন কার্যক্রমের সুফল যেন সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, সে লক্ষ্যে তাঁর সক্রিয়তা একজন জেলা প্রশাসকের দায়িত্বকে কেবল দাপ্তরিক সীমার মধ্যে আবদ্ধ রাখেনি; বরং মানুষের সঙ্গে প্রশাসনের দূরত্ব কমানোর একটি প্রয়াস হিসেবে প্রতিভাত হয়েছে।
একজন জেলা প্রশাসকের সাফল্য শুধু কতটি সভা হলো, কতটি ফাইল নিষ্পত্তি হলো কিংবা কতটি সরকারি কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলো—তা দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। মানুষের মুখে স্বস্তির হাসি, অসহায়ের পাশে প্রশাসনের উপস্থিতি এবং নাগরিকের মনে রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা তৈরি করতে পারাও একজন সফল প্রশাসকের বড় অর্জন।
এই জায়গাটিতেই ফরিদা খানমকে আমি একজন মানবিক জেলা প্রশাসক হিসেবে দেখতে চাই।
চট্টগ্রামে তাঁর পথচলা—একটি স্মরণীয় অধ্যায়
চট্টগ্রাম শুধু একটি জেলা নয়; এটি ইতিহাস, ঐতিহ্য, অর্থনীতি, বন্দর, পাহাড়, সমুদ্র ও অসংখ্য মানুষের স্বপ্নের শহর।
এই চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ফরিদা খানম যে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন, তা বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। কারণ, তাঁর আগে ১২৮ বছরের প্রশাসনিক ইতিহাসে কোনো নারী এই জেলার জেলা প্রশাসকের দায়িত্বে আসেননি।
তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের সময় থেকেই একজন সাংবাদিক হিসেবে আমি তাঁর কর্মতৎপরতা পর্যবেক্ষণ করেছি। তাঁর বিভিন্ন কার্যক্রম, উদ্যোগ ও প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সংবাদ ও বিশ্লেষণধর্মী লেখা প্রকাশ করেছি।
দৈনিক ভোরের আওয়াজ, ইংরেজি ব্যানার পত্রিকা, চট্রল চিত্র, সময়ের আলোসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে ধারাবাহিকভাবে লিখেছি। কখনো বিশেষ প্রতিবেদন, কখনো বিশেষ সংখ্যা, কখনো সম্পাদকীয় ভাবনার অংশ হিসেবে তাঁর কর্মযাত্রাকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।
আমার কাছে সেটি ছিল শুধু একজন সরকারি কর্মকর্তাকে নিয়ে লেখা নয়; বরং একজন নারী কীভাবে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্বকে নিজের যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে ধারণ করছেন—সেই গল্পটি তুলে ধরার চেষ্টা।
‘নারী কথা’—একটি বই, একটি বিশ্বাস
এই জায়গাতেই এসে ‘নারী কথা’ বইটির প্রসঙ্গটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।
২০১০ সালে প্রকাশিত আমার বই ‘নারী কথা’ আমার লেখকজীবনের অন্যতম প্রিয় সৃষ্টি। আমার প্রকাশিত প্রায় ত্রিশটি বইয়ের মধ্যে এই বইটির প্রতি আমার আলাদা এক আবেগ ও গর্ব রয়েছে।
কারণ, এটি শুধু নারীদের নিয়ে লেখা কোনো সাধারণ গ্রন্থ নয়। এখানে রয়েছে নারীর জীবনসংগ্রাম, স্বপ্ন, ব্যর্থতা, সাফল্য, বেদনা, আত্মমর্যাদা ও ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প।
বইটিতে দশজন নারীর জীবনের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরার পাশাপাশি রয়েছে অসংখ্য নারীর সাক্ষাৎকার। প্রত্যেকটি জীবনের ভেতরে রয়েছে আলাদা গল্প, আলাদা সংগ্রাম এবং আলাদা এক পৃথিবী।
এর মধ্যে বিশেষভাবে স্মরণীয় সৌদি আরবের বিদ্রোহী রাজকন্যা সুরাইয়ার সাক্ষাৎকার।
২০০৪ সালে কাতারের শেরাটন হোটেলে আমি সরাসরি তাঁর সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছিলাম। সেই সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে সৌদি আরবের নারীদের জীবন, সীমাবদ্ধতা, সংগ্রাম এবং পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার অনেক অজানা দিক তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।
অর্থাৎ ‘নারী কথা’ লিখতে গিয়ে আমি শুধু নারীর কথা লিখিনি; আমি লিখেছি নারীর অস্তিত্ব, আত্মমর্যাদা, সংগ্রাম এবং সম্ভাবনার কথা।
২০১২ সালে কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব লেখক সম্মেলনে ‘নারী কথা’ উপস্থাপিত হওয়ার সুযোগ পায়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লেখকদের মাঝে বইটি প্রশংসিত হওয়া আমার লেখকজীবনের একটি স্মরণীয় অর্জন।
আর সেই ‘নারী কথা’ পৌঁছেছিল এক ইতিহাসসৃষ্টিকারী নারীর হাতে
তাই ২০২৫ সালের সেই দিনটি আমার কাছে বিশেষ ছিল।
চট্টগ্রামের প্রথম নারী জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের হাতে যখন ‘নারী কথা’র শেষ কপিটি তুলে দিয়েছিলাম, তখন আমার মনে হয়েছিল—বইটির নাম আর বইটি গ্রহণকারী মানুষটির মধ্যে যেন এক অদৃশ্য সেতুবন্ধন তৈরি হয়েছে।
একদিকে আমার লেখা—নারীর সংগ্রাম, স্বপ্ন ও সাফল্যের গল্প।
অন্যদিকে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একজন নারী—যিনি নিজেই তখন ইতিহাসের অংশ।
‘নারী কথা’র শেষ কপি যেন পৌঁছে গেল এমন একজন নারীর হাতে, যিনি নিজের কর্মজীবন দিয়েই প্রমাণ করছেন নারীর সক্ষমতার কোনো সীমারেখা নেই।
তিনি বইটি আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করেছিলেন। একজন লেখক হিসেবে সেই মুহূর্ত আমার জন্য ছিল গভীর আনন্দের, গর্বের এবং কৃতজ্ঞতার।
এক বছর পর ছবিটির অর্থ আরও গভীর
আজ, এক বছর পর যখন সেই ছবিটির দিকে ফিরে তাকাই, তখন মনে হয়—সেদিন আসলে শুধু একটি বই উপহার দেওয়া হয়নি; সময়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল একটি প্রতীকী মুহূর্ত।
তখন তিনি ছিলেন চট্টগ্রামের প্রথম নারী জেলা প্রশাসক।
আজ তিনি ঢাকার প্রথম নারী জেলা প্রশাসক।
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা—দুই জেলার প্রশাসনিক ইতিহাসের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে গেছে।
আর এই কারণেই আজ ‘নারী কথা’ বইয়ের সেই ছবিটি আমার কাছে আরও বেশি মূল্যবান।
একজন লেখক হিসেবে আমি নারীর গল্প লিখেছি; আর আমার চোখের সামনে একজন নারী নিজের কর্মজীবন দিয়ে লিখে চলেছেন নিজের গল্প।
ফরিদা খানম—একটি অনুপ্রেরণার নাম
আমার সঙ্গে তাঁর পরিচয় শুধু একজন জেলা প্রশাসক ও একজন সাংবাদিকের পেশাগত সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর কর্মময় পথচলার নানা দিক নিয়ে আমি বহুবার লিখেছি, তাঁকে নিয়ে সংবাদ করেছি, বিশেষ সংখ্যায় বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করেছি।
তাঁর কর্মজীবনের বিভিন্ন অধ্যায়কে গণমাধ্যমে তুলে ধরতে গিয়ে আমার বারবার মনে হয়েছে—বাংলাদেশের প্রশাসনে নারী নেতৃত্ব এখন আর ব্যতিক্রম নয়; বরং যোগ্যতা, মেধা ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে নারীরা নেতৃত্বের সর্বোচ্চ পর্যায়েও নিজেদের জায়গা করে নিচ্ছেন।
ফরিদা খানম সেই অগ্রযাত্রারই একজন দৃশ্যমান প্রতিনিধি।
তাঁর সাহিত্যপ্রেমের কথাও শুনেছি। আমার অনেক লেখক বন্ধুর সঙ্গে তাঁর সাহিত্যিক যোগাযোগ ও সৌহার্দ্য রয়েছে। একজন প্রশাসকের মধ্যে যখন সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা থাকে, তখন তাঁর মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি আরও সমৃদ্ধ হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
আমি বিশ্বাস করি, একজন ভালো প্রশাসক কেবল আইন ও বিধি দিয়ে মানুষকে দেখেন না; তিনি মানুষের জীবনকে বুঝতে চেষ্টা করেন। আর সাহিত্য সেই মানুষকে বোঝার অন্যতম বড় জানালা।
শুভকামনা—ইতিহাসের পথ আরও দীর্ঘ হোক
আজ ঢাকার জেলা প্রশাসক হিসেবে ফরিদা খানম যে দায়িত্ব পালন করছেন, তা নিঃসন্দেহে কঠিন, বিস্তৃত ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ।
তাঁর এই দায়িত্বকালে রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড আরও কার্যকরভাবে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাক—এই প্রত্যাশা করি।
মানুষ যেন প্রশাসনের দরজায় এসে শুধু নিয়মের দেয়াল না দেখে, বরং একজন মানবিক রাষ্ট্রকর্মীর সহমর্মিতার হাতও খুঁজে পায়—এই হোক তাঁর প্রশাসনিক দর্শনের সবচেয়ে উজ্জ্বল পরিচয়।
চট্টগ্রামের ১২৮ বছরের ইতিহাসে প্রথম নারী জেলা প্রশাসক হিসেবে যে পথ তিনি শুরু করেছিলেন, ঢাকায় এসে সেই পথ যেন আরও বিস্তৃত হয়েছে।
চট্টগ্রামের প্রথম নারী জেলা প্রশাসক—ঢাকারও প্রথম নারী জেলা প্রশাসক।
এটি শুধু দুটি পদবির ইতিহাস নয়; এটি একজন নারীর যোগ্যতা, সাহস, মেধা, কর্মনিষ্ঠা ও নেতৃত্বের প্রতি সময়ের স্বীকৃতি।
আর সেই ইতিহাসের একটি ছোট্ট স্মারক হয়ে থাকবে ‘নারী কথা’র সেই শেষ কপিটি।
আজ তাই গত বছরের সেই ছবির দিকে তাকিয়ে নতুন করে বলি-
ফরিদা খানম, আপনাকে অভিনন্দন।
চট্টগ্রামের ইতিহাসে আপনার ‘প্রথম’ পরিচয় আজ ঢাকার ইতিহাসেও নতুন অর্থ পেয়েছে। আপনার প্রশাসনিক পথচলা আরও সাফল্যমণ্ডিত হোক, মানুষের আস্থা ও ভালোবাসায় আরও সমৃদ্ধ হোক।
আর একজন লেখক হিসেবে আমার একান্ত আনন্দ এই যে
আমি একদিন ‘নারী কথা’ লিখেছিলাম নারীদের সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প বলতে; আজ সেই ‘নারী কথা’র একটি অধ্যায় যেন বাস্তবের মাটিতে নিজেই লিখে চলেছেন ফরিদা খানম।
ইতিহাসের পাতায় তাঁর নাম আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠুক—মানবিকতায়, কর্মে, সততায় এবং মানুষের জন্য কাজ করার অনন্য দৃষ্টান্তে।
‘নারী কথা’ থেকে ইতিহাসের পাতায়—ফরিদা খানমের এই যাত্রা হোক আরও দীর্ঘ, আরও দীপ্তিময়।

সিস্টেম মাইগ্রেশনে ৩০ ব্যাংকের কার্ড-এটিএমসহ বিভিন্ন সেবা সাময়িক বন্ধ

প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়ন ও নিরাপত্তা জোরদারে কিউক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশনের কারণে একসঙ্গে ৩০টি ব্যাংকের বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা সাময়িকভাবে সীমিত হয়েছে। এর আওতায় রয়েছে এটিএম, ক্যাশ রিসাইক্লিং মেশিন (সিআরএম), পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) এবং কিছু কার্ড ও লেনদেন সেবা।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাত ৯টা থেকে এসব সেবায় সীমাবদ্ধতা শুরু হয়েছে। ব্যাংকগুলোর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ পরিস্থিতি চলতে পারে। তবে মাইগ্রেশনের কাজ নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হলে সংশ্লিষ্ট সেবাগুলো তার আগেই স্বাভাবিক হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, কিউক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশনের কারণেই এ সাময়িক বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। তবে একসঙ্গে ৩০টি ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ সেবা সীমিত করার বিষয়টি আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানানো হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো নিজেদের উদ্যোগে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, নিরাপদ ও আধুনিক ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে কিউক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশনের কাজ চলছে। এর অংশ হিসেবে ৩০টি ব্যাংকের কিছু সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। তবে একসঙ্গে এতগুলো ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ সেবা সীমিত করার বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অসন্তোষ রয়েছে।

এই সময়ে কিউক্যাশ নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত এটিএম, সিআরএম ও পিওএস ব্যবহারে লেনদেনের সমস্যা হতে পারে। তবে সব ব্যাংকের সব সেবা একযোগে বন্ধ থাকবে না। ব্যাংকভেদে কোন সেবা কতক্ষণ সীমিত থাকবে, তা ভিন্ন হতে পারে।

সিস্টেম মাইগ্রেশনের কারণে সাময়িকভাবে সেবা সীমিত হওয়া ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে—বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, বেসিক ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ব্যাংক আলফালাহ বাংলাদেশ, কমিউনিটি ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, মেঘনা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক ও উরি ব্যাংক বাংলাদেশ।

গ্রাহকদের বিষয়টি জানাতে ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে এসএমএস পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি লেনদেনের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের বিকল্প ব্যবস্থা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো জানিয়েছে, কিছু ডেবিট কার্ড লেনদেন স্বাভাবিক থাকতে পারে। একই সঙ্গে অন্যান্য ব্যাংকের এটিএম ও পিওএস, বাংলা কিউআর এবং মোবাইল আর্থিক সেবা বিকাশ, নগদ ও উপায়ের মাধ্যমে লেনদেন চালু থাকার কথা রয়েছে।

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়ন ও নিরাপত্তা জোরদারের জন্য সিস্টেম আপগ্রেড বা মাইগ্রেশনের সময় সাময়িকভাবে কিছু সেবা বন্ধ রাখা স্বাভাবিক। তবে একসঙ্গে ৩০টি ব্যাংকের বিভিন্ন সেবা সীমিত থাকায় গ্রাহকদের ভোগান্তির আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষ করে জরুরি সময়ে এটিএম থেকে টাকা উত্তোলন, দোকানে কার্ডের মাধ্যমে কেনাকাটা, অনলাইন পেমেন্ট কিংবা কিউআর লেনদেনের প্রয়োজন হলে সমস্যায় পড়তে পারেন গ্রাহকরা। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যাদের জরুরি লেনদেনের প্রয়োজন রয়েছে, তাদের আগেই বিকল্প ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ব্যাংকগুলো জানিয়েছে, সিস্টেম মাইগ্রেশনের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকিং সেবাগুলো স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

৫০ হাজার টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগ থেকে রক্তাক্ত সংঘর্ষ” চার দিনেও মামলা নেই—চৌদ্দগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের তাণ্ডব, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

0

কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ৫০ হাজার টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক পরিবারের ওপর হামলা, নারী নির্যাতন, অস্ত্র দিয়ে আঘাত, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া, বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর এবং হত্যার হুমকির মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার চার দিন পেরিয়ে গেলেও নিয়মিত মামলা না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, ঘটনাটি নিছক পারিবারিক বা প্রতিবেশী বিরোধ নয়; ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বিরোধের সূত্রপাত এবং পরবর্তীতে সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা ঘটে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তী সময়ে চাঁদাবাজির মূল বিষয়টি এজাহারে যথাযথভাবে প্রতিফলিত না করে ঘটনাটিকে অপেক্ষাকৃত সাধারণ মারামারি ও লুটপাটের ঘটনায় সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে।


এ অবস্থায় চৌদ্দগ্রাম থানার পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পক্ষ।
ঘটনার শুরু যেভাবে
চৌদ্দগ্রাম থানার গুণবতী ইউনিয়নের আকদিয়া গ্রামের বাসিন্দা মফিজুর রহমানের অভিযোগ, তিনি কুমিল্লা শহরে চাকরি করেন এবং মাস শেষে বাড়িতে আসেন। তার বাড়ির পাশের বাসিন্দাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।
অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতিবেশীর দুটি বড় গাছের ডাল তার টিনের বসতঘরের ওপর চলে আসায় তিনি গাছের ডাল কাটার অনুরোধ করেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানো হলে অভিযুক্তরা তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং পরবর্তীতে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকে।
তবে ভুক্তভোগী পক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, এর সঙ্গে পরবর্তীতে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির বিষয়টি যুক্ত হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে তাদের দাবি।
একদিনে একাধিক দফা হামলার অভিযোগ


অভিযোগপত্র অনুযায়ী, গত ২ অক্টোবর সকাল ৯টার দিকে মফিজুর রহমান বাড়িতে প্রবেশ করার সময় কয়েকজন অভিযুক্ত তাকে অনুসরণ করে বাড়িতে যায়। সেখানে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।
একই দিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাড়ির পাশের চায়ের দোকানে যাওয়ার পথে তাকে আটকিয়ে কয়েকজন কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
তার চিৎকারে স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এমনকি তার স্ত্রী ও বৃদ্ধা মাকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত এবং মারধর করা হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পরবর্তীতে কয়েকজন অজ্ঞাতনামা যুবক ঘটনাস্থলে এসে হামলাকারীদের সঙ্গে যোগ দেয়। তাদের হাতে লোহার রড, এসএস পাইপ, বাঁশ ও গাছের লাঠি ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
এক পর্যায়ে এসএস পাইপ দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে মফিজুর রহমানের কপাল ফেটে রক্তাক্ত জখম হয় বলে অভিযোগ। আরেকটি আঘাত ঠেকাতে গিয়ে তার ডান হাতে গুরুতর আঘাত লাগে এবং হাড় ভেঙে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, তাকে লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় এবং হাতে কামড় দিয়ে জখম করা হয়।
নারী ও বৃদ্ধার ওপর হামলার অভিযোগ
ঘটনার সময় মফিজুর রহমানের স্ত্রী ও বৃদ্ধা মাকেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে একজন নারী অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মফিজুর রহমানের স্ত্রীর চুলের মুঠি ধরে মারধর এবং তার মাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে লাঠি দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ধরনের অভিযোগ সত্য হলে এটি কেবল সাধারণ মারামারির ঘটনা নয়; নারী ও বয়স্ক ব্যক্তির ওপর সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ হিসেবেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি রাখে।
নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
অভিযোগপত্রে মফিজুর রহমানের কাছ থেকে তার বেতনের ২৫ হাজার ৫০০ টাকা এবং একটি স্যামসাং মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
এরপর রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে একদল লোক তার বাড়িতে প্রবেশ করে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ। ভাঙচুরে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে বাদীপক্ষের দাবি।
এ সময় ঘরে রাখা জমি বন্ধকের এক লাখ ৭০ হাজার টাকা, একটি মোবাইল ফোন এবং তার স্ত্রীর গলায় থাকা প্রায় ১২ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—৫০ হাজার টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগ কোথায়?


ঘটনার শুরু নিয়ে ভুক্তভোগী পক্ষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ হলো ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি।
তাদের দাবি, চাঁদাবাজির ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বিরোধের সূত্রপাত। অথচ পরবর্তী অভিযোগে চাঁদাবাজির বিষয়টি যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি।
এ কারণেই প্রশ্ন উঠেছে—
মূল ঘটনা যদি চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে হয়ে থাকে, তাহলে সেই অভিযোগ বাদ বা পরিবর্তিত হলো কীভাবে?
কোনো পক্ষের চাপ, প্রভাব কিংবা অন্য কোনো কারণে অভিযোগের প্রকৃতি পরিবর্তন করা হয়েছে কি না—তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন ভুক্তভোগী পক্ষ।
চার দিনেও মামলা না হওয়া কেন?
ঘটনার পর চার দিন পার হয়ে গেলেও নিয়মিত মামলা না হওয়ায় আরও বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
একজন অভিযোগকারী যদি হামলা, অস্ত্র দিয়ে আঘাত, নারী নির্যাতন, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়া, বাড়ি ভাঙচুর এবং হত্যার হুমকির মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ করেন, তাহলে পুলিশ কেন দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নিল না—এ প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন।
বিশেষ করে অভিযোগে যখন বলা হয়েছে, মামলা করলে বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়েছে, তখন ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব হলো অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া। কোনো অভিযোগ সত্য বা মিথ্যা তা তদন্তের বিষয়।
কিন্তু অভিযোগ পাওয়ার পর দীর্ঘসূত্রতা, মামলা না হওয়া কিংবা অভিযোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাদ পড়ার অভিযোগ সত্য হলে তা অবশ্যই তদন্তের দাবি রাখে।
এ কারণে স্থানীয়দের প্রশ্ন—
চৌদ্দগ্রাম থানায় অভিযোগটি কীভাবে গ্রহণ করা হয়েছে?
কেন এখনো নিয়মিত মামলা হয়নি?
৫০ হাজার টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ কেন গুরুত্ব পায়নি?
অভিযোগে উল্লেখিত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের শনাক্ত করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে?
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো পুলিশি তদন্ত বা অভিযান হয়েছে কি না?
ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?
কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা প্রয়োজন
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। কিশোর বয়সকে অপরাধের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে যদি কেউ সংঘবদ্ধ হামলা, চাঁদাবাজি, অস্ত্র প্রদর্শন কিংবা মানুষের জানমালের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
তবে একই সঙ্গে নিরপরাধ কাউকে হয়রানি না করে সুনির্দিষ্ট তদন্ত, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, চিকিৎসা প্রতিবেদন, ঘটনাস্থলের তথ্য, মোবাইল ফোনের তথ্য এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা প্রয়োজন।
চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজির হস্তক্ষেপ কামনা
এই ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগের সুষ্ঠু প্রতিকার না হলে বিষয়টি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
তাই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, চাঁদাবাজির অভিযোগের সত্যতা যাচাই, কিশোর গ্যাংয়ের কথিত সম্পৃক্ততা তদন্ত, হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের উদ্যোগ এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পক্ষের প্রত্যাশা—থানা পর্যায়ের তদন্তের পাশাপাশি প্রয়োজনে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। এতে অভিযোগের সত্যতা যেমন বেরিয়ে আসবে, তেমনি প্রকৃত অপরাধী ও ঘটনার নেপথ্যের কারণও স্পষ্ট হবে।
পুলিশের বক্তব্যই এখন গুরুত্বপূর্ণ
এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানার পুলিশের বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগটি কবে গ্রহণ করা হয়েছে, মামলা না হওয়ার কারণ কী, চাঁদাবাজির অভিযোগ কেন এজাহারে প্রতিফলিত হয়নি এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—এসব প্রশ্নের জবাব পুলিশের কাছ থেকেই আসা উচিত।
অভিযোগের সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ। তবে ৫০ হাজার টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ, সংঘবদ্ধ হামলা, কিশোর গ্যাংয়ের কথিত সম্পৃক্ততা, অস্ত্র দিয়ে আঘাত, নারী ও বৃদ্ধার ওপর হামলা, বাড়িতে ভাঙচুর এবং বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগের পরও চার দিনেও মামলা না হওয়া নিঃসন্দেহে তদন্তের দাবি রাখে।
আইনের শাসনের স্বার্থে এখন প্রয়োজন—অভিযোগ নয়, সত্য উদঘাটন; প্রভাব নয়, নিরপেক্ষ তদন্ত; এবং অপরাধী যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা।

লোকসানে ২২ ব্যাংক, পুঞ্জীভূত ক্ষতি আড়াই লাখ কোটি টাকা

দেশের ব্যাংক খাতের আর্থিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে। ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত দেশের ৬৩টি ব্যাংকের মধ্যে ২২টি ব্যাংক পুঞ্জীভূত লোকসানে রয়েছে। এসব ব্যাংকের মোট পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৩ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকা।

একই সময়ে পুরো ব্যাংক খাতে পরিচালন মুনাফা হয়েছে ৭৮৯ কোটি টাকা। তবে প্রভিশন, অন্যান্য ব্যয় ও ঋণজনিত ক্ষতি সমন্বয়ের পর ব্যাংক খাতে নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা। পাশাপাশি খেলাপি ঋণ বেড়ে ৫ লাখ ৮১ হাজার ২৩৭ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

রোববার জাতীয় সংসদে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ব্যাংক খাতের এ চিত্র তুলে ধরা হয়। বৈঠকে ব্যাংক খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন কমিটির সদস্যরা। এ বিষয়ে পরবর্তী বৈঠকে বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, পুঞ্জীভূত লোকসানে থাকা ২২টি ব্যাংকের মধ্যে চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক, দুটি বিশেষায়িত ব্যাংক, ১৫টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং একটি বিদেশি ব্যাংক রয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো হলো—জনতা, অগ্রণী, রূপালী ও বেসিক ব্যাংক। বিশেষায়িত ব্যাংক দুটি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক।

বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে এবি, বাংলাদেশ কমার্স, এক্সিম, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, আইসিবি ইসলামিক, আইএফআইসি, ইসলামী, মেঘনা, ন্যাশনাল, গ্লোবাল ইসলামী, পদ্মা, সীমান্ত, সোশ্যাল ইসলামী, দ্য প্রিমিয়ার ও ইউনিয়ন ব্যাংক। বিদেশি ব্যাংক হিসেবে তালিকায় রয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ব্যাংক খাতে সম্পদের বিপরীতে আয় বা আরওএ ঋণাত্মক ১ দশমিক ০৩ শতাংশ এবং মূলধনের বিপরীতে আয় বা আরওই ঋণাত্মক ৪৪ দশমিক ২২ শতাংশ। অর্থাৎ সম্পদ ও মূলধন ব্যবহারের বিপরীতে ব্যাংকগুলোর আয় পরিস্থিতিও নেতিবাচক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ব্যাংক খাতে মোট ঋণ ও অগ্রিমের পরিমাণ ছিল ১৮ লাখ ৫০ হাজার ৫৯৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে শ্রেণিকৃত ঋণ ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

একই সময়ে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮১ হাজার ২৩৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। মোট ঋণের বিপরীতে খেলাপি ঋণের হার ৩১ দশমিক ৪১ শতাংশ।

এর আগে ৩১ মার্চ খেলাপি ঋণ ছিল ৫ লাখ ৬৪ হাজার ১০৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার ১৩১ কোটি ৯২ লাখ টাকা। একই সময়ে খেলাপি ঋণের হার ৩০ দশমিক ৯২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩১ দশমিক ৪১ শতাংশ হয়েছে।

তবে এক বছরের হিসাবে শ্রেণিকৃত ঋণের হার কিছুটা কমেছে। ২০২৫ সালের জুনে শ্রেণিকৃত ঋণের হার ছিল ৩৪ দশমিক ৪০ শতাংশ, যা ২০২৬ সালের জুনে নেমে এসেছে ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশে।

ব্যাংক খাতের আর্থিক সক্ষমতার বড় দুর্বলতা হিসেবে মূলধন সংকটকেও চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোর মধ্যে ৪০টি ব্যাংক ন্যূনতম প্রয়োজনীয় মূলধন সংরক্ষণ করতে পেরেছে। বিপরীতে ১৫টি ব্যাংকের মূলধন ঋণাত্মক।

এ সময়ে সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতের মূলধন পর্যাপ্ততার হার বা সিআরএআর নেমে এসেছে ঋণাত্মক ৩ দশমিক ১৭ শতাংশে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে এ হার ছিল ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চ শ্রেণিকৃত ঋণ, প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণ, মূলধন ঘাটতি ও সম্পদের দুর্বল মান ব্যাংকগুলোর লোকসানের অন্যতম কারণ। দুর্বল ব্যাংকগুলোর মূলধন পুনর্গঠন ও পুনঃমূলধনীকরণ জরুরি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তারল্য সংকট মোকাবিলায় ১২টি ব্যাংককে জরুরি সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেওয়া ‘ল্যান্ডার অব লাস্ট রিসোর্ট’ সহায়তার আওতায় ডিমান্ড লোনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৪ হাজার ৯৪৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা।

এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পেয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংককে দেওয়া হয়েছে ১৫ হাজার ৮১০ কোটি ৩২ লাখ টাকা, এক্সিম ব্যাংককে ১২ হাজার ১০ কোটি ২৫ লাখ, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংককে ১০ হাজার ৮৪২ কোটি ৭৯ লাখ এবং ন্যাশনাল ব্যাংককে ১০ হাজার ৫৬৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

এ ছাড়া ইউনিয়ন ব্যাংককে ৫ হাজার ৪২১ কোটি ১৬ লাখ, দ্য প্রিমিয়ার ব্যাংককে ৪ হাজার ৯০০ কোটি, এবি ব্যাংককে ৪ হাজার ২৭০ কোটি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংককে ৩ হাজার ৩ কোটি ৮০ লাখ, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংককে ৬১৪ কোটি ৬৮ লাখ, পদ্মা ব্যাংককে ২৫২ কোটি ৩৮ লাখ এবং আইসিবি ইসলামিক ব্যাংককে ২৫১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ প্রচলিত ধারার ব্যাংকে পর্যাপ্ত তারল্য থাকলেও কিছু ব্যাংক ও অধিকাংশ ইসলামী ধারার ব্যাংকে তারল্য ঘাটতি রয়েছে।

বৈঠকে ব্যাংক খাতে আর্থিক শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। খেলাপি ঋণ আদায়ে ১০ শতাংশের বেশি শ্রেণিকৃত ঋণ থাকা ব্যাংকগুলোর সঙ্গে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে আলোচনা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঋণ আদায়ে প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে কর্মপরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে জামায়াতের সাইফুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ব্যাংকের সংখ্যা কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, দেশের অর্থনীতির আকার বিবেচনায় বর্তমানে ৬৩টি ব্যাংক প্রয়োজনের তুলনায় বেশি।

তিনি ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা নিরূপণে প্রচলিত অডিটের পাশাপাশি ফরেনসিক অডিটের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর ভাষ্য, ফরেনসিক অডিটের মাধ্যমে ব্যাংকের প্রকৃত খেলাপি ঋণ, আমানত ও মূলধনের পরিস্থিতি আরও স্পষ্টভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হবে।

রাউজানে চেকপোস্টে দেশীয় পিস্তল ও ২ রাউন্ড গুলিসহ গ্রেপ্তার ১

চট্টগ্রামের রাউজানে পুলিশের চেকপোস্টে তল্লাশি চালিয়ে দেশীয় তৈরি একটি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলিসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় অস্ত্র পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশা জব্দ করেছে পুলিশ। রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ১০ মিনিটের দিকে রাউজান পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাচাইয়ের দোকান মোড় এলাকায় জগন্নাথহাট-ফকিরহাট সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে বিভিন্ন যানবাহনে তল্লাশি চালায় রাউজান থানা পুলিশ। পুলিশ জানায়, তল্লাশির সময় একটি সিএনজি অটোরিকশাকে থামার সংকেত দেওয়া হলে চালক মাসুদ রানা বাবু (২৬) সংকেত অমান্য করে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ তাকে আটক করে তল্লাশি চালায়। এ সময় তার হেফাজত থেকে একটি দেশীয় তৈরি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি অস্ত্র পরিবহনে ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশাটিও জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার মাসুদ রানা বাবুর বিরুদ্ধে রাউজান থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান ও তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।

বই উপহার পৃথিবীর সেরা উপহার ডিআইজি হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে এক দুপুরের আলোকিত সাক্ষাৎ

মো. কামাল উদ্দিন
কিছু মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ সময়ের খাতায় কেবল একটি তারিখ হয়ে থাকে, আর কিছু সাক্ষাৎ হয়ে ওঠে স্মৃতির পাতায় লেখা এক একটি উজ্জ্বল অধ্যায়। আজ ৫ অক্টোবর দুপুর ১২টা, বাংলাদেশ পুলিশের সদর দপ্তর। ব্যস্ত কর্মদিবসের ভিড়ে একজন মানুষের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে যেন কথার ভেতর দিয়ে আবিষ্কার করলাম আরেকটি মানুষকে, যাঁর পোশাক পুলিশের, দায়িত্ব পুলিশের, কিন্তু হৃদয়ের ভেতর বই, জ্ঞান, দেশ, সমাজ ও মানুষের জন্য গভীর এক মমতা।
তিনি বাংলাদেশ পুলিশের চৌকস, সৎ, নিষ্ঠাবান, বিচক্ষণ ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মকর্তা ডিআইজি হুমায়ুন কবির।
সৌজন্য সাক্ষাতের জন্য আমরা যখন পুলিশ সদর দপ্তরে পৌঁছাই, তিনি অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে আমাদের স্বাগত জানান। তাঁর আচরণে পদমর্যাদার দূরত্ব ছিল না, ছিল একজন ভদ্র মানুষের স্বাভাবিক সৌজন্য। আনুষ্ঠানিকতার গণ্ডি পেরিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই আলাপ পরিণত হয় প্রাণবন্ত ভাববিনিময়ে।
পুলিশ প্রশাসন থেকে সাংবাদিকতা, সংবাদপত্র থেকে সাহিত্য, পর্যটন থেকে কক্সবাজার, পেশাগত দায়িত্ব থেকে দেশের ভবিষ্যৎ, নানা প্রসঙ্গ ঘুরে ফিরে আসে আমাদের দীর্ঘ আলোচনায়।
বই যখন উপহার নয়, আলোর বার্তা
সাক্ষাতের এক পর্যায়ে আমার দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা, গবেষণা ও লেখালেখির অভিজ্ঞতার ফসল ‘সাংবাদিক ও সংবাদপত্রের কথা’ বইটি তাঁর হাতে তুলে দিলাম।
বইটি হাতে নিয়েই তিনি যে কথাটি বললেন, তা আমার লেখকজীবনের বহু প্রাপ্তির মাঝেও আলাদা করে মনে রাখার মতো।
তিনি বললেন,
“বই উপহার পৃথিবীর সেরা উপহার। আমি এই বইটি পড়ব, ইনশাআল্লাহ।”
একজন পুলিশ কর্মকর্তার মুখে এমন একটি বাক্য শুনে মুহূর্তটি আমার কাছে অন্যরকম হয়ে উঠল। কারণ বইয়ের প্রকৃত মূল্য তার মলাটে নয়, মানুষের চিন্তার দরজা খুলে দেওয়ার ক্ষমতায়। ফুলের সৌন্দর্য ক্ষণস্থায়ী, বস্তুগত উপহারের মূল্য সময়ের সঙ্গে কমে যায়; কিন্তু একটি ভালো বই মানুষের মনের ভেতর যে আলো জ্বালায়, তার কোনো মেয়াদ নেই।
ডিআইজি হুমায়ুন কবির বইটির পাতা উল্টিয়ে দেখলেন। শুধু সৌজন্য রক্ষার জন্য নয়, তিনি বিষয়বস্তু বোঝার চেষ্টা করলেন। বইয়ের বিভিন্ন অংশ দেখে তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করলেন, সাংবাদিক ও সংবাদপত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জন্য এ ধরনের বই অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
তাঁর এই মূল্যায়ন আমাকে আনন্দিত করেছে। কারণ একজন লেখকের কাছে পাঠকের প্রশংসা যেমন আনন্দের, তেমনি একজন সচেতন ও পেশাদার মানুষের চিন্তাশীল মূল্যায়ন তার লেখার প্রতি নতুন দায়বদ্ধতাও তৈরি করে।
“আপনার লেখা আমি নিয়মিত পড়ি”
সাক্ষাতের সবচেয়ে আন্তরিক মুহূর্তগুলোর একটি ছিল তাঁর আরেকটি কথা।
তিনি জানালেন, আমার লেখা তিনি নিয়মিত পড়েন এবং আমার লেখালেখি তাঁর ভালো লাগে।
এই স্বীকৃতি কোনো আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন নয়। একজন ব্যস্ত পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তা যখন একজন লেখকের লেখা নিয়মিত পড়ার কথা বলেন, তখন সেই কথার মূল্য অনেক গভীর।
আমার লেখা সাংবাদিকতা ও সংবাদপত্রের ইতিহাস, সমাজ, রাষ্ট্র, মানুষ, অপরাধ, পর্যটন ও সমকালীন নানা বিষয়কে ঘিরে। সেই লেখাগুলোর প্রতি তাঁর আগ্রহ আমার কাছে লেখকের জন্য এক ধরনের নীরব প্রেরণা।
তিনি আরও জানতে পারেন, আমার লেখা ‘সাংবাদিক ও সংবাদপত্রের কথা’ বইটি সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য রেফারেন্স হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগের কথা। বিষয়টি শুনে তিনি আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
আমার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ৩৪ শুনেও তিনি আনন্দ প্রকাশ করেন। একজন লেখকের কাছে ৩৪টি বই শুধু সংখ্যা নয়, এটি দীর্ঘ পথের ৩৪টি মাইলফলক, অসংখ্য নির্ঘুম রাত, গবেষণা, চিন্তা, পাঠ ও আত্মত্যাগের সমষ্টি।
অর্থনীতির ছাত্র, সংবাদপত্রেরও একজন অনুরাগী
ডিআইজি হুমায়ুন কবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। অথচ সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতার প্রতি তাঁর যে গভীর শ্রদ্ধা ও আগ্রহ, তা আমাদের আলোচনায় বারবার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সমাজে সাংবাদিকতার ভূমিকা সম্পর্কে তাঁর উপলব্ধি অত্যন্ত ইতিবাচক। তিনি মনে করেন, সংবাদপত্র শুধু সংবাদ প্রকাশের মাধ্যম নয়, এটি সমাজের আয়না, মানুষের কথা বলার জায়গা এবং রাষ্ট্রের ভুলত্রুটি তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।
একজন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে একজন সাংবাদিকের আলোচনায় এই জায়গাটিই সবচেয়ে সুন্দর সেতুবন্ধন তৈরি করে। কারণ পুলিশ ও সংবাদমাধ্যম উভয়েরই মূল দায়িত্ব মানুষের নিরাপত্তা, অধিকার ও সত্যের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে যুক্ত।
পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তা, অথচ অসাধারণ ভদ্রলোক
ডিআইজি হুমায়ুন কবিরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যের একটি তাঁর পেশাদারিত্ব। দীর্ঘ কর্মজীবনে পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে তিনি যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, তার ছাপ তাঁর কথাবার্তা ও চিন্তাভাবনায় স্পষ্ট।
কিন্তু পেশাগত দৃঢ়তার পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিত্বে রয়েছে অসাধারণ বিনয়।
পদ বড় হলে অনেক সময় মানুষের চারপাশে অদৃশ্য দেয়াল তৈরি হয়। কিন্তু তাঁর ক্ষেত্রে সেই দেয়াল চোখে পড়েনি। কথাবার্তায় ছিল স্বাভাবিকতা, আচরণে আন্তরিকতা এবং অতিথিদের প্রতি ছিল আন্তরিক আপ্যায়নের ব্যবস্থা।
এই সৌজন্য একজন কর্মকর্তাকে শুধু ভালো কর্মকর্তা নয়, একজন ভালো মানুষ হিসেবেও পরিচিত করে।
কক্সবাজারের স্বপ্ন, পর্যটনের নতুন ভাবনা
আলোচনায় স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে কক্সবাজারের কথা।
কক্সবাজার ক্লাব লিমিটেডের পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ নিয়েও তাঁর সঙ্গে আলোচনা হয়। কক্সবাজারকে ঘিরে আমাদের ভাবনা, পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা এবং বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পর্যটনের ভূমিকা নিয়ে তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেন।
কক্সবাজার যে প্রকৃতির অপার দান, পৃথিবীর অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন নগর হিসেবে এর সম্ভাবনা যে আরও বিস্তৃত করা সম্ভব, এ বিষয়ে তাঁর ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের আশাবাদী করেছে।
আমার নতুন বই ‘পর্যটন শিল্পে বাংলাদেশ’ বাজারে আসছে শুনে তিনি আনন্দ প্রকাশ করেন। বইটির প্রকাশনা ও প্রচারের সফলতা কামনা করেন।
একজন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে পর্যটন নিয়ে এমন গভীর আলোচনা হয়তো অনেকের কাছে বিস্ময়ের হতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রই পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। পর্যটন নিরাপত্তা চায়, আর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন দক্ষ ও দায়িত্বশীল আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা।
‘দি টুরিস্ট’ হাতে, পর্যটনের কথাও
সাক্ষাতের এক পর্যায়ে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয় জাতীয় ইংরেজি দৈনিক ‘দি টুরিস্ট’।
তিনি পত্রিকাটি মনোযোগ দিয়ে দেখেন এবং এর লেখা ও ছাপার মানের প্রশংসা করেন। পর্যটন ও পর্যটনশিল্পের বিকাশে পত্রিকাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
একটি পত্রিকা যখন শুধু সংবাদ ছাপার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে চায়, তখন সেটি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক উদ্যোগ।
চট্টগ্রাম সিনিয়র’স প্রেসক্লাবের দায়িত্ব
সাক্ষাতে আমি চট্টগ্রাম সিনিয়র’স প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়টিও তাঁকে অবহিত করি।
তিনি আমাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং দায়িত্ব পালনে সফলতা কামনা করেন।
একজন সাংবাদিকের কাছে নিজের পেশার মানুষের স্বীকৃতি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে সাংবাদিক সংগঠনের দায়িত্বের জন্য অভিনন্দন পাওয়া নিঃসন্দেহে আনন্দের।
পেন ইন্টারন্যাশনাল থেকে বিশ্বভ্রমণের কথামালা
আলোচনায় আমার লেখালেখির পাশাপাশি বিশ্ব লেখকদের সংগঠন পেন ইন্টারন্যাশনাল এর সদস্য হিসেবে বিভিন্ন দেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতার কথাও উঠে আসে।
সাহিত্য, সংস্কৃতি, মানুষ ও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সমাজ বাস্তবতা নিয়ে আমাদের মধ্যে নানা বিষয়ে আলোচনা হয়।
আমি বিশ্বাস করি, একজন লেখকের পৃথিবী যত বিস্তৃত হয়, তার লেখার জানালাও তত বড় হয়। মানুষের জীবন, রাষ্ট্র, সমাজ ও পৃথিবীকে কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা লেখকের কলমকে আরও দায়িত্বশীল করে।
পুলিশের শৃঙ্খলা ও গৌরব পুনরুদ্ধারের প্রত্যয়
আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল বাংলাদেশ পুলিশ।
দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতার আলোকে ডিআইজি হুমায়ুন কবির তাঁর বর্তমান গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। পুলিশের শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব, মর্যাদা ও গৌরব আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় তাঁর কথায় স্পষ্ট।
প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে তিনি পুলিশের ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা ও পেশাগত মানকে আরও শক্তিশালী করার কাজে নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চান।
একটি বাহিনীর শক্তি শুধু তার অস্ত্রে নয়, তার শৃঙ্খলায়। শুধু ক্ষমতায় নয়, মানুষের আস্থায়। শুধু পোশাকে নয়, দায়িত্ব পালনের সততা ও পেশাদারিত্বে।
আর সেই জায়গাটিতেই ডিআইজি হুমায়ুন কবিরের ভাবনাগুলো আশাব্যঞ্জক।
আমরা যারা সঙ্গে ছিলাম
আজকের এই স্মরণীয় সৌজন্য সাক্ষাতে আমার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার ক্লাব লিমিটেডের সভাপতি আবু সৈয়দ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম চৌধুরী এবং সৈয়দুল ইসলাম সাঈদ।
সবার উপস্থিতিতে সাক্ষাৎটি হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত ও অর্থবহ।
শেষ কথায় ফিরে আসে সেই একটি বাক্য
সাক্ষাৎ শেষ হওয়ার পরও মনে হচ্ছিল, আজকের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হয়তো কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, কোনো ছবি নয়, কোনো পদমর্যাদার পরিচয়ও নয়।
সবকিছুকে ছাপিয়ে বারবার মনে পড়ছিল ডিআইজি হুমায়ুন কবিরের সেই কথাটি,
“বই উপহার পৃথিবীর সেরা উপহার।”
সত্যিই তো, বই এমন এক উপহার যার বয়স বাড়ে, মূল্য বাড়ে, অর্থ বাড়ে। একটি বই একজন মানুষের হাতে গিয়ে কখনো একজন পাঠক তৈরি করে, কখনো একজন চিন্তক, কখনো একজন লেখক, কখনো একটি নতুন প্রজন্ম।
ফুলের সুবাস একদিন মিলিয়ে যায়। উপহারের চাকচিক্য একদিন পুরোনো হয়। কিন্তু একটি ভালো বই মানুষের মনের ভেতর রেখে যায় প্রশ্ন, জ্ঞান, বিবেক ও আলোর বীজ।
আজ পুলিশ সদর দপ্তরের সেই দুপুরে তাই আমার কাছে সবচেয়ে মূল্যবান হয়ে রইল কোনো বস্তু নয়, একজন জ্ঞানমনস্ক পুলিশ কর্মকর্তার মুখে উচ্চারিত একটি সরল অথচ গভীর সত্য—
“বই উপহার পৃথিবীর সেরা উপহার।”
সেদিনের সেই কথার ভেতর যেন আমি একজন পুলিশ কর্মকর্তার পরিচয়ের বাইরে আবিষ্কার করলাম একজন বইপ্রেমী, জ্ঞানমনস্ক, সংস্কৃতিমনা, বিনয়ী ও দেশচিন্তায় নিবেদিত মানুষকে।
আর একজন লেখক হিসেবে এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে!

ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে প্রাণ গেল কনস্টেবল আল আমিনের

চট্টগ্রাম নগরীতে ছিনতাইকারী গ্রেপ্তারের চেষ্টা করতে গিয়ে বাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়ে মারা গেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কনস্টেবল আল আমিন সরদার। কর্তব্যরত অবস্থায় তাঁর এই মৃত্যুতে বাংলাদেশ পুলিশ হারাল একজন কর্তব্যনিষ্ঠ ও সাহসী সদস্যকে। রোববার (৪ অক্টোবর) ভোর আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে নগরীর ইস্পাহানি চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনকালে ছিনতাইকারী গ্রেপ্তারের চেষ্টা করার সময় একটি বাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন কনস্টেবল আল আমিন।

পরে তাঁকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। গুরুতর অবস্থায় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। সোমবার (৫ অক্টোবর) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আল আমিন সরদার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ লাইন্সের এসএএফ শাখায় কর্মরত ছিলেন। তিনি ২০২২ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। চাকরিকালীন সময়ে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানিয়েছে সিএমপি। মাদারীপুর জেলার সন্তান আল আমিন ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। তিনি এক সন্তানের জনক। কর্তব্যরত অবস্থায় কনস্টেবল আল আমিন সরদারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। এক শোকবার্তায় তিনি মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। সিএমপি কমিশনার বলেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কনস্টেবল আল আমিনের আত্মত্যাগ বাংলাদেশ পুলিশের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তাঁর কর্তব্যনিষ্ঠা ও সাহসিকতা পুলিশ সদস্যদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

বিশ্ব শিক্ষক দিবসে সম্মাননা পাচ্ছেন দেশের ১০১ গুণী শিক্ষক

0

আজ ৫ অক্টোবর, বিশ্ব শিক্ষক দিবস। জাতি গঠনে শিক্ষকদের অবদান ও ভূমিকার স্বীকৃতি দিতে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের ১০১ জন গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দিচ্ছে সরকার। সোমবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নির্বাচিত শিক্ষকদের হাতে এ সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে। সম্মাননা হিসেবে প্রত্যেক শিক্ষককে ২ লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র দেওয়া হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া এমপি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। বক্তব্য দেবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। দুপুর ২টায় শুরু হবে মূল অনুষ্ঠান। প্রধান অতিথির আগমনের পর জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর অতিথিদের বক্তব্যের পর নির্বাচিত শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে। সম্মাননা পাওয়া শিক্ষকদের অনুভূতি প্রকাশের পর প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হবে। এবার বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য—‘শিক্ষকদের পাশে: পেশার সুরক্ষায় ৬০ বছর, মর্যাদা এগিয়ে নেওয়া এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গড়া’। শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা ও অধিকার সুরক্ষার পাশাপাশি জাতি গঠনে তাদের অবদানের স্বীকৃতি দেওয়াই এবারের দিবস উদযাপনের অন্যতম লক্ষ্য। সরকারের উদ্যোগে প্রাথমিক পর্যায়ে ১০ জন, মাধ্যমিক পর্যায়ে ২০ জন, কলেজ পর্যায়ে ২৫ জন, সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ জন, চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ জন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ জন, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ জন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ জন শিক্ষক সম্মাননা পাচ্ছেন। এর বাইরে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচিত আরও ৬ জন শিক্ষক রয়েছেন তালিকায়। প্রাথমিক পর্যায়ের ১০ জনের মধ্যে সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮ জন ও মাদরাসার ২ জন শিক্ষক রয়েছেন। মাধ্যমিক পর্যায়ে সাধারণ মাধ্যমিকের ১০ জন, কারিগরি শিক্ষার ৫ জন ও মাদরাসার ৫ জন শিক্ষক রয়েছেন। কলেজ পর্যায়ে সাধারণ শিক্ষার ১৫ জন, কারিগরি শিক্ষার ৫ জন এবং মাদরাসার ৫ জন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হবে। সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সম্মাননা পাচ্ছেন ২০ জন শিক্ষক। এর মধ্যে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ জন এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ জন শিক্ষক রয়েছেন। চিকিৎসা শিক্ষায় ৫ জন মেডিকেল কলেজ এবং ৫ জন মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সম্মাননা পাবেন। এ ছাড়া কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ জন, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ জন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ জন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হবে। গুণী শিক্ষক নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের গঠিত সার্চ কমিটি কাজ করেছে। প্রতিটি ক্যাটাগরিতে তিনজন করে শিক্ষকের প্যানেল তৈরি করে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির কাছে পাঠানো হয়। পরে সেখান থেকে চূড়ান্তভাবে সম্মাননাপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নির্বাচন করা হয়। জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠানের পাশাপাশি উপজেলা ও জেলা পর্যায়েও বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে। দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ, মাদরাসা, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হবে। শিক্ষকদের সম্মান, মর্যাদা ও অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা স্মরণ করার মধ্য দিয়ে এবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব শিক্ষক দিবস।

গণতন্ত্র সুসংহত করতে সব ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ জরুরি: সিইসি

0

গণতন্ত্রকে আরও সুসংহত, গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য করতে সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ইউএন ইলেকটোরাল প্রজেক্ট আয়োজিত জেন্ডার ইকুয়ালিটি বিষয়ক এক কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন। সিইসি বলেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে রাজনৈতিক ও নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো জরুরি। শুধু ভোটার হিসেবে নয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও নারীদের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে। কর্মশালায় নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ বলেন, শুধু নারী ভোটারের সংখ্যা বাড়ালেই হবে না, তাদের ক্ষমতায়নের পরিধিও বিস্তৃত করতে হবে। ভোটার ও প্রার্থী হওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক দল, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়নমূলক সংস্থাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ভোটারদের অনুপাত বিবেচনায় রাজনৈতিক দলগুলোকে নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে শুধু আইন প্রণয়ন করলেই হবে না, রাজনৈতিক দলগুলোর দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন প্রয়োজন। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমদ বলেন, সভা-সেমিনার কিংবা পরিকল্পনা গ্রহণের মধ্যেই নারীর সমতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এজন্য বাস্তবভিত্তিক ও মাঠপর্যায়ের উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষ করে গ্রাম ও উপকূলীয় এলাকায় নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণ গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, তবে মোট ভোটারের তুলনায় নারী প্রার্থীর সংখ্যা এখনও কম। এ ব্যবধান কমাতে রাজনৈতিক দলসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।