
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নির্বাচন কমিশনে (ইসি) ২০২৫ সালের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের নিরীক্ষিত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। দলটির হিসাব অনুযায়ী, গত বছরে মোট আয় হয়েছে ২২ কোটি ১৯ লাখ ৫৫ হাজার ১৮২ টাকা এবং ব্যয় হয়েছে ১৫ কোটি ২৬ লাখ ১০ হাজার ৮৫৭ টাকা। এতে বছরের শেষে উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৯৩ লাখ ৫৪ হাজার ৩২৫ টাকা। রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের কাছে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল এ প্রতিবেদন জমা দেয়। পরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের জানান, বছরের শুরুতে দলটির তহবিলে ছিল ২১ কোটি ১৩ লাখ ৯৭ হাজার ৩৫ টাকা। গত বছরে আয় ও ব্যয়ের পর উদ্বৃত্ত হয়েছে ৬ কোটি ৯৩ লাখ ৫৪ হাজার ৩২৫ টাকা। বর্তমানে ব্যাংকে দলের জমা রয়েছে ২৮ কোটি ৪ লাখ ৭১ হাজার ৬৮০ টাকা এবং হাতে নগদ রয়েছে ২ লাখ ৭৯ হাজার ৭০০ টাকা। সব মিলিয়ে দলের মোট তহবিলের পরিমাণ ২৮ কোটি ৭ লাখ ৩৬০ টাকা। রিজভী বলেন, নির্ধারিত সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই আয়-ব্যয়ের হিসাব নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক দলের আর্থিক কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবেই এ প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একটি রাজনৈতিক দলের আয়, ব্যয়ের খাত ও অর্থের উৎস সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি মন্তব্য করেন। বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, সদস্যদের নিয়মিত চাঁদা, ব্যক্তি ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনুদান এবং দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি থেকে দলের আয় হয়েছে। অন্যদিকে, সারা দেশের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা, রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন, যানবাহন ক্রয়, প্রচারপত্র ও পোস্টার প্রকাশ, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় কার্যালয়ের রক্ষণাবেক্ষণ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং অসচ্ছল নেতাকর্মীদের সহায়তাসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় করা হয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, নিবন্ধিত প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে প্রতি বছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আগের পঞ্জিকা বছরের নিরীক্ষিত আয়-ব্যয়ের হিসাব নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হয়। কোনো দল টানা তিন বছর এ হিসাব জমা দিতে ব্যর্থ হলে নির্বাচন কমিশন তাদের নিবন্ধন বাতিলের ক্ষমতা রাখে।