Home Blog Page 19

ফেনীতে ২১ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক

0

ফেনীর ছাগলনাইয়া থানা এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ২১ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম। র‌্যাব-৭ এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে ওই ব্যক্তিকে আটক করে। এ সময় তার কাছ থেকে ২১ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। আটক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ঘরে আটকে পড়া শিশুকে অক্ষত উদ্ধার করল ফায়ার সার্ভিস

নাটোরে বসতবাড়ির দরজা ভেঙে নিরব নামের দুই বছরের এক শিশুকে জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেছেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। রোববার (২৩ আগস্ট) শহরতলির উত্তর পটুয়াপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, উত্তর পটুয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা নজিবুর রহমানের দুই বছরের শিশু সন্তান নিরব অসাবধানতাবশত ঘরের ভেতরে ঢুকে ভেতর থেকে দরজা লক করে ফেলে। পরিবারের সদস্যরা অনেক চেষ্টা করেও দরজা খুলতে না পেরে শিশুটিকে উদ্ধার করতে ব্যর্থ হন। শিশুটি প্রায় আধা ঘণ্টা ঘরের ভেতর আটকে থেকে কান্নাকাটি করতে থাকলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা দ্রুত নাটোর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে খবর দেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে ঘরের দরজা ভেঙে শিশু নিরবকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে। শিশুটিকে নিরাপদে উদ্ধার করার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় স্বস্তি ফিরে আসে। ফায়ার সার্ভিসের সময়োপযোগী ও দ্রুত পদক্ষেপের জন্য শিশুটির পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকারী দলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

একজন মেধাবী ও সাহসী পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রহননের অপচেষ্টা বরদাশত করা হবে না হাসিব আজিজকে ঘিরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশের তীব্র প্রতিবাদ

0

সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে “দুই ওসির হানি ট্র্যাপে পুলিশ কমিশনার” শিরোনামে বাংলাদেশ পুলিশের একজন মেধাবী, দক্ষ, চৌকস, সাহসী ও পেশাদার কর্মকর্তা হাসিব আজিজকে জড়িয়ে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে, তার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানো হচ্ছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে যে ধরনের অভিযোগ, ইঙ্গিত ও ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, তা শুধু একজন কর্মকর্তার পেশাগত ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা নয়; বরং একজন রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তার ব্যক্তিগত মর্যাদা, সামাজিক সম্মান, দীর্ঘ পেশাগত সুনাম এবং তাঁর পরিবারের মানসিক শান্তির ওপরও আঘাত বলে আমরা মনে করি। আমরা অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই—হাসিব আজিজ কোনো হঠাৎ তৈরি হওয়া কর্মকর্তা নন। দীর্ঘ পেশাজীবনের কঠিন পথ অতিক্রম করে তিনি আজ বাংলাদেশ পুলিশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে অধিষ্ঠিত। তাঁর কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন, কঠিন পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পেশাদার ভূমিকা এবং দায়িত্ব পালনে সাহসিকতা তাঁর পেশাগত পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বর্তমানে তিনি অতিরিক্ত আইজিপি ও এপিবিএন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন—যা তাঁর দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও নেতৃত্বের প্রতি রাষ্ট্রের আস্থারই প্রতিফলন। এমন একজন কর্মকর্তাকে কয়েকটি অভিযোগ, ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য কিংবা যাচাই-বাছাইহীন তথ্যের ভিত্তিতে জনসমক্ষে হেয় করার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
হাসিব আজিজ সাহেবের ব্যক্তিগত অঙ্গভঙ্গির ছবি পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচার করে তাঁর সম্মান ও পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি। ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করে মিথ্যা, কুৎসামূলক বা মানহানিকর বক্তব্য প্রচার কোনোভাবেই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নয়। এ ধরনের অপপ্রচার অবিলম্বে বন্ধ করে প্রকাশিত বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হচ্ছে। অন্যথায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। হাসিব আজিজের দীর্ঘ কর্মজীবনকে কি কয়েকটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিবেদনে মুছে ফেলা যাবে? হাসিব আজিজের পেশাগত জীবন কোনো একটি সংবাদ প্রতিবেদন দিয়ে মূল্যায়ন করার বিষয় নয়। একজন পুলিশ কর্মকর্তার প্রকৃত মূল্যায়ন হয় তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবন, দায়িত্ব পালনের ইতিহাস, পেশাগত দক্ষতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা, সততা, শৃঙ্খলা এবং রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতার মাধ্যমে। তিনি এমন একজন কর্মকর্তা, যিনি কঠিন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ও থানায় দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পেশাগত জীবনের নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে নিজের যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন। অতীতের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতায় তিনি বৈষম্য ও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন—এমন অভিজ্ঞতার কথাও তাঁর পরিচিত মহলে আলোচিত। কিন্তু প্রতিকূলতা তাঁকে থামাতে পারেনি। বরং যোগ্যতা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্ববোধকে শক্তি করে তিনি নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। আজ তাঁর সেই দীর্ঘ পথচলা ও অর্জনকে পাশ কাটিয়ে ব্যক্তিগত চরিত্রহননের মতো স্পর্শকাতর শব্দ ব্যবহার করে সংবাদ প্রকাশ করা হলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—এই সংবাদ প্রকাশের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী? অভিযোগ থাকলে তদন্ত হোক, প্রমাণ থাকলে আইনগত ব্যবস্থা হোক আমরা কোনো ব্যক্তিকে আইনের ঊর্ধ্বে মনে করি না। হাসিব আজিজও আইনের ঊর্ধ্বে নন। তাঁর বিরুদ্ধে যদি কারও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তাহলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করা হোক, নিরপেক্ষ তদন্ত হোক, প্রয়োজনীয় প্রমাণ উপস্থাপন করা হোক এবং সত্য প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কিন্তু তদন্তের আগে সংবাদমাধ্যমে একজনকে অভিযুক্ত করা, প্রমাণের আগে জনমনে অপরাধীর ধারণা তৈরি করা এবং ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা কোনোভাবেই ন্যায়বিচারের পদ্ধতি হতে পারে না। একজন মানুষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা সহজ; কিন্তু তাঁর দীর্ঘদিনের অর্জিত সম্মান নষ্ট হয়ে গেলে সেটি ফিরিয়ে দেওয়া অত্যন্ত কঠিন। সাংবাদিকতার শক্তি সত্য প্রকাশে, কারও চরিত্র ধ্বংসে নয়। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আছে, কিন্তু মিথ্যা অপপ্রচারের স্বাধীনতা নেই আমরা স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। গণমাধ্যম দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা অপরাধের তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরবে—এটাই গণমাধ্যমের শক্তি। কিন্তু সেই স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্বও রয়েছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মানে কারও বিরুদ্ধে যাচাইহীন অভিযোগ প্রকাশের স্বাধীনতা নয়। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মানে চরিত্রহননের অধিকার নয়।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মানে গুজবকে সংবাদে পরিণত করার অনুমতি নয়। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মানে একজন রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তার সামাজিক মর্যাদা ধ্বংস করার লাইসেন্স নয়।
সাংবাদিকতার প্রথম শর্ত সত্যতা যাচাই। দ্বিতীয় শর্ত ভারসাম্য। তৃতীয় শর্ত সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়া। এসব নীতির যথাযথ প্রতিফলন ছাড়া কোনো গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ করা হলে তা স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম দেয়। হাসিব আজিজকে কেন বারবার টার্গেট করা হচ্ছে? একজন কর্মকর্তা যখন দায়িত্বশীল অবস্থানে থাকেন, তখন তাঁর সিদ্ধান্তে অনেকের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে কেউ অসন্তুষ্ট হতে পারে, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে কেউ ক্ষুব্ধ হতে পারে, আবার কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী নিজেদের সুবিধা হারাতে পারে। তাই কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই সেটিকে সত্য ধরে নেওয়া যায় না। বরং দেখতে হবে—অভিযোগের পেছনে কার স্বার্থ রয়েছে, তথ্যের উৎস কী, প্রমাণ কোথায় এবং কেন ঠিক এই সময়ে এই ধরনের সংবাদ প্রকাশ করা হলো। হাসিব আজিজের মতো একজন কর্মকর্তা যদি দীর্ঘদিনের পেশাগত অভিজ্ঞতা ও দায়িত্বশীল অবস্থানের কারণে কোনো মহলের স্বার্থের পথে বাধা হয়ে থাকেন, তাহলে তাঁকে প্রশাসনিকভাবে মোকাবিলা করতে না পেরে অপপ্রচার ও চরিত্রহননের পথ বেছে নেওয়া হচ্ছে কি না—সেটিও তদন্তের বিষয় হতে পারে। একজন কর্মকর্তার পরিবারকেও কেন অপমানের মুখে ঠেলে দেওয়া হবে? কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর ও স্পর্শকাতর অভিযোগ প্রকাশের আগে সবচেয়ে বড় বিষয় হওয়া উচিত মানবিকতা। একজন পুলিশ কর্মকর্তা তাঁর দায়িত্ব পালন করেন রাষ্ট্রের জন্য। কিন্তু তাঁর পরিবার কোনো অভিযোগের অংশ নয়। যাচাইহীন বা মানহানিকর সংবাদ প্রকাশের কারণে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সামাজিকভাবে বিব্রত, অপমানিত কিংবা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হতে হতে পারে। তাই সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা আরও বেশি প্রয়োজন। একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তাঁর দায়িত্ব ও কর্মসম্পর্কিত তথ্য নিয়ে আলোচনা হোক; কিন্তু ব্যক্তিগত মর্যাদা ও চরিত্রকে লক্ষ্য করে ইঙ্গিতপূর্ণ প্রচারণা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অপপ্রচার দিয়ে হাসিব আজিজের অর্জন মুছে ফেলা যাবে না হাসিব আজিজের দীর্ঘ পেশাগত জীবন, তাঁর দক্ষতা, মেধা, সাহসিকতা ও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা কয়েকটি সংবাদ শিরোনাম দিয়ে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। তিনি প্রতিকূল সময় দেখেছেন, বৈষম্যের সময় দেখেছেন, প্রশাসনিক বাস্তবতার কঠিন অধ্যায় অতিক্রম করেছেন। তারপরও নিজের পেশাগত অবস্থান ধরে রেখেছেন।  আজ তিনি যে অবস্থানে পৌঁছেছেন, তা কোনো ব্যক্তির অনুগ্রহে নয়—দীর্ঘ পেশাগত পথচলা, অভিজ্ঞতা, যোগ্যতা ও দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে অর্জিত। তাঁকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে যদি কোনো মহল অপপ্রচারের আশ্রয় নেয়, তাহলে সেই অপপ্রচার তাঁর বিরুদ্ধে নয়—বরং সত্য ও পেশাদারিত্বের বিরুদ্ধে একটি আঘাত। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, বাংলাদেশ পুলিশের কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে আইন ও বিধি অনুযায়ী তদন্ত হবে। কিন্তু একই সঙ্গে কোনো কর্মকর্তা যদি পরিকল্পিত মিথ্যা তথ্য, কুৎসা, অপপ্রচার বা মানহানিকর প্রচারণার শিকার হন, তাহলে তাঁর আইনগত প্রতিকার পাওয়ার অধিকারও রয়েছে। হাসিব আজিজের বিরুদ্ধে প্রকাশিত প্রতিবেদনের অভিযোগগুলো যদি অসত্য ও ভিত্তিহীন হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব হলো বিষয়টি পুনঃযাচাই করা, ভুল তথ্য থাকলে তা সংশোধন করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য যথাযথভাবে প্রকাশ করা। একই সঙ্গে যারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য সরবরাহ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার কিংবা পরিকল্পিত চরিত্রহননে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধেও প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। মিথ্যা অপবাদ দিয়ে একজন কর্মকর্তাকে থামিয়ে দেওয়া যাবে না। অপপ্রচার দিয়ে তাঁর পেশাগত পরিচয় মুছে দেওয়া যাবে না। চরিত্রহনন করে তাঁর দীর্ঘদিনের অর্জনকে অস্বীকার করা যাবে না। আর গণমাধ্যমের নাম ব্যবহার করে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র চালানো হলে সেটিও চুপচাপ সহ্য করা হবে না।
আমাদের প্রত্যাশা আমরা দায়িত্বশীল সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানাই—সত্য প্রকাশ করুন, তথ্য যাচাই করুন, প্রমাণ উপস্থাপন করুন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়ার নীতি অনুসরণ করুন।
একই সঙ্গে যারা ব্যক্তিগত স্বার্থ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কিংবা প্রশাসনিক বিরোধের কারণে গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে একজন পেশাদার কর্মকর্তার চরিত্রহননের চেষ্টা করছেন, তাদেরও সতর্ক করছি—মিথ্যা প্রচারণা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। সত্য একদিন প্রকাশিত হবেই। হাসিব আজিজের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তার বিচার হবে তথ্য, প্রমাণ, তদন্ত ও আইনের ভিত্তিতে—গুজব, অপপ্রচার কিংবা সংবাদ শিরোনামের ভিত্তিতে নয়। আমরা আবারও দৃঢ়ভাবে বলছি— হাসিব আজিজ একজন মেধাবী, দক্ষ, চৌকস, সাহসী ও অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তা। তাঁর দীর্ঘ পেশাগত সুনামকে পরিকল্পিত অপপ্রচারের মাধ্যমে কলঙ্কিত করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশিত ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানহানিকর সংবাদ প্রত্যাহার, সংশোধন ও প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা প্রকাশের দাবি জানানো হচ্ছে। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম, অপপ্রচারকারী ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার সংরক্ষণ করা হলো। সত্যের কাছে অপপ্রচার পরাজিত হবেই। আইনের কাছে ষড়যন্ত্রের কোনো স্থান নেই।
আর একজন সৎ, সাহসী ও পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তার সম্মান রক্ষায় আইনসম্মত প্রতিটি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
— পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে
তীব্র প্রতিবাদ, নিন্দা ও সতর্কবার্তা

শারাহ মেহজাবিন—সৌন্দর্যের আড়ালে মেধার দীপ্তি,

মো.কামাল উদ্দিনঃ
আধুনিক নারী সাংবাদিকতার এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি
কিছু মুখ শুধু সুন্দর নয়, কিছু উপস্থিতি শুধু দৃষ্টিনন্দন নয়—কিছু মানুষ তাঁদের ব্যক্তিত্ব, মেধা, কণ্ঠস্বর ও কর্মগুণ দিয়ে নিজের চারপাশে আলাদা এক আলোর বলয় তৈরি করেন। শারাহ মেহজাবিন তেমনই এক সম্ভাবনাময় ও দীপ্তিমান নাম। পাহাড়ের বিস্তীর্ণ নীলাভ প্রান্তর, মেঘে ঢাকা দূর দিগন্ত আর প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা তাঁর এই ছবিটি যেন কেবল একটি মুহূর্তকে ধারণ করেনি; ধারণ করেছে আত্মবিশ্বাসী, আধুনিক ও স্বপ্নবান এক নারীর প্রতিচ্ছবি।
একজন লেখক, সাংবাদিক ও টেলিভিশন উপস্থাপক হিসেবে বহু মানুষের কণ্ঠ, মুখ ও গল্পের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছে। গণমাধ্যমের দীর্ঘ পথচলায় দেখেছি—ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো সহজ, কিন্তু ক্যামেরার সামনে নিজের ব্যক্তিত্ব, বিশ্বাসযোগ্যতা ও পেশাদারিত্বকে প্রতিষ্ঠিত করা সহজ নয়। সংবাদ পাঠের প্রতিটি শব্দে দায়িত্ববোধ, প্রতিটি উচ্চারণে স্পষ্টতা, প্রতিটি উপস্থাপনায় সংযম এবং প্রতিটি উপস্থিতিতে আত্মবিশ্বাস প্রয়োজন। শারাহ মেহজাবিনের মধ্যে সেই সম্ভাবনার সুন্দর সমন্বয় লক্ষ করা যায়।
একজন ভালো সংবাদ পাঠিকা কেবল সংবাদ পড়ে শোনান না; তিনি সময়ের সঙ্গে মানুষের একটি সেতুবন্ধন তৈরি করেন। একটি সংবাদ যখন তাঁর কণ্ঠে উচ্চারিত হয়, তখন সেটি কেবল তথ্য থাকে না—তা হয়ে ওঠে মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়ার একটি জীবন্ত মাধ্যম। একজন দক্ষ টেলিভিশন উপস্থাপকও শুধু পর্দায় উপস্থিত থাকেন না; তিনি দর্শকের সঙ্গে এক ধরনের নীরব সম্পর্ক গড়ে তোলেন। শারাহ মেহজাবিনের ব্যক্তিত্বে সেই যোগাযোগের শক্তি আছে বলেই তাঁকে আলাদা করে চোখে পড়ে।
তাঁর সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো—সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্বের মধ্যে একটি স্বাভাবিক ভারসাম্য। সৌন্দর্য যেখানে অনেক সময় ক্ষণস্থায়ী, সেখানে ব্যক্তিত্ব মানুষের মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ রেখে যায়। শারাহর উপস্থিতিতে সেই ব্যক্তিত্বের ছাপ স্পষ্ট। তাঁর চোখে আত্মবিশ্বাস, মুখের অভিব্যক্তিতে স্বাভাবিকতা এবং আচরণে আধুনিকতার যে ছোঁয়া—সব মিলিয়ে তিনি সমকালীন নারী সাংবাদিকতার একটি নান্দনিক ও শক্তিশালী প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠতে পারেন।
আমি বিশ্বাস করি, আধুনিক নারী সাংবাদিকতার প্রকৃত পরিচয় কেবল পর্দায় সুন্দরভাবে উপস্থিত হওয়া নয়। একজন আধুনিক নারী সাংবাদিককে হতে হয় অনুসন্ধিৎসু, সাহসী, সচেতন, দায়িত্বশীল এবং সময়ের পরিবর্তনকে বুঝতে সক্ষম। তাঁকে প্রশ্ন করতে জানতে হয়, সত্যকে অনুসরণ করতে হয়, মানুষের কথা শুনতে হয় এবং কখনো কখনো কঠিন বাস্তবতার সামনে নিজের অবস্থানও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরতে হয়। এই বহুমাত্রিক গুণের সমন্বয়েই একজন নারী সাংবাদিক নিজেকে শুধু পেশাজীবী হিসেবে নয়, সমাজের একজন প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন।
শারাহ মেহজাবিনের মধ্যে আমি সেই সম্ভাবনাটিই দেখতে পাই।
তাঁর এই ছবির পেছনে যে পাহাড়, তা যেন তাঁর পেশাগত পথচলারই একটি প্রতীক। পাহাড় কখনো সহজ পথের প্রতীক নয়। তার চূড়ায় উঠতে হলে পাথুরে পথ পেরোতে হয়, কুয়াশার ভেতর দিয়ে এগোতে হয়, কখনো থামতে হয়, আবার নতুন সাহসে পথ ধরতে হয়। সাংবাদিকতাও তেমনই একটি পথ। এখানে আলো যেমন আছে, তেমনি আছে অন্ধকার; প্রশংসা যেমন আছে, তেমনি আছে সমালোচনা; সাফল্য যেমন আছে, তেমনি আছে প্রতিদিন নিজেকে প্রমাণ করার কঠিন পরীক্ষা।
যে নারী সেই পথ পেরিয়ে নিজের পরিচয় নির্মাণ করতে পারেন, তিনিই একদিন হয়ে ওঠেন অন্য নারীদের অনুপ্রেরণা।
শারাহ মেহজাবিনকে তাই আমার চোখে শুধু একজন গুণী সাংবাদিক, সংবাদ পাঠিকা বা টেলিভিশন উপস্থাপক হিসেবে দেখলে তাঁর সম্ভাবনার পুরোটা বলা হয় না। তিনি হতে পারেন এমন এক প্রজন্মের প্রতিনিধি, যে প্রজন্ম বিশ্বাস করে—নারীর কণ্ঠস্বর কোনো সীমারেখায় আটকে থাকবে না। সংবাদকক্ষ থেকে টেলিভিশনের পর্দা, স্টুডিও থেকে মাঠের প্রতিবেদন, জাতীয় ইস্যু থেকে মানুষের ব্যক্তিগত গল্প—সবখানেই একজন নারী নিজের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে সমান শক্তিতে জায়গা করে নিতে পারেন।
বিশ্বের শ্রেষ্ঠ নারী সাংবাদিক ও টেলিভিশন উপস্থাপকদের দিকে তাকালে আমরা দেখি, তাঁদের সাফল্যের পেছনে শুধু সৌন্দর্য নয়; রয়েছে কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায়, জ্ঞান, ভাষার দক্ষতা, সময়জ্ঞান, আত্মবিশ্বাস এবং সত্যের প্রতি দায়বদ্ধতা। শারাহ মেহজাবিনের মতো তরুণ ও মেধাবী মুখদের সামনে সেই বিশ্বমানের পথটি উন্মুক্ত। তাঁদের প্রয়োজন নিরন্তর শেখা, নিজেকে প্রতিদিন আরও সমৃদ্ধ করা এবং সাংবাদিকতার মূল আদর্শ—সত্য, ন্যায় ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতাকে হৃদয়ে ধারণ করা।
একজন লেখক হিসেবে আমি শব্দের শক্তিতে বিশ্বাস করি। একজন সাংবাদিক হিসেবে জানি, একটি সঠিক প্রশ্ন কখনো কখনো একটি বড় সত্যের দরজা খুলে দিতে পারে। আর একজন টেলিভিশন উপস্থাপক হিসেবে জানি, কণ্ঠের প্রতিটি বিরতি, প্রতিটি উচ্চারণ এবং প্রতিটি অভিব্যক্তিরও আলাদা ভাষা আছে। শারাহ মেহজাবিনের মতো একজন উপস্থাপকের শক্তি তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন তাঁর সৌন্দর্যের সঙ্গে মেধা, তাঁর কণ্ঠের সঙ্গে সত্য, তাঁর উপস্থিতির সঙ্গে দায়িত্ববোধ এবং তাঁর স্বপ্নের সঙ্গে মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা আরও গভীরভাবে যুক্ত হবে।
তাঁর এই ছবিতে পাহাড়ের যে বিশালতা, আকাশের যে নীরবতা আর মুখে যে প্রশান্ত হাসি—সবকিছু মিলিয়ে মনে হয়, সামনে আরও দীর্ঘ পথ পড়ে আছে। সেই পথ শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের নয়; সেই পথ হতে পারে আরও বড় কোনো পরিচয়ের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথ।
হয়তো একদিন শারাহ মেহজাবিনের কণ্ঠে শুধু সংবাদ শোনা যাবে না, শোনা যাবে একটি প্রজন্মের প্রত্যয়। তাঁর উপস্থাপনায় শুধু অনুষ্ঠান প্রাণ পাবে না, দর্শক খুঁজে পাবে বিশ্বাসযোগ্যতার একটি পরিচিত মুখ। তাঁর সাংবাদিকতায় শুধু তথ্য থাকবে না, থাকবে মানুষের গল্প, সমাজের বাস্তবতা এবং সত্যকে জানার এক নিরন্তর অনুসন্ধান।
তাই শারাহ মেহজাবিনকে নিয়ে আমার এই প্রশংসা নিছক কোনো ছবির সৌন্দর্যবন্দনা নয়। এটি একজন নারী সাংবাদিকের সম্ভাবনা, ব্যক্তিত্ব ও পেশাগত পথচলার প্রতি একজন সহকর্মী লেখক-সাংবাদিক-টেলিভিশন উপস্থাপকের শ্রদ্ধা ও শুভকামনা।
শারাহ মেহজাবিন—আপনার সৌন্দর্য চোখে পড়ে, আপনার ব্যক্তিত্ব মনে থাকে; কিন্তু আপনার সবচেয়ে বড় পরিচয় হোক আপনার মেধা, আপনার কণ্ঠস্বর, আপনার সাংবাদিকতা এবং সত্যের প্রতি আপনার দায়বদ্ধতা।
পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে যেমন দিগন্ত আরও বিস্তৃত হয়ে যায়, তেমনি একজন নারী যখন নিজের আত্মবিশ্বাসের উচ্চতায় পৌঁছান, তখন তাঁর সামনে পৃথিবীর সম্ভাবনাগুলোও আরও বড় হয়ে ওঠে।
আপনার পথ হোক আলোকিত, আপনার কণ্ঠ হোক সত্যের, আপনার সাংবাদিকতা হোক মানুষের—আর আপনার পরিচয় হোক আধুনিক, সাহসী ও মেধাবী নারী সাংবাদিকতার এক উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে।

জাতেই মাতাল, তালে ঠিক চারশ টাকার সিএনজি যাত্রায় এক অদ্ভুত মানুষের পাগলামির আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক অভিমানী হৃদয়ের গল্প

জীবনের সবচেয়ে সুন্দর গল্পগুলো সব সময় পরিকল্পনা করে লেখা যায় না। কিছু গল্প হঠাৎ করেই জীবনের পথে এসে দাঁড়ায়। কখনো কোনো মানুষের চোখে, কখনো অচেনা কারও মুখের কথায়, আবার কখনো চারশ টাকা ভাড়ার একটি সিএনজির ছোট্ট কেবিনে বসে জীবনের এমন এক গল্পের মুখোমুখি হতে হয়, যা অনেক দিন পরেও মনে থেকে যায়।
আমি একজন লেখক, সাংবাদিক ও টেলিভিশন উপস্থাপক। মানুষের জীবন, মানুষের আচরণ, মানুষের আনন্দ বেদনা, হাসি কান্না এবং সম্পর্কের টানাপোড়েন আমার লেখার অন্যতম উপাদান। তাই আমার কাছে পথের প্রতিটি মানুষই সম্ভাব্য একটি গল্প। তবে সব গল্প সঙ্গে সঙ্গে লেখা হয়ে ওঠে না। কিছু গল্প মনে জমে থাকে। সময়ের অপেক্ষায় থাকে। তারপর কোনো এক গভীর রাতে হঠাৎ কলমের ডগায় এসে বসে।
আজ ২২ আগস্ট। গত মাসের সেই অদ্ভুত ঘটনাটিই আজ আবার মনে পড়ল। ঘটনাটি নিয়ে তখন কয়েকজনকে গল্প করেছি, হেসেছি, মজা করেছি। কিন্তু লেখা হয়নি। আজ মনে হলো, এই গল্প শুধু হাসির নয়। এর ভেতরে আছে সতর্কতা, মানুষের মনস্তত্ত্ব, দাম্পত্যের অভিমান, ভালোবাসার অদ্ভুত টান এবং নগর জীবনের এক বাস্তব চিত্র।
ঘটনার শুরু ঢাকার উত্তরা থেকে।
এপিবিএনের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি হাসিব আজিজ সাহেবের সঙ্গে একটি বৈঠক শেষ করে আমি শহরের দিকে ফিরছিলাম। সঙ্গে ছিলেন ছোট ভাই গিয়াস, ভাগিনা এবং আবু সৈয়দ। ছোট ভাই গিয়াস আমার জন্য একটি সিএনজি ঠিক করে দিলেন। গন্তব্য ছিল তোপখানা রোডের জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে। ভাড়া চারশ টাকা।
গিয়াস আমার সামনেই সিএনজি চালককে ভাড়া পরিশোধ করে দিলেন। আমি শুধু যাত্রী হিসেবে গাড়িতে উঠে বসলাম।
মনে মনে ভাবলাম, আজ যাত্রাটা বেশ আরামেই হবে। ভাড়ার চিন্তা নেই, গাড়িও পাওয়া গেছে, এখন শুধু বসে বসে ঢাকার ব্যস্ত রাস্তা দেখতে দেখতে প্রেসক্লাবে পৌঁছে যাব।
কিন্তু মানুষ যা ভাবে, জীবন সব সময় তাকে সে পথে হাঁটায় না।
কিছুদূর যাওয়ার পরই চালকের আচরণে অস্বাভাবিকতা চোখে পড়ল।
লোকটি গান গাইছে। গান গাওয়া অপরাধ নয়। ঢাকার যানজটে গান অনেকের মন ভালো রাখে। কিন্তু পরক্ষণেই দেখি, স্টিয়ারিং থেকে হাত সরিয়ে হাততালি দিচ্ছে। আবার কখনো কী যেন মুখে দিচ্ছে। গাড়ি চালাতে চালাতেই তার শরীরী ভাষা বদলে যাচ্ছে। কখনো হাসছে, কখনো নিজের মতো করে কথা বলছে।
আমি একটু মনোযোগ দিয়ে তার দিকে তাকালাম।
আমার সাংবাদিকসুলভ কৌতূহল তখন সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, ভাই আপনার কী হয়েছে?
সে খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলল, গাড়ির ব্রেক ঠিক নাই।
আমি একটু থমকে গেলাম।
যে মানুষটি কিছুক্ষণ আগেও স্টিয়ারিং ছেড়ে হাততালি দিয়ে গান গাইছিল, সে এখন আমাকে গাড়ির ব্রেকের খবর দিচ্ছে।
আমি বললাম, ব্রেক ঠিক নেই মানে?
সে বলল, যেকোনো সময় মরে যেতে পারি।
তার কথায় পরিস্থিতি আরও অদ্ভুত হয়ে উঠল।
সাধারণ একজন যাত্রী হলে হয়তো তখনই গাড়ি থেকে নেমে নিরাপদ কোনো জায়গায় চলে যেতেন। কিন্তু আমার স্বভাব একটু আলাদা। আমি ভয় পেলেও পরিস্থিতির ভেতরের কারণটি জানতে চাই। আমার পেশা আমাকে মানুষের কথার আড়ালে থাকা কথাটিও শুনতে শিখিয়েছে।
তাই আমি নেমে গেলাম না।
বরং তাকে আরও ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতে লাগলাম।
আমার মনে হচ্ছিল, এখানে শুধু একজন অস্বাভাবিক চালকের ঘটনা নেই। এর পেছনে হয়তো কোনো ব্যক্তিগত কষ্ট আছে। হয়তো কোনো মানসিক অস্থিরতা আছে। হয়তো নেশার প্রভাব আছে। অথবা হয়তো সবকিছুর মিশ্রণ।
কিছুদূর যাওয়ার পর হঠাৎ সে গাড়ি থামিয়ে দিল।
আমি ভাবলাম, এবার বুঝি সত্যিই ব্রেক পরীক্ষা করবে।
কিন্তু না।
সে গাড়ি থেকে নেমে কলা খেল। পানি খেল। তারপর সিগারেট ধরাল।
আমি গাড়ির ভেতরে বসে তার কাণ্ডকারখানা দেখছি।
মনে মনে বললাম, ব্রেক নষ্ট হওয়ার চিকিৎসা যদি কলা, পানি আর সিগারেট হয়, তাহলে এই চিকিৎসাবিদ্যার সঙ্গে আমার পরিচয় আজই প্রথম।
কিছুক্ষণ পর হাতে জ্বলন্ত সিগারেট নিয়েই সে আবার গাড়িতে উঠল।
তারপর গাড়ি চলতে শুরু করল।
গান এবার আরও জোরে।
হাততালি এবার আরও বেশি।
আমি নীরবে বসে রইলাম।
মনে মনে শুধু একটি কথাই বললাম।
জাতেই মাতাল, তালে ঠিক।
অর্থাৎ আচরণে এমন মাতলামি, যেন মানুষটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে। অথচ গাড়ি চালানোর সময় আশ্চর্যজনকভাবে সে রাস্তা সামলাচ্ছে।
তখন তার বলা ব্রেক নষ্ট হওয়ার কথাটিও আমার কাছে সন্দেহজনক মনে হলো।
আমি ভাবলাম, সত্যিই কি ব্রেকের সমস্যা, নাকি আমাকে ভয় দেখিয়ে মাঝপথে নামিয়ে দেওয়ার কোনো কৌশল?
কারণ ভাড়ার টাকা তো সে আগেই পেয়ে গেছে।
আমি মাঝপথে নেমে গেলে তার টাকা ফেরত দেওয়ার কোনো প্রশ্ন নেই। বরং সে হয়তো যাত্রীকে ভয় দেখিয়ে নিজের দায় এড়াতে চাইছে।
কিন্তু আমি নামলাম না।
আমি অপেক্ষা করলাম।
আমি তার পাগলামির আড়ালে লুকিয়ে থাকা গল্পটি শুনতে চাইলাম।
একসময় কথাবার্তা একটু স্বাভাবিক হলো।
আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনার বাড়ি কোথায়?
সে বলল, কুমিল্লার বুড়িচং।
তার নাম জালাল উদ্দীন।
কথা বাড়তে বাড়তে সে তার ব্যক্তিগত জীবনের দরজা খুলে দিল।
তারপর এলো তার স্ত্রীর কথা।
তার কণ্ঠে তখন আর আগের সেই মাতাল হাসি নেই। সেখানে ছিল অভিমান।
ছিল কষ্ট।
ছিল ভালোবাসা।
ছিল অভিযোগ।
সে জানাল, টেকনাফের মুন্নি নামে এক নারীকে সে বিয়ে করেছে। তার দাবি, কোনো এক দাম্পত্য বিরোধের কারণে স্ত্রী নাকি তাকে কয়েক দিন বাসায় ঢুকতে দেননি।
সেই কষ্ট থেকেই সে বিভিন্ন ধরনের নেশায় জড়িয়ে পড়েছে বলেও আমাকে জানাল। গাঁজা, দেশীয় মদ, ঘুমের বড়িসহ নানা ধরনের নেশা গ্রহণের কথা সে বলেছিল।
তবে তার এসব বক্তব্য আমি স্বাধীনভাবে যাচাই করিনি। তার স্ত্রীর বক্তব্যও আমার জানা নেই। তাই তার কথাগুলোকে কোনোভাবেই চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
কিন্তু একজন মানুষের মুখে যখন তার নিজের জীবনের কষ্টের কথা শুনছিলাম, তখন বিষয়টি আর নিছক মজার মনে হচ্ছিল না।
আমি বুঝতে পারছিলাম, লোকটির পাগলামির ভেতরে কোথাও একটা আহত মানুষ আছে।
মানুষের মন বড় অদ্ভুত।
যাকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ, অনেক সময় তাকেই সবচেয়ে বেশি ভালোবাসা হয়।
যার কাছে সবচেয়ে বেশি প্রত্যাশা, তার কাছ থেকেই সবচেয়ে বেশি অভিমান জন্ম নেয়।
যাকে হারানোর ভয় সবচেয়ে বেশি, তার সঙ্গেই কখনো কখনো মানুষ সবচেয়ে বেশি রাগ করে।
জালাল উদ্দীনের কথার মধ্যেও সেই অদ্ভুত দ্বন্দ্ব দেখলাম।
স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে, আবার স্ত্রীকে ভালোবাসে বলছে।
রাগ করছে, আবার তাকে হারাতে চায় না।
অভিমান করছে, আবার তার কথাই বলছে।
আমি তখন বুঝলাম, মানুষের পাগলামিরও কখনো কখনো একটি ভাষা থাকে। সেই ভাষা সবাই পড়তে পারে না।
কেউ রাগের ভাষা বোঝে, কিন্তু রাগের ভেতরের কান্না বোঝে না।
কেউ হাসি দেখে, কিন্তু হাসির আড়ালের বিষণ্নতা দেখে না।
কেউ একজন মানুষের অস্বাভাবিক আচরণ দেখে তাকে পাগল বলে চলে যায়, কিন্তু কেন সে এমন হলো সেই প্রশ্নটি করে না।
আমি সেই প্রশ্নটিই করছিলাম।
সেগুনবাগিচায় রিপোর্টার্স ইউনিটির সামনে এসে আমাদের যাত্রা শেষ হলো।
আমি গাড়ি থেকে নামলাম।
কিন্তু গল্পটি তখনও শেষ হয়নি।
আমি তার সঙ্গে আরও কিছুক্ষণ কথা বললাম। সে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ বলল। তার সংসারের অশান্তির কথা বলল। তার কষ্টের কথা বলল। কিন্তু তার কথার সবচেয়ে বড় সত্য ছিল একটি।
সে তার স্ত্রীকে ভালোবাসে।
আমি মনে মনে হাসলাম।
সংসার আসলে বড় বিচিত্র জিনিস।
ভালোবাসা যেখানে সবচেয়ে বেশি, অভিমানও অনেক সময় সেখানেই সবচেয়ে গভীর।
অভিযোগের ভাষা যত কঠিন হোক, হৃদয়ের ভেতরে ভালোবাসা থাকলে মানুষ বারবার সেই একই মানুষের কাছে ফিরে যায়।
জালাল উদ্দীনের গল্পের সত্য মিথ্যা বিচার করার দায়িত্ব আমার নয়। আমি শুধু তার বলা কথাগুলো শুনেছি এবং তার আচরণ প্রত্যক্ষ করেছি।
তবে একজন যাত্রী হিসেবে তার অস্বাভাবিক আচরণ আমাকে অবশ্যই চিন্তিত করেছে।
কারণ একজন চালক যখন নেশাগ্রস্ত, মানসিকভাবে অস্থির অথবা নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায় গাড়ি চালান, তখন তার গাড়িতে থাকা প্রত্যেক যাত্রীর জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।
আমি সেদিন তার ছবি তুলেছিলাম।
ভিডিও ধারণ করেছিলাম।
এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের মেসেজ দিয়ে বিষয়টি জানিয়ে রেখেছিলাম।
কারণ আমার কাছে ঘটনাটি শুধু একটি মজার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ছিল না। এটি ছিল নগর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তার প্রশ্ন।
ঢাকার রাস্তায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ সিএনজি, বাস, প্রাইভেট কার ও অন্যান্য যানবাহনে চলাচল করেন। একজন যাত্রী গাড়িতে ওঠার সময় সাধারণত চালকের ব্যক্তিগত জীবন জানেন না। তিনি জানেন না চালক আগের রাতে ঘুমিয়েছেন কি না। তিনি জানেন না চালক কোনো নেশায় আছেন কি না। তিনি জানেন না তার মানসিক অবস্থা কেমন।
তবুও যাত্রী নিজের জীবন তার হাতে তুলে দেন।
এখানেই দায়িত্বের প্রশ্ন।
একজন চালকের ব্যক্তিগত জীবনে যত কষ্টই থাকুক, স্টিয়ারিং হাতে নেওয়ার পর তাকে মনে রাখতে হবে, তার পাশে বসে থাকা মানুষটিরও একটি পরিবার আছে।
তারও স্বপ্ন আছে।
তারও সন্তান আছে।
তারও প্রিয়জন আছে।
তারও বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় কেউ হয়তো দরজার দিকে তাকিয়ে আছে।
তাই চালকের স্টিয়ারিং শুধু একটি গাড়ি চালায় না। কখনো কখনো একটি পরিবারের স্বপ্নও বহন করে।
সেদিন আমি চাইলে পুলিশ ডাকতে পারতাম।
আমি চাইলে তাকে গাড়ি থামিয়ে দিতে পারতাম।
কিন্তু আমি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছি এবং সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে রেখেছি। অন্য কোনো যাত্রী যদি এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, তাকে আমার মতো ঝুঁকি নেওয়ার পরামর্শ আমি দেব না। নিজের নিরাপত্তাকে সবার আগে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
কারণ সাংবাদিকের কৌতূহল আর সাধারণ যাত্রীর নিরাপত্তা এক জিনিস নয়।
আমি সেদিন গল্পের সন্ধানে ছিলাম।
কিন্তু প্রত্যেক যাত্রীকে গল্পের সন্ধানে যেতে হবে এমন কোনো কথা নেই।
আজ এতদিন পর যখন সেই ঘটনার কথা লিখছি, তখন মনে হচ্ছে, সেদিন আমি শুধু একটি সিএনজিতে উঠিনি। আমি একজন অচেনা মানুষের জীবনের কয়েকটি পৃষ্ঠা পড়ে নেমেছিলাম।
কিছু পৃষ্ঠা ছিল হাসির।
কিছু পৃষ্ঠা ছিল অদ্ভুত।
কিছু পৃষ্ঠা ছিল অস্বস্তিকর।
আর কিছু পৃষ্ঠা ছিল নিঃশব্দ কষ্টে ভেজা।
আমার কাছে সবচেয়ে মজার দৃশ্য ছিল তার হাততালি দিতে দিতে গাড়ি চালানো।
সবচেয়ে রহস্যময় ছিল তার ব্রেক নষ্ট হওয়ার ঘোষণা।
সবচেয়ে অদ্ভুত ছিল ব্রেকের চিকিৎসায় কলা, পানি আর সিগারেট।
আর সবচেয়ে মানবিক ছিল তার স্ত্রীর কথা বলতে গিয়ে হঠাৎ কণ্ঠের পরিবর্তন।
সেই মুহূর্তে মনে হলো, স্টিয়ারিংয়ের ওপারে যে মানুষটিকে কিছুক্ষণ আগেও আমি একজন পাগল চালক ভাবছিলাম, সে আসলে তার নিজের জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করা একজন অভিমানী মানুষ।
হয়তো সে ভুল করেছে।
হয়তো নেশায় নিজেকে হারিয়েছে।
হয়তো সংসারে ভুল বোঝাবুঝি আছে।
হয়তো তার অভিযোগ সত্য।
হয়তো তার অভিযোগের অনেকটাই আবেগের।
আমি জানি না।
তবে এটুকু জানি, মানুষকে বাইরে থেকে দেখে পুরো মানুষটিকে বোঝা যায় না।
একজন মানুষের হাসির পেছনে কান্না থাকতে পারে।
একজন মানুষের রাগের পেছনে ভালোবাসা থাকতে পারে।
একজন মানুষের পাগলামির পেছনে অসহায়ত্ব থাকতে পারে।
আর একজন সিএনজি চালকের অদ্ভুত আচরণের পেছনে থাকতে পারে একটি ভাঙা সংসারের গল্প।
তাই আজকের এই লেখাটি শুধু জালাল উদ্দীনের গল্প নয়।
এটি আমাদের নগরজীবনের গল্প।
এটি আমাদের নিরাপত্তার গল্প।
এটি মানুষের মনের গল্প।
এটি ভালোবাসা, অভিমান এবং ভুল বোঝাবুঝির গল্প।
আর একজন লেখক হিসেবে আমার জীবনের আরেকটি অমূল্য অভিজ্ঞতার গল্প।
সেদিন আমার গন্তব্য ছিল জাতীয় প্রেসক্লাব।
ভাড়া ছিল চারশ টাকা।
কিন্তু বিনিময়ে আমি পেলাম এমন একটি গল্প, যার মূল্য চারশ টাকা দিয়ে কোনোদিনই মাপা যাবে না।
জীবন কখনো কখনো এভাবেই লেখককে লেখা উপহার দেয়।
কোনো সম্পাদকীয় বৈঠকে নয়।
কোনো সম্মেলনের মঞ্চে নয়।
কোনো বইমেলার স্টলে নয়।
বরং একটি সিএনজির ভেতরে বসিয়ে।
আর তখনই মনে হয়, সত্যিই তো
জীবনই সবচেয়ে বড় উপন্যাস। মানুষ তার চরিত্র। রাস্তা তার পটভূমি। আর প্রতিটি অচেনা যাত্রা হতে পারে নতুন একটি অধ্যায়।
সেদিনের সেই অধ্যায়ের শেষ বাক্য আজও আমার মনে বাজে
“জাতেই মাতাল, তালে ঠিক। গাড়ির ব্রেক ঠিক ছিল কি না জানি না, কিন্তু মানুষের জীবনের ব্রেক যে কখনো কখনো নষ্ট হয়ে যায়, সেদিন সেটি খুব কাছ থেকে দেখেছিলাম।”
মো. কামাল উদ্দিন
লেখক, সাংবাদিক ও টেলিভিশন উপস্থাপক

হত্যার পর সেই বাড়িতে গোসল, খেজুর-শসাও খান দুজন

রংপুরের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের পর ওই বাড়িতেই গোসল, খেজুর ও শসা খাওয়াসহ খুনের ঘটনার বর্ণনাও দিয়েছেন তারা। রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর পৌনে ১টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ। তার কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। গ্রেপ্তার দুজন হলেন—মাছুয়াপাড়া এলাকার মুগ্ধ দাস ও তার মামাতো ভাইয়ের ছেলে সিদ্ধার্থ দাস। সিদ্ধার্থ নগরীর পিকে জুয়েলার্সে কাজ করেন। আর মুগ্ধ সিটি বাজারের একটি মাছের দোকানে কাজ করেন। গ্রেপ্তারকৃতদের বরাতে পুলিশ কমিশনার জানান, বৃহস্পতিবার রাতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ এক মাদক কারবারির কাছ থেকে ইয়াবা কিনে সীমান্ত নামের স্থানীয় এক ব্যক্তির বাসায় তা সেবন করেন। পরে রাতের শেষ দিকে তারা দেবু নামের এক ব্যক্তির নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে যান। সেখানে ইয়াবা সেবনের সময় শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তী খালি গায়ে ও গলায় গামছা নিয়ে ছাদে আসেন। এ সময় অভিযুক্তরা গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করেন বলে পুলিশ জানায়। শব্দ শুনে তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ছাদে আসার সময় সিঁড়িতে তাকেও গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। কমিশনার বলেন, ‘মায়ের চিৎকার শুনে মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী সেখানে এলে তাকেও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। তাকে হত্যা করতে ৪-৫ মিনিট সময় লাগে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে গামছার পাশাপাশি গলা ও বুকে রশি পেঁচিয়ে টানা হয়। এতে তার চোয়াল ভেঙে যায়।’ ‘সিদ্ধার্থের ছোট ভাই অপূর্বের সঙ্গে খেলাধুলা করত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী। কাপড় পেঁচিয়ে ও বালিশচাপা দিয়ে তাকেও হত্যা করা হয়।’ পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ ওই বাড়ির বাথরুমে গিয়ে গোসল করে। পরে ডাইনিং টেবিলে রাখা খেজুর ও শসা খায়। এরপর সেখানে আরও একটি ইয়াবা সেবন করে তারা। তদন্তকারীদের দাবি, দুটি স্মার্টফোন থেকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট মুছে ফেলতে তারা ডিটারজেন্ট মিশ্রিত পানিতে মোবাইল দুটি চুবিয়ে রাখেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাড়িতে থাকা স্বর্ণালংকার পরীক্ষা করতে গ্রেপ্তারকৃতরা আগুন জ্বালিয়েছিলেন। পরে স্বর্ণালংকার নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। হত্যাকাণ্ডকে ডাকাতি হিসেবে দেখাতে ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখেন তারা। পরে মন্দিরের পেছনে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে স্বর্ণালংকারগুলো লুকিয়ে রাখা হয়। পুলিশ উদ্ধার করেছে। পুলিশ কমিশনার জানান, হত্যাকাণ্ডের পর সকাল হওয়ায় লোকজনের চলাচল বেশি থাকায় তারা বের হওয়ার জন্য সুযোগ খুঁজছিলেন। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় রাস্তাঘাট ফাঁকা থাকায় ওই সময় তারা বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এ ঘটনায় রংপুর নগরীর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে মামলার চার্জশিট দেওয়ার চেষ্টা করা হবে বলে জানান পুলিশ কমিশনার।

চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক হাসপাতালের সংকট নিরসনে নির্বাচিত কমিটির বিকল্প নেই

চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতালের চলমান সংকট নিরসনে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত কমিটি গঠনের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক সমিতি সচেতন জীবন সদস্য প্ল্যাটফর্মের গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা। শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের দ্বিতীয় তলার সুলতান আহমদ মিলনায়তনে ‘চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতালের বর্তমান সংকট উত্তরণের পথ ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক এ গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক সমিতি সচেতন জীবন সদস্য প্ল্যাটফর্ম এ বৈঠকের আয়োজন করে।সংগঠনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব লায়ন মো. গিয়াস উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এতে দৈনিক আজাদীর পরিচালনা সম্পাদক ওয়াহেদ মালেক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সেলিম উদ্দিন, মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মাইনউদ্দীন কাদেরী শওকত, শিল্পপতি মাস্টার আবুল কাশেম, প্রফেসর ডা. মাসুদ আহমেদ, প্রফেসর ডা. তুষার কান্তি বড়ুয়া, লায়ন ডা. দুলাল দাশ, অ্যাডভোকেট আবুল হাসান শাহাবুদ্দিনসহ অনেকে বক্তব্য দেন। বৈঠকে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন আজীবন সদস্য সাইফুদ্দিন আহমেদ সাকী। দৈনিক আজাদীর পরিচালনা সম্পাদক ওয়াহেদ মালেক বলেন, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতাল ডায়াবেটিস রোগীদের আস্থার ঠিকানা হওয়ার কথা থাকলেও একটি সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এ সংকট থেকে উত্তরণের জন্য গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত কমিটি গঠনের কোনো বিকল্প নেই। বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, হাসপাতালটি রক্ষায় চিকিৎসক, রোগীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। অধ্যাপক ড. সেলিম উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতালের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিবছর প্রতিষ্ঠানের সব হিসাব নিরীক্ষা করতে হবে। নিয়মিত অডিটের মাধ্যমে আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। শিল্পপতি মাস্টার আবুল কাশেম বলেন, চট্টগ্রামের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক নেতাদের হাসপাতালটির বর্তমান সংকট নিরসনে এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি হাসপাতালকে ‘মামলাবাজদের হাত থেকে রক্ষা করতে’ কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। বৈঠকে বক্তারা হাসপাতালের প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, নিয়মিত হিসাব নিরীক্ষা, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত কমিটি গঠন এবং রোগীসেবার মানোন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। গোলটেবিল বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন তোফাজ্জল হোসেন, তাহের আহমদ, লায়ন শুভনাজ জেনিয়া, সনত কুমার বড়ুয়া, নাইমুল ইসলাম, মাহবুল আলম, ইনতেখাব উদ্দিন চৌধুরী, লায়ন নুর আহম্মদ পিন্টু, কাজী ইমাম উদ্দিন, লায়ন স্বপন কুমার বিশ্বাস, লায়ন এরফান উদ্দিন খালেদ, মাহমুদুল হাসান, অ্যাডভোকেট আজম খান, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সালামসহ চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক সমিতির সদস্য ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।

“চান্দগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ জসিম উদ্দিন—অপবাদ পেরিয়ে কর্মের মঞ্চে এক সাহসী প্রত্যাবর্ত-

-মো. কামাল উদ্দিনঃ
কিছু মানুষের জীবন কেবল জীবনের গল্প নয়—একটি সময়ের দলিল। কিছু মানুষের কর্মজীবন শুধু চাকরি, পদোন্নতি, বদলি কিংবা দায়িত্ব পালনের ধারাবাহিকতা নয়—তার ভেতরে লুকিয়ে থাকে সময়ের রাজনীতি, ক্ষমতার পরিবর্তন, মানুষের ভুল বোঝাবুঝি, অপবাদ, বৈষম্য, প্রতিকূলতা এবং শেষ পর্যন্ত নিজের যোগ্যতা দিয়ে ফিরে আসার এক দীর্ঘ উপাখ্যান। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের বর্তমান চান্দ গাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনকে আমি তেমনই একজন মানুষ হিসেবে দেখি। তাকে আমি চিনি তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে। তার পুলিশজীবনের শুরু থেকে বিভিন্ন সময়ের নানা ঘটনা খুব কাছ থেকে দেখেছি। একজন তরুণ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে যে জসিম উদ্দিনকে দেখেছিলাম, তার মধ্যে তখনই ছিল আত্মবিশ্বাস, সাহস, দায়িত্ববোধ এবং নিজের অবস্থানে দৃঢ় থাকার এক অদ্ভুত মানসিক শক্তি। সময় বদলেছে, সরকার বদলেছে, রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলেছে, প্রশাসনিক পরিবেশ বদলেছে—কিন্তু তার কর্মজীবনের পথ কখনোই খুব মসৃণ ছিল না। বরং তার পথের কোথাও ছিল রাজনৈতিক পরিচয়ের ছায়া, কোথাও ছিল সন্দেহের দৃষ্টি, কোথাও ছিল প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ধাক্কা, আবার কোথাও ছিল এমন কিছু মানুষ—যারা হয়তো তার পেশাগত অগ্রযাত্রাকে সহজভাবে নিতে পারেননি। কিন্তু একটি মানুষকে চেনার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো তার বিরুদ্ধে কী বলা হয়েছে তা নয়; বরং প্রতিকূলতার মধ্যেও সে কীভাবে কাজ করেছে, সেটি দেখা। আর সেখানেই জসিম উদ্দিনের গল্পটি অন্যরকম। সেই সময়—যখন একটি সাক্ষাৎও হয়ে উঠতে পারত অপরাধ জসিম উদ্দিনের কর্মজীবনের শুরুর দিকের একটি ঘটনা আমার স্মৃতিতে আজও অত্যন্ত স্পষ্ট। দেশ তখন রাজনৈতিকভাবে অস্থির। ক্ষমতার রাজনীতি, রাজনৈতিক বিরোধ, প্রশাসনিক চাপ—সবকিছু মিলিয়ে সময়টি ছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল। সেই সময় চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর একটি জনসভা আয়োজনের বিষয় আসে। পুলিশের অনুমতির দায়িত্ব আমার ওপর ছিল। তখন জসিম উদ্দিন চান্দগাঁও থানায় এসআই হিসেবে কর্মরত। সেই সূত্রে একদিন আমি ও এম.এ. হাশেম রাজুকে সঙ্গে নিয়ে জসিম উদ্দিন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বাসভবনে গিয়েছিলেন। আজকের দিনে ঘটনাটি হয়তো খুব সাধারণ মনে হতে পারে। কিন্তু তৎকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি রাজনৈতিক নেতার বাসায় একজন পুলিশ কর্মকর্তার যাওয়া কতটা সংবেদনশীল হিসেবে দেখা হতে পারে, তা তখনকার পরিস্থিতি জানলেই বোঝা যায়। ঘটনাটি গোয়েন্দা পর্যায়েও আলোচনায় আসে। জসিম উদ্দিনকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল—এমন পরিস্থিতির কথাও আমার স্মৃতিতে রয়েছে। প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছিল। আমি নিজেও তখন বিষয়টি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কারণ আমি জানতাম—একজন তরুণ পুলিশ কর্মকর্তার জন্য এমন একটি ঘটনা তার পুরো কর্মজীবনের ওপর ছায়া ফেলতে পারে। তাকে সতর্ক করা হয়েছিল। চাকরি হারানোর আশঙ্কার কথাও বলা হয়েছিল। কিন্তু জসিম উদ্দিনের উত্তর ছিল অত্যন্ত সরল—
“আমি কোনো অপরাধ করিনি। একজন জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছি। যদি এ কারণে চাকরি চলে যায়, তবুও আমি অনুতপ্ত নই।” একজন তরুণ কর্মকর্তার মুখ থেকে এমন কথা শোনা সহজ নয়। কারণ সাহসের কথা বলা সহজ; কিন্তু চাকরি হারানোর ভয় সামনে রেখে সাহসী থাকা কঠিন। সেই দিন জসিম উদ্দিন হয়তো বুঝেছিলেন—তার সামনে দীর্ঘ পথ। আর সেই পথ সবসময় ফুলে সাজানো থাকবে না। রাজনীতি বদলেছে, সময় বদলেছে—কিন্তু ছায়া থেকে গেছে এরপর বাংলাদেশের রাজনীতিতে বহু পরিবর্তন এসেছে। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী গ্রেফতার হয়েছেন, বিচার হয়েছে এবং তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। কিন্তু সেই সময়ের রাজনৈতিক উত্তাপের স্মৃতি অনেকের কর্মজীবনে দীর্ঘ ছায়া ফেলেছিল। জসিম উদ্দিনও তার বাইরে ছিলেন না।চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় তার ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা জানা যায়। কিন্তু একজন মানুষ যখন পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন, তখন তার প্রথম ও প্রধান পরিচয় হওয়া উচিত—তিনি একজন পুলিশ কর্মকর্তা।রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের সময় তার কাছে দল-মত নয়, আইনই হবে প্রধান।আমার দীর্ঘ পরিচয়ের জায়গা থেকে বলতে পারি—জসিম উদ্দিনকে আমি তার পুলিশজীবনে একজন পেশাদার কর্মকর্তা হিসেবেই দেখেছি।কিন্তু অতীতের রাজনৈতিক পরিচয় অনেক সময় মানুষের পিছু ছাড়ে না।একটি পরিচয়কে বারবার সামনে এনে একজন মানুষের বর্তমান কর্মদক্ষতাকে অস্বীকার করার প্রবণতা আমাদের সমাজে নতুন নয়।জসিম উদ্দিনের ক্ষেত্রেও এমন নানা আলোচনা, সন্দেহ, অভিযোগ ও বৈষম্যের কথা দীর্ঘদিন ধরে শুনে এসেছি।
কিন্তু প্রশ্ন হলো—একজন মানুষের বর্তমানকে কি তার অতীতের একটি অধ্যায় দিয়ে চিরদিন বিচার করা যায়?আমার উত্তর—না।চান্দগাঁওয়ের প্রথম অধ্যায়—তারপর হঠাৎ ছিটকে পড়া
জসিম উদ্দিন একসময় চান্দগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।জাতীয় নির্বাচনের আগে একটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে হঠাৎ দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।একজন কর্মকর্তার জন্য এ ধরনের সিদ্ধান্ত শুধু প্রশাসনিক আদেশ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আত্মসম্মান, পেশাগত মর্যাদা এবং দীর্ঘদিনের কাজের মূল্যায়ন।স্বাভাবিকভাবেই তখন প্রশ্ন উঠেছিল—অভিযোগের প্রকৃত ভিত্তি কী?অভিযোগ কি প্রমাণিত হয়েছিল?নাকি রাজনৈতিক পরিবেশ ও অভিযোগের চাপ একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছিল?আমি কোনো অভিযোগকে সত্য বা মিথ্যা ঘোষণা করছি না। কারণ সেটি তদন্ত ও প্রমাণের বিষয়।কিন্তু এটুকু বলা যায়—একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তার পুরো কর্মজীবনকে বাতিল করে দেওয়া যায় না।পরবর্তীতে তৎকালীন সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ বিষয়টি পর্যালোচনা করে জসিম উদ্দিনকে নগর গোয়েন্দা বিভাগে (ডিবি) পদায়ন করেন।
এই পদায়নকে আমি তখন একজন কর্মকর্তার প্রতি প্রশাসনিক আস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখেছিলাম।আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, চট্টগ্রাম থেকে বিদায় নেওয়ার আগে হাসিব আজিজ তাকে পুনরায় ওসি করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন বলে আমার জানা।জসিম উদ্দিন তখন সেই সুযোগ গ্রহণ করেননি।মানুষের কর্মজীবনে এমন মুহূর্তও আসে—যেখানে পদ নয়, নিজের অবস্থান ও মানসিক প্রস্তুতিই বড় হয়ে ওঠে।পাহাড়তলী ও বায়েজিদ—কাজ দিয়ে নিজেকে পুনরায় প্রমাণপরবর্তীতে জসিম উদ্দিন পাহাড়তলী থানার অফিসার ইনচার্জের দায়িত্ব পান।
সেখানে তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি জনবান্ধব পুলিশিংয়ের দিকে গুরুত্ব দেন।তারপর দায়িত্ব পান বায়েজিদ থানায়।
একটি থানার ওসি হিসেবে একজন কর্মকর্তার প্রকৃত পরীক্ষা হয় মাঠে।কাগজের রিপোর্টে নয়।
মানুষের অভিযোগ শুনতে কতটা প্রস্তুত—
অপরাধীর বিরুদ্ধে কতটা কঠোর—
নিরপরাধ মানুষের প্রতি কতটা মানবিক—
মামলা তদন্তে কতটা পেশাদার—
ক্ষমতাবান ও সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগে কতটা ভারসাম্যপূর্ণ—
এসবই একজন ওসির প্রকৃত পরিচয়।
জসিম উদ্দিনের কর্মজীবনের এই অধ্যায়গুলোই তার পেশাগত সক্ষমতার আসল জায়গা।
তারপর আবার চান্দগাঁও—একটি প্রত্যাবর্তন
২০২৬ সালের জুনে সিএমপিতে একাধিক থানায় ওসি পর্যায়ে রদবদল হয়। ১৫ জুনের অফিস আদেশে ডিবি-দক্ষিণের নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক জসিম উদ্দিনকে চান্দগাঁও থানার নতুন অফিসার ইনচার্জ হিসেবে পদায়ন করা হয়।এই একটি সিদ্ধান্তের ভেতরে আমি অনেক বড় একটি অর্থ দেখি।কারণ একই থানায় একজন কর্মকর্তা আবার ফিরে আসা সবসময় সাধারণ ঘটনা নয়।বিশেষ করে সেই কর্মকর্তা যদি অতীতে একই দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহৃত হয়ে থাকেন, তাহলে ফিরে আসাটা হয়ে ওঠে আরও তাৎপর্যপূর্ণ।এটি শুধু বদলি নয়।এটি হতে পারে আস্থার পুনঃপ্রতিষ্ঠা।এটি হতে পারে অভিজ্ঞতার পুনর্মূল্যায়ন।এটি হতে পারে অতীতের বিতর্কের ওপর বর্তমান কর্মদক্ষতার জয়।আর সেই জায়গাতেই পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর সিদ্ধান্তটি আলোচনার দাবি রাখে।
শওকত আলীর সিদ্ধান্ত—ব্যক্তি নয়, কর্মজীবনকে মূল্যায়নের বার্তাএকজন পুলিশ কমিশনারের হাতে প্রতিদিন অসংখ্য প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত থাকে।কাকে কোথায় দায়িত্ব দেওয়া হবে, কে কোন থানার জন্য উপযুক্ত, কার অভিজ্ঞতা কোথায় কাজে লাগবে—এসব সিদ্ধান্তের প্রতিটি ক্ষেত্রেই থাকে প্রতিষ্ঠান ও জনস্বার্থের প্রশ্ন।শওকত আলী জসিম উদ্দিনকে চান্দগাঁও থানার দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমে অন্তত একটি ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন একজন কর্মকর্তাকে শুধু পুরোনো অভিযোগ দিয়ে নয়, তার সামগ্রিক কর্মজীবন ও সক্ষমতা দিয়েও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য এখানেই।কারণ প্রশাসনে যদি কোনো কর্মকর্তা ভুল করেন, তদন্ত হবে, জবাবদিহি হবে, আইনানুগ ব্যবস্থা হবে।কিন্তু যদি অভিযোগের আড়ালে একজন দক্ষ কর্মকর্তাকে অকারণে থামিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হন শুধু ওই কর্মকর্তা নন—ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রতিষ্ঠানও।আবারও একটি কুচক্রী মহল?জসিম উদ্দিন চান্দগাঁও থানার দায়িত্ব নেওয়ার পরও তাকে ঘিরে নানা ধরনের নেতিবাচক প্রচারণা ও অভিযোগের কথা শোনা যাচ্ছে।এখানে একটি বিষয় অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে বলা দরকার—অভিযোগ থাকলে তদন্ত হোক।প্রমাণ থাকলে ব্যবস্থা হোক।কিন্তু অপপ্রচার কোনোভাবেই তদন্তের বিকল্প হতে পারে না।কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত স্বার্থে একজন কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তাকে হেয় করার চেষ্টা করে, সেটি যেমন অনৈতিক, তেমনি প্রশাসনিক পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর।একজন কর্মকর্তা ভালো কাজ করলে তার কাজের প্রশংসা হবে—এটাই স্বাভাবিক।আর যদি কোনো ভুল করেন, তারও জবাবদিহি থাকবে।কিন্তু একজন মানুষকে আগে থেকেই অপরাধী বানিয়ে ফেলা কোনো সভ্য প্রশাসনিক সংস্কৃতির অংশ হতে পারে না।আমি মনে করি, জসিম উদ্দিনের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য হওয়া উচিত।আওয়ামী লীগ আমলের রাজনৈতিক বাস্তবতার কথাও ভুলে গেলে চলবে না জসিম উদ্দিনের কর্মজীবনের সবচেয়ে কঠিন দিকগুলোর একটি ছিল রাজনৈতিক পরিচয়ের ছায়া। একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সময়ের সঙ্গে তার অতীতকে বারবার মিলিয়ে দেখা হয়েছে—এমন অভিযোগ তার পরিচিত মহলে রয়েছে।তবে কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বৈষম্য হয়েছে কি না, তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অবশ্যই নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রামাণ্য নথির ভিত্তিতে হওয়া উচিত।কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে যারা দীর্ঘদিন কাজ করেছেন, তারা জানেন—ক্ষমতার সঙ্গে প্রশাসনিক সম্পর্ক কতটা জটিল হতে পারে।একটি সরকার আসে, অন্যটি যায়।
কিন্তু প্রশাসনিক ফাইলে থেকে যায় পুরোনো মন্তব্য।একটি অভিযোগ আসে, কিন্তু তার প্রভাব থেকে যায় বছরের পর বছর।একজন কর্মকর্তা একসময় যে রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে কাজ করেছেন, তার ছায়া পরবর্তী সময়েও তাকে অনুসরণ করতে পারে।জসিম উদ্দিনের জীবনকে আমি সেই বাস্তবতার একটি উদাহরণ হিসেবেই দেখি।একজন পুলিশ কর্মকর্তার সবচেয়ে বড় জবাব—তার কাজ
জসিম উদ্দিনের সামনে এখন সবচেয়ে বড় সুযোগ হলো—কথার জবাব কথায় না দিয়ে কাজ দিয়ে দেওয়া।চান্দগাঁও একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা।এখানে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনেক।
অপরাধ দমন করতে হবে।মাদক ও কিশোর অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর হতে হবে। নারী, শিশু ও দুর্বল জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
মামলা ও জিডি গ্রহণে মানুষের হয়রানি কমাতে হবে।
থানাকে মানুষের আস্থার জায়গায় পরিণত করতে হবে।
একজন ওসির সাফল্য তখনই, যখন থানার দরজায় আসা একজন সাধারণ মানুষ মনে করবেন—
“আমি এখানে ন্যায়বিচারের আশায় আসতে পারি।”
জসিম উদ্দিনের সামনে এখন সেই পরীক্ষাই।
আমি কেন জসিম উদ্দিনের পক্ষে কথা বলছি?
এই প্রশ্নও কেউ করতে পারেন।
উত্তর খুব সহজ।
আমি তাকে দীর্ঘদিন ধরে চিনি।
আমি তার জীবনের উত্থান-পতনের অনেক অধ্যায় দেখেছি।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তদন্ত হোক—আমি তার পক্ষেও বলব।
তার ভুল থাকলে ভুল বলব।
কিন্তু তাকে না জেনে, তার কর্মজীবন না দেখে, শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ের পুরোনো ছায়া সামনে এনে যদি কেউ তার বর্তমান পেশাদারিত্বকে অস্বীকার করতে চান, সেখানে আমি প্রশ্ন তুলব।
কারণ সাংবাদিকতার একটি বড় দায়িত্ব হলো—যেখানে অন্যায় দেখব, সেখানে প্রশ্ন করা।
আর যেখানে একজন মানুষকে অন্যায়ভাবে বিচার করা হচ্ছে বলে মনে হবে, সেখানে তার কথাটিও তুলে ধরা।
এটি কোনো ব্যক্তির অন্ধ সমর্থন নয়।
এটি ন্যায্য মূল্যায়নের দাবি।
জসিম উদ্দিনের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ
চান্দগাঁও থানায় ফিরে এসে জসিম উদ্দিন যেন কোনোভাবেই অতীতের বিতর্ককে বর্তমানের ওপর প্রভাব ফেলতে না দেন—এটাই আমার প্রত্যাশা।
তিনি যেন আরও স্বচ্ছ হন।
আরও জনবান্ধব হন।
আইনের প্রয়োগে আরও নিরপেক্ষ হন।
রাজনৈতিক পরিচয় নয়—আইনকে সামনে রাখেন।
ব্যক্তি নয়—অপরাধকে দেখেন।
ক্ষমতাবান নয়—ন্যায়কে গুরুত্ব দেন।
আর সবচেয়ে বড় কথা, থানাকে যেন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রভাবমুক্ত রেখে জনগণের থানায় পরিণত করেন।
তাহলেই তার বিরুদ্ধে থাকা সব অভিযোগের সবচেয়ে শক্তিশালী জবাব তিনি নিজেই দিতে পারবেন।
অপবাদ ক্ষণস্থায়ী, কর্মই স্থায়ী
মানুষের বিরুদ্ধে অপবাদ ছড়ানো খুব সহজ।
একটি পোস্ট, একটি মন্তব্য, একটি গুজব—মুহূর্তেই হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।
কিন্তু একজন মানুষের ৩০ বছরের কর্মজীবন কি একটি পোস্ট দিয়ে মুছে ফেলা যায়?
যায় না।
একজন মানুষের সুনাম তৈরি হতে সময় লাগে বছর, কখনো দশক।
সেই সুনাম ধ্বংস করতে কয়েক মিনিটই যথেষ্ট।
কিন্তু ইতিহাসের বিচারে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে কাজ।
আজ যে মানুষকে নিয়ে অপবাদ, কাল হয়তো সেই মানুষটির কাজই হয়ে উঠবে তার সবচেয়ে বড় পরিচয়।
জসিম উদ্দিনের ক্ষেত্রেও সময়ই সবচেয়ে বড় বিচারক।
প্রত্যাবর্তনের এই গল্প এখানেই শেষ নয়
চান্দগাঁও থানায় জসিম উদ্দিনের প্রত্যাবর্তন তাই আমার কাছে একটি অসমাপ্ত গল্প।
একজন তরুণ এসআই থেকে একজন অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তা হয়ে ওঠার গল্প।
রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্য দিয়ে পথ চলার গল্প।
অভিযোগের মুখে দাঁড়িয়ে থাকার গল্প।
দায়িত্ব হারানোর গল্প।
আবার দায়িত্ব ফিরে পাওয়ার গল্প।
পাহাড়তলী ও বায়েজিদে কাজ করার গল্প।
ডিবিতে পেশাগত অভিজ্ঞতা অর্জনের গল্প।
আর শেষ পর্যন্ত আবার চান্দগাঁও থানায় ফিরে আসার গল্প।
এটি একজন মানুষের গল্প, যিনি হয়তো সবসময় জিতেছেন এমন নয়—কিন্তু প্রতিবার পড়ে গিয়ে আবার দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন।
শেষ কথা—এবার বিচার হোক কাজ দিয়ে
পুলিশ কমিশনার শওকত আলীর সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় মূল্য এখানেই যে, একজন কর্মকর্তাকে আবার একটি গুরুত্বপূর্ণ থানার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এখন জসিম উদ্দিনের দায়িত্ব—এই আস্থার মর্যাদা রাখা।
আর আমাদের দায়িত্ব—আগে থেকে রায় না দিয়ে তার কাজ দেখা।
তিনি ভালো করলে প্রশংসা করা।
ভুল করলে প্রশ্ন করা।
অভিযোগ হলে তদন্ত দাবি করা।
কিন্তু অপপ্রচারকে সত্যের বিকল্প না বানানো।
কারণ একজন পুলিশ কর্মকর্তা কোনো দলের নয়—তিনি রাষ্ট্রের কর্মকর্তা।
তার দায়িত্ব জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
আর একজন সাংবাদিকের দায়িত্ব—সত্যকে খুঁজে বের করা, প্রশ্ন করা এবং ন্যায্যতার পক্ষে দাঁড়ানো।
তাই আজ আমি জসিম উদ্দিনকে নিয়ে শুধু প্রশংসা করতে চাই না; আমি তাকে একটি চ্যালেঞ্জও দিতে চাই—
জসিম, তোমার বিরুদ্ধে যারা কথা বলছে, তাদের জবাব কথায় দিও না।
তোমার থানার দরজা সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দাও।
অপরাধীর বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ করো, নিরপরাধের পাশে দাঁড়াও।
রাজনীতির ঊর্ধ্বে ওঠো, ব্যক্তিগত বিরোধের ঊর্ধ্বে ওঠো।
তোমার অতীতকে নয়—তোমার বর্তমান কাজকে কথা বলতে দাও।
তাহলেই একদিন মানুষ বলবে—
একসময় তাকে নিয়ে অনেক কথা হয়েছিল,
অনেক অভিযোগ উঠেছিল,
অনেক দরজা বন্ধ হয়েছিল;
কিন্তু শেষ পর্যন্ত মানুষটি তার কাজ দিয়ে নিজের পরিচয় তৈরি করেছিলেন।
আর সেই পরিচয় হবে—
একজন পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তা।
একজন দায়িত্বশীল মানুষ।
একজন কর্মনিষ্ঠ কর্মকর্তা।
এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও ফিরে আসতে জানা একজন জসিম উদ্দিন।
সময়ের কাছে শেষ পর্যন্ত কোনো অপপ্রচার টেকে না।
টিকে থাকে সত্য।
টিকে থাকে কর্ম।
টিকে থাকে মানুষের ভালোবাসা।
আর ইতিহাস—
সে কখনো তাড়াহুড়ো করে রায় দেয় না।
সে অপেক্ষা করে।
তারপর একদিন খুব নীরবে বলে দেয়—কে সত্যিই কী ছিল।
—মো. কামাল উদ্দিন
লেখক, সাংবাদিক ও টেলিভিশন উপস্থাপক

খরচের হিসাব বাড়ছে, ছোট হচ্ছে বাজারের তালিকা

পরিসংখ্যানের অঙ্কে দেশের মূল্যস্ফীতি কমেছে; কিন্তু বাজারে নেই স্বস্তি। বরং বছরের ব্যবধানে প্রয়োজনীয় অনেক নিত্যপণ্যের পেছনে বেড়েছে ভোক্তার খরচ। ফলে বাজার খরচের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছে নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষ। সাশ্রয়ী হতে পরিবারের খাবারের তালিকা দিন দিন ছোট হচ্ছে তাদের। বাদ পড়ছে মাছ, মাংস, ডিম, দুধের মতো পুষ্টিকর খাবার। এর মধ্যে নতুন করে বাড়ছে আটা, ভোজ্যতেল, চিনি ও দুধের দামও, যা তাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। গতকাল ছুটির দিনে সাপ্তাহিক বাজার করতে রাজধানীর মিরপুর-১২ এলাকার আলুব্দী বাজারে এসেছিলেন বেসরকারি চাকরিজীবী মো. এনামুল হক। তিনি জানান, অনেক কাটছাঁট করে বাজারের তালিকা তৈরি করেও পণ্যের দাম মেলাতে পারছেন না। এনামুল বলেন, ‘বেশি দামের কারণে গুঁড়া দুধ, তরল দুধ, গরুর মাংস, মাছ ও তুলনামূলক দামি সবজি তালিকা থেকে বাদ দিয়েছি। পেঁয়াজ, চিনি, মসলা, আটা, মুরগি ও ডিমের পরিমাণও কমিয়েছেন। তবে সয়াবিন তেল ও চিংড়ি প্রয়োজন হওয়ায় বাদ দিতে পারিনি। এরপরও বাজারে এসে হিসাব মেলেনি। তাই বাধ্য হয়ে তালিকা থেকে আরও কয়েকটি পণ্য বাদ দিতে হয়েছে।’ আক্ষেপ করে এনামুল জানান, বছর যায়, পণ্যের দাম বাড়ে। বাজারে অনেক কাটছাঁট করেও খরচ সামলাতে পারছেন না। আর কত পণ্য বাদ দেবেন? বাড়িতে ছোট দুই সন্তান থাকলেও তাদের জন্য আলাদা করে দুধ, ডিম, ভালো মাছ-মাংস কেনার সামর্থ্য হচ্ছে না।এনামুলের চেয়ে আরও চাপে আছেন কদমতলী এলাকার অটোরিকশাচালক মো. হাবিবুর রহমান। আয়ের সামান্য টাকায় মাছ-মাংস দূরে থাক দরকারি পণ্যগুলো কিনে খেতেও বেগ পেতে হচ্ছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘খোলা সয়াবিনের দাম আরও বাড়তাছে। ডিমও এখন কেনা কমাইছি। সবজির কিনতেই পকেট খালি। বাজারে কয়েক আইটেম কিনতেই ৫০০ টাকা নাই হইয়া যায়। ক্যামনে কী চলুম।’ নিত্যপণ্যের দামে চিড়েচ্যাপ্টা হাবিবুর ও এনামুলের মতো চাপে আছেন অসংখ্য সীমিত ও নিম্ন আয়ের মানুষ। অথচ, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাব বলছে, মূল্যস্ফীতির হার নিম্নমুখী রয়েছে। গত জুলাই মাসে দেশে মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশে নেমেছে। জুনে যা ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ ছিল। একই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতিও ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ থেকে কমে কমে হয়েছে ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ।মূল্যস্ফীতির এ পরিসংখ্যানে স্বস্তির বার্তা থাকলেও বাস্তবে খাবারের পেছনে ভোক্তাদের খরচের চাপ কমেনি। দ্রব্যমূল্যের খরচ সামাল দিতে খেই হারিয়ে ফেলছে বেশিরভাগ মানুষ। চাল, ডাল, পেঁয়াজ ও আদাসহ কয়েক প্রকার মসলা ছাড়া বছরের ব্যবধানে সব পণ্যের দামই বেড়েছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৬০ শতাংশের বেশি পরিবার আয়ের অন্তত অর্ধেক খাবারের পেছনে ব্যয় করে। নিম্নআয়ের মানুষের ক্ষেত্রে খাবারের পেছনে ব্যয়ের চাপ আরও বেশি। খাদ্যের দাম বাড়ায় শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য মৌলিক চাহিদায় ব্যয় কমাতে হচ্ছে। বাজারে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ভোজ্যতেলের দাম। এক বছরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের লিটার ১৮৮ থেকে বেড়ে ১৯৯ টাকা হয়েছে। খোলা সয়াবিন ১৬৫ থেকে ১৯২ টাকা এবং পাম তেল ১৫০ থেকে ১৬৫ টাকা হয়েছে। এ ছাড়া গরু ও মুরগির মাংস, ডিম, দুধ ও মাছের দামও বেড়েছে। পাঙ্গাশ ও তেলাপিয়ার কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ছোট চিংড়ির দাম গত বছরের ৬০০ টাকা থেকে বেড়ে এখন ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা হয়েছে। সম্প্রতি আটা ও চিনির দামও কেজিতে ৫ টাকা করে বেড়েছে। টিসিবির তথ্যেও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার চিত্র উঠে এসেছে। এক বছরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৫ দশমিক ২৯ শতাংশ, খোলা সয়াবিন ১২ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং পাম তেল ৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে গরুর মাংস, ব্রয়লার মুরগি, ডিম ও গুঁড়া দুধের দামও বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল্যস্ফীতি কমলেও বাজারে স্বস্তি ফিরছে না। বাজার ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা, সরবরাহ ব্যবস্থার নানা স্তরের মধ্যস্বত্বভোগী ও দুর্বল নজরদারির কারণে ভোক্তাদের ওপর চাপ থাকছে। কৃষি অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, চালসহ শস্যের দাম স্থিতিশীল থাকায় খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার কমেছে। তবে স্বস্তির জন্য খাদ্য মূল্যস্ফীতি আরও কমিয়ে ২ থেকে ৩ শতাংশের মধ্যে আনতে হবে। উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নত করার ওপরও জোর দেন তিনি। বাজার বিশ্লেষক গোলাম রহমান বলেন, পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হবে। মধ্যস্বত্বভোগীর সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি আমদানিনির্ভর পণ্যে প্রতিযোগিতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি ও অতিরিক্ত পরিবহন খরচ বন্ধ করা জরুরি। ক্যাবের সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, মূল্যস্ফীতি কমার পরিসংখ্যানের সঙ্গে বাজারের বাস্তব চিত্র মিলছে না। প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল না হলে কাগজে-কলমে মূল্যস্ফীতি কমলেও মানুষের বাজারের তালিকা আরও ছোট হবে, আর খরচের হিসাব বড় হতে থাকবে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী সরকার: তথ্যমন্ত্রী

0

বর্তমান সরকার মুক্ত ও স্বাধীন গণমাধ্যমে বিশ্বাসী। তবে স্বাধীনতা ভোগের পাশাপাশি সংবাদকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন নবনিযুক্ত তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ। শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করার সময় এসব কথা বলেন তিনি।এর আগে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন নতুন তথ্যমন্ত্রী। পরে শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। স্মৃতিসৌধে যাওয়ার আগে একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে মন্ত্রণালয়ের নতুন দায়িত্ব ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন আন্দালিভ রহমান পার্থ। তিনি জানান, মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরুর পর গণমাধ্যমবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত রেখে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর বাড়তি কোনো চাপ অনুভব করছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে পার্থ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ভালো জানেন কখন কাকে কোথায় দায়িত্ব দিতে হবে। যেহেতু অনেক দিন ধরে রাজনীতির পাশাপাশি মিডিয়ার সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে, তাই আশা করি সবার সহযোগিতায় ভালো কিছু করতে পারব।’টেলিভিশনের টক-শো ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে তার নিয়মিত উপস্থিতি নিয়েও কথা বলেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এখন হয়তো আগের মতো ঘন ঘন কথা বলার সুযোগ হবে না, তবে মিডিয়ার সঙ্গেই থাকব এবং ভিন্ন আঙ্গিকে দায়িত্বশীল জায়গা থেকে কথা বলব।’সরকারের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং দায়িত্ব পালনের সময় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে দূরে সরে যাওয়ার আশঙ্কা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে পার্থ বলেন, ‘জনতাই ক্ষমতার উৎস। এই সত্য আমাদের সবসময় মনে রাখতে হবে। রাজনীতিবিদদের আসল সফলতা তখনই আসে, যখন তারা রাষ্ট্র পরিচালনায় থেকেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারেন।’গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরে নানা ভয়ভীতির মধ্যেও গণমাধ্যম জনগণের কথা বলার চেষ্টা করেছে। নতুন সরকারের সময়ে সংবাদমাধ্যমের ওপর অযাচিত নিয়ন্ত্রণ বা হস্তক্ষেপের কোনো মানসিকতা নেই বলেও জানান তিনি।এ বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘বিগত ১৭ বছরে তৎকালীন সরকারের ভয়ভীতির মধ্যেও গণমাধ্যম জনগণের কথা বলার চেষ্টা করেছে। আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমের ওপর কোনো অহেতুক নিয়ন্ত্রণ বা হস্তক্ষেপের মানসিকতা নেই। আমরা মুক্ত গণমাধ্যমে বিশ্বাসী। তবে মুক্ত মানে ‘কেয়ারলেস’ বা দায়িত্বজ্ঞানহীন হওয়া যাবে না। গণমাধ্যম গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ, তাই দেশের স্বার্থ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় থেকে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চা করতে হবে।’