জাতেই মাতাল, তালে ঠিক চারশ টাকার সিএনজি যাত্রায় এক অদ্ভুত মানুষের পাগলামির আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক অভিমানী হৃদয়ের গল্প

0
53

জীবনের সবচেয়ে সুন্দর গল্পগুলো সব সময় পরিকল্পনা করে লেখা যায় না। কিছু গল্প হঠাৎ করেই জীবনের পথে এসে দাঁড়ায়। কখনো কোনো মানুষের চোখে, কখনো অচেনা কারও মুখের কথায়, আবার কখনো চারশ টাকা ভাড়ার একটি সিএনজির ছোট্ট কেবিনে বসে জীবনের এমন এক গল্পের মুখোমুখি হতে হয়, যা অনেক দিন পরেও মনে থেকে যায়।
আমি একজন লেখক, সাংবাদিক ও টেলিভিশন উপস্থাপক। মানুষের জীবন, মানুষের আচরণ, মানুষের আনন্দ বেদনা, হাসি কান্না এবং সম্পর্কের টানাপোড়েন আমার লেখার অন্যতম উপাদান। তাই আমার কাছে পথের প্রতিটি মানুষই সম্ভাব্য একটি গল্প। তবে সব গল্প সঙ্গে সঙ্গে লেখা হয়ে ওঠে না। কিছু গল্প মনে জমে থাকে। সময়ের অপেক্ষায় থাকে। তারপর কোনো এক গভীর রাতে হঠাৎ কলমের ডগায় এসে বসে।
আজ ২২ আগস্ট। গত মাসের সেই অদ্ভুত ঘটনাটিই আজ আবার মনে পড়ল। ঘটনাটি নিয়ে তখন কয়েকজনকে গল্প করেছি, হেসেছি, মজা করেছি। কিন্তু লেখা হয়নি। আজ মনে হলো, এই গল্প শুধু হাসির নয়। এর ভেতরে আছে সতর্কতা, মানুষের মনস্তত্ত্ব, দাম্পত্যের অভিমান, ভালোবাসার অদ্ভুত টান এবং নগর জীবনের এক বাস্তব চিত্র।
ঘটনার শুরু ঢাকার উত্তরা থেকে।
এপিবিএনের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি হাসিব আজিজ সাহেবের সঙ্গে একটি বৈঠক শেষ করে আমি শহরের দিকে ফিরছিলাম। সঙ্গে ছিলেন ছোট ভাই গিয়াস, ভাগিনা এবং আবু সৈয়দ। ছোট ভাই গিয়াস আমার জন্য একটি সিএনজি ঠিক করে দিলেন। গন্তব্য ছিল তোপখানা রোডের জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে। ভাড়া চারশ টাকা।
গিয়াস আমার সামনেই সিএনজি চালককে ভাড়া পরিশোধ করে দিলেন। আমি শুধু যাত্রী হিসেবে গাড়িতে উঠে বসলাম।
মনে মনে ভাবলাম, আজ যাত্রাটা বেশ আরামেই হবে। ভাড়ার চিন্তা নেই, গাড়িও পাওয়া গেছে, এখন শুধু বসে বসে ঢাকার ব্যস্ত রাস্তা দেখতে দেখতে প্রেসক্লাবে পৌঁছে যাব।
কিন্তু মানুষ যা ভাবে, জীবন সব সময় তাকে সে পথে হাঁটায় না।
কিছুদূর যাওয়ার পরই চালকের আচরণে অস্বাভাবিকতা চোখে পড়ল।
লোকটি গান গাইছে। গান গাওয়া অপরাধ নয়। ঢাকার যানজটে গান অনেকের মন ভালো রাখে। কিন্তু পরক্ষণেই দেখি, স্টিয়ারিং থেকে হাত সরিয়ে হাততালি দিচ্ছে। আবার কখনো কী যেন মুখে দিচ্ছে। গাড়ি চালাতে চালাতেই তার শরীরী ভাষা বদলে যাচ্ছে। কখনো হাসছে, কখনো নিজের মতো করে কথা বলছে।
আমি একটু মনোযোগ দিয়ে তার দিকে তাকালাম।
আমার সাংবাদিকসুলভ কৌতূহল তখন সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, ভাই আপনার কী হয়েছে?
সে খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলল, গাড়ির ব্রেক ঠিক নাই।
আমি একটু থমকে গেলাম।
যে মানুষটি কিছুক্ষণ আগেও স্টিয়ারিং ছেড়ে হাততালি দিয়ে গান গাইছিল, সে এখন আমাকে গাড়ির ব্রেকের খবর দিচ্ছে।
আমি বললাম, ব্রেক ঠিক নেই মানে?
সে বলল, যেকোনো সময় মরে যেতে পারি।
তার কথায় পরিস্থিতি আরও অদ্ভুত হয়ে উঠল।
সাধারণ একজন যাত্রী হলে হয়তো তখনই গাড়ি থেকে নেমে নিরাপদ কোনো জায়গায় চলে যেতেন। কিন্তু আমার স্বভাব একটু আলাদা। আমি ভয় পেলেও পরিস্থিতির ভেতরের কারণটি জানতে চাই। আমার পেশা আমাকে মানুষের কথার আড়ালে থাকা কথাটিও শুনতে শিখিয়েছে।
তাই আমি নেমে গেলাম না।
বরং তাকে আরও ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতে লাগলাম।
আমার মনে হচ্ছিল, এখানে শুধু একজন অস্বাভাবিক চালকের ঘটনা নেই। এর পেছনে হয়তো কোনো ব্যক্তিগত কষ্ট আছে। হয়তো কোনো মানসিক অস্থিরতা আছে। হয়তো নেশার প্রভাব আছে। অথবা হয়তো সবকিছুর মিশ্রণ।
কিছুদূর যাওয়ার পর হঠাৎ সে গাড়ি থামিয়ে দিল।
আমি ভাবলাম, এবার বুঝি সত্যিই ব্রেক পরীক্ষা করবে।
কিন্তু না।
সে গাড়ি থেকে নেমে কলা খেল। পানি খেল। তারপর সিগারেট ধরাল।
আমি গাড়ির ভেতরে বসে তার কাণ্ডকারখানা দেখছি।
মনে মনে বললাম, ব্রেক নষ্ট হওয়ার চিকিৎসা যদি কলা, পানি আর সিগারেট হয়, তাহলে এই চিকিৎসাবিদ্যার সঙ্গে আমার পরিচয় আজই প্রথম।
কিছুক্ষণ পর হাতে জ্বলন্ত সিগারেট নিয়েই সে আবার গাড়িতে উঠল।
তারপর গাড়ি চলতে শুরু করল।
গান এবার আরও জোরে।
হাততালি এবার আরও বেশি।
আমি নীরবে বসে রইলাম।
মনে মনে শুধু একটি কথাই বললাম।
জাতেই মাতাল, তালে ঠিক।
অর্থাৎ আচরণে এমন মাতলামি, যেন মানুষটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে। অথচ গাড়ি চালানোর সময় আশ্চর্যজনকভাবে সে রাস্তা সামলাচ্ছে।
তখন তার বলা ব্রেক নষ্ট হওয়ার কথাটিও আমার কাছে সন্দেহজনক মনে হলো।
আমি ভাবলাম, সত্যিই কি ব্রেকের সমস্যা, নাকি আমাকে ভয় দেখিয়ে মাঝপথে নামিয়ে দেওয়ার কোনো কৌশল?
কারণ ভাড়ার টাকা তো সে আগেই পেয়ে গেছে।
আমি মাঝপথে নেমে গেলে তার টাকা ফেরত দেওয়ার কোনো প্রশ্ন নেই। বরং সে হয়তো যাত্রীকে ভয় দেখিয়ে নিজের দায় এড়াতে চাইছে।
কিন্তু আমি নামলাম না।
আমি অপেক্ষা করলাম।
আমি তার পাগলামির আড়ালে লুকিয়ে থাকা গল্পটি শুনতে চাইলাম।
একসময় কথাবার্তা একটু স্বাভাবিক হলো।
আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনার বাড়ি কোথায়?
সে বলল, কুমিল্লার বুড়িচং।
তার নাম জালাল উদ্দীন।
কথা বাড়তে বাড়তে সে তার ব্যক্তিগত জীবনের দরজা খুলে দিল।
তারপর এলো তার স্ত্রীর কথা।
তার কণ্ঠে তখন আর আগের সেই মাতাল হাসি নেই। সেখানে ছিল অভিমান।
ছিল কষ্ট।
ছিল ভালোবাসা।
ছিল অভিযোগ।
সে জানাল, টেকনাফের মুন্নি নামে এক নারীকে সে বিয়ে করেছে। তার দাবি, কোনো এক দাম্পত্য বিরোধের কারণে স্ত্রী নাকি তাকে কয়েক দিন বাসায় ঢুকতে দেননি।
সেই কষ্ট থেকেই সে বিভিন্ন ধরনের নেশায় জড়িয়ে পড়েছে বলেও আমাকে জানাল। গাঁজা, দেশীয় মদ, ঘুমের বড়িসহ নানা ধরনের নেশা গ্রহণের কথা সে বলেছিল।
তবে তার এসব বক্তব্য আমি স্বাধীনভাবে যাচাই করিনি। তার স্ত্রীর বক্তব্যও আমার জানা নেই। তাই তার কথাগুলোকে কোনোভাবেই চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
কিন্তু একজন মানুষের মুখে যখন তার নিজের জীবনের কষ্টের কথা শুনছিলাম, তখন বিষয়টি আর নিছক মজার মনে হচ্ছিল না।
আমি বুঝতে পারছিলাম, লোকটির পাগলামির ভেতরে কোথাও একটা আহত মানুষ আছে।
মানুষের মন বড় অদ্ভুত।
যাকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ, অনেক সময় তাকেই সবচেয়ে বেশি ভালোবাসা হয়।
যার কাছে সবচেয়ে বেশি প্রত্যাশা, তার কাছ থেকেই সবচেয়ে বেশি অভিমান জন্ম নেয়।
যাকে হারানোর ভয় সবচেয়ে বেশি, তার সঙ্গেই কখনো কখনো মানুষ সবচেয়ে বেশি রাগ করে।
জালাল উদ্দীনের কথার মধ্যেও সেই অদ্ভুত দ্বন্দ্ব দেখলাম।
স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে, আবার স্ত্রীকে ভালোবাসে বলছে।
রাগ করছে, আবার তাকে হারাতে চায় না।
অভিমান করছে, আবার তার কথাই বলছে।
আমি তখন বুঝলাম, মানুষের পাগলামিরও কখনো কখনো একটি ভাষা থাকে। সেই ভাষা সবাই পড়তে পারে না।
কেউ রাগের ভাষা বোঝে, কিন্তু রাগের ভেতরের কান্না বোঝে না।
কেউ হাসি দেখে, কিন্তু হাসির আড়ালের বিষণ্নতা দেখে না।
কেউ একজন মানুষের অস্বাভাবিক আচরণ দেখে তাকে পাগল বলে চলে যায়, কিন্তু কেন সে এমন হলো সেই প্রশ্নটি করে না।
আমি সেই প্রশ্নটিই করছিলাম।
সেগুনবাগিচায় রিপোর্টার্স ইউনিটির সামনে এসে আমাদের যাত্রা শেষ হলো।
আমি গাড়ি থেকে নামলাম।
কিন্তু গল্পটি তখনও শেষ হয়নি।
আমি তার সঙ্গে আরও কিছুক্ষণ কথা বললাম। সে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ বলল। তার সংসারের অশান্তির কথা বলল। তার কষ্টের কথা বলল। কিন্তু তার কথার সবচেয়ে বড় সত্য ছিল একটি।
সে তার স্ত্রীকে ভালোবাসে।
আমি মনে মনে হাসলাম।
সংসার আসলে বড় বিচিত্র জিনিস।
ভালোবাসা যেখানে সবচেয়ে বেশি, অভিমানও অনেক সময় সেখানেই সবচেয়ে গভীর।
অভিযোগের ভাষা যত কঠিন হোক, হৃদয়ের ভেতরে ভালোবাসা থাকলে মানুষ বারবার সেই একই মানুষের কাছে ফিরে যায়।
জালাল উদ্দীনের গল্পের সত্য মিথ্যা বিচার করার দায়িত্ব আমার নয়। আমি শুধু তার বলা কথাগুলো শুনেছি এবং তার আচরণ প্রত্যক্ষ করেছি।
তবে একজন যাত্রী হিসেবে তার অস্বাভাবিক আচরণ আমাকে অবশ্যই চিন্তিত করেছে।
কারণ একজন চালক যখন নেশাগ্রস্ত, মানসিকভাবে অস্থির অথবা নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায় গাড়ি চালান, তখন তার গাড়িতে থাকা প্রত্যেক যাত্রীর জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।
আমি সেদিন তার ছবি তুলেছিলাম।
ভিডিও ধারণ করেছিলাম।
এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের মেসেজ দিয়ে বিষয়টি জানিয়ে রেখেছিলাম।
কারণ আমার কাছে ঘটনাটি শুধু একটি মজার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ছিল না। এটি ছিল নগর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তার প্রশ্ন।
ঢাকার রাস্তায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ সিএনজি, বাস, প্রাইভেট কার ও অন্যান্য যানবাহনে চলাচল করেন। একজন যাত্রী গাড়িতে ওঠার সময় সাধারণত চালকের ব্যক্তিগত জীবন জানেন না। তিনি জানেন না চালক আগের রাতে ঘুমিয়েছেন কি না। তিনি জানেন না চালক কোনো নেশায় আছেন কি না। তিনি জানেন না তার মানসিক অবস্থা কেমন।
তবুও যাত্রী নিজের জীবন তার হাতে তুলে দেন।
এখানেই দায়িত্বের প্রশ্ন।
একজন চালকের ব্যক্তিগত জীবনে যত কষ্টই থাকুক, স্টিয়ারিং হাতে নেওয়ার পর তাকে মনে রাখতে হবে, তার পাশে বসে থাকা মানুষটিরও একটি পরিবার আছে।
তারও স্বপ্ন আছে।
তারও সন্তান আছে।
তারও প্রিয়জন আছে।
তারও বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় কেউ হয়তো দরজার দিকে তাকিয়ে আছে।
তাই চালকের স্টিয়ারিং শুধু একটি গাড়ি চালায় না। কখনো কখনো একটি পরিবারের স্বপ্নও বহন করে।
সেদিন আমি চাইলে পুলিশ ডাকতে পারতাম।
আমি চাইলে তাকে গাড়ি থামিয়ে দিতে পারতাম।
কিন্তু আমি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছি এবং সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে রেখেছি। অন্য কোনো যাত্রী যদি এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, তাকে আমার মতো ঝুঁকি নেওয়ার পরামর্শ আমি দেব না। নিজের নিরাপত্তাকে সবার আগে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
কারণ সাংবাদিকের কৌতূহল আর সাধারণ যাত্রীর নিরাপত্তা এক জিনিস নয়।
আমি সেদিন গল্পের সন্ধানে ছিলাম।
কিন্তু প্রত্যেক যাত্রীকে গল্পের সন্ধানে যেতে হবে এমন কোনো কথা নেই।
আজ এতদিন পর যখন সেই ঘটনার কথা লিখছি, তখন মনে হচ্ছে, সেদিন আমি শুধু একটি সিএনজিতে উঠিনি। আমি একজন অচেনা মানুষের জীবনের কয়েকটি পৃষ্ঠা পড়ে নেমেছিলাম।
কিছু পৃষ্ঠা ছিল হাসির।
কিছু পৃষ্ঠা ছিল অদ্ভুত।
কিছু পৃষ্ঠা ছিল অস্বস্তিকর।
আর কিছু পৃষ্ঠা ছিল নিঃশব্দ কষ্টে ভেজা।
আমার কাছে সবচেয়ে মজার দৃশ্য ছিল তার হাততালি দিতে দিতে গাড়ি চালানো।
সবচেয়ে রহস্যময় ছিল তার ব্রেক নষ্ট হওয়ার ঘোষণা।
সবচেয়ে অদ্ভুত ছিল ব্রেকের চিকিৎসায় কলা, পানি আর সিগারেট।
আর সবচেয়ে মানবিক ছিল তার স্ত্রীর কথা বলতে গিয়ে হঠাৎ কণ্ঠের পরিবর্তন।
সেই মুহূর্তে মনে হলো, স্টিয়ারিংয়ের ওপারে যে মানুষটিকে কিছুক্ষণ আগেও আমি একজন পাগল চালক ভাবছিলাম, সে আসলে তার নিজের জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করা একজন অভিমানী মানুষ।
হয়তো সে ভুল করেছে।
হয়তো নেশায় নিজেকে হারিয়েছে।
হয়তো সংসারে ভুল বোঝাবুঝি আছে।
হয়তো তার অভিযোগ সত্য।
হয়তো তার অভিযোগের অনেকটাই আবেগের।
আমি জানি না।
তবে এটুকু জানি, মানুষকে বাইরে থেকে দেখে পুরো মানুষটিকে বোঝা যায় না।
একজন মানুষের হাসির পেছনে কান্না থাকতে পারে।
একজন মানুষের রাগের পেছনে ভালোবাসা থাকতে পারে।
একজন মানুষের পাগলামির পেছনে অসহায়ত্ব থাকতে পারে।
আর একজন সিএনজি চালকের অদ্ভুত আচরণের পেছনে থাকতে পারে একটি ভাঙা সংসারের গল্প।
তাই আজকের এই লেখাটি শুধু জালাল উদ্দীনের গল্প নয়।
এটি আমাদের নগরজীবনের গল্প।
এটি আমাদের নিরাপত্তার গল্প।
এটি মানুষের মনের গল্প।
এটি ভালোবাসা, অভিমান এবং ভুল বোঝাবুঝির গল্প।
আর একজন লেখক হিসেবে আমার জীবনের আরেকটি অমূল্য অভিজ্ঞতার গল্প।
সেদিন আমার গন্তব্য ছিল জাতীয় প্রেসক্লাব।
ভাড়া ছিল চারশ টাকা।
কিন্তু বিনিময়ে আমি পেলাম এমন একটি গল্প, যার মূল্য চারশ টাকা দিয়ে কোনোদিনই মাপা যাবে না।
জীবন কখনো কখনো এভাবেই লেখককে লেখা উপহার দেয়।
কোনো সম্পাদকীয় বৈঠকে নয়।
কোনো সম্মেলনের মঞ্চে নয়।
কোনো বইমেলার স্টলে নয়।
বরং একটি সিএনজির ভেতরে বসিয়ে।
আর তখনই মনে হয়, সত্যিই তো
জীবনই সবচেয়ে বড় উপন্যাস। মানুষ তার চরিত্র। রাস্তা তার পটভূমি। আর প্রতিটি অচেনা যাত্রা হতে পারে নতুন একটি অধ্যায়।
সেদিনের সেই অধ্যায়ের শেষ বাক্য আজও আমার মনে বাজে
“জাতেই মাতাল, তালে ঠিক। গাড়ির ব্রেক ঠিক ছিল কি না জানি না, কিন্তু মানুষের জীবনের ব্রেক যে কখনো কখনো নষ্ট হয়ে যায়, সেদিন সেটি খুব কাছ থেকে দেখেছিলাম।”
মো. কামাল উদ্দিন
লেখক, সাংবাদিক ও টেলিভিশন উপস্থাপক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here