“সাহস, সততা ও দায়িত্ববোধের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অন্ধকার—চট্টগ্রামে নিরাপত্তার নতুন ইতিহাস গড়েও কেন নিশানায় আফতাব উদ্দিন ও হাসিব আজিজ?”

By admin
5 Min Read
মো. কামাল উদ্দিনঃ
চট্টগ্রাম—পাহাড়, সমুদ্র আর নদীর মায়াবী শহর। কিন্তু এই সৌন্দর্যের আড়ালেই বহু বছর ধরে লুকিয়ে ছিল অপরাধের এক জটিল বাস্তবতা। নগরীর কিছু এলাকা ছিল মাদক, অস্ত্র, ছিনতাই ও চোরাচালানের অভয়ারণ্য। সাধারণ মানুষের মনে ছিল ভীতি, অনিশ্চয়তা এবং এক ধরনের অসহায়ত্ব। এই প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর চান্দগাঁও থানার দায়িত্ব গ্রহণ করেন ওসি আফতাব উদ্দিন। তবে আফতাব উদ্দিন চান্দ গাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে একেবারে নতুন ছিল সি এমপির জন্য, তার আকাশ ছোঁয়া সফলতা সেই চান্দ গাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ হতে তাঁকে দেন বন্দরে অফিসার ইনচার্জ, এরপর বন্দর, এরপরে বাকলিয়া, বর্তমানে কোতোয়ালি থানায় অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এই দিকে সফলতা বিরুদ্ধে অপপ্রচার হচ্ছে আমি তার আগমনের আগে এই থানা ছিল নানা অপরাধচক্রের দখলে থাকা এক অস্থির এলাকা। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি বুঝিয়ে দেন—এই অবস্থা আর চলবে না। তিনি শুধু একজন পুলিশ কর্মকর্তা নন, বরং একজন কৌশলী সংগঠক, কঠোর প্রশাসক এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির এক বিরল সমন্বয়। থানার প্রতিটি কার্যক্রমে তিনি নিয়ে আসেন শৃঙ্খলা, গতি এবং জবাবদিহিতা। রাত-দিন পরিশ্রম করে তিনি গড়ে তোলেন একটি সক্রিয় ও দায়িত্বশীল পুলিশ টিম, যারা জনগণের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়। তার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে যে সাফল্য এসেছে, তা শুধু পরিসংখ্যানের ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়—এটি একটি মানসিক পরিবর্তনের গল্প। যেখানে মানুষ আবার পুলিশের ওপর আস্থা রাখতে শুরু করেছে।
মাদকবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার, অস্ত্রধারীদের গ্রেফতার, চোরাই যানবাহন উদ্ধারের মাধ্যমে অপরাধচক্রের ভিত নড়িয়ে দেওয়া—এসবই প্রমাণ করে তার দৃঢ়তা ও পেশাদারিত্ব। প্রতিটি অভিযানে ছিল সুপরিকল্পিত কৌশল, নির্ভুল তথ্য এবং দ্রুত বাস্তবায়ন। বিশেষ করে তার ডেটা-ভিত্তিক টার্গেটিং পদ্ধতি—যেখানে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে নিয়মিত নজরদারি করা হয়—তা আধুনিক পুলিশিংয়ের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। একই সঙ্গে গোপন সোর্স নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী করে তিনি অপরাধীদের গতিবিধি আগেভাগেই শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করে তিনি একটি বিশ্বাসের সেতু গড়ে তুলেছেন। ফলে মানুষ এখন শুধু অপরাধের শিকার নয়, বরং অপরাধ প্রতিরোধের অংশীদার। এই পুরো পরিবর্তনের পেছনে যে শক্তিশালী ভিত্তি কাজ করেছে, তা হলো চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার হাসিব আজিজের দূরদর্শী নেতৃত্ব। তিনি এমন এক প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করেছেন, যেখানে দক্ষ কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পান, কিন্তু দায়িত্বে অবহেলা করলে কোনো ছাড় পান না। এই ভারসাম্যপূর্ণ নেতৃত্বই চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে একটি নিয়ন্ত্রিত অবস্থানে নিয়ে এসেছে। হাসিব আজিজ শুধু নির্দেশ দেননি, বরং প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে ছিলেন সক্রিয় সহায়ক। তার নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে একটি জবাবদিহিমূলক পুলিশিং সংস্কৃতি, যেখানে সাফল্য যেমন পুরস্কৃত হয়, তেমনি ব্যর্থতার জন্য জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করা হয়। বর্তমানে তিনি এপিবিএন-এর প্রধান হিসেবে অতিরিক্ত আইজিপি পদে দায়িত্ব পালন করছেন—যা তার পেশাগত দক্ষতা ও সততারই স্বীকৃতি। কিন্তু বাস্তবতা হলো—যেখানে আলোর বিস্তার ঘটে, সেখানে অন্ধকারও তার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামে। ওসি আফতাব উদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালিত কঠোর অভিযান এবং গণগ্রেফতার অনেকের স্বার্থে আঘাত হেনেছে। মাদক ব্যবসায়ী, অস্ত্রচোরাচালানকারী, অবৈধ অর্থের সাথে জড়িত চক্র—তাদের জন্য এই অভিযান ছিল এক বড় ধাক্কা। ফলে তারা এখন সরাসরি প্রতিরোধ করতে না পেরে বেছে নিয়েছে অপপ্রচারের পথ। কিছু নামধারী ব্যক্তি ও পক্ষপাতদুষ্ট মহল মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। এই অপপ্রচারের পেছনে রাজনৈতিক প্রভাবও রয়েছে বলে জনমনে আলোচনা চলছে। কারণ, যখন অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়, তখন সেই চক্রগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক শক্তিগুলোও অস্বস্তিতে পড়ে। এটি নতুন কিছু নয়—ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, সৎ ও সাহসী কর্মকর্তারা প্রায়ই ষড়যন্ত্রের শিকার হন। কিন্তু একটি বিষয় আমাদের গভীরভাবে ভাবতে হবে—আমরা কি সেই সমাজ গড়তে চাই, যেখানে সৎ মানুষগুলো নিরুৎসাহিত হবে? নাকি আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো মানুষগুলোকে সম্মান ও সমর্থন দেওয়া হবে? সমালোচনা অবশ্যই প্রয়োজন, অভিযোগ থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হতে হবে। কিন্তু ভিত্তিহীন অপপ্রচার, ব্যক্তিগত বিদ্বেষ বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কাউকে হেয় করা—এটি শুধু ব্যক্তি নয়, পুরো ব্যবস্থাকেই দুর্বল করে দেয়। আজ চট্টগ্রামের মানুষ যে তুলনামূলক নিরাপত্তা অনুভব করছে, তার পেছনে রয়েছে এই দুই কর্মকর্তার নিরলস পরিশ্রম ও ত্যাগ। ওসি আফতাব উদ্দিন—একজন মাঠপর্যায়ের যোদ্ধা, যিনি প্রতিদিন অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। হাসিব আজিজ—একজন দূরদর্শী নেতৃত্ব, যিনি সেই লড়াইয়ের জন্য শক্ত ভিত তৈরি করেছেন। এই দুইজনের সমন্বয় প্রমাণ করেছে—সঠিক নেতৃত্ব ও দৃঢ় প্রয়াস থাকলে একটি শহরের চিত্র বদলে দেওয়া সম্ভব। অপপ্রচার, ষড়যন্ত্র—এসব সাময়িক। কিন্তু সত্য, সততা ও সাফল্য—এসবই চিরস্থায়ী। সময়ের ইতিহাস একদিন নিরপেক্ষভাবে বিচার করবে—কে সমাজের জন্য কাজ করেছে, আর কে সেই কাজকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে। আর সেই ইতিহাসে নিঃসন্দেহে লেখা থাকবে—চট্টগ্রামের নিরাপত্তার নতুন অধ্যায় রচনায় আফতাব উদ্দিন ও হাসিব আজিজ ছিলেন দুই সাহসী নায়ক, যারা অন্ধকারের বিরুদ্ধে আলোর পথ দেখিয়েছেন।
Share This Article
Leave a Comment