
সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে “দুই ওসির হানি ট্র্যাপে পুলিশ কমিশনার” শিরোনামে বাংলাদেশ পুলিশের একজন মেধাবী, দক্ষ, চৌকস, সাহসী ও পেশাদার কর্মকর্তা হাসিব আজিজকে জড়িয়ে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে, তার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানো হচ্ছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে যে ধরনের অভিযোগ, ইঙ্গিত ও ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, তা শুধু একজন কর্মকর্তার পেশাগত ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা নয়; বরং একজন রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তার ব্যক্তিগত মর্যাদা, সামাজিক সম্মান, দীর্ঘ পেশাগত সুনাম এবং তাঁর পরিবারের মানসিক শান্তির ওপরও আঘাত বলে আমরা মনে করি। আমরা অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই—হাসিব আজিজ কোনো হঠাৎ তৈরি হওয়া কর্মকর্তা নন। দীর্ঘ পেশাজীবনের কঠিন পথ অতিক্রম করে তিনি আজ বাংলাদেশ পুলিশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে অধিষ্ঠিত। তাঁর কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন, কঠিন পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পেশাদার ভূমিকা এবং দায়িত্ব পালনে সাহসিকতা তাঁর পেশাগত পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বর্তমানে তিনি অতিরিক্ত আইজিপি ও এপিবিএন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন—যা তাঁর দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও নেতৃত্বের প্রতি রাষ্ট্রের আস্থারই প্রতিফলন। এমন একজন কর্মকর্তাকে কয়েকটি অভিযোগ, ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য কিংবা যাচাই-বাছাইহীন তথ্যের ভিত্তিতে জনসমক্ষে হেয় করার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
হাসিব আজিজ সাহেবের ব্যক্তিগত অঙ্গভঙ্গির ছবি পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচার করে তাঁর সম্মান ও পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি। ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করে মিথ্যা, কুৎসামূলক বা মানহানিকর বক্তব্য প্রচার কোনোভাবেই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নয়। এ ধরনের অপপ্রচার অবিলম্বে বন্ধ করে প্রকাশিত বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হচ্ছে। অন্যথায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। হাসিব আজিজের দীর্ঘ কর্মজীবনকে কি কয়েকটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিবেদনে মুছে ফেলা যাবে? হাসিব আজিজের পেশাগত জীবন কোনো একটি সংবাদ প্রতিবেদন দিয়ে মূল্যায়ন করার বিষয় নয়। একজন পুলিশ কর্মকর্তার প্রকৃত মূল্যায়ন হয় তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবন, দায়িত্ব পালনের ইতিহাস, পেশাগত দক্ষতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা, সততা, শৃঙ্খলা এবং রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতার মাধ্যমে। তিনি এমন একজন কর্মকর্তা, যিনি কঠিন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ও থানায় দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পেশাগত জীবনের নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে নিজের যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন। অতীতের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতায় তিনি বৈষম্য ও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন—এমন অভিজ্ঞতার কথাও তাঁর পরিচিত মহলে আলোচিত। কিন্তু প্রতিকূলতা তাঁকে থামাতে পারেনি। বরং যোগ্যতা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্ববোধকে শক্তি করে তিনি নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। আজ তাঁর সেই দীর্ঘ পথচলা ও অর্জনকে পাশ কাটিয়ে ব্যক্তিগত চরিত্রহননের মতো স্পর্শকাতর শব্দ ব্যবহার করে সংবাদ প্রকাশ করা হলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—এই সংবাদ প্রকাশের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী? অভিযোগ থাকলে তদন্ত হোক, প্রমাণ থাকলে আইনগত ব্যবস্থা হোক আমরা কোনো ব্যক্তিকে আইনের ঊর্ধ্বে মনে করি না। হাসিব আজিজও আইনের ঊর্ধ্বে নন। তাঁর বিরুদ্ধে যদি কারও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তাহলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করা হোক, নিরপেক্ষ তদন্ত হোক, প্রয়োজনীয় প্রমাণ উপস্থাপন করা হোক এবং সত্য প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কিন্তু তদন্তের আগে সংবাদমাধ্যমে একজনকে অভিযুক্ত করা, প্রমাণের আগে জনমনে অপরাধীর ধারণা তৈরি করা এবং ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা কোনোভাবেই ন্যায়বিচারের পদ্ধতি হতে পারে না। একজন মানুষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা সহজ; কিন্তু তাঁর দীর্ঘদিনের অর্জিত সম্মান নষ্ট হয়ে গেলে সেটি ফিরিয়ে দেওয়া অত্যন্ত কঠিন। সাংবাদিকতার শক্তি সত্য প্রকাশে, কারও চরিত্র ধ্বংসে নয়। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আছে, কিন্তু মিথ্যা অপপ্রচারের স্বাধীনতা নেই আমরা স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। গণমাধ্যম দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা অপরাধের তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরবে—এটাই গণমাধ্যমের শক্তি। কিন্তু সেই স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্বও রয়েছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মানে কারও বিরুদ্ধে যাচাইহীন অভিযোগ প্রকাশের স্বাধীনতা নয়। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মানে চরিত্রহননের অধিকার নয়।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মানে গুজবকে সংবাদে পরিণত করার অনুমতি নয়। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মানে একজন রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তার সামাজিক মর্যাদা ধ্বংস করার লাইসেন্স নয়।
সাংবাদিকতার প্রথম শর্ত সত্যতা যাচাই। দ্বিতীয় শর্ত ভারসাম্য। তৃতীয় শর্ত সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়া। এসব নীতির যথাযথ প্রতিফলন ছাড়া কোনো গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ করা হলে তা স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম দেয়। হাসিব আজিজকে কেন বারবার টার্গেট করা হচ্ছে? একজন কর্মকর্তা যখন দায়িত্বশীল অবস্থানে থাকেন, তখন তাঁর সিদ্ধান্তে অনেকের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে কেউ অসন্তুষ্ট হতে পারে, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে কেউ ক্ষুব্ধ হতে পারে, আবার কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী নিজেদের সুবিধা হারাতে পারে। তাই কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই সেটিকে সত্য ধরে নেওয়া যায় না। বরং দেখতে হবে—অভিযোগের পেছনে কার স্বার্থ রয়েছে, তথ্যের উৎস কী, প্রমাণ কোথায় এবং কেন ঠিক এই সময়ে এই ধরনের সংবাদ প্রকাশ করা হলো। হাসিব আজিজের মতো একজন কর্মকর্তা যদি দীর্ঘদিনের পেশাগত অভিজ্ঞতা ও দায়িত্বশীল অবস্থানের কারণে কোনো মহলের স্বার্থের পথে বাধা হয়ে থাকেন, তাহলে তাঁকে প্রশাসনিকভাবে মোকাবিলা করতে না পেরে অপপ্রচার ও চরিত্রহননের পথ বেছে নেওয়া হচ্ছে কি না—সেটিও তদন্তের বিষয় হতে পারে। একজন কর্মকর্তার পরিবারকেও কেন অপমানের মুখে ঠেলে দেওয়া হবে? কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর ও স্পর্শকাতর অভিযোগ প্রকাশের আগে সবচেয়ে বড় বিষয় হওয়া উচিত মানবিকতা। একজন পুলিশ কর্মকর্তা তাঁর দায়িত্ব পালন করেন রাষ্ট্রের জন্য। কিন্তু তাঁর পরিবার কোনো অভিযোগের অংশ নয়। যাচাইহীন বা মানহানিকর সংবাদ প্রকাশের কারণে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সামাজিকভাবে বিব্রত, অপমানিত কিংবা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হতে হতে পারে। তাই সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা আরও বেশি প্রয়োজন। একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তাঁর দায়িত্ব ও কর্মসম্পর্কিত তথ্য নিয়ে আলোচনা হোক; কিন্তু ব্যক্তিগত মর্যাদা ও চরিত্রকে লক্ষ্য করে ইঙ্গিতপূর্ণ প্রচারণা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অপপ্রচার দিয়ে হাসিব আজিজের অর্জন মুছে ফেলা যাবে না হাসিব আজিজের দীর্ঘ পেশাগত জীবন, তাঁর দক্ষতা, মেধা, সাহসিকতা ও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা কয়েকটি সংবাদ শিরোনাম দিয়ে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। তিনি প্রতিকূল সময় দেখেছেন, বৈষম্যের সময় দেখেছেন, প্রশাসনিক বাস্তবতার কঠিন অধ্যায় অতিক্রম করেছেন। তারপরও নিজের পেশাগত অবস্থান ধরে রেখেছেন। আজ তিনি যে অবস্থানে পৌঁছেছেন, তা কোনো ব্যক্তির অনুগ্রহে নয়—দীর্ঘ পেশাগত পথচলা, অভিজ্ঞতা, যোগ্যতা ও দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে অর্জিত। তাঁকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে যদি কোনো মহল অপপ্রচারের আশ্রয় নেয়, তাহলে সেই অপপ্রচার তাঁর বিরুদ্ধে নয়—বরং সত্য ও পেশাদারিত্বের বিরুদ্ধে একটি আঘাত। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, বাংলাদেশ পুলিশের কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে আইন ও বিধি অনুযায়ী তদন্ত হবে। কিন্তু একই সঙ্গে কোনো কর্মকর্তা যদি পরিকল্পিত মিথ্যা তথ্য, কুৎসা, অপপ্রচার বা মানহানিকর প্রচারণার শিকার হন, তাহলে তাঁর আইনগত প্রতিকার পাওয়ার অধিকারও রয়েছে। হাসিব আজিজের বিরুদ্ধে প্রকাশিত প্রতিবেদনের অভিযোগগুলো যদি অসত্য ও ভিত্তিহীন হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব হলো বিষয়টি পুনঃযাচাই করা, ভুল তথ্য থাকলে তা সংশোধন করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য যথাযথভাবে প্রকাশ করা। একই সঙ্গে যারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য সরবরাহ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার কিংবা পরিকল্পিত চরিত্রহননে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধেও প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। মিথ্যা অপবাদ দিয়ে একজন কর্মকর্তাকে থামিয়ে দেওয়া যাবে না। অপপ্রচার দিয়ে তাঁর পেশাগত পরিচয় মুছে দেওয়া যাবে না। চরিত্রহনন করে তাঁর দীর্ঘদিনের অর্জনকে অস্বীকার করা যাবে না। আর গণমাধ্যমের নাম ব্যবহার করে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র চালানো হলে সেটিও চুপচাপ সহ্য করা হবে না। আমাদের প্রত্যাশা আমরা দায়িত্বশীল সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানাই—সত্য প্রকাশ করুন, তথ্য যাচাই করুন, প্রমাণ উপস্থাপন করুন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়ার নীতি অনুসরণ করুন। একই সঙ্গে যারা ব্যক্তিগত স্বার্থ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কিংবা প্রশাসনিক বিরোধের কারণে গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে একজন পেশাদার কর্মকর্তার চরিত্রহননের চেষ্টা করছেন, তাদেরও সতর্ক করছি—মিথ্যা প্রচারণা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। সত্য একদিন প্রকাশিত হবেই। হাসিব আজিজের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তার বিচার হবে তথ্য, প্রমাণ, তদন্ত ও আইনের ভিত্তিতে—গুজব, অপপ্রচার কিংবা সংবাদ শিরোনামের ভিত্তিতে নয়। আমরা আবারও দৃঢ়ভাবে বলছি— হাসিব আজিজ একজন মেধাবী, দক্ষ, চৌকস, সাহসী ও অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তা। তাঁর দীর্ঘ পেশাগত সুনামকে পরিকল্পিত অপপ্রচারের মাধ্যমে কলঙ্কিত করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশিত ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানহানিকর সংবাদ প্রত্যাহার, সংশোধন ও প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা প্রকাশের দাবি জানানো হচ্ছে। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম, অপপ্রচারকারী ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার সংরক্ষণ করা হলো। সত্যের কাছে অপপ্রচার পরাজিত হবেই। আইনের কাছে ষড়যন্ত্রের কোনো স্থান নেই।
আর একজন সৎ, সাহসী ও পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তার সম্মান রক্ষায় আইনসম্মত প্রতিটি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
— পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে
তীব্র প্রতিবাদ, নিন্দা ও সতর্কবার্তা