গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী সরকার: তথ্যমন্ত্রী

By admin
3 Min Read

বর্তমান সরকার মুক্ত ও স্বাধীন গণমাধ্যমে বিশ্বাসী। তবে স্বাধীনতা ভোগের পাশাপাশি সংবাদকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন নবনিযুক্ত তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ। শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করার সময় এসব কথা বলেন তিনি।এর আগে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন নতুন তথ্যমন্ত্রী। পরে শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। স্মৃতিসৌধে যাওয়ার আগে একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে মন্ত্রণালয়ের নতুন দায়িত্ব ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন আন্দালিভ রহমান পার্থ। তিনি জানান, মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরুর পর গণমাধ্যমবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত রেখে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর বাড়তি কোনো চাপ অনুভব করছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে পার্থ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ভালো জানেন কখন কাকে কোথায় দায়িত্ব দিতে হবে। যেহেতু অনেক দিন ধরে রাজনীতির পাশাপাশি মিডিয়ার সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে, তাই আশা করি সবার সহযোগিতায় ভালো কিছু করতে পারব।’টেলিভিশনের টক-শো ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে তার নিয়মিত উপস্থিতি নিয়েও কথা বলেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এখন হয়তো আগের মতো ঘন ঘন কথা বলার সুযোগ হবে না, তবে মিডিয়ার সঙ্গেই থাকব এবং ভিন্ন আঙ্গিকে দায়িত্বশীল জায়গা থেকে কথা বলব।’সরকারের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং দায়িত্ব পালনের সময় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে দূরে সরে যাওয়ার আশঙ্কা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে পার্থ বলেন, ‘জনতাই ক্ষমতার উৎস। এই সত্য আমাদের সবসময় মনে রাখতে হবে। রাজনীতিবিদদের আসল সফলতা তখনই আসে, যখন তারা রাষ্ট্র পরিচালনায় থেকেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারেন।’গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরে নানা ভয়ভীতির মধ্যেও গণমাধ্যম জনগণের কথা বলার চেষ্টা করেছে। নতুন সরকারের সময়ে সংবাদমাধ্যমের ওপর অযাচিত নিয়ন্ত্রণ বা হস্তক্ষেপের কোনো মানসিকতা নেই বলেও জানান তিনি।এ বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘বিগত ১৭ বছরে তৎকালীন সরকারের ভয়ভীতির মধ্যেও গণমাধ্যম জনগণের কথা বলার চেষ্টা করেছে। আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমের ওপর কোনো অহেতুক নিয়ন্ত্রণ বা হস্তক্ষেপের মানসিকতা নেই। আমরা মুক্ত গণমাধ্যমে বিশ্বাসী। তবে মুক্ত মানে ‘কেয়ারলেস’ বা দায়িত্বজ্ঞানহীন হওয়া যাবে না। গণমাধ্যম গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ, তাই দেশের স্বার্থ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় থেকে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চা করতে হবে।’

Share This Article
Leave a Comment