Home Blog Page 20

চট্টগ্রামে জুয়েলারি দোকান থেকে আত্মসাৎ ৫৫ স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৬

চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশে জুয়েলারি দোকান থেকে আত্মসাৎ করা ৫৫টি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করেছে পাঁচলাইশ মডেল থানা পুলিশ। উদ্ধার করা স্বর্ণের চুড়িগুলোর মোট ওজন ৯৯ ভরি ৪ আনা ৫ রত্তি বা ১ হাজার ১৫৮ দশমিক ৩৩ গ্রাম। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পাঁচলাইশ থানাধীন প্রবর্তক মোড়ের মিমি সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় ‘নিউ কনক বাহার জুয়েলার্স’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে সেলসম্যান হিসেবে দীর্ঘ ১২-১৩ বছর ধরে কাজ করছিলেন রোমেন দে (৩৬)। গত ১৪ আগস্ট দোকানের স্বর্ণালংকারের মজুদ মিলানোর সময় ৫৩টি স্বর্ণের চুড়ি না পাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে দেখা যায়, স্বর্ণের চুড়ির পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট বক্সগুলোতে ইমিটেশনের চুড়ি রাখা হয়েছে।চুরি যাওয়া ৫৩টি চুড়ির ওজন প্রায় ৯২৭ দশমিক ৫০০ গ্রাম এবং আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৮৮ লাখ ২৯ হাজার ৯০০ টাকা বলে জানায় পুলিশ।

এ ঘটনায় দোকানের মালিক পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১৮ আগস্ট রাতে সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট মহাসড়ক এলাকা থেকে রোমেন দেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে রোমেন দে আত্মসাৎ করা স্বর্ণের চুড়িগুলো বিভিন্ন জুয়েলারি দোকান ও বন্ধকী ব্যবসায়ীর কাছে রাখার তথ্য দেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৯ আগস্ট বোয়ালখালীর কানুনগোপাড়া এলাকা থেকে শ্যামল সিংহ (৪৭) নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে শ্যামল সিংহের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাকলিয়ার মিয়াখান নগর রোডের ‘মর্ডাণ ইরানী জুয়েলার্স’ থেকে সাতটি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করা হয়। এরপর তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বিভিন্ন জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান ও বন্ধকী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আরও স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করে পুলিশ। এছাড়া রোমেন দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেও বাকলিয়া ও চকবাজার এলাকার বিভিন্ন স্বর্ণের দোকান থেকে স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের তথ্যমতে, মামলায় মোট ছয়জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে সর্বমোট ৫৫টি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা চুড়িগুলোর মোট ওজন ১ হাজার ১৫৮ দশমিক ৩৩ গ্রাম, যা ৯৯ ভরি ৪ আনা ৫ রত্তির সমান। সিএমপি সূত্রে জানানো হয়েছে, মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভূজপুরে ৭ লিটার দেশীয় চোলাই মদসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের ভূজপুরে অভিযান চালিয়ে ৭ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাই মদসহ মো. সেলিম (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভূজপুর থানাধীন নাজিরহাট পৌরসভার চুরঁখারহাট সড়কে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভূজপুর থানার এসআই (নিঃ) মুকিত আল মারুফ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালান। এ সময় মো. সেলিমের হেফাজত থেকে ৭ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার সেলিম মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে ভূজপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ২৪(খ) ধারায় মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভূজপুর থানার মামলা নম্বর-১৩, তারিখ ২০ আগস্ট ২০২৬। গ্রেপ্তার আসামিকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, পিপিএমের দিকনির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) তারেক আজিজের তত্ত্বাবধানে ভূজপুর থানার ওসি বিপুল চন্দ্র দে’র সার্বিক সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।

আশাশুনি থানায় নতুন ওসি মোঃ জাহাঙ্গীর আরিফের যোগদান

0

আশাশুনি (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার আশাশুনি থানায় নতুন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে যোগদান করেছেন মোঃ জাহাঙ্গীর আরিফ। বুধবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় তিনি আশাশুনি থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন। এর আগে মোঃ জাহাঙ্গীর আরিফ ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগে (ডিবি) কর্মরত ছিলেন। তিনি যশোর জেলার শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া গ্রামের কৃতী সন্তান। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন তিনি। আশাশুনি থানায় পৌঁছে তিনি বিদায়ী ওসি শামীম আহমদ খানের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেন। এ সময় থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) সঞ্জয় কুমার দাস, সেকেন্ড অফিসার এসআই লক্ষ্মণ চন্দ্র দাসসহ পুলিশ সদস্যরা নবাগত ওসিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। দায়িত্ব গ্রহণের পর ওসি মোঃ জাহাঙ্গীর আরিফ বলেন, “পুলিশ ও জনতার সম্পর্ক হবে বন্ধুর মতো। জনসাধারণের যেকোনো প্রয়োজনে পুলিশ সহযোগিতা দিতে বদ্ধপরিকর।” তিনি আরও বলেন, এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী, গণমাধ্যমকর্মীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। উল্লেখ্য, আশাশুনি থানার সাবেক ওসি শামীম আহমদ খানকে সাতক্ষীরা সদর সার্কেলে বদলি করা হয়েছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের অভিনন্দন

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বর্ষীয়ান রাজনীতিক, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আপসহীন সাহসী নেতা, মেধাবী ও চৌকস ব্যক্তিত্ব মির্জা ফখরুল ইসলাম নির্বাচিত হওয়ায় তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন ও উষ্ণ শুভেচ্ছা জানিয়েছে বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এই পাঁচ জেলার সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে ফোরামের নেতৃবৃন্দ এক বিবৃতিতে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা, অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তাঁরা আশাবাদী। বিবৃতিতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির পদ শুধু একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব নয়; এটি রাষ্ট্রের ঐক্য, সংবিধানের মর্যাদা এবং জনগণের প্রত্যাশার প্রতীক। মির্জা ফখরুল ইসলাম তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার আলোকে রাষ্ট্রের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করবেন—এটাই বৃহত্তর চট্টগ্রামের মানুষের প্রত্যাশা। নেতৃবৃন্দ বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অর্থনীতি, পর্যটন, সমুদ্রবন্দর, পাহাড়, বন, নদী ও প্রাকৃতিক সম্পদের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় এ অঞ্চলের মানুষের অবদান অপরিসীম। তাই চট্টগ্রাম ও পার্বত্য তিন জেলা এবং কক্সবাজারের মানুষের দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবি, নাগরিক অধিকার, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, পর্যটন সম্ভাবনার বিকাশ, পরিবেশ ও পাহাড়-নদী-সমুদ্রের সুরক্ষা এবং পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে রাষ্ট্রপতির নৈতিক ও সাংবিধানিক প্রভাব ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশা তাঁদের। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গণতন্ত্রের মূল শক্তি জনগণ এবং রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি সংবিধান। রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম সংবিধানের মর্যাদা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা ও সাংবিধানিক ভারসাম্য রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন বলে বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম বিশ্বাস করে। নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, তাঁর রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও জাতীয় ঐক্যের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ ও অঞ্চল নির্বিশেষে সকল নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে তিনি একজন অভিভাবকসুলভ রাষ্ট্রীয় ভূমিকা পালন করবেন। তাঁরা আরও বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রামের মানুষ উন্নয়ন, শান্তি, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও নাগরিক মর্যাদার পক্ষে। দেশের প্রতিটি অঞ্চলের মানুষের সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করে একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হওয়া উচিত রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের নেতৃবৃন্দ নবনির্বাচিত মহামান্য রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সফল কর্মময় জীবন কামনা করে বলেন—তাঁর অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা আরও শক্তিশালী হবে এবং রাষ্ট্রীয় জীবনে স্থিতিশীলতা, শান্তি ও জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হবে—এটাই বৃহত্তর চট্টগ্রামের পাঁচ জেলার মানুষের প্রত্যাশা।
বিবৃতিদাতারা হলেন—
আবু সাঈদ
চেয়ারম্যান
বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম
মাহাফুজুর রহমান
কার্যকরী সভাপতি
সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার
ড. মো. সানাউল্লাহ
সিনিয়র সহসভাপতি
বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম
মো. কামাল উদ্দিন
মহাসচিব
বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম

মির্জা ফখরুল ইসলাম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের অভিনন্দন

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বর্ষীয়ান রাজনীতিক, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আপসহীন সাহসী নেতা, মেধাবী ও চৌকস ব্যক্তিত্ব মির্জা ফখরুল ইসলাম নির্বাচিত হওয়ায় তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন ও উষ্ণ শুভেচ্ছা জানিয়েছে বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এই পাঁচ জেলার সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে ফোরামের নেতৃবৃন্দ এক বিবৃতিতে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা, অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তাঁরা আশাবাদী। বিবৃতিতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির পদ শুধু একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব নয়; এটি রাষ্ট্রের ঐক্য, সংবিধানের মর্যাদা এবং জনগণের প্রত্যাশার প্রতীক। মির্জা ফখরুল ইসলাম তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার আলোকে রাষ্ট্রের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করবেন—এটাই বৃহত্তর চট্টগ্রামের মানুষের প্রত্যাশা। নেতৃবৃন্দ বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অর্থনীতি, পর্যটন, সমুদ্রবন্দর, পাহাড়, বন, নদী ও প্রাকৃতিক সম্পদের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় এ অঞ্চলের মানুষের অবদান অপরিসীম। তাই চট্টগ্রাম ও পার্বত্য তিন জেলা এবং কক্সবাজারের মানুষের দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবি, নাগরিক অধিকার, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, পর্যটন সম্ভাবনার বিকাশ, পরিবেশ ও পাহাড়-নদী-সমুদ্রের সুরক্ষা এবং পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে রাষ্ট্রপতির নৈতিক ও সাংবিধানিক প্রভাব ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশা তাঁদের। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গণতন্ত্রের মূল শক্তি জনগণ এবং রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি সংবিধান। রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম সংবিধানের মর্যাদা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা ও সাংবিধানিক ভারসাম্য রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন বলে বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম বিশ্বাস করে। নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, তাঁর রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও জাতীয় ঐক্যের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ ও অঞ্চল নির্বিশেষে সকল নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে তিনি একজন অভিভাবকসুলভ রাষ্ট্রীয় ভূমিকা পালন করবেন। তাঁরা আরও বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রামের মানুষ উন্নয়ন, শান্তি, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও নাগরিক মর্যাদার পক্ষে। দেশের প্রতিটি অঞ্চলের মানুষের সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করে একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হওয়া উচিত রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের নেতৃবৃন্দ নবনির্বাচিত মহামান্য রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সফল কর্মময় জীবন কামনা করে বলেন—তাঁর অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা আরও শক্তিশালী হবে এবং রাষ্ট্রীয় জীবনে স্থিতিশীলতা, শান্তি ও জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হবে—এটাই বৃহত্তর চট্টগ্রামের পাঁচ জেলার মানুষের প্রত্যাশা।
বিবৃতিদাতারা হলেন—
আবু সাঈদ
চেয়ারম্যান
বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম
মাহাফুজুর রহমান
কার্যকরী সভাপতি
সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার
ড. মো. সানাউল্লাহ
সিনিয়র সহসভাপতি
বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম
মো. কামাল উদ্দিন
মহাসচিব
বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম

জয়পুরহাটে মাদকের পৃথক দুই মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন

জয়পুরহাটে মাদকের পৃথক দুই মামলার তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ১০ হাজার টাকা এবং অনাদায়ে ৬ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে জয়পুরহাট অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. হাসিবুল হক আসামিদের অনুপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের জ্যেষ্ঠ সহকারি আইনজীবী (এপিপি) এ টি এম মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, নওগাঁর বদলগাছি উপজেলার শমীপুর গ্রামের মো. হারুনের পুত্র ডিপজল ওরফে দিপু, একই উপজেলার বিলাশবাড়ি গ্রামের গুলবর হোসেনের পুত্র শাহেদ আলী। ওপর মামলার আসামি হলেন জয়পুরহাটের পূর্ব উচনা গ্রাসের আমজাদ হোসেনের পুত্র আসাদুল ইসলাম। দুই মামলার ওই ৩ আসামি জামিনে গিয়ে পলাতক রয়েছেন। মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ২ অক্টোবর জেলার পাঁচবিবি উপজেলার বাগজানা এলাকা থেকে পুলিশ ডিপজল ও সাহেদ আলীকে আটক করে। তাদের থেকে ১০০ পিস অ্যাম্পেল মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়। পরে পাঁচবিবি থানা পুলিশের উপরিদর্শক (এসআই) জামিনুর রহমান বাদী হয়ে একটি মামলা করেন।  ২০২২ সালের ২৪ এপ্রিল গভীর রাতে পাঁচবিবি উপজেলার গোপালপুর ব্রিজ এলাকা থেকে আসামি আসাদুল ইসলামের শরীর তল্লাশী করে সাড়ে ৩০০ পিস একই মাদকদ্রব্য অ্যাম্পল জব্দ করে পুলিশ। পাঁচবিবি থানার উপপরিদর্শক মেহেদী হাসান বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধেও মামলা করেন। মামলা দুটির বিচারে সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন।

পুলিশ বিহীন দেশ: এক বাস্তবতার অনিবার্যতা-

মো. কামাল উদ্দিন।
একটি সমাজের সুশৃঙ্খল পরিচালনার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর গুরুত্ব অপরিসীম। রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গের মতো, পুলিশ বাহিনীও সমাজের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। সম্প্রতি আমরা দেখেছি, পুলিশ বিহীন সমাজের চিত্র কতটা বিভীষিকাময় হতে পারে। এ যেন এক জাগ্রত স্বপ্ন, যেখানে নাগরিকের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে। সরকার ও সাধারণ মানুষ উভয়েই এখন হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করছে যে, পুলিশের অনুপস্থিতিতে সমাজ কতটা বিপর্যস্ত হতে পারে। ছোটখাটো অপরাধ থেকে শুরু করে বড় বড় সামাজিক বিশৃঙ্খলা, সবকিছুই যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আইনহীনতার এই পরিস্থিতিতে নাগরিকরা নিরুপায়, নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছে, আর অপরাধীরা মুক্তভাবে বিচরণ করছে। পুলিশ বাহিনী শুধু অপরাধ দমনই করে না, তারা সামাজিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য একটি প্রতিরোধক বলয় হিসেবে কাজ করে। সাধারণ মানুষের মাঝে নিরাপত্তার অনুভূতি তৈরি করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা, এবং সামগ্রিক সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষা করা—এই সবকিছুর পেছনে পুলিশের অবদান অনস্বীকার্য। যখন পুলিশ তার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ায় বা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে, তখন সমাজের বিভিন্ন স্তরে এর প্রভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অপরাধের সংখ্যা বাড়তে থাকে, মানুষ নিজেরাই আইন হাতে তুলে নেয়, এবং সমাজে বিশৃঙ্খলার বিস্তার ঘটে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার ও সাধারণ মানুষ উভয়েই বুঝতে পারে, পুলিশ বাহিনীর গুরুত্ব কেবল অপরাধ দমনে নয়, বরং একটি সুশৃঙ্খল সমাজ গঠনের ক্ষেত্রেও অপরিহার্য। এই উপলব্ধি আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখায়, কেন একটি কার্যকর এবং জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গঠনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধানে পুলিশের ভূমিকা কখনোই অস্বীকার করা যায় না। এজন্য আমাদেরকে পুলিশের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে, তাদেরকে সহযোগিতা করতে হবে এবং তাদের ওপর আস্থা রাখতে হবে। এই লেখার মাধ্যমে আমরা বলতে চাই যে, একটি রাষ্ট্রের মেরুদণ্ড হিসেবে পুলিশের ভূমিকা অমূল্য। একটি সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ সমাজ গঠনে পুলিশের অপরিসীম গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা আমাদের সবার দায়িত্ব। প্রাচীন ও মধ্যযুগ: প্রাচীন সভ্যতায়: পুলিশের আদিম রূপ দেখা যায় প্রাচীন মিশর, চীন, গ্রিস ও রোমে। মিশরে ‘ম্যাজিস্ট্রেট’ নামে পরিচিত এক ধরণের কর্মকর্তা ছিলেন, যারা জনগণের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখতেন। রোমান সাম্রাজ্যে ‘ভিডাইলিস’ নামে পরিচিত কর্মকর্তা এবং সামরিক বাহিনী শহরের শৃঙ্খলা রক্ষার কাজ করতেন মধ্যযুগ: ইউরোপে ফিউডাল সিস্টেমের সময়ে স্থানীয় লর্ড বা জমিদারের অধীনে এক ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। এছাড়া, কিছু শহরে নাইটওয়াচ (Night Watch) ব্যবস্থা চালু ছিল, যেখানে নাগরিকরা পালাক্রমে শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করত। আধুনিক যুগ: ১৮শ শতক,আধুনিক পুলিশের ধারণা প্রথম দেখা দেয় ১৮শ শতকের শেষে। ১৭৯৮ সালে, প্যারিসে প্রথম আধুনিক পুলিশের একটি শাখা স্থাপিত হয়। এর কিছুদিন পর, ১৮২৯ সালে, লন্ডনে স্যার রবার্ট পিলের নেতৃত্বে মেট্রোপলিটন পুলিশ সার্ভিস গঠিত হয়। এ সংস্থাটি পুলিশ বাহিনীর মূল কাঠামো তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ কারণে স্যার রবার্ট পিলকে আধুনিক পুলিশের প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়।ঔপনিবেশিক ভারত, ভারতীয় উপমহাদেশে আধুনিক পুলিশের ধারণা ব্রিটিশ শাসনামলে আসে। ১৮৬১ সালে ভারতীয় পুলিশ আইন (Police Act of 1861) প্রবর্তিত হয়, যা মূলত বিদ্রোহ দমনের উদ্দেশ্যে গঠিত ছিল। আজকের ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের পুলিশ ব্যবস্থা এই আইনের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে,।আধুনিক কালের বিবর্তন: ১৯শ ও ২০শ শতক, শিল্প বিপ্লব ও নগরায়ণের সাথে সাথে পুলিশের ভূমিকা আরও বিস্তৃত হয়। অপরাধ দমন, জননিরাপত্তা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার কাজে পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ১৯০০-এর দশকে ফরেনসিক বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি পুলিশের কাজে সংযোজিত হয়, যা অপরাধ তদন্তের ধরণে বিপ্লব আনে।বর্তমান সময়,আজকের পুলিশ বাহিনী শুধুমাত্র অপরাধ দমনেই নয়, বরং সমাজের বিভিন্ন স্তরে নাগরিক সুরক্ষা, সন্ত্রাস দমন, মানবাধিকার রক্ষা এবং সামাজিক সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আধুনিক প্রযুক্তি, যেমন সিসিটিভি, ডিএনএ প্রোফাইলিং, এবং সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষায়িত ইউনিট গুলোর মাধ্যমে পুলিশের কাজ আরও কার্যকর হয়েছে।পুলিশের ইতিহাস আমাদের দেখায় যে, এটি একটি যুগের পর যুগের বিবর্তনশীল প্রক্রিয়া, যা সমাজের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে।আইন প্রয়োগ ও বাস্তবায়নে পুলিশের বিকল্প নেই।একটি সুশৃঙ্খল সমাজের মূলভিত্তি হলো আইনের শাসন, আর এই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মূল দায়িত্ব পুলিশ বাহিনীর উপরই ন্যস্ত। সমাজের প্রতিটি স্তরে আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তোলার কাজটি অত্যন্ত জটিল ও সংবেদনশীল। এখানেই পুলিশের ভূমিকা অমূল্য এবং অপরিহার্য। পুলিশ বাহিনী কেবল আইন প্রয়োগের মাধ্যমে অপরাধ দমন করে না, তারা একটি দেশের সুশৃঙ্খল পরিচালনা নিশ্চিত করতে সামাজিক নিয়ম-কানুন এবং নীতিমালা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে পুলিশকে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়—অপরাধীদের ধরার ঝুঁকি থেকে শুরু করে নাগরিকের অধিকার সংরক্ষণ, সবই পুলিশের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।আইন প্রয়োগে পুলিশের দায়িত্ব,অপরাধ প্রতিরোধ: অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগে সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত করে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।তদন্ত ও বিচার,অপরাধ সংঘটিত হলে পুলিশ দ্রুত তদন্ত করে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার ব্যবস্থা করে। সঠিক ও ন্যায়সঙ্গত তদন্তের মাধ্যমে তারা আইন প্রণেতাদের সহায়তা করে।সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা, জনসাধারণের নিরাপত্তা এবং শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ নিয়মিত টহল দেয়, জনসমাবেশ নিয়ন্ত্রণ করে, এবং প্রয়োজনে জরুরি সেবাও প্রদান করে।মানবাধিকার রক্ষা, পুলিশের দায়িত্ব কেবল আইন প্রয়োগে সীমাবদ্ধ নয়, বরং নাগরিকদের অধিকার সংরক্ষণ এবং সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠায়ও তারা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে।বিকল্পের অভাব,পুলিশের বিকল্প হিসেবে অন্য কোনো ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হলে সেটি সহজেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যকর হতে পারে না। কারণ পুলিশ বাহিনী যে প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি এবং আইনি ক্ষমতা নিয়ে কাজ করে, তা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সহজলভ্য বা যথাযথভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব নয়। তাছাড়া, পুলিশের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, পেশাদারিত্ব, এবং দায়িত্বশীল আচরণ সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে অমূল্য।সমাজে পুলিশের গুরুত্ব: পুলিশ বাহিনীর প্রতি মানুষের আস্থা একটি দেশের আইনপ্রণয়ন ও আইনের শাসনের মানদণ্ড নির্ধারণ করে। পুলিশের সক্রিয় উপস্থিতি এবং ন্যায় বিচারের জন্য তাদের নিষ্ঠার কারণে সমাজে অপরাধের প্রবণতা কমে, মানুষ নিরাপত্তার অনুভূতি পায়, এবং সামগ্রিকভাবে সমাজে শৃঙ্খলা বজায় থাকে। সুতরাং, আইন প্রয়োগ ও বাস্তবায়নে পুলিশের কোনো বিকল্প নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের ভূমিকা অপরিসীম, এবং একটি সুশৃঙ্খল সমাজ গঠনে তারা একটি অপরিহার্য প্রতিষ্ঠান। তাদের প্রতি আমাদের সম্মান ও আস্থা থাকা প্রয়োজন, কারণ তাদের মাধ্যমেই আমাদের সমাজের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হয়। পুলিশ, জনগণের বন্ধু ও সেবক,পুলিশ বাহিনী একটি দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য গঠিত। তাদের মূল ভূমিকা হলো জনগণের সেবা করা, তাদের অধিকার রক্ষা করা এবং একটি সুশৃঙ্খল সমাজ গঠন করা। পুলিশ বাহিনীকে অনেক সময়ই “জনগণের বন্ধু” বলা হয়, কারণ তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য নাগরিকদের সুরক্ষা ও সেবার সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। পুলিশের প্রকৃত ভূমিকা,নিরাপত্তা ও সুরক্ষা পুলিশ জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। তারা নাগরিকদের জীবনে নিরাপত্তার একটি অনুভূতি প্রদান করে, যা সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।সেবা ও সহায়তা, পুলিশ নাগরিকদের সমস্যার সমাধান করে, তাদেরকে আইনি সহায়তা প্রদান করে, এবং দুর্যোগ বা বিপদে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। মানবাধিকার রক্ষা,পুলিশ বাহিনী নাগরিকদের মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। তারা সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পুলিশের রাজনৈতিক ব্যবহার, একটি নেতিবাচক প্রবণতা,দুঃখ জনকভাবে, অনেক সময় রাজনৈতিক স্বার্থে পুলিশ বাহিনীর ব্যবহার দেখা যায়, যা তাদের মূল কাজ ও উদ্দেশ্যের পরিপন্থী। যখন পুলিশ রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন তাদের নিরপেক্ষতা এবং জনসেবার মূল চেতনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ধরনের ব্যবহার নিম্নোক্ত কিছু নেতিবাচক প্রভাব ফেলে,আইনের শাসন দুর্বল হয,পুলিশের রাজনৈতিক ব্যবহার আইনের শাসনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এতে ন্যায়বিচার প্রাপ্তি বাধাগ্রস্ত হয় এবং নাগরিকদের আস্থা কমে যায়।সামাজিক অবিশ্বাস,যখন পুলিশ রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে কাজ করে, তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভাজন ও অবিশ্বাস সৃষ্টি হয়। জনগণ পুলিশের প্রতি আস্থা হারায় এবং তাদের নিরপেক্ষতায় সন্দেহ প্রকাশ করে।অপরাধ বৃদ্ধি, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে পুলিশ যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে না পারে, তাহলে সমাজে অপরাধের প্রবণতা বেড়ে যায়। অপরাধীরা শাস্তি থেকে বাঁচতে পুলিশকে ব্যবহার করতে পারে, যা সমাজে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে।সঠিক পথ, নিরপেক্ষ ও ন্যায়নিষ্ঠ পুলিশ বাহিনী,পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃস্থাপন এবং একটি সুশৃঙ্খল সমাজ গঠনে পুলিশকে তার নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে। রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত হয়ে পুলিশ যদি তার আসল দায়িত্ব—জনগণের বন্ধু ও সেবক হিসেবে কাজ করে—তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সহজ হবে। সুতরাং, পুলিশের রাজনৈতিক ব্যবহার কখনোই সমর্থনযোগ্য নয় তাদেরকে স্বাধীনভাবে, ন্যায় নিষ্ঠভাবে এবং সততার সাথে কাজ করতে দিতে হবে, যাতে তারা সঠিকভাবে জনগণের সেবা করতে পারে এবং সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারে। পুলিশ, জনগণের বন্ধু ও সেবক,পুলিশ বাহিনী একটি দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য গঠিত। তাদের মূল ভূমিকা হলো জনগণের সেবা করা, তাদের অধিকার রক্ষা করা এবং একটি সুশৃঙ্খল সমাজ গঠন করা। পুলিশ বাহিনীকে অনেক সময়ই “জনগণের বন্ধু” বলা হয়, কারণ তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য নাগরিকদের সুরক্ষা ও সেবার সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। পুলিশের প্রকৃত ভূমিকা,নিরাপত্তা ও সুরক্ষা, পুলিশ জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। তারা নাগরিকদের জীবনে নিরাপত্তার একটি অনুভূতি প্রদান করে, যা সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। সেবা ও সহায়তা, পুলিশ নাগরিকদের সমস্যার সমাধান করে, তাদেরকে আইনি সহায়তা প্রদান করে, এবং দুর্যোগ বা বিপদে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। মানবাধিকার রক্ষা, পুলিশ বাহিনী নাগরিকদের মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। তারা সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পুলিশের রাজনৈতিক ব্যবহার: একটি নেতিবাচক প্রবণতা,দুঃখ জনকভাবে, অনেক সময় রাজনৈতিক স্বার্থে পুলিশ বাহিনীর ব্যবহার দেখা যায়, যা তাদের মূল কাজ ও উদ্দেশ্যের পরিপন্থী। যখন পুলিশ রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন তাদের নিরপেক্ষতা এবং জনসেবার মূল চেতনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ধরনের ব্যবহার নিম্নোক্ত কিছু নেতিবাচক প্রভাব ফেলে:আইনের শাসন দুর্বল হয়,পুলিশের রাজনৈতিক ব্যবহার আইনের শাসনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এতে ন্যায়বিচার প্রাপ্তি বাধাগ্রস্ত হয় এবং নাগরিকদের আস্থা কমে যায়।সামাজিক অবিশ্বাস:যখন পুলিশ রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে কাজ করে, তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভাজন ও অবিশ্বাস সৃষ্টি হয়। জনগণ পুলিশের প্রতি আস্থা হারায় এবং তাদের নিরপেক্ষতায় সন্দেহ প্রকাশ করে।অপরাধ বৃদ্ধি, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে পুলিশ যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে না পারে, তাহলে সমাজে অপরাধের প্রবণতা বেড়ে যায়। অপরাধীরা শাস্তি থেকে বাঁচতে পুলিশকে ব্যবহার করতে পারে, যা সমাজে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে।সঠিক পথ: নিরপেক্ষ ও ন্যায়নিষ্ঠ পুলিশ বাহিনী,পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃস্থাপন এবং একটি সুশৃঙ্খল সমাজ গঠনে পুলিশকে তার নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে। রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত হয়ে পুলিশ যদি তার আসল দায়িত্ব—জনগণের বন্ধু ও সেবক হিসেবে কাজ করে—তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সহজ হবে। সুতরাং, পুলিশের রাজনৈতিক ব্যবহার কখনোই সমর্থনযোগ্য নয়। তাদেরকে স্বাধীনভাবে, ন্যায়নিষ্ঠভাবে এবং সততার সাথে কাজ করতে দিতে হবে, যাতে তারা সঠিকভাবে জনগণের সেবা করতে পারে এবং সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারে। পুলিশের উপর সাম্প্রতিক হামলা: ১১ দফা বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা,সাম্প্রতিককালে পুলিশের উপর ঘটে যাওয়া হামলার ঘটনাগুলো আমাদেরকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার গুরুত্ব ও পুলিশের সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা গভীরভাবে ভাবতে বাধ্য করেছে। এ ধরনের হামলা কেবল পুলিশের মনোবলকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং পুরো সমাজের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে। এই প্রেক্ষাপটে, পুলিশের সুরক্ষা এবং তাদের কার্যক্রমের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ১১ দফা বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। ১১ দফা বাস্তবায়নের মূল কারণ ও গুরুত্ব, পুলিশের সুরক্ষা নিশ্চিত করা: পুলিশ সদস্যরা সবসময় ঝুঁকির মধ্যে কাজ করে। তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা না গেলে তারা দায়িত্ব পালনে শঙ্কিত হতে পারে, যা তাদের কাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, অপরাধীরা আজকাল আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে, যা মোকাবিলায় পুলিশের জন্যও আধুনিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি অপরিহার্য। উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, পুলিশের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে তারা অপরাধ মোকাবিলায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন, ক্রমাগত চাপের মধ্যে কাজ করতে গিয়ে অনেক পুলিশ সদস্য মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিং ব্যবস্থা করা উচিত।সামাজিক সম্মান ও মর্যাদা:পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের সামাজিক মর্যাদা এবং সম্মান বৃদ্ধি করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। এটি তাদের মনোবল ও কাজের প্রেরণাকে আরও শক্তিশালী করবে।বেতন ও সুবিধা বৃদ্ধি,পুলিশ সদস্যদের বেতন এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হলে তারা নিজেদের কাজের প্রতি আরও নিবেদিত হতে পারবে।পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ:পুলিশের জনবল বৃদ্ধি করা প্রয়োজন, যাতে প্রতিটি এলাকা পর্যাপ্ত নিরাপত্তার আওতায় আনা যায়। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পুলিশিং, পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত রাখা উচিত, যাতে তারা স্বাধীনভাবে ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারে। জনগণের সাথে সুসম্পর্ক, জনগণের সাথে পুলিশের সুসম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য সচেতনতা কর্মসূচি এবং কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজন।জরুরি সেবা ও পুনর্বাসন ব্যবস্থা, কোনো পুলিশ সদস্য আহত হলে তার জন্য দ্রুত ও কার্যকর চিকিৎসা সেবা এবং পুনর্বাসন ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন।বিচারিক প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা,পুলিশের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের বিচার দ্রুত ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা উচিত, যাতে অপরাধীরা শাস্তি পায় এবং এমন অপরাধের পুনরাবৃত্তি না ঘটে। উপসংহার, পুলিশ বাহিনী আমাদের সমাজের অপরিহার্য অংশ। তাদের সুরক্ষা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ১১ দফা বাস্তবায়ন সময়ের দাবি। এটির কার্যকর বাস্তবায়ন কেবল পুলিশের মনোবল বাড়াবে না, বরং পুরো সমাজের নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখতেও সাহায্য করবে। আমাদের সবার উচিত পুলিশের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের সেবা ও ত্যাগের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা পরিশেষে, পুলিশের ভেঙে যাওয়া মনোবল ফিরে আসতে সময় লাগবে, কারণ সাম্প্রতিক হামলাগুলো তাদের নিরাপত্তা ও পেশাগত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। এ ধরনের ঘটনাগুলো পুলিশ সদস্যদের মনে গভীর আঘাত হানে এবং তাদের মনোবল পুনরুদ্ধারে সময় ও সহানুভূতির প্রয়োজন হয়। এজন্য, তাদের মানসিক ও পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
লেখকঃ সাংবাদিক গবেষক টেলিভিশন উপস্থাপক।

ডেঙ্গুতে ঢাকার বাইরে পাঁচ জেলায় বাড়ছে ঝুঁকি

0

বাংলাদেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ এখন আর শুধু রাজধানী ঢাকায় সীমাবদ্ধ নেই। ঢাকার বাইরেও কয়েকটি জেলায় দ্রুত বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। বিশেষ করে খুলনা, চট্টগ্রাম, পিরোজপুর, ময়মনসিংহ ও গাজীপুরে ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত দেশে ২৬ হাজার ৫০০-এর বেশি মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে মৃত্যু হয়েছে ৭৬ জনের। এর মধ্যে শুধু আগস্টের প্রথম ১৯ দিনেই প্রায় ১১ হাজার রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। জুলাই মাসে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৯ হাজার ২০০-এর বেশি রোগী। ঢাকার বাইরে আক্রান্তের দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে খুলনা। চলতি বছর জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষ। মৃত্যুর সংখ্যাতেও খুলনা শীর্ষে—এ পর্যন্ত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম। এ জেলায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩৯১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। আক্রান্তের সংখ্যায় তৃতীয় অবস্থানে থাকা পিরোজপুরে এ বছর ১ হাজার ২০০-এর বেশি মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ জেলায় মৃত্যু হয়েছে একজনের। ময়মনসিংহে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯২৪ জন। জেলাটিতে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ছয়জনের। এদিকে ঢাকার আশপাশের জেলাগুলোর মধ্যে গাজীপুরে ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। চলতি বছর সেখানে ৭২০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত এ জেলায় ডেঙ্গুতে মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সার্বিকভাবে রাজধানী ঢাকাতেই ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। জানুয়ারি থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত ঢাকায় সাত হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং মৃত্যু হয়েছে ৩৪ জনের। তবে রাজধানীর বাইরে কয়েকটি জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মশা নিধনের পাশাপাশি জনসচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

২২ আগস্ট থেকে সারাদেশে শুরু কলেরা টিকাদান ক্যাম্পেইন

0

কলেরা প্রতিরোধে আগামী ২২ আগস্ট থেকে সারাদেশে শুরু হচ্ছে ‘প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন-২০২৬’। প্রথম ধাপে ২২ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর এবং দ্বিতীয় ধাপে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেওয়া হবে কলেরার টিকা। বৃহস্পতিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। কর্মসূচির আওতায় কলেরার ঝুঁকিতে থাকা দেশের ১৪টি উপজেলা ও থানায় টিকা দেওয়া হবে। এক বছর বা তার বেশি বয়সী সব নাগরিককে, গর্ভবতী নারী ছাড়া, বিনামূল্যে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই টিকা খাওয়ানো হবে। সম্পূর্ণ সুরক্ষার জন্য নির্ধারিত ব্যবধানে দুই ডোজ টিকা নিতে হবে। সারাদেশে মোট ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচর থানার ১৭টি ওয়ার্ডের ১৯২টি কেন্দ্রে প্রায় ১১ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের শেরেবাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও এবং মুন্সিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্দিষ্ট এলাকাতেও এ কার্যক্রম চলবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, একসময় কলেরায় গ্রাম উজাড় হয়ে গেলেও বর্তমানে রোগটি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবের কারণে সতর্কতা জরুরি। জাতীয় অন্যান্য টিকাদান কর্মসূচির মতো কলেরা টিকাদান কর্মসূচিও সফল করতে তিনি সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন। ডিএসসিসির প্রশাসক বলেন, পুরান ঢাকাসহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইপিআই কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা রয়েছে সিটি করপোরেশনের। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ১৭টি ওয়ার্ডে কলেরা টিকাদান কর্মসূচি সফল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। Vibrio cholerae জীবাণুর সংক্রমণে হওয়া কলেরা প্রতিরোধে মুখে খাওয়ার এই টিকা ব্যবহার করা হয়। টিকা রোগের তীব্রতা কমাতে সহায়তা করে এবং দীর্ঘ সময় সুরক্ষা দিতে পারে। তবে টিকাদানের পাশাপাশি নিরাপদ পানি পান ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ডিএসসিসি, ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও আইসিডিডিআর,বিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ছাড়াল

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও সাত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ সময়ে আহত হয়েছেন আরও ২৩ জন। বুধবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। খবরটি প্রকাশ করেছে তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দৈনিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন হাসপাতাল সাতজনের মরদেহ এবং ২৩ জন আহতকে গ্রহণ করেছে। এ নিয়ে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩ হাজার ৪০৭ জনে। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজার ৩৩৫ জন। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গোলাবর্ষণ ও গুলির ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধবিরতি পরবর্তী এসব হামলায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২৭৩ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪ হাজার ২২৩ জন আহত হয়েছেন। এদিকে গাজার বিভিন্ন স্থানে ধ্বংসস্তূপ ও সড়কের নিচে এখনো বহু মানুষ আটকা পড়ে আছেন। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও অবকাঠামোগত ক্ষতির কারণে অ্যাম্বুলেন্স ও উদ্ধারকারী দল তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছে না বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ইসরায়েলি হামলায় গাজার বেসামরিক অবকাঠামোর প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এসব অবকাঠামো পুনর্গঠনে প্রায় ৭ হাজার কোটি মার্কিন ডলার প্রয়োজন হতে পারে।