নিজস্ব প্রতিবেদক:
ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরে পরিচালক পর্যায়ে বদলির আদেশে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসে আসছেন মো. আবু সাঈদ। অন্যদিকে চট্টগ্রাম থেকে বদলি হয়ে খুলনা বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন মো. সাইদুল ইসলাম। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ নূরুজ্জামান স্বাক্ষরিত ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের আদেশে এ বদলির তথ্য জানানো হয়েছে। আদেশ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আগামী ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হতে বলা হয়েছে। অন্যথায় ওইদিন অপরাহ্নে তারা বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত (Stand Release) বলে গণ্য হবেন। চট্টগ্রামে ফিরছেন আবু সাঈদ মো. আবু সাঈদ চট্টগ্রামের পাসপোর্ট সেবায় একেবারেই পরিচিত নাম। এর আগেও তিনি চট্টগ্রাম বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসে দায়িত্ব পালন করেছেন। দায়িত্ব পালনকালে সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও পাসপোর্ট সেবা প্রদানের কারণে তিনি চট্টগ্রামে একজন পরিচিত ও জনপ্রিয় পাসপোর্ট কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী আবু সাঈদের জন্য চট্টগ্রামে নতুন করে দায়িত্ব গ্রহণ তাই অনেকটা পরিচিত কর্মক্ষেত্রে প্রত্যাবর্তন। তার পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে চট্টগ্রামের বিপুলসংখ্যক পাসপোর্ট সেবাপ্রত্যাশী আরও সহজ, দ্রুত ও জনবান্ধব সেবা পাবেন—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
চট্টগ্রাম ছাড়ছেন সাইদুল ইসলাম অন্যদিকে মো. সাইদুল ইসলাম চট্টগ্রাম বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করে এবার বদলি হয়ে যাচ্ছেন খুলনায়। চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকালে তিনিও পাসপোর্ট সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। চট্টগ্রামের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে এবার তিনি খুলনা বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের পরিচালক হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। দীর্ঘদিন চট্টগ্রামে পাসপোর্ট সেবার সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তার বদলিও সেবাগ্রহীতা ও সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। একজনের প্রত্যাবর্তন, অন্যজনের বিদায় পাসপোর্ট অধিদপ্তরের এই বদলিতে চট্টগ্রামের জন্য তৈরি হয়েছে এক ভিন্ন চিত্র—পরিচিত কর্মকর্তা আবু সাঈদ ফিরছেন চট্টগ্রামে, আর চট্টগ্রামের দায়িত্ব শেষ করে সাইদুল ইসলাম যাচ্ছেন খুলনায়। দুজনেরই চট্টগ্রামের পাসপোর্ট সেবায় রয়েছে পূর্ব অভিজ্ঞতা। তাই দায়িত্বের এই পালাবদলকে অনেকেই দেখছেন অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পরিবর্তনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, চট্টগ্রামে ফিরে আবু সাঈদ তার পূর্ব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে পাসপোর্ট সেবাকে আরও গতিশীল ও জনবান্ধব করবেন। আর নতুন কর্মস্থল খুলনায় সাইদুল ইসলাম চট্টগ্রামে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সেবার মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন। একজন আসছেন চট্টগ্রামে, অন্যজন যাচ্ছেন খুলনায় বদলির এই আদেশে বদলে যাচ্ছে দায়িত্বের ঠিকানা; কিন্তু দুজনের কর্মদক্ষতার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা চট্টগ্রামের অধ্যায়টি থেকে যাচ্ছে স্মৃতিতে।
চট্টগ্রামে ফিরছেন আবু সাঈদ, খুলনায় যাচ্ছেন সাইদুল ইসলাম: “চট্টগ্রামে ফিরছেন পরিচিত মুখ আবু সাঈদ, খুলনায় যাচ্ছেন সাইদুল ইসলাম- পাসপোর্ট অধিদপ্তরে বদলি: চট্টগ্রামের দায়িত্বে আবারও পুরোনো পরিচিত কর্মকর্তাঃ
“সম্পাদকীয়: সাংবাদিকের কলমে হাত দিলে রাষ্ট্রের নীরব থাকার সুযোগ নেই:
সম্পাদকীয়:-
সাংবাদিকের কলমে হাত দিলে রাষ্ট্রের নীরব থাকার সুযোগ নেই
হুমকি, হামলা ও গুমের ভয় দেখিয়ে গণমাধ্যমকে স্তব্ধ করার অপচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না
সাতক্ষীরায় দৈনিক সাতনদীর সম্পাদক ও প্রকাশক সাংবাদিক হাবিবুর রহমানের ওপর হামলা, মারধর, হত্যার হুমকি এবং অপহরণ ও গুমের ভয় দেখানোর অভিযোগ আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। একই সঙ্গে এই অভিযোগ আমাদের সামনে একটি মৌলিক প্রশ্নও দাঁড় করিয়েছে—একজন সাংবাদিক সংবাদ প্রকাশ করবেন, নাকি সংবাদ প্রকাশের পর নিজের জীবন বাঁচানোর চিন্তায় কলম গুটিয়ে রাখবেন?
এই প্রশ্নের উত্তর অত্যন্ত স্পষ্ট—সাংবাদিকের কলম গুটিয়ে নেওয়ার বাংলাদেশ আমরা চাই না।
সাংবাদিক হাবিবুর রহমানের অভিযোগে বলা হয়েছে, তার পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সংবাদকে কেন্দ্র করে তাকে বিভিন্ন সময়ে হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সাতক্ষীরা পৌরসভা এলাকায় তার পথরোধ করা এবং পৌরসভার একটি কক্ষে প্রবেশ করে তাকে মারধর, শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা ও গুরুতর পরিণতির হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
আমরা আবারও পরিষ্কার করছি—অভিযোগের সত্যতা তদন্তের বিষয়। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে ঘোষণা করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। কিন্তু একজন সাংবাদিকের করা এমন গুরুতর অভিযোগকে হালকা করে দেখারও কোনো সুযোগ নেই।
কারণ এখানে প্রশ্ন শুধু হাবিবুর রহমানের নয়।
প্রশ্ন—বাংলাদেশে একজন সাংবাদিক কতটা নিরাপদ?
সংবাদ প্রকাশ অপরাধ নয়
কোনো সংবাদে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ বা অনিয়মের তথ্য প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আপত্তি থাকতেই পারে। তিনি প্রতিবাদ করবেন, নিজের বক্তব্য দেবেন, তথ্য-প্রমাণ দিয়ে সংবাদ খণ্ডন করবেন, প্রয়োজনে আইনের আশ্রয় নেবেন—এটাই স্বাভাবিক ও সভ্য পথ।
কিন্তু সংবাদ প্রকাশের জবাবে সাংবাদিকের পথরোধ করা, গালিগালাজ করা, শারীরিকভাবে আক্রমণ করা, হত্যার ভয় দেখানো কিংবা অপহরণ-গুমের হুমকি দেওয়া—যদি অভিযোগের তদন্তে সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর আক্রমণ নয়; এটি আইনের শাসন ও স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত।
আমরা কোনোভাবেই এমন সংস্কৃতিকে প্রশ্রয় দিতে পারি না যেখানে—
সংবাদের জবাব যুক্তিতে নয়, মুষ্টির আঘাতে দেওয়া হবে;
প্রতিবাদের জবাব আইনে নয়, হুমকিতে দেওয়া হবে;
আর সাংবাদিককে সত্য লেখার আগে নিজের কবরের কথা ভাবতে হবে।
এমন পরিবেশ গণমাধ্যমের জন্য যেমন ভয়ংকর, তেমনি রাষ্ট্রের জন্যও বিপজ্জনক।
সাংবাদিককে ভয় দেখানো মানে জনগণকে ভয় দেখানো
একজন সাংবাদিক যখন মাঠে যান, তখন তিনি শুধু নিজের জন্য তথ্য সংগ্রহ করেন না। তিনি মানুষের হয়ে প্রশ্ন করেন। যে অন্যায় সাধারণ মানুষ মুখ খুলে বলতে পারেন না, সাংবাদিক সেটি তুলে ধরেন। যে অনিয়ম অন্ধকারে চাপা পড়ে থাকে, সাংবাদিক সেটিকে আলোর সামনে আনেন।
তাই সাংবাদিককে ভয় দেখানোর অর্থ কেবল একজন ব্যক্তিকে ভয় দেখানো নয়—সমাজের প্রশ্ন করার অধিকারকে ভয় দেখানো।
আজ যদি হাবিবুর রহমানকে একটি সংবাদ প্রকাশের কারণে ভয় দেখানো হয়, আগামীকাল অন্য কোনো সাংবাদিক একই কারণে আক্রান্ত হতে পারেন। তারপর হয়তো একজন ক্যামেরাম্যান মাঠে যেতে ভয় পাবেন, একজন প্রতিবেদক অনুসন্ধান বন্ধ করবেন, একজন সম্পাদক ঝুঁকিপূর্ণ সংবাদ প্রকাশ থেকে সরে দাঁড়াবেন।
এর ফল হবে ভয়ংকর—অপরাধীরা আরও সাহসী হবে, দুর্নীতি আরও গভীরে যাবে এবং জনগণের কাছে সত্য পৌঁছানোর পথ আরও সংকুচিত হবে।
সাংবাদিকতার সঙ্গে সন্ত্রাসের কোনো আপস নেই
আমরা অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলতে চাই—
সাংবাদিকতার সঙ্গে পেশিশক্তির কোনো আপস নেই।
সত্যের সঙ্গে সন্ত্রাসের কোনো আপস নেই।
আইনের সঙ্গে ভয়ভীতির কোনো আপস নেই।
কেউ যদি মনে করেন টাকা, ক্ষমতা, রাজনৈতিক পরিচয়, সামাজিক প্রভাব কিংবা সন্ত্রাসী শক্তি ব্যবহার করে কোনো সাংবাদিককে চুপ করিয়ে দেওয়া যাবে—তাহলে সেটি শুধু ভুল ধারণা নয়, এটি রাষ্ট্রের আইন ও গণমাধ্যমের শক্তিকে অবমূল্যায়ন করার দুঃসাহস।
সাংবাদিককে হত্যা বা ভয় দেখিয়ে একটি সংবাদ হয়তো সাময়িকভাবে থামানো যেতে পারে; কিন্তু সত্যকে চিরদিনের জন্য চাপা দেওয়া যায় না।
একজন সাংবাদিকের কণ্ঠ রুদ্ধ করলে আরও দশজন সাংবাদিক প্রশ্ন করবেন। একজনের কলম কেড়ে নিলে আরও শত কলম সত্যের পক্ষে লিখবে।
রাষ্ট্রের কাছে কঠোর বার্তা নয়—কঠোর দায়িত্বের দাবি
এখানে প্রশাসনের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আমরা সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি—সাংবাদিক হাবিবুর রহমানের অভিযোগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হোক।
ঘটনার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি এবং অন্যান্য পারিপার্শ্বিক প্রমাণ যথাযথভাবে পরীক্ষা করা হোক। অভিযোগে যাদের নাম এসেছে এবং অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিষয়ে যে তথ্য পাওয়া যাবে, তা যাচাই করা হোক।
তদন্তে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে কোনো ধরনের প্রভাব, চাপ কিংবা পরিচয়ের কাছে নতি স্বীকার না করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
একই সঙ্গে সাংবাদিক হাবিবুর রহমান ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে যদি বাস্তব কোনো আশঙ্কা থাকে, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাজ শুধু মামলা নেওয়া নয়; অপরাধ সংঘটনের আগে সম্ভাব্য হুমকি প্রতিরোধ করাও তাদের দায়িত্বের অংশ।
আমরা প্রতিশোধ চাই না, বিচার চাই
এই সম্পাদকীয় কোনো ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে প্রতিশোধের আহ্বান নয়। আমরা কাউকে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার আহ্বান জানাই না।
আমাদের দাবি অত্যন্ত সরল—
অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হোক।
প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধী শনাক্ত হোক।
অপরাধ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা হোক।
আর অভিযোগ মিথ্যা হলে সেটিও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হোক।
এটাই আইনের শাসন।
আমরা এমন বিচার চাই না যেখানে পরিচয় দেখে সিদ্ধান্ত হবে। আমরা এমন বিচার চাই যেখানে প্রমাণ কথা বলবে, আইন কথা বলবে এবং সত্য বিজয়ী হবে।
সাংবাদিক সমাজের প্রতিও আহ্বান
এই ঘটনার পর সাংবাদিক সমাজের দায়িত্বও কম নয়।
সাংবাদিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদ হতে হবে ঐক্যবদ্ধ, কিন্তু দায়িত্বশীল। আমরা যেন কোনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থে সাংবাদিকতার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ না করি। একই সঙ্গে কোনো সাংবাদিক আক্রান্ত হলে তার পাশে দাঁড়াতে হবে—কারণ সাংবাদিকের নিরাপত্তা কোনো নির্দিষ্ট সংবাদপত্রের বিষয় নয়; এটি গোটা গণমাধ্যমের বিষয়।
একজন সাংবাদিক আক্রান্ত হলে অন্য সাংবাদিকের নীরবতা হামলাকারীর সাহস বাড়াতে পারে।
তাই সত্য, ন্যায় ও পেশাগত স্বাধীনতার প্রশ্নে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
হাবিবুর রহমানের পাশে দি টুরিস্ট
দি টুরিস্ট একটি দায়িত্বশীল গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান হিসেবে বরাবরই সত্য, জনস্বার্থ ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার পক্ষে অবস্থান করে এসেছে।
সাংবাদিক হাবিবুর রহমানের ওপর হামলা ও হুমকির অভিযোগের ঘটনায় দি টুরিস্ট পরিবার তার পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার অধিকারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছে।
তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে কারও আপত্তি থাকলে তিনি আইনের আশ্রয় নেবেন—এটাই গ্রহণযোগ্য পথ। কিন্তু সাংবাদিককে ভয় দেখানো বা আক্রমণ করার অভিযোগ কোনোভাবেই স্বাভাবিক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না।
আমরা বিশ্বাস করি—
সাংবাদিকের কলম স্বাধীন থাকবে।
সম্পাদকের সিদ্ধান্ত স্বাধীন থাকবে।
জনগণের জানার অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকবে।
আইনের শাসন সবার জন্য সমান থাকবে।
শেষ কথা
আজ হাবিবুর রহমানের ঘটনা আমাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা।
আমরা যদি আজ নীরব থাকি, কাল এই নীরবতার মূল্য দিতে হতে পারে আরও অনেক সাংবাদিককে।
তাই আজই স্পষ্ট করে দিতে হবে—
সাংবাদিককে ভয় দেখিয়ে সংবাদ বন্ধ করা যাবে না।
হামলা করে প্রশ্ন থামানো যাবে না।
হুমকি দিয়ে সত্যকে বন্দী করা যাবে না।
গুমের ভয় দেখিয়ে গণমাধ্যমকে জিম্মি করা যাবে না।
বাংলাদেশে সংবাদ প্রকাশের অধিকার কোনো ব্যক্তির দয়া বা অনুগ্রহ নয়। এটি গণতান্ত্রিক সমাজের অপরিহার্য অংশ।
কলমের বিরুদ্ধে যদি কারও অভিযোগ থাকে—যুক্তি নিয়ে আসুন।
সংবাদের বিরুদ্ধে আপত্তি থাকলে—তথ্য নিয়ে আসুন।
অন্যায় মনে হলে—আইনের আশ্রয় নিন।
কিন্তু সাংবাদিকের গায়ে হাত তোলার অধিকার কারও নেই।
সাংবাদিক হাবিবুর রহমানের ওপর হামলা ও হুমকির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছে দি টুরিস্ট।
কারণ আমাদের বিশ্বাস—
“কলম থামিয়ে দিলে সংবাদ থামে না;
সত্যকে ভয় দেখালে সত্য আরও জোরে কথা বলে।”
মো. কামাল উদ্দিন
ডেপুটি এডিটর
দি টুরিস্ট পত্রিকা
মোহাম্মদপুর থানার মাদক মামলায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার
ঢাকার মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের করা মাদক মামলায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. নুর নবী প্রকাশ রিপনকে চট্টগ্রাম মহানগরীর খুলশী থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৭।র্যাব-৭, চট্টগ্রাম সূত্রে জানা যায়, মো. নুর নবী প্রকাশ রিপন দীর্ঘদিন ধরে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে পলাতক ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার অবস্থান শনাক্ত করে র্যাব-৭-এর একটি দল চট্টগ্রাম মহানগরীর খুলশী থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ঢাকার মোহাম্মদপুর থানার একটি মাদক মামলায় আদালত কর্তৃক ১০ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত আসামি বলে জানিয়েছে র্যাব। গ্রেপ্তারের পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে র্যাব-৭।
এলএনজি আমদানিতে ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস অনুসন্ধানে কচ্ছপগতি
দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ২০২৮ সালের মধ্যে ১০০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নিয়েছিল বিগত সরকার। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও সেই পরিকল্পনায় গুরুত্ব দেয়। তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তিনটি কূপ খননের একটি প্রকল্পই অনুমোদন পেয়েছে। বিপরীতে, গ্যাসের ঘাটতি পূরণে একই সময়ে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে এলএনজি আমদানি। ফলে একদিকে ব্যয়বহুল এলএনজি আমদানি বাড়ছে, অন্যদিকে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও কূপ খনন কার্যক্রম চলছে ধীরগতিতে। এতে জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আমদানি ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ১০০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়ার পর এরই মধ্যে পেরিয়ে গেছে প্রায় আড়াই বছর। এ সময়ের মধ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ এবং সর্বশেষ বর্তমান সরকারের ক্ষমতায় আসার কারণে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ গত ২২ জুলাই চলতি অর্থবছরের প্রথম এবং বর্তমান সরকারের ষষ্ঠ একনেক সভায় ৭২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ-৫ ও বেগমগঞ্জ-৬ এবং সুনামগঞ্জের সুনেত্র-২ কূপ খনন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর একনেকের বিভিন্ন সভায় গ্যাস খাতের এ একটি প্রকল্পই অনুমোদন পেয়েছে। এ অবস্থায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১০০টি কূপ খননের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৮ সালের মধ্যে বাকি ৯৭টি কূপ খনন করা বাস্তবসম্মত নয়। এর আগেও আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ৫০টি কূপ খননের একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে সেটিও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ওই প্রকল্পের আওতায় ২০২৫ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত করার লক্ষ্য ছিল। পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংশোধিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩১ সালের মধ্যে মোট ১৫০টি কূপ খননের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এতে আগের প্রকল্পের অসমাপ্ত ২০টি কূপের পাশাপাশি নতুন ১০০টি কূপ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পর্যাপ্ত রিগের অভাব, অর্থায়ন সংকট ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কূপ খনন কার্যক্রম প্রত্যাশিত গতিতে এগোয়নি। ২০৩১ সালের মধ্যে ১২০টি কূপ খনন করতে হলে প্রতি বছর গড়ে ২৪ থেকে ২৫টি কূপ খনন করতে হবে। এ জন্য দেশীয় রিগের পাশাপাশি বিদেশি রিগ ভাড়া এবং আন্তর্জাতিক কোম্পানিকে কাজে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পেট্রোবাংলার ১০০ কূপ খননের পরিকল্পনায় ৫৬টি কূপ বাপেক্সের অধীনে, ৯টি বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি লিমিটেডের এবং ৮টি সিলেট গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি লিমিটেডের অধীনে রয়েছে। এসব কূপ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক অতিরিক্ত ১৩৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। পরিকল্পনাটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯ হাজার ৫০ কোটি টাকা। বাপেক্সের অধীনে থাকা কূপগুলোর মধ্যে রয়েছে বেগমগঞ্জ-৫, বেগমগঞ্জ-৬, সুনেত্র-২, সুবর্ণচর-১, নোয়াখালী-১, মতলব-১, সুন্দলপুর-৫, সেমুতাং-৭ ও ৮, চরলক্ষ্যা-১, মানিকগঞ্জ-১, শাহবাজপুরের বিভিন্ন কূপ, ভোলা নর্থ-৫, কাসালং-১, পটিয়া-২, সীতাপাহাড়-৩, জলদি-৪, ফেঞ্চুগঞ্জ নর্থ-১, মদন-১, ধর্মপুর-১, বেগমগঞ্জ-৭, উডিরচর-১, সন্দ্বীপের বিভিন্ন কূপ, দোয়ারাবাজার, আলিমাবাদ, ভোলা ওয়েস্ট, শেরপুর, কোম্পানীগঞ্জ, সুনেত্র ইস্ট, ঘাটাইল, বিশ্বনাথ, জামালপুর, ডাকাতিয়া, নোয়াখালী-২, সুবর্ণচর-২ ও ৩ এবং মতলব-২ ও ৩। বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি লিমিটেডের অধীনে রয়েছে তিতাস-৩২ থেকে ৩৬, বাখরাবাদ-১২, মেঘনা-২, লস্করপুর-১ ও বানিয়াচং-১। সিলেট গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি লিমিটেডের অধীনে রয়েছে বিয়ানীবাজার-৩ থেকে ৬, কৈলাসটিলা-১০, রশিদপুর-১৪ এবং দোয়ারাবাজার-১ ও ৩। এ ছাড়া বাপেক্সের অধীনে ৩১টি কূপ ওয়ার্কওভারের তালিকায় রয়েছে। এর মধ্যে রূপগঞ্জ-১ ও সেমুতাং-৬ কূপের কাজ সম্প্রতি শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে বাপেক্স। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে নেওয়া ১০০ কূপের পরিকল্পনার মধ্যে বেগমগঞ্জ-৫, বেগমগঞ্জ-৬ ও সুনেত্র-২ কূপের প্রকল্প সম্প্রতি একনেকের অনুমোদন পেয়েছে। তবে অনুমোদন পাওয়ার পরপরই কূপ খননের কাজ শুরু করা সম্ভব নয়। জমি অধিগ্রহণ, ভূমি উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় সেবা ও মালামাল ক্রয়, রিগ স্থানান্তরসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষ করতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে। ফলে কূপ খননের পর গ্যাস পাওয়ার ফলাফল পেতে দেড় থেকে দুই বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় ঘাটতি পূরণে গত ছয় মাসে উল্লেখযোগ্য হারে এলএনজি আমদানি করেছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত স্পট মার্কেট থেকে অন্তত ৩৫ কার্গো এলএনজি কেনা হয়েছে। এপ্রিল মাসে গ্রীষ্মকালীন চাহিদা মেটাতে ১১টি কার্গো আমদানির পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এর মধ্যে মাত্র তিনটি ছিল দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায়। বাকি আটটি কার্গো স্পট মার্কেট থেকে সংগ্রহ করা হয়। এ সময়ে কাতার থেকে সরবরাহ সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ কমে যায়। ফলে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির বাইরে গিয়ে বাংলাদেশকে উচ্চমূল্যে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতে হয়েছে। সংকটের আগে স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম প্রতি এমএমবিটিইউ ৯ থেকে ১০ ডলারের মধ্যে থাকলেও পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশকে ১৯ থেকে ২৪ ডলার পর্যন্ত দামে কার্গো কিনতে হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দাম ২৫ ডলারের কাছাকাছিও পৌঁছেছে। এতে প্রতিটি কার্গোর ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। সরকারি হিসাবে, মার্চ-এপ্রিল সময়ে অতিরিক্ত এলএনজি আমদানির কারণে ভর্তুকি ব্যয় প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কেনা কয়েকটি কার্গোর প্রতিটির পেছনে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে। গত জুলাইয়ে মোট ১১টি এলএনজি কার্গো আমদানি করা হয়। আগস্টে আরও ৯টি কার্গো আনার উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি বাড়তি চাহিদা মেটাতে আরও পাঁচটি কার্গো সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বল্পমেয়াদে এলএনজি আমদানি গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি ব্যয়বহুল সমাধান। বর্তমানে সরকার দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি চুক্তি সম্প্রসারণ, নতুন সরবরাহকারী খোঁজা, ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের সক্ষমতা বাড়ানো এবং সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে আমদানিনির্ভরতা কমাতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও কূপ খননে। তা না হলে এলএনজি আমদানির সঙ্গে সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ, ভর্তুকির বোঝা এবং জ্বালানি নিরাপত্তার ঝুঁকিও বাড়তে থাকবে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বদরুল ইমাম বলেন, বাংলাদেশের বাস্তবতায় ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি গ্যাসকূপ খনন করা কার্যত অসম্ভব। এমনকি অর্ধেক কূপ বাস্তবায়ন করা গেলেও সেটি গ্রহণযোগ্য হবে। সরকারের উচিত গ্যাসকূপ খননের কাজ অব্যাহত রাখা এবং নেওয়া পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। পেট্রোবাংলার পরিচালক (পরিকল্পনা) আবদুল মান্নান পাটোয়ারী বলেন, ১০০ কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়ার পর বেশ কয়েকটি কূপ খনন করা হয়েছে। এর মধ্যে নতুন ও ওয়ার্কওভার কূপ রয়েছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনটি কূপ খননের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নতুন কূপ খননে কিছু জটিলতা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে চেষ্টা চলছে।
৭ মাসে ১৫ হাজার শিশু নিখোঁজ, সংসদে রুমিন ফারহানার উদ্বেগ
চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হওয়ার তথ্য তুলে ধরে জাতীয় সংসদে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি জানান, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত নিখোঁজ হওয়া শিশুদের মধ্যে এখনো দুই হাজারের বেশি শিশুর সন্ধান মেলেনি। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে দেওয়া বক্তব্যে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন রুমিন ফারহানা। সংসদে রুমিন ফারহানা বলেন, চলতি বছরের সাত মাসে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হয়েছে। এর মধ্যে এখনো দুই হাজারের বেশি শিশুর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ শিশুদের পরিবার তাদের সন্তানদের ফিরে পাওয়ার দাবিতে সভা করেছে বলেও জানান তিনি। সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত থাকায় বিষয়টি তার দৃষ্টিতে আনেন রুমিন। তিনি বলেন, আইনগত সংজ্ঞা অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মচারী বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের সমর্থন, অনুমোদন বা সম্মতিতে কাউকে বেআইনিভাবে আটক করা হলে সেটিকে গুম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শিশু নিখোঁজের সব ঘটনা সরাসরি গুমের সংজ্ঞার আওতায় না পড়লেও বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ সময় সংসদে বিবেচনাধীন ‘বলপূর্বক গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’-এর প্রসঙ্গও তুলে ধরেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, গত দেড় দশকে আয়নাঘর ও সাদা পোশাকধারীদের আতঙ্কে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সনদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গুমকে স্বতন্ত্র অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি এবং গোপন বন্দিশালা নিষিদ্ধ করার উদ্যোগকে নীতিগতভাবে সমর্থন করেন তিনি। তবে এমন মানবতাবিরোধী অপরাধের আইন তাড়াহুড়ো করে পাস না করার আহ্বান জানান রুমিন। তার মতে, বিলটির খসড়া আরও গভীরভাবে যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে গুমকে চলমান বা অবিচ্ছিন্ন অপরাধ হিসেবে খসড়ায় সুস্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়নি। এর ফলে অতীতে গুমের শিকার হয়ে এখনো নিখোঁজ থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির তামাদি ও ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। অতীতে সংঘটিত প্রতিটি গুমের বিচারের পথ আইনগতভাবে নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। প্রমাণের দায় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, সাধারণত কোনো মামলায় প্রমাণ উপস্থাপনের দায়িত্ব প্রসিকিউশনের ওপর থাকে। কিন্তু রাষ্ট্রীয় কোনো বাহিনী কাউকে তুলে নিয়ে গেলে এবং পরে সিসিটিভি ফুটেজসহ প্রমাণ না থাকলে অসহায় পরিবার কীভাবে আদালতে বিষয়টি প্রমাণ করবে—এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। তার মতে, কোনো নাগরিককে সর্বশেষ যে বাহিনীর হেফাজতে দেখা গেছে, ওই ব্যক্তি তাদের হেফাজতে নেই—এটি প্রমাণের প্রাথমিক দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট বাহিনীর ওপর থাকা উচিত। এ ছাড়া বিলে সামরিক ও বেসামরিক বিচারিক এখতিয়ার নিয়ে আরও স্পষ্ট ও শক্তিশালী বিধান রাখার দাবি জানান তিনি। আইনশৃঙ্খলা বা গোয়েন্দা বাহিনীর কোনো সদস্য গুমের ঘটনায় জড়িত থাকলে যাতে বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত না হয়, সেটিও নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। গোপন আটককেন্দ্র নিষিদ্ধ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা প্রস্তাব দেন, কাউকে আটকের সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টার মধ্যে জাতীয় কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজে তার তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা উচিত। এতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বা আদালত দ্রুত বিষয়টি নজরে নিতে পারবে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবার যাতে মাসের পর মাস প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে না হয়, সে জন্য অভিযোগ পাওয়ার ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে অনুপস্থিতির সনদ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখারও প্রস্তাব দেন তিনি। রুমিন ফারহানার বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তাকে ধন্যবাদ জানান। নন-অবস্ট্যান্ট ক্লজ না থাকার বিষয়ে রুমিন ফারহানার বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিলে উল্লেখ রয়েছে—‘আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলি প্রাধান্য পাইবে।’ তার মতে, এটিই নন-অবস্ট্যান্ট ক্লজ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, মানবাধিকার কমিশনসংক্রান্ত আগের অধ্যাদেশে কিছু ত্রুটি থাকায় সরকার সেটিকে প্রথম অধিবেশনেই আইনে পরিণত করেনি। বিভিন্ন অংশীজন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, সাংবাদিক, কূটনৈতিক মিশন এবং ইউএনডিপিসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা ও বিভিন্ন সেমিনার-সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে আগের কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করে বর্তমান বিলটি আনা হয়েছে।
কৃষিঋণ মওকুফ সুবিধা পেয়েছেন ১৪ লাখের বেশি কৃষক: অর্থমন্ত্রী
বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত সারাদেশে ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৮২ জন কৃষকের ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। এসব কৃষক সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নিয়েছিলেন। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থমন্ত্রী জানান, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়া এসব কৃষকের ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। এ বাবদ ব্যাংকগুলোর প্রাপ্য ১ হাজার ৩৫২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা সরকার পরিশোধ করেছে। তিনি আরও জানান, এ ঋণ মওকুফ কর্মসূচির আওতায় দেশের সব উপজেলার কৃষকরা সুবিধা পেয়েছেন। এদিকে চুয়াডাঙ্গা জেলার করদাতার সংখ্যা নিয়ে করা অপর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমানে জেলায় টিআইএনধারী করদাতার সংখ্যা ৭২ হাজার ৪৬৩ জন। এর মধ্যে ২০২৫-২৬ করবর্ষে রিটার্ন দাখিল করেছেন ২১ হাজার ৫৬৭ জন।
যেখানে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর, পুলিশের ওপর হামলা—তাহলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়? খুলশীতে সন্ত্রাসী তাণ্ডবের অভিযোগ, আহত ওসি আবদুর রহিমসহ পুলিশ সদস্যরা– “” ২৭১ জনের বিরুদ্ধে মামলা, প্রশ্ন—আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার পরও কি অপরাধীরা পার পেয়ে যাবে?
“সন্ত্রাসের সামনে আপসহীন ওসি আবদুর রহিম—খুলশীতে আইনের শাসনের নতুন বার্তা”
চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী—আবাসিক এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের বসবাসের কারণে আইনশৃঙ্খলার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা। এই এলাকায় মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর পুলিশি তৎপরতা শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিষয় নয়; এটি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও নগরজীবনের স্বস্তির সঙ্গেও সরাসরি সম্পৃক্ত। এই বাস্তবতায় খুলশী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবদুর রহিমের সাম্প্রতিক ভূমিকা বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। গত ২৩ আগস্ট ২০২৬ সিএমপি কমিশনারের স্বাক্ষরিত আদেশে সিটি স্পেশাল ব্রাঞ্চ (সিটিএসবি)-এর পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ আবদুর রহিমকে খুলশী থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। অর্থাৎ তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই একটি আলোচিত ও ঝুঁকিপূর্ণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। সাম্প্রতিক ঘটনায় ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগাকে গ্রেপ্তারের জন্য খুলশী থানা পুলিশ অভিযান চালায়। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং একটি অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও ছিল। একই সময়ে পাহাড়তলী ডিগ্রি কলেজের এক শিক্ষককে তুলে নিয়ে মারধর ও অধ্যক্ষকে ভিডিও কলে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় করা মামলায়ও তাঁকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে গেলে বগার সহযোগীরা রাস্তায় ব্যারিকেড তৈরি করে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ও ককটেল সদৃশ বস্তু নিক্ষেপ করে এবং পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় ওসি আবদুর রহিমসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে আহত পুলিশের সংখ্যা ছয় থেকে আটজন বলা হয়েছে—তাই সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ নথিই চূড়ান্ত বিবেচ্য হওয়া উচিত। এখানেই প্রশ্নটি বড় হয়ে ওঠে—একজন পুলিশ কর্মকর্তা যখন আদালতের পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে নিজের ওপর হামলার ঝুঁকি নিয়েও অভিযানে নেতৃত্ব দেন, তখন তাঁকে কি একা রেখে দেওয়া যায়? আমার দৃষ্টিতে উত্তর—না। পুলিশের ওপর হামলা মানে রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগের ক্ষমতার ওপর হামলা পুলিশ কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত বাহিনী নয়। পুলিশ রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। তাই দায়িত্ব পালনরত পুলিশের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা, সরকারি গাড়ি ভাঙচুর কিংবা পুলিশ কর্মকর্তাকে হুমকি দেওয়ার ঘটনা কেবল একজন ওসিকে ভয় দেখানোর ঘটনা হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এ ধরনের ঘটনা অপরাধীদের কাছে একটি বিপজ্জনক বার্তা দেয়—আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ভয় দেখিয়ে আইনকে বাধাগ্রস্ত করা সম্ভব। এই জায়গাতেই আবদুর রহিমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি চাইলে পরিস্থিতির ঝুঁকি বিবেচনায় অভিযান থেকে পিছিয়ে যেতে পারতেন; কিন্তু পুলিশি দায়িত্বের অংশ হিসেবে পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তারের অভিযান পরিচালনা করেছেন—এমনটাই পুলিশের বক্তব্য ও প্রকাশিত সংবাদে উঠে এসেছে।
আবদুর রহিমের পেশাগত অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ আবদুর রহিমের খুলশীতে দায়িত্ব নেওয়া আকস্মিক কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগে তিনি সিটিএসবি ও বাকলিয়া থানায় দায়িত্ব পালন করেছেন বলে বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে তাঁর কর্মস্থলের তথ্য পাওয়া যায়। ২০২২ সালের জুনে সিটিএসবি থেকে তাঁকে বাকলিয়া থানার ওসি করা হয়েছিল। অর্থাৎ মাঠপর্যায়ের থানা পুলিশিং এবং গোয়েন্দা/বিশেষ শাখার কাজ—দুই ধরনের অভিজ্ঞতাই তাঁর পেশাগত পথচলায় রয়েছে। একজন ওসির জন্য এ ধরনের অভিজ্ঞতা অপরাধ মোকাবিলা, তথ্য সংগ্রহ, অভিযান পরিকল্পনা ও পরিস্থিতি মূল্যায়নে সহায়ক হতে পারে। সাহসী অফিসারদের পাশে দাঁড়ানো কেন জরুরি আজকের বাংলাদেশে মাদক, কিশোর অপরাধ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াই করতে শুধু পুলিশ সদস্য বাড়ালেই হবে না; প্রয়োজন সৎ, দক্ষ, সাহসী ও পেশাদার নেতৃত্ব। একজন ওসি যদি অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে হুমকির মুখে পড়েন, তাহলে তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হলো তাঁকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সহযোগিতা করা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনের আওতায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া। একই সঙ্গে পুলিশকেও মনে রাখতে হবে—সাহস মানে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া নয়; সাহস মানে আইনের সীমার মধ্যে থেকে অপরাধীর বিরুদ্ধে দৃঢ় থাকা। সাংবাদিকদেরও দায়িত্ব আছে। এখানে আমাদের সাংবাদিক সমাজেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ মানে কাউকে ব্যক্তিগতভাবে হেয় করা নয়। বরং অভিযোগ, মামলা, আদালতের পরোয়ানা, পুলিশের বক্তব্য, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য যাচাই করে সত্য তুলে ধরা। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কলম ধরতে হবে, কিন্তু সেই কলম হতে হবে তথ্যনির্ভর। কোনো অপরাধী রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করুক, সামাজিক প্রভাব খাটাক কিংবা অর্থের ক্ষমতা দেখাক—আইনের দৃষ্টিতে অপরাধের বিচার একই হওয়া উচিত। একইভাবে কোনো পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও অভিযোগ থাকলে তার তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। কারণ আইনের শাসন মানে পুলিশের পক্ষ নেওয়া নয়; আইনের পক্ষে দাঁড়ানো। আবদুর রহিমকে নিয়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা। আবদুর রহিমকে নিয়ে সাম্প্রতিক সংবাদে যেমন তাঁর সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের সাহসী ভূমিকা এসেছে, তেমনি অতীত দায়িত্বকাল ঘিরে কিছু অভিযোগও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সেসব অভিযোগকে আদালতে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না; সংশ্লিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত, সরকারি নথি ও জবাবদিহির প্রক্রিয়াই চূড়ান্ত বিষয়।
তাই একজন সাংবাদিক হিসেবে আমার অবস্থান পরিষ্কার—যে কর্মকর্তা অপরাধ দমনে সাহস দেখাবেন, তাঁর সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করতে হবে; আবার তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে সেটিও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অনুসন্ধান করতে হবে। এই ভারসাম্যই পেশাদার সাংবাদিকতার শক্তি। আজ চট্টগ্রামের মানুষ এমন পুলিশ দেখতে চায়, যারা অপরাধীর পরিচয় দেখে নয়—অপরাধ দেখে ব্যবস্থা নেবে। এমন ওসি চায়, যিনি থানায় বসে শুধু মামলা পরিচালনা করবেন না; প্রয়োজন হলে মাঠে গিয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করবেন। মোহাম্মদ আবদুর রহিমের খুলশী অধ্যায় তাই এখন একটি বড় পরীক্ষার জায়গা। তিনি যদি আইনের সীমার মধ্যে থেকে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে যেতে পারেন, সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারেন এবং একই সঙ্গে পুলিশের পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহি বজায় রাখতে পারেন—তাহলে তাঁর দায়িত্ব পালন নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।
সন্ত্রাসীর হুমকিতে পুলিশ পিছিয়ে যাবে না, আবার পুলিশও আইনের বাইরে যাবে না—এই হোক আমাদের প্রত্যাশা। আবদুর রহিমের মতো সাহসী কর্মকর্তাদের প্রয়োজন আছে; তবে সেই সাহসের সঙ্গে চাই সততা, পেশাদারিত্ব, মানবিকতা এবং আইনের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য। আর আমাদের সাংবাদিকদের কলম? সেই কলম কোনো ব্যক্তি বা দলের জন্য নয়—সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ, নিরাপদ নাগরিক এবং আইনের শাসনের পক্ষে থাকুক।
চরণদ্বীপে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার চরণদ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চরণদ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সংগ্রামী ও সফল সভাপতি মোহাম্মদ আক্কাস খান। দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকার কথা অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে উঠে আসে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির সাবেক সফল আহ্বায়ক হাজী ইসহাক চৌধুরী। তিনি আলহাজ নুরুল আমিনের জানাজায় অংশগ্রহণ শেষে অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এ সময় দলীয় নেতাকর্মীদের ভালোবাসা ও আন্তরিকতায় তিনি সিক্ত হন। সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন চরণদ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শওকত হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চরণদ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মজিবুর হক মুজিব। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চরণদ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নূর মোহাম্মদ খোকন এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল করিম। অনুষ্ঠানে চরণদ্বীপ ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভায় বক্তারা বিএনপির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, দলের গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রাম এবং বর্তমান সময়ে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বক্তব্য রাখেন। সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ আক্কাস খান নেতাকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক বিভেদ ও ভুল বোঝাবুঝি ভুলে গিয়ে দলীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হলে তৃণমূলের প্রতিটি নেতাকর্মীকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। দলের দুঃসময়ে যারা মাঠে ছিলেন, তাঁদের মূল্যায়ন এবং নতুন প্রজন্মের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সংগঠনকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শুধু একটি আনুষ্ঠানিক দিবস নয়; এটি দলের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারকে নতুন করে স্মরণ করার দিন। তাই ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দলীয় আদর্শ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা মেনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে নেতাকর্মীদের মধ্যে সৌহার্দ্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ঐক্য অপরিহার্য। চরণদ্বীপ ইউনিয়নে দলকে আরও সুসংগঠিত করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। আলোচনা সভায় চরণদ্বীপ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ এবং তৃণমূলের কর্মীদের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনটি পরিণত হয় এক মিলনমেলায়। বক্তব্য ও আলোচনা শেষে সভাপতি মোহাম্মদ আক্কাস খান উপস্থিত সকল নেতাকর্মীকে ধন্যবাদ জানান এবং দলের বৃহত্তর স্বার্থে পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্য বজায় রেখে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান। চরণদ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সংগ্রামী সভাপতি মোহাম্মদ আক্কাস খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দেয়।