Home Blog Page 11

তখন এস আলমের নাম নেওয়াই ছিল অপরাধ—আজ ফেসবুকের স্মৃতিতে ফিরে এলো আমার সেই সাহসী লেখা এস আলম গ্রুপকে বাঁচানোর সেই আর্তনাদ, চট্টগ্রামের শিল্প-অর্থনীতি ও আমার বিবেকের দায়-

-মো. কামাল উদ্দিনঃ
কিছু লেখা শুধু লেখা হয় না—কিছু লেখা সময়ের বুকের ওপর রেখে যাওয়া একেকটি প্রশ্ন।
দুই বছর আগে, ২০২৪ সালে আমি যখন ‘এস আলম গ্রুপকে বাঁচানোর আর্তনাদ: ডুবে যাওয়া টাইটানিকের মতো চট্টগ্রামের বাণিজ্য জাহাজকে রক্ষা করুন’ শিরোনামে লেখাটি লিখেছিলাম, তখন আমি জানতাম না ভবিষ্যৎ আমার সেই লেখাটিকে কোন আলোয় দেখবে।
আজ ২০২৬ সালে ফেসবুকের স্মৃতি হঠাৎ সেই পুরোনো লেখাটি সামনে এনে দাঁড় করিয়ে দিল। লেখাটি পড়তে গিয়ে নিজের কাছেই যেন ফিরে গেলাম সেই সময়টিতে। মনে হলো—কী অদ্ভুত সময় ছিল!
তখন এস আলমের নাম নেওয়াটাই যেন ছিল এক ধরনের অপরাধ। চারপাশে নানা আলোচনা, নানা অভিযোগ, নানা গুঞ্জন—কিন্তু প্রকাশ্যে কথা বলার সাহস ছিল খুব কম মানুষের। আর আমি তখনও বলেছিলাম, একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তদন্ত হোক, সত্য উদঘাটিত হোক, কিন্তু একটি শিল্পগোষ্ঠীকে ধ্বংস করে তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা শ্রমিক-কর্মচারী, ব্যবসায়ী, সরবরাহকারী ও সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকাকে বিপন্ন করা যাবে না।
আমি শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখিনি। সেই সময় দৈনিক ভোরের আওয়াজ এবং ইংরেজি দ্য ব্যানার পত্রিকায়ও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছি।
আজ পুরোনো সেই লেখা ফিরে দেখে মনে হচ্ছে—তখন হয়তো আমি অনেকের কাছে অজনপ্রিয় কথা বলেছিলাম, কিন্তু আমার নিজের কাছে আমি অসৎ ছিলাম না।
আমি তখন কী দেখেছিলাম?
আমি দেখেছিলাম চট্টগ্রামের একটি বড় শিল্পগোষ্ঠীকে ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা।
আমি দেখেছিলাম একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অসংখ্য মানুষের জীবন।
আমি দেখেছিলাম চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী সমাজের উদ্বেগ।
আর সবচেয়ে বড় কথা—আমি দেখেছিলাম, কোনো বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান হঠাৎ ভেঙে পড়লে তার অভিঘাত শুধু মালিকের ঘরে গিয়ে থামে না; তার ঢেউ শ্রমিকের ঘর, বাজার, ব্যাংক, পরিবহন, সরবরাহব্যবস্থা এবং বৃহত্তর অর্থনীতিতেও গিয়ে আঘাত করতে পারে।
সেই জায়গা থেকেই আমার প্রশ্ন ছিল—
অভিযোগের বিচার হবে, নাকি প্রতিষ্ঠানটিই ধ্বংস হবে?
আজকের তথ্য কী বলছে?
২০২৪ সালের আগস্টে প্রকাশিত বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এস আলম গ্রুপ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ছয়টি ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ প্রায় ৯৫,৩৩১ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, এর প্রায় ৭৯ শতাংশই ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছিল এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাংকিং নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগও উঠে আসে।
আরও একটি প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন-সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে বলা হয়, ইউনিয়ন ব্যাংক থেকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় ১৭,২২৯ কোটি টাকা ঋণের তথ্য পাওয়া যায়; এসব ঋণের বড় অংশ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগও উঠে আসে।
ইসলামী ব্যাংক নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন সামনে আসে। ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে ব্যাংকটির ঋণপোর্টফোলিওতে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ঋণের বড় অংশের কথা বলা হয় এবং ঋণের বিপরীতে সম্পদের মূল্যায়ন ও জামানত নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
অর্থাৎ আজ যে বাস্তবতার কথা আমরা আলোচনা করছি, তার অনেকগুলো প্রশ্নই ২০২৪ সালে প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছিল।
কিন্তু তখনও আমার বক্তব্য ছিল—অভিযোগের তদন্ত হোক, অপরাধ প্রমাণিত হলে শাস্তি হোক; কিন্তু তদন্ত আর ধ্বংস—দুটিকে যেন এক করে না ফেলা হয়।
আমি কি এস আলমের সবকিছুর পক্ষে ছিলাম?
না।
আজও নই।
এটি স্পষ্ট করে বলা দরকার।
আমি কোনো ব্যক্তির অন্যায়, অনিয়ম, ঋণখেলাপি, অর্থপাচার কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের পক্ষে নই। কোনো প্রতিষ্ঠানই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
বরং আমি মনে করি—অভিযোগ যত বড়, তদন্ত তত স্বচ্ছ হওয়া উচিত।
বাংলাদেশ ব্যাংক, দুর্নীতি দমন কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কিংবা আদালত—যে প্রতিষ্ঠানই কোনো অভিযোগের তদন্ত করুক, তাদের স্বাধীনভাবে সত্য উদঘাটন করতে হবে।
২০২৪ সালেই এস আলম-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট সংক্রান্ত লেনদেন পরীক্ষা করতে এনবিআর অডিট কমিটি গঠন করে। ১৮টি প্রতিষ্ঠানের পাঁচ বছরের আর্থিক লেনদেন ও ক্রয়-বিক্রয় নথি পরীক্ষা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
একই সময়ে এস আলম গ্রুপের সম্পদ ও বিদেশে অর্থ স্থানান্তর নিয়ে আদালতেও বিষয়টি ওঠে। হাইকোর্ট দুদকের কাছে এ বিষয়ে তথ্য চেয়েছিল এবং সম্পদ হস্তান্তর ও বিক্রয়সংক্রান্ত বিষয়েও তদন্তের নির্দেশনা আসে।
তাই আজ কেউ যদি বলেন, “এস আলমের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগই ছিল না”—সেটি তথ্যসম্মত হবে না।
আবার কেউ যদি বলেন, “অভিযোগ উঠেছে মানেই সব অপরাধ প্রমাণিত”—সেটিও ন্যায়বিচারের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
অভিযোগ আর অপরাধ এক জিনিস নয়। তদন্ত আর রায়ও এক জিনিস নয়।
এই জায়গাটিই আমি ২০২৪ সালেও বলতে চেয়েছিলাম।
বিদেশে বিনিয়োগ মানেই কি অর্থপাচার?
এই প্রশ্নটিও তখন অত্যন্ত আলোচিত ছিল।
বিদেশে কোনো বাংলাদেশি ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠান বৈধভাবে বিনিয়োগ করলে সেটিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্থপাচার বলা যায় না। আবার বিদেশে সম্পদ থাকলেই সেটি বৈধ—এমন সিদ্ধান্তেও পৌঁছানো যায় না।
প্রমাণ, নথি, অর্থের উৎস, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের অনুমতি এবং সংশ্লিষ্ট আইনের আলোকে প্রতিটি বিষয় পরীক্ষা করতে হয়।
২০২৪ সালে সিঙ্গাপুরের Financial Intelligence Unit এস আলম গ্রুপ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেশি-বিদেশি সম্পদ সম্পর্কে বাংলাদেশের Financial Intelligence Unit-এর কাছে তথ্য চেয়েছিল—এমন খবরও প্রকাশিত হয়েছিল।
সুতরাং আমার অবস্থান ছিল খুব পরিষ্কার—
যা বৈধ, তা বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি পাক; যা অবৈধ, তা আইনের আওতায় আসুক। কিন্তু অনুমানকে যেন প্রমাণের বিকল্প বানানো না হয়।
চট্টগ্রামের মানুষ হিসেবে আমার কষ্টটা এখানেই
এস আলম গ্রুপের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনো ব্যবসায়িক সম্পর্ক নেই।
কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রামের।
এই শহরের মাটি থেকে উঠে আসা একটি বড় শিল্পগোষ্ঠী নিয়ে যখন প্রশ্ন ওঠে, তখন একজন চট্টগ্রামবাসী হিসেবে আমার উদ্বেগ থাকতেই পারে।
চট্টগ্রাম বাংলাদেশের বন্দরনগরী। আমদানি-রপ্তানি, শিল্প, বাণিজ্য ও উদ্যোক্তা সংস্কৃতির সঙ্গে এই নগরীর সম্পর্ক বহু পুরোনো।
এই শহর বহু উদ্যোক্তা সৃষ্টি করেছে।
কেউ ছোট থেকে বড় হয়েছেন। কেউ পরিবহন দিয়ে শুরু করেছেন, কেউ আমদানি-রপ্তানি দিয়ে, কেউ শিল্প দিয়ে।
এস আলম গ্রুপও দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন খাতে ব্যবসা বিস্তার করেছে। গ্রুপটির নিজস্ব ওয়েবসাইটে ইস্পাত, সিমেন্ট, ভোজ্যতেল, পরিবহন, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসা ও বিনিয়োগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
আজ সেই শিল্পভিত্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে আমার উদ্বেগের জায়গাটি তাই কেবল একটি কোম্পানি নয়—
চট্টগ্রামের শিল্পপরিবেশ।
কিন্তু আজ বাস্তবতা আরও কঠিন
২০২৪ সালের শেষদিকে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়।
জানতা ব্যাংক এস আলম গ্রুপের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রায় ১,৯৬৪ কোটি টাকার ঋণখেলাপির মামলা করে। আদালত সংশ্লিষ্ট শেয়ার হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা দেয় এবং ঋণ অনুমোদন প্রক্রিয়া যথাযথ ছিল কি না, তা তদন্তের বিষয়ও সামনে আসে।
এরপর দুদকও এস আলম-সংশ্লিষ্ট ঋণ অনিয়মের বিষয়ে মামলা করে।
অর্থাৎ ২০২৪ সালের আমার লেখার সময় যে প্রশ্নগুলো ছিল, পরবর্তী সময়ে সেগুলো আরও বড় আইনি ও আর্থিক প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।
এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।
কিন্তু এখানেই আমার দ্বিতীয় প্রশ্ন—
আইনের বিচার চলবে, কিন্তু শিল্প কি চলবে না?
প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে আলাদা করে দেখার সময় এসেছে
আমার মনে হয় এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এই জায়গাটিতে পরিষ্কার ধারণা তৈরি করা।
যদি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকে, তদন্ত হোক।
যদি কোনো কোম্পানি ঋণখেলাপি হয়, আইন অনুযায়ী ঋণ উদ্ধার করা হোক।
যদি সম্পদ অবৈধভাবে অর্জিত হয়ে থাকে, আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
কিন্তু পাশাপাশি যেসব কারখানা উৎপাদন করতে পারে, যেসব শ্রমিক কাজ করতে পারে, যেসব শিল্পসম্পদ দেশের অর্থনীতিতে ব্যবহারযোগ্য—সেগুলোকে কি পুনর্গঠন করে সচল রাখা যায় না?
ধ্বংসের চেয়ে পুনর্গঠন কি রাষ্ট্রের জন্য বেশি লাভজনক নয়?
এই প্রশ্নটি আজও প্রাসঙ্গিক।
কারণ কারখানা বন্ধ হলে শুধু মালিকের ক্ষতি হয় না
একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের গেটে তালা পড়লে তার শব্দ অনেক দূর পর্যন্ত যায়।
শ্রমিকের ঘরে যায়।
তার সন্তানের স্কুলে যায়।
বাজারের দোকানে যায়।
পরিবহন ব্যবসায়ীর ঘরে যায়।
সরবরাহকারীর প্রতিষ্ঠানে যায়।
ব্যাংকের হিসাবেও যায়।
একটি কারখানার উৎপাদন বন্ধ হলে তার সঙ্গে সম্পর্কিত বহু ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাও সংকটে পড়তে পারে।
তাই আমার ২০২৪ সালের আহ্বান ছিল—
ব্যক্তির বিচার করুন, কিন্তু শিল্পকে বাঁচানোর পথ খুঁজুন।
তখন আমি একা ছিলাম—আজ কি সময় বদলেছে?
সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয় এখানেই।
আমি যখন লিখেছিলাম, তখন অনেকেই নীরব ছিলেন।
কেউ হয়তো ভয় পেয়েছেন।
কেউ হয়তো রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে কথা বলেননি।
কেউ হয়তো ভেবেছেন—এস আলমের পক্ষে কথা বলা মানেই কোনো বিশেষ পক্ষের পক্ষে দাঁড়ানো।
আর আমি তখন বলেছিলাম—
না, আমি কোনো ব্যক্তির পক্ষে দাঁড়াচ্ছি না; আমি দাঁড়াচ্ছি একটি প্রশ্নের পক্ষে।
আমি দাঁড়াচ্ছি শ্রমিকের পক্ষে।
আমি দাঁড়াচ্ছি চট্টগ্রামের শিল্পের পক্ষে।
আমি দাঁড়াচ্ছি ন্যায়বিচারের পক্ষে।
আমি দাঁড়াচ্ছি সত্য জানার অধিকার নিয়ে।
আজ যদি কেউ একই কথা বলেন, আমি তাকে স্বাগত জানাব।
কিন্তু ইতিহাসের পাতায় একটি বিষয় মনে রাখা দরকার—
সময় অনুকূলে থাকলে সত্য বলা সহজ; প্রতিকূল সময়ে সত্য বলার সাহসই সাংবাদিকতার আসল পরীক্ষা।
আমার কলমের দায়
আমি সাংবাদিকতা করেছি শুধু সংবাদ প্রকাশের জন্য নয়; মানুষের কথা বলার জন্যও।
আমি বিশ্বাস করি, সাংবাদিকের কাজ কারও অন্ধ সমর্থক হওয়া নয়, আবার কারও অন্ধ বিরোধী হওয়াও নয়।
সাংবাদিকের কাজ প্রশ্ন করা।
ক্ষমতাবানকে প্রশ্ন করা।
রাষ্ট্রকে প্রশ্ন করা।
ব্যবসায়ীকে প্রশ্ন করা।
আবার জনমতকেও প্রশ্ন করা।
কারণ গণমাধ্যম যদি কেবল জনপ্রিয় কথাই বলে, তাহলে সমাজে নতুন কোনো সত্য জন্ম নেয় না।
২০২৪ সালে আমার লেখাটি হয়তো অনেকের ভালো লাগেনি।
হয়তো কেউ প্রশ্ন তুলেছিলেন।
হয়তো কেউ মনে করেছিলেন, আমি কেন এমন সময়ে এস আলমের পক্ষে কথা বলছি?
কিন্তু আজ আমি স্পষ্ট করে বলতে পারি—
আমি তখনও বলেছিলাম, অপরাধ হলে বিচার হোক; কিন্তু শিল্প ও কর্মসংস্থান ধ্বংস হোক—এটি আমি চাইনি।
আজও চাই না।
আজকের আবেদন
আজ আমার আবেদন কোনো ব্যক্তি বিশেষের জন্য নয়।
আমার আবেদন—
চট্টগ্রামের শিল্পের জন্য।
আমার আবেদন—
শ্রমিকের রুটি-রুজির জন্য।
আমার আবেদন—
দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য।
এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ আছে, সেগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। সত্য প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। রাষ্ট্রের পাওনা রাষ্ট্র উদ্ধার করুক। ব্যাংকের অর্থ ফেরত আনার কার্যকর ব্যবস্থা হোক।
কিন্তু একই সঙ্গে যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান অর্থনৈতিকভাবে পুনর্গঠনযোগ্য, সেগুলোকে ধ্বংস না করে স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা, স্বাধীন অডিট, কঠোর ব্যাংকিং নজরদারি, দায় নির্ধারণ এবং প্রয়োজন হলে নতুন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সচল রাখার পথ খুঁজে দেখা হোক।
কারণ একটি কারখানা গড়ে তুলতে বছরের পর বছর লাগে।
একটি দক্ষ শ্রমিক তৈরি করতে সময় লাগে।
একটি বাজার তৈরি করতে দশকের পর দশক লাগে।
কিন্তু একটি প্রতিষ্ঠান ভেঙে দিতে কখনো কখনো কয়েকটি ভুল সিদ্ধান্তই যথেষ্ট।
আজ ফেসবুক আমার ২০২৪ সালের লেখাটি ফিরিয়ে দিয়েছে।
স্ক্রিনে পুরোনো অক্ষরগুলো দেখে মনে হলো—
কিছু লেখা পুরোনো হয়, কিন্তু কিছু প্রশ্ন পুরোনো হয় না।
তখন আমি লিখেছিলাম—এস আলম গ্রুপ যেন ডুবে যাওয়া টাইটানিকের মতো। আজ সেই উপমাটি আরও গভীর মনে হচ্ছে।
তবে আজ আমি সেই কথাটিকে নতুনভাবে বলতে চাই—
টাইটানিক ডুবে যাওয়ার আগে যদি সতর্কতার সংকেত শোনা যেত, যদি সময়মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া যেত, তাহলে হয়তো ইতিহাস অন্যরকম হতে পারত।
আমরাও কি আমাদের শিল্প ও অর্থনীতির ক্ষেত্রে সেই ভুল করতে চাই?
অভিযোগের বিচার হোক—অবশ্যই।
অপরাধের শাস্তি হোক—অবশ্যই।
রাষ্ট্রের অর্থ উদ্ধার হোক—অবশ্যই।
কিন্তু একই সঙ্গে—
চট্টগ্রামের শিল্প বাঁচুক।
শ্রমিকের কর্মসংস্থান বাঁচুক।
ব্যবসার পরিবেশ বাঁচুক।
দেশের অর্থনীতি বাঁচুক।
আর আমার ২০২৪ সালের সেই লেখার সবচেয়ে বড় সাক্ষ্য থাকুক এই কথাটি—
“আমি তখনও কারও অন্যায়ের পক্ষে ছিলাম না; আমি ছিলাম ধ্বংসের পরিবর্তে ন্যায়বিচার, পুনর্গঠন ও জনস্বার্থের পক্ষে।”
আজ যারা কথা বলছেন, তাদের আমি স্বাগত জানাই।
তবে সময়ের কাছে আমার ছোট্ট প্রশ্ন—
যে কথা আজ বলা হচ্ছে, সেই কথা যখন বলা কঠিন ছিল, তখন আমরা কোথায় ছিলাম?
আমি অন্তত আমার উত্তর দিতে পারি—
আমি আমার কলম নিয়ে তখনও ছিলাম। আজও আছি।
সাংবাদিক, লেখক, গবেষক ও টেলিভিশন উপস্থাপক
মহাসচিব, বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম

মরুর বুকে ভ্রমণের গল্প, শব্দে শব্দে জীবনের মুগ্ধতা

তরুণ লেখক মুহাম্মদ আতিকুর রহমান আতিকের ‘আরবে মুসাফির’—প্রকাশনা অনুষ্ঠানের সফলতা কামনা |
সাহিত্য মানুষের মনের দরজা খুলে দেয়, অজানাকে জানার সুযোগ করে দেয় এবং ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে রূপ দেয় স্মরণীয় কথামালায়। সেই সৃষ্টিশীল প্রয়াসেরই এক নতুন সংযোজন তরুণ লেখক মুহাম্মদ আতিকুর রহমান আতিকের ‘আরবে মুসাফির’ গ্রন্থ। একটি বই প্রকাশের আনন্দ শুধু লেখক কিংবা প্রকাশকের একার নয়—এটি পাঠক, সাহিত্যপ্রেমী এবং শুভানুধ্যায়ীদের জন্যও আনন্দের উপলক্ষ। একজন লেখকের দীর্ঘ ভাবনা, অভিজ্ঞতা, অনুভূতি ও সৃজনশীলতার ফসল যখন মুদ্রিত অক্ষরে পাঠকের হাতে পৌঁছে যায়, তখন সেটি হয়ে ওঠে সাহিত্যজগতের জন্য একটি নতুন সংযোজন। ‘আরবে মুসাফির’ সেই প্রত্যাশা ও ভালোবাসারই একটি প্রতিচ্ছবি। পূর্বাশার আলো ও স্বপ্নেরবীর-এর প্রতিষ্ঠাতা তরুণ লেখক মুহাম্মদ আতিকুর রহমান আতিকের এই গ্রন্থ প্রকাশকে ঘিরে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি তাই নিছক একটি প্রকাশনা অনুষ্ঠান নয়; বরং সাহিত্য, সংস্কৃতি, অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীলতার মানুষের মধ্যে এক সুন্দর মিলনমেলা। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মো. মাহফুজুর রহমান, সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার, কোতোয়ালি জোন এবং সহ-সভাপতি, চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। তাঁর মতো একজন অভিজ্ঞ ও গুণী ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটির মর্যাদা ও গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেবে বলে প্রত্যাশা করা যায়। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায়, চট্টগ্রামের লালখান বাজারের পিটস্টপ রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই বহুল প্রত্যাশিত প্রকাশনা অনুষ্ঠান। আয়োজনে রয়েছে ‘পূর্বাশার আলো পরিবার’।
নতুন লেখকের নতুন পথচলা
একজন লেখকের জন্য নিজের বই প্রকাশের মুহূর্ত নিঃসন্দেহে জীবনের অন্যতম আনন্দঘন অধ্যায়। ‘আরবে মুসাফির’ যেন লেখকের সেই স্বপ্নযাত্রার প্রথম সারির একটি মাইলফলক হয়ে থাকে—এই প্রত্যাশা। বইটি পাঠকের হৃদয়ে স্থান করে নিক, লেখকের কলম আরও শক্তিশালী হোক, তাঁর সৃজনশীলতার পরিধি আরও বিস্তৃত হোক এবং আগামী দিনে তাঁর কাছ থেকে আমরা আরও সমৃদ্ধ সাহিত্যকর্ম উপহার পাই—এই আমাদের আন্তরিক প্রত্যাশা। ‘আরবে মুসাফির’-এর প্রকাশনা অনুষ্ঠান সর্বাঙ্গীণভাবে সফল ও সার্থক হোক। লেখকের সাহিত্যযাত্রা হোক দীর্ঘ, সুন্দর ও আলোকিত। মুহাম্মদ আতিকুর রহমান আতিকের কলমে জ্বলে উঠুক নতুন দিনের প্রত্যাশা—আর তাঁর ‘আরবে মুসাফির’ হয়ে উঠুক পাঠকের প্রিয় এক গ্রন্থ।
আয়োজক ‘পূর্বাশার আলো পরিবার’-কে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন, শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।
সাহিত্য বেঁচে থাকুক, বইয়ের আলো ছড়িয়ে পড়ুক—প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।

লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং ইউনাইটেড স্টারস এবং লিও ক্লাব অব চিটাগং ইউনাইটেড স্টারস এর জমকালো আয়োজনে চার্জ হস্তান্তর-গ্রহণ ও চার্টার সেলিব্রেশন

সেবার অঙ্গীকার, নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা ও মানবকল্যাণের প্রত্যয়কে সামনে রেখে জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং ইউনাইটেড স্টারস ও লিও ক্লাব অব চিটাগং ইউনাইটেড স্টারস এর চার্জ হস্তান্তর-গ্রহণ, কাউন্সিল চেয়ারপার্সন ও ডিজি টিম রিসেপশন এবং চার্টার সেলিব্রেশন। নগরীর সিএলএফের হালিমা রোকেয়া মেমোরিয়াল হলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে লায়ন্স ও লিও ক্লাবের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ, ক্লাব নেতারা, বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এবং সদস্যরা অংশ নেন। বর্ণাঢ্য এ আয়োজন ঘিরে লায়ন্স-লিও ক্লাব পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাল্টিপল ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫-এর সম্মানিত কাউন্সিল চেয়ারপার্সন এবং ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫-বি৪-এর আইপিডিজি লায়ন মোঃ মোসলেহউদ্দিন আহমেদ অপু পিএমজেএফ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫-বি৪-এর গর্ব ও ‘কমিটমেন্ট কল’-এর প্রবক্তা লায়ন মোঃ কামরুজ্জামান লিটন এমজেএফ। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫-বি৪-এর ১ম ভাইস জেলা গভর্নর লায়ন মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিকী পিএমজেএফ, ২য় ভাইস জেলা গভর্নর লায়ন পারভীন মাহমুদ এফসিএ পিএমজেএফ এবং কেবিনেট সেক্রেটারি লায়ন মোঃ বেলাল উদ্দিন চৌধুরী এমজেএফ। অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে উপস্থিত ছিলেন লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং ইউনাইটেড স্টারসের চার্টার সেবা বর্ষ (২০২৩-২৪)-এর গভর্নর ও বর্তমান পিডিজি লায়ন এম ডি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী পিএমজেএফ। তাঁর উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে এবং ক্লাব নেতৃবৃন্দ ও সদস্যদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করে। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জিএলটি ডিস্ট্রিক্ট কো-অর্ডিনেটর লায়ন মোঃ মুসা এমজেএফ, জিএসটি ডিস্ট্রিক্ট কো-অর্ডিনেটর লায়ন মোঃ হেলাল উদ্দিন আহমেদ এলসিআইএফ কোর্ডিনেটর লায়ন এডভোকেট নুরুল ইসলাম সহ ডিজি অ্যাসাইনমেন্টের নেতৃবৃন্দ, সিনিয়র গভর্নর অ্যাডভাইজর, গভর্নর অ্যাডভাইজর, আরসি হেডকোয়ার্টার, আরসি অ্যাডমিন, রিজিয়ন-১, রিজিয়ন ও জোন কনসার্ন, লিও ক্লাব চেয়ারম্যান, লিও ইয়ুথ এক্সচেঞ্জ, লিও ডিস্ট্রিক্ট প্রেসিডেন্ট এবং লিও ডিস্ট্রিক্ট টিমের নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানের দুই পর্বে সভাপতিত্ব করেন লায়ন মোঃ মনির হোসেন পাটোয়ারী ও লায়ন মোঃ নুরুল আলম। এ সময় লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং ইউনাইটেড স্টারসের সদস্যদের মধ্যে লায়ন আহমেদ নুর, লায়ন ফোরকান উদ্দিন, লায়ন স্বপ্না আক্তার, লায়ন জসিম উদ্দিন, লায়ন নিজাম উদ্দিন, লায়ন ফরহাদুল হাসান মোস্তফা, লায়ন ইব্রাহিম বাপ্পি, লায়ন মোঃ ফারুক, লায়ন নাসির উদ্দিন, লায়ন ডা. দিদার হোসেন, লায়ন সাইফুর রহমান, লায়ন খালেদা আক্তার পিংকি, লায়ন খালেদা আফরোজ, লায়ন আশ্রাফুল আলম ভূঁইয়া, লায়ন রানী আক্তার, লায়ন রেশমা রহমান, লায়ন সৈয়দ ইয়াছিন, কাজী নিজাম উদ্দিন, লায়ন মোঃ সেলিম ও লায়ন অসিম কুমারসহ নবাগত লায়নবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি লিও ক্লাব অব চিটাগং ইউনাইটেড স্টারসের লিও রাহুল দাস, লিও রাহাতসহ ক্লাবের বিভিন্ন পর্যায়ের লিও নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মানবসেবাই লায়ন্স আন্দোলনের মূল লক্ষ্য। সমাজের কম সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫-বি৪-এর বিভিন্ন ক্লাব যে ভূমিকা রেখে চলেছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বিশেষ করে লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং ইউনাইটেড স্টারস এর বিভিন্ন সেবামূলক ও মানবিক কার্যক্রমের প্রশংসা করে বক্তারা বলেন, নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ভবিষ্যতে সেবার পরিধি আরও বিস্তৃত করতে হবে। তারা আরও বলেন, নেতৃত্ব পরিবর্তন মানেই দায়িত্বের পরিবর্তন নয়; বরং নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে মানবসেবার কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও বিস্তৃত করার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়। লায়ন্স ও লিও সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের কল্যাণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান বক্তারা। চার্জ হস্তান্তর-গ্রহণের মধ্য দিয়ে নতুন নেতৃত্বকে দায়িত্ব অর্পণ এবং পুরোনো নেতৃত্বের কার্যক্রমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে লায়ন্স ও লিওদের মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। লায়ন্স ও লিও পরিবারের সদস্যদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ এবং আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে বর্ণাঢ্য এ আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।

ভেনিসে অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর হামলা, ভিডিও বিশ্লেষণে শনাক্ত কয়েকজন

0

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বিশ্লেষণ করে ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনায় জড়িত কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, বাঁধনের দিকে বারবার পানি ছুড়ে মারছেন একজন। কেউ তাকে শাসাচ্ছেন, কেউ হামলার দৃশ্য ধারণ করছেন, আবার কেউ শারীরিকভাবে আঘাত করার চেষ্টা করছেন।

ঘটনার পর ভেনিসে মামলা দায়ের করেছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন।

ঘটনার একটি ভিডিওতে হামলাকারীদের বলতে শোনা যায়—

‘এই যে জুলাই জঙ্গি, ওরা দেশটাকে ধ্বংস করেছে। আমরা ইতালির ছাত্রলীগ।’

পরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া ভিডিও বার্তায় বাঁধন তার ওপর হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ঘটনার সময় মনিরুল হাওলাদার নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভ করা হয়। সেই লাইভের ক্যাপশনে লেখা ছিল—

‘জুলাই জঙ্গি আজমেরী হক বাঁধনকে আমরা উত্তম মাধ্যম দিয়েছি ভেনিসে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ইতালি শাখা।’

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মনিরুল হাওলাদারের বাড়ি মাদারীপুরে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও তার স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি ছাত্রলীগের একটি ইউনিয়ন শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

দুই হাজার চব্বিশ সালের পাঁচ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ছাড়েন মনিরুল। প্রথমে লিবিয়া এবং পরে ইতালিতে যান তিনি।

ভিডিওতে বাঁধনের দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বারবার পানি ছুড়ে দিতে দেখা যায় শরীয়তপুরের শিপল মাহমুদ বিপ্লবকে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে ভেনিস আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও জানা গেছে।

ভিডিওতে বাঁধনের দিকে এগিয়ে গিয়ে থাপ্পড় দেওয়ার চেষ্টা করা ব্যক্তির পরিচয়ও পাওয়া গেছে। তিনি ইলিয়াস মিয়া। তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া বিভিন্ন ছবি ও পোস্টে ইতালির ভেনিস শাখা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও ইলিয়াস মিয়াকে দেখা গেছে।

ভিডিওতে বাঁধনের আশপাশে থাকা এবং তাকে একাধিকবার শাসাতে দেখা যায় আরও কয়েকজনকে। তাদের মধ্যে একজন আলতাফ পাহাড়।

তার বাড়ি শরীয়তপুরে। স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তিনিও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে ইতালির ভেনিসে যুবলীগের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।

তবে ভিডিও বিশ্লেষণ করে যাদের শনাক্ত করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

অভিনেত্রী বাঁধনের দায়ের করা মামলায় হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

বিদেশের মাটিতে একজন বাংলাদেশি অভিনেত্রীর ওপর প্রকাশ্যে হামলার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া।

ঘটনার ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্টদের রাজনৈতিক পরিচয়—সবকিছুই এখন তদন্তের আওতায় আসার দাবি উঠেছে।

আরও এক কারাবন্দীর মৃত্যু ঢাকা মেডিকেলে, দুই দিনে মারা গেলেন ৪ জন

0

কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনার পর আরও এক কারাবন্দীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত দুই দিনে ঢামেক হাসপাতালে চার কারাবন্দীর মৃত্যু হলো। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে অসুস্থ অবস্থায় আলী আকবর মণ্ডল (৬৭) নামে ওই বন্দীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। আলী আকবর মণ্ডলের গ্রামের বাড়ি মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বাবুখালী এলাকায়। তবে তিনি কোন মামলায় কারাবন্দী ছিলেন, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। এর আগে রোববার সকাল ৭টা ২৫ মিনিট থেকে ৯টা ৫ মিনিটের মধ্যে প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিন কারাবন্দীর মৃত্যু হয়। তাঁরা হলেন—আবুল বাশার (৫৮), আবদুল কাইয়ম (৬২) ও মো. শাহাদত হোসেন লিটন (৫২)। তাঁদেরও ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানান, আলী আকবর মণ্ডলের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। দুই দিনে চার কারাবন্দীর মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল ও কারা কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বেকারি কামাল’—একটি নামের ভেতরে তিন যুগের সংগ্রাম, সাফল্য, ব্যর্থতা ও মানুষের গল্প

কলম থেকে কারখানা, রাজপথ থেকে টেলিভিশন, চট্টগ্রামের উন্নয়ন আন্দোলন থেকে বিশ্বভ্রমণ—পরিচয় বদলেছে বারবার, কিন্তু মানুষটি রয়ে গেছে একই ছবিটি ২০০৬ সালের। সময়টা ছিল আমার জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের। তখন আমি চট্টগ্রাম বেকারি মালিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক। ছবিতে মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিচ্ছি—পেছনে সহযোদ্ধারা, সামনে বেকারি শিল্পের মালিকেরা। এটি নিছক কোনো পুরোনো ছবি নয়; আমার কাছে এটি একটি সময়ের দলিল, একটি আন্দোলনের স্মারক এবং আমার জীবনের ভিন্ন এক পরিচয়ের সাক্ষ্য।
আমি তখন শুধু বক্তৃতা করিনি—বেকারি শিল্পের মালিকদের অধিকার, মর্যাদা, ন্যায্য দাবি ও শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলাম। আমার নেতৃত্বে চট্টগ্রামের বেকারি শিল্পের সঙ্গে জড়িত বহু মালিক ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন। সেই সময়ের আন্দোলন ছিল আমার কাছে কোনো ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থের লড়াই নয়; বরং একটি সম্ভাবনাময় শিল্পখাতকে সংগঠিত, শক্তিশালী ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নেওয়ার চেষ্টা। আজ বাংলাদেশের বেকারি শিল্প অনেক দূর এগিয়েছে। এই অগ্রযাত্রার পেছনে অসংখ্য উদ্যোক্তা, শ্রমিক, কারিগর ও শিল্পসংগঠকের অবদান রয়েছে। তবে সেই সময়ের আন্দোলনের একজন সংগঠক হিসেবে আমি মনে করি, চট্টগ্রামের বেকারি শিল্পের সংগঠিত আন্দোলনের ইতিহাসে আমারও একটি ছোট্ট অধ্যায় আছে। সেই কারণেই হয়তো কেউ ভালোবেসে, কেউ স্মৃতি থেকে, কেউবা মজা করে আমাকে আজও বলেন—‘বেকারি কামাল’। এই নামটি শুনে আমি কখনো বিরক্ত হই না। বরং হাসি। কারণ একটি নাম কখনো কখনো একটি ইতিহাসের সংক্ষিপ্ত রূপ হয়ে যায়। কলম দিয়ে শুরু, শিল্পের ভেতর দিয়ে নতুন অধ্যায় আমার জীবনের মূল পরিচয় কিন্তু বেকারি ব্যবসায়ী নয়। আমার হাতে প্রথম উঠেছিল কলম।
১৯৮৭ সাল থেকে নিয়মিত লেখালেখি এবং ১৯৮৮ সাল থেকে সাংবাদিকতার জগতে পথচলা। ম্যাগাজিনে দিনের পর দিন লিখেছি। সংবাদপত্রে লিখেছি। সমাজ, রাষ্ট্র, রাজনীতি, অর্থনীতি, চট্টগ্রামের উন্নয়ন, মানুষের অধিকার—বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লিখেছি। সেই কলমের পথচলা আজও থামেনি।
কিন্তু সাংবাদিকতার পাশাপাশি জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য একসময় নেমে পড়লাম শিল্প ও ব্যবসার জগতে। ২০০৫ সালে ডিপ্লোমা ফুড প্রোডাক্ট ও বেকারি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হলাম।
সাংবাদিকের কলম থেকে শিল্প উদ্যোক্তার জীবনে প্রবেশ—সহজ ছিল না। কারখানা, শ্রমিক, উৎপাদন, বাজার, কাঁচামাল, বিদ্যুৎ, পরিবহন, হিসাব—সবকিছু নতুন করে শিখতে হয়েছে।
আর সেই পথের সবচেয়ে বড় শিক্ষা?
ব্যবসায় সবসময় লাভ হয় না। কিন্তু সংগ্রামের মূল্য কখনো কখনো টাকার অঙ্কে মাপা যায় না।
বেকারি শিল্পে আমার প্রায় ৭ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে।
অনেকে হয়তো বলবেন—এ তো বিরাট ব্যর্থতা!
আমি বলব—হ্যাঁ, ব্যবসায়িক হিসাবে এটি বড় লোকসান। কিন্তু জীবন ও ইতিহাসের হিসাবে এটি আমার কাছে একটি মূল্যবান অভিজ্ঞতা।
কারণ আমি শুধু টাকা হারাইনি; আমি একটি শিল্পকে কাছ থেকে দেখেছি, শ্রমিকের ঘাম দেখেছি, উদ্যোক্তার সংগ্রাম দেখেছি, শিল্পের সমস্যা দেখেছি এবং সেই শিল্পের মানুষের জন্য রাজপথে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি।
৭ কোটি টাকা হয়তো ফেরত আসবে না; কিন্তু সেই সময়ের স্মৃতি, সংগ্রাম ও নেতৃত্বের ইতিহাস আর কোনোদিন হারাবে না।
‘বেকারি কামাল’—তাই আমার কাছে অপমান নয়, সম্মানের স্মৃতি
আজ কেউ যখন আমাকে ‘বেকারি কামাল’ বলেন, আমি তাদের ধন্যবাদ দিই।
কারণ তারা হয়তো জানেন না—এই একটি শব্দের সঙ্গে আমার জীবনের কতটা শ্রম, কতটা স্বপ্ন এবং কতটা আর্থিক ক্ষতি জড়িয়ে আছে।
ইতিহাস যখন বেকারি শিল্পের আন্দোলনের কথা বলবে, তখন শুধু কারখানার উৎপাদন, বিস্কুট-পাউরুটি কিংবা বাজারের পরিসংখ্যান দিয়ে সেই ইতিহাস পূর্ণ হবে না। সেখানে থাকবে সংগঠন, আন্দোলন, নেতৃত্ব, ঐক্য ও অধিকার আদায়ের সংগ্রাম।
আর সেই ইতিহাসের কোথাও যদি লেখা হয়—‘বেকারি শিল্পের আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক কামাল উদ্দিন’, তাহলে সেটিই আমার জন্য বড় অর্জন।
মাটির কাছেও আমার আরেক পরিচয়
শুধু বেকারি নয়—আমার আরেকটি বড় জগৎ হলো কৃষি।
আমার একটি বড় কৃষি খামারও রয়েছে। কৃষির সঙ্গে আমার সম্পর্ক ব্যবসার হিসাবের চেয়েও বেশি আবেগের। মাটিতে বীজ বোনা, গাছের বেড়ে ওঠা, ফসলের অপেক্ষা—এসবের মধ্যে আমি অন্যরকম আনন্দ খুঁজে পাই।
কেউ যদি আমাকে ‘কৃষি কামাল’ বলতেন, সত্যি বলতে হয়তো আরও খুশি হতাম।
কারণ কৃষি শুধু উৎপাদন নয়—কৃষি জীবন, কৃষি মাটি, কৃষি মানুষের অস্তিত্বের সঙ্গে যুক্ত।
‘চট্টগ্রাম উন্নয়ন কামাল’—হয়তো এই পরিচয়টিও আমার ভালো লাগত
চট্টগ্রামের উন্নয়ন আন্দোলনের সঙ্গেও আমার সম্পর্ক আজকের নয়। ১৯৮৮ সাল থেকে চট্টগ্রামের উন্নয়ন আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত আছি।
এই শহরের জলাবদ্ধতা, যানজট, পরিবেশ, যোগাযোগ, অবকাঠামো, নদী-খাল, উন্নয়ন পরিকল্পনা, নাগরিক অধিকার—চট্টগ্রামের নানা সমস্যা নিয়ে দীর্ঘদিন কথা বলেছি, লিখেছি, আন্দোলন করেছি।
অনেকে আমাকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের সংগঠক বলেন।
কেউ যদি ভালোবেসে ‘চট্টগ্রাম উন্নয়ন কামাল’ বলতেন, সেটিও আমার কাছে আনন্দের পরিচয় হতো।
কারণ আমি বিশ্বাস করি—একজন মানুষ তার শহরের জন্য যতটা করতে পারে, সেটাই তার নাগরিক জীবনের অন্যতম বড় পরিচয়।
তারপর এলো বই—কলমের আরেক দীর্ঘ যাত্রা
বছরের পর বছর লিখতে লিখতে আমার নিজের বইয়ের সংখ্যা এখন ৩২টি।
প্রতিটি বই আমার জীবনের একটি সময়, একটি চিন্তা, একটি গবেষণা, একটি অভিজ্ঞতার দলিল। লেখালেখি আমার কাছে কখনো শুধু পেশা ছিল না; এটি ছিল আমার চিন্তার স্বাধীনতা এবং সমাজকে দেখার নিজস্ব জানালা।
বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ লেখক সংগঠন PEN International-এর সদস্য হওয়ার সুযোগ পেয়েছি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের লেখক, সাহিত্যিক ও চিন্তাশীল মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ আমার দৃষ্টিকে আরও বিস্তৃত করেছে।
সেখান থেকেই কেউ কেউ আমাকে বলেন—‘লেখক কামাল’।
এই পরিচয়টিও আমার কাছে অত্যন্ত প্রিয়।
টেলিভিশনের পর্দায় আরেক কামাল
কলমের পাশাপাশি মাইক্রোফোনও আমার জীবনের সঙ্গী হয়েছে।
বাংলা টিভিসহ বিভিন্ন টেলিভিশনে দীর্ঘ বছর টকশো, ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন আলোচনামূলক অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছি।
‘সচিত্র চট্টগ্রাম’, ‘কিছু কথা কিছু গান’সহ নানা অনুষ্ঠানে উপস্থাপক হিসেবে কাজ করেছি।
ফলে অনেকের কাছে আমি ‘টেলিভিশন উপস্থাপক কামাল’।
একজন মানুষের জীবনে একই সঙ্গে সাংবাদিক, লেখক, সংগঠক, উদ্যোক্তা ও উপস্থাপক—এই বহুমাত্রিক পথচলা হয়তো সহজ ছিল না। কিন্তু আমি কখনো নিজেকে একটি পরিচয়ের মধ্যে আটকে রাখিনি।
বিশ্বভ্রমণ আমাকে দিয়েছে ‘পরিব্রাজক’ পরিচয়
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয়ে পড়াশোনা, অনুসন্ধান ও গবেষণার প্রয়োজনে এবং নিজের কৌতূহল থেকে পৃথিবীর অসংখ্য দেশ ভ্রমণ করেছি।
নতুন দেশ, নতুন মানুষ, নতুন সংস্কৃতি, নতুন সমাজব্যবস্থা—সবকিছু আমাকে শিখিয়েছে পৃথিবীকে একটু বড় করে দেখতে।
তাই কেউ আমাকে বলেন পর্যটক, কেউ বলেন পরিব্রাজক, কেউ বলেন গবেষক।
আমি সব পরিচয়কেই ভালোবাসি।
কারণ প্রতিটি পরিচয়ের পেছনে রয়েছে আমার জীবনের আলাদা একটি গল্প।
বক্তৃতার মঞ্চেও ছিল দীর্ঘ পথচলা
দেশ-বিদেশে শত শত সভা, সেমিনার, সম্মেলন ও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ হয়েছে।
কখনো নাগরিক অধিকার নিয়ে, কখনো চট্টগ্রামের উন্নয়ন নিয়ে, কখনো সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম নিয়ে, কখনো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলেছি।
অনেকে সেই কারণে আমাকে ‘সেরা বক্তা’ বলেছেন। বিভিন্ন সময়ে বক্তব্যের জন্য পুরস্কারও পেয়েছি।
কিন্তু আমি মনে করি, একজন বক্তার সবচেয়ে বড় পুরস্কার হলো—তার কথা শেষ হওয়ার পরও মানুষ যদি তার কথা মনে রাখে।
অভিযোগের তকমাও কম জোটেনি
জীবনের পথে সম্মানের পাশাপাশি অপবাদও পেয়েছি।
পুলিশের অনেক কর্মকর্তা ও সদস্যের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক থাকায় কেউ কেউ আমাকে ‘পুলিশের দালাল’ বলেছেন।
আবার অপরাধ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি কিংবা নানা অনিয়মের বিষয়ে কথা বলা ও লেখালেখির কারণে উল্টো কেউ কেউ আমাকে ‘মাফিয়া ডন’, ‘সন্ত্রাসীদের গডফাদার’ কিংবা ‘সন্ত্রাসীদের পীর’ বলেও অভিহিত করেছেন।
এই বৈপরীত্য আমাকে কখনো খুব বেশি বিচলিত করেনি।
কারণ মানুষের দেওয়া তকমা দিয়ে একজন মানুষের সম্পূর্ণ জীবনকে বিচার করা যায় না।
আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তার বিচার হোক তথ্য, প্রমাণ ও আইনের ভিত্তিতে। প্রশংসা যদি সত্য হয়, সেটিও থাকুক ইতিহাসের কাছে।
শেষ পর্যন্ত সব পরিচয়ের ওপরে—একজন মানুষ
আজ পেছনে ফিরে তাকালে দেখি—
কেউ আমাকে বেকারি কামাল বলেছেন,
কেউ সাংবাদিক কামাল,
কেউ লেখক কামাল,
কেউ উপস্থাপক কামাল,
কেউ গবেষক কামাল,
কেউ পরিব্রাজক কামাল,
কেউ চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের সংগঠক কামাল,
কেউ আবার দিয়েছেন আরও কঠিন ও বিতর্কিত কিছু তকমা।
কিন্তু এতসব নামের ভিড়ে আমার নিজের কাছে সবচেয়ে প্রিয় পরিচয়টি খুব সাধারণ—
আমি একজন মানুষ।
একজন মানুষ, যে স্বপ্ন দেখেছে।
ভুল করেছে।
ব্যর্থ হয়েছে।
আবার উঠে দাঁড়িয়েছে।
লাভ করেছে, লোকসানও করেছে।
প্রশংসা পেয়েছে, অপমানও সহ্য করেছে।
কলম ধরেছে, মাইক্রোফোন ধরেছে, রাজপথে দাঁড়িয়েছে, শিল্প করেছে, কৃষি করেছে, দেশ-বিদেশ ঘুরেছে, গবেষণা করেছে এবং সবচেয়ে বড় কথা—মানুষের সঙ্গে থেকেছে।
২০০৬ সালের এই ছবিটির দিকে তাকালে তাই শুধু একজন বক্তাকে দেখি না।
আমি দেখি আমার জীবনের একটি অধ্যায়কে।
দেখি সেই সময়ের উত্তাল বেকারি শিল্পের আন্দোলনকে। দেখি ঐক্যবদ্ধ উদ্যোক্তাদের মুখ। দেখি একটি স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার চেষ্টা। আর দেখি একজন মানুষকে—যে তখনও জানত না সামনে তার জীবনে আরও কত পরিচয় অপেক্ষা করছে।
আজও কেউ যদি আমাকে ‘বেকারি কামাল’ বলেন, আমি তাকে থামাব না।
বরং বলব—
ধন্যবাদ।
কারণ আমার জীবনের প্রায় ৭ কোটি টাকার লোকসান হয়তো আমার ব্যাংক হিসাবকে ছোট করেছে, কিন্তু বেকারি শিল্পের আন্দোলনে আমার ভূমিকার স্মৃতিকে ছোট করতে পারেনি।
আর ইতিহাসের কাছে সেটিই আমার সবচেয়ে বড় লাভ।
‘নাম বদলেছে বহুবার, পরিচয় হয়েছে অনেক; কিন্তু আমার সবচেয়ে বড় পরিচয়—আমি একজন মানুষ, আর আমার জীবনের প্রতিটি পরিচয়ের পেছনে রয়েছে সংগ্রামের একটি করে গল্প।’

এন.ই.এইচ.আর.এফ এর চট্টগ্রাম জেলা কমিটি পূর্ণগঠন: লায়ন ফারুক সভাপতি, মমিনুল হক সাধারণ সম্পাদক

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:
পরিবেশ ও মানবাধিকার রক্ষায় নিয়োজিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার নিবন্ধিত (নিবন্ধন নং: সি.এইচ.এস-৫৮৫) অন্যতম সংগঠন ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্ট এন্ড হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন (এন.ই.এইচ.আর.এফ) এর চট্টগ্রাম জেলা কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। ২০২৬-২০২৯ মেয়াদের জন্য নব-গঠিত এই পূর্ণাঙ্গ কমিটির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কমিটি অনুমোদন উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ আবদুল আজিজ। নব-গঠিত এই কমিটিতে লায়ন মোহাম্মদ ফারুক আহাম্মদ-কে সভাপতি এবং মমিনুল হক খোকন-কে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে। এছাড়া লায়ন মোঃ জাহাঙ্গীর আলম-কে সাংগঠনিক সম্পাদকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে নব-নির্বাচিত সাংগঠনিক সম্পাদক লায়ন মোঃ জাহাঙ্গীর আলম তার বক্তব্যে বলেন, আমাদের এই সংগঠনটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধিত একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠন। বিগত দিনগুলোতে চট্টগ্রামের পরিবেশ রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের মানবাধিকার নিশ্চিতকরণে ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্ট এন্ড হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও দৃশ্যমান ভূমিকা পালন করেছে। তিনি চট্টগ্রামের মাটিতে সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও বেগবান ও সাংগঠনিক ভিতকে শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একই সাথে জেলা কমিটির সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল ও সফল করার লক্ষ্যে কমিটির সকল নেতৃবৃন্দ এবং চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনসাধারণের আন্তরিক সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ আবদুল আজিজ বলেন, চট্টগ্রাম জেলায় পরিবেশ রক্ষা এবং মানবাধিকার বাস্তবায়নে নতুন এই কমিটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে গঠিত এই গতিশীল কমিটি সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে আরও বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। নব-নির্বাচিত সভাপতি লায়ন মোহাম্মদ ফারুক আহাম্মদ ও সাধারণ সম্পাদক মমিনুল হক খোকন তাদের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জানান, চট্টগ্রাম জেলার পরিবেশগত বিপর্যয় রোধ এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক মানবাধিকার রক্ষায় তারা টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাবেন। তারা সংগঠনের এই নতুন দায়িত্ব পাওয়ায় প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

গল্পের ভুবনে চট্টগ্রামের নারী’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রামের নারী কথাসাহিত্যিকদের সৃজনশীল অবদান ও বাংলা গল্পের জগতে তাদের ভূমিকা নিয়ে ‘গল্পের ভুবনে চট্টগ্রামের নারী’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় নগরীর নন্দনকানন এলাকার ফুলকি মিলনায়তনে ‘গল্পকার’ ফোরাম চট্টগ্রামের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কথাসাহিত্যিক ও বাংলাভাষার একমাত্র গল্পবিষয়ক মাসিক পত্রিকা ‘গল্পকার’-এর সম্পাদক মুহাম্মদ মহিউদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট কথাশিল্পী ও ‘গল্পকার’ ফোরাম চট্টগ্রামের সভাপতি আনোয়ারা আলম। আলোচনায় অংশ নেন কথাশিল্পী মোহীত উল আলম, কথাশিল্পী বিশ্বজিৎ চৌধুরী, গবেষক উদিতি দাশ, কথাশিল্পী তহুরীন সবুর ডালিয়া এবং কথাশিল্পী মহি মুহাম্মদ। বক্তারা চট্টগ্রামের নারী কথাসাহিত্যিকদের সাহিত্যচর্চা, সৃজনশীলতা এবং বাংলা গল্পের জগতে তাদের অবদান ও অবস্থান নিয়ে আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে নির্বাচিত গল্পকার হিসেবে বিচিত্রা সেন, রুনা তাসমিনা, মোহছেনা ঝর্ণা, সাজিয়া আফরিন ও নুরনাহার নিপার গল্প নিয়ে আলোচনা করা হয়। তাদের গল্পের বিষয়বস্তু, সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্য ও সৃজনশীলতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন আলোচকরা। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ সম্মাননা জানানো হয় এলিজাবেথ আরিফা মুবাশ্‌শিরাকে। ‘গল্পকার’ ফোরাম চট্টগ্রামের ট্রেজারার ও কথাসাহিত্যিক সুবাস সর্ববিদ্যা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। আলোচনা পর্বের পাশাপাশি ছিল সংগীত পরিবেশনা। এতে অতিথি ও শ্রোতারা অংশ নেন। আয়োজনের ব্যবস্থাপনা ও আলোচনার মান নিয়ে উপস্থিত অতিথি ও শ্রোতারা সন্তোষ প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে ‘গল্পকার’ ফোরাম চট্টগ্রামের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতেও সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বারের সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

0

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিএমসিসিআই) প্রতিনিধি দল। গতকাল সচিবালয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সিএমসিসিআই সভাপতি খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিএমসিসিআইয়ের সহসভাপতি এ.এম. মাহবুব চৌধুরী, জসিম উদ্দীন চৌধুরী, মোহাম্মদ আবদুস সালাম, পরিচালক প্রফেসর জাহাঙ্গীর চৌধুরী, অজিত কুমার দাশ, মোহাম্মদ শাহ্ আলম, শিপিং অ্যান্ড পোর্ট বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফউল্লাহ মনসুর এবং আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান মো. মাহফুজুর রহমান। সাক্ষাতে সিএমসিসিআই নেতৃবৃন্দ আগামী নভেম্বর মাসে রেলওয়ে পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও রপ্তানি মেলা–২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান। মন্ত্রী সুবিধাজনক সময়ে মেলায় উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করবেন বলে প্রতিনিধি দলকে আশ্বস্ত করেন। এদিকে, কিছু শিপিং এজেন্ট কর্তৃক প্রয়োজনীয় ব্যাংক ডকুমেন্ট ছাড়া পণ্য হস্তান্তরের বিষয়টিও মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন ব্যবসায়ী নেতারা। তাদের দাবি, এ ধরনের কার্যক্রমের কারণে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে শিপিং আইন ও ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার আইনে জরুরি সংশোধনের প্রস্তাব দেন সিএমসিসিআই নেতৃবৃন্দ। ব্যবসায়ী নেতাদের বক্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে শুনে মন্ত্রী আশ্বস্ত করেন, বিদ্যমান আইন সংশোধনের মাধ্যমে বেআইনিভাবে পণ্য হস্তান্তরের সঙ্গে জড়িত শিপিং লাইন ও ফ্রেইট ফরওয়ার্ডারদের আইনের আওতায় আনতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। সাক্ষাতে চট্টগ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বন্দরকেন্দ্রিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।

সাতক্ষীরায় সাংবাদিক হাবিবুরের ওপর হামলার অভিযোগ: রাষ্ট্র কি নীরব থাকবে? সাতক্ষীরায় সাংবাদিক হাবিবুরের ওপর হামলার অভিযোগ সংবাদ প্রকাশের জেরে পথরোধ, মারধর ও হত্যার হুমকি–রাষ্ট্র কি এবার টনক নড়াবে?

-মো.কামাল উদ্দিনঃ
সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর প্রশ্ন; ‘কলম থামাতে’ পেশিশক্তির অভিযোগে উদ্বেগ
সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত দৈনিক সাতনদীর সম্পাদক ও প্রকাশক সাংবাদিক হাবিবুর রহমানের ওপর হামলা, মারধর, হত্যার হুমকি এবং অপহরণ-গুমের ভয় দেখানোর অভিযোগে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে সাংবাদিক মহলে। সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে একজন সম্পাদককে প্রকাশ্য স্থানে পথরোধ এবং পরবর্তীতে তার কর্মস্থলের বাইরে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কক্ষে গিয়ে মারধরের অভিযোগ সত্য হলে, তা শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা নয়—এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।
সাংবাদিক হাবিবুর রহমানের অভিযোগ, তার পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সংবাদকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট একজনের আত্মীয় হাফিজসহ কয়েকজন ব্যক্তি তাকে বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দুপুরে সাতক্ষীরা পৌরসভা এলাকায় তার পথরোধ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরে পৌরসভার ১১৪ নম্বর কক্ষে অবস্থানকালে অভিযুক্তরা সেখানে প্রবেশ করে তাকে গালিগালাজ ও মারধর করেন। এ সময় তাকে ঘুষি মেরে আহত করা, ঘাড়ে আঘাত করা, গলা চেপে শ্বাসরোধের চেষ্টা এবং বুকে আঘাত করার অভিযোগও করেছেন তিনি। আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে আহত করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
ঘটনার সময় পৌরসভার কর্মচারীসহ কয়েকজন ব্যক্তি এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। পরে আহত অবস্থায় তিনি সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—অভিযোগে ভবিষ্যতে মামলা বা সংবাদ প্রকাশ করলে তাকে খুন, জখম, অপহরণ ও গুম করার হুমকি দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রশ্ন এখন একটাই—সাংবাদিক কি সংবাদ প্রকাশ করবেন, নাকি জীবন বাঁচাবেন?
এটি কোনো সাধারণ বিরোধের প্রশ্ন নয়।
একজন সাংবাদিক সংবাদ প্রকাশ করলেন। সংবাদটি কারও পছন্দ হলো না। তার জবাব কী হবে?
প্রতিবাদলিপি।
তথ্য-প্রমাণ।
আইনি নোটিশ।
আদালতের আশ্রয়।
এগুলোই সভ্য রাষ্ট্রের পথ।
কিন্তু যদি সংবাদ প্রকাশের জবাব হয় পথরোধ, হামলা, রক্তাক্ত করা, শ্বাসরোধের চেষ্টা কিংবা হত্যার হুমকি, তাহলে রাষ্ট্রের আইন কোথায়?
সাংবাদিক যদি প্রতিটি সংবাদ প্রকাশের আগে ভাবতে বাধ্য হন—‘এই সংবাদ ছাপলে আমাকে কে মারবে?’, ‘আমাকে অপহরণ করবে কি না?’, ‘আমার পরিবার নিরাপদ থাকবে তো?’—তাহলে সেটি শুধু একজন সাংবাদিকের ভয় নয়; সেটি পুরো গণমাধ্যমের জন্য ভয়াবহ সংকেত।
রাষ্ট্রের নীরবতা কি হামলাকারীদের সাহসী করে তুলবে?
রাষ্ট্রের কাছে আজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি এখানেই।
একজন সাংবাদিকের অভিযোগ যদি তদন্তের আগেই গুরুত্বহীন হয়ে যায়, তাহলে আগামী দিনে সাংবাদিকরা নিরাপত্তার জন্য কার কাছে যাবেন?
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে দুর্বৃত্তদের কাছে একটি বিপজ্জনক বার্তা পৌঁছে যায়—হুমকি দাও, ভয় দেখাও, হামলা করো; হয়তো শেষ পর্যন্ত কিছুই হবে না।
এই সংস্কৃতি কোনোভাবেই প্রতিষ্ঠিত হতে দেওয়া যায় না।
আমরা কাউকে তদন্তের আগে অপরাধী বলছি না। কিন্তু একই সঙ্গে অভিযোগের গুরুত্ব কমিয়ে দেখারও সুযোগ নেই।
কারণ অভিযোগটি একজন সাধারণ নাগরিকের বিরুদ্ধে নয়; একজন কর্মরত সম্পাদক ও প্রকাশকের বিরুদ্ধে নয়—বরং একজন সাংবাদিক তার পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় নিরাপত্তাহীনতার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
সাংবাদিকের কলম থামানোর চেষ্টা হলে প্রতিটি কলম জেগে উঠবে
দি টুরিস্ট মনে করে, সংবাদমাধ্যমকে ভয় দেখিয়ে নিয়ন্ত্রণ করার দিন শেষ হওয়া উচিত।
কোনো সংবাদ ভুল হলে সংশোধন হবে।
তথ্য ভুল হলে সংশোধন হবে।
অভিযোগের ভিত্তি দুর্বল হলে তা খণ্ডন হবে।
কিন্তু হামলা কখনো সাংবাদিকতার জবাব হতে পারে না।
আজ হাবিবুর রহমান। কাল অন্য কেউ। এরপর হয়তো আরও অনেক সাংবাদিক।
একটি সমাজে সাংবাদিকের স্বাধীনতা সংকুচিত হলে প্রথমে সংবাদ কমে যায়, পরে প্রশ্ন কমে যায়, তারপর জবাবদিহি কমে যায়—আর শেষ পর্যন্ত অন্ধকারে বেড়ে ওঠে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপরাধ।
প্রশাসনের কাছে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই
আমরা সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ, জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অবিলম্বে দাবি জানাচ্ছি—
1. অভিযোগের নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত করতে হবে।
2. ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও যাচাই করতে হবে।
3. প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য গ্রহণ করতে হবে।
4. আহত সাংবাদিকের চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি পরীক্ষা করতে হবে।
5. অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্ত করতে হবে।
6. হুমকির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সাংবাদিক ও তার পরিবারের নিরাপত্তা মূল্যায়ন করতে হবে।
7. অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে কোনো রাজনৈতিক, সামাজিক বা প্রভাবশালী পরিচয়ের তোয়াক্কা না করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
এটি কারও প্রতি অনুগ্রহ নয়।
এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
প্রধান রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি প্রশ্ন
আজ রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের কাছেও আমাদের প্রশ্ন রাখতে হয়—
একজন সাংবাদিক যদি পৌরসভার মতো একটি প্রকাশ্য সরকারি স্থানে নিরাপদ না থাকেন, তাহলে সাধারণ নাগরিক কতটা নিরাপদ?
একজন সম্পাদক যদি প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে আপত্তির কারণে হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন, তাহলে আগামী দিনে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা কীভাবে টিকে থাকবে?
আর সাংবাদিক যদি নিজের নিরাপত্তার জন্য কলম থামিয়ে দেন, তাহলে জনগণের সামনে সত্য তুলে ধরবে কে?
রাষ্ট্রের দায়িত্ব শুধু অপরাধ সংঘটনের পর মামলা করা নয়। হুমকিকে গুরুত্ব দিয়ে সম্ভাব্য অপরাধ প্রতিরোধ করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
দি টুরিস্টের অবস্থান স্পষ্ট
দি টুরিস্ট কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা পক্ষের অন্ধ সমর্থনে নয়; আমরা দাঁড়াই সত্য, ন্যায়, আইনের শাসন ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পক্ষে।
সাংবাদিক হাবিবুর রহমানের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। তিনি যদি আক্রান্ত হয়ে থাকেন, তার ন্যায়বিচার চাই। আর অভিযোগের কোনো অংশ অসত্য হলে সেটিও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হোক।
আমরা বিচার চাই—প্রতিশোধ নয়।
আমরা আইন চাই—পেশিশক্তি নয়।
আমরা তথ্য চাই—গুজব নয়।
আমরা জবাবদিহি চাই—নীরবতা নয়।
সাংবাদিক সমাজের প্রতি আহ্বান
একজন সাংবাদিক আক্রান্ত হলে সেটিকে শুধু তার নিজের সংবাদপত্রের সমস্যা হিসেবে দেখার সময় শেষ।
আজ যদি একজন সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগে আমরা নীরব থাকি, কাল সেই নীরবতা আমাদের নিজেদের দরজায় ফিরে আসতে পারে।
তাই সাংবাদিক সমাজকে দায়িত্বশীল ও ঐক্যবদ্ধভাবে বলতে হবে—
সংবাদ নিয়ে বিতর্ক হোক, কিন্তু সাংবাদিকের ওপর হামলা নয়।
প্রতিবাদ হোক, কিন্তু হুমকি নয়।
আইনি লড়াই হোক, কিন্তু সন্ত্রাস নয়।
শেষ কথা
সাতক্ষীরার এই অভিযোগের তদন্ত এখন শুধু একটি মামলার বিষয় নয়—এটি রাষ্ট্রের সক্ষমতা, আইনশৃঙ্খলার নিরপেক্ষতা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সদিচ্ছার পরীক্ষাও।
রাষ্ট্র যদি সত্যিই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং নাগরিকের অধিকারকে গুরুত্ব দেয়, তাহলে এই অভিযোগের তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি জনগণকে দেখতে হবে।
কারণ একটি রাষ্ট্রের শক্তি তখনই প্রমাণিত হয়, যখন সে দুর্বলকে নিরাপত্তা দিতে পারে এবং ক্ষমতাবানকেও আইনের সামনে দাঁড় করাতে পারে।
আমাদের অবস্থান পরিষ্কার—
সাংবাদিকের কলমে আঘাত মানে গণতন্ত্রের দরজায় আঘাত।
হুমকির কাছে সাংবাদিকতা মাথা নত করবে না।
রাষ্ট্রকে নীরব দর্শক নয়—আইনের নিরপেক্ষ অভিভাবকের ভূমিকায় দেখতে চায় গণমাধ্যম।
সাংবাদিক হাবিবুর রহমানের অভিযোগের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত এবং প্রমাণ সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছে দি টুরিস্ট।