তখন এস আলমের নাম নেওয়াই ছিল অপরাধ—আজ ফেসবুকের স্মৃতিতে ফিরে এলো আমার সেই সাহসী লেখা এস আলম গ্রুপকে বাঁচানোর সেই আর্তনাদ, চট্টগ্রামের শিল্প-অর্থনীতি ও আমার বিবেকের দায়-
মরুর বুকে ভ্রমণের গল্প, শব্দে শব্দে জীবনের মুগ্ধতা
লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং ইউনাইটেড স্টারস এবং লিও ক্লাব অব চিটাগং ইউনাইটেড স্টারস এর জমকালো আয়োজনে চার্জ হস্তান্তর-গ্রহণ ও চার্টার সেলিব্রেশন
সেবার অঙ্গীকার, নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা ও মানবকল্যাণের প্রত্যয়কে সামনে রেখে জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং ইউনাইটেড স্টারস ও লিও ক্লাব অব চিটাগং ইউনাইটেড স্টারস এর চার্জ হস্তান্তর-গ্রহণ, কাউন্সিল চেয়ারপার্সন ও ডিজি টিম রিসেপশন এবং চার্টার সেলিব্রেশন। নগরীর সিএলএফের হালিমা রোকেয়া মেমোরিয়াল হলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে লায়ন্স ও লিও ক্লাবের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ, ক্লাব নেতারা, বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এবং সদস্যরা অংশ নেন। বর্ণাঢ্য এ আয়োজন ঘিরে লায়ন্স-লিও ক্লাব পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাল্টিপল ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫-এর সম্মানিত কাউন্সিল চেয়ারপার্সন এবং ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫-বি৪-এর আইপিডিজি লায়ন মোঃ মোসলেহউদ্দিন আহমেদ অপু পিএমজেএফ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫-বি৪-এর গর্ব ও ‘কমিটমেন্ট কল’-এর প্রবক্তা লায়ন মোঃ কামরুজ্জামান লিটন এমজেএফ। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫-বি৪-এর ১ম ভাইস জেলা গভর্নর লায়ন মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিকী পিএমজেএফ, ২য় ভাইস জেলা গভর্নর লায়ন পারভীন মাহমুদ এফসিএ পিএমজেএফ এবং কেবিনেট সেক্রেটারি লায়ন মোঃ বেলাল উদ্দিন চৌধুরী এমজেএফ। অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে উপস্থিত ছিলেন লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং ইউনাইটেড স্টারসের চার্টার সেবা বর্ষ (২০২৩-২৪)-এর গভর্নর ও বর্তমান পিডিজি লায়ন এম ডি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী পিএমজেএফ। তাঁর উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে এবং ক্লাব নেতৃবৃন্দ ও সদস্যদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করে। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জিএলটি ডিস্ট্রিক্ট কো-অর্ডিনেটর লায়ন মোঃ মুসা এমজেএফ, জিএসটি ডিস্ট্রিক্ট কো-অর্ডিনেটর লায়ন মোঃ হেলাল উদ্দিন আহমেদ এলসিআইএফ কোর্ডিনেটর লায়ন এডভোকেট নুরুল ইসলাম সহ ডিজি অ্যাসাইনমেন্টের নেতৃবৃন্দ, সিনিয়র গভর্নর অ্যাডভাইজর, গভর্নর অ্যাডভাইজর, আরসি হেডকোয়ার্টার, আরসি অ্যাডমিন, রিজিয়ন-১, রিজিয়ন ও জোন কনসার্ন, লিও ক্লাব চেয়ারম্যান, লিও ইয়ুথ এক্সচেঞ্জ, লিও ডিস্ট্রিক্ট প্রেসিডেন্ট এবং লিও ডিস্ট্রিক্ট টিমের নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানের দুই পর্বে সভাপতিত্ব করেন লায়ন মোঃ মনির হোসেন পাটোয়ারী ও লায়ন মোঃ নুরুল আলম। এ সময় লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং ইউনাইটেড স্টারসের সদস্যদের মধ্যে লায়ন আহমেদ নুর, লায়ন ফোরকান উদ্দিন, লায়ন স্বপ্না আক্তার, লায়ন জসিম উদ্দিন, লায়ন নিজাম উদ্দিন, লায়ন ফরহাদুল হাসান মোস্তফা, লায়ন ইব্রাহিম বাপ্পি, লায়ন মোঃ ফারুক, লায়ন নাসির উদ্দিন, লায়ন ডা. দিদার হোসেন, লায়ন সাইফুর রহমান, লায়ন খালেদা আক্তার পিংকি, লায়ন খালেদা আফরোজ, লায়ন আশ্রাফুল আলম ভূঁইয়া, লায়ন রানী আক্তার, লায়ন রেশমা রহমান, লায়ন সৈয়দ ইয়াছিন, কাজী নিজাম উদ্দিন, লায়ন মোঃ সেলিম ও লায়ন অসিম কুমারসহ নবাগত লায়নবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি লিও ক্লাব অব চিটাগং ইউনাইটেড স্টারসের লিও রাহুল দাস, লিও রাহাতসহ ক্লাবের বিভিন্ন পর্যায়ের লিও নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মানবসেবাই লায়ন্স আন্দোলনের মূল লক্ষ্য। সমাজের কম সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫-বি৪-এর বিভিন্ন ক্লাব যে ভূমিকা রেখে চলেছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বিশেষ করে লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং ইউনাইটেড স্টারস এর বিভিন্ন সেবামূলক ও মানবিক কার্যক্রমের প্রশংসা করে বক্তারা বলেন, নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ভবিষ্যতে সেবার পরিধি আরও বিস্তৃত করতে হবে। তারা আরও বলেন, নেতৃত্ব পরিবর্তন মানেই দায়িত্বের পরিবর্তন নয়; বরং নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে মানবসেবার কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও বিস্তৃত করার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়। লায়ন্স ও লিও সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের কল্যাণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান বক্তারা। চার্জ হস্তান্তর-গ্রহণের মধ্য দিয়ে নতুন নেতৃত্বকে দায়িত্ব অর্পণ এবং পুরোনো নেতৃত্বের কার্যক্রমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে লায়ন্স ও লিওদের মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। লায়ন্স ও লিও পরিবারের সদস্যদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ এবং আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে বর্ণাঢ্য এ আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
ভেনিসে অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর হামলা, ভিডিও বিশ্লেষণে শনাক্ত কয়েকজন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বিশ্লেষণ করে ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনায় জড়িত কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, বাঁধনের দিকে বারবার পানি ছুড়ে মারছেন একজন। কেউ তাকে শাসাচ্ছেন, কেউ হামলার দৃশ্য ধারণ করছেন, আবার কেউ শারীরিকভাবে আঘাত করার চেষ্টা করছেন।
ঘটনার পর ভেনিসে মামলা দায়ের করেছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন।
ঘটনার একটি ভিডিওতে হামলাকারীদের বলতে শোনা যায়—
‘এই যে জুলাই জঙ্গি, ওরা দেশটাকে ধ্বংস করেছে। আমরা ইতালির ছাত্রলীগ।’
পরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া ভিডিও বার্তায় বাঁধন তার ওপর হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ঘটনার সময় মনিরুল হাওলাদার নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভ করা হয়। সেই লাইভের ক্যাপশনে লেখা ছিল—
‘জুলাই জঙ্গি আজমেরী হক বাঁধনকে আমরা উত্তম মাধ্যম দিয়েছি ভেনিসে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ইতালি শাখা।’
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মনিরুল হাওলাদারের বাড়ি মাদারীপুরে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও তার স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি ছাত্রলীগের একটি ইউনিয়ন শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
দুই হাজার চব্বিশ সালের পাঁচ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ছাড়েন মনিরুল। প্রথমে লিবিয়া এবং পরে ইতালিতে যান তিনি।
ভিডিওতে বাঁধনের দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বারবার পানি ছুড়ে দিতে দেখা যায় শরীয়তপুরের শিপল মাহমুদ বিপ্লবকে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে ভেনিস আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও জানা গেছে।
ভিডিওতে বাঁধনের দিকে এগিয়ে গিয়ে থাপ্পড় দেওয়ার চেষ্টা করা ব্যক্তির পরিচয়ও পাওয়া গেছে। তিনি ইলিয়াস মিয়া। তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া বিভিন্ন ছবি ও পোস্টে ইতালির ভেনিস শাখা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও ইলিয়াস মিয়াকে দেখা গেছে।
ভিডিওতে বাঁধনের আশপাশে থাকা এবং তাকে একাধিকবার শাসাতে দেখা যায় আরও কয়েকজনকে। তাদের মধ্যে একজন আলতাফ পাহাড়।
তার বাড়ি শরীয়তপুরে। স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তিনিও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে ইতালির ভেনিসে যুবলীগের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।
তবে ভিডিও বিশ্লেষণ করে যাদের শনাক্ত করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
অভিনেত্রী বাঁধনের দায়ের করা মামলায় হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
বিদেশের মাটিতে একজন বাংলাদেশি অভিনেত্রীর ওপর প্রকাশ্যে হামলার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া।
ঘটনার ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্টদের রাজনৈতিক পরিচয়—সবকিছুই এখন তদন্তের আওতায় আসার দাবি উঠেছে।
আরও এক কারাবন্দীর মৃত্যু ঢাকা মেডিকেলে, দুই দিনে মারা গেলেন ৪ জন
কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনার পর আরও এক কারাবন্দীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত দুই দিনে ঢামেক হাসপাতালে চার কারাবন্দীর মৃত্যু হলো। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে অসুস্থ অবস্থায় আলী আকবর মণ্ডল (৬৭) নামে ওই বন্দীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। আলী আকবর মণ্ডলের গ্রামের বাড়ি মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বাবুখালী এলাকায়। তবে তিনি কোন মামলায় কারাবন্দী ছিলেন, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। এর আগে রোববার সকাল ৭টা ২৫ মিনিট থেকে ৯টা ৫ মিনিটের মধ্যে প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিন কারাবন্দীর মৃত্যু হয়। তাঁরা হলেন—আবুল বাশার (৫৮), আবদুল কাইয়ম (৬২) ও মো. শাহাদত হোসেন লিটন (৫২)। তাঁদেরও ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানান, আলী আকবর মণ্ডলের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। দুই দিনে চার কারাবন্দীর মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল ও কারা কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বেকারি কামাল’—একটি নামের ভেতরে তিন যুগের সংগ্রাম, সাফল্য, ব্যর্থতা ও মানুষের গল্প
এন.ই.এইচ.আর.এফ এর চট্টগ্রাম জেলা কমিটি পূর্ণগঠন: লায়ন ফারুক সভাপতি, মমিনুল হক সাধারণ সম্পাদক
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:
পরিবেশ ও মানবাধিকার রক্ষায় নিয়োজিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার নিবন্ধিত (নিবন্ধন নং: সি.এইচ.এস-৫৮৫) অন্যতম সংগঠন ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্ট এন্ড হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন (এন.ই.এইচ.আর.এফ) এর চট্টগ্রাম জেলা কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। ২০২৬-২০২৯ মেয়াদের জন্য নব-গঠিত এই পূর্ণাঙ্গ কমিটির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কমিটি অনুমোদন উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ আবদুল আজিজ। নব-গঠিত এই কমিটিতে লায়ন মোহাম্মদ ফারুক আহাম্মদ-কে সভাপতি এবং মমিনুল হক খোকন-কে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে। এছাড়া লায়ন মোঃ জাহাঙ্গীর আলম-কে সাংগঠনিক সম্পাদকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে নব-নির্বাচিত সাংগঠনিক সম্পাদক লায়ন মোঃ জাহাঙ্গীর আলম তার বক্তব্যে বলেন, আমাদের এই সংগঠনটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধিত একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠন। বিগত দিনগুলোতে চট্টগ্রামের পরিবেশ রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের মানবাধিকার নিশ্চিতকরণে ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্ট এন্ড হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও দৃশ্যমান ভূমিকা পালন করেছে। তিনি চট্টগ্রামের মাটিতে সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও বেগবান ও সাংগঠনিক ভিতকে শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একই সাথে জেলা কমিটির সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল ও সফল করার লক্ষ্যে কমিটির সকল নেতৃবৃন্দ এবং চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনসাধারণের আন্তরিক সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ আবদুল আজিজ বলেন, চট্টগ্রাম জেলায় পরিবেশ রক্ষা এবং মানবাধিকার বাস্তবায়নে নতুন এই কমিটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে গঠিত এই গতিশীল কমিটি সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে আরও বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। নব-নির্বাচিত সভাপতি লায়ন মোহাম্মদ ফারুক আহাম্মদ ও সাধারণ সম্পাদক মমিনুল হক খোকন তাদের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জানান, চট্টগ্রাম জেলার পরিবেশগত বিপর্যয় রোধ এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক মানবাধিকার রক্ষায় তারা টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাবেন। তারা সংগঠনের এই নতুন দায়িত্ব পাওয়ায় প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সাতক্ষীরায় সাংবাদিক হাবিবুরের ওপর হামলার অভিযোগ: রাষ্ট্র কি নীরব থাকবে? সাতক্ষীরায় সাংবাদিক হাবিবুরের ওপর হামলার অভিযোগ সংবাদ প্রকাশের জেরে পথরোধ, মারধর ও হত্যার হুমকি–রাষ্ট্র কি এবার টনক নড়াবে?
-মো.কামাল উদ্দিনঃ
সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর প্রশ্ন; ‘কলম থামাতে’ পেশিশক্তির অভিযোগে উদ্বেগ
সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত দৈনিক সাতনদীর সম্পাদক ও প্রকাশক সাংবাদিক হাবিবুর রহমানের ওপর হামলা, মারধর, হত্যার হুমকি এবং অপহরণ-গুমের ভয় দেখানোর অভিযোগে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে সাংবাদিক মহলে। সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে একজন সম্পাদককে প্রকাশ্য স্থানে পথরোধ এবং পরবর্তীতে তার কর্মস্থলের বাইরে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কক্ষে গিয়ে মারধরের অভিযোগ সত্য হলে, তা শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা নয়—এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।
সাংবাদিক হাবিবুর রহমানের অভিযোগ, তার পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সংবাদকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট একজনের আত্মীয় হাফিজসহ কয়েকজন ব্যক্তি তাকে বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দুপুরে সাতক্ষীরা পৌরসভা এলাকায় তার পথরোধ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরে পৌরসভার ১১৪ নম্বর কক্ষে অবস্থানকালে অভিযুক্তরা সেখানে প্রবেশ করে তাকে গালিগালাজ ও মারধর করেন। এ সময় তাকে ঘুষি মেরে আহত করা, ঘাড়ে আঘাত করা, গলা চেপে শ্বাসরোধের চেষ্টা এবং বুকে আঘাত করার অভিযোগও করেছেন তিনি। আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে আহত করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
ঘটনার সময় পৌরসভার কর্মচারীসহ কয়েকজন ব্যক্তি এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। পরে আহত অবস্থায় তিনি সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—অভিযোগে ভবিষ্যতে মামলা বা সংবাদ প্রকাশ করলে তাকে খুন, জখম, অপহরণ ও গুম করার হুমকি দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রশ্ন এখন একটাই—সাংবাদিক কি সংবাদ প্রকাশ করবেন, নাকি জীবন বাঁচাবেন?
এটি কোনো সাধারণ বিরোধের প্রশ্ন নয়।
একজন সাংবাদিক সংবাদ প্রকাশ করলেন। সংবাদটি কারও পছন্দ হলো না। তার জবাব কী হবে?
প্রতিবাদলিপি।
তথ্য-প্রমাণ।
আইনি নোটিশ।
আদালতের আশ্রয়।
এগুলোই সভ্য রাষ্ট্রের পথ।
কিন্তু যদি সংবাদ প্রকাশের জবাব হয় পথরোধ, হামলা, রক্তাক্ত করা, শ্বাসরোধের চেষ্টা কিংবা হত্যার হুমকি, তাহলে রাষ্ট্রের আইন কোথায়?
সাংবাদিক যদি প্রতিটি সংবাদ প্রকাশের আগে ভাবতে বাধ্য হন—‘এই সংবাদ ছাপলে আমাকে কে মারবে?’, ‘আমাকে অপহরণ করবে কি না?’, ‘আমার পরিবার নিরাপদ থাকবে তো?’—তাহলে সেটি শুধু একজন সাংবাদিকের ভয় নয়; সেটি পুরো গণমাধ্যমের জন্য ভয়াবহ সংকেত।
রাষ্ট্রের নীরবতা কি হামলাকারীদের সাহসী করে তুলবে?
রাষ্ট্রের কাছে আজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি এখানেই।
একজন সাংবাদিকের অভিযোগ যদি তদন্তের আগেই গুরুত্বহীন হয়ে যায়, তাহলে আগামী দিনে সাংবাদিকরা নিরাপত্তার জন্য কার কাছে যাবেন?
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে দুর্বৃত্তদের কাছে একটি বিপজ্জনক বার্তা পৌঁছে যায়—হুমকি দাও, ভয় দেখাও, হামলা করো; হয়তো শেষ পর্যন্ত কিছুই হবে না।
এই সংস্কৃতি কোনোভাবেই প্রতিষ্ঠিত হতে দেওয়া যায় না।
আমরা কাউকে তদন্তের আগে অপরাধী বলছি না। কিন্তু একই সঙ্গে অভিযোগের গুরুত্ব কমিয়ে দেখারও সুযোগ নেই।
কারণ অভিযোগটি একজন সাধারণ নাগরিকের বিরুদ্ধে নয়; একজন কর্মরত সম্পাদক ও প্রকাশকের বিরুদ্ধে নয়—বরং একজন সাংবাদিক তার পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় নিরাপত্তাহীনতার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
সাংবাদিকের কলম থামানোর চেষ্টা হলে প্রতিটি কলম জেগে উঠবে
দি টুরিস্ট মনে করে, সংবাদমাধ্যমকে ভয় দেখিয়ে নিয়ন্ত্রণ করার দিন শেষ হওয়া উচিত।
কোনো সংবাদ ভুল হলে সংশোধন হবে।
তথ্য ভুল হলে সংশোধন হবে।
অভিযোগের ভিত্তি দুর্বল হলে তা খণ্ডন হবে।
কিন্তু হামলা কখনো সাংবাদিকতার জবাব হতে পারে না।
আজ হাবিবুর রহমান। কাল অন্য কেউ। এরপর হয়তো আরও অনেক সাংবাদিক।
একটি সমাজে সাংবাদিকের স্বাধীনতা সংকুচিত হলে প্রথমে সংবাদ কমে যায়, পরে প্রশ্ন কমে যায়, তারপর জবাবদিহি কমে যায়—আর শেষ পর্যন্ত অন্ধকারে বেড়ে ওঠে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপরাধ।
প্রশাসনের কাছে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই
আমরা সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ, জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অবিলম্বে দাবি জানাচ্ছি—
1. অভিযোগের নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত করতে হবে।
2. ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও যাচাই করতে হবে।
3. প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য গ্রহণ করতে হবে।
4. আহত সাংবাদিকের চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি পরীক্ষা করতে হবে।
5. অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্ত করতে হবে।
6. হুমকির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সাংবাদিক ও তার পরিবারের নিরাপত্তা মূল্যায়ন করতে হবে।
7. অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে কোনো রাজনৈতিক, সামাজিক বা প্রভাবশালী পরিচয়ের তোয়াক্কা না করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
এটি কারও প্রতি অনুগ্রহ নয়।
এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
প্রধান রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি প্রশ্ন
আজ রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের কাছেও আমাদের প্রশ্ন রাখতে হয়—
একজন সাংবাদিক যদি পৌরসভার মতো একটি প্রকাশ্য সরকারি স্থানে নিরাপদ না থাকেন, তাহলে সাধারণ নাগরিক কতটা নিরাপদ?
একজন সম্পাদক যদি প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে আপত্তির কারণে হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন, তাহলে আগামী দিনে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা কীভাবে টিকে থাকবে?
আর সাংবাদিক যদি নিজের নিরাপত্তার জন্য কলম থামিয়ে দেন, তাহলে জনগণের সামনে সত্য তুলে ধরবে কে?
রাষ্ট্রের দায়িত্ব শুধু অপরাধ সংঘটনের পর মামলা করা নয়। হুমকিকে গুরুত্ব দিয়ে সম্ভাব্য অপরাধ প্রতিরোধ করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
দি টুরিস্টের অবস্থান স্পষ্ট
দি টুরিস্ট কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা পক্ষের অন্ধ সমর্থনে নয়; আমরা দাঁড়াই সত্য, ন্যায়, আইনের শাসন ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পক্ষে।
সাংবাদিক হাবিবুর রহমানের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। তিনি যদি আক্রান্ত হয়ে থাকেন, তার ন্যায়বিচার চাই। আর অভিযোগের কোনো অংশ অসত্য হলে সেটিও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হোক।
আমরা বিচার চাই—প্রতিশোধ নয়।
আমরা আইন চাই—পেশিশক্তি নয়।
আমরা তথ্য চাই—গুজব নয়।
আমরা জবাবদিহি চাই—নীরবতা নয়।
সাংবাদিক সমাজের প্রতি আহ্বান
একজন সাংবাদিক আক্রান্ত হলে সেটিকে শুধু তার নিজের সংবাদপত্রের সমস্যা হিসেবে দেখার সময় শেষ।
আজ যদি একজন সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগে আমরা নীরব থাকি, কাল সেই নীরবতা আমাদের নিজেদের দরজায় ফিরে আসতে পারে।
তাই সাংবাদিক সমাজকে দায়িত্বশীল ও ঐক্যবদ্ধভাবে বলতে হবে—
সংবাদ নিয়ে বিতর্ক হোক, কিন্তু সাংবাদিকের ওপর হামলা নয়।
প্রতিবাদ হোক, কিন্তু হুমকি নয়।
আইনি লড়াই হোক, কিন্তু সন্ত্রাস নয়।
শেষ কথা
সাতক্ষীরার এই অভিযোগের তদন্ত এখন শুধু একটি মামলার বিষয় নয়—এটি রাষ্ট্রের সক্ষমতা, আইনশৃঙ্খলার নিরপেক্ষতা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সদিচ্ছার পরীক্ষাও।
রাষ্ট্র যদি সত্যিই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং নাগরিকের অধিকারকে গুরুত্ব দেয়, তাহলে এই অভিযোগের তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি জনগণকে দেখতে হবে।
কারণ একটি রাষ্ট্রের শক্তি তখনই প্রমাণিত হয়, যখন সে দুর্বলকে নিরাপত্তা দিতে পারে এবং ক্ষমতাবানকেও আইনের সামনে দাঁড় করাতে পারে।
আমাদের অবস্থান পরিষ্কার—
সাংবাদিকের কলমে আঘাত মানে গণতন্ত্রের দরজায় আঘাত।
হুমকির কাছে সাংবাদিকতা মাথা নত করবে না।
রাষ্ট্রকে নীরব দর্শক নয়—আইনের নিরপেক্ষ অভিভাবকের ভূমিকায় দেখতে চায় গণমাধ্যম।
সাংবাদিক হাবিবুর রহমানের অভিযোগের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত এবং প্রমাণ সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছে দি টুরিস্ট।