রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে গাড়ি থেকে মোবাইল ফোন ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনতাইয়ের সময় একটি চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে সিটি-ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস বিভাগের একটি অভিযানিক দল। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে যাত্রাবাড়ীর দুনিয়া কলেজ-শনির আখড়া এলাকার পাকা সড়কে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. রনি (২৯), মো. হৃদয় গাজী (২৬), রহিম হাসান ওরফে ইয়াহিয়া (২৫) এবং মোহাম্মদ ফয়সাল (২৬)। সিটি-ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ওয়ারী ও মতিঝিল বিভাগে বিশেষ অভিযান পরিচালনার সময় ছিনতাইকারীদের গাড়ি থেকে মোবাইল ফোন ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনতাইরত অবস্থায় হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর চারজনকে যাত্রাবাড়ী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, দস্যুতা ও চুরিসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
রাতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৮ এপিবিএন অধিনায়ক, নিরাপত্তা জোরদারে দিকনির্দেশনা
বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের (এফডিএমএন) সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের সুবিধা-অসুবিধার খোঁজ নিতে রাতে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ, পিপিএম। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে ৮ এপিবিএনের আওতাধীন পানবাজার পুলিশ ক্যাম্পে উপস্থিত হন তিনি। এ সময় স্থানীয় রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে বিশেষ মতবিনিময় সভায় অংশ নেন ৮ এপিবিএন অধিনায়ক। রাতের বেলা অধিনায়কের এই আকস্মিক উপস্থিতিতে ক্যাম্পে স্বস্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মতবিনিময়কালে রোহিঙ্গা সদস্যদের বিভিন্ন সুবিধা-অসুবিধা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয় মনোযোগ দিয়ে শোনেন রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ। এ সময় উদ্ভূত যেকোনো সমস্যা দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন তিনি। ক্যাম্প এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরাপত্তা টহল জোরদারের পাশাপাশি বাল্যবিবাহ, নারী ও শিশু নির্যাতন, অনলাইন জুয়া, বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর গুলিবর্ষণ, মাদক ও অস্ত্র পাচার, ইভটিজিং, চুরি, ডাকাতি, অপহরণ ও চাঁদাবাজিসহ সব ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান ৮ এপিবিএন অধিনায়ক। এ ছাড়া দুষ্কৃতিকারী ও অপরাধীদের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে অবহিত করতে উপস্থিত রোহিঙ্গা সদস্যদের অনুরোধ করেন তিনি। একই সঙ্গে রাত্রিকালীন পাহারা জোরদার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়। মতবিনিময় সভায় পানবাজার পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. আব্দুল রাজ্জাক, অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সদস্য, ক্যাম্পের মাঝি-সাব-মাঝি, শিক্ষক, স্থানীয় মসজিদের ইমাম এবং সাধারণ রোহিঙ্গা সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় ৮ এপিবিএন অধিনায়কের এই উদ্যোগের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন উপস্থিত রোহিঙ্গা সদস্যরা।
ফটিকছড়িতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ টেস্টার মোবারক গ্রেপ্তার
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ মো. মোবারক হোসেন ওরফে টেস্টার মোবারক (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফটিকছড়ি থানাধীন কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর এলাকার চাইল্লাতলী কাশেম চেয়ারম্যানের টিলার শফির টিলার একটি টং ঘরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফটিকছড়ি থানা পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিতে থাকা অন্যরা পালিয়ে গেলেও মোবারক হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে দুটি কাঠের বাটযুক্ত ধারালো ছোড়া/তরবারি, দুটি রামদা, একটি লোহার শাবল, একটি ধারালো ছুরি, একটি ধামা, একটি দা, একটি এসএস পাইপ ও একটি লোহার রডসহ মোট ১০টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার টেস্টার মোবারক চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ইমন ওরফে ডেবিট ইমন এবং মো. মোবারক হোসেন ওরফে কালা মোবারকের অন্যতম সহযোগী হিসেবে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য রয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার মোবারকসহ পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পলাতকদের গ্রেপ্তার এবং সংঘবদ্ধ ডাকাতচক্রের অন্যান্য সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
যাত্রাবাড়ীতে ২১৫ গ্রাম গাঁজাসহ তিন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার
ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে অভিযান চালিয়ে ২১৫ গ্রাম গাঁজাসহ তিন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে সিটি-ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস বিভাগ। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে দয়াগঞ্জ রেলগেটের পূর্ব পাশে মো. খোরশেদ আলমের চায়ের দোকানের সামনে পাকা সড়কে অভিযান চালানো হয়। এ সময় কাগজে মোড়ানো ১০০ পুরিয়া গাঁজাসহ মো. রিফাত (১৯), রবিউল (১৯) ও সামাদ (৪৮)কে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার করা গাঁজার আনুমানিক মূল্য ৫ হাজার টাকা।গ্রেপ্তার রিফাত ও রবিউলের বাড়ি বরিশাল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এবং সামাদের বাড়ি পটুয়াখালীতে। তারা বর্তমানে যাত্রাবাড়ীর বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছিলেন। অভিযান শেষে গ্রেপ্তার তিনজনকে যাত্রাবাড়ী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শেখ হাসিনার পতন, দেশত্যাগ, এবং ভবিষ্যতের রাজনীতিঃ
এক বছর আগে যে আলো দেখেছিলাম হাসিব আজিজ—চট্টগ্রামের কমিশনার থেকে অতিরিক্ত আইজিপি, এপিবিএন প্রধান
-মো. কামাল উদ্দিনঃ
যুগ্ম সম্পাদক, দৈনিক ভোরের আওয়াজ
ডেপুটি এডিটর, The Tourist
কিছু কিছু লেখা সময়ের সঙ্গে পুরোনো হয় না। বরং সময় একদিন ফিরে এসে সেই লেখার প্রতিটি শব্দকে নতুন অর্থ দেয়।
আজ তেমনই একটি দিন।
ঠিক এক বছর আগে, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের নবনিযুক্ত কমিশনার হাসিব আজিজকে নিয়ে আমি একটি লেখা লিখেছিলাম। সত্যি বলতে, সময়ের ব্যস্ততায় সেই লেখার কথা আমিই প্রায় ভুলে গিয়েছিলাম। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের স্মৃতির পাতায় আজ হঠাৎ সেই লেখা ফিরে এলো।
পুরোনো লেখাটি পড়তে গিয়ে কয়েক মুহূর্তের জন্য থমকে গেলাম।
কারণ এক বছর আগে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারের চেয়ারে বসা যে মানুষটিকে নিয়ে লিখেছিলাম, আজ তিনি অতিরিক্ত আইজিপি এবং এপিবিএনের প্রধান।
এক বছর—সময়টা খুব বেশি নয়। অথচ একটি মানুষের কর্মজীবনে এই এক বছর কখনো কখনো অনেক বড় পরিবর্তনের সাক্ষী হয়ে ওঠে।
হাসিব আজিজের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।
তবে তাঁর পদোন্নতির খবরের চেয়েও আমার কাছে আনন্দের বিষয় হলো—এক বছর আগে একজন সাংবাদিকের চোখে যে সম্ভাবনার আলো ধরা পড়েছিল, সময়ের পরীক্ষায় সেই আলো আজ আরও উজ্জ্বল হয়েছে।
প্রথম সাক্ষাতেই মনে হয়েছিল—এই মানুষটি আলাদা
সাংবাদিকতার দীর্ঘ পথ চলতে গিয়ে দেশের বহু পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছে। কেউ ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী, কেউ কঠোর, কেউ প্রশাসনিকভাবে দক্ষ, কেউ ছিলেন মানুষের কাছে জনপ্রিয়।
কিন্তু হাসিব আজিজের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা আমার কাছে কিছুটা আলাদা।
তখন তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। আমি সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলাম।
সাধারণত এমন সাক্ষাৎ সংক্ষিপ্ত ও আনুষ্ঠানিক হয়। কিন্তু তাঁর সঙ্গে কথোপকথন দ্রুতই আনুষ্ঠানিকতার গণ্ডি পেরিয়ে যায়।
পুলিশের দায়িত্ব, অপরাধ দমন, আইনশৃঙ্খলা, জনগণের নিরাপত্তা, সাংবাদিকতা—বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হয়েছিল।
তাঁর কথাবার্তায় সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি আমাকে আকৃষ্ট করেছিল, সেটি হলো—
তিনি পুলিশকে শুধু ক্ষমতার প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চান না; তিনি পুলিশকে জনগণের আস্থার প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চান।
সেদিন তাঁর একটি কথার মর্ম আজও আমার মনে আছে—
“পুলিশ জনগণের জন্য।”
একজন পুলিশ কর্মকর্তার মুখ থেকে এই কথাটি শোনা সহজ। কিন্তু সেই কথাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া কঠিন।
কারণ পুলিশের হাতে আইন প্রয়োগের ক্ষমতা আছে। আর ক্ষমতার সঙ্গে আসে দায়িত্ব।
সেই দায়িত্বের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হলো—ক্ষমতা প্রয়োগের সময় জনগণের অধিকার ও মর্যাদা কতটা রক্ষা করা যায়।
পুলিশকে ভয় নয়, আস্থার জায়গায় দেখতে চাই
আমার বিশ্বাস, একজন পুলিশ কর্মকর্তার সবচেয়ে বড় সাফল্য শুধু অপরাধী গ্রেপ্তার করা নয়।
সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো—
একজন সাধারণ মানুষ বিপদে পড়ে থানার দরজায় গিয়ে যেন মনে করেন, “এখানে আমার কথা শোনা হবে।”
এই আস্থা তৈরি করা সহজ নয়।
একজন পুলিশ সদস্যের একটি ভালো আচরণ যেমন পুরো বাহিনীর প্রতি মানুষের বিশ্বাস বাড়াতে পারে, তেমনি একজন সদস্যের একটি অন্যায় আচরণও সেই বিশ্বাস নষ্ট করতে পারে।
তাই জনবান্ধব পুলিশিং কোনো স্লোগান নয়। এটি প্রতিদিনের আচরণ, সিদ্ধান্ত, জবাবদিহি ও দায়িত্বশীলতার সমষ্টি।
হাসিব আজিজের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতে এই জায়গাটিতেই আমি তাঁর চিন্তার একটি ইতিবাচক দিক দেখেছিলাম।
কঠোরতার মধ্যেও থাকতে হয় বিবেক
হাসিব আজিজকে নিয়ে কথা বলতে গেলে তাঁর কঠোরতার বিষয়টি অবশ্যই আসে।
পুলিশের দায়িত্ব সবসময় ফুলের বিছানা নয়। কখনো কখনো পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যায়, যেখানে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আন্দোলন, রাজনৈতিক কর্মসূচি, সংঘাত, অপরাধ, সন্ত্রাস কিংবা আকস্মিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি—এসব মোকাবিলায় একজন পুলিশ কর্মকর্তার অভিজ্ঞতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার কঠিন পরীক্ষা হয়।
হাসিব আজিজের দীর্ঘ পেশাগত জীবনে এমন কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
তিনি কঠোর হতে পারেন—এটি তাঁর পেশাগত সক্ষমতার একটি দিক।
কিন্তু আমার কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো—
কখন কঠোর হতে হবে এবং কখন মানবিক হতে হবে—এই পার্থক্যটি বুঝতে পারা।
কারণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে অপ্রয়োজনীয় কঠোরতা যেমন ক্ষতিকর, তেমনি অপরাধীর প্রতি অতিরিক্ত নরম মনোভাবও সমাজের জন্য বিপজ্জনক।
একজন দক্ষ পুলিশ নেতাকে এই দুইয়ের মাঝখানে আইনের পথটি খুঁজে নিতে হয়।
সাংবাদিকের কলমকে তিনি প্রতিপক্ষ মনে করেননি
সেদিন আমার সাংবাদিকতা নিয়েও তাঁর সঙ্গে কথা হয়েছিল।
তিনি আমার বিভিন্ন প্রতিবেদন সম্পর্কে অবগত ছিলেন। সকালের সময়, দৈনিক ভোরের আওয়াজ এবং The Daily Banner-এ প্রকাশিত আমার বিভিন্ন প্রতিবেদন নিয়েও তিনি কথা বলেছিলেন।
আমি তাঁকে আমার লেখা ‘অদম্য মনোয়ার’ বই এবং কয়েকটি পত্রিকার কপি উপহার দিয়েছিলাম।
একজন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে একজন সাংবাদিকের সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত—এ নিয়ে আমার নিজের একটি বিশ্বাস আছে।
সাংবাদিকের কাজ শুধু প্রশংসা করা নয়; প্রশ্ন করা।
আর প্রশাসনের কাজ সেই প্রশ্নকে শত্রুতা হিসেবে না দেখে প্রয়োজন হলে আত্মসমালোচনার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা।
হাসিব আজিজের সঙ্গে আমার সেই কথোপকথনে অন্তত আমি এমন একটি মানসিকতার পরিচয় পেয়েছিলাম।
তিনি বুঝতেন—সাহসী সাংবাদিকতা কখনো কখনো প্রশাসনের অস্বস্তির কারণ হতে পারে, কিন্তু সেই অস্বস্তিই অনেক সময় সংশোধনের পথ খুলে দেয়।
বাহিনীর ভেতরেও শুদ্ধতা প্রয়োজন
জনবান্ধব পুলিশিংয়ের কথা যতই বলা হোক, পুলিশের ভেতরে দুর্নীতি, ঘুষ, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা দায়িত্বে অবহেলা থাকলে মানুষের আস্থা পুরোপুরি ফিরবে না।
একজন পুলিশ কর্মকর্তার জন্য সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর একটি হলো—নিজের বাহিনীর ভেতরের অনিয়মের বিরুদ্ধেও দাঁড়ানো।
বাইরের অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা দায়িত্ব।
কিন্তু নিজের প্রতিষ্ঠানের কেউ অন্যায় করলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস থাকা নেতৃত্বের পরীক্ষা।
আমি মনে করি, পুলিশকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি পুলিশের ভেতরের শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি শক্তিশালী করা equally গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ পুলিশের পোশাকের মর্যাদা শুধু অস্ত্র দিয়ে রক্ষা হয় না—
রক্ষা হয় সততা দিয়ে।
চট্টগ্রাম ছিল তাঁর জন্য বড় পরীক্ষা
চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অর্থনীতি, বন্দর, শিল্প, বাণিজ্য ও পর্যটনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।
এই মহানগরের পুলিশ কমিশনারের দায়িত্ব তাই নিছক একটি প্রশাসনিক পদ নয়।
এখানে আইনশৃঙ্খলা মানে শুধু অপরাধ নিয়ন্ত্রণ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বন্দরনিরাপত্তা, শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা, ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ, জননিরাপত্তা এবং নগরীর সামগ্রিক স্থিতিশীলতা।
সেই চট্টগ্রাম অধ্যায় পেরিয়ে আজ হাসিব আজিজ আরও বড় দায়িত্বে।
অতিরিক্ত আইজিপি।
এপিবিএনের প্রধান।
দায়িত্ব যত বড় হয়েছে, প্রত্যাশাও তত বেড়েছে।
এপিবিএনের প্রধান হিসেবে নতুন অধ্যায়
এপিবিএনের নেতৃত্ব একটি বিশেষ ধরনের দায়িত্ব।
এখানে শুধু প্রশাসনিক দক্ষতা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন অপারেশনাল অভিজ্ঞতা, শৃঙ্খলা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা এবং কঠিন পরিস্থিতিতে স্থির থাকার মানসিকতা।
হাসিব আজিজের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা তাঁকে এই দায়িত্ব পালনে একটি শক্ত ভিত্তি দিয়েছে।
এখন তাঁর সামনে নতুন পরীক্ষা—
কীভাবে একটি বড় ও গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীকে আরও দক্ষ, শৃঙ্খলাবদ্ধ, পেশাদার এবং জনগণের আস্থার উপযোগী করে তোলা যায়।
রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে বড় পরিচয়—রাষ্ট্রের কর্মকর্তা
হাসিব আজিজের রাজনৈতিক ঘরানা নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা রয়েছে। তিনি বিএনপি-ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত—এমন কথাও বিভিন্ন মহলে প্রচলিত।
কিন্তু রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের জায়গায় আমার বিবেচনা অন্যরকম।
একজন পুলিশ কর্মকর্তার মূল্যায়নের প্রধান মাপকাঠি তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় হওয়া উচিত নয়; বরং হওয়া উচিত তাঁর পেশাগত দক্ষতা, সততা, আইন মেনে চলার মানসিকতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং জনগণের নিরাপত্তার প্রতি দায়বদ্ধতা।
রাষ্ট্রের পুলিশ কোনো দলের নয়।
পুলিশ রাষ্ট্রের, আর রাষ্ট্রের শেষ মালিক জনগণ।
তাই যে কর্মকর্তা ক্ষমতার পরিবর্তনের ঊর্ধ্বে উঠে আইনের শাসন ও জনগণের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে পারেন, তিনিই প্রকৃত অর্থে একজন সফল পুলিশ কর্মকর্তা।
তাহলে কি ভবিষ্যতের আইজিপি?
এই প্রশ্নটি এখন হয়তো অনেকের মনেই আসতে পারে।
হাসিব আজিজ কি একদিন বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি হতে পারেন?
এর উত্তর আজ কারও হাতে নেই।
আইজিপি নিয়োগ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত। সময়, জ্যেষ্ঠতা, যোগ্যতা, প্রশাসনিক প্রয়োজন এবং সরকারের সিদ্ধান্ত—সবকিছুই সেখানে ভূমিকা রাখে।
তবু একজন সাংবাদিক হিসেবে দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণ থেকে একটি সম্ভাবনার কথা বলা যায়।
হাসিব আজিজের সামনে সেই সম্ভাবনা অবশ্যই রয়েছে।
তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা আছে।
কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলার অভিজ্ঞতা আছে।
সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা আছে।
শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার অভিজ্ঞতা আছে।
বড় বাহিনীর নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ এখন তাঁর হাতে।
আর একজন পুলিশ প্রধানের জন্য প্রয়োজনীয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গুণগুলোর একটি—সংকটের মুহূর্তে দৃঢ় থাকা—সেটিও তাঁর কর্মজীবনে দেখা গেছে।
তবে আইজিপি হওয়ার পথে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে অন্য জায়গায়—
ক্ষমতা প্রয়োগে সংযম, আইনের প্রয়োগে ন্যায় এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা।
এক বছর আগে যে সম্ভাবনা দেখেছিলাম
আজ এক বছর আগের লেখাটি আবার পড়তে গিয়ে মনে হলো—কখনো কখনো সাংবাদিকের কলম ভবিষ্যতের একটি ছোট্ট ছবি আঁকে।
আমি তখন একজন কমিশনারকে দেখেছিলাম।
আজ দেখছি একজন অতিরিক্ত আইজিপিকে।
আগামীকাল কী হবে জানি না।
কিন্তু আমি এটুকু বিশ্বাস করি—যে কর্মকর্তা নিজের দায়িত্বকে শুধু চাকরি হিসেবে না দেখে দায়িত্ব ও আমানত হিসেবে গ্রহণ করেন, তাঁর সামনে বড় পথ তৈরি হয়।
হাসিব আজিজের সামনে এখন সেই বড় পথ।
আমার প্রত্যাশা
তাঁর প্রতি আমার ব্যক্তিগত প্রত্যাশা খুব সহজ।
আমি চাই, তিনি যেন আরও বড় দায়িত্বে গিয়ে আরও বড় মানুষ হন।
পদ বড় হলে মানুষের কাছ থেকে দূরে নয়—আরও কাছে যান।
ক্ষমতা বাড়লে অহংকার নয়—দায়িত্ব বাড়ুক।
কঠোরতা বাড়লে মানবিকতাও বাড়ুক।
আর পুলিশ বাহিনীর নেতৃত্বে থেকে তিনি যেন বারবার মনে রাখেন—
একজন পুলিশ কর্মকর্তার সবচেয়ে বড় পরিচয় তাঁর র্যাংক নয়; মানুষের আস্থা।
শেষ দৃশ্য: ভবিষ্যতের পাতায় একটি নাম
এক বছর আগে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়েছিল।
আজ তিনি অতিরিক্ত আইজিপি এবং এপিবিএনের প্রধান।
এই পথচলার দিকে তাকালে মনে হয়—একটি বছর কখনো কখনো একটি মানুষের কর্মজীবনের গতিপথ বদলে দিতে পারে।
আগামী দিনে তাঁর সামনে আরও বড় দায়িত্ব আসবে কি না, সেটি সময় বলবে।
কিন্তু যদি তাঁর সাহস থাকে,
যদি সততা অটুট থাকে,
যদি বিচক্ষণতা আরও পরিণত হয়,
যদি কঠোরতার সঙ্গে মানবিকতার ভারসাম্য বজায় থাকে,
আর যদি জনগণের আস্থা অর্জনই তাঁর নেতৃত্বের মূল লক্ষ্য থাকে—
তাহলে ভবিষ্যতের কোনো এক সকালে বাংলাদেশ পুলিশের শীর্ষ পদে তাঁর নাম দেখলে আমি বিস্মিত হব না।
বরং হয়তো আবার সেই এক বছর আগের লেখাটির কথা মনে পড়বে।
আর মনে মনে বলব—
“চট্টগ্রামে যে মানুষটির চোখে একদিন সম্ভাবনার আলো দেখেছিলাম, সময় শেষ পর্যন্ত সেই আলোকে আরও বড় আকাশে নিয়ে গেছে।”
হাসিব আজিজের জন্য রইল আন্তরিক অভিনন্দন, শুভকামনা ও দোয়া।
পুলিশ হোক ক্ষমতার প্রদর্শন নয়—আইনের শক্তি।
পুলিশ হোক ভয়ের প্রতীক নয়—নিরাপত্তার আশ্রয়।
পুলিশ হোক কোনো গোষ্ঠীর নয়—রাষ্ট্র ও জনগণের।
আর নেতৃত্ব হোক এমন, যার সামনে মাথা নত করে শুধু অধীনস্থরা নয়—আস্থা রাখে সাধারণ মানুষও।
সমাজের নৈতিক পরিবর্তনে সীরত মাহফিলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ
সমাজে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সীরতুন্নবী (সা.) মাহফিলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা। যুগশ্রেষ্ঠ আলেম হযরত মাওলানা হাফেজ আহমদ প্রকাশ শাহ্ সাহেব কেবলা চুনতী (রহ.) প্রবর্তিত ১৯ দিনব্যাপী ৫৬তম আন্তর্জাতিক মাহফিলে সীরতুন্নবী (সা.)-এর ১৭তম দিবস বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার চুনতীস্থ শাহ্ মনজিল সীরত ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। চট্টগ্রাম দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসার আলহাজ্ব মাওলানা মকসুদ আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মাহফিলে সঞ্চালনা করেন চুনতী হাকিমিয়া কামিল মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা জিয়াউল করিম। মাহফিলে কুমিল্লা নাগাইশ দরবারের পীর সাহেব আলহাজ্ব মাওলানা মোশতাক ফয়েজী ‘আল্লাহর দরবারে ন্যায় বিচারকের মর্যাদা এবং হক ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় রাসূল (সা.)-এর অবদান’ বিষয়ে আলোচনা করেন। আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাওলানা ছাবের আহমদ ‘ইসলামে নারীর মর্যাদা’ বিষয়ে বক্তব্য দেন। বরিশালের আলহাজ্ব মুফতি মাওলানা সৈয়দ ইসহাক মুহাম্মদ আবদুল হাই হক ও ন্যায়বিচার এবং ইসলামী জীবনব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া আলহাজ্ব মাওলানা লোকমান হাকিম যাহেদী ‘রোগী ও মানবসেবার ফজিলত’ বিষয়ে আলোচনা করেন। বক্তারা বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম পথনির্দেশ। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে শান্তি, ন্যায় ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠায় নবীজির আদর্শ অনুসরণ করে জীবন পরিচালনা করা জরুরি। মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন মাহফিল মোতাওয়াল্লী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা মুহাম্মদ হাফিজুল ইসলাম আবুল কালাম আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাদা মাওলানা আব্দুল মালেক মুহাম্মদ ইবনে দিনার নাজাত, সদস্য আলহাজ্ব আবু তাহের, আলহাজ্ব ইসমাইল মানিক, এইচ. এম. মাহাবুবুল হক, রবিউল হোসেন আশিক, সাইফুউদ্দিন মোহাম্মদ তারেক, সাংবাদিক সোহেল তাজ, আলহাজ্ব জসিম উদ্দিনসহ মাহফিলের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। মাহফিলে মাসুদ রায়হান ও হাফেজ কেফায়ত উল্লাহ কোরআন তেলাওয়াত করেন। মুহাম্মদ সবকত ও আবু বকর রহমান ছাফুয়ান পরিবেশন করেন না’আতে রাসূল (সা.)। খোতবায়ে ছদর, মিলাদ ও মোনাজাতের মাধ্যমে ৫৬তম আন্তর্জাতিক মাহফিলে সীরতুন্নবী (সা.)-এর ১৭তম দিবসের কর্মসূচি শেষ হয়।
এপিবিএনকে আরও বিস্তৃত ক্ষমতা দিতে নতুন আইন হচ্ছে
সাইবার অপরাধ, সন্ত্রাস, সংঘবদ্ধ অপরাধ, মানবপাচার, গুম ও ভূমিদস্যুতাসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন—এপিবিএনকে আরও বিস্তৃত দায়িত্ব ও ক্ষমতা দেওয়ার বিধান রেখে নতুন আইন করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল, ২০২৬’ সংশোধিত আকারে সংসদে পাসের জন্য সর্বসম্মতিক্রমে সুপারিশ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। গত ৬ সেপ্টেম্বর কমিটির বৈঠকে বিলটি বিস্তারিত পরীক্ষা করা হয়। পরে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কমিটির সুপারিশ করা বিলটি উপস্থাপন করেন বরিশাল-৩ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন। প্রস্তাবিত আইনে ১৯৭৯ সালের ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নস অর্ডিন্যান্স’ রহিত করে নতুন আইন প্রণয়নের কথা বলা হয়েছে। নতুন আইনে এপিবিএনের সাংগঠনিক কাঠামো, দায়িত্ব, ক্ষমতা, অপরাধ তদন্ত, শৃঙ্খলা, বিচার ও দণ্ডের বিধান নতুন করে নির্ধারণ করা হচ্ছে। এছাড়া এপিবিএনের অধীনে সাইবার সেল গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি অপরাধ তদন্তের প্রয়োজনে হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ স্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে। বিলের মাধ্যমে সাইবার অপরাধসহ বিভিন্ন ধরনের সংঘবদ্ধ ও গুরুতর অপরাধ মোকাবিলায় এপিবিএনের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী ও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কমিটি বিলটির বিভিন্ন দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করে একটি সংশোধনী সুপারিশ করেছে। সংশোধিত বিলটি সংসদে পাসের জন্য সুপারিশ করেছে কমিটি।
আধুনিক চিকিৎসাসেবায় নতুন আস্থার ঠিকানা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতাল
মানসম্মত চিকিৎসা, আধুনিক ডায়াগনস্টিক, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও মানবিক সেবায় বিশেষ নজর—কর্ণধার ডা. ফজলুল কাদেরের সরাসরি তদারকি
চট্টগ্রামের চিকিৎসাসেবার পরিসরে আধুনিকতা, পরিচ্ছন্নতা ও মানবিকতার সমন্বয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতাল যেন নতুন এক আশার নাম। শুধু একটি হাসপাতাল নয়—রোগী ও স্বজনের আস্থা, চিকিৎসক ও রোগীর সুসম্পর্ক এবং উন্নত সেবাব্যবস্থাকে সামনে রেখে এগিয়ে চলার একটি সচেতন প্রয়াস।
হাসপাতালে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে আধুনিক স্থাপত্য, পরিপাটি পরিবেশ এবং পরিকল্পিত সেবাব্যবস্থা। চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীর স্বস্তি ও মানসিক প্রশান্তির বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আধুনিক ডায়াগনস্টিক সুবিধা, উন্নতমানের কেবিন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের ব্যবস্থা—সব মিলিয়ে একজন রোগীর প্রয়োজনীয় সেবাকে একই ছাতার নিচে আনার চেষ্টা রয়েছে এখানে।
বিশেষভাবে যে বিষয়টি আমার দৃষ্টিতে প্রশংসনীয়, তা হলো—হাসপাতালের কর্ণধার ডা. ফজলুল কাদের শুধু দায়িত্বশীল একজন চিকিৎসক হিসেবেই নয়, একজন নিবেদিতপ্রাণ হাসপাতাল ব্যবস্থাপক হিসেবেও পুরো সেবাব্যবস্থার প্রতি সরাসরি নজর রাখছেন। রোগীর চিকিৎসা থেকে শুরু করে চিকিৎসক, নার্স, আয়া, ম্যানেজমেন্ট ও অন্যান্য স্টাফের দায়িত্বশীলতা—প্রতিটি স্তরে তিনি খোঁজখবর রাখার চেষ্টা করেন। তাঁর এই সরাসরি তদারকি হাসপাতালের সেবার মান ধরে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
চিকিৎসক–রোগীর সম্পর্কেই সেবার আসল সৌন্দর্য
একটি হাসপাতালের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার ভবন নয়, তার মানুষ। রোগী যখন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে আসেন, তখন তিনি শুধু ওষুধ বা চিকিৎসা চান না—তিনি চান আশ্বাস, মনোযোগ, সম্মান এবং মানবিক আচরণ।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে চিকিৎসক ও রোগীর মধ্যে সুন্দর যোগাযোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি ইতিবাচক। রোগীর কথা মন দিয়ে শোনা, প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া এবং চিকিৎসার বিষয়টি সহজভাবে বোঝানোর মানসিকতা একজন অসুস্থ মানুষের ভয় অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে।
একইভাবে নার্স, আয়া, ম্যানেজারসহ হাসপাতালের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আচরণও রোগীর অভিজ্ঞতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চিকিৎসা শুধু প্রেসক্রিপশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; রোগীর পাশে দাঁড়ানোও চিকিৎসাসেবার একটি বড় অংশ।
ডায়াগনস্টিক থেকে কেবিন—সবখানেই আধুনিকতার ছোঁয়া
আধুনিক চিকিৎসায় নির্ভুল রোগ নির্ণয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই উন্নত ডায়াগনস্টিক সুবিধা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত রিপোর্ট পাওয়ার সক্ষমতা একটি হাসপাতালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
পাশাপাশি রোগীর থাকার জন্য আধুনিক ও আরামদায়ক কেবিন, পরিচ্ছন্নতা এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার দিকে নজর দেওয়াও প্রশংসনীয়। একজন রোগী যখন চিকিৎসার পাশাপাশি একটি পরিচ্ছন্ন, শান্ত ও নিরাপদ পরিবেশ পান, তখন তাঁর চিকিৎসা গ্রহণের মানসিক প্রস্তুতিও অনেক ভালো থাকে।
খাবারেও স্বাস্থ্যসচেতনতার পরিচয়
রোগীর খাবার চিকিৎসারই একটি অংশ। অসুস্থ মানুষের জন্য খাবার হতে হয় পুষ্টিকর, পরিমিত ও স্বাস্থ্যসম্মত। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে খাবারের মান ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশের প্রতি যে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, সেটিও সেবার সামগ্রিক মানের সঙ্গে যুক্ত একটি ইতিবাচক দিক।
বিদেশি মানের সেবার প্রত্যাশা
আজকের দিনে মানুষ চিকিৎসার জন্য শুধু ঢাকামুখী বা বিদেশমুখী হতে চান না। চট্টগ্রামেই যদি আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ চিকিৎসক, উন্নত ডায়াগনস্টিক, পরিচ্ছন্ন কেবিন এবং মানবিক সেবা পাওয়া যায়, তাহলে রোগী ও স্বজন উভয়ের জন্যই তা স্বস্তির।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালের অগ্রযাত্রার লক্ষ্যও যেন সেই জায়গাতেই—চট্টগ্রামের মানুষকে যতটা সম্ভব বিশ্বমানের আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিজ শহরেই দেওয়ার চেষ্টা।
তবে ‘বিশ্বমান’ বা ‘বিদেশি মান’—এ ধরনের মূল্যায়ন শেষ পর্যন্ত নির্ভর করে চিকিৎসার ফলাফল, স্বীকৃত মানদণ্ড, প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ও রোগীর অভিজ্ঞতার ওপর। সেই জায়গায় ধারাবাহিকভাবে মান ধরে রাখাই হবে হাসপাতালের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং সাফল্যের মাপকাঠি।
ডা. ফজলুল কাদের—কর্ণধারের সরাসরি নজরই বড় শক্তি
একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা সহজ হতে পারে, কিন্তু সেটিকে মানুষের আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা কঠিন। এর জন্য প্রয়োজন নেতৃত্ব, সততা, দক্ষতা এবং প্রতিদিনের সেবার প্রতি নিবিড় নজর।
ডা. ফজলুল কাদেরের সবচেয়ে বড় শক্তি এখানেই—তিনি দূর থেকে শুধু হাসপাতাল পরিচালনার নির্দেশ দেন না; রোগী, চিকিৎসা ও সেবাব্যবস্থার বাস্তব চিত্র সম্পর্কে সরাসরি খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেন।
আমার দৃষ্টিতে, একজন হাসপাতাল কর্ণধারের এই সরাসরি সম্পৃক্ততা সেবার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একটি হাসপাতালের দেয়াল যতই সুন্দর হোক, যন্ত্রপাতি যতই আধুনিক হোক—মানুষের প্রতি মানুষের দায়িত্ববোধ না থাকলে চিকিৎসাসেবা কখনো পূর্ণতা পায় না।
সবশেষে বলতে চাই—চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালের সামনে সম্ভাবনার বিশাল দরজা খোলা। আধুনিক চিকিৎসা অবকাঠামো, উন্নত ডায়াগনস্টিক, পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার, আরামদায়ক কেবিন এবং সর্বোপরি মানবিক সেবার সমন্বয় যদি একই ধারাবাহিকতায় ধরে রাখা যায়, তাহলে এটি শুধু একটি হাসপাতাল নয়—চট্টগ্রামের মানুষের আস্থার একটি শক্তিশালী চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে আরও অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারে।
মানুষ অসুস্থ হলে হাসপাতাল খোঁজে; আর ভালো হাসপাতাল মানুষকে শুধু চিকিৎসা দেয় না—আস্থা দেয়, সাহস দেয়, বেঁচে থাকার প্রত্যাশা জাগায়।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালের সেই আস্থার পথচলা আরও দীর্ঘ হোক—এই প্রত্যাশা।
— মো. কামাল উদ্দিন