Home Blog Page 9

ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা প্রেসক্লাবের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন

0

ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা প্রেসক্লাবের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ২১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ও প্রবীণ সাংবাদিক নুরুল ইসলাম রিপনকে সভাপতি এবং সাংবাদিক নজিরুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্য পদে রয়েছেন—সিনিয়র সহ-সভাপতি মুজিব উল্লাহ তুষার, সহ-সভাপতি সুমন কুমার দে ও মুহাম্মদ ফজলুল করিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ মালেক, সাংগঠনিক সম্পাদক ওসমান গনী, অর্থ সম্পাদক মুহাম্মদ মিনহাজ উদ্দীন সিদ্দিকী, দপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন এবং সমাজকল্যাণ সম্পাদক হাকিম এমরান বিন জালাল। এ ছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে আবুল মুনসুর, মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, শ্যামল নন্দী, ইয়াছিন, জামাল, রহিম চৌধুরী রানা, তারেক হোসেন, তাহের উদ্দিন আমীরী, মুহাম্মদ রাসেল, জয়নাল আবেদীন, রায়হান ও মুহাম্মদ এমরান রয়েছেন। নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সাংবাদিকদের পেশাগত ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা আরও জোরদারে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

দেওয়ানেশ্বরী কালীবাড়িতে স্বচ্ছতার প্রশ্ন ২০ ভরি স্বর্ণের হিসাব কোথায়? গঠনতন্ত্রের বাইরে কমিটি গঠনের অভিযোগ, রসিদ বই ও অর্থ ব্যবস্থাপনাতেও অস্পষ্টতা- “‘সার্বজনীন মন্দিরে ‘আমরাই সর্বেসর্বা’ দায়িত্বশীলদের বক্তব্য ঘিরে ক্ষুব্ধ ভক্তরা, নিরপেক্ষ তদন্ত ও অডিট দাবি-

অরূপ চন্দ, চট্টগ্রাম :
চট্টগ্রামের দেওয়ানহাটের ঐতিহ্যবাহী শ্রীশ্রী দেওয়ানেশ্বরী সার্বজনীন কালী মন্দির, দেওয়ানেশ্বরী কালীবাড়ি নামে পরিচিত এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের সনাতন সম্প্রদায়ের ধর্মীয় বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে। কালীপূজা, শ্যামাপূজা, দীপাবলি ও বিভিন্ন ধর্মীয় আয়োজনে প্রতিবছর এখানে ভক্তদের সমাগম ঘটে। কিন্তু সেই ঐতিহ্যবাহী মন্দিরের পরিচালনা, কমিটি গঠন, দান অনুদান, মূল্যবান স্বর্ণালংকার এবং আয় ব্যয়ের হিসাব নিয়ে বর্তমানে উঠেছে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন। স্থানীয় সনাতনী ভক্তদের একাংশের অভিযোগ, মন্দিরের গঠনতন্ত্র যথাযথভাবে অনুসরণ না করে পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ভক্তদের দান করা প্রায় ২০ ভরি স্বর্ণালংকারের হিসাব ও বর্তমান অবস্থান নিয়েও স্বচ্ছতা নেই বলে অভিযোগ তাদের। উন্নয়ন ও অন্যান্য কার্যক্রমের নামে অর্থ সংগ্রহের রসিদ বই ও হিসাব নিকাশ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
অভিযোগকারীদের কেউ কেউ বিপুল অর্থের অনিয়মের আশঙ্কার কথাও বলছেন। তবে এসব অভিযোগের কোনোটিকেই তদন্ত ছাড়া চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না। তাই স্থানীয়দের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্ত, হিসাব নিরীক্ষা এবং নথিপত্র জনসমক্ষে প্রকাশের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক। ২০ ভরি স্বর্ণের হিসাবের খাতা কোথায়? অভিযোগের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয় মন্দিরের স্বর্ণালংকার। স্থানীয় ভক্তদের দাবি, দীর্ঘদিনে মন্দিরে ভক্তদের পক্ষ থেকে প্রায় ২০ ভরি স্বর্ণালংকার দান করা হয়েছে। কিন্তু এসব স্বর্ণের পূর্ণাঙ্গ তালিকা, ওজন, দাতার তথ্য, সংরক্ষণস্থল, ব্যবহারের ইতিহাস এবং বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে সাধারণ ভক্তদের সামনে পরিষ্কার কোনো হিসাব উপস্থাপন করা হয়নি বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ধীরেন্দ্র দাস গুপ্তের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়া মন্দিরের স্বর্ণালংকার দেখাতে পারবেন না।
জবাবদিহির বিষয়ে তার বক্তব্যের সারমর্ম ছিল, পরিচালনা কমিটিই বিষয়টি দেখভাল করে এবং কাউকে কৈফিয়ত দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এই বক্তব্যের সত্যতা ও পূর্ণ প্রেক্ষাপট অবশ্যই সংশ্লিষ্ট নথি ও মন্দিরের গঠনতন্ত্রের আলোকে যাচাই করা প্রয়োজন।
তবে এমন বক্তব্যের পর স্থানীয় ভক্তদের মধ্যে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। সার্বজনীন মন্দিরের মূল্যবান সম্পদের হিসাব কি শুধু পরিচালনা কমিটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে? সাধারণ সম্পাদক বললেন, এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না, মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অমল কর্মকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না এবং সভাপতির সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। মন্দিরের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবান সম্পদ সম্পর্কে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যে যে ধরনের অস্পষ্টতা দেখা যাচ্ছে, তা স্থানীয় ভক্তদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
তবে এ বিষয়ে মন্দিরের লিখিত হিসাব, সম্পদ নিবন্ধন ও কমিটির সভার কার্যবিবরণী পর্যালোচনা করা গেলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে। ‘এগুলো আমাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার’ সহ সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য মন্দির পরিচালনা কমিটির সহ সাধারণ সম্পাদক বিষ্ণুদে অভির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের এসব বিষয় নিয়ে মাথা না ঘামানোর কথা বলেন।
তিনি বিষয়গুলোকে তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার হিসেবেও উল্লেখ করেন। এ বক্তব্যকে ঘিরেও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, সার্বজনীন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ভক্তদের দান করা সম্পদ, অনুদান ও অর্থ ব্যবস্থাপনা কতটা ব্যক্তিগত বিষয়, এ প্রশ্নের উত্তর গঠনতন্ত্র, প্রচলিত আইন এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হওয়া উচিত।
গঠনতন্ত্রে ৩৫, কমিটি ৪১ কেন? মন্দির পরিচালনার কাঠামো নিয়েও উঠেছে গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ।
স্থানীয় ভক্তদের দাবি, ২০১৯ সালে সংশোধিত গঠনতন্ত্র অনুসরণ না করেই বর্তমান কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তাদের অভিযোগ, গঠনতন্ত্রের একাধিক মৌলিক ধারা লঙ্ঘিত হয়েছে। এর মধ্যে তারা উল্লেখ করেছেন ধারা ৬ গ, ১১ ক, ১২ চ, ১৭ জ, ২৫ খ, ২৬ ঙ, ২৭ গ, ২৮ ছ এর দ্বিতীয় অংশ, ২৯ গ, ৩১ খ এবং ৩৩ ক ও খ।
বিশেষ করে ধারা ১১ ক এর কার্যনির্বাহী কমিটির কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। অভিযোগ অনুযায়ী, গঠনতন্ত্রে কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সংখ্যা ৩৫ জন থাকার কথা থাকলেও বর্তমান কমিটি করা হয়েছে ৪১ সদস্যের। প্রশ্ন উঠেছে, গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন আনা হলে তা কীভাবে এবং কখন করা হয়েছে? সাধারণ সভায় তা অনুমোদিত হয়েছে কি না? ৪১ সদস্যের কমিটির বৈধতার ভিত্তি কী? এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে গঠনতন্ত্র, সাধারণ সভার কার্যবিবরণী, অনুমোদনপত্র এবং কমিটি গঠনের সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ভক্তরা।
ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দে ভক্তদের বাদ দেওয়ার অভিযোগ স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, মন্দিরের দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও সম্মানিত ভক্তদের যথাযথভাবে মূল্যায়ন না করে ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দের ভিত্তিতে কমিটি গঠনের চেষ্টা করা হয়েছে। তাদের দাবি, এর ফলে মন্দির পরিচালনায় দীর্ঘদিনের পারস্পরিক আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ভক্তসমাজের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়েছে। তবে এ অভিযোগও নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। কারা বাদ পড়েছেন, কী প্রক্রিয়ায় কমিটি গঠিত হয়েছে এবং গঠনতন্ত্রে কী বলা আছে, এসব নথি বিশ্লেষণ করলেই প্রকৃত সত্য সামনে আসবে।
রসিদ বই, দান চাঁদা ও অর্থের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন
মন্দিরের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে নানা অভিযোগ। স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, উন্নয়ন ও অন্যান্য কার্যক্রমের নামে অর্থ সংগ্রহ করা হলেও সব অর্থের যথাযথ হিসাব প্রকাশ করা হয়নি। রসিদ বইয়ের ব্যবহার, সংরক্ষণ ও হিসাব মেলানো নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
কেউ কেউ কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক অনিয়মের আশঙ্কার কথা বললেও এ মুহূর্তে এমন অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত প্রমাণ প্রকাশ্যে নেই।
তাই প্রকৃত সত্য জানতে প্রয়োজন রসিদ বই পরীক্ষা, ব্যাংক হিসাব যাচাই, নগদ লেনদেনের বিবরণ, ব্যয়ের ভাউচার, দাতা তালিকা, উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় এবং পূর্ববর্তী অডিট রিপোর্ট পর্যালোচনা। এসব নথির স্বাধীন অডিট হলে অর্থ ব্যবস্থাপনায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা অনেকটাই পরিষ্কার হতে পারে। মন্দির দখলে কিশোর গ্যাং ব্যবহারের অভিযোগ তদন্ত চায় স্থানীয়রা
সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগগুলোর একটি হলো, মন্দিরের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে কিশোরদের ব্যবহার করার চেষ্টা। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব ও বিভিন্ন অনিয়ম আড়াল করার উদ্দেশ্যে মন্দিরকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাববলয় তৈরি এবং কিশোর গ্যাং ব্যবহারের চেষ্টা করা হয়েছিল।তবে এ অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় প্রমাণ ছাড়া কাউকে দায়ী করা সমীচীন নয়।
স্থানীয়দের দাবি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি তদন্ত করে দেখুক। মন্দিরকে কেন্দ্র করে কোনো সংঘবদ্ধ তরুণ বা কিশোর গোষ্ঠী ব্যবহার করা হয়েছে কি না, কারা তাদের পেছনে রয়েছে এবং কোনো দখল বা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসুক। সার্বজনীন মন্দির কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়
স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায়ের বক্তব্য অত্যন্ত স্পষ্ট।
দেওয়ানেশ্বরী কালী মন্দির কোনো ব্যক্তি, পরিবার, গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক শক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এটি একটি সার্বজনীন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। এখানে ভক্তদের দান, দেবোত্তর সম্পদ, স্বর্ণালংকার, জমি ও অন্যান্য সম্পদ থাকলে সেসবের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকা অপরিহার্য। কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্ত করতে হবে। কোনো অভিযোগ মিথ্যা হলে সেটিও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করতে হবে। কারও বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে আগেভাগে রায় নয়। প্রয়োজন নথি, প্রমাণ ও নিরপেক্ষ তদন্ত। স্থানীয় ভক্তদের ছয় দফা দাবি দেওয়ানেশ্বরী কালী মন্দিরকে ঘিরে চলমান বিতর্কের অবসানে স্থানীয় ভক্তদের পক্ষ থেকে যে দাবিগুলো উঠেছে। ১। গত কয়েক বছরের পূর্ণাঙ্গ আয় ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ।
২। প্রায় ২০ ভরি স্বর্ণালংকারের তালিকা, ওজন, উৎস ও বর্তমান অবস্থান যাচাই। ৩। স্বাধীন ও নিরপেক্ষ অডিটের ব্যবস্থা। ৪। ২০১৯ সালের সংশোধিত গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কমিটি গঠনের বৈধতা যাচাই। ৫। মন্দিরের সম্পত্তি, দান ও ধর্মীয় পরিবেশকে কেন্দ্র করে দখল, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি বা কিশোর গ্যাং ব্যবহারের অভিযোগ তদন্ত।
৬। মন্দিরের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা। জেলা প্রশাসক ও মেয়রের জরুরি হস্তক্ষেপ চান সনাতনী ভক্তরা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, প্রশাসন কোনো পক্ষের হয়ে নয়, বরং সত্য উদঘাটনের স্বার্থে মন্দিরের নথিপত্র, সম্পদ, আর্থিক হিসাব ও কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া যাচাই করবে।
অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের দায়মুক্তি, দুই ক্ষেত্রেই একটি স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন। শেষ প্রশ্ন, হিসাব চাইলে এত আপত্তি কেন? দেওয়ানেশ্বরী কালী মন্দিরকে ঘিরে স্থানীয় ভক্তদের প্রশ্নগুলো হয়তো শেষ পর্যন্ত তদন্তেই নিষ্পত্তি হবে। কিন্তু একটি বিষয় পরিষ্কার।
অভিযোগের জবাব অভিযোগ দিয়ে নয়, নথি দিয়ে দিতে হবে। ২০ ভরি স্বর্ণের হিসাব থাকলে তা যাচাই হোক।
আয় ব্যয়ের হিসাব থাকলে অডিট হোক। কমিটি গঠনের বৈধতা থাকলে গঠনতন্ত্র ও নথিতে তার প্রমাণ থাকুক।
আর কোনো অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে তদন্তের মাধ্যমেই তা প্রমাণিত হোক। কারণ মন্দিরের পবিত্রতা শুধু পূজার প্রদীপে নয়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাতেও। দেওয়ানেশ্বরী কালী মন্দিরকে ঘিরে বিরোধ কোনোভাবেই যেন সাম্প্রদায়িক বিভাজন, সংঘাত কিংবা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কারণ না হয়, এটাই স্থানীয় সচেতন মহলের প্রত্যাশা। তাদের দাবি একটাই।
‘দেওয়ানেশ্বরী কালীবাড়ি থাকুক স্বচ্ছ, নিরাপদ ও সবার। ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়।’

তেজগাঁওয়ে ৮ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার

0

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানাধীন এলাকা থেকে ৮ কেজি গাঁজাসহ রানা হাওলাদার (২৫) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে সিটি-ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস বিভাগ। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সিটি-ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস বিভাগের একটি অভিযানিক দল তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানাধীন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার কাছ থেকে ৮ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার রানা হাওলাদার শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ থানার মাঝি কান্দি এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা নজরুল হাওলাদার এবং মা সেলিনা আক্তার। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্রেফতার ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

হ্যাকিং করে নাগরিকদের গোপন তথ্য কেনাবেচা, সিটিটিসির অভিযানে যুবক গ্রেফতার

0

সার্ভার হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ ও গোপনীয় তথ্য সংগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে কেনাবেচার অভিযোগে অমিত পাল (২১) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)।

গত ১২ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১১টার দিকে রাজধানীর রমনা থানাধীন মগবাজার এলাকা থেকে সিটিটিসির ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস ডিভিশনের একটি অভিযানিক দল তাকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতার অমিত পাল টাঙ্গাইলের নাগরপুর থানার সহবতপুর এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা অরুন চন্দ্র পাল এবং মা অঞ্জলি পাল।

সিটিটিসি জানায়, অমিতসহ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সার্ভার হ্যাক করে নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করে আসছিল। পরে এসব তথ্য বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে অবৈধভাবে কেনাবেচা করা হতো।

চক্রটির মাধ্যমে কেনাবেচা করা তথ্যের মধ্যে রয়েছে জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) তথ্য, কল ডিটেইল রেকর্ড (CDR), জন্ম ও মৃত্যু সনদ, মোবাইলের রেডিও লোকেশন (LRL/LCL), বিকাশ-নগদ লেনদেনের তথ্য এবং পাসপোর্টের তথ্য হালনাগাদ-সংক্রান্ত তথ্য।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মনিটরিংয়ের মাধ্যমে সিটিটিসি এই চক্রের সন্ধান পায়। পরে অভিযান চালিয়ে চক্রটির সক্রিয় সদস্য অমিত পালকে গ্রেফতার করা হয়।

এ ঘটনায় অমিত পালসহ চক্রটির অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধে রমনা থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা প্রেসক্লাবের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন

ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা প্রেসক্লাবের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ২১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ও প্রবীণ সাংবাদিক নুরুল ইসলাম রিপনকে সভাপতি এবং সাংবাদিক নজিরুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্য পদে রয়েছেন—সিনিয়র সহ-সভাপতি মুজিব উল্লাহ তুষার, সহ-সভাপতি সুমন কুমার দে ও মুহাম্মদ ফজলুল করিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ মালেক, সাংগঠনিক সম্পাদক ওসমান গনী, অর্থ সম্পাদক মুহাম্মদ মিনহাজ উদ্দীন সিদ্দিকী, দপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন এবং সমাজকল্যাণ সম্পাদক হাকিম এমরান বিন জালাল। এ ছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে আবুল মুনসুর, মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, শ্যামল নন্দী, ইয়াছিন, জামাল, রহিম চৌধুরী রানা, তারেক হোসেন, তাহের উদ্দিন আমীরী, মুহাম্মদ রাসেল, জয়নাল আবেদীন, রায়হান ও মুহাম্মদ এমরান রয়েছেন। নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সাংবাদিকদের পেশাগত ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা আরও জোরদারে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

কালুরঘাট সেতু: ছয় বছর আগের সেই স্মারকলিপি থেকে বৃহত্তর চট্টগ্রামের নতুন অঙ্গীকার

১৯৮৮ থেকে ২০২৬, একটি সেতুর দাবি, দীর্ঘ নাগরিক আন্দোলন এবং বৃহত্তর চট্টগ্রামের মানুষের ভবিষ্যৎ কিছু দাবি সময়ের সঙ্গে পুরোনো হয় না, বরং সময় যত এগিয়ে যায় মানুষের জীবন, বাস্তবতা ও ভবিষ্যতের প্রয়োজনের সঙ্গে সেই দাবির গুরুত্ব আরও গভীর ও অনিবার্য হয়ে ওঠে। কর্ণফুলী নদীর ওপর কালুরঘাটে একটি আধুনিক নতুন রেল কাম সড়ক সেতু নির্মাণের দাবি তেমনই একটি দীর্ঘদিনের জনদাবি। আজ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ঠিক ছয় বছর আগে, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের পক্ষ থেকে আমার নেতৃত্বে কালুরঘাটে নতুন রেল কাম সড়ক সেতু নির্মাণের দাবিতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রশাসনের মাধ্যমে তৎকালীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছিল। ছয় বছর পেরিয়ে গেছে, কিন্তু সেই স্মারকলিপিতে উত্থাপিত প্রশ্নগুলো আজও প্রাসঙ্গিক। বরং চট্টগ্রাম কক্সবাজার রেল যোগাযোগের সম্প্রসারণ, দক্ষিণ চট্টগ্রামে শিল্পায়ন, নগরায়ণ, পর্যটন, ব্যবসা বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তারের কারণে কালুরঘাটে নতুন সেতুর প্রয়োজনীয়তা এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।
২০২০ সালের ১৪ সেপ্টেম্বরের সেই কর্মসূচি আমার কাছে শুধু একটি স্মারকলিপি প্রদান অনুষ্ঠান ছিল না; এটি ছিল দীর্ঘদিনের নাগরিক আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের উদ্যোগে আমার নেতৃত্বে চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রশাসনের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিতে কালুরঘাটে নতুন রেল কাম সড়ক সেতু নির্মাণের পাশাপাশি পুরোনো সেতুর দুরবস্থা, সেতুটির ওপর ক্রমবর্ধমান যানবাহনের চাপ, দীর্ঘ যানজট, মানুষের দুর্ভোগ, নিরাপদ যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা এবং দক্ষিণ চট্টগ্রামের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সম্ভাবনার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছিল। স্মারকলিপি গ্রহণকালে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার শংকর রঞ্জন সাহা চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের নেতৃবৃন্দকে স্বাগত জানিয়ে স্মারকলিপিটি যথাযথভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন। তিনি দেশের উন্নয়নে সরকারের আন্তরিকতার কথাও উল্লেখ করেছিলেন এবং কালুরঘাটে দ্বিতীয় সেতু নির্মাণে ইতিবাচক পদক্ষেপের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছিলেন। সেদিনের কর্মসূচিতে এডভোকেট মাসুদুল আলম বাবলু, এডভোকেট সেলিম চৌধুরী, আকরাম হোসেন, জসিম উদ্দিন, লাভলী দিও, মো. আলী, মো. রাকিব, মুরাদ হোসেন বিপ্লবসহ নাগরিক ফোরামের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তবে কালুরঘাট সেতু নিয়ে আমার সম্পৃক্ততা ২০২০ সালে শুরু হয়নি। বৃহত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থা এবং নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। ১৯৮৮ সাল থেকেই বৃহত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়ন আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থেকে আমি উপলব্ধি করেছি যে চট্টগ্রামের উন্নয়নকে শুধু মহানগরের সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে বৃহত্তর চট্টগ্রামের মানুষের প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ের বিশাল জনগোষ্ঠীকে চট্টগ্রাম মহানগর এবং দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত করতে হলে উন্নত ও নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা অপরিহার্য। বোয়ালখালী, পটিয়া, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, আনোয়ারা, বাঁশখালীসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকার মানুষের সঙ্গে চট্টগ্রাম নগরীর যোগাযোগের ক্ষেত্রে কালুরঘাট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর পাশাপাশি কক্সবাজার এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের সঙ্গে বৃহত্তর যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রেও কালুরঘাটের গুরুত্ব রয়েছে। সেই উপলব্ধি থেকেই দীর্ঘ বছর ধরে বিভিন্ন সভা, সেমিনার, মানববন্ধন, স্মারকলিপি, গণসংযোগ এবং জনমত গঠনের মাধ্যমে কালুরঘাটে নতুন সেতুর প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরেছি।
কালুরঘাটের পুরোনো সেতু দীর্ঘদিন ধরে সড়ক ও রেল যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে চট্টগ্রামের জনসংখ্যা বেড়েছে, যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে, মানুষের চলাচল বেড়েছে, দক্ষিণ চট্টগ্রামে নতুন নতুন বসতি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে এবং চট্টগ্রাম কক্সবাজার রেল যোগাযোগের পরিধিও সম্প্রসারিত হয়েছে। ফলে পুরোনো সেতুটির ওপর চাপ দিন দিন বেড়েই চলেছে। সেতুটি একমুখী হওয়ায় সামান্য যানজটও দ্রুত দীর্ঘ যানজটে পরিণত হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা মানুষকে সেতু পার হওয়ার অপেক্ষায় থাকতে হয়। এই দুর্ভোগ শুধু সময়ের অপচয় নয়, এর সঙ্গে মানুষের কর্মঘণ্টা, ব্যবসায়িক ক্ষতি, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম, রোগীদের চিকিৎসা গ্রহণ এবং জরুরি সেবার বিষয়ও জড়িয়ে আছে। একজন মুমূর্ষু রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার সময় যদি যানজটে আটকে থাকতে হয়, তখন একটি সেতুর সীমাবদ্ধতা আর কেবল যোগাযোগের সমস্যা থাকে না, সেটি মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার প্রশ্নে পরিণত হয়।
কালুরঘাট সেতু নিয়ে আমাদের দাবি তাই কেবল যানজট নিরসনের দাবি নয়। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার দাবি। একটি আধুনিক নতুন রেল কাম সড়ক সেতু নির্মাণ হলে চট্টগ্রাম মহানগর ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের মধ্যে যোগাযোগ আরও দ্রুত, নিরাপদ ও কার্যকর হবে। পণ্য পরিবহন সহজ হবে, ব্যবসা বাণিজ্যের গতি বাড়বে, শিল্পায়নের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে, কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাত করা সম্ভব হবে এবং মানুষের কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগরের সংযোগ আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে কক্সবাজারের পর্যটন, দক্ষিণ চট্টগ্রামের শিল্প বাণিজ্য এবং বৃহত্তর চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
চট্টগ্রাম কক্সবাজার রেল যোগাযোগ চালু ও সম্প্রসারণের ফলে দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। কক্সবাজারের পর্যটন, ব্যবসা বাণিজ্য এবং মানুষের চলাচলের সঙ্গে চট্টগ্রামের সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। এই নতুন বাস্তবতায় পুরোনো কালুরঘাট সেতুর ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যতের যোগাযোগব্যবস্থা পরিচালনা করা কতটা যুক্তিসঙ্গত, সেটিও এখন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। আমরা মনে করি, আধুনিক রেল যোগাযোগব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কালুরঘাটে একটি নতুন রেল কাম সড়ক সেতু নির্মাণ করা অপরিহার্য। শুধু বর্তমানের কথা চিন্তা করলে হবে না, আগামী কয়েক দশকের চাহিদা বিবেচনা করে সেতুটির পরিকল্পনা করতে হবে।
কর্ণফুলী টানেলকে কেন্দ্র করেও দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক ও আবাসিক সম্ভাবনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। কর্ণফুলীর দুই পাড়ের যোগাযোগ আরও সহজ হওয়ার ফলে দক্ষিণ চট্টগ্রামে শিল্প, ব্যবসা, আবাসন ও পর্যটনকেন্দ্রিক নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। আগামী দিনে এই অঞ্চলে মানুষের বসতি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও বাড়বে বলেই প্রত্যাশা করা যায়। ফলে এখন থেকেই একটি সমন্বিত যোগাযোগব্যবস্থার পরিকল্পনা করা জরুরি। কালুরঘাটে নতুন সেতু সেই পরিকল্পনার একটি অপরিহার্য অংশ হতে পারে। এটি শুধু একটি সেতু হবে না, বরং চট্টগ্রাম মহানগর ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের মধ্যে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক সেতুবন্ধন তৈরি করবে।
কালুরঘাটে দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের দাবির সঙ্গে প্রয়াত সংসদ সদস্য মঈন উদ্দিন খান বাদলের স্বপ্ন ও ভূমিকার কথাও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে হয়। দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ দুর্ভোগ তিনি উপলব্ধি করেছিলেন এবং কালুরঘাটে নতুন সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সোচ্চার ছিলেন। তার সেই স্বপ্ন আজ দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার সঙ্গে মিশে আছে। বর্তমানে এই দাবি কোনো একক ব্যক্তি বা সংগঠনের দাবি নয়; এটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
ছয় বছর আগে যে চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের ব্যানারে আমরা কালুরঘাট সেতুর দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেছিলাম, আজ সেই নাগরিক আন্দোলন সাংগঠনিকভাবে আরও বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমানে আমরা বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামকে বৃহত্তর অঞ্চলের মানুষের নাগরিক অধিকার, উন্নয়ন, যোগাযোগ ও জনস্বার্থের একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার কাজ করছি। চট্টগ্রাম মহানগর, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার পাশাপাশি কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার মানুষের সমস্যা ও সম্ভাবনাকে সামনে রেখে বৃহত্তর সাংগঠনিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে। অর্থাৎ আজকের নাগরিক আন্দোলন শুধু একটি শহর বা একটি জেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি বৃহত্তর চট্টগ্রামের মানুষের সমন্বিত উন্নয়ন ভাবনার অংশ হয়ে উঠছে।
বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের বর্তমান নেতৃত্বে রয়েছেন চেয়ারম্যান আবু সৈয়দ, কার্যকরী সভাপতি সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহাফুজুর রহমান, সিনিয়র সহসভাপতি লায়ন সানাউল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব লায়ন জিল্লুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মদ সেলিম এবং মহাসচিব হিসেবে আমি। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে বৃহত্তর চট্টগ্রামের মানুষের সমস্যা ও সম্ভাবনাকে দলমত ও সংকীর্ণ আঞ্চলিকতার ঊর্ধ্বে রেখে জনস্বার্থের ভিত্তিতে সামনে তুলে ধরা এবং সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সুসংগঠিতভাবে উপস্থাপন করা।
আমরা মনে করি, বৃহত্তর চট্টগ্রামের সমস্যাগুলোকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখলে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান পাওয়া কঠিন। চট্টগ্রাম মহানগরের জলাবদ্ধতা, যানজট ও নাগরিক সমস্যা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলার যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত সমস্যা গুরুত্বপূর্ণ। কক্সবাজারের পর্যটন ও যোগাযোগ, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির পর্যটন, যোগাযোগ ও উন্নয়ন সম্ভাবনা এবং পুরো অঞ্চলের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক বিকাশ একই বৃহত্তর উন্নয়ন কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত। তাই বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের লক্ষ্য হচ্ছে এই অঞ্চলকে একটি সমন্বিত উন্নয়ন ভাবনার আওতায় নিয়ে আসা এবং মানুষের ন্যায্য দাবিগুলোকে সংগঠিতভাবে উপস্থাপন করা।
এই বৃহত্তর কর্মসূচির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার থাকবে কালুরঘাটে নতুন রেল কাম সড়ক সেতু নির্মাণ। এ দাবিকে সামনে রেখে আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী সভা, সেমিনার, মতবিনিময়, স্মারকলিপি, মানববন্ধন, গণসংযোগ, জনমত গঠন এবং অন্যান্য নিয়মতান্ত্রিক নাগরিক কর্মসূচি গ্রহণ করব। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, রেলওয়ে, সড়ক ও যোগাযোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, প্রকৌশলী, বিশেষজ্ঞ, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে কালুরঘাট সেতুর প্রয়োজনীয়তা আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরা হবে। আমরা চাই, প্রকল্পের পরিকল্পনা, নকশা, অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে যাক এবং জনগণকে একটি সুস্পষ্ট বাস্তবায়ন পরিকল্পনা জানানো হোক।
আমাদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য সরকারের বিরোধিতা করা নয়। বরং সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নাগরিক সমাজের যৌক্তিক দাবি ও পরামর্শকে যুক্ত করে উন্নয়নের সুফল আরও ব্যাপক মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। যে দাবি জনস্বার্থে প্রয়োজনীয়, যে দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং যে দাবি একটি অঞ্চলের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য, সেই দাবি সরকারের কাছে তুলে ধরা নাগরিক সমাজের দায়িত্ব। আমরা সেই দায়িত্ববোধ থেকেই কাজ করে যেতে চাই।
আজ ছয় বছর পর ফিরে তাকালে মনে হয়, ২০২০ সালের সেই স্মারকলিপি ছিল একটি দীর্ঘ আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ দলিল। তখন আমাদের হাতে ছিল একটি স্মারকলিপি, সঙ্গে ছিল কিছু মানুষ এবং একটি নির্দিষ্ট দাবি। আজ আমাদের হাতে রয়েছে দীর্ঘ আন্দোলনের অভিজ্ঞতা, আরও বিস্তৃত সাংগঠনিক কাঠামো এবং বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন জেলার মানুষের প্রত্যাশা। সময় আমাদের থামাতে পারেনি। বরং সময় আমাদের আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তাকে আরও স্পষ্ট করেছে।
১৯৮৮ সাল থেকে বৃহত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়নের দাবিতে যে পথচলা শুরু হয়েছিল, ২০২০ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের পক্ষ থেকে কালুরঘাট সেতুর দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান ছিল সেই পথচলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। আর আজ ২০২৬ সালে এসে সেই নাগরিক আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়ে বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের সাংগঠনিক কর্মসূচির মাধ্যমে পাঁচ জেলা ও মহানগরের মানুষের বিভিন্ন সমস্যা ও উন্নয়ন দাবিকে সামনে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
আমরা বিশ্বাস করি, কালুরঘাটে নতুন সেতু নির্মাণ শুধু একটি যোগাযোগ প্রকল্প নয়; এটি দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান, চট্টগ্রাম মহানগর ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করা, চট্টগ্রাম কক্সবাজার যোগাযোগব্যবস্থাকে আধুনিক করা এবং বৃহত্তর চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ উন্নয়নকে গতিশীল করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তাই এই দাবিকে আর বিলম্বিত না করে বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে নেওয়া সময়ের দাবি।
ছয় বছর আগে যে স্মারকলিপি হাতে নিয়ে আমরা প্রশাসনের কাছে গিয়েছিলাম, আজ ছয় বছর পর সেই স্মারকলিপির স্মৃতি আমাদের নতুন করে দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেয়। তখন আমরা বলেছিলাম কালুরঘাটে নতুন সেতু প্রয়োজন। আজ আমরা আরও দৃঢ়ভাবে বলছি, কালুরঘাটে আধুনিক নতুন রেল কাম সড়ক সেতু এখন সময়ের দাবি, জননিরাপত্তার দাবি, দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক উন্নয়নের দাবি এবং বৃহত্তর চট্টগ্রামের ভবিষ্যতের দাবি।
আমরা চাই কালুরঘাটে নতুন সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে যাক। আমরা চাই দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষ নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে চলাচলের সুযোগ পাক। আমরা চাই কোনো রোগী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী কিংবা সাধারণ মানুষ আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেতুর ওপর যানজটে আটকে না থাকুক। আমরা চাই চট্টগ্রাম কক্সবাজার রেল যোগাযোগের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগেরও আধুনিক সমন্বয় তৈরি হোক। আমরা চাই বৃহত্তর চট্টগ্রামের প্রতিটি জেলা উন্নয়নের সমান সুযোগ পাক।
কালুরঘাট সেতু তাই আমাদের কাছে শুধু একটি সেতু নয়। এটি মানুষের নিরাপত্তার সেতু, এটি অর্থনীতির সেতু, এটি দক্ষিণ চট্টগ্রামের উন্নয়নের সেতু, এটি চট্টগ্রাম কক্সবাজার যোগাযোগের সেতু এবং সর্বোপরি এটি বৃহত্তর চট্টগ্রামের ভবিষ্যতের সঙ্গে বর্তমানের সংযোগ স্থাপনের সেতু।
১৯৮৮ থেকে যে পথচলা, ২০২০ সালের যে স্মারকলিপি, আজ ২০২৬ সালের যে বৃহত্তর সাংগঠনিক শক্তি, সবকিছুর কেন্দ্রেই রয়েছে একটি অঙ্গীকার, বৃহত্তর চট্টগ্রামের মানুষের ন্যায্য দাবি ও উন্নয়নের প্রশ্নে আমরা পিছিয়ে যাব না। কালুরঘাটে নতুন সেতু নির্মাণের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের নিয়মতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ ও জনস্বার্থভিত্তিক আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
মো. কামাল উদ্দিন
মহাসচিব
বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম

রাজপথের পরীক্ষিত সৈনিক মোহাম্মদ উদ্দিন মহিউদ্দিন নাগরিক ফোরামের মহানগর সমন্বয়ক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বৃহত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়ন, নাগরিক অধিকার ও জনস্বার্থের আন্দোলনে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত কর্মী, বিশিষ্ট সমাজসেবক, সাবেক ছাত্রদল নেতা এবং চট্টগ্রামের সাবেক কৃতি ফুটবল খেলোয়াড় মোহাম্মদ উদ্দিন মহিউদ্দিনকে তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা, দীর্ঘদিনের সামাজিক কর্মকাণ্ড ও রাজপথের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সমন্বয়ক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
বায়েজিদ থানার ২ নম্বর জালালাবাদ ওয়ার্ডের কৃতি সন্তান মোহাম্মদ উদ্দিন মহিউদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন নাগরিক ও উন্নয়নমূলক আন্দোলন-সংগ্রামের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ছাত্রজীবন থেকেই সামাজিক কর্মকাণ্ড, ক্রীড়া ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে। রাজনীতির মাঠেও তিনি একজন পরিচিত ও পরীক্ষিত সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনেও তাঁর রয়েছে সম্পৃক্ততা। সাবেক ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবে মাঠের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা তাঁকে একজন জনসম্পৃক্ত সংগঠক হিসেবে গড়ে তুলেছে।
বৃহত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়ন, চট্টগ্রামের ন্যায্য অধিকার, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, নাগরিক সমস্যা নিরসন এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দাবিতে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা রয়েছে। ফলে নাগরিক ফোরামের মহানগর পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী, সুসংগঠিত ও গতিশীল করতে তাঁর অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের মানুষের অধিকার, উন্নয়ন ও নাগরিক সমস্যাগুলোকে সামনে রেখে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে। সংগঠনের মহানগর কার্যক্রমকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও বিস্তৃত করা এবং নাগরিকদের দাবি-দাওয়া সংগঠিতভাবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত সমন্বয়ক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ উদ্দিন মহিউদ্দিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন—এমন প্রত্যাশা সংগঠনের নেতৃবৃন্দের।
তাঁর দায়িত্ব প্রদানের বিষয়ে বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক প্রভাবশালী ছাত্রনেতা সৈয়দ মোহাম্মদ সেলিম বলেন, মোহাম্মদ উদ্দিন মহিউদ্দিন একজন দীর্ঘদিনের রাজপথের পরীক্ষিত কর্মী। তাঁর সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, সামাজিক পরিচিতি, জনসম্পৃক্ততা ও নেতৃত্বের সক্ষমতা বিবেচনা করেই তাঁকে চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সমন্বয়ক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, মোহাম্মদ উদ্দিন মহিউদ্দিনের নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক দক্ষতায় বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের মহানগর কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে এবং চট্টগ্রামের মানুষের ন্যায্য দাবি ও অধিকার আদায়ের আন্দোলন নতুন গতি পাবে।
জনস্বার্থে ঐক্য, চট্টগ্রামের উন্নয়নে অঙ্গীকার—এই প্রত্যয়ে নতুন দায়িত্বে মোহাম্মদ উদ্দিন মহিউদ্দিনের পথচলা আরও বেগবান হোক।

এপিবিএন আইন-২০২৬: সময়ের দাবি পূরণে রাষ্ট্রের ঐতিহাসিক পদক্ষেপ সরকার ও জাতীয় সংসদকে অভিনন্দন—এপিবিএন প্রধান হাসিব আজিজের নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা

মো. কামাল উদ্দিনঃ
রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনগণের জানমাল রক্ষা এবং পরিবর্তিত অপরাধ বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও দক্ষ, আধুনিক ও কার্যকর করে গড়ে তোলা একটি চলমান রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। সময়ের সঙ্গে অপরাধের ধরন যেমন বদলেছে, তেমনি বদলেছে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জও। সন্ত্রাস, সংঘবদ্ধ অপরাধ, মাদক, মানবপাচার, সাইবার অপরাধসহ বহুমাত্রিক অপরাধ মোকাবিলায় বিশেষায়িত বাহিনীগুলোর আইনগত সক্ষমতা যুগোপযোগী করা এখন আর সময়ের দাবি নয়—এটি রাষ্ট্র পরিচালনার অপরিহার্য শর্ত।
এই বাস্তবতায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন—এপিবিএনকে আধুনিক, জনবান্ধব ও অধিক কার্যকর আইনগত কাঠামোর আওতায় আনতে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হওয়া নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ।
এই ঐতিহাসিক উদ্যোগের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জাতীয় সংসদের মাননীয় স্পিকার, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সম্মানিত সদস্যবৃন্দ এবং জাতীয় সংসদের সব সম্মানিত সদস্যের প্রতি এপিবিএনের পুরো ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও গভীর কৃতজ্ঞতা জানানো সময়ের ন্যায্য দাবি।
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ জাতীয় সংসদে বিলটি পাস হয়। নতুন আইনের মাধ্যমে ১৯৭৯ সালের পুরোনো অধ্যাদেশের পরিবর্তে এপিবিএনের জন্য বাংলা ভাষায় একটি আধুনিক আইনগত কাঠামো প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হয়েছে। সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আইন শুধু পরিবর্তন নয়—এটি সময়কে স্বীকার করার সাহস
১৯৭৯ সালের আইনটি যে সময়ের বাস্তবতায় প্রণীত হয়েছিল, ২০২৬ সালের বাংলাদেশ সেই বাস্তবতায় নেই। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামো, প্রযুক্তি, অপরাধের প্রকৃতি, জনসংখ্যা, নগরায়ণ, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং সাইবার জগত—সবকিছুই আমূল পরিবর্তিত হয়েছে।
তাই পুরোনো আইনকে যুগোপযোগী করে নতুন আইনি কাঠামো প্রণয়ন নিছক প্রশাসনিক সংস্কার নয়; এটি রাষ্ট্রের পরিবর্তিত বাস্তবতাকে স্বীকার করে ভবিষ্যতের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি।
সরকারও এই আইনকে এপিবিএনকে আরও জনবান্ধব করার উদ্দেশ্যে যুগোপযোগী করার কথা জানিয়েছে।
এপিবিএনের ক্ষমতা বাড়ল, বাড়ল দায়িত্বও
নতুন আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো—এপিবিএনের ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা বিস্তৃত করা।
আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ক্ষেত্রে এপিবিএন সদস্যরা তদন্ত, তল্লাশি, গ্রেফতার ও জব্দসহ সংশ্লিষ্ট আইনগত কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন। ফলে এপিবিএন কেবল বিশেষ নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে নয়, নির্দিষ্ট অপরাধ তদন্তেও আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের সুযোগ পাবে।
সাইবার অপরাধ, সন্ত্রাস, সংঘবদ্ধ অপরাধ, মানবপাচার, গুম, ভূমিদস্যুতা ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধ মোকাবিলায় এপিবিএনের দায়িত্ব ও সক্ষমতা সম্প্রসারণের বিধানও নতুন আইনের আলোচনায় এসেছে।
অর্থাৎ এপিবিএনের সামনে এখন একদিকে বর্ধিত ক্ষমতা, অন্যদিকে তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বর্ধিত দায়িত্ব, পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহির প্রত্যাশা।
এপিবিএন প্রধান হাসিব আজিজ: পরিবর্তনের সময়ের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব
এই নতুন আইনকে কেন্দ্র করে এপিবিএনের পেশাগত সক্ষমতা, সাংগঠনিক প্রস্তুতি ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের কথা বলতে গেলে বর্তমান এপিবিএন প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. হাসিব আজিজ বিপিএম-এর নেতৃত্বের প্রসঙ্গ স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসে।
একটি বিশেষায়িত বাহিনীকে কেবল অস্ত্র, পোশাক ও জনবল দিয়ে শক্তিশালী করা যায় না। একটি আধুনিক বাহিনীকে শক্তিশালী করতে প্রয়োজন দক্ষ নেতৃত্ব, পেশাদার সংস্কৃতি, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিনির্ভরতা, শৃঙ্খলা, মানবিকতা এবং জনগণের আস্থা।
এপিবিএনের মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা, সদস্যদের দায়িত্ব, অপরাধ মোকাবিলার পরিবর্তিত চিত্র এবং একটি বিশেষায়িত বাহিনীকে আরও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তা নেতৃত্বের পর্যায় থেকে যথাযথভাবে তুলে ধরা—এ ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক প্রচেষ্টার গুরুত্ব অনস্বীকার্য।
এখানে এপিবিএন প্রধান হাসিব আজিজের নেতৃত্বকে আমরা একটি পরিবর্তনশীল সময়ের নেতৃত্ব হিসেবে মূল্যায়ন করতে পারি।
তার নেতৃত্বে এপিবিএনের সদস্যদের আরও পেশাদার, দায়িত্বশীল ও জনমুখী করে গড়ে তোলার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, নতুন আইন সেই প্রত্যাশাকে আরও বিস্তৃত করেছে।
এখন এপিবিএনের সামনে দায়িত্ব শুধু অভিযান পরিচালনা নয়; বরং আইনের সর্বোচ্চ মর্যাদা রক্ষা করে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা
এই আইন প্রণয়নের উদ্যোগের জন্য সরকারের প্রতি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার যে এপিবিএনের বিদ্যমান আইনকে সময়োপযোগী করার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছে, তার জন্য আন্তরিক অভিনন্দন।
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা ২৪ আগস্ট ২০২৬ ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বিলটি সংসদীয় প্রক্রিয়া অতিক্রম করে জাতীয় সংসদে পাস হয়।
একইভাবে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানাতে হয়। কারণ তিনি সংসদে বিলটি উত্থাপন করেছেন এবং পুরোনো আইনকে বাংলায় এনে যুগোপযোগী করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিও বিলটি পরীক্ষা করে সংসদে পাঠানোর সুপারিশ করেছে। কমিটির বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সদস্য ও কর্মকর্তারা অংশ নেন।
পুরো জাতীয় সংসদের প্রতি কৃতজ্ঞতা
কোনো আইন একক কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়। এটি রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার সম্মিলিত ফল।
সুতরাং এপিবিএন আইন-২০২৬ পাসের ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদের সব সম্মানিত সদস্যের প্রতিও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন প্রাপ্য।
এই আইন পাসের মধ্য দিয়ে সংসদ শুধু একটি পুরোনো অধ্যাদেশের পরিবর্তে নতুন আইন প্রণয়ন করেনি; বরং একটি বিশেষায়িত বাহিনীকে ভবিষ্যতের নিরাপত্তা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তকে অনুমোদন করেছে।
শ্রদ্ধায় স্মরণ—এপিবিএনের ঐতিহাসিক পথচলা
এপিবিএনের ইতিহাস বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাঠামোর ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
বাংলাদেশ পুলিশের সরকারি তথ্য অনুযায়ী এপিবিএনের যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৫ সালে। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালের অধ্যাদেশ এর আইনগত ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, সশস্ত্র অপরাধী দমন, অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা করাই ছিল এর অন্যতম লক্ষ্য।
এই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার সঙ্গে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান গঠনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান ও উত্তরাধিকারকে যারা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন, তাদের কাছে এপিবিএনের এই নতুন অধ্যায় বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি তাই জানাই গভীর শ্রদ্ধা।
তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের এক সংকটময় সময়ের রাষ্ট্রনায়ক, যিনি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা, শৃঙ্খলা ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে দৃঢ়তার প্রতীক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছেন।
এপিবিএনের প্রতিষ্ঠাকালীন ইতিহাসের সঙ্গে ১৯৭৫ সালের রাষ্ট্রীয় প্রেক্ষাপট ও পরবর্তী আইনগত কাঠামোকে স্মরণ করে আজকের এই নতুন আইন প্রণয়নের মুহূর্তে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন তাই একটি ঐতিহাসিক স্মরণচিহ্ন।
পুরোনো অধ্যাদেশ থেকে আধুনিক আইন—এক দীর্ঘ যাত্রার নতুন অধ্যায়
১৯৭৯ থেকে ২০২৬—প্রায় অর্ধশতাব্দীর কাছাকাছি সময়।
এই দীর্ঘ সময়ে এপিবিএন দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা দায়িত্ব পালন করেছে। আজ সেই বাহিনী নতুন আইনগত কাঠামোর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
এটি যেন একটি দীর্ঘ যাত্রার নতুন মাইলফলক।
পুরোনো অধ্যাদেশের সীমা পেরিয়ে আধুনিক আইনের পথে এপিবিএন।
অভিজ্ঞতার উত্তরাধিকার নিয়ে প্রযুক্তির ভবিষ্যতের দিকে এপিবিএন।
শক্তির সঙ্গে মানবিকতা, ক্ষমতার সঙ্গে জবাবদিহি এবং দায়িত্বের সঙ্গে পেশাদারিত্ব—এই হোক নতুন এপিবিএনের অঙ্গীকার।
ক্ষমতার সঙ্গে জবাবদিহি—হোক নতুন অঙ্গীকার
নতুন আইন এপিবিএনের ক্ষমতা বাড়িয়েছে—এটি নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু রাষ্ট্রের জনগণের প্রত্যাশা আরও বড়।
মানুষ চায় নিরাপত্তা।
মানুষ চায় ন্যায়বিচার।
মানুষ চায় অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা।
আবার মানুষ একই সঙ্গে চায়—আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও যেন আইনের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল থাকে।
সুতরাং নতুন এপিবিএনের মূল দর্শন হওয়া উচিত—
“আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, আইন প্রয়োগকারীও নয়।”
ক্ষমতা প্রয়োগ হবে আইনের ভিত্তিতে।
গ্রেফতার হবে আইনি প্রক্রিয়ায়।
তদন্ত হবে নিরপেক্ষভাবে।
আলামত সংরক্ষণ হবে বিধি অনুযায়ী।
নিরপরাধ মানুষ হবে সুরক্ষিত।
অপরাধী হবে আইনের আওতায়।
এভাবেই এপিবিএন হয়ে উঠতে পারে আরও শক্তিশালী, আরও পেশাদার এবং একই সঙ্গে আরও জনবান্ধব একটি বিশেষায়িত বাহিনী।
এপিবিএনের প্রতিটি সদস্যের জন্য নতুন প্রত্যয়
নতুন আইন শুধু কর্মকর্তাদের জন্য নয়; এটি এপিবিএনের প্রতিটি সদস্যের জন্য নতুন দায়িত্বের বার্তা।
একজন কনস্টেবল থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা—প্রত্যেককে মনে রাখতে হবে, ইউনিফর্ম রাষ্ট্রের ক্ষমতার প্রতীক, কিন্তু সেই ক্ষমতার চূড়ান্ত মালিক জনগণ।
জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মানুষের আস্থা অর্জন করা এবং রাষ্ট্রের আইনকে সম্মান করা—এই তিনটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়েই গড়ে উঠতে পারে আধুনিক এপিবিএন।
অভিনন্দন বাংলাদেশ সরকারকে
এপিবিএন আইন-২০২৬ পাস হওয়ায় তাই আবারও বলতে চাই—
অভিনন্দন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে।
অভিনন্দন মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে।
অভিনন্দন জাতীয় সংসদের সম্মানিত সদস্যদের।
অভিনন্দন সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে।
অভিনন্দন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সকল কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে।
এবং বিশেষ অভিনন্দন এপিবিএনের প্রতিটি কর্মকর্তা ও সদস্যকে।
এই আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে এপিবিএন আরও দক্ষ, আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, মানবিক ও জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখুক—এটাই প্রত্যাশা।
হাসিব আজিজের নেতৃত্বে নতুন প্রত্যাশা
এপিবিএন প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. হাসিব আজিজ-এর নেতৃত্বে বাহিনীটি নতুন আইন বাস্তবায়নের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়কে পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও জনসেবার নতুন অধ্যায়ে রূপ দেবে—এ প্রত্যাশা থাকল।
আইন পেয়েছে নতুন ভিত্তি; এখন প্রয়োজন তার যথাযথ বাস্তবায়ন।
নতুন আইন হোক নতুন শক্তি।
নতুন শক্তি হোক জননিরাপত্তার নিশ্চয়তা।
আর জননিরাপত্তা হোক মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক।
শেষকথা
এপিবিএন কেবল একটি বাহিনীর নাম নয়—এটি বাংলাদেশের নিরাপত্তা কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
১৯৭৫-এর যাত্রা, ১৯৭৯-এর আইনগত ভিত্তি, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং ২০২৬-এর আধুনিক আইন—এই দীর্ঘ পথচলা এপিবিএনকে একটি নতুন বাস্তবতার সামনে দাঁড় করিয়েছে।
আজ প্রয়োজন অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের নিরাপত্তা কাঠামো নির্মাণ।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, এপিবিএনের গৌরবময় পথচলার সব কর্মকর্তা ও সদস্যের প্রতি সম্মান এবং নতুন আইন প্রণয়নের জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জাতীয় সংসদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।
দেশের মানুষের নিরাপত্তা, আইনের শাসন ও জনস্বার্থে—
এপিবিএন আরও শক্তিশালী হোক,
আরও আধুনিক হোক,
আরও মানবিক হোক,
আরও জনবান্ধব হোক।
বাংলাদেশের নিরাপত্তায় এপিবিএন—আস্থার প্রতীক হয়ে এগিয়ে যাক নতুন আইনের শক্তিতে।

উত্তর মাদার্শায় ৪৮তম ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ও সুন্নী সম্মেলন অনুষ্ঠিত

হাটহাজারী, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানার অন্তর্গত উত্তর মাদার্শায় অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে ৪৮তম ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ও সুন্নী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১২ সেপ্টেম্বর (শনিবার) উত্তর মাদার্শা উচ্চ বিদ্যালয় ময়দানে বিশাল এই মাহফিল ও সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। উত্তর মাদার্শা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত বাস্তবায়ন কমিটির উদ্যোগে এই
সম্মেলনের সফল বাস্তবায়ন ঘটে।

বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ্ব মোঃ হাসান তারেক চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মাহফিলে প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাগতিয়া এশাতুল উলুম কামিল এম.এ মাদরাসার শাইখুল হাদীস, আল্লামা মুফতি কাজী আনোয়ারুল আলম সিদ্দিকী। বিশেষ মেহমান হিসেবে উপস্থিত থেকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপনের গুরুত্ব ও রাসূলে পাক (সা.) এর অসীম শানের ওপর আলোচনা করেন পাহাড়তলী নেছারীয়া আলীয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ হযরত মাওলানা রফিক উদ্দিন ছিদ্দিকী।

সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বয়ান পেশ করেন রাউজান গহিরার মোবারক খীল শাহী জামে মসজিদের খতিব হযরত মাওলানা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন কাদেরী। তিনি মাহফিল সফল করতে সার্বিক সহযোগিতার উপকারিতা ও গুরুত্বের ওপর বিস্তারিত আলোচনা করেন।

এছাড়াও বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উত্তর মাদার্শা উচ্চ বিদ্যালয়ের হেড মাওলানা হযরত মাওলানা মোহাম্মদ আবদুস সবুর, মোহাম্মদীয় হাশেমীয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার হযরত মাওলানা মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন এবং একই মাদরাসার সুপার হযরত মাওলানা আবু তালেব আলকাদেরী।

মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে মানবিক ও ব্যবসায়িক সংগঠক, আইডিয়াল হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান
লায়ন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত ছিলেন।

মাহফিলের শুভ উদ্বোধন করেন আলহাজ্ব হযরত মাওলানা ফরিদুল আলম এবং সমগ্র মাহফিলটি পরিচালনা করেন হাফেজ মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম। সম্মেলনটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেন কমিটির আহ্বায়ক হাজী মুহাম্মদ সেলিম এবং সচিব হাজী মোহাম্মদ আলম খাঁন।

উক্ত সুন্নী সম্মেলনে এলাকার সর্বস্তরের হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলমান অংশগ্রহণ করেন। পরিশেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ এবং শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে মাহফিলের সমাপ্তি ঘটে।

মহানবীর ভালোবাসায় মানবতার ডাক—উত্তর চান্দগাঁওয়ে সেলিম উল্লাহ চৌধুরীর ব্যতিক্রমী আয়োজন মহানবীর ভালোবাসায় মানবতার ডাক উত্তর চান্দগাঁওয়ে সেলিম উল্লাহ চৌধুরীর উদ্যোগে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল প্রধান অতিথি কামাল উদ্দিন: মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসার সবচেয়ে বড় প্রমাণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো

-মোহাম্মদ মহসিনঃ
ধর্মীয় আবেগের সঙ্গে মানবিকতার মেলবন্ধন—মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ, শান্তি, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও মানুষের প্রতি ভালোবাসার বার্তা ছড়িয়ে দিতে চট্টগ্রামের উত্তর চান্দগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত হলো পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা ২টায় উত্তর চান্দগাঁওয়ের সাকি মেম্বার ঘাটা এলাকায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি উঠে আসে মানবতার প্রতি দায়বদ্ধতার অঙ্গীকার। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সমাজকর্মী, সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় এক মানবিক মিলনমেলায়।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন মো. কামাল উদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক দৈনিক ভোরের আওয়াজ, ডেপুটি এডিটর দি টুরিস্ট ও টেলিভিশন উপস্থাপক।
সভাপতিত্ব ও সার্বিক পরিচালনা করেন মো. সেলিম উল্লাহ চৌধুরী, প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি—Green Adorn এবং প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি—সফিউর রহমান চৌধুরী ট্রাস্ট।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি হামিদ হোসাইন, সিনিয়র সহসভাপতি লায়ন জিল্লুর রহমান শাকিল, মোহাম্মদ নুরুল হুদা চৌধুরী, দেলোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তি, সমাজসেবক, সাংবাদিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
আনুষ্ঠানিকতার বাইরে মানবতার শিক্ষা
আলোচনায় বক্তারা বলেন, ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) কেবল একটি ধর্মীয় আয়োজন নয়; মহানবী (সা.)-এর জীবন, কর্ম ও আদর্শ থেকে মানবিকতা, ন্যায়, সাম্য, সহমর্মিতা ও শান্তির শিক্ষা গ্রহণেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।
তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে সমাজ থেকে হিংসা, বিদ্বেষ, বৈষম্য ও অন্যায় দূর করে মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার পরিবেশ সৃষ্টি করা সম্ভব বলে মত দেন বক্তারা।
তাঁরা বলেন, ধর্মের শিক্ষা মানুষের জীবনে তখনই অর্থবহ হয়ে ওঠে, যখন তা মানুষের কল্যাণে প্রতিফলিত হয়। ক্ষুধার্তকে খাদ্য দেওয়া, অসহায়ের পাশে দাঁড়ানো, বিপদগ্রস্তকে সহযোগিতা করা, মানুষের অধিকার রক্ষা করা এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই মহানবী (সা.)-এর আদর্শ বাস্তব জীবনে ধারণ করা সম্ভব।
সেলিম উল্লাহ চৌধুরী: মিলাদ হোক মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রেরণা
সভাপতির বক্তব্যে সেলিম উল্লাহ চৌধুরী ধর্মীয় আয়োজনকে মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, মহানবী (সা.) মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও দায়িত্ববোধের শিক্ষা দিয়েছেন। তাই মিলাদুন্নবীর মতো আয়োজন শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজের মানুষের কল্যাণে কাজ করার অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করা উচিত।
তিনি Green Adorn এবং সফিউর রহমান চৌধুরী ট্রাস্টের মানবিক কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে বলেন, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থাকার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। সমাজের বিত্তবান ও সক্ষম ব্যক্তিদেরও মানবিক কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
কামাল উদ্দিন: মহানবী (সা.) ছিলেন মানবতার আলোকবর্তিকা
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. কামাল উদ্দিন বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন মানবতার জন্য এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা। তিনি মানুষকে ভালোবাসতে শিখিয়েছেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে শিখিয়েছেন এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ধর্মের সৌন্দর্য শুধু আনুষ্ঠানিকতায় নয়; মানুষের প্রতি ভালোবাসা, অসহায়ের পাশে দাঁড়ানো, অন্যের অধিকার রক্ষা এবং সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার মধ্যেই ধর্মের প্রকৃত সৌন্দর্য প্রকাশ পায়।
কামাল উদ্দিন বলেন, মহানবী (সা.)-এর আদর্শকে শুধু ওয়াজ, আলোচনা কিংবা মিলাদ মাহফিলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। তাঁর শিক্ষা আমাদের পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে প্রতিফলিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আজকের পৃথিবীতে বিভাজন, হিংসা, অসহিষ্ণুতা ও অবিশ্বাস যখন মানুষের সম্পর্ককে দুর্বল করছে, তখন মহানবী (সা.)-এর সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, ক্ষমা, সহনশীলতা ও মানবিকতার শিক্ষা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রয়োজন।
সেলিম উল্লাহ চৌধুরীর উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ধর্মীয় চেতনার সঙ্গে মানবিক কর্মকাণ্ডের সংযোগ ঘটিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এ উদ্যোগ সমাজের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হতে পারে।
হামিদ হোসাইন: মানবিক সমাজ গঠনে আদর্শের চর্চা চাই
বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি হামিদ হোসাইন বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন থেকে ন্যায়, ইনসাফ, মানবিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে।
তিনি বলেন, সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষের মধ্যে বিভেদ নয়, ঐক্য ও সম্প্রীতি বাড়াতে হবে। ধর্মীয় মূল্যবোধকে মানুষের কল্যাণের সঙ্গে যুক্ত করতে পারলেই একটি মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে।
লায়ন জিল্লুর রহমান শাকিল: মানবসেবাই হোক ঈদে মিলাদুন্নবীর অঙ্গীকার
বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের সিনিয়র সহসভাপতি লায়ন জিল্লুর রহমান শাকিল বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন মানবসেবার এক অনন্য শিক্ষা। ধর্মীয় অনুভূতিকে মানবকল্যাণে কাজে লাগাতে হবে।
তিনি বলেন, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বিপদে মানুষের সহযোগী হওয়া এবং সমাজে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে।
দেলোয়ার হোসেন: ভালোবাসা প্রকাশ পাক কর্মে
দেলোয়ার হোসেন বলেন, মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা শুধু মুখের কথায় প্রকাশ করলেই হবে না; সেই ভালোবাসা মানুষের সঙ্গে আচরণে ও মানবসেবায় প্রকাশ করতে হবে।
তিনি বলেন, হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করে ক্ষমা, সহমর্মিতা ও ভালোবাসার চর্চা বাড়াতে পারলে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
পরে তিনিই বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন।
নুরুল হুদা চৌধুরী: মানুষের মর্যাদা রক্ষাই মহান শিক্ষা
মোহাম্মদ নুরুল হুদা চৌধুরী বলেন, মহানবী (সা.) মানুষের মর্যাদা, অধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রতি যে গুরুত্ব দিয়েছেন, তা আজও আমাদের জন্য অনুকরণীয়।
তিনি বলেন, ধর্মীয় অনুষ্ঠান মানুষের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করার জন্য নয়; বরং ভালোবাসা, ঐক্য, সম্প্রীতি ও মানবিকতার বন্ধন আরও দৃঢ় করার মাধ্যম হওয়া উচিত।
নারী নেতৃত্ব ও মানবিক সমাজের প্রত্যাশা
অনুষ্ঠানে নারীর অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বের গুরুত্বও উঠে আসে। বক্তারা বলেন, পরিবার থেকে সমাজ—সর্বত্র মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় নারীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নারীর নেতৃত্বে শিক্ষা, মানবসেবা, সামাজিক সচেতনতা ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে আরও বেশি উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ থেকে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার শিক্ষা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
ধর্মীয় আয়োজন থেকে সামাজিক অঙ্গীকার
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা বলেন, ধর্মীয় আয়োজন তখনই আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে, যখন তা মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসা সৃষ্টি করে এবং সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল করে তোলে।
তাঁদের মতে, মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের প্রতি সম্মান, সহমর্মিতা ও ভালোবাসার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। সমাজের অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই হতে পারে এ ধরনের আয়োজনের অন্যতম বাস্তব ফলাফল।
বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত
আলোচনা সভা শেষে দেশ, জাতি, সমাজ, মুসলিম উম্মাহ এবং সমগ্র মানবজাতির শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
মোনাজাতে দেশ ও জাতির শান্তি-সমৃদ্ধি, মানুষের নিরাপত্তা, অসহায় ও বিপন্ন মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘব এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে জীবন পরিচালনার তাওফিক কামনা করা হয়।
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ভালোবাসা ও মানবিকতার বার্তা নিয়ে শেষ হয় উত্তর চান্দগাঁওয়ের এ আয়োজন।
শেষ কথা
মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা শুধু হৃদয়ে ধারণ করার বিষয় নয়—সেই ভালোবাসা মানুষের প্রতি আচরণে, অসহায়ের পাশে দাঁড়ানোর সাহসে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের পক্ষে অবস্থানে এবং মানবকল্যাণের কাজে প্রতিফলিত হওয়াই হোক ঈদে মিলাদুন্নবীর প্রকৃত শিক্ষা।