
মো. কামাল উদ্দিনঃ
রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনগণের জানমাল রক্ষা এবং পরিবর্তিত অপরাধ বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও দক্ষ, আধুনিক ও কার্যকর করে গড়ে তোলা একটি চলমান রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। সময়ের সঙ্গে অপরাধের ধরন যেমন বদলেছে, তেমনি বদলেছে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জও। সন্ত্রাস, সংঘবদ্ধ অপরাধ, মাদক, মানবপাচার, সাইবার অপরাধসহ বহুমাত্রিক অপরাধ মোকাবিলায় বিশেষায়িত বাহিনীগুলোর আইনগত সক্ষমতা যুগোপযোগী করা এখন আর সময়ের দাবি নয়—এটি রাষ্ট্র পরিচালনার অপরিহার্য শর্ত।
এই বাস্তবতায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন—এপিবিএনকে আধুনিক, জনবান্ধব ও অধিক কার্যকর আইনগত কাঠামোর আওতায় আনতে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হওয়া নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ।
এই ঐতিহাসিক উদ্যোগের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জাতীয় সংসদের মাননীয় স্পিকার, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সম্মানিত সদস্যবৃন্দ এবং জাতীয় সংসদের সব সম্মানিত সদস্যের প্রতি এপিবিএনের পুরো ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও গভীর কৃতজ্ঞতা জানানো সময়ের ন্যায্য দাবি।
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ জাতীয় সংসদে বিলটি পাস হয়। নতুন আইনের মাধ্যমে ১৯৭৯ সালের পুরোনো অধ্যাদেশের পরিবর্তে এপিবিএনের জন্য বাংলা ভাষায় একটি আধুনিক আইনগত কাঠামো প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হয়েছে। সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আইন শুধু পরিবর্তন নয়—এটি সময়কে স্বীকার করার সাহস
১৯৭৯ সালের আইনটি যে সময়ের বাস্তবতায় প্রণীত হয়েছিল, ২০২৬ সালের বাংলাদেশ সেই বাস্তবতায় নেই। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামো, প্রযুক্তি, অপরাধের প্রকৃতি, জনসংখ্যা, নগরায়ণ, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং সাইবার জগত—সবকিছুই আমূল পরিবর্তিত হয়েছে।
তাই পুরোনো আইনকে যুগোপযোগী করে নতুন আইনি কাঠামো প্রণয়ন নিছক প্রশাসনিক সংস্কার নয়; এটি রাষ্ট্রের পরিবর্তিত বাস্তবতাকে স্বীকার করে ভবিষ্যতের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি।
সরকারও এই আইনকে এপিবিএনকে আরও জনবান্ধব করার উদ্দেশ্যে যুগোপযোগী করার কথা জানিয়েছে।
এপিবিএনের ক্ষমতা বাড়ল, বাড়ল দায়িত্বও
নতুন আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো—এপিবিএনের ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা বিস্তৃত করা।
আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ক্ষেত্রে এপিবিএন সদস্যরা তদন্ত, তল্লাশি, গ্রেফতার ও জব্দসহ সংশ্লিষ্ট আইনগত কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন। ফলে এপিবিএন কেবল বিশেষ নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে নয়, নির্দিষ্ট অপরাধ তদন্তেও আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের সুযোগ পাবে।
সাইবার অপরাধ, সন্ত্রাস, সংঘবদ্ধ অপরাধ, মানবপাচার, গুম, ভূমিদস্যুতা ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধ মোকাবিলায় এপিবিএনের দায়িত্ব ও সক্ষমতা সম্প্রসারণের বিধানও নতুন আইনের আলোচনায় এসেছে।
অর্থাৎ এপিবিএনের সামনে এখন একদিকে বর্ধিত ক্ষমতা, অন্যদিকে তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বর্ধিত দায়িত্ব, পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহির প্রত্যাশা।
এপিবিএন প্রধান হাসিব আজিজ: পরিবর্তনের সময়ের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব
এই নতুন আইনকে কেন্দ্র করে এপিবিএনের পেশাগত সক্ষমতা, সাংগঠনিক প্রস্তুতি ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের কথা বলতে গেলে বর্তমান এপিবিএন প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. হাসিব আজিজ বিপিএম-এর নেতৃত্বের প্রসঙ্গ স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসে।
একটি বিশেষায়িত বাহিনীকে কেবল অস্ত্র, পোশাক ও জনবল দিয়ে শক্তিশালী করা যায় না। একটি আধুনিক বাহিনীকে শক্তিশালী করতে প্রয়োজন দক্ষ নেতৃত্ব, পেশাদার সংস্কৃতি, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিনির্ভরতা, শৃঙ্খলা, মানবিকতা এবং জনগণের আস্থা।
এপিবিএনের মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা, সদস্যদের দায়িত্ব, অপরাধ মোকাবিলার পরিবর্তিত চিত্র এবং একটি বিশেষায়িত বাহিনীকে আরও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তা নেতৃত্বের পর্যায় থেকে যথাযথভাবে তুলে ধরা—এ ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক প্রচেষ্টার গুরুত্ব অনস্বীকার্য।
এখানে এপিবিএন প্রধান হাসিব আজিজের নেতৃত্বকে আমরা একটি পরিবর্তনশীল সময়ের নেতৃত্ব হিসেবে মূল্যায়ন করতে পারি।
তার নেতৃত্বে এপিবিএনের সদস্যদের আরও পেশাদার, দায়িত্বশীল ও জনমুখী করে গড়ে তোলার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, নতুন আইন সেই প্রত্যাশাকে আরও বিস্তৃত করেছে।
এখন এপিবিএনের সামনে দায়িত্ব শুধু অভিযান পরিচালনা নয়; বরং আইনের সর্বোচ্চ মর্যাদা রক্ষা করে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা
এই আইন প্রণয়নের উদ্যোগের জন্য সরকারের প্রতি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার যে এপিবিএনের বিদ্যমান আইনকে সময়োপযোগী করার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছে, তার জন্য আন্তরিক অভিনন্দন।
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা ২৪ আগস্ট ২০২৬ ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বিলটি সংসদীয় প্রক্রিয়া অতিক্রম করে জাতীয় সংসদে পাস হয়।
একইভাবে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানাতে হয়। কারণ তিনি সংসদে বিলটি উত্থাপন করেছেন এবং পুরোনো আইনকে বাংলায় এনে যুগোপযোগী করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিও বিলটি পরীক্ষা করে সংসদে পাঠানোর সুপারিশ করেছে। কমিটির বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সদস্য ও কর্মকর্তারা অংশ নেন।
পুরো জাতীয় সংসদের প্রতি কৃতজ্ঞতা
কোনো আইন একক কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়। এটি রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার সম্মিলিত ফল।
সুতরাং এপিবিএন আইন-২০২৬ পাসের ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদের সব সম্মানিত সদস্যের প্রতিও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন প্রাপ্য।
এই আইন পাসের মধ্য দিয়ে সংসদ শুধু একটি পুরোনো অধ্যাদেশের পরিবর্তে নতুন আইন প্রণয়ন করেনি; বরং একটি বিশেষায়িত বাহিনীকে ভবিষ্যতের নিরাপত্তা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তকে অনুমোদন করেছে।
শ্রদ্ধায় স্মরণ—এপিবিএনের ঐতিহাসিক পথচলা
এপিবিএনের ইতিহাস বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাঠামোর ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
বাংলাদেশ পুলিশের সরকারি তথ্য অনুযায়ী এপিবিএনের যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৫ সালে। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালের অধ্যাদেশ এর আইনগত ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, সশস্ত্র অপরাধী দমন, অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা করাই ছিল এর অন্যতম লক্ষ্য।
এই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার সঙ্গে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান গঠনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান ও উত্তরাধিকারকে যারা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন, তাদের কাছে এপিবিএনের এই নতুন অধ্যায় বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি তাই জানাই গভীর শ্রদ্ধা।
তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের এক সংকটময় সময়ের রাষ্ট্রনায়ক, যিনি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা, শৃঙ্খলা ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে দৃঢ়তার প্রতীক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছেন।
এপিবিএনের প্রতিষ্ঠাকালীন ইতিহাসের সঙ্গে ১৯৭৫ সালের রাষ্ট্রীয় প্রেক্ষাপট ও পরবর্তী আইনগত কাঠামোকে স্মরণ করে আজকের এই নতুন আইন প্রণয়নের মুহূর্তে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন তাই একটি ঐতিহাসিক স্মরণচিহ্ন।
পুরোনো অধ্যাদেশ থেকে আধুনিক আইন—এক দীর্ঘ যাত্রার নতুন অধ্যায়
১৯৭৯ থেকে ২০২৬—প্রায় অর্ধশতাব্দীর কাছাকাছি সময়।
এই দীর্ঘ সময়ে এপিবিএন দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা দায়িত্ব পালন করেছে। আজ সেই বাহিনী নতুন আইনগত কাঠামোর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
এটি যেন একটি দীর্ঘ যাত্রার নতুন মাইলফলক।
পুরোনো অধ্যাদেশের সীমা পেরিয়ে আধুনিক আইনের পথে এপিবিএন।
অভিজ্ঞতার উত্তরাধিকার নিয়ে প্রযুক্তির ভবিষ্যতের দিকে এপিবিএন।
শক্তির সঙ্গে মানবিকতা, ক্ষমতার সঙ্গে জবাবদিহি এবং দায়িত্বের সঙ্গে পেশাদারিত্ব—এই হোক নতুন এপিবিএনের অঙ্গীকার।
ক্ষমতার সঙ্গে জবাবদিহি—হোক নতুন অঙ্গীকার
নতুন আইন এপিবিএনের ক্ষমতা বাড়িয়েছে—এটি নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু রাষ্ট্রের জনগণের প্রত্যাশা আরও বড়।
মানুষ চায় নিরাপত্তা।
মানুষ চায় ন্যায়বিচার।
মানুষ চায় অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা।
আবার মানুষ একই সঙ্গে চায়—আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও যেন আইনের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল থাকে।
সুতরাং নতুন এপিবিএনের মূল দর্শন হওয়া উচিত—
“আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, আইন প্রয়োগকারীও নয়।”
ক্ষমতা প্রয়োগ হবে আইনের ভিত্তিতে।
গ্রেফতার হবে আইনি প্রক্রিয়ায়।
তদন্ত হবে নিরপেক্ষভাবে।
আলামত সংরক্ষণ হবে বিধি অনুযায়ী।
নিরপরাধ মানুষ হবে সুরক্ষিত।
অপরাধী হবে আইনের আওতায়।
এভাবেই এপিবিএন হয়ে উঠতে পারে আরও শক্তিশালী, আরও পেশাদার এবং একই সঙ্গে আরও জনবান্ধব একটি বিশেষায়িত বাহিনী।
এপিবিএনের প্রতিটি সদস্যের জন্য নতুন প্রত্যয়
নতুন আইন শুধু কর্মকর্তাদের জন্য নয়; এটি এপিবিএনের প্রতিটি সদস্যের জন্য নতুন দায়িত্বের বার্তা।
একজন কনস্টেবল থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা—প্রত্যেককে মনে রাখতে হবে, ইউনিফর্ম রাষ্ট্রের ক্ষমতার প্রতীক, কিন্তু সেই ক্ষমতার চূড়ান্ত মালিক জনগণ।
জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মানুষের আস্থা অর্জন করা এবং রাষ্ট্রের আইনকে সম্মান করা—এই তিনটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়েই গড়ে উঠতে পারে আধুনিক এপিবিএন।
অভিনন্দন বাংলাদেশ সরকারকে
এপিবিএন আইন-২০২৬ পাস হওয়ায় তাই আবারও বলতে চাই—
অভিনন্দন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে।
অভিনন্দন মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে।
অভিনন্দন জাতীয় সংসদের সম্মানিত সদস্যদের।
অভিনন্দন সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে।
অভিনন্দন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সকল কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে।
এবং বিশেষ অভিনন্দন এপিবিএনের প্রতিটি কর্মকর্তা ও সদস্যকে।
এই আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে এপিবিএন আরও দক্ষ, আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, মানবিক ও জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখুক—এটাই প্রত্যাশা।
হাসিব আজিজের নেতৃত্বে নতুন প্রত্যাশা
এপিবিএন প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. হাসিব আজিজ-এর নেতৃত্বে বাহিনীটি নতুন আইন বাস্তবায়নের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়কে পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও জনসেবার নতুন অধ্যায়ে রূপ দেবে—এ প্রত্যাশা থাকল।
আইন পেয়েছে নতুন ভিত্তি; এখন প্রয়োজন তার যথাযথ বাস্তবায়ন।
নতুন আইন হোক নতুন শক্তি।
নতুন শক্তি হোক জননিরাপত্তার নিশ্চয়তা।
আর জননিরাপত্তা হোক মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক।
শেষকথা
এপিবিএন কেবল একটি বাহিনীর নাম নয়—এটি বাংলাদেশের নিরাপত্তা কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
১৯৭৫-এর যাত্রা, ১৯৭৯-এর আইনগত ভিত্তি, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং ২০২৬-এর আধুনিক আইন—এই দীর্ঘ পথচলা এপিবিএনকে একটি নতুন বাস্তবতার সামনে দাঁড় করিয়েছে।
আজ প্রয়োজন অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের নিরাপত্তা কাঠামো নির্মাণ।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, এপিবিএনের গৌরবময় পথচলার সব কর্মকর্তা ও সদস্যের প্রতি সম্মান এবং নতুন আইন প্রণয়নের জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জাতীয় সংসদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।
দেশের মানুষের নিরাপত্তা, আইনের শাসন ও জনস্বার্থে—
এপিবিএন আরও শক্তিশালী হোক,
আরও আধুনিক হোক,
আরও মানবিক হোক,
আরও জনবান্ধব হোক।
বাংলাদেশের নিরাপত্তায় এপিবিএন—আস্থার প্রতীক হয়ে এগিয়ে যাক নতুন আইনের শক্তিতে।