Home Blog Page 8

সাতকানিয়ায় ‘পিচ্চি জাহিদ’ হত্যা মামলায় ১২ আসামি গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় জাহেদুল আলম (৩৩) ওরফে ‘পিচ্চি জাহিদ’ হত্যা মামলায় এজাহারনামীয় ১২ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে মো. আজাদ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গত ৩০ আগস্ট রাত আনুমানিক ১০টার দিকে সাতকানিয়া থানার পুরানগড় ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাজালিয়া-শীলঘাটা সড়কের ভাঙ্গারগোড়া এলাকায় জাহেদুল আলমকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় জাহেদুলের সঙ্গে থাকা মো. ওয়াহিদ (২৫)ও আহত হন। পুলিশ জানায়, পুরানগড় ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ এবং এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশকে কেন্দ্র করে জাহেদের সঙ্গে কয়েকজনের বিরোধের সৃষ্টি হয়। ওই ভিডিও জয়নাল আবেদীন মানিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন বলে জানানো হয়েছে। ঘটনার দিন রাত ৮টার দিকে পুরানগড় নতুন হাট এলাকায় জাহেদুলকে মারধর করে ভিডিও প্রকাশের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে রাত ১০টার দিকে তিনি মো. ওয়াহিদকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাজালিয়া স্টেশনের দিকে যাওয়ার সময় ভাঙ্গারগোড়া এলাকায় গাছের গুঁড়ি ও ভ্যানগাড়ি দিয়ে তাদের পথরোধ করা হয়। এ সময় একদল ব্যক্তি দা, কিরিচ, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে জাহেদুলের ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের মা মনোয়ারা বেগম ২ সেপ্টেম্বর সাতকানিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৬ জনকে আসামি করা হয়। ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএমের সার্বিক নির্দেশনায় আসামিদের গ্রেপ্তার ও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে অভিযান শুরু করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে আসামিদের সম্ভাব্য অবস্থান শনাক্তের পর অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের একপর্যায়ে পাহাড়তলী থানা এলাকা থেকে মো. আজাদ ও মো. হেলালকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মামলার কয়েকজন আসামি ঢাকায় আত্মগোপনে থাকার তথ্য পেয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল ঢাকায় অভিযান চালায়। এর ধারাবাহিকতায় ১৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ১০ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে মামলায় এজাহারনামীয় মোট ১২ আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন। গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন—জসিম উদ্দিন (৫০), জয়নাল আবেদীন মানিক (২৬), মো. রিদুয়ান (২৬), মো. টিপু (৩৫), আবু মাজহারুল ইসলাম ইফাজ (২০), আব্দুল্লাহ আল তুষার (৩০), খোরশেদ আলম ওরফে ফারুক (৫২), মো. রবিউল হোসেন (২১), আবুল কাশেম (৩৮), হাবিবুর ইসলাম ওরফে হাবিব (২৮), মো. হেলাল ও মো. আজাদ। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার মো. আজাদকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ, আদালতে দেওয়া জবানবন্দি এবং তদন্তে পাওয়া অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ঘটনায় জড়িত অবশিষ্ট আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

বান্দরবানে মন্ত্রী জেরী’র হাত থেকে সংবর্ধনা পেলো এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা

স ম জিয়াউর রহমান, চট্টগ্রাম থেকে :
বান্দরবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের উদ্যোগে এসএসসি ২০২৬ সালে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বান্দরবান ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাম্যাচিং। এ সময় বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্যবৃন্দ, বান্দরবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের কর্মকর্তা, বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের জীবনে এসএসসি পরীক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ভালো ফলাফলের পাশাপাশি দেশ ও সমাজের জন্য নিজেকে যোগ্য ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে দেশ ও মানুষের কল্যাণে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তারা। বক্তারা আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পেছনে শিক্ষক ও অভিভাবকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা। অনুষ্ঠানের শেষে বান্দরবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ২০২৬ পরীক্ষায় এ প্লাস (GPA-5) অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ও সংবর্ধনা তুলে দেওয়া হয়।

আশেকানে গাউসিয়া হক ভাণ্ডারী মির্জাপুরী খানকা শরীফের নবায়নকৃত কার্যকরী কমিটি গঠিত

স ম জিয়াউর রহমান, চট্টগ্রাম থেকে :
আশেকানে গাউসিয়া হক ভাণ্ডারী মির্জাপুরী খানকা শরীফের নবায়নকৃত কার্যকরী কমিটি ও আলোচনা সভা শাহ্ আমানত লেইনস্থ মির্জাপুরী খানকা শরীফে অনুষ্ঠিত হয়। নবায়নকৃত কার্যকরী কমিটির সভাপতি মো. আবুল বশর সও., সি. সহ-সভাপতি মো. জাহিদুল ইসলাম জাবেদ, মো. ইলিয়াছ বাহার চৌঃ টিটু, সহ-সভাপতি মো. মনিরুল হক মুন্না, মো. আব্দুল আজিজ, সাধারণ সম্পাদক মাও. মোহাম্মদ আজম, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন, মো. আব্দুল আওয়াল রাসেল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফখরুদ্দিন বাবর, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিটু আলম, অর্থ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির, সহ অর্থ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ, দপ্তর সম্পাদক মো. জাকির হোসেন, সহ-দপ্তর সম্পাদক মো. ইউসুফ, ধর্ম সম্পাদক মো. ইসহাক, সহ-ধর্ম সম্পাদক মো. নুরুল কবির, প্রচার ও তথ্য আনোয়ার সও., সহ-প্রচার ও তথ্য মো. সুজন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. আবুল কাশেম, সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. রবিউল হো. রবিন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মো. নোমান উদ্দিন বাবুল, সহ-দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মো. ফেরদৌস মিয়া, মহিলা সম্পাদিকা মোছা. রাবেয়া ইসলাম, সহ-মহিলা সম্পাদিকা এড. রেশমা চৌঃ রেখা, কার্যকরী সদস্য মো. নজরুল ইসলাম, মো. সিরাজুল ইসলাম, সৈয়দ আবু সালেহ (কাওয়াল), সদস্য জিতু সরদার, এসএম মঈনুল ইসলাম মনি, মো. আমান কোম্পাঃ, মো. ইকবাল হোসেন, মো. মহিউদ্দিন, মো. আব্দুল মন্নান, উপদেষ্টা আলহাজ্ব কাজী আবুল হোসেন রুমি, মো. মুসা কোম্পানী, মো. আলা উদ্দীন, সৈয়দ মো. ওমর ফারুক, মো. আসাদুল হক হান্নান, ডা. তাসলীম উদ্দীন, মো. মোজাম্মেল হক মানিক।

এপিবিএন: ইতিহাসের অগ্রযাত্রায় জিয়াউর রহমান থেকে আজিজুল হক, আজিজুল হক থেকে হাসিব আজিজ-

-মো.কামাল উদ্দিনঃ
একটি বাহিনীর জন্ম, একজন রাষ্ট্রনায়কের স্বপ্ন এবং দুই প্রজন্মের নেতৃত্বের অনন্য সেতুবন্ধন
ইতিহাস কখনো শুধু তারিখ, প্রজ্ঞাপন কিংবা সরকারি নথির সমষ্টি নয়। ইতিহাসের ভেতরে থাকে সময়ের প্রয়োজন, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা-চিন্তা, মানুষের জীবন রক্ষার দায় এবং কিছু মানুষের অসামান্য নেতৃত্ব।
বাংলাদেশের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন—এপিবিএন-এর ইতিহাসও তেমনই এক বহুমাত্রিক ইতিহাস।
রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও সুসংগঠিত ও সক্ষম করার প্রয়োজন থেকে যে বিশেষায়িত সশস্ত্র পুলিশ ব্যবস্থার বিকাশ, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনগত ভিত্তি তৈরি হয় The Armed Police Battalions Ordinance, 1979-এর মাধ্যমে। ১৯৭৯ সালের ৩১ মার্চ জারি হওয়া এই অধ্যাদেশে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন গঠন ও পরিচালনার আইনগত কাঠামো নির্ধারণ করা হয়।
কিন্তু একটি বাহিনী কেবল আইনের কাগজে জন্ম নেয় না—তার প্রকৃত পরিচয় তৈরি হয় মাঠে, দায়িত্ব পালনে, সংকট মোকাবিলায় এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে। আর এপিবিএনের সেই প্রারম্ভিক সময়ের ইতিহাসে একটি নাম বিশেষভাবে উচ্চারিত হয়—তৎকালীন ডিআইজি আজিজুল হক, যিনি পরবর্তীতে বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জিয়াউর রহমান: রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার এক গুরুত্বপূর্ণ সময় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ইতিহাসের এক অস্থির সময়ে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার প্রয়োজন ছিল অত্যন্ত বাস্তব। শহীদ রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সময়ে দেশের নিরাপত্তা কাঠামোকে কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন। এপিবিএনের আইনগত ভিত্তি সেই সময়ের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাঠামো বিকাশের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। ১৯৭৯ সালের অধ্যাদেশে স্পষ্টভাবে বলা হয়, Armed Police Battalions নামে একটি বাহিনী গঠন ও বজায় রাখা হবে। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে সেই সময়ের দিকে ফিরে তাকালে বোঝা যায়—এটি ছিল একটি বিশেষায়িত বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি নির্মাণের সময়। আজিজুল হক: এপিবিএনের শুরুর দিনের এক গুরুত্বপূর্ণ নাম আপনার সংগৃহীত তথ্য ও সংশ্লিষ্ট স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, ১৮ এপ্রিল ১৯৮০ থেকে ১৯ জুলাই ১৯৮০ পর্যন্ত তৎকালীন ডিআইজি আজিজুল হক এপিবিএনের প্রাথমিক পর্যায়ের নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করেন। এটি ছিল এমন একটি সময়, যখন এপিবিএনকে কাগজের কাঠামো থেকে বাস্তব সক্ষমতার দিকে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল। নতুন বাহিনী। নতুন দায়িত্ব।
নতুন কর্মপরিকল্পনা। আর সামনে ছিল কঠিন নিরাপত্তা বাস্তবতা। এই সময়ের দায়িত্বকে শুধু একটি প্রশাসনিক পদ হিসেবে দেখলে ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক অদৃশ্য থেকে যাবে। কারণ, একটি নতুন বাহিনীর শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, অপারেশনাল সংস্কৃতি ও দায়িত্ববোধের প্রাথমিক ভিত্তি তৈরি হয় তার শুরুর দিনগুলোতেই। সেই প্রেক্ষাপটে আজিজুল হকের নাম এপিবিএনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে আলোচিত হয়।
বিলাইছড়ি: পাহাড়ের দুর্গম ভূখণ্ডে এপিবিএনের প্রথম অধ্যায়ের স্মৃতি রাঙামাটির বিলাইছড়ি—পাহাড়, নদী, দুর্গম জনপদ এবং কঠিন ভৌগোলিক বাস্তবতার এক অনন্য এলাকা। আপনার সংগৃহীত ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপস্থিতিতে বিলাইছড়িতে এপিবিএনের প্রথম ব্যাটালিয়নের কার্যক্রম উদ্বোধনের সঙ্গে আজিজুল হকের নাম জড়িয়ে আছে।
সেই সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম ছিল সশস্ত্র সংঘাত ও নিরাপত্তা সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করা একটি স্পর্শকাতর অঞ্চল। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের জন্য পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং সশস্ত্র সংঘাত—সব মিলিয়ে দায়িত্ব ছিল অত্যন্ত কঠিন।
এমন বাস্তবতায় এপিবিএনের সদস্যদের দায়িত্ব ছিল কেবল অস্ত্র হাতে অবস্থান নেওয়া নয়; বরং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কঠিন দায়িত্ব পালন করা। এই প্রেক্ষাপটেই এপিবিএনের শুরুর দিনের দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের অবদানকে ইতিহাসের আলোকে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও আজিজুল হক: আস্থা, দায়িত্ব ও নেতৃত্ব
আপনার সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আজিজুল হককে অত্যন্ত আস্থাভাজন কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচনা করতেন। একজন রাষ্ট্রনায়ক যখন কোনো কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেন, তখন সেটি শুধু পদায়ন নয়—তার সঙ্গে যুক্ত থাকে রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব পালনের প্রত্যাশা। আজিজুল হকের ক্ষেত্রেও সেই আস্থার প্রতিফলন ঘটেছিল তাঁর দায়িত্ব পালনে এমনটাই সংশ্লিষ্ট স্মৃতিচারণে উঠে আসে। আর সেই দায়িত্বের স্বীকৃতি হিসেবেই পরবর্তীতে তাঁর অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুযোগ পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।
এটি ছিল একজন পুলিশ কর্মকর্তার পেশাগত জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। কিন্তু ইতিহাসের নির্মম পরিহাস
আজিজুল হক যখন অস্ট্রেলিয়ায় প্রশিক্ষণে, তখনই চট্টগ্রামে ঘটে যায় বাংলাদেশের ইতিহাসের এক মর্মান্তিক অধ্যায়। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে নিহত হন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। একজন রাষ্ট্রনায়ক চলে গেলেন। একটি সময়ের অবসান হলো। কিন্তু তাঁর সময়ে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে গেল—রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনের ধারাবাহিকতায়। সময়ের স্রোতে ইতিহাসের নতুন অধ্যায় ইতিহাসের সবচেয়ে বিস্ময়কর সৌন্দর্য এখানেই—এক প্রজন্মের শুরু করা দায়িত্ব কখনো কখনো পরবর্তী প্রজন্মের হাতে এসে নতুন মাত্রা পায়। আজ এপিবিএনের ইতিহাসের দিকে তাকালে তেমনই এক প্রতীকী ধারাবাহিকতা চোখে পড়ে। আজিজুল হক ছিলেন এপিবিএনের প্রারম্ভিক সময়ের নেতৃত্বে।
আর তাঁর সন্তান হাসিব আজিজ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের ধারাবাহিকতায় এপিবিএনের নেতৃত্বে আসেন।
হাসিব আজিজের কর্মজীবনেও এপিবিএনের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী তিনি এপিবিএনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ২০২৬ সালের মার্চে এপিবিএনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পান। এটি নিঃসন্দেহে একটি বিরল প্রজন্মান্তরের সংযোগ একই পরিবারের দুই প্রজন্ম, একই বাহিনীর ইতিহাসের দুই ভিন্ন অধ্যায়। আজিজুল হক থেকে হাসিব আজিজ—এ যেন ইতিহাসের একটি পূর্ণবৃত্ত
একদিকে আশির দশকের সূচনালগ্নে এপিবিএনের প্রাথমিক নেতৃত্বে আজিজুল হক। অন্যদিকে কয়েক দশক পর তাঁর সন্তান হাসিব আজিজের হাতে সেই বাহিনীর নেতৃত্ব। মাঝখানে কেটে গেছে বহু বছর।
বদলেছে প্রযুক্তি। বদলেছে অপরাধের ধরন।
বদলেছে নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ। বদলেছে রাষ্ট্রের প্রয়োজন।
কিন্তু একটি বিষয় বদলায়নি রাষ্ট্রের নিরাপত্তায় পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের প্রয়োজনীয়তা।
আজকের এপিবিএন আগের সময়ের মতো নয়। আধুনিক প্রযুক্তি, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ, উন্নত সরঞ্জাম এবং বহুমাত্রিক নিরাপত্তা দায়িত্বের মধ্য দিয়ে বাহিনীটির কর্মপরিধিও বিস্তৃত হয়েছে। ১৯৭৯ সালের মূল অধ্যাদেশেই এপিবিএন গঠনের আইনগত কাঠামো তৈরি হয়েছিল; পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সংশোধনের মাধ্যমে এর কাঠামো ও দায়িত্বে পরিবর্তন এসেছে।
আইনের নতুন অধ্যায়: এপিবিএনের ক্ষমতা ও দায়িত্বের আধুনিকায়ন এপিবিএনের ইতিহাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এর আইনগত ক্ষমতা ও দায়িত্বের ক্রমবিকাশ। ১৯৭৯ সালের মূল আইনে বাহিনী গঠনের কাঠামো নির্ধারিত হলেও পরবর্তী সময়ে সংশোধনের মাধ্যমে বিশেষায়িত দায়িত্ব যুক্ত হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে ২০০৩ সালের সংশোধনের মাধ্যমে র‍্যাবসহ তদন্ত-সংক্রান্ত বিশেষ বিধান যুক্ত হয়। আজকের বাস্তবতায় আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ আরও জটিল। সংগঠিত অপরাধ, আন্তঃজেলা অপরাধ, সন্ত্রাস, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা, বিশেষ অভিযান এবং অন্যান্য বিশেষায়িত দায়িত্ব পালনে সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তাই এপিবিএনের আইন ও কাঠামো নিয়ে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ। এই পরিবর্তনের ধারায় নতুন আইনগত কাঠামোর উদ্যোগ এপিবিএনের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।
একটি বাহিনী নয়—একটি ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার
এপিবিএনের ইতিহাসকে যদি একটি দীর্ঘ চলচ্চিত্রের মতো দেখা হয়, তাহলে তার প্রথম দৃশ্যগুলোতে দেখা যায়
রাষ্ট্রের নিরাপত্তার নতুন বাস্তবতা, ১৯৭৯ সালের আইনগত ভিত্তি, নবগঠিত বাহিনীর সাংগঠনিক প্রস্তুতি,
পাহাড়ের দুর্গম জনপদ, আর দায়িত্বের কঠিন পরীক্ষায় থাকা পুলিশ সদস্যদের মুখ। সেই দৃশ্যপটে উঠে আসে আজিজুল হকের মতো কর্মকর্তাদের নেতৃত্বের অধ্যায়।
আর কয়েক দশক পর একই ইতিহাসের পর্দায় দেখা যায় তাঁর সন্তান হাসিব আজিজকে—একটি পরিবর্তিত সময়ের, পরিবর্তিত প্রযুক্তির এবং পরিবর্তিত নিরাপত্তা বাস্তবতার এপিবিএনের নেতৃত্বে। এটি শুধু একটি পরিবারের গল্প নয়। এটি একটি প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে দায়িত্বের ধারাবাহিকতার একটি প্রতীকী অধ্যায়। জিয়াউর রহমান: যে সময়ের সঙ্গে এপিবিএনের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় চরিত্র। তাঁর সময়ের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাঠামোর বিকাশের সঙ্গে এপিবিএনের আইনগত প্রতিষ্ঠার সময়কালও যুক্ত।
তাই এপিবিএনের ইতিহাস নিয়ে কোনো প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করতে গেলে শুধু বাহিনীর বর্তমান সক্ষমতা নয়, তার প্রাতিষ্ঠানিক জন্ম, প্রথম দিকের নেতৃত্ব এবং সময়ের নিরাপত্তা বাস্তবতাও তুলে ধরা প্রয়োজন। আর সেই ইতিহাসে আজিজুল হকের অধ্যায়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে—বিশেষ করে যদি সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি, পুরোনো গেজেট, পদায়ন আদেশ, প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত নথি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকার দিয়ে তা আরও শক্তভাবে প্রমাণিত করা যায়। ইতিহাসের দুই প্রান্তে দুই নাম—আজিজুল হক ও হাসিব আজিজ এক প্রান্তে আজিজুল হক। এপিবিএনের শুরুর দিনের কর্মকর্তা। দুর্গম অঞ্চলে দায়িত্ব। রাষ্ট্রীয় আস্থার একটি অধ্যায়। অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুযোগ। আর চট্টগ্রামে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মর্মান্তিক মৃত্যুর সময় দেশের বাইরে অবস্থান। অন্য প্রান্তে হাসিব আজিজ। পরবর্তী প্রজন্মের পুলিশ কর্মকর্তা। এপিবিএনের সঙ্গে দীর্ঘ কর্মসম্পর্ক।
এবং আজ সেই বাহিনীর নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে।
দুই প্রজন্মের মাঝখানে কেটে গেছে কয়েক দশক।
কিন্তু ইতিহাসের সেতুটি রয়ে গেছে। বাবার হাতে যে দায়িত্বের সূচনা, সময়ের দীর্ঘ পরিক্রমায় সেই প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে এসে দাঁড়িয়েছেন তাঁরই সন্তান। এ যেন ইতিহাসের ভাষায় এক অনুচ্চারিত বার্তা প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে যায়, কিন্তু মানুষের নিষ্ঠা ও নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে থেকে যায়। অতীতের শিকড়, ভবিষ্যতের অঙ্গীকার এপিবিএনের ইতিহাস তাই শুধু একটি সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ইতিহাস নয়।
এটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাঠামোর বিবর্তনের ইতিহাস। এটি কঠিন সময়ের দায়িত্ব পালনের ইতিহাস।
এটি পাহাড় থেকে নগর, সীমান্ত থেকে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা—বহুমাত্রিক নিরাপত্তা বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে একটি বিশেষায়িত বাহিনীর বিকাশের ইতিহাস। আর সেই দীর্ঘ ইতিহাসের এক স্মরণীয় অধ্যায় হলো শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ের এপিবিএন, আজিজুল হকের প্রারম্ভিক নেতৃত্ব, এবং পরবর্তী প্রজন্মে হাসিব আজিজের নেতৃত্ব। সময়ের ক্যালেন্ডার বদলেছে, রাষ্ট্রের প্রয়োজন বদলেছে, নিরাপত্তার ধরন বদলেছে; কিন্তু রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব পালনের মূল অঙ্গীকারটি একই রয়ে গেছে।
জিয়াউর রহমানের সময়ের সেই প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রা থেকে আজকের আধুনিক এপিবিএন—এ এক দীর্ঘ অভিযাত্রা।
আর এই অভিযাত্রার ইতিহাস যত বেশি নথিবদ্ধ হবে, ততই স্পষ্ট হয়ে উঠবে—একটি বাহিনী কীভাবে সময়ের সঙ্গে নিজেকে বদলে নিয়ে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে। এপিবিএনের ইতিহাসের পাতায় তাই শুধু একটি বাহিনীর নাম লেখা নেই; লেখা আছে সময়, নেতৃত্ব, দায়িত্ব, ত্যাগ এবং প্রজন্মান্তরে এগিয়ে চলার এক দীর্ঘ কাহিনি।

মাহাফুজুর রহমানের জন্মদিনে নাগরিক ফোরামের আনন্দঘন আয়োজন কেক কেটে ফুলেল শুভেচ্ছায় ভালোবাসায় সিক্ত করলেন নাগরিক ফোরামের নেতৃবৃন্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কার্যকরি সভাপতি, সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার সিএমপি ও বিশিষ্ট সমাজসেবক মাহাফুজুর রহমানের শুভ জন্মদিন উপলক্ষে বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের উদ্যোগে চট্টগ্রাম নগরীর স্টেশন রোডস্থ বসুধা মার্কেটে এক আনন্দঘন, উৎসবমুখর ও ভালোবাসায় পরিপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে কেক কাটা, ফুলেল শুভেচ্ছা, শুভেচ্ছা বিনিময় ও আন্তরিক ভালোবাসা প্রকাশের মধ্য দিয়ে মাহাফুজুর রহমানের জন্মদিন উদযাপন করেন বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের কেন্দ্রীয় মহাসচিব মো. কামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ মাহাফুজুর রহমানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং তাঁর কর্মময় জীবনের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন। পরে আনন্দঘন পরিবেশে কেক কাটা হয়। এ সময় উপস্থিত সবাই করতালির মাধ্যমে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান এবং তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু, পারিবারিক সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মদ সেলিম, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব লায়ন মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান শাকিল, মহানগরের যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রেজাউল করিম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক লায়ন মো. মীর হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এম নুরুল হুদা চৌধুরী, তানিয়া আক্তার, লায়ন মিজানুর রহমান চৌধুরী, মহানগরের যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক সাজু তালুকদার, আলাউদ্দিন আলো, মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক অরূপ চন্দ্র, চট্টগ্রাম মহানগর সমন্বয়ক মোহাম্মদ উদ্দিন, সোহেল রানা, মোহাম্মদ মহসিনসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
কর্মময় জীবনের প্রশংসা
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মাহাফুজুর রহমান শুধু একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা নন, তিনি একজন দায়িত্বশীল, মানবিক ও সমাজসচেতন মানুষ। কর্মজীবনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে কাজ করার যে মানসিকতা তিনি ধারণ করেছেন, তা তাঁর ব্যক্তিত্বকে একটি স্বতন্ত্র অবস্থানে নিয়ে গেছে।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘ কর্মজীবনে সততা, নিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধকে প্রাধান্য দেওয়ার কারণে মাহাফুজুর রহমান সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সাধারণ মানুষের কাছে আস্থার জায়গা তৈরি করেছেন। অবসর জীবনেও তিনি নিজেকে গুটিয়ে না রেখে বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রেখেছেন।
বৃহত্তর চট্টগ্রামের মানুষের অধিকার, নাগরিক সমস্যা, উন্নয়ন, জনস্বার্থ ও বৃহত্তর চট্টগ্রামের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে নাগরিক ফোরামের কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয় ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন বক্তারা।
সংগঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একজন অভিভাবক
বক্তারা আরও বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কার্যকরি সভাপতি হিসেবে মাহাফুজুর রহমান সংগঠনের নেতাকর্মীদের কাছে শুধু একজন দায়িত্বশীল নেতা নন, বরং একজন অভিভাবকসুলভ ব্যক্তিত্ব। তাঁর অভিজ্ঞতা, পরামর্শ ও সাংগঠনিক ভূমিকা সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তাঁর মতো একজন অভিজ্ঞ ও সমাজমনস্ক ব্যক্তিত্বকে সংগঠনের সঙ্গে পাওয়া বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের জন্য সৌভাগ্যের বিষয় উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রামের মানুষের কল্যাণে ভবিষ্যতের দিনগুলোতেও মাহাফুজুর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে তাঁরা আশাবাদী।
জন্মদিনে ভালোবাসার প্রকাশ
জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণের সময় মাহাফুজুর রহমান আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। নেতৃবৃন্দের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
এ সময় তিনি বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে বৃহত্তর চট্টগ্রামের মানুষের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ পাওয়া তাঁর জন্য আনন্দ ও গর্বের বিষয়। মানুষের অধিকার, নাগরিক সুবিধা ও এলাকার উন্নয়নের দাবিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
কেক কাটার মুহূর্তে পুরো অনুষ্ঠানস্থলে সৃষ্টি হয় আনন্দঘন পরিবেশ। নেতৃবৃন্দের করতালি, ফুলেল শুভেচ্ছা ও শুভকামনায় মুখর হয়ে ওঠে বসুধা মার্কেটের অনুষ্ঠানস্থল। সহকর্মী ও সংগঠনের নেতাকর্মীদের ভালোবাসায় মাহাফুজুর রহমানের জন্মদিনের আয়োজনটি পরিণত হয় এক আন্তরিক মিলনমেলায়।
বৃহত্তর চট্টগ্রামের কল্যাণে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়
বক্তারা বলেন, জন্মদিন ব্যক্তিজীবনের আনন্দের পাশাপাশি একজন মানুষের অতীত কর্মের মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যতের পথচলার নতুন অঙ্গীকারেরও দিন। মাহাফুজুর রহমান তাঁর কর্ম ও মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের পাশে থাকার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।
তাঁরা আরও বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়ন, নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের ন্যায্য দাবি আদায়ে নাগরিক ফোরাম যে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে, সেই কার্যক্রমে মাহাফুজুর রহমানের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করবে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের পক্ষ থেকে মাহাফুজুর রহমানের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু, পারিবারিক সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। তাঁর আগামী দিনের জীবন আরও সুন্দর, সফল ও কর্মময় হোক এবং তিনি যেন মানুষের কল্যাণে দীর্ঘদিন কাজ করে যেতে পারেন, সেই কামনায় দোয়া ও শুভকামনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

খুলশী থানার ওসি আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে মামলাঃ দায়িত্ব পালনই কি অপরাধ? অভিযোগের বিচার হোক, অপরাধ প্রমাণিত হলে শাস্তি হোক; কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বকে বিতর্কিত করে পুলিশকে নিষ্ক্রিয় করা যাবে না-

-মো.কামাল উদ্দিনঃ
পুলিশ মানেই শুধু ইউনিফর্ম পরা একজন মানুষ নয়, পুলিশ মানে রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা, নাগরিকের নিরাপত্তা এবং বিপদের মুহূর্তে মানুষের শেষ আশ্রয়। রাত যখন গভীর হয়, নগরী যখন নিস্তব্ধ হয়ে ঘুমিয়ে থাকে, তখনও পুলিশের সদস্যরা জেগে থাকেন মানুষের নিরাপত্তার জন্য। অপরাধীর পরিচয়, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা ক্ষমতার প্রভাব বিবেচনা না করে আইন প্রয়োগ করাই তাদের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো পুলিশ কর্মকর্তা যদি অভিযোগের মুখোমুখি হন, তবে অভিযোগের সত্যতা অবশ্যই তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া উচিত, কিন্তু অভিযোগ উঠলেই একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তাকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা ন্যায়বিচারের পথ নয়।
খুলশী থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুর রহিমকে নিয়েও আজ নানা অভিযোগ ও মামলা সামনে এসেছে। কিন্তু তাঁকে কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের ছাঁচে বিচার করার আগে মনে রাখতে হবে, তিনি একজন পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালন করছেন। সরকার পরিবর্তন হয়, রাজনৈতিক নেতৃত্ব পরিবর্তন হয়, কিন্তু পুলিশ বাহিনী থেকে যায় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিয়ে। পুলিশের কোনো দল নেই, কোনো ব্যক্তিগত রাজনৈতিক পরিচয় থাকার কথা নয়, তাদের পরিচয় একটাই, তারা রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। তাই খুলশী থানার ঘটনাতেও আবেগ নয়, সত্য, প্রমাণ ও নিরপেক্ষ তদন্তই হোক শেষ কথা। পুলিশের অপরাধ প্রমাণিত হলে শাস্তি অবশ্যই হবে, কিন্তু দায়িত্ব পালন যেন অপরাধ হিসেবে গণ্য না হয়।
চট্টগ্রাম নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা খুলশী। এই এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত এবং রাষ্ট্রীয় আইন বাস্তবায়নের দায়িত্ব খুলশী থানার পুলিশের ওপর। সেই থানার সদ্য যোগদানকারী অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আবদুর রহিমসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে দায়ের করা একটি ফৌজদারি অভিযোগকে ঘিরে এখন নানা আলোচনা চলছে। মামলায় বাদীপক্ষ পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর কিছু অভিযোগ এনেছে। অভিযোগগুলো আদালতে বিচারাধীন। তাই অভিযোগের সত্যতা বা অসত্যতা নিয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করার সুযোগ নেই। তবে এই মামলাকে ঘিরে যে প্রশ্নটি সামনে এসেছে, তা শুধু একটি থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে নিয়ে নয়; এটি রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পুরো ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রশ্নটি খুবই সরল—পুলিশ আইন মেনে দায়িত্ব পালন করবে, নাকি দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর ভয় নিয়ে কাজ করবে?
অভিযোগের অধিকার আছে, কিন্তু অভিযোগই রায় নয়
কোনো নাগরিক যদি পুলিশের বিরুদ্ধে অন্যায়, নির্যাতন, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা বেআইনি আচরণের অভিযোগ করেন, সেই অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত হওয়া উচিত। এটি নাগরিকের ন্যায়বিচারের অধিকার। কিন্তু একই সঙ্গে আমাদের মনে রাখতে হবে—অভিযোগ মানেই অপরাধ নয়। মামলা মানেই দোষী সাব্যস্ত হওয়া নয়। আর অভিযুক্ত মানেই অপরাধী নয়। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে সাক্ষ্য, প্রমাণ, তদন্ত এবং আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায়। এই মৌলিক নীতিটি ভুলে গেলে আমরা নিজেরাই ন্যায়বিচারের কাঠামোকে দুর্বল করে ফেলব।
ওসি আবদুর রহিমকে আগে একজন পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে দেখতে হবে
মোহাম্মদ আবদুর রহিম খুলশী থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একজন থানার ওসির দায়িত্ব কোনো রাজনৈতিক পক্ষকে সন্তুষ্ট করা নয়; তাঁর দায়িত্ব হলো আইন অনুযায়ী থানার কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা। তিনি কোনো অভিযান পরিচালনা করলে তার বৈধতা প্রশ্ন করা যেতে পারে। কোনো সিদ্ধান্ত ভুল মনে হলে তার ব্যাখ্যা চাওয়া যেতে পারে। কোনো নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হলে অভিযোগ করা যেতে পারে। কিন্তু প্রমাণ ছাড়া একজন পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তার গায়ে রাজনৈতিক পরিচয়ের তকমা লাগিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই দায়িত্বশীল আচরণ হতে পারে না। একজন পুলিশ কর্মকর্তার প্রথম পরিচয় তাঁর পেশা।
পুলিশ কোনো দলের নয়
এই কথাটি আজ বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার। পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দলের নয়। পুলিশ রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠান। আজ যে সরকার ক্ষমতায় আছে, আগামী দিনে সেই সরকার নাও থাকতে পারে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব পরিবর্তিত হবে, ক্ষমতার পালাবদল ঘটবে, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে পরিবর্তন আসবে। কিন্তু রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজন শেষ হবে না। পুলিশকে তাই সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে রাজনৈতিক রঙে রাঙানো যায় না। সরকার যাবে, সরকার আসবে; কিন্তু পুলিশকে জনগণের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে। এটাই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিকতা।
পুলিশের দায়িত্ব পালনের জায়গাটিও বুঝতে হবে
একজন পুলিশ কর্মকর্তা যখন রাতের বেলায় কোনো এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন, তখন তিনি সবসময় স্বাভাবিক পরিবেশের মধ্যে কাজ করেন না। অপরাধী ধরতে গিয়ে প্রতিরোধের মুখে পড়তে পারেন, উত্তেজিত জনতার মুখোমুখি হতে পারেন, নিজের জীবন নিয়েও ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কখনো তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন হয়। তবে সেই সিদ্ধান্ত অবশ্যই আইনসম্মত হতে হবে। এখানেই মূল ভারসাম্য। পুলিশকে আইন প্রয়োগের ক্ষমতা দিতে হবে, কিন্তু সেই ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে। একদিকে পুলিশের হাতে যেন আইন থাকে, অন্যদিকে যেন সেই আইনের অপব্যবহার না হয়—রাষ্ট্রকে এই দুই নিশ্চয়তাই একসঙ্গে দিতে হবে।
পুলিশের বৈধ দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি হলে ক্ষতি কার?
এই প্রশ্নটি আমরা প্রায়ই ভুলে যাই। কোনো পুলিশ কর্মকর্তা যদি অপরাধী ধরতে গিয়ে বারবার মামলা বা অভিযোগের ভয় পান, যদি বৈধ অভিযান পরিচালনা করতে দ্বিধা করেন, যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে আতঙ্কিত হন—তাহলে এর সবচেয়ে বড় ক্ষতি হবে সাধারণ মানুষের। কারণ অপরাধী কখনো পুলিশের দুর্বলতার সুযোগ নিতে দেরি করবে না। একটি থানার পুলিশ যদি দায়িত্ব পালনে মনোবল হারায়, তাহলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হবে। জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। সাধারণ মানুষ থানার ওপর আস্থা হারাবে। তাই পুলিশের জবাবদিহি প্রয়োজন, কিন্তু পুলিশের বৈধ দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা ও মনোবলও রক্ষা করতে হবে।
পুলিশ ভুল করলে শাস্তি হবে, কিন্তু অপরাধ প্রমাণ হতে হবে
পুলিশের পোশাক কাউকে আইনের ঊর্ধ্বে রাখে না। কোনো পুলিশ সদস্য যদি সত্যিই আইন ভঙ্গ করেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করেন, নির্যাতন করেন, বেআইনি বলপ্রয়োগ করেন কিংবা কোনো অপরাধে জড়িত হন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে বিভাগীয় তদন্ত হবে। প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা হবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে শাস্তি হবে। চাকরি হারানোর মতো শাস্তির বিধান থাকলে সেটিও প্রয়োগ করা হবে। কিন্তু তদন্তের আগেই একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে অপরাধী বানিয়ে দেওয়া হলে সেটি যেমন ন্যায়বিচারের পরিপন্থী, তেমনি সত্যিকারের অপরাধের তদন্তকেও দুর্বল করতে পারে।
খুলশী থানার ঘটনাতেও চাই নিরপেক্ষ তদন্ত
খুলশী থানার ঘটনায় যে অভিযোগগুলো উঠেছে, সেগুলোকে হালকাভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগের প্রতিটি বিষয় যাচাই করা দরকার। ঘটনার সময় পুলিশ কেন সেখানে গিয়েছিল? কোনো মামলা বা আইনগত কার্যক্রমের ভিত্তি ছিল কি না? পুলিশের কাছে কী ধরনের নির্দেশনা বা তথ্য ছিল? অভিযানের সময় প্রকৃত পরিস্থিতি কী ছিল? কোনো অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ হয়েছিল কি না? কারও সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ সত্য কি না? আহত হওয়ার দাবির পেছনে চিকিৎসা নথি কী বলছে? ভিডিও বা সিসিটিভি ফুটেজে কী দেখা যাচ্ছে? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করাই তদন্তের কাজ। গুজব নয়, প্রমাণ কথা বলুক।
একই সঙ্গে পুলিশের বক্তব্যও শোনা হোক
ন্যায়বিচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো—এক পক্ষের বক্তব্য শুনেই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। বাদীপক্ষের বক্তব্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে প্রত্যক্ষদর্শী, ভিডিও ফুটেজ, চিকিৎসা নথি, পুলিশি নথি এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। কারণ সত্য কখনো এক পক্ষের মুখে সম্পূর্ণ থাকে না। সত্যকে খুঁজে বের করতে হয়।
ওসি আবদুর রহিমকে বিতর্কে নয়, কর্মে বিচার করা উচিত
সদ্য দায়িত্ব নেওয়া একজন অফিসার ইনচার্জকে শুরুতেই রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে দাঁড় করিয়ে দেওয়া কোনো সুস্থ প্রশাসনিক পরিবেশের লক্ষণ নয়। তাঁর কাজের মূল্যায়ন হোক তাঁর দায়িত্ব পালনের ভিত্তিতে। তিনি কি আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সফল? তিনি কি অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছেন? তিনি কি সাধারণ মানুষের অভিযোগ শুনছেন? তিনি কি পুলিশ সদস্যদের পেশাগতভাবে পরিচালনা করছেন? তিনি কি আইন ও বিধি মেনে চলছেন? এসব প্রশ্নের উত্তরই তাঁর পেশাগত মূল্যায়নের ভিত্তি হওয়া উচিত। ব্যক্তিগত অপবাদ নয়, কর্মই হোক মূল্যায়নের মাপকাঠি।
পুলিশকে ভয় দেখিয়ে নয়, জবাবদিহির মধ্যে রেখে শক্তিশালী করতে হবে
আমরা এমন পুলিশ চাই না যারা জনগণের ওপর অন্যায় করবে। আবার এমন পুলিশও চাই না যারা অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ভয় পাবে। আমরা চাই এমন পুলিশ যারা আইন জানবে, আইন মানবে, জনগণকে সম্মান করবে, অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর হবে, ক্ষমতার অপব্যবহার করবে না এবং ভুল করলে জবাবদিহি করবে। এই পুলিশই জনগণের পুলিশ। এই পুলিশই রাষ্ট্রের পুলিশ।
সাংবাদিকতার দায়িত্বও সত্য অনুসন্ধান
খুলশী থানার ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রেও দায়িত্বশীলতার প্রয়োজন রয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সংবাদ হবে। পুলিশের অপরাধ থাকলে অনুসন্ধান হবে। কিন্তু পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে বলেই অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সাংবাদিকতা নয়। আবার পুলিশের বক্তব্য না নিয়ে শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করাও পূর্ণাঙ্গ সাংবাদিকতা নয়। অভিযোগের পাশে প্রমাণ, বক্তব্যের পাশে তথ্য এবং উত্তেজনার পাশে বিবেক—এই তিনটি থাকলেই সাংবাদিকতা দায়িত্বশীল হয়।
শেষ কথা: খুলশী থানাকে দুর্বল নয়, জবাবদিহিমূলক ও শক্তিশালী করতে হবে
খুলশী থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুর রহিমসহ যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। অভিযোগ সত্য হলে আইনানুগ ব্যবস্থা হোক। অভিযোগ মিথ্যা হলে অভিযুক্তদেরও আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ থাকুক। কিন্তু একটি বিষয় কোনোভাবেই ভুলে যাওয়া যাবে না—পুলিশকে আইনের ঊর্ধ্বে রাখা যাবে না, আবার পুলিশকে আইনের ভয়ে দায়িত্বহীনও করা যাবে না। অভিযোগ করার অধিকার নাগরিকের আছে। আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার অভিযুক্তেরও আছে। তদন্তের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। আর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার দায়িত্ব আদালতের। তাই খুলশী থানার ওসি আবদুর রহিমকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেটিকে রাজনৈতিক রঙ না দিয়ে আইন ও প্রমাণের কাঠামোর মধ্যে দেখা উচিত। কারণ একজন পুলিশ কর্মকর্তা যদি সত্যিই অপরাধ করেন, তাঁকে রক্ষা করার প্রয়োজন নেই। আবার একজন পুলিশ কর্মকর্তা যদি আইন মেনে জনগণের নিরাপত্তার জন্য দায়িত্ব পালন করেন, তাঁকেও অযথা বিতর্কিত করার প্রয়োজন নেই। পুলিশ কোনো দলের নয়। পুলিশ কোনো ব্যক্তির নয়। পুলিশ রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রতিষ্ঠান। সরকার আসবে, সরকার যাবে। রাজনৈতিক বাস্তবতা পরিবর্তন হবে। ক্ষমতার পালাবদল হবে। কিন্তু রাতের অন্ধকারে অপরাধের বিরুদ্ধে যে পুলিশ সদস্য ছুটে যাবেন, বিপদের সময় যে পুলিশ জনগণের পাশে দাঁড়াবেন, আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়লে যে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করবেন—তাঁদের দায়িত্ব থেকে যাবে। তাই অভিযোগের বিচার হোক, কিন্তু দায়িত্বের শাস্তি নয়। অপরাধ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা হোক, কিন্তু প্রমাণের আগে অপবাদ নয়। পুলিশকে আইনের বাইরে নয়, আইনের ভেতরেই শক্তিশালী করা হোক। খুলশী থানার ওসি আবদুর রহিমসহ প্রত্যেক পুলিশ কর্মকর্তার জন্য একই নীতি—আইনের কাছে জবাবদিহি, দায়িত্ব পালনে দৃঢ়তা এবং জনগণের নিরাপত্তায় অঙ্গীকার। এটাই হওয়া উচিত একটি সভ্য, গণতান্ত্রিক ও আইনভিত্তিক রাষ্ট্রের পুলিশিং দর্শন।

জোরারগঞ্জে পুলিশের অভিযানে ৩ চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৬

চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে চোরাই মোটরসাইকেল চক্রের ছয় সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনটি চোরাই মোটরসাইকেল ও ছয়টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে জব্দ করেছে পুলিশ। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএমের সার্বিক দিকনির্দেশনায় চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং সংঘবদ্ধ চোর চক্রের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশ জানায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর জোরারগঞ্জ থানার এসআই (নিঃ) মো. মনির আহম্মদের নেতৃত্বে সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্স নিয়ে চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধারে অভিযান শুরু করা হয়। অভিযানের ধারাবাহিকতায় জোরারগঞ্জ থানার ৪ নম্বর ধুম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাংলাবাজার এলাকার রজব আলী সওদাগর বাড়ির নুর হোসেনের পাকা ঘর থেকে চোরাই মোটরসাইকেল চক্রের ছয় সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য যাচাই করে তাদের সঙ্গে নিয়ে পুনরায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জোরারগঞ্জ থানার ১ নম্বর করেরহাট ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছত্তরুয়া এলাকায় ‘করেরহাট বাইক ল্যাব’ নামের একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ওই গ্যারেজ থেকে আরও দুটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলের মধ্যে একটি HERO এবং অন্যটি PLATINA ব্র্যান্ডের। গ্রেপ্তার ছয়জন হলেন—মো. জামসেদ হোসেন প্রকাশ শুভ (২৩), করেরহাট ইউনিয়ন; মো. শরিফুল ইসলাম প্রকাশ জনি (২৬), পূর্ব অলিনগর; সাইফুল ইসলাম প্রকাশ চাঁদ মিয়া (২০), বারইয়ারহাট পৌরসভা; আসিফ মাহমুদ প্রকাশ অভি (২৪), ধুম ইউনিয়ন; ইসমাইল হোসেন (১৮), ধুম ইউনিয়ন এবং মো. মাশরাফি (২০), ইছাখালী ইউনিয়ন—সকলেই জোরারগঞ্জ, চট্টগ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত মো. মাশরাফির বিরুদ্ধে চুরির তিনটি মামলা রয়েছে। অভিযানে মোট তিনটি চোরাই মোটরসাইকেল ও ছয়টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। চোরাই মোটরসাইকেল চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ।

রাউজানে করিম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৪

চট্টগ্রামের রাউজানে বহুল আলোচিত মোহাম্মদ করিম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় এলজি, এয়ার গান, কার্তুজ, চাপাতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএমের সার্বিক দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা নিবিড় তদন্ত ও ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ জানায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাউজান থানার উরকিরচর ইউনিয়নের কেরানিহাট এলাকায় মোহাম্মদ করিমকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়। সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে আসা একদল ব্যক্তি করিমকে ঘিরে প্রথমে গুলি করে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা ও ঘাড়ে আঘাত করে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ও জেলা পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

নিহত মোহাম্মদ করিম রাউজানের উরকিরচর ইউনিয়নের হারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হলেও আমান বাজার এলাকায় বসবাস করতেন। পুলিশ রেকর্ড অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে চুরি, মাদক, ডাকাতি ও ছিনতাইসহ ১০টি মামলা রয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০ দিন আগে পারভেজের মামা আজগরের একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। ওই ঘটনায় পারভেজ করিমকে সন্দেহ করে মোটরসাইকেলটি ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ দেন। করিম চুরির সঙ্গে জড়িত নন বলে জানালে পারভেজ তার ওপর ক্ষুব্ধ হন।

পুলিশের দাবি, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় পারভেজ তার সোর্সের মাধ্যমে কৌশলে করিমকে রাউজানের কেরানিহাট বাজার এলাকায় ডেকে আনেন। সেখানে পারভেজসহ অন্যরা পরস্পর যোগসাজশে প্রথমে করিমকে গুলি করেন এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন।

তদন্তের অংশ হিসেবে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তথ্য সংগ্রহ করে। পরে সিএমপির চাঁদগাঁও থানাধীন কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকা থেকে সৈয়দ মোহাম্মদ শুক্কুর (২৭) ও মো. জাবেদকে (২৮) গ্রেপ্তার করা হয়।

তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও কার্তুজ রাউজানের পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের মগদাই এলাকায় পলাতক আসামি পারভেজের পরিত্যক্ত গরুর খামারে রাখা হয়েছে।

পরে গ্রেপ্তারকৃত শুক্কুর ও জাবেদকে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ১৪ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ৫ মিনিটে ওই গরুর খামারে অভিযান চালানো হয়। পুলিশ জানায়, আসামিদের দেখানো ও তাদের নিজ হাতে বের করে দেওয়ার ভিত্তিতে খামারের ভেতরে সিমেন্টের তৈরি গামলার মধ্যে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় অস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার করা আলামতের মধ্যে রয়েছে—একটি লোহার তৈরি দেশীয় এলজি, একটি দেশীয় তৈরি এয়ার গান, ১২ বোরের দুই রাউন্ড সীসা কার্তুজ, একটি চাপাতি এবং একটি লোহার গ্রিল কাটার।

এ ঘটনায় হাটহাজারী থানার দক্ষিণ মাদার্শা এলাকা থেকে মো. সেলিম (৫০) ও মো. আলামিনকে (২৯) গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার চারজন হলেন—উরকিরচর ইউনিয়নের মো. সেলিম (৫০), সৈয়দ মোহাম্মদ শুক্কুর (২৭), মো. জাবেদ (২৮) এবং মো. আলামিন (২৯)। পুলিশ জানায়, সেলিমের বিরুদ্ধে একটি চুরি মামলা, জাবেদের বিরুদ্ধে একটি অপহরণ মামলা এবং আলামিনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে দুটি মামলা রয়েছে।

এদিকে থানা রেকর্ডপত্র ও সিডিএমএস যাচাই করে পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক আসামি মো. পারভেজের (৪৫) বিরুদ্ধে রাউজানসহ বিভিন্ন থানায় হত্যা, ডাকাতি, অস্ত্র, নারী ও শিশু নির্যাতন, বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি ও অস্ত্র আইনের মামলাও রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার অন্যতম পলাতক আসামি পারভেজসহ অন্যদের গ্রেপ্তারে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিদের পাশাপাশি পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধেও অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাইয়ের সময় দুইজন গ্রেফতার

0

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী গোলচত্বর এলাকা থেকে ছিনতাইয়ের সময় দুইজনকে গ্রেফতার করেছে সিটি-ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস বিভাগ। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এমসিসি নং-৯৬৫/২৬ ও জিডি নং-২৭৩/২৬-এর ভিত্তিতে সিটি-ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস বিভাগের এসআই (নিঃ) মো. মুরাদ হোসেনের নেতৃত্বে একটি অভিযানিক দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় যাত্রাবাড়ী থানাধীন যাত্রাবাড়ী গোলচত্বর এলাকার পাকা সড়ক থেকে ছিনতাইরত অবস্থায় দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতাররা হলেন—মোহাম্মদ আলী (২০)। তিনি গোপালগঞ্জ সদর থানার পশ্চিমশুকতাইল এলাকার ইমান আলী ও জবেদা বেগমের ছেলে। বর্তমানে যাত্রাবাড়ীর কাজলা (ডাবতলা) এলাকায় সজিবের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করেন। অপরজন শাওন (২২)। তিনি যাত্রাবাড়ী থানার শনিরআখড়া (গোবিন্দপুর) এলাকার ইদ্রিস ও সুমি দম্পতির ছেলে। পরে গ্রেফতার দুইজনকে যাত্রাবাড়ী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা প্রেসক্লাবের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন

0

ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা প্রেসক্লাবের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ২১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ও প্রবীণ সাংবাদিক নুরুল ইসলাম রিপনকে সভাপতি এবং সাংবাদিক নজিরুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্য পদে রয়েছেন—সিনিয়র সহ-সভাপতি মুজিব উল্লাহ তুষার, সহ-সভাপতি সুমন কুমার দে ও মুহাম্মদ ফজলুল করিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ মালেক, সাংগঠনিক সম্পাদক ওসমান গনী, অর্থ সম্পাদক মুহাম্মদ মিনহাজ উদ্দীন সিদ্দিকী, দপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন এবং সমাজকল্যাণ সম্পাদক হাকিম এমরান বিন জালাল। এ ছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে আবুল মুনসুর, মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, শ্যামল নন্দী, ইয়াছিন, জামাল, রহিম চৌধুরী রানা, তারেক হোসেন, তাহের উদ্দিন আমীরী, মুহাম্মদ রাসেল, জয়নাল আবেদীন, রায়হান ও মুহাম্মদ এমরান রয়েছেন। নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সাংবাদিকদের পেশাগত ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা আরও জোরদারে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।