খুলশী থানার ওসি আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে মামলাঃ দায়িত্ব পালনই কি অপরাধ? অভিযোগের বিচার হোক, অপরাধ প্রমাণিত হলে শাস্তি হোক; কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বকে বিতর্কিত করে পুলিশকে নিষ্ক্রিয় করা যাবে না-

By admin
11 Min Read

-মো.কামাল উদ্দিনঃ
পুলিশ মানেই শুধু ইউনিফর্ম পরা একজন মানুষ নয়, পুলিশ মানে রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা, নাগরিকের নিরাপত্তা এবং বিপদের মুহূর্তে মানুষের শেষ আশ্রয়। রাত যখন গভীর হয়, নগরী যখন নিস্তব্ধ হয়ে ঘুমিয়ে থাকে, তখনও পুলিশের সদস্যরা জেগে থাকেন মানুষের নিরাপত্তার জন্য। অপরাধীর পরিচয়, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা ক্ষমতার প্রভাব বিবেচনা না করে আইন প্রয়োগ করাই তাদের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো পুলিশ কর্মকর্তা যদি অভিযোগের মুখোমুখি হন, তবে অভিযোগের সত্যতা অবশ্যই তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া উচিত, কিন্তু অভিযোগ উঠলেই একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তাকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা ন্যায়বিচারের পথ নয়।
খুলশী থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুর রহিমকে নিয়েও আজ নানা অভিযোগ ও মামলা সামনে এসেছে। কিন্তু তাঁকে কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের ছাঁচে বিচার করার আগে মনে রাখতে হবে, তিনি একজন পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালন করছেন। সরকার পরিবর্তন হয়, রাজনৈতিক নেতৃত্ব পরিবর্তন হয়, কিন্তু পুলিশ বাহিনী থেকে যায় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিয়ে। পুলিশের কোনো দল নেই, কোনো ব্যক্তিগত রাজনৈতিক পরিচয় থাকার কথা নয়, তাদের পরিচয় একটাই, তারা রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। তাই খুলশী থানার ঘটনাতেও আবেগ নয়, সত্য, প্রমাণ ও নিরপেক্ষ তদন্তই হোক শেষ কথা। পুলিশের অপরাধ প্রমাণিত হলে শাস্তি অবশ্যই হবে, কিন্তু দায়িত্ব পালন যেন অপরাধ হিসেবে গণ্য না হয়।
চট্টগ্রাম নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা খুলশী। এই এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত এবং রাষ্ট্রীয় আইন বাস্তবায়নের দায়িত্ব খুলশী থানার পুলিশের ওপর। সেই থানার সদ্য যোগদানকারী অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আবদুর রহিমসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে দায়ের করা একটি ফৌজদারি অভিযোগকে ঘিরে এখন নানা আলোচনা চলছে। মামলায় বাদীপক্ষ পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর কিছু অভিযোগ এনেছে। অভিযোগগুলো আদালতে বিচারাধীন। তাই অভিযোগের সত্যতা বা অসত্যতা নিয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করার সুযোগ নেই। তবে এই মামলাকে ঘিরে যে প্রশ্নটি সামনে এসেছে, তা শুধু একটি থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে নিয়ে নয়; এটি রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পুরো ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রশ্নটি খুবই সরল—পুলিশ আইন মেনে দায়িত্ব পালন করবে, নাকি দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর ভয় নিয়ে কাজ করবে?
অভিযোগের অধিকার আছে, কিন্তু অভিযোগই রায় নয়
কোনো নাগরিক যদি পুলিশের বিরুদ্ধে অন্যায়, নির্যাতন, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা বেআইনি আচরণের অভিযোগ করেন, সেই অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত হওয়া উচিত। এটি নাগরিকের ন্যায়বিচারের অধিকার। কিন্তু একই সঙ্গে আমাদের মনে রাখতে হবে—অভিযোগ মানেই অপরাধ নয়। মামলা মানেই দোষী সাব্যস্ত হওয়া নয়। আর অভিযুক্ত মানেই অপরাধী নয়। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে সাক্ষ্য, প্রমাণ, তদন্ত এবং আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায়। এই মৌলিক নীতিটি ভুলে গেলে আমরা নিজেরাই ন্যায়বিচারের কাঠামোকে দুর্বল করে ফেলব।
ওসি আবদুর রহিমকে আগে একজন পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে দেখতে হবে
মোহাম্মদ আবদুর রহিম খুলশী থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একজন থানার ওসির দায়িত্ব কোনো রাজনৈতিক পক্ষকে সন্তুষ্ট করা নয়; তাঁর দায়িত্ব হলো আইন অনুযায়ী থানার কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা। তিনি কোনো অভিযান পরিচালনা করলে তার বৈধতা প্রশ্ন করা যেতে পারে। কোনো সিদ্ধান্ত ভুল মনে হলে তার ব্যাখ্যা চাওয়া যেতে পারে। কোনো নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হলে অভিযোগ করা যেতে পারে। কিন্তু প্রমাণ ছাড়া একজন পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তার গায়ে রাজনৈতিক পরিচয়ের তকমা লাগিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই দায়িত্বশীল আচরণ হতে পারে না। একজন পুলিশ কর্মকর্তার প্রথম পরিচয় তাঁর পেশা।
পুলিশ কোনো দলের নয়
এই কথাটি আজ বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার। পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দলের নয়। পুলিশ রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠান। আজ যে সরকার ক্ষমতায় আছে, আগামী দিনে সেই সরকার নাও থাকতে পারে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব পরিবর্তিত হবে, ক্ষমতার পালাবদল ঘটবে, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে পরিবর্তন আসবে। কিন্তু রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজন শেষ হবে না। পুলিশকে তাই সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে রাজনৈতিক রঙে রাঙানো যায় না। সরকার যাবে, সরকার আসবে; কিন্তু পুলিশকে জনগণের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে। এটাই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিকতা।
পুলিশের দায়িত্ব পালনের জায়গাটিও বুঝতে হবে
একজন পুলিশ কর্মকর্তা যখন রাতের বেলায় কোনো এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন, তখন তিনি সবসময় স্বাভাবিক পরিবেশের মধ্যে কাজ করেন না। অপরাধী ধরতে গিয়ে প্রতিরোধের মুখে পড়তে পারেন, উত্তেজিত জনতার মুখোমুখি হতে পারেন, নিজের জীবন নিয়েও ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কখনো তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন হয়। তবে সেই সিদ্ধান্ত অবশ্যই আইনসম্মত হতে হবে। এখানেই মূল ভারসাম্য। পুলিশকে আইন প্রয়োগের ক্ষমতা দিতে হবে, কিন্তু সেই ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে। একদিকে পুলিশের হাতে যেন আইন থাকে, অন্যদিকে যেন সেই আইনের অপব্যবহার না হয়—রাষ্ট্রকে এই দুই নিশ্চয়তাই একসঙ্গে দিতে হবে।
পুলিশের বৈধ দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি হলে ক্ষতি কার?
এই প্রশ্নটি আমরা প্রায়ই ভুলে যাই। কোনো পুলিশ কর্মকর্তা যদি অপরাধী ধরতে গিয়ে বারবার মামলা বা অভিযোগের ভয় পান, যদি বৈধ অভিযান পরিচালনা করতে দ্বিধা করেন, যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে আতঙ্কিত হন—তাহলে এর সবচেয়ে বড় ক্ষতি হবে সাধারণ মানুষের। কারণ অপরাধী কখনো পুলিশের দুর্বলতার সুযোগ নিতে দেরি করবে না। একটি থানার পুলিশ যদি দায়িত্ব পালনে মনোবল হারায়, তাহলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হবে। জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। সাধারণ মানুষ থানার ওপর আস্থা হারাবে। তাই পুলিশের জবাবদিহি প্রয়োজন, কিন্তু পুলিশের বৈধ দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা ও মনোবলও রক্ষা করতে হবে।
পুলিশ ভুল করলে শাস্তি হবে, কিন্তু অপরাধ প্রমাণ হতে হবে
পুলিশের পোশাক কাউকে আইনের ঊর্ধ্বে রাখে না। কোনো পুলিশ সদস্য যদি সত্যিই আইন ভঙ্গ করেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করেন, নির্যাতন করেন, বেআইনি বলপ্রয়োগ করেন কিংবা কোনো অপরাধে জড়িত হন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে বিভাগীয় তদন্ত হবে। প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা হবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে শাস্তি হবে। চাকরি হারানোর মতো শাস্তির বিধান থাকলে সেটিও প্রয়োগ করা হবে। কিন্তু তদন্তের আগেই একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে অপরাধী বানিয়ে দেওয়া হলে সেটি যেমন ন্যায়বিচারের পরিপন্থী, তেমনি সত্যিকারের অপরাধের তদন্তকেও দুর্বল করতে পারে।
খুলশী থানার ঘটনাতেও চাই নিরপেক্ষ তদন্ত
খুলশী থানার ঘটনায় যে অভিযোগগুলো উঠেছে, সেগুলোকে হালকাভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগের প্রতিটি বিষয় যাচাই করা দরকার। ঘটনার সময় পুলিশ কেন সেখানে গিয়েছিল? কোনো মামলা বা আইনগত কার্যক্রমের ভিত্তি ছিল কি না? পুলিশের কাছে কী ধরনের নির্দেশনা বা তথ্য ছিল? অভিযানের সময় প্রকৃত পরিস্থিতি কী ছিল? কোনো অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ হয়েছিল কি না? কারও সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ সত্য কি না? আহত হওয়ার দাবির পেছনে চিকিৎসা নথি কী বলছে? ভিডিও বা সিসিটিভি ফুটেজে কী দেখা যাচ্ছে? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করাই তদন্তের কাজ। গুজব নয়, প্রমাণ কথা বলুক।
একই সঙ্গে পুলিশের বক্তব্যও শোনা হোক
ন্যায়বিচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো—এক পক্ষের বক্তব্য শুনেই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। বাদীপক্ষের বক্তব্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে প্রত্যক্ষদর্শী, ভিডিও ফুটেজ, চিকিৎসা নথি, পুলিশি নথি এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। কারণ সত্য কখনো এক পক্ষের মুখে সম্পূর্ণ থাকে না। সত্যকে খুঁজে বের করতে হয়।
ওসি আবদুর রহিমকে বিতর্কে নয়, কর্মে বিচার করা উচিত
সদ্য দায়িত্ব নেওয়া একজন অফিসার ইনচার্জকে শুরুতেই রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে দাঁড় করিয়ে দেওয়া কোনো সুস্থ প্রশাসনিক পরিবেশের লক্ষণ নয়। তাঁর কাজের মূল্যায়ন হোক তাঁর দায়িত্ব পালনের ভিত্তিতে। তিনি কি আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সফল? তিনি কি অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছেন? তিনি কি সাধারণ মানুষের অভিযোগ শুনছেন? তিনি কি পুলিশ সদস্যদের পেশাগতভাবে পরিচালনা করছেন? তিনি কি আইন ও বিধি মেনে চলছেন? এসব প্রশ্নের উত্তরই তাঁর পেশাগত মূল্যায়নের ভিত্তি হওয়া উচিত। ব্যক্তিগত অপবাদ নয়, কর্মই হোক মূল্যায়নের মাপকাঠি।
পুলিশকে ভয় দেখিয়ে নয়, জবাবদিহির মধ্যে রেখে শক্তিশালী করতে হবে
আমরা এমন পুলিশ চাই না যারা জনগণের ওপর অন্যায় করবে। আবার এমন পুলিশও চাই না যারা অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ভয় পাবে। আমরা চাই এমন পুলিশ যারা আইন জানবে, আইন মানবে, জনগণকে সম্মান করবে, অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর হবে, ক্ষমতার অপব্যবহার করবে না এবং ভুল করলে জবাবদিহি করবে। এই পুলিশই জনগণের পুলিশ। এই পুলিশই রাষ্ট্রের পুলিশ।
সাংবাদিকতার দায়িত্বও সত্য অনুসন্ধান
খুলশী থানার ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রেও দায়িত্বশীলতার প্রয়োজন রয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সংবাদ হবে। পুলিশের অপরাধ থাকলে অনুসন্ধান হবে। কিন্তু পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে বলেই অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সাংবাদিকতা নয়। আবার পুলিশের বক্তব্য না নিয়ে শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করাও পূর্ণাঙ্গ সাংবাদিকতা নয়। অভিযোগের পাশে প্রমাণ, বক্তব্যের পাশে তথ্য এবং উত্তেজনার পাশে বিবেক—এই তিনটি থাকলেই সাংবাদিকতা দায়িত্বশীল হয়।
শেষ কথা: খুলশী থানাকে দুর্বল নয়, জবাবদিহিমূলক ও শক্তিশালী করতে হবে
খুলশী থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুর রহিমসহ যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। অভিযোগ সত্য হলে আইনানুগ ব্যবস্থা হোক। অভিযোগ মিথ্যা হলে অভিযুক্তদেরও আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ থাকুক। কিন্তু একটি বিষয় কোনোভাবেই ভুলে যাওয়া যাবে না—পুলিশকে আইনের ঊর্ধ্বে রাখা যাবে না, আবার পুলিশকে আইনের ভয়ে দায়িত্বহীনও করা যাবে না। অভিযোগ করার অধিকার নাগরিকের আছে। আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার অভিযুক্তেরও আছে। তদন্তের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। আর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার দায়িত্ব আদালতের। তাই খুলশী থানার ওসি আবদুর রহিমকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেটিকে রাজনৈতিক রঙ না দিয়ে আইন ও প্রমাণের কাঠামোর মধ্যে দেখা উচিত। কারণ একজন পুলিশ কর্মকর্তা যদি সত্যিই অপরাধ করেন, তাঁকে রক্ষা করার প্রয়োজন নেই। আবার একজন পুলিশ কর্মকর্তা যদি আইন মেনে জনগণের নিরাপত্তার জন্য দায়িত্ব পালন করেন, তাঁকেও অযথা বিতর্কিত করার প্রয়োজন নেই। পুলিশ কোনো দলের নয়। পুলিশ কোনো ব্যক্তির নয়। পুলিশ রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রতিষ্ঠান। সরকার আসবে, সরকার যাবে। রাজনৈতিক বাস্তবতা পরিবর্তন হবে। ক্ষমতার পালাবদল হবে। কিন্তু রাতের অন্ধকারে অপরাধের বিরুদ্ধে যে পুলিশ সদস্য ছুটে যাবেন, বিপদের সময় যে পুলিশ জনগণের পাশে দাঁড়াবেন, আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়লে যে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করবেন—তাঁদের দায়িত্ব থেকে যাবে। তাই অভিযোগের বিচার হোক, কিন্তু দায়িত্বের শাস্তি নয়। অপরাধ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা হোক, কিন্তু প্রমাণের আগে অপবাদ নয়। পুলিশকে আইনের বাইরে নয়, আইনের ভেতরেই শক্তিশালী করা হোক। খুলশী থানার ওসি আবদুর রহিমসহ প্রত্যেক পুলিশ কর্মকর্তার জন্য একই নীতি—আইনের কাছে জবাবদিহি, দায়িত্ব পালনে দৃঢ়তা এবং জনগণের নিরাপত্তায় অঙ্গীকার। এটাই হওয়া উচিত একটি সভ্য, গণতান্ত্রিক ও আইনভিত্তিক রাষ্ট্রের পুলিশিং দর্শন।

Share This Article
Leave a Comment