এক বছর আগে যে আলো দেখেছিলাম হাসিব আজিজ—চট্টগ্রামের কমিশনার থেকে অতিরিক্ত আইজিপি, এপিবিএন প্রধান।

By admin
11 Min Read

-মো. কামাল উদ্দিনঃ
যুগ্ম সম্পাদক, দৈনিক ভোরের আওয়াজ
ডেপুটি এডিটর, The Tourist
কিছু কিছু লেখা সময়ের সঙ্গে পুরোনো হয় না। বরং সময় একদিন ফিরে এসে সেই লেখার প্রতিটি শব্দকে নতুন অর্থ দেয়।
আজ তেমনই একটি দিন।
ঠিক এক বছর আগে, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের নবনিযুক্ত কমিশনার হাসিব আজিজকে নিয়ে আমি একটি লেখা লিখেছিলাম। সত্যি বলতে, সময়ের ব্যস্ততায় সেই লেখার কথা আমিই প্রায় ভুলে গিয়েছিলাম। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের স্মৃতির পাতায় আজ হঠাৎ সেই লেখা ফিরে এলো।
পুরোনো লেখাটি পড়তে গিয়ে কয়েক মুহূর্তের জন্য থমকে গেলাম।
কারণ এক বছর আগে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারের চেয়ারে বসা যে মানুষটিকে নিয়ে লিখেছিলাম, আজ তিনি অতিরিক্ত আইজিপি এবং এপিবিএনের প্রধান।
এক বছর—সময়টা খুব বেশি নয়। অথচ একটি মানুষের কর্মজীবনে এই এক বছর কখনো কখনো অনেক বড় পরিবর্তনের সাক্ষী হয়ে ওঠে।
হাসিব আজিজের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।
তবে তাঁর পদোন্নতির খবরের চেয়েও আমার কাছে আনন্দের বিষয় হলো—এক বছর আগে একজন সাংবাদিকের চোখে যে সম্ভাবনার আলো ধরা পড়েছিল, সময়ের পরীক্ষায় সেই আলো আজ আরও উজ্জ্বল হয়েছে।
প্রথম সাক্ষাতেই মনে হয়েছিল—এই মানুষটি আলাদা
সাংবাদিকতার দীর্ঘ পথ চলতে গিয়ে দেশের বহু পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছে। কেউ ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী, কেউ কঠোর, কেউ প্রশাসনিকভাবে দক্ষ, কেউ ছিলেন মানুষের কাছে জনপ্রিয়।
কিন্তু হাসিব আজিজের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা আমার কাছে কিছুটা আলাদা।
তখন তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। আমি সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলাম।
সাধারণত এমন সাক্ষাৎ সংক্ষিপ্ত ও আনুষ্ঠানিক হয়। কিন্তু তাঁর সঙ্গে কথোপকথন দ্রুতই আনুষ্ঠানিকতার গণ্ডি পেরিয়ে যায়।
পুলিশের দায়িত্ব, অপরাধ দমন, আইনশৃঙ্খলা, জনগণের নিরাপত্তা, সাংবাদিকতা—বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হয়েছিল।
তাঁর কথাবার্তায় সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি আমাকে আকৃষ্ট করেছিল, সেটি হলো—
তিনি পুলিশকে শুধু ক্ষমতার প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চান না; তিনি পুলিশকে জনগণের আস্থার প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চান।
সেদিন তাঁর একটি কথার মর্ম আজও আমার মনে আছে—
“পুলিশ জনগণের জন্য।”
একজন পুলিশ কর্মকর্তার মুখ থেকে এই কথাটি শোনা সহজ। কিন্তু সেই কথাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া কঠিন।
কারণ পুলিশের হাতে আইন প্রয়োগের ক্ষমতা আছে। আর ক্ষমতার সঙ্গে আসে দায়িত্ব।
সেই দায়িত্বের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হলো—ক্ষমতা প্রয়োগের সময় জনগণের অধিকার ও মর্যাদা কতটা রক্ষা করা যায়।
পুলিশকে ভয় নয়, আস্থার জায়গায় দেখতে চাই
আমার বিশ্বাস, একজন পুলিশ কর্মকর্তার সবচেয়ে বড় সাফল্য শুধু অপরাধী গ্রেপ্তার করা নয়।
সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো—
একজন সাধারণ মানুষ বিপদে পড়ে থানার দরজায় গিয়ে যেন মনে করেন, “এখানে আমার কথা শোনা হবে।”
এই আস্থা তৈরি করা সহজ নয়।
একজন পুলিশ সদস্যের একটি ভালো আচরণ যেমন পুরো বাহিনীর প্রতি মানুষের বিশ্বাস বাড়াতে পারে, তেমনি একজন সদস্যের একটি অন্যায় আচরণও সেই বিশ্বাস নষ্ট করতে পারে।
তাই জনবান্ধব পুলিশিং কোনো স্লোগান নয়। এটি প্রতিদিনের আচরণ, সিদ্ধান্ত, জবাবদিহি ও দায়িত্বশীলতার সমষ্টি।
হাসিব আজিজের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতে এই জায়গাটিতেই আমি তাঁর চিন্তার একটি ইতিবাচক দিক দেখেছিলাম।
কঠোরতার মধ্যেও থাকতে হয় বিবেক
হাসিব আজিজকে নিয়ে কথা বলতে গেলে তাঁর কঠোরতার বিষয়টি অবশ্যই আসে।
পুলিশের দায়িত্ব সবসময় ফুলের বিছানা নয়। কখনো কখনো পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যায়, যেখানে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আন্দোলন, রাজনৈতিক কর্মসূচি, সংঘাত, অপরাধ, সন্ত্রাস কিংবা আকস্মিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি—এসব মোকাবিলায় একজন পুলিশ কর্মকর্তার অভিজ্ঞতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার কঠিন পরীক্ষা হয়।
হাসিব আজিজের দীর্ঘ পেশাগত জীবনে এমন কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
তিনি কঠোর হতে পারেন—এটি তাঁর পেশাগত সক্ষমতার একটি দিক।
কিন্তু আমার কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো—
কখন কঠোর হতে হবে এবং কখন মানবিক হতে হবে—এই পার্থক্যটি বুঝতে পারা।
কারণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে অপ্রয়োজনীয় কঠোরতা যেমন ক্ষতিকর, তেমনি অপরাধীর প্রতি অতিরিক্ত নরম মনোভাবও সমাজের জন্য বিপজ্জনক।
একজন দক্ষ পুলিশ নেতাকে এই দুইয়ের মাঝখানে আইনের পথটি খুঁজে নিতে হয়।
সাংবাদিকের কলমকে তিনি প্রতিপক্ষ মনে করেননি
সেদিন আমার সাংবাদিকতা নিয়েও তাঁর সঙ্গে কথা হয়েছিল।
তিনি আমার বিভিন্ন প্রতিবেদন সম্পর্কে অবগত ছিলেন। সকালের সময়, দৈনিক ভোরের আওয়াজ এবং The Daily Banner-এ প্রকাশিত আমার বিভিন্ন প্রতিবেদন নিয়েও তিনি কথা বলেছিলেন।
আমি তাঁকে আমার লেখা ‘অদম্য মনোয়ার’ বই এবং কয়েকটি পত্রিকার কপি উপহার দিয়েছিলাম।
একজন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে একজন সাংবাদিকের সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত—এ নিয়ে আমার নিজের একটি বিশ্বাস আছে।
সাংবাদিকের কাজ শুধু প্রশংসা করা নয়; প্রশ্ন করা।
আর প্রশাসনের কাজ সেই প্রশ্নকে শত্রুতা হিসেবে না দেখে প্রয়োজন হলে আত্মসমালোচনার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা।
হাসিব আজিজের সঙ্গে আমার সেই কথোপকথনে অন্তত আমি এমন একটি মানসিকতার পরিচয় পেয়েছিলাম।
তিনি বুঝতেন—সাহসী সাংবাদিকতা কখনো কখনো প্রশাসনের অস্বস্তির কারণ হতে পারে, কিন্তু সেই অস্বস্তিই অনেক সময় সংশোধনের পথ খুলে দেয়।
বাহিনীর ভেতরেও শুদ্ধতা প্রয়োজন
জনবান্ধব পুলিশিংয়ের কথা যতই বলা হোক, পুলিশের ভেতরে দুর্নীতি, ঘুষ, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা দায়িত্বে অবহেলা থাকলে মানুষের আস্থা পুরোপুরি ফিরবে না।
একজন পুলিশ কর্মকর্তার জন্য সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর একটি হলো—নিজের বাহিনীর ভেতরের অনিয়মের বিরুদ্ধেও দাঁড়ানো।
বাইরের অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা দায়িত্ব।
কিন্তু নিজের প্রতিষ্ঠানের কেউ অন্যায় করলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস থাকা নেতৃত্বের পরীক্ষা।
আমি মনে করি, পুলিশকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি পুলিশের ভেতরের শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি শক্তিশালী করা equally গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ পুলিশের পোশাকের মর্যাদা শুধু অস্ত্র দিয়ে রক্ষা হয় না—
রক্ষা হয় সততা দিয়ে।
চট্টগ্রাম ছিল তাঁর জন্য বড় পরীক্ষা
চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অর্থনীতি, বন্দর, শিল্প, বাণিজ্য ও পর্যটনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।
এই মহানগরের পুলিশ কমিশনারের দায়িত্ব তাই নিছক একটি প্রশাসনিক পদ নয়।
এখানে আইনশৃঙ্খলা মানে শুধু অপরাধ নিয়ন্ত্রণ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বন্দরনিরাপত্তা, শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা, ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ, জননিরাপত্তা এবং নগরীর সামগ্রিক স্থিতিশীলতা।
সেই চট্টগ্রাম অধ্যায় পেরিয়ে আজ হাসিব আজিজ আরও বড় দায়িত্বে।
অতিরিক্ত আইজিপি।
এপিবিএনের প্রধান।
দায়িত্ব যত বড় হয়েছে, প্রত্যাশাও তত বেড়েছে।
এপিবিএনের প্রধান হিসেবে নতুন অধ্যায়
এপিবিএনের নেতৃত্ব একটি বিশেষ ধরনের দায়িত্ব।
এখানে শুধু প্রশাসনিক দক্ষতা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন অপারেশনাল অভিজ্ঞতা, শৃঙ্খলা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা এবং কঠিন পরিস্থিতিতে স্থির থাকার মানসিকতা।
হাসিব আজিজের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা তাঁকে এই দায়িত্ব পালনে একটি শক্ত ভিত্তি দিয়েছে।
এখন তাঁর সামনে নতুন পরীক্ষা—
কীভাবে একটি বড় ও গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীকে আরও দক্ষ, শৃঙ্খলাবদ্ধ, পেশাদার এবং জনগণের আস্থার উপযোগী করে তোলা যায়।
রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে বড় পরিচয়—রাষ্ট্রের কর্মকর্তা
হাসিব আজিজের রাজনৈতিক ঘরানা নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা রয়েছে। তিনি বিএনপি-ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত—এমন কথাও বিভিন্ন মহলে প্রচলিত।
কিন্তু রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের জায়গায় আমার বিবেচনা অন্যরকম।
একজন পুলিশ কর্মকর্তার মূল্যায়নের প্রধান মাপকাঠি তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় হওয়া উচিত নয়; বরং হওয়া উচিত তাঁর পেশাগত দক্ষতা, সততা, আইন মেনে চলার মানসিকতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং জনগণের নিরাপত্তার প্রতি দায়বদ্ধতা।
রাষ্ট্রের পুলিশ কোনো দলের নয়।
পুলিশ রাষ্ট্রের, আর রাষ্ট্রের শেষ মালিক জনগণ।
তাই যে কর্মকর্তা ক্ষমতার পরিবর্তনের ঊর্ধ্বে উঠে আইনের শাসন ও জনগণের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে পারেন, তিনিই প্রকৃত অর্থে একজন সফল পুলিশ কর্মকর্তা।
তাহলে কি ভবিষ্যতের আইজিপি?
এই প্রশ্নটি এখন হয়তো অনেকের মনেই আসতে পারে।
হাসিব আজিজ কি একদিন বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি হতে পারেন?
এর উত্তর আজ কারও হাতে নেই।
আইজিপি নিয়োগ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত। সময়, জ্যেষ্ঠতা, যোগ্যতা, প্রশাসনিক প্রয়োজন এবং সরকারের সিদ্ধান্ত—সবকিছুই সেখানে ভূমিকা রাখে।
তবু একজন সাংবাদিক হিসেবে দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণ থেকে একটি সম্ভাবনার কথা বলা যায়।
হাসিব আজিজের সামনে সেই সম্ভাবনা অবশ্যই রয়েছে।
তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা আছে।
কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলার অভিজ্ঞতা আছে।
সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা আছে।
শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার অভিজ্ঞতা আছে।
বড় বাহিনীর নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ এখন তাঁর হাতে।
আর একজন পুলিশ প্রধানের জন্য প্রয়োজনীয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গুণগুলোর একটি—সংকটের মুহূর্তে দৃঢ় থাকা—সেটিও তাঁর কর্মজীবনে দেখা গেছে।
তবে আইজিপি হওয়ার পথে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে অন্য জায়গায়—
ক্ষমতা প্রয়োগে সংযম, আইনের প্রয়োগে ন্যায় এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা।
এক বছর আগে যে সম্ভাবনা দেখেছিলাম
আজ এক বছর আগের লেখাটি আবার পড়তে গিয়ে মনে হলো—কখনো কখনো সাংবাদিকের কলম ভবিষ্যতের একটি ছোট্ট ছবি আঁকে।
আমি তখন একজন কমিশনারকে দেখেছিলাম।
আজ দেখছি একজন অতিরিক্ত আইজিপিকে।
আগামীকাল কী হবে জানি না।
কিন্তু আমি এটুকু বিশ্বাস করি—যে কর্মকর্তা নিজের দায়িত্বকে শুধু চাকরি হিসেবে না দেখে দায়িত্ব ও আমানত হিসেবে গ্রহণ করেন, তাঁর সামনে বড় পথ তৈরি হয়।
হাসিব আজিজের সামনে এখন সেই বড় পথ।
আমার প্রত্যাশা
তাঁর প্রতি আমার ব্যক্তিগত প্রত্যাশা খুব সহজ।
আমি চাই, তিনি যেন আরও বড় দায়িত্বে গিয়ে আরও বড় মানুষ হন।
পদ বড় হলে মানুষের কাছ থেকে দূরে নয়—আরও কাছে যান।
ক্ষমতা বাড়লে অহংকার নয়—দায়িত্ব বাড়ুক।
কঠোরতা বাড়লে মানবিকতাও বাড়ুক।
আর পুলিশ বাহিনীর নেতৃত্বে থেকে তিনি যেন বারবার মনে রাখেন—
একজন পুলিশ কর্মকর্তার সবচেয়ে বড় পরিচয় তাঁর র‌্যাংক নয়; মানুষের আস্থা।
শেষ দৃশ্য: ভবিষ্যতের পাতায় একটি নাম
এক বছর আগে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়েছিল।
আজ তিনি অতিরিক্ত আইজিপি এবং এপিবিএনের প্রধান।
এই পথচলার দিকে তাকালে মনে হয়—একটি বছর কখনো কখনো একটি মানুষের কর্মজীবনের গতিপথ বদলে দিতে পারে।
আগামী দিনে তাঁর সামনে আরও বড় দায়িত্ব আসবে কি না, সেটি সময় বলবে।
কিন্তু যদি তাঁর সাহস থাকে,
যদি সততা অটুট থাকে,
যদি বিচক্ষণতা আরও পরিণত হয়,
যদি কঠোরতার সঙ্গে মানবিকতার ভারসাম্য বজায় থাকে,
আর যদি জনগণের আস্থা অর্জনই তাঁর নেতৃত্বের মূল লক্ষ্য থাকে—
তাহলে ভবিষ্যতের কোনো এক সকালে বাংলাদেশ পুলিশের শীর্ষ পদে তাঁর নাম দেখলে আমি বিস্মিত হব না।
বরং হয়তো আবার সেই এক বছর আগের লেখাটির কথা মনে পড়বে।
আর মনে মনে বলব—
“চট্টগ্রামে যে মানুষটির চোখে একদিন সম্ভাবনার আলো দেখেছিলাম, সময় শেষ পর্যন্ত সেই আলোকে আরও বড় আকাশে নিয়ে গেছে।”
হাসিব আজিজের জন্য রইল আন্তরিক অভিনন্দন, শুভকামনা ও দোয়া।
পুলিশ হোক ক্ষমতার প্রদর্শন নয়—আইনের শক্তি।
পুলিশ হোক ভয়ের প্রতীক নয়—নিরাপত্তার আশ্রয়।
পুলিশ হোক কোনো গোষ্ঠীর নয়—রাষ্ট্র ও জনগণের।
আর নেতৃত্ব হোক এমন, যার সামনে মাথা নত করে শুধু অধীনস্থরা নয়—আস্থা রাখে সাধারণ মানুষও।

Share This Article
Leave a Comment