ভেনিসে অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর হামলা, ভিডিও বিশ্লেষণে শনাক্ত কয়েকজন

0
35

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বিশ্লেষণ করে ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনায় জড়িত কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, বাঁধনের দিকে বারবার পানি ছুড়ে মারছেন একজন। কেউ তাকে শাসাচ্ছেন, কেউ হামলার দৃশ্য ধারণ করছেন, আবার কেউ শারীরিকভাবে আঘাত করার চেষ্টা করছেন।

ঘটনার পর ভেনিসে মামলা দায়ের করেছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন।

ঘটনার একটি ভিডিওতে হামলাকারীদের বলতে শোনা যায়—

‘এই যে জুলাই জঙ্গি, ওরা দেশটাকে ধ্বংস করেছে। আমরা ইতালির ছাত্রলীগ।’

পরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া ভিডিও বার্তায় বাঁধন তার ওপর হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ঘটনার সময় মনিরুল হাওলাদার নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভ করা হয়। সেই লাইভের ক্যাপশনে লেখা ছিল—

‘জুলাই জঙ্গি আজমেরী হক বাঁধনকে আমরা উত্তম মাধ্যম দিয়েছি ভেনিসে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ইতালি শাখা।’

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মনিরুল হাওলাদারের বাড়ি মাদারীপুরে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও তার স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি ছাত্রলীগের একটি ইউনিয়ন শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

দুই হাজার চব্বিশ সালের পাঁচ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ছাড়েন মনিরুল। প্রথমে লিবিয়া এবং পরে ইতালিতে যান তিনি।

ভিডিওতে বাঁধনের দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বারবার পানি ছুড়ে দিতে দেখা যায় শরীয়তপুরের শিপল মাহমুদ বিপ্লবকে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে ভেনিস আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও জানা গেছে।

ভিডিওতে বাঁধনের দিকে এগিয়ে গিয়ে থাপ্পড় দেওয়ার চেষ্টা করা ব্যক্তির পরিচয়ও পাওয়া গেছে। তিনি ইলিয়াস মিয়া। তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া বিভিন্ন ছবি ও পোস্টে ইতালির ভেনিস শাখা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও ইলিয়াস মিয়াকে দেখা গেছে।

ভিডিওতে বাঁধনের আশপাশে থাকা এবং তাকে একাধিকবার শাসাতে দেখা যায় আরও কয়েকজনকে। তাদের মধ্যে একজন আলতাফ পাহাড়।

তার বাড়ি শরীয়তপুরে। স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তিনিও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে ইতালির ভেনিসে যুবলীগের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।

তবে ভিডিও বিশ্লেষণ করে যাদের শনাক্ত করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

অভিনেত্রী বাঁধনের দায়ের করা মামলায় হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

বিদেশের মাটিতে একজন বাংলাদেশি অভিনেত্রীর ওপর প্রকাশ্যে হামলার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া।

ঘটনার ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্টদের রাজনৈতিক পরিচয়—সবকিছুই এখন তদন্তের আওতায় আসার দাবি উঠেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here