Home Blog Page 28

একজন শিক্ষকও একজন মানুষ: ট্রোল নয়, মানবিকতা ও সম্মানের সমাজ গড়ে তুলি

 একজন শিক্ষককে আমরা জাতি গঠনের কারিগর বলি। কারণ তিনি শুধু পাঠ্যবইয়ের অক্ষর শেখান না, তিনি মানুষের বিবেক জাগিয়ে তোলেন, নৈতিকতা শেখান, স্বপ্ন দেখতে শেখান এবং একটি প্রজন্মকে আলোকিত ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে দেন। কিন্তু আমরা প্রায়ই একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য ভুলে যাই—একজন শিক্ষকও সবার আগে একজন মানুষ। তাঁরও ব্যক্তিগত জীবন আছে, পরিবার আছে, আনন্দ আছে, দুঃখ আছে, সাংস্কৃতিক চর্চা আছে, অবসরের মুহূর্ত আছে। শিক্ষকতার পেশা তাঁকে মানুষ হওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে না। প্রধান শিক্ষিকা ও সংস্কৃতিমনা ব্যক্তিত্ব বিউটি রানী পালকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে আলোচনা, ট্রোল এবং কটূক্তি দেখা যাচ্ছে, তা আমাদের সমাজের জন্য একটি গভীর আত্মসমালোচনার বিষয়। যদি কোনো ব্যক্তিগত মুহূর্ত বা সাংস্কৃতিক প্রকাশকে কেন্দ্র করে কাউকে অপমান, বিদ্রূপ বা চরিত্রহননের চেষ্টা করা হয়, তবে সেটি শুধু একজন ব্যক্তির প্রতি অন্যায় নয়; বরং আমাদের সামাজিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা এবং মানবিক চেতনারও অবক্ষয়ের প্রতিচ্ছবি। সংস্কৃতি কখনো লজ্জার বিষয় নয়। গান, নাচ, সাহিত্য, আবৃত্তি কিংবা শিল্পচর্চা একটি সভ্য সমাজের সৌন্দর্য বহন করে। একজন শিক্ষক যদি তাঁর ব্যক্তিগত সময়ে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেন এবং তাতে আইন বা অন্যের অধিকার লঙ্ঘনের কোনো প্রশ্ন না থাকে, তবে সেটিকে বিদ্রূপের বিষয় বানানো সভ্যতার পরিচয় নয়। বরং এমন মনোভাব সমাজে অসহিষ্ণুতা ও বিদ্বেষের সংস্কৃতিকে আরও উসকে দেয়। আজকের ডিজিটাল যুগে একটি ভিডিও, একটি ছবি কিংবা কয়েক সেকেন্ডের একটি দৃশ্য মুহূর্তেই লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। কিন্তু আমরা অনেকেই ভুলে যাই, সেই ভিডিওর ওপাশেও একজন মানুষ আছেন, যার আত্মসম্মান আছে, পরিবার আছে, সহকর্মী আছে এবং একটি সামাজিক অবস্থান আছে। কয়েকটি কটূক্তি, অসংযত মন্তব্য কিংবা বিদ্রূপাত্মক পোস্ট একজন মানুষের মানসিক শান্তি, সামাজিক মর্যাদা এবং পারিবারিক পরিবেশকে গভীরভাবে আঘাত করতে পারে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে আমাদের দায়িত্ববোধ, সংযম এবং মানবিকতা অত্যন্ত জরুরি। দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের সমাজে নারীদের ক্ষেত্রে এই বিচার অনেক বেশি কঠোর। একজন নারী যদি নিজের পছন্দমতো কোনো সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেন, অনেক সময় সেটিকে তাঁর ব্যক্তিত্বের পরিবর্তে চরিত্রের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়। এই বৈষম্যমূলক মানসিকতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। একজন নারীও একজন পূর্ণাঙ্গ নাগরিক; তাঁরও সম্মান, স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত পরিসর রয়েছে। আমাদের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে ব্যক্তিগত মর্যাদা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সাংস্কৃতিক চর্চার অধিকার দিয়েছে। সেই অধিকারকে সম্মান করা আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব। মতভেদ থাকতে পারে, ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থাকতে পারে, কিন্তু কোনো মতভেদই কাউকে অপমান, হেয়প্রতিপন্ন বা চরিত্রহননের বৈধতা দেয় না। যুক্তি দিয়ে সমালোচনা করা যায়, কিন্তু বিদ্বেষ দিয়ে একজন মানুষকে ভেঙে দেওয়া যায় না। বিশেষ করে শিক্ষকদের ক্ষেত্রে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি আরও মানবিক হওয়া উচিত। কারণ একজন শিক্ষক প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থীর সামনে দাঁড়ান, তাদের আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলেন। অথচ সেই শিক্ষকই যদি সামাজিক অপমান ও অনলাইন হয়রানির শিকার হন, তাহলে তা শুধু তাঁর ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়; এটি আমাদের শিক্ষা-সংস্কৃতির জন্যও একটি অশুভ বার্তা। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে একজন শিক্ষককে তাঁর কর্মদক্ষতা, সততা, শিক্ষা ও মানবিকতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে; ব্যক্তিগত জীবনের কোনো বিচ্ছিন্ন মুহূর্তকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে নয়। আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষ নিরাপদে নিজের সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ব্যক্তিগত আনন্দ প্রকাশ করতে পারবেন। আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হবে জ্ঞান, সচেতনতা ও সৌহার্দ্যের প্ল্যাটফর্ম—ঘৃণা, অপমান ও চরিত্রহননের নয়।
আজ সময় এসেছে নিজেদের বিবেককে প্রশ্ন করার। আমরা কি একজন মানুষকে সম্মান করতে শিখছি, নাকি তাঁকে ছোট করে নিজের বিনোদন খুঁজছি? আমরা কি একটি মানবিক সমাজ গড়ছি, নাকি বিদ্বেষের সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করছি? আসুন, আমরা ট্রোলের সংস্কৃতি প্রত্যাখ্যান করি। অপমানের ভাষা নয়, সম্মানের ভাষা ব্যবহার করি। বিদ্বেষ নয়, সহমর্মিতা ছড়িয়ে দিই। কারণ একজন মানুষের সম্মান রক্ষা করা শুধু তাঁর অধিকার নয়, বরং আমাদের সভ্যতা, নৈতিকতা এবং মানবিক বিবেকেরও পরীক্ষা। একজন শিক্ষককে সম্মান করা মানে শুধু একজন ব্যক্তিকে সম্মান করা নয়; বরং শিক্ষা, সংস্কৃতি, মানবিকতা এবং একটি আলোকিত সমাজের মূল্যবোধকে সম্মান করা। তাই আসুন—ট্রোল নয়, সত্য ও সৌজন্যের পাশে দাঁড়াই; বিদ্বেষ নয়, মানবিকতার পতাকা উঁচু করি।

গবেষণা, প্রজ্ঞা ও দেশপ্রেমের আলোকবর্তিকা: চুয়েটের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করে চলেছে, তার মধ্যে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) অন্যতম। দক্ষ প্রকৌশলী, গবেষক ও প্রযুক্তিবিদ তৈরির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি শুধু দেশের শিল্পোন্নয়নেই নয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। সেই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের নতুন ভাইস চ্যান্সেলর (উপাচার্য) হিসেবে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম-এর নিয়োগ নিঃসন্দেহে একটি ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁর এই নিয়োগ কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং এটি একজন মেধাবী শিক্ষক, আন্তর্জাতিক মানের গবেষক, সৎ প্রশাসক এবং দেশপ্রেমিক প্রকৌশলীর দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও সাফল্যের যথার্থ স্বীকৃতি। চুয়েট পরিবার, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, গবেষক, শিক্ষক এবং দেশের প্রকৌশল মহল তাঁর নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন এক স্বর্ণালী অধ্যায়ের সূচনা দেখতে আশাবাদী। শিকড়ের শক্তিতেই আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন ১৯৮০ সালের ২৬ অক্টোবর চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নাইখাইন গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত ও শিক্ষানুরাগী মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। তাঁর পিতা মরহুম হাজী মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক উপ-কর কর্মকর্তা এবং মাতা হাজী চেমন আরা বেগম ছিলেন একজন আদর্শ, স্নেহময়ী ও প্রেরণাদায়ী মা। পারিবারিক শিক্ষা, সততা, নৈতিকতা এবং মানবিক মূল্যবোধই তাঁর ব্যক্তিত্বের ভিত গড়ে দিয়েছে। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন মেধাবী, অধ্যবসায়ী এবং স্বপ্নবাজ। শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপেই তিনি প্রমাণ করেছেন—মেধার সঙ্গে যদি কঠোর পরিশ্রম, সততা এবং আত্মবিশ্বাস যুক্ত হয়, তবে সাফল্য একদিন ধরা দিতেই বাধ্য। চুয়েটের ছাত্র থেকে চুয়েটের উপাচার্য চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগে অধ্যয়ন শেষে তিনি ২০০৫ সালে একই বিভাগের প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা শুরু করেন। একজন তরুণ শিক্ষক থেকে ধাপে ধাপে অধ্যাপক, গবেষক, প্রশাসক এবং আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার এই যাত্রা অধ্যবসায়, কর্মনিষ্ঠা এবং সততার এক অনন্য উদাহরণ। প্রায় বাইশ বছরের শিক্ষকতা জীবনে তিনি হাজারো শিক্ষার্থীর প্রিয় শিক্ষক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। পাঠদান তাঁর কাছে শুধু পাঠ্যসূচি সম্পন্ন করার বিষয় নয়; বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীলতা, গবেষণার মনোভাব, মানবিক মূল্যবোধ এবং বিশ্বমানের চিন্তাশক্তি গড়ে তোলাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। বিশ্বমানের গবেষণায় বাংলাদেশের গর্ব অধ্যাপক ড. সায়েমের গবেষণার পরিধি অত্যন্ত বিস্তৃত এবং সময়োপযোগী। বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাক্ষেত্র—STEM and Innovation, Clean and Sustainable Energy, Renewable Energy, Green Hydrogen Production and Storage, De-carbonization, Energy Conversion Systems, Waste to Energy, Biofuel, Biodiesel এবং Climate Change—নিয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের গবেষণা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হয়েছে। দেশি-বিদেশি বহু স্বনামধন্য জার্নালে তাঁর গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর গবেষণা শুধু তাত্ত্বিক নয়; শিল্প, পরিবেশ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং টেকসই উন্নয়নের বাস্তব সমস্যার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর কাজ বাংলাদেশের গবেষণাকে বিশ্বদরবারে আরও সমৃদ্ধ করেছে। বিদেশের বিলাসিতা নয়, দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার অঙ্গীকার
উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি জাপানের হোক্কাইডো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর এবং অস্ট্রেলিয়ার সেন্ট্রাল কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। পিএইচডি শেষে অস্ট্রেলিয়ার একটি স্বনামধন্য মাইনিং কোম্পানিতে মেকানিক্যাল ডিজাইন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান। অনেকেই যেখানে বিদেশের উচ্চ বেতন ও বিলাসবহুল জীবনকে নিজের চূড়ান্ত সাফল্য মনে করেন, সেখানে অধ্যাপক ড. সায়েম ভিন্ন পথ বেছে নেন। তিনি ফিরে আসেন নিজের মাতৃভূমিতে, নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ে। কারণ তাঁর বিশ্বাস—একজন শিক্ষকের প্রকৃত সার্থকতা নিজের অর্জনে নয়, শিক্ষার্থীদের সফলতায়। তিনি যথার্থই বলেছেন— “বিদেশে থেকে হয়তো নিজের জন্য অনেক কিছু অর্জন করা যেত। কিন্তু আমার অর্জন যদি শিক্ষার্থীদের কাজে না লাগে, যে বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে পরিচয় দিয়েছে, তার জন্য যদি কিছু করতে না পারি, তবে সেই অর্জনের মূল্য কোথায়?” এই কথাগুলো শুধু একজন শিক্ষকের অনুভূতি নয়; এটি একজন দেশপ্রেমিক মানুষের আত্মার ভাষা।
শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন নির্মাণের কারিগর অধ্যাপক ড. সায়েম শুধু শ্রেণিকক্ষের শিক্ষক নন; তিনি একজন দক্ষ পরামর্শদাতা, গবেষণা-নেতা এবং অনুপ্রেরণাদায়ক অভিভাবক। তাঁর দিকনির্দেশনায় অসংখ্য শিক্ষার্থী বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন। অনেকেই আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে গবেষক, শিক্ষক ও প্রকৌশলী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর কক্ষে কোনো শিক্ষার্থী কখনো নিরাশ হয়ে ফেরে না—এমন কথাই বলেন তাঁর অনেক সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী। তিনি বিশ্বাস করেন, একজন শিক্ষকের সবচেয়ে বড় পরিচয় তাঁর শিক্ষার্থীদের সাফল্য।
দক্ষ প্রশাসক ও দূরদর্শী নেতৃত্ব গবেষণা ও শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি প্রশাসনিক দায়িত্বেও অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান। এছাড়া চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমিটি সফলভাবে পরিচালনা করেছেন। তাঁর নেতৃত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, দলগত কাজ, সময়ানুবর্তিতা এবং ভবিষ্যতমুখী পরিকল্পনা। এসব গুণ তাঁকে একজন সফল প্রশাসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।  নতুন নেতৃত্বে নতুন প্রত্যাশা
চুয়েট আজ আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিং, গবেষণা, উদ্ভাবন, শিল্প-প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়, স্মার্ট শিক্ষা এবং বৈশ্বিক সহযোগিতার নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এই সময়ে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের নেতৃত্ব বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে—এমন প্রত্যাশা সবার। তাঁর নেতৃত্বে গবেষণাগার আধুনিকায়ন, আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন স্কলারশিপ, উদ্ভাবনী প্রযুক্তি উন্নয়ন, শিল্প-একাডেমিয়া সংযোগ জোরদার এবং বিশ্বমানের শিক্ষা পরিবেশ গড়ে ওঠার সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল। এক আলোকিত ভবিষ্যতের প্রত্যাশা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত শক্তি তার ভবন নয়, তার শিক্ষক, গবেষণা, শিক্ষার্থী এবং নেতৃত্ব। অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম সেই নেতৃত্বের প্রতীক, যিনি বিশ্বাস করেন—জ্ঞানই উন্নয়নের সবচেয়ে বড় শক্তি, গবেষণাই ভবিষ্যতের পথনির্দেশক এবং শিক্ষার্থীরাই একটি জাতির সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। তাঁর নেতৃত্বে চুয়েট শুধু বাংলাদেশের নয়, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সেরা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হবে—এমন প্রত্যাশা অমূলক নয়। একজন মেধাবী শিক্ষক, আন্তর্জাতিক মানের গবেষক, সৎ প্রশাসক এবং মানবিক মানুষ হিসেবে তিনি ইতোমধ্যেই যে আস্থা অর্জন করেছেন, তা তাঁর নতুন দায়িত্ব পালনে শক্তিশালী ভিত্তি হয়ে থাকবে। অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের এই নতুন পথচলা হোক জ্ঞান, গবেষণা, উদ্ভাবন, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর নেতৃত্বে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে, বিশ্বমঞ্চে আরও উজ্জ্বল হবে বাংলাদেশের প্রকৌশল শিক্ষা—এই প্রত্যাশাই দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গবেষক এবং সচেতন নাগরিকের।
লেখকঃ কামাল উদ্দিন, ডেপুটি এডিটর দি টুরিস্ট

লোক উৎসব ২০২৬ উপলক্ষে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ

বাঙালির হাজার বছরের লোকশিল্প, লোকসাহিত্য, লোকাচার ও সার্বিক লোকায়ত ভাব-ভাবনার বিষয়াদিকে উপজীব্য করে লোক উৎসব-২০২৬-এর গৃহীত কর্মসূচি ৩০ জুলাই বিকেল ৫টায় চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত হবে| কর্মসূচিতে থাকবে— বর্ণাঢ্য উদ্বোধন, লোকসংগীত পরিবেশন, ফোক মোটিফের ওপর বিষয়ভিত্তিক আলোচনা, লোকনৃত্য, লোকবিষয়ক ছড়া-আবৃত্তি ও পাঠ প্রভৃতি| অনুষ্ঠানে লোকবিষয়ক বিজ্ঞজন ও শিল্পীবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন| কর্মসূচিকে সফল করতে আয়োজক পরিষদের পক্ষে অনুরোধ জানিয়েছেন উৎসব উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক ভাস্কর ডি. কে. দাশ মামুন, মহাসচিব কবিয়াল আব্দুল লতিফ, কবি দিলীপ কুমার দাশ এবং অধ্যাপক জসিম উদ্দিন চৌধুরী।

নোবেলজয়ী ওল সোয়িঙ্কার সঙ্গে এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত ২০১২ সালের কোরিয়ায় বিশ্ব লেখক সম্মেলনে এক বাংলাদেশি লেখকের স্মৃতিচারণ

— মো. কামাল উদ্দিন  একজন লেখকের জীবনে কিছু মুহূর্ত থাকে, যা কেবল স্মৃতি নয়—প্রেরণার অনন্ত উৎস হয়ে থাকে। সাহিত্য মানুষের আত্মার ভাষা। সেই ভাষার বিশ্বজনীন মহাসম্মেলনে অংশ নেওয়ার সুযোগ প্রতিটি লেখকের জন্য এক বিরল সৌভাগ্য। আমার জীবনেও তেমনই এক গৌরবময় অধ্যায় যুক্ত হয়েছিল ২০১২ সালে, যখন দক্ষিণ কোরিয়ার ঐতিহাসিক শহর গোয়াংজুতে অনুষ্ঠিত ৭৮তম পেন ইন্টারন্যাশনাল কংগ্রেস (বিশ্ব লেখক সম্মেলন)-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণ করি।  পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি মহাদেশ থেকে আগত লেখক, কবি, গবেষক, অনুবাদক ও সাহিত্য-সংগঠকদের মিলনমেলায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্বের বহু খ্যাতিমান সাহিত্যিক। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন ১৯৮৬ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত নাইজেরিয়ার কিংবদন্তি লেখক ওল সোয়িঙ্কা। তাঁকে প্রথমবার কাছ থেকে দেখা, তাঁর সঙ্গে করমর্দন করা, আলাপচারিতায় অংশ নেওয়া এবং একই মঞ্চে সময় কাটানো—আমার সাহিত্যজীবনের এক অমূল্য সম্পদ। প্রথম দেখাতেই মনে হয়েছিল, তিনি যেন সংগ্রাম, প্রজ্ঞা ও মানবতার এক জীবন্ত প্রতীক। কৃষ্ণবর্ণ মুখমণ্ডল, শুভ্র সাদা চুল ও দাড়ি, গভীর অথচ শান্ত চোখ, পরিমিত হাসি এবং অনাড়ম্বর ব্যক্তিত্ব—সব মিলিয়ে তিনি ছিলেন একজন সত্যিকারের বিশ্বমানব। তাঁর মধ্যে কোনো অহংকার ছিল না; বরং প্রতিটি লেখকের প্রতি ছিল সমান সম্মান ও আন্তরিকতা। প্রতিবাদের কলম, মানবতার কণ্ঠস্বর ওল সোয়িঙ্কা ১৯৩৪ সালের ১৩ জুলাই নাইজেরিয়ার ইয়োরুবা পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই তিনি শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের পরিবেশে বেড়ে ওঠেন। পরে ইংল্যান্ডের লিডস বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্য অধ্যয়ন করেন এবং নাট্যকার, কবি, প্রাবন্ধিক ও ঔপন্যাসিক হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি লাভ করেন। নাইজেরিয়ার স্বাধীনতার পর তিনি দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে নির্ভীকভাবে লিখতে শুরু করেন। ক্ষমতার অপব্যবহার, সামরিক শাসন, দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে তাঁর লেখনী ছিল আপসহীন। সত্য উচ্চারণের এই সাহসের কারণেই ১৯৬৭ সালে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং টানা ২২ মাস কারাবন্দি থাকতে হয়। কিন্তু কারাগারের দেয়াল তাঁর বিবেককে বন্দি করতে পারেনি। নোবেলজয়ীর চোখে বাংলা সাহিত্য আলাপচারিতার এক পর্যায়ে আমি বাংলাদেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতির কথা তুলে ধরি। বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করলাম, বাংলা সাহিত্য সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান অত্যন্ত সমৃদ্ধ। তিনি বলেন, বাংলা ভাষা বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ সাহিত্যভাষা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম এবং বাংলা সাহিত্যের বহু লেখক সম্পর্কে তিনি অবগত। ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কেও তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল। তিনি অত্যন্ত আন্তরিকভাবে বলেন— “বাংলাদেশের সাহিত্য বিশ্বসাহিত্যে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারে। সত্য ও মানবতার পক্ষে লেখালেখি কখনো বন্ধ করা যাবে না।”
তাঁর কথাগুলো আজও আমার কানে বাজে। তিনি বাংলাদেশ সফরের আগ্রহও প্রকাশ করেছিলেন এবং সাহিত্য কিংবা জনকল্যাণমূলক যেকোনো আয়োজনে আমন্ত্রণ জানালে সুযোগ হলে আসবেন বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন। গোয়াংজুতে বিশ্বের লেখকদের মিলনমেলা ২০১২ সালের ১০ সেপ্টেম্বর গোয়াংজুর হুন্দাই হোটেলে বিশ্ব লেখক সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। উদ্বোধনী অধিবেশন থেকেই নোবেলজয়ী সাহিত্যিকদের বক্তব্য শোনার জন্য ছিল ব্যাপক আগ্রহ। তাঁদের প্রতিটি বক্তব্যে উঠে আসে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকার, শান্তি, গণতন্ত্র এবং সাহিত্যের সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রশ্ন। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সেমিনার, আলোচনা, সাহিত্যপাঠ, মতবিনিময় ও সাংস্কৃতিক আয়োজন চলত। ভাষা ভিন্ন হলেও অনুভূতির ভাষা ছিল এক—মানুষের মুক্তি, সত্যের জয় এবং সাহিত্যের স্বাধীনতা। বাংলাদেশের গর্বিত প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেন একুশে পদকপ্রাপ্ত লেখিকা ফরিদা হোসাইন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সাংবাদিক এরশাদ মজুমদার, ড. সৈয়দা আইরিন পারভিন, লেখক মহিউদ্দিন, লেখক আলী আহামদসহ আরও অনেকে। ফরিদা হোসাইন অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে বাংলাদেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উপস্থাপন করেন। তিনি বিশ্বখ্যাত লেখকদের বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। সাংবাদিক এরশাদ মজুমদারের আন্তরিক ব্যবহার বিদেশি লেখকদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অটোগ্রাফের দীর্ঘ সারি, অথচ নেই কোনো অহংকার প্রতিটি বিরতিতে নোবেলজয়ী সাহিত্যিকদের সঙ্গে ছবি তোলা ও অটোগ্রাফ নেওয়ার জন্য দীর্ঘ সারি তৈরি হতো। আশ্চর্যের বিষয়, ওল সোয়িঙ্কা কখনো বিরক্ত হননি। তিনি ধৈর্য ধরে সবার সঙ্গে কথা বলেছেন, ছবি তুলেছেন এবং হাসিমুখে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বিশ্বজোড়া খ্যাতির শিখরে থেকেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাধারণ একজন মানুষ। এই বিনয়ই তাঁকে আরও বড় করে তুলেছে। স্বাধীন লেখনীই সভ্যতার শক্তি সম্মেলনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল—লেখকের স্বাধীনতা। বক্তারা বলেন, রাষ্ট্র কিংবা ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর ভয়ে যদি লেখক সত্য লিখতে না পারেন, তবে সমাজ অন্ধকারে ডুবে যাবে। ওল সোয়িঙ্কা নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, সত্যের পক্ষে দাঁড়াতে হলে ত্যাগ স্বীকারের প্রস্তুতি থাকতে হবে। তাঁর ২২ মাসের কারাবাস সেই সত্যেরই প্রমাণ। এই কথাগুলো আমার লেখকজীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। আমি উপলব্ধি করেছি, একজন লেখকের সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর বিবেক এবং সত্যের প্রতি দায়বদ্ধতা। একজন বিশ্বমানবের কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা কোরিয়ার সেই কয়েকটি দিন আমাকে নতুনভাবে সাহিত্যকে চিনতে শিখিয়েছে। বুঝতে শিখেছি—সাহিত্য কেবল সৌন্দর্যের চর্চা নয়; এটি মানুষের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার, মানবতা এবং প্রতিবাদেরও ভাষা। আজও যখন সেই মুহূর্তগুলোর কথা মনে পড়ে, মনে হয় আমি যেন বিশ্বসাহিত্যের জীবন্ত ইতিহাসের এক উজ্জ্বল অধ্যায়ের সাক্ষী ছিলাম। ওল সোয়িঙ্কার সঙ্গে সেই করমর্দন, সেই আলাপ, সেই অনুপ্রেরণা আজও আমার কলমকে সাহস জোগায়। তাঁর বিনয়, প্রজ্ঞা ও সত্যের প্রতি অবিচল অবস্থান আমাকে বারবার মনে করিয়ে দেয়—একজন প্রকৃত লেখক কখনো ক্ষমতার নয়, তিনি মানুষের পক্ষের মানুষ। এই স্মৃতি শুধু আমার ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি বাংলাদেশের সাহিত্যচর্চার সঙ্গে বিশ্বসাহিত্যের এক সেতুবন্ধনের স্মারক। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের লেখকদের জন্যও এই অভিজ্ঞতা একটি অনুপ্রেরণার দলিল হয়ে থাকবে। (এই স্মৃতিচারণের মূল রূপ ২০১৫ সালের একুশে বইমেলায় প্রকাশিত আমি মো. কামাল উদ্দিনের লেখা গ্রন্থ ‘সমকালীন কথার’-এ প্রকাশিত হয়েছিল।

ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সিইসির বৈঠক শুরু, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আলোচনা

0

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের বৈঠক শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়। এতে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও তাহমিদা আহমদ, নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব উপস্থিত রয়েছেন। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি এবং এ-সংক্রান্ত সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক বিষয়গুলো নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করার পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। আর তাঁর অনুপস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। সে হিসেবে আগামী ২২ অক্টোবরের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে সরকার আশা করছে। ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশন উপযুক্ত সময় নির্ধারণ করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন এই তফসিল প্রকাশ করবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার হিসেবে অংশ নেবেন জাতীয় সংসদের সদস্যরা। বর্তমানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন। তবে একটি আসনের গেজেট এখনো প্রকাশ হয়নি। ঘোষিত তফসিলে মনোনয়নপত্র জমা, যাচাই-বাছাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং ভোটগ্রহণের তারিখ ও সময় উল্লেখ থাকবে। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে। আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে একজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজনকে সমর্থক হতে হবে। একই সঙ্গে প্রার্থীর সম্মতিসূচক স্বাক্ষরও থাকতে হবে।একাধিক প্রার্থী হলে সংসদ সদস্যরা গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেবেন। ভোট গণনা শেষে সর্বাধিক ভোট পাওয়া প্রার্থীকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত ঘোষণা করবেন। আর সমান ভোট পড়লে লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণ করা হবে।

প্রেমের দরবারের এক নিবেদিত প্রাণ এমদাদুল হক মাইজভান্ডারী: নীরব সেবার আলোয় উজ্জ্বল এক মানবিক ব্যক্তিত্ব

মো. কামাল উদ্দিন: বাংলার আধ্যাত্মিক ইতিহাসে এমন কিছু পবিত্র জনপদ রয়েছে, যেখানে গিয়ে মানুষ শুধু একটি স্থান দেখে না; অনুভব করে এক অন্যরকম প্রশান্তি, আত্মার গভীরে জেগে ওঠে অদৃশ্য এক টান। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ীর ঐতিহাসিক মাইজভান্ডার শরীফ তেমনই এক পবিত্র ভূমি। এটি কেবল একটি দরবার নয়, এটি প্রেমের বিদ্যালয়, মানবতার বিশ্ববিদ্যালয় এবং আত্মশুদ্ধির এক অনন্য কেন্দ্র। যুগের পর যুগ ধরে এই দরবার মানুষের হৃদয়ে জ্বালিয়ে রেখেছে আল্লাহর প্রেম, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ভালোবাসা এবং মানবতার দীপশিখা। এই পবিত্র দরবারের প্রাণপুরুষ, উপমহাদেশে মাইজভান্ডারী তরিকার প্রবর্তক গাউসুল আজম হযরত শাহ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (রহ.) তাঁর জীবন, সাধনা ও আদর্শের মাধ্যমে এমন এক আধ্যাত্মিক বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন, যার আলো আজও কোটি কোটি মানুষের হৃদয়কে আলোকিত করছে। তাঁর শিক্ষা ছিল বিভেদ নয়—ভালোবাসা; ঘৃণা নয়—ক্ষমা; অহংকার নয়—বিনয়; প্রতিহিংসা নয়—মানবসেবা। এই মহান আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করে যারা নীরবে মানুষের সেবা করে চলেছেন, তাঁদের অন্যতম পরিচিত নাম এমদাদুল হক মাইজভান্ডারী। তিনি প্রচারের আলোয় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার মানুষ নন; বরং নীরবে কাজ করে যাওয়াই তাঁর স্বভাব। তাঁর পরিচয় পদবি দিয়ে নয়, তাঁর ব্যবহার, মানবিকতা, বিনয় এবং মানুষের প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা দিয়ে। দরবারে আগত একজন আশেক যখন শত শত কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মাইজভান্ডারে পৌঁছান, তখন তাঁর প্রথম চাওয়া থাকে একটি আন্তরিক হাসিমুখ, একটি ভালোবাসার স্পর্শ এবং একটি আপনজনের মতো অভ্যর্থনা। এমদাদুল হক মাইজভান্ডারীর মধ্যে সেই আন্তরিকতার প্রকাশ বহু মানুষ অনুভব করেছেন। তাঁর আচরণে নেই কোনো কৃত্রিমতা, নেই ক্ষমতার অহংকার; আছে কেবল ভালোবাসা দিয়ে মানুষকে আপন করে নেওয়ার বিরল ক্ষমতা। বাংলা ১০ মাঘ এলেই মাইজভান্ডার শরীফ যেন রূপ নেয় এক মহাসাগরে। লাখো আশেক-ভক্তের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো জনপদ। চারদিকে ধ্বনিত হয় জিকির, দরুদ, কোরআন তিলাওয়াত এবং মহান আল্লাহর স্মরণ। অসংখ্য মানুষ একই কাতারে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করেন—হৃদয়ের শান্তির জন্য, আত্মার পরিশুদ্ধির জন্য এবং মানবতার কল্যাণের জন্য।
এই বিশাল আয়োজনের নেপথ্যে যারা দিন-রাত নিরলস পরিশ্রম করেন, তাঁদের অবদান অনেক সময় মানুষের চোখে পড়ে না। কিন্তু ইতিহাস নীরব কর্মীদেরই মনে রাখে। এমদাদুল হক মাইজভান্ডারী তাঁদেরই একজন। তিনি বিশ্বাস করেন, দরবারে আগত একজন ভক্তকে সম্মান জানানো মানে গাউসুল আজম (রহ.)-এর শিক্ষা ও আদর্শকে সম্মান জানানো। আজকের পৃথিবীতে মানুষ যত আধুনিক হয়েছে, ততই যেন হৃদয় থেকে হারিয়ে যাচ্ছে সহমর্মিতা। মানুষ মানুষকে ভুলে যাচ্ছে, সম্পর্কগুলো হয়ে উঠছে স্বার্থের। এমন সময়ে মাইজভান্ডার শরীফ আমাদের নতুন করে শেখায়—মানুষের হৃদয় জয় করতে সম্পদ লাগে না, লাগে একটি সুন্দর আচরণ, একটি আন্তরিক হাসি এবং একটি ভালোবাসায় ভরা হৃদয়। এমদাদুল হক মাইজভান্ডারীর জীবন যেন সেই শিক্ষারই বাস্তব প্রতিফলন।
আমি ব্যক্তিগতভাবে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি যে, সাংবাদিক পরিচয়ের পাশাপাশি একজন মাইজভান্ডারী ভক্ত হিসেবেও এই দরবারের সঙ্গে আমার গভীর আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। ২০০৫ সালে আমি দীর্ঘদিন ঠান্ডাজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলাম। চিকিৎসার পরও কাঙ্ক্ষিত ফল পাচ্ছিলাম না। এক রাতে স্বপ্নে দেখলাম—বাবাজান কেবলার পুকুরে গোসল করলে মহান আল্লাহর রহমতে সুস্থ হয়ে উঠব। সেই স্বপ্নকে বিশ্বাস করে মাইজভান্ডার শরীফে গিয়ে পুকুরে গোসল করি। মহান আল্লাহর অশেষ অনুগ্রহে ধীরে ধীরে সুস্থতা অনুভব করি। এই ঘটনাকে আমি আল্লাহর রহমতের একটি ব্যক্তিগত স্মৃতি হিসেবে হৃদয়ে ধারণ করে আছি। একই বছরে বাংলা টেলিভিশনে ১০ মাঘ উপলক্ষে একটি বিশেষ তথ্যচিত্র নির্মাণ ও উপস্থাপনার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। সেই কাজ করতে গিয়ে আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করেছি—মাইজভান্ডার শরীফের প্রকৃত সৌন্দর্য শুধু এর ইতিহাসে নয়, বরং এখানে কর্মরত নিবেদিতপ্রাণ মানুষের আন্তরিক সেবায়। তাঁদের অন্যতম একজন এমদাদুল হক মাইজভান্ডারী। তিনি কখনো নিজের কৃতিত্বের কথা বলেন না। কিন্তু তাঁর কাজই তাঁর পরিচয় বহন করে। একজন ক্লান্ত ভক্তকে পথ দেখানো, একজন অসহায় মানুষের কথা ধৈর্য নিয়ে শোনা, অতিথিকে সম্মান করা, দরবারের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে নীরবে কাজ করে যাওয়া—এসব ছোট ছোট কাজই একজন মানুষের মহত্ত্বকে বড় করে তোলে। মাইজভান্ডারী তরিকার শিক্ষা কখনো বিভাজনের শিক্ষা নয়; এটি ভালোবাসার শিক্ষা। এই তরিকা শেখায়—মানুষকে ভালোবাসো, মানুষের উপকার করো, হৃদয়কে অহংকারমুক্ত করো এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টিকে জীবনের একমাত্র লক্ষ্য বানাও। এমদাদুল হক মাইজভান্ডারীর জীবন ও আচরণে সেই আদর্শেরই প্রতিফলন খুঁজে পাওয়া যায়। সমাজে এমন মানুষ খুব বেশি নেই, যারা প্রচারের বাইরে থেকে মানুষের জন্য কাজ করেন। অথচ তাঁরাই সমাজের প্রকৃত সম্পদ। তাঁরা ফুলের মতো—নিজে নীরবে ফুটে থেকে চারদিকে সুবাস ছড়িয়ে দেন। এমদাদুল হক মাইজভান্ডারী তেমনি এক নীরব সুবাসের নাম। বাংলা ১০ মাঘের এই পবিত্র দিন আমাদের শুধু একটি অনুষ্ঠান উদযাপন করতে শেখায় না; এটি শেখায় হৃদয়কে আলোকিত করতে, মানুষকে ভালোবাসতে, অন্যের কষ্ট অনুভব করতে এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে। আমি বিশ্বাস করি, ইতিহাস শুধু মহান সাধকদের নয়, তাঁদের আদর্শকে ধারণ করে নীরবে কাজ করে যাওয়া মানুষের কথাও একদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। এমদাদুল হক মাইজভান্ডারী সেই নীরব আলোকবর্তিকাদের একজন, যাঁদের কর্ম মানুষের হৃদয়ে আলো জ্বালায়, যাঁদের বিনয় মানুষকে মুগ্ধ করে এবং যাঁদের ভালোবাসা মানুষকে মাইজভান্ডার শরীফের প্রতি আরও গভীরভাবে আকৃষ্ট করে। মহান আল্লাহ তাঁর খেদমত কবুল করুন। তাঁকে সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘ জীবন এবং মানবতার সেবায় আরও বেশি কাজ করার তাওফিক দান করুন। তিনি যেন গাউসুল আজম হযরত শাহ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (রহ.)-এর প্রেম, মানবতা ও আধ্যাত্মিকতার বাণী আরও বহু বছর মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারেন—এই দোয়াই রইল।
প্রেমের পথই আল্লাহর নৈকট্যের পথ। আর সেই প্রেমের পথকে মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে দিতে যারা নীরবে কাজ করে চলেছেন, এমদাদুল হক মাইজভান্ডারী তাঁদের অন্যতম। তাঁর জীবন হোক সেবা, বিনয় ও মানবতার এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণা।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা থামায় তেলের দামে বড় পতন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা কমার ইঙ্গিত মিলতেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশ কমেছে। কূটনৈতিক সমাধানের আশা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনায় সোমবার তেলের বাজারে এ পতন দেখা যায়। খবর রয়টার্সের। লেনদেনের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ৯৬ ডলার বা ৪ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৯২ দশমিক ৮২ ডলারে নেমে আসে। একপর্যায়ে এর দাম ৯০ ডলারের নিচেও নেমে যায়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ দশমিক ২ ডলার বা ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৮৫ দশমিক ২৯ ডলারে দাঁড়ায়।  গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা হামলার পর সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নতুন করে কোনো হামলা চালায়নি। এতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমতে পারে এবং হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে পারে বলে বাজারে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ জানিয়েছেন, কূটনৈতিক আলোচনার জন্য সময় দিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছেন।  বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক সংঘাত না বাড়ার কারণে বিনিয়োগকারীরা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। তবে হরমুজ প্রণালিতে এখনো জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। তথ্য বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ক্লেপলারের হিসাবে, সপ্তাহান্তে প্রতিদিন ১০টিরও কম পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। এদিকে লোহিত সাগরে ইয়েমেনের হুথি বাহিনীর হামলা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহে ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে।

চট্টগ্রামে বন্যা শেষে এইচএসসি শুরু, প্রথম দিনেই অনুপস্থিত ১৮২৫

বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির পর বিরতি দিয়ে আবারও শুরু হওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিনেই চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ১ হাজার ৮২৫ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। ভারী বর্ষণ ও ভয়াবহ বন্যার কারণে দীর্ঘ ১৯ দিন স্থগিত থাকার পর সোমবার (২৭ জুলাই) থেকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডসহ মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এ পরীক্ষা পুনরায় শুরু হয়। ৫ জুলাই থেকে টানা ভারী বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রামে বন্যায় তলিয়ে যায় জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। নগরীতেও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ৮ জুলাই থেকে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। ১৬ জুলাই পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের স্থগিত ঘোষণা করে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড।  পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন পাঁচ জেলায় মোট ৭৭ হাজার ৫৫৬ পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নিয়েছেন ৭৫ হাজার ৭৩১ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ১ হাজার ৮২৫ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ২ দশমিক ৩৫ শতাংশ। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত দৈনিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম দিনের পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে একজন পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন। সব মিলিয়ে ১১৪টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিয়মিত রুটিন অনুযায়ী, সোমবার সকাল ১০টা থেকে চট্টগ্রামসহ সারা দেশে পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, জীববিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) প্রথম পত্র এবং ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা প্রথম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থীরা ইসলামের ইতিহাস, পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র (তত্ত্বীয়) এবং তাজভিদ দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষায় অংশ নেয়। অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি (বিএমটি) পরীক্ষার্থীরা হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট-১ বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নেয়। জেলাভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, চট্টগ্রাম জেলায় ৫৬ হাজার ৫৮৭ পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নিয়েছেন ৫৫ হাজার ৩৮৫ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ১ হাজার ২০২ জন এবং একজন পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন। কক্সবাজারে ৯ হাজার ৯২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অনুপস্থিত ছিলেন ২৬৩ জন। রাঙামাটিতে ৩ হাজার ৯৬৬ পরীক্ষার্থীর মধ্যে অনুপস্থিত ১০৯ জন। খাগড়াছড়িতে ৫ হাজার ২১৯ পরীক্ষার্থীর মধ্যে অনুপস্থিত ১৫৪ জন এবং বান্দরবানে ২ হাজার ৬৯২ পরীক্ষার্থীর মধ্যে অনুপস্থিত ছিলেন ৯৭ জন। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মো. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় প্রায় দুই সপ্তাহ পর পুনরায় এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। সব কেন্দ্রেই সার্বিক পরিস্থিতি ভালো ছিল।

মালদ্বীপের স্বাধীনতা দিবসের রাষ্ট্রীয় প্যারেডে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

0

মালদ্বীপের ৬১তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য রাষ্ট্রীয় প্যারেডে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। রাজধানী মালের রিপাবলিক স্কয়ারে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন তিনি। সোমবার (২৭ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুথিশাম আদম বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। পরে স্বাধীনতা দিবসের প্যারেডে অংশ নেন ড. খলিলুর রহমান। এ সময় মালদ্বীপ ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্সের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা আনুষ্ঠানিক মার্চপাস্ট ও বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ প্রদর্শন করেন, যেখানে দেশটির ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা ও জাতীয় গৌরবের চিত্র ফুটে ওঠে। প্যারেড শেষে মালদ্বীপের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যভিত্তিক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন তিনি। পরে জাঁকজমকপূর্ণ আতশবাজির মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা দিবসের আনুষ্ঠানিক আয়োজন শেষ হয়। এর আগে দিনের শুরুতে রাজধানী মালের লোনুজিয়ারাই পার্কে প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জুর ‘ফাইভ মিলিয়ন ট্রিস প্রজেক্ট’-এর অংশ হিসেবে একটি ক্রিস্টিনা গাছের চারা রোপণ করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুথিশাম আদম এবং দেশটির জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ ও জ্বালানিমন্ত্রী আলী শরীফ উপস্থিত ছিলেন। গাছের চারা রোপণের পর ড. খলিলুর রহমান মালদ্বীপের সবুজায়ন উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের এ ধরনের উদ্যোগ পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দুই দেশের অভিন্ন অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এ সময় তিনি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে সৌদি আরবের আরাফাতের ময়দানে নিমগাছ রোপণের বিষয়টিও স্মরণ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ওই গাছগুলো ‘জিয়া ট্রি’ নামে পরিচিত। উল্লেখ্য, মালদ্বীপ সরকারের আমন্ত্রণে দেশটির ৬১তম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নিতে বর্তমানে সরকারি সফরে মালদ্বীপে অবস্থান করছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

বোয়ালখালীতে পলিটেকনিক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার, ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার শাকপুরা ইউনিয়নে নিজ কক্ষ থেকে অমিত সেনগুপ্ত (২২) নামে এক পলিটেকনিক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার শাকপুরা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম শাকপুরা গ্রামের একটি বসতবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত অমিত সেনগুপ্ত পশ্চিম শাকপুরা এলাকার অনিল সেন বাড়ির বাসিন্দা জয়দেব সেনগুপ্তের ছেলে। তিনি একটি বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে পরিবারের সদস্যরা অমিতের কোনো সাড়া না পেয়ে তার কক্ষে গিয়ে তাকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে বিষয়টি বোয়ালখালী থানা পুলিশকে জানানো হলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়ার জন্য মরদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় আইনানুগ তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।