একজন শিক্ষকও একজন মানুষ: ট্রোল নয়, মানবিকতা ও সম্মানের সমাজ গড়ে তুলি
গবেষণা, প্রজ্ঞা ও দেশপ্রেমের আলোকবর্তিকা: চুয়েটের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম
লেখকঃ কামাল উদ্দিন, ডেপুটি এডিটর দি টুরিস্ট
লোক উৎসব ২০২৬ উপলক্ষে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ
বাঙালির হাজার বছরের লোকশিল্প, লোকসাহিত্য, লোকাচার ও সার্বিক লোকায়ত ভাব-ভাবনার বিষয়াদিকে উপজীব্য করে লোক উৎসব-২০২৬-এর গৃহীত কর্মসূচি ৩০ জুলাই বিকেল ৫টায় চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত হবে| কর্মসূচিতে থাকবে— বর্ণাঢ্য উদ্বোধন, লোকসংগীত পরিবেশন, ফোক মোটিফের ওপর বিষয়ভিত্তিক আলোচনা, লোকনৃত্য, লোকবিষয়ক ছড়া-আবৃত্তি ও পাঠ প্রভৃতি| অনুষ্ঠানে লোকবিষয়ক বিজ্ঞজন ও শিল্পীবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন| কর্মসূচিকে সফল করতে আয়োজক পরিষদের পক্ষে অনুরোধ জানিয়েছেন উৎসব উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক ভাস্কর ডি. কে. দাশ মামুন, মহাসচিব কবিয়াল আব্দুল লতিফ, কবি দিলীপ কুমার দাশ এবং অধ্যাপক জসিম উদ্দিন চৌধুরী।
নোবেলজয়ী ওল সোয়িঙ্কার সঙ্গে এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত ২০১২ সালের কোরিয়ায় বিশ্ব লেখক সম্মেলনে এক বাংলাদেশি লেখকের স্মৃতিচারণ
ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সিইসির বৈঠক শুরু, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আলোচনা
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের বৈঠক শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়। এতে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও তাহমিদা আহমদ, নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব উপস্থিত রয়েছেন। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি এবং এ-সংক্রান্ত সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক বিষয়গুলো নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করার পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। আর তাঁর অনুপস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। সে হিসেবে আগামী ২২ অক্টোবরের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে সরকার আশা করছে। ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশন উপযুক্ত সময় নির্ধারণ করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন এই তফসিল প্রকাশ করবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার হিসেবে অংশ নেবেন জাতীয় সংসদের সদস্যরা। বর্তমানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন। তবে একটি আসনের গেজেট এখনো প্রকাশ হয়নি। ঘোষিত তফসিলে মনোনয়নপত্র জমা, যাচাই-বাছাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং ভোটগ্রহণের তারিখ ও সময় উল্লেখ থাকবে। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে। আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে একজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজনকে সমর্থক হতে হবে। একই সঙ্গে প্রার্থীর সম্মতিসূচক স্বাক্ষরও থাকতে হবে।একাধিক প্রার্থী হলে সংসদ সদস্যরা গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেবেন। ভোট গণনা শেষে সর্বাধিক ভোট পাওয়া প্রার্থীকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত ঘোষণা করবেন। আর সমান ভোট পড়লে লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণ করা হবে।
প্রেমের দরবারের এক নিবেদিত প্রাণ এমদাদুল হক মাইজভান্ডারী: নীরব সেবার আলোয় উজ্জ্বল এক মানবিক ব্যক্তিত্ব
মো. কামাল উদ্দিন: বাংলার আধ্যাত্মিক ইতিহাসে এমন কিছু পবিত্র জনপদ রয়েছে, যেখানে গিয়ে মানুষ শুধু একটি স্থান দেখে না; অনুভব করে এক অন্যরকম প্রশান্তি, আত্মার গভীরে জেগে ওঠে অদৃশ্য এক টান। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ীর ঐতিহাসিক মাইজভান্ডার শরীফ তেমনই এক পবিত্র ভূমি। এটি কেবল একটি দরবার নয়, এটি প্রেমের বিদ্যালয়, মানবতার বিশ্ববিদ্যালয় এবং আত্মশুদ্ধির এক অনন্য কেন্দ্র। যুগের পর যুগ ধরে এই দরবার মানুষের হৃদয়ে জ্বালিয়ে রেখেছে আল্লাহর প্রেম, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ভালোবাসা এবং মানবতার দীপশিখা। এই পবিত্র দরবারের প্রাণপুরুষ, উপমহাদেশে মাইজভান্ডারী তরিকার প্রবর্তক গাউসুল আজম হযরত শাহ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (রহ.) তাঁর জীবন, সাধনা ও আদর্শের মাধ্যমে এমন এক আধ্যাত্মিক বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন, যার আলো আজও কোটি কোটি মানুষের হৃদয়কে আলোকিত করছে। তাঁর শিক্ষা ছিল বিভেদ নয়—ভালোবাসা; ঘৃণা নয়—ক্ষমা; অহংকার নয়—বিনয়; প্রতিহিংসা নয়—মানবসেবা। এই মহান আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করে যারা নীরবে মানুষের সেবা করে চলেছেন, তাঁদের অন্যতম পরিচিত নাম এমদাদুল হক মাইজভান্ডারী। তিনি প্রচারের আলোয় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার মানুষ নন; বরং নীরবে কাজ করে যাওয়াই তাঁর স্বভাব। তাঁর পরিচয় পদবি দিয়ে নয়, তাঁর ব্যবহার, মানবিকতা, বিনয় এবং মানুষের প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা দিয়ে। দরবারে আগত একজন আশেক যখন শত শত কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মাইজভান্ডারে পৌঁছান, তখন তাঁর প্রথম চাওয়া থাকে একটি আন্তরিক হাসিমুখ, একটি ভালোবাসার স্পর্শ এবং একটি আপনজনের মতো অভ্যর্থনা। এমদাদুল হক মাইজভান্ডারীর মধ্যে সেই আন্তরিকতার প্রকাশ বহু মানুষ অনুভব করেছেন। তাঁর আচরণে নেই কোনো কৃত্রিমতা, নেই ক্ষমতার অহংকার; আছে কেবল ভালোবাসা দিয়ে মানুষকে আপন করে নেওয়ার বিরল ক্ষমতা। বাংলা ১০ মাঘ এলেই মাইজভান্ডার শরীফ যেন রূপ নেয় এক মহাসাগরে। লাখো আশেক-ভক্তের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো জনপদ। চারদিকে ধ্বনিত হয় জিকির, দরুদ, কোরআন তিলাওয়াত এবং মহান আল্লাহর স্মরণ। অসংখ্য মানুষ একই কাতারে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করেন—হৃদয়ের শান্তির জন্য, আত্মার পরিশুদ্ধির জন্য এবং মানবতার কল্যাণের জন্য।
এই বিশাল আয়োজনের নেপথ্যে যারা দিন-রাত নিরলস পরিশ্রম করেন, তাঁদের অবদান অনেক সময় মানুষের চোখে পড়ে না। কিন্তু ইতিহাস নীরব কর্মীদেরই মনে রাখে। এমদাদুল হক মাইজভান্ডারী তাঁদেরই একজন। তিনি বিশ্বাস করেন, দরবারে আগত একজন ভক্তকে সম্মান জানানো মানে গাউসুল আজম (রহ.)-এর শিক্ষা ও আদর্শকে সম্মান জানানো। আজকের পৃথিবীতে মানুষ যত আধুনিক হয়েছে, ততই যেন হৃদয় থেকে হারিয়ে যাচ্ছে সহমর্মিতা। মানুষ মানুষকে ভুলে যাচ্ছে, সম্পর্কগুলো হয়ে উঠছে স্বার্থের। এমন সময়ে মাইজভান্ডার শরীফ আমাদের নতুন করে শেখায়—মানুষের হৃদয় জয় করতে সম্পদ লাগে না, লাগে একটি সুন্দর আচরণ, একটি আন্তরিক হাসি এবং একটি ভালোবাসায় ভরা হৃদয়। এমদাদুল হক মাইজভান্ডারীর জীবন যেন সেই শিক্ষারই বাস্তব প্রতিফলন।
আমি ব্যক্তিগতভাবে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি যে, সাংবাদিক পরিচয়ের পাশাপাশি একজন মাইজভান্ডারী ভক্ত হিসেবেও এই দরবারের সঙ্গে আমার গভীর আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। ২০০৫ সালে আমি দীর্ঘদিন ঠান্ডাজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলাম। চিকিৎসার পরও কাঙ্ক্ষিত ফল পাচ্ছিলাম না। এক রাতে স্বপ্নে দেখলাম—বাবাজান কেবলার পুকুরে গোসল করলে মহান আল্লাহর রহমতে সুস্থ হয়ে উঠব। সেই স্বপ্নকে বিশ্বাস করে মাইজভান্ডার শরীফে গিয়ে পুকুরে গোসল করি। মহান আল্লাহর অশেষ অনুগ্রহে ধীরে ধীরে সুস্থতা অনুভব করি। এই ঘটনাকে আমি আল্লাহর রহমতের একটি ব্যক্তিগত স্মৃতি হিসেবে হৃদয়ে ধারণ করে আছি। একই বছরে বাংলা টেলিভিশনে ১০ মাঘ উপলক্ষে একটি বিশেষ তথ্যচিত্র নির্মাণ ও উপস্থাপনার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। সেই কাজ করতে গিয়ে আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করেছি—মাইজভান্ডার শরীফের প্রকৃত সৌন্দর্য শুধু এর ইতিহাসে নয়, বরং এখানে কর্মরত নিবেদিতপ্রাণ মানুষের আন্তরিক সেবায়। তাঁদের অন্যতম একজন এমদাদুল হক মাইজভান্ডারী। তিনি কখনো নিজের কৃতিত্বের কথা বলেন না। কিন্তু তাঁর কাজই তাঁর পরিচয় বহন করে। একজন ক্লান্ত ভক্তকে পথ দেখানো, একজন অসহায় মানুষের কথা ধৈর্য নিয়ে শোনা, অতিথিকে সম্মান করা, দরবারের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে নীরবে কাজ করে যাওয়া—এসব ছোট ছোট কাজই একজন মানুষের মহত্ত্বকে বড় করে তোলে। মাইজভান্ডারী তরিকার শিক্ষা কখনো বিভাজনের শিক্ষা নয়; এটি ভালোবাসার শিক্ষা। এই তরিকা শেখায়—মানুষকে ভালোবাসো, মানুষের উপকার করো, হৃদয়কে অহংকারমুক্ত করো এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টিকে জীবনের একমাত্র লক্ষ্য বানাও। এমদাদুল হক মাইজভান্ডারীর জীবন ও আচরণে সেই আদর্শেরই প্রতিফলন খুঁজে পাওয়া যায়। সমাজে এমন মানুষ খুব বেশি নেই, যারা প্রচারের বাইরে থেকে মানুষের জন্য কাজ করেন। অথচ তাঁরাই সমাজের প্রকৃত সম্পদ। তাঁরা ফুলের মতো—নিজে নীরবে ফুটে থেকে চারদিকে সুবাস ছড়িয়ে দেন। এমদাদুল হক মাইজভান্ডারী তেমনি এক নীরব সুবাসের নাম। বাংলা ১০ মাঘের এই পবিত্র দিন আমাদের শুধু একটি অনুষ্ঠান উদযাপন করতে শেখায় না; এটি শেখায় হৃদয়কে আলোকিত করতে, মানুষকে ভালোবাসতে, অন্যের কষ্ট অনুভব করতে এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে। আমি বিশ্বাস করি, ইতিহাস শুধু মহান সাধকদের নয়, তাঁদের আদর্শকে ধারণ করে নীরবে কাজ করে যাওয়া মানুষের কথাও একদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। এমদাদুল হক মাইজভান্ডারী সেই নীরব আলোকবর্তিকাদের একজন, যাঁদের কর্ম মানুষের হৃদয়ে আলো জ্বালায়, যাঁদের বিনয় মানুষকে মুগ্ধ করে এবং যাঁদের ভালোবাসা মানুষকে মাইজভান্ডার শরীফের প্রতি আরও গভীরভাবে আকৃষ্ট করে। মহান আল্লাহ তাঁর খেদমত কবুল করুন। তাঁকে সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘ জীবন এবং মানবতার সেবায় আরও বেশি কাজ করার তাওফিক দান করুন। তিনি যেন গাউসুল আজম হযরত শাহ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (রহ.)-এর প্রেম, মানবতা ও আধ্যাত্মিকতার বাণী আরও বহু বছর মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারেন—এই দোয়াই রইল।
প্রেমের পথই আল্লাহর নৈকট্যের পথ। আর সেই প্রেমের পথকে মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে দিতে যারা নীরবে কাজ করে চলেছেন, এমদাদুল হক মাইজভান্ডারী তাঁদের অন্যতম। তাঁর জীবন হোক সেবা, বিনয় ও মানবতার এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণা।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা থামায় তেলের দামে বড় পতন
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা কমার ইঙ্গিত মিলতেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশ কমেছে। কূটনৈতিক সমাধানের আশা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনায় সোমবার তেলের বাজারে এ পতন দেখা যায়। খবর রয়টার্সের। লেনদেনের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ৯৬ ডলার বা ৪ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৯২ দশমিক ৮২ ডলারে নেমে আসে। একপর্যায়ে এর দাম ৯০ ডলারের নিচেও নেমে যায়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ দশমিক ২ ডলার বা ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৮৫ দশমিক ২৯ ডলারে দাঁড়ায়। গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা হামলার পর সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নতুন করে কোনো হামলা চালায়নি। এতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমতে পারে এবং হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে পারে বলে বাজারে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ জানিয়েছেন, কূটনৈতিক আলোচনার জন্য সময় দিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছেন। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক সংঘাত না বাড়ার কারণে বিনিয়োগকারীরা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। তবে হরমুজ প্রণালিতে এখনো জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। তথ্য বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ক্লেপলারের হিসাবে, সপ্তাহান্তে প্রতিদিন ১০টিরও কম পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। এদিকে লোহিত সাগরে ইয়েমেনের হুথি বাহিনীর হামলা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহে ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে।
চট্টগ্রামে বন্যা শেষে এইচএসসি শুরু, প্রথম দিনেই অনুপস্থিত ১৮২৫
বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির পর বিরতি দিয়ে আবারও শুরু হওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিনেই চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ১ হাজার ৮২৫ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। ভারী বর্ষণ ও ভয়াবহ বন্যার কারণে দীর্ঘ ১৯ দিন স্থগিত থাকার পর সোমবার (২৭ জুলাই) থেকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডসহ মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এ পরীক্ষা পুনরায় শুরু হয়। ৫ জুলাই থেকে টানা ভারী বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রামে বন্যায় তলিয়ে যায় জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। নগরীতেও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ৮ জুলাই থেকে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। ১৬ জুলাই পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের স্থগিত ঘোষণা করে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড। পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন পাঁচ জেলায় মোট ৭৭ হাজার ৫৫৬ পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নিয়েছেন ৭৫ হাজার ৭৩১ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ১ হাজার ৮২৫ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ২ দশমিক ৩৫ শতাংশ। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত দৈনিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম দিনের পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে একজন পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন। সব মিলিয়ে ১১৪টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিয়মিত রুটিন অনুযায়ী, সোমবার সকাল ১০টা থেকে চট্টগ্রামসহ সারা দেশে পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, জীববিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) প্রথম পত্র এবং ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা প্রথম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থীরা ইসলামের ইতিহাস, পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র (তত্ত্বীয়) এবং তাজভিদ দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষায় অংশ নেয়। অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি (বিএমটি) পরীক্ষার্থীরা হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট-১ বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নেয়। জেলাভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, চট্টগ্রাম জেলায় ৫৬ হাজার ৫৮৭ পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নিয়েছেন ৫৫ হাজার ৩৮৫ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ১ হাজার ২০২ জন এবং একজন পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন। কক্সবাজারে ৯ হাজার ৯২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অনুপস্থিত ছিলেন ২৬৩ জন। রাঙামাটিতে ৩ হাজার ৯৬৬ পরীক্ষার্থীর মধ্যে অনুপস্থিত ১০৯ জন। খাগড়াছড়িতে ৫ হাজার ২১৯ পরীক্ষার্থীর মধ্যে অনুপস্থিত ১৫৪ জন এবং বান্দরবানে ২ হাজার ৬৯২ পরীক্ষার্থীর মধ্যে অনুপস্থিত ছিলেন ৯৭ জন। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মো. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় প্রায় দুই সপ্তাহ পর পুনরায় এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। সব কেন্দ্রেই সার্বিক পরিস্থিতি ভালো ছিল।
বোয়ালখালীতে পলিটেকনিক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার, ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ
নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার শাকপুরা ইউনিয়নে নিজ কক্ষ থেকে অমিত সেনগুপ্ত (২২) নামে এক পলিটেকনিক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার শাকপুরা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম শাকপুরা গ্রামের একটি বসতবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত অমিত সেনগুপ্ত পশ্চিম শাকপুরা এলাকার অনিল সেন বাড়ির বাসিন্দা জয়দেব সেনগুপ্তের ছেলে। তিনি একটি বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে পরিবারের সদস্যরা অমিতের কোনো সাড়া না পেয়ে তার কক্ষে গিয়ে তাকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে বিষয়টি বোয়ালখালী থানা পুলিশকে জানানো হলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়ার জন্য মরদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় আইনানুগ তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।