গবেষণা, প্রজ্ঞা ও দেশপ্রেমের আলোকবর্তিকা: চুয়েটের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম

By admin
3 Min Read

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করে চলেছে, তার মধ্যে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) অন্যতম। দক্ষ প্রকৌশলী, গবেষক ও প্রযুক্তিবিদ তৈরির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি শুধু দেশের শিল্পোন্নয়নেই নয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। সেই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের নতুন ভাইস চ্যান্সেলর (উপাচার্য) হিসেবে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম-এর নিয়োগ নিঃসন্দেহে একটি ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁর এই নিয়োগ কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং এটি একজন মেধাবী শিক্ষক, আন্তর্জাতিক মানের গবেষক, সৎ প্রশাসক এবং দেশপ্রেমিক প্রকৌশলীর দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও সাফল্যের যথার্থ স্বীকৃতি। চুয়েট পরিবার, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, গবেষক, শিক্ষক এবং দেশের প্রকৌশল মহল তাঁর নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন এক স্বর্ণালী অধ্যায়ের সূচনা দেখতে আশাবাদী। শিকড়ের শক্তিতেই আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন ১৯৮০ সালের ২৬ অক্টোবর চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নাইখাইন গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত ও শিক্ষানুরাগী মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। তাঁর পিতা মরহুম হাজী মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক উপ-কর কর্মকর্তা এবং মাতা হাজী চেমন আরা বেগম ছিলেন একজন আদর্শ, স্নেহময়ী ও প্রেরণাদায়ী মা। পারিবারিক শিক্ষা, সততা, নৈতিকতা এবং মানবিক মূল্যবোধই তাঁর ব্যক্তিত্বের ভিত গড়ে দিয়েছে। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন মেধাবী, অধ্যবসায়ী এবং স্বপ্নবাজ। শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপেই তিনি প্রমাণ করেছেন—মেধার সঙ্গে যদি কঠোর পরিশ্রম, সততা এবং আত্মবিশ্বাস যুক্ত হয়, তবে সাফল্য একদিন ধরা দিতেই বাধ্য। চুয়েটের ছাত্র থেকে চুয়েটের উপাচার্য চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগে অধ্যয়ন শেষে তিনি ২০০৫ সালে একই বিভাগের প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা শুরু করেন। একজন তরুণ শিক্ষক থেকে ধাপে ধাপে অধ্যাপক, গবেষক, প্রশাসক এবং আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার এই যাত্রা অধ্যবসায়, কর্মনিষ্ঠা এবং সততার এক অনন্য উদাহরণ। প্রায় বাইশ বছরের শিক্ষকতা জীবনে তিনি হাজারো শিক্ষার্থীর প্রিয় শিক্ষক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। পাঠদান তাঁর কাছে শুধু পাঠ্যসূচি সম্পন্ন করার বিষয় নয়; বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীলতা, গবেষণার মনোভাব, মানবিক মূল্যবোধ এবং বিশ্বমানের চিন্তাশক্তি গড়ে তোলাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। বিশ্বমানের গবেষণায় বাংলাদেশের গর্ব অধ্যাপক ড. সায়েমের গবেষণার পরিধি অত্যন্ত বিস্তৃত এবং সময়োপযোগী। বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাক্ষেত্র—STEM and Innovation, Clean and Sustainable Energy, Renewable Energy, Green Hydrogen Production and Storage, De-carbonization, Energy Conversion Systems, Waste to Energy, Biofuel, Biodiesel এবং Climate Change—নিয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের গবেষণা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হয়েছে। দেশি-বিদেশি বহু স্বনামধন্য জার্নালে তাঁর গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর গবেষণা শুধু তাত্ত্বিক নয়; শিল্প, পরিবেশ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং টেকসই উন্নয়নের বাস্তব সমস্যার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর কাজ বাংলাদেশের গবেষণাকে বিশ্বদরবারে আরও সমৃদ্ধ করেছে। বিদেশের বিলাসিতা নয়, দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার অঙ্গীকার

Share This Article
Leave a Comment