মেঘনা আলম—অপপ্রচারের ঝড়ের মুখে এক আলোর প্রতিরূপ”

By admin
4 Min Read

মো. কামাল উদ্দিন সাংবাদিক ও লেখক
মানুষ কখনো কখনো আলোয় হেঁটে চললে ছায়া তার পিছু নেয়—এটাই সমাজের অদৃশ্য নিয়ম। আর যখন আলোটা একটু উজ্জ্বল হয়, তখন ছায়ার দৈর্ঘ্যও বাড়তে থাকে। আজ সেই ছায়ার আঘাতেই ক্ষতবিক্ষত হচ্ছেন মেঘনা আলম—এক তরুণী, যিনি তাঁর প্রতিভা, মেধা ও মননের শক্তি দিয়ে বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। অথচ এই মেধাবী মেয়েটির বিরুদ্ধে যেভাবে একের পর এক অপপ্রচার, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, বিকৃত ভিডিও, এবং মিথ্যাচারের ঢেউ ওঠানো হচ্ছে—তা কেবল তাকে নয়, আমাদের সামষ্টিক নৈতিকতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে। আমি জানি না তার বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগগুলো কতটুকু সত্য বা মিথ্যা। সেটির বিচার করার এখতিয়ার আদালতের। কিন্তু আমি জানি—ন্যায়বিচার দাবি করা কোনো অপরাধ নয়, ন্যায়বিচারের জন্য মামলা করা কোনো নিন্দনীয় কাজ নয়। মেঘনা আলমও সেই নাগরিক অধিকারের পথেই হেঁটেছিলেন। নিজেকে রক্ষার জন্য, সম্মান পুনরুদ্ধারের জন্য, আইন ও সংবিধানসম্মত পথে আদালতে গিয়েছিলেন। আর ঠিক সেই পদক্ষেপের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের স্রোত যেন দ্রুততর হয়ে ওঠে—এটাই কি আমাদের সমাজের ন্যায়-সংস্কৃতি? যে দেশে প্রতিটি নাগরিকের মর্যাদা ও মানবাধিকার সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত, সেই দেশে একটি মেয়েকে বারবার চরিত্রহননের লক্ষ্যবস্তু করা—এটা কীভাবে গ্রহণযোগ্য? কেবল সে একজন মডেল বলে? কেবল সে আলোচিত বলে? নাকি একটি মেয়েকে হেয় করা সহজ বলে?
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আজ যা চলছে—তা কেবল মেঘনা আলম নামের এক তরুণীর ওপর আক্রমণ নয়; এটি নারীর মর্যাদা, মানুষের নাগরিক অধিকার, এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর একটি অশুভ আঘাত। যেসব ভিডিও, যেসব মন্তব্য, যেসব মনগড়া গল্প ছড়ানো হচ্ছে—সেগুলো যদি সত্যিই সত্য হতো, তাহলে কি সেই আজ মুক্তভাবে চলাফেরা করতে পারতেন? যদি অভিযোগগুলোর ভিত্তি এতটাই দৃঢ় হতো, তাহলে কি আদালত তাকে জামিন দিত? বিচারপতি কি ব্যস্ত থাকতেন না তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে? কিন্তু না—তার বিরুদ্ধে যেসব ‘গল্প’ সাজানো হচ্ছে, সেগুলো গল্পই রয়ে গেছে; প্রমাণিত সত্যে পরিণত হয়নি। অথচ এই গল্পগুলোই আজ তার সম্মানকে সবচেয়ে বেশি আঘাত করছে। একজন সাংবাদিক ও লেখক হিসেবে আমার দায়িত্ব—কোনো মানুষকে অন্যায়ের আগুনে পোড়ানো হলে তার পাশে দাঁড়ানো। মেঘনা আলম আমার ব্যক্তিগত পরিচিত নন, তার সঙ্গে আমার কোনো ব্যক্তিগত যোগাযোগ নেই। তবুও একজন সাংবাদিক হিসেবে তার বিষয়ে যতটুকু জানার দরকার, তা জানি। আর সেই জ্ঞানই আমাকে বাধ্য করছে বলতে—অভিযোগের তদন্ত হোক, বিচার হোক, কিন্তু তার বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ অপপ্রচার বন্ধ হোক। কারণ অপপ্রচার কখনো ন্যায়বিচারের পথ দেখায় না; বরং সত্যকে ধুলোয় মুছে দেয়। আজ বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে যারা তুলে ধরছে—হোক সে খেলোয়াড়, মডেল, শিল্পী বা গবেষক—তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। কারণ তারা দেশের মান-মর্যাদার বাহক। মেঘনা আলমও তেমনি একজন। তাকে আঘাত করা মানে আমাদের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক অগ্রগতিকে আঘাত করা। আমি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশনসহ দেশের সকল মানবাধিকার সংগঠনের প্রতি অনুরোধ জানাই— একজন তরুণীর সম্মানের ওপর আঘাতগুলো যেন আপনাদের চোখ এড়িয়ে না যায়। তার নিরাপত্তা, তার মৌলিক অধিকার,  তার ন্যায়বিচারের অধিকার—সবকিছু রক্ষায় আপনারা এগিয়ে আসুন। কোনো মানুষকে বিনা বিচারে দোষী বানিয়ে ফেলা—এটাই বর্বরতা। আর যে সমাজে বর্বরতা প্রশ্রয় পায়, সেই সমাজ নিজেই ধ্বংস হয়ে যায়। মেঘনা আলম তার পথ হাঁটছেন—আশার, সাহসের, এবং ন্যায়বিচারের পথে। তাকে আমরা আঘাত নয়, আশ্রয় দিতে পারি। তাকে আমরা সন্দেহ নয়, সমর্থন দিতে পারি। কারণ একজন মানুষের সম্মান রক্ষা করা মানে মানবতার সম্মান রক্ষা করা। আজ মেঘনা আলমের পাশে দাঁড়ানো শুধু একজন মডেলের পাশে দাঁড়ানো নয়— এটি সত্য, ন্যায়, মর্যাদা ও মানবাধিকারের পক্ষে দাঁড়ানো।

Share This Article
Leave a Comment