
-মো.কামাল উদ্দিনঃ
চট্টগ্রাম শহর আজ শুধু একটি প্রাণকেন্দ্র নয়—এটি দায়িত্ব, নিরাপত্তা ও নৈতিকতার পরীক্ষাগার। এই শহরের প্রতিটি রাস্তা, প্রতিটি জনপদ এবং প্রতিটি মানুষের প্রত্যাশা—নিরাপদ নাগরিক জীবন। আর সেই প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে যিনি দাঁড়িয়ে আছেন—তিনি চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কমিশনার হাসিব আজিজ। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি যা করেছেন—তা ছিল কোনো আনুষ্ঠানিক অফিসীয় কার্যক্রম নয়; বরং ছিল মানবিকতা, সাহসিকতা এবং প্রশাসনিক নৈতিকতার পুনঃপ্রতিষ্ঠা। তাঁর নেতৃত্ব—কথায় নয়, কাজে দৃশ্যমান বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ “যোগ্যতা, সততা ও দক্ষতার মূল্যায়ন।” হাসিব আজিজ দেখিয়েছেন ব্যবস্থাপনা শুধু বদলি নয়, এটি মূল্যায়নের এক নৈতিক ঘোষণা। তিনি যেসব দায়িত্বশীল অফিসারদের সামনে এনেছেন তাদের নিয়েছেন কর্মের ইতিহাস দেখে, রাতের সংকট মুহূর্তের সঠিক সিদ্ধান্ত দেখে, মানুষের চোখে তাদের সম্মান দেখে। একে বলা যায় চট্টগ্রামের মাঠপর্যায়ের পুলিশিং ইতিহাসে এটি এক বিরল দৃষ্টান্ত। তাঁর নেতৃত্বের রূপ—শান্ত, নীরব, কিন্তু অত্যন্ত দূরদর্শী চট্টগ্রামের বহু প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছিলেন, অনেকে এসেছেন, অনেকে গেছেন, কেউ আলোচিত হয়েছেন, কেউ অদৃশ্য থেকেও অবস্থান বজায় রেখেছেন। কিন্তু হাসিব আজিজ আলাদা কারণ তিনি আলো নিজের দিকে টেনে নেন না—
আলো তুলে ধরেন যাদের ওপর আস্থা রাখা জরুরি। এটাই একটি মহৎ নেতৃত্বের প্রধান লক্ষণ। বিশৃঙ্খলার ভেতর থেকে শৃঙ্খলা তৈরির দক্ষতা এ শহর দেখেছে দলীয় চাপ, অপরাধীর হুমকি, রাজনৈতিক উত্তাপ তবে যে পথে পুলিশ দাঁড়াবে, যেখানে আইন মাথা উঁচু করবে সেই পথে তিনি নেতৃত্ব রেখেছেন দৃঢ়ভাবে। তাঁর সিদ্ধান্তগুলো শুধু প্রশাসনিক নোট ছিল না, ছিল নীতিগত অবস্থান। তিনি কাগজে নির্দেশ দেন না,মাঠে উপস্থিত থাকেন। তিনি নীরব মুখে কাজ করেন,কিন্তু ফল দৃশ্যমান হয় সর্বস্তরে।
তাই বলা যায়,তিনি এমন নেতৃত্বের প্রতীক যেখানে মানবিকতা কঠোরতার সাথে মিশে যায়, যেখানে ন্যায়ের প্রয়োগে আপস নেই, যেখানে দায়িত্ব মানে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। চট্টগ্রামের মানুষের চোখে তিনি যে মর্যাদা পেয়েছেন— তা কোনো পদবির দান নয়, তা অর্জিত সম্মান। কারণ মানুষ বুঝেছে— যেখানে ভুলে প্রশ্ন ওঠে, সেখানে তিনি দায়িত্ব নেন; যেখানে অন্যায় ভর করে, সেখানে তিনি অবস্থান নেন। তাঁর প্রশাসনিক মেধা—সংগঠিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতায় একজন দক্ষ প্রশাসক মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি শোনেন, তথ্য বিশ্লেষণ করেন, যুক্তি প্রয়োগ করেন, তারপর সিদ্ধান্ত নেন। হাসিব আজিজ বারবার দেখিয়েছেন— সিদ্ধান্ত মানেই জবাবদিহি, জবাবদিহিই আস্থা। এই আস্থাই এখন চট্টগ্রামের বাস্তবতা ট্রাফিক, ক্রাইম, কমিউনিটি পুলিশিং সবখানেই স্থাপিত হয়েছে বিশ্বাসের স্তম্ভ। বাজে প্রভাব নয়, ব্যক্তিস্বার্থ নয়, কাজের ভিত্তি হয়েছে: যোগ্যতা ও নৈতিকতা। আজকের চট্টগ্রাম বলছে—
চট্টগ্রামের পুলিশিং এখন মানুষের পাশে দাঁড়ায়, জনগণের কথা শোনে, দায়িত্ব নিয়ে রাত কাটায়, বিপদে জীবন বাজি রাখে। আর এর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন একজন নীরব স্থপতি— কমিশনার হাসিব আজিজ। তাঁকে নিয়ে বলা যায় তিনি নেতৃত্ব দেন মাথা উঁচু করে নয়— মন নত রেখে। তিনি কাজ করেন নিজের প্রশংসার জন্য নয়— সময়ের কাছে দায়বদ্ধ হয়ে। তার সত্যিকারের পরিচয়— তিনি একজন নৈতিক প্রশাসক এবং মানবিক নেতৃত্বের সম্মানিত মানদণ্ড। চট্টগ্রামের স্মার্ট পুলিশিংয়ের এই ইতিহাস যখন লিপিবদ্ধ হবে, সেই ইতিহাসের প্রথম সারিতে লেখা থাকবে— “কমিশনার হাসিব আজিজ— যিনি দায়িত্বকে করেছেন মর্যাদা, যিনি সততাকে করেছেন ভিত্তি,এবং যিনি নীরবে প্রতিষ্ঠা করেছেন নিরাপত্তার নতুন স্থাপত্য।”