নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলিসহ চিহ্নিত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের অন্যতম দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। সিএমপি জানায়, শনিবার (২৬ জুলাই) রাতে বায়েজিদ বোস্তামী থানার এসআই মিজানুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে থানা পুলিশের একটি দল নিয়মিত অস্ত্র ও মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে অক্সিজেন কোয়াইশ রোডের ওয়াজেদিয়া খেলার মাঠ এলাকায় অভিযান চালায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আদালতের পরোয়ানাভুক্ত (জিআর-৪২৭/২৪) পলাতক আসামি মো. আসিফকে গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে সেখানে গেলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দুই ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করেন। পরে ধাওয়া করে তাদের আটক করা হয়। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন মো. আসিফ (২৫) ও সাইদুল ইসলাম প্রকাশ আরিফ (২৪)। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তাদের দেহ তল্লাশি করা হয়। এ সময় আসিফের কোমর থেকে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। পিস্তলটির ম্যাগাজিনে দুই রাউন্ড গুলি লোড করা ছিল। এছাড়া আরিফের প্যান্টের পকেট থেকে কাগজে মোড়ানো অবস্থায় আরও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া গুলিগুলোর গায়ে ‘25’, ‘32’ ও ‘HPM’ লেখা খোদাই করা রয়েছে। পুলিশ জানায়, অস্ত্র ও গুলি বহনের বৈধ কোনো লাইসেন্স বা কাগজপত্র তারা দেখাতে পারেননি। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার দুজন চট্টগ্রামের আলোচিত চিহ্নিত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের সহযোগী বলে দাবি করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যমতে, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অস্ত্র সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজিসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে এসব অস্ত্র ব্যবহার করা হতো বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে এসব তথ্যের স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় বায়েজিদ বোস্তামী থানায় অস্ত্র আইন, ১৮৭৮-এর ১৯-এ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার আসিফের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি, চাঁদাবাজি, দাঙ্গা, অস্ত্র আইন, সরকারি কর্মচারীর ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টাসহ মোট ১১টি মামলা রয়েছে। অপরদিকে সাইদুল ইসলাম প্রকাশ আরিফের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির দুটি মামলা রয়েছে।
রুমা জোনের মানবিক সহায়তা: দুর্গম পাহাড়ি পাড়ায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া ও জরুরি সেবায় সেনাবাহিনী
নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান: বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি বিভিন্ন পাড়ায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া ও জরুরি মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রুমা জোন (৩৬ বীর)। স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং প্রয়োজনভিত্তিক সহায়তা নিশ্চিত করতে সোমবার (২৭ জুলাই) দিনব্যাপী এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়। রুমা জোনের জোন কমান্ডার ৩৬ বীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান সরকারের নির্দেশনায় পরিচালিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষা উপকরণ, ক্রীড়া সামগ্রী, বিশুদ্ধ পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা, রোগী পরিবহনের সরঞ্জাম এবং নগদ আর্থিক সহায়তা বিতরণ করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে পুরাতন পাইন্দু উজানি পাড়ার বাসিন্দাদের জন্য ১ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার একটি পানির ট্যাংকি প্রদান করা হয়। এছাড়া কিউলংক্ষ্যাং পাড়ার তরুণদের খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে একটি ফুটবল, একটি ভলিবল এবং দুটি ভলিবল নেট বিতরণ করা হয়। এদিকে বড়থলি মার্মা পাড়া, ছালছড়া পাড়া ও ত্রিপুরা পাড়ার শিক্ষার্থীদের মাঝে খাতা, হোয়াইট বোর্ড, ফুটবলসহ বিভিন্ন শিক্ষা ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে বড়থলি পাড়ার রোগীদের জরুরি পরিবহনের সুবিধার্থে একটি স্ট্রেচার (বেয়ারাসহ) প্রদান করা হয়েছে। মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে বগালেক পাড়ায় এক মৃত ব্যক্তির দাফন-সৎকারের জন্য নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়। এছাড়া বড়থলি ত্রিপুরা পাড়ার বাসিন্দা কর্ণ ত্রিপুরার দুই সন্তানের লেখাপড়ার ব্যয় নির্বাহে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া অসহায় কয়েকজন ব্যক্তির হাতেও নগদ সহায়তা তুলে দেয় রুমা জোন। এর মধ্যে পানতলা পাড়ার নুমংপ্র মারমা পেয়েছেন ৭ হাজার টাকা, মুলফি পাড়ার মং ওয়াই মারমা পেয়েছেন ৩ হাজার টাকা এবং একই পাড়ার সাংনুপ্রু মারমা পেয়েছেন ৩ হাজার টাকা। সহায়তা পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাদের মতে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এ ধরনের প্রয়োজনভিত্তিক উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ করবে। বিশেষ করে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, শিক্ষা উপকরণ, রোগী পরিবহনের সুবিধা এবং খেলাধুলার পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় শিশু-কিশোর ও সাধারণ মানুষ দীর্ঘমেয়াদে উপকৃত হবেন। বড়থলি ত্রিপুরা পাড়ার বাসিন্দা কর্ণ ত্রিপুরা বলেন, “দুই সন্তানের লেখাপড়া ও পরিবারের খরচ চালাতে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে ছিলাম। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই সহায়তা তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে অনেক সহায়ক হবে। এজন্য আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।” রুমা জোনের জোন কমান্ডার ৩৬ বীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান সরকার বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধু দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই দায়িত্ব পালন করে না, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নেও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। স্থানীয় জনগণের প্রয়োজন বিবেচনায় ভবিষ্যতেও শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবিক সহায়তা এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
আবাসিক গ্যাস সংযোগে দ্রুত পদক্ষেপের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি খোলা চিঠি
আবাসিক গ্যাস সংযোগের দীর্ঘসূত্রতা নিরসনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতি খোলা চিঠির মাধ্যমে দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন গ্রাহক-গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ ঠিকাদার ঐক্য ফেডারেশন, বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক একে এম অলিউল্লাহ হক। খোলা চিঠিতে দাবি করা হয়, ২০১৫ সালে পেট্রোবাংলার অধীন 0৬টি সাবসিডিয়ারি কোম্পানির মাধ্যমে প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার আবাসিক গ্রাহকের কাছ থেকে ডিমান্ড নোট ইস্যু করে সংযোগ ফি ও জামানতসহ বিভিন্ন খাতে অর্থ নেওয়া হলেও, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তারা এখনো গ্যাস সংযোগ পাননি। এতে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা গত ১১ বছর ধরে সংযোগ কার্যক্রম সম্পন্নের অপেক্ষায় রয়েছেন। অথচ ২০২৪ সালের সরকারি নীতিমালা (গেজেট) অনুযায়ী, আবেদন নিষ্পত্তি করে ১৮ কার্যদিবসের মধ্যে গ্যাস সংযোগ দেওয়ার বিধান রয়েছে। চিঠিতে আরও বলা হয়, সংযোগ না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের অসন্তোষের মুখে পড়তে হচ্ছে প্রান্তিক ঠিকাদারদের। অনেক ক্ষেত্রে তারা গালমন্দ, অপমান ও দুর্ব্যবহারের শিকার হচ্ছেন, যা তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপনকে কঠিন করে তুলেছে। সংগঠনের দাবি, সিরিয়ালে থাকা ২ লাখ ১৫ হাজার গ্রাহককে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হলে দেশের মোট দৈনিক গ্যাস ব্যবহারে মাত্র ১ শতাংশের মতো বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব বাড়বে এবং অবৈধ গ্যাস সংযোগের প্রবণতাও কমে আসবে। এ অবস্থায় মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করে দ্রুত আবাসিক গ্যাস সংযোগ প্রদানের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে প্রান্তিক গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ ঠিকাদার ফেডারেশন। সংগঠনটির ভাষ্য, সরকারের একটি নির্দেশেই লক্ষাধিক গ্রাহক এবং হাজারো ঠিকাদার পরিবারের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটতে পারে।
এক কক্ষে মানুষের আর্তনাদ, মানবিক ডিসির গণশুনানিতে ফিরল আশার আলো
আব্দুল ওয়াহেদ চৌধুরী ১৮ জনের সমস্যা শুনে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা; অসহায়দের আর্থিক সহায়তা, ২১ পরিবার পেল ত্রাণ চট্টগ্রাম: জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের একটি কক্ষ। কেউ চোখের জল লুকোচ্ছেন, কেউ বুকভরা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে নিজের জীবনের গল্প বলছেন। কারও স্বামী এক বছর ধরে সমুদ্রে নিখোঁজ, কারও ঘরবাড়ি বন্যার পানিতে ভেসে গেছে, কেউ ক্যান্সারের সঙ্গে লড়ছেন, কেউ কিডনি জটিলতায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। আবার কেউ অর্থাভাবে কলেজে ভর্তি হয়েও বই-ড্রেস কিনতে পারছেন না, কারও কাছে নিজের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার ভাড়াটুকুও নেই। এমন অসংখ্য অসহায় মানুষের কান্না, আবেদন আর শেষ আশ্রয়ের জায়গা হয়ে উঠেছিল চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সাপ্তাহিক গণশুনানি। মানবিক জেলা প্রশাসক হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা একে একে সবার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন, সান্ত্বনা দেন এবং অধিকাংশ সমস্যার ক্ষেত্রেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। বুধবার (২২ জুলাই) অনুষ্ঠিত এই গণশুনানিতে চট্টগ্রাম মহানগর ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা ১৮ জন সেবাপ্রত্যাশী তাঁদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক সংকট তুলে ধরেন। প্রতিটি আবেদন শুনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক। পাশাপাশি কয়েকটি অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি করে আবেদনকারীদের ফলাফল জানাতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়। গণশুনানিতে সাতজন অসহায় ব্যক্তি ও একজন শিক্ষার্থীকে নগদ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এছাড়া ২১টি পরিবারকে চাল, ডাল, তেল, চিনি, লবণ, মরিচ, হলুদ ও ধনিয়াগুঁড়াসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
নিখোঁজ স্বামীর অপেক্ষায়, দুই সন্তান নিয়ে অসহায় এক মায়ের আর্তনাদ
মোসাম্মৎ মাইনা খাতুনের স্বামী আজাদ প্রায় এক বছর আগে ট্রলারে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হন। আজও তিনি জানেন না, তাঁর স্বামী বেঁচে আছেন নাকি আর কখনো ফিরবেন না। দুই ছোট সন্তানের দায়িত্ব এখন তাঁর একার কাঁধে। এরই মধ্যে তিনি নিজেও স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন। নিয়মিত চিকিৎসা কিংবা ওষুধ কেনার সামর্থ্য নেই। গণশুনানিতে তিনি সন্তানদের ভরণ-পোষণ, নিজের চিকিৎসা এবং নিখোঁজ স্বামীর সন্ধানে প্রশাসনিক সহযোগিতা কামনা করেন। তাঁর কথা শুনে জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা দেন এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
বন্যায় ঘরহারা পরিবার পেল পুনর্বাসনের আশ্বাস
বাঁশখালীর ইলশা গ্রামের রেয়াজুল জান্নাত রাহাত জানান, সাম্প্রতিক বন্যায় তাঁদের বাড়িতে পাঁচ থেকে ছয় ফুট পানি ওঠে। এতে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয় কাঁচা বসতঘর, নষ্ট হয়ে যায় কৃষিজমির ফসল। তাঁর বাবা রেয়াজ আহামদ দীর্ঘদিন ধরে স্ট্রোকে আক্রান্ত ও শারীরিকভাবে অক্ষম। বর্তমানে পরিবারটি অস্থায়ী আশ্রয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। বিষয়টি শুনে জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিক সহায়তা দেন এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
একাধিক জটিল রোগে আক্রান্ত শাহাজাহানের চিকিৎসায় সহায়তা
বোয়ালখালীর পশ্চিম শাকপুরার মো. শাহাজাহান দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতা, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যয় বহন করা তাঁর পরিবারের পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না।তাঁর অসহায় অবস্থার কথা বিবেচনায় নিয়ে জেলা প্রশাসক চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
অর্থাভাবে থমকে যাওয়া শিক্ষাজীবনে নতুন আশা
বাঁশখালীর মিনজিরিতলার মিফতাহুল জান্নাত রিয়া সরকারি সিটি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। ২০১৬ সালে বাবার মৃত্যুর পর থেকেই পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে রয়েছে। সাম্প্রতিক বন্যায় তাঁদের বসতঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অর্থের অভাবে বই, কলেজ ড্রেস ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ কিনতে না পারায় তাঁর পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি শুনে জেলা প্রশাসক তাঁকে বিশেষ আর্থিক অনুদান প্রদান করেন, যা তাঁর শিক্ষাজীবন চালিয়ে যেতে নতুন আশা জাগিয়েছে।
ক্যান্সার আক্রান্ত কর্মচারীর পাশে জেলা প্রশাসন
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের আরএম শাখার অফিস সহায়ক নিলুফার ইয়াসমিন কয়েক বছর ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত। স্বামী মারা যাওয়ার পর তিন কন্যা ও এক পুত্রকে নিয়ে সংগ্রাম করছেন তিনি।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি এবং ঢাকায় পিইটি স্ক্যানসহ ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালিয়ে যেতে আরও প্রায় তিন লাখ টাকার প্রয়োজন। তাঁর আবেদন বিবেচনায় নিয়ে জেলা প্রশাসক আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
অস্ত্রোপচারের অর্থ পেলেন দুর্ঘটনায় আহত যুবক
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ মোহাম্মদ আবু কাউছারের ডান পায়ের গোড়ালির হাড় সড়ক দুর্ঘটনায় ভেঙে যায়। চিকিৎসা করাতে গিয়ে তাঁর সব সঞ্চয় শেষ হয়ে যায়। জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে চিকিৎসা থমকে ছিল।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির এমন দুর্দশার কথা শুনে জেলা প্রশাসক তাঁর চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দেন।
বাড়ি ফেরার ভাড়াও ছিল না, সহায়তা পেলেন শফিকুল
দিনাজপুরের বিরল উপজেলার মো. শফিকুল ইসলাম জীবিকার সন্ধানে চট্টগ্রামে এসে কোনো কাজ পাননি। একপর্যায়ে তাঁর কাছে দৈনন্দিন খরচ কিংবা নিজ জেলায় ফিরে যাওয়ার ভাড়াটুকুও ছিল না। জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করলে তাঁকে দিনাজপুরে ফেরার প্রয়োজনীয় গাড়িভাড়া প্রদান করা হয়।
প্রবাসীদের অভিযোগও শুনলেন জেলা প্রশাসক
একই দিনে জেলা প্রশাসক প্রবাসীদের জন্য অনলাইন গণশুনানির আয়োজন করেন। এতে এক প্রবাসী তাঁর পারিবারিক জমিজমা জবরদখলের অভিযোগ তুলে ধরেন। অভিযোগ শুনে জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
আবেদন নয়, আস্থার ঠিকানা
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানি এখন আর কেবল আবেদন গ্রহণের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়; এটি ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছে সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গায়। কেউ ফিরেছেন চিকিৎসার অর্থ হাতে নিয়ে, কেউ পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সাহস নিয়ে, কেউ নতুন ঘর তৈরির আশ্বাস নিয়ে, আবার কেউ নিজের বাড়ি ফেরার ভাড়া নিয়ে। হয়তো একটি দিনের সহায়তায় জীবনের সব সংকট দূর হয় না। কিন্তু অসহায় মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, তাঁদের কষ্টকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাৎক্ষণিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছে গেছে—রাষ্ট্রের দরজা এখনও সাধারণ মানুষের জন্য খোলা, আর সেই দরজায় মানবিকতার আলো জ্বালিয়ে রেখেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।
ভুলের ভেলায় ভেসে জীবন লিখতে বসে করি ভুল
ক্রাইম সাংবাদিকতার পথচলা: এক সাহসী অভিযাত্রা—২
যে ৮ টুথপেস্টে কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি
আব্দুল ওয়াহেদ চৌধুরী বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া টুথপেস্ট নিয়ে এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ESDO) পরিচালিত এক বছরের গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, পরীক্ষা করা ৩৪টি টুথপেস্ট নমুনার মধ্যে ২৬টিতেই (৭৬.৫ শতাংশ) মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তবে স্বস্তির খবর হলো, ৮টি টুথপেস্টে কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়নি।গবেষণাটি ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত হয়। দেশের বিভিন্ন সুপারশপ, খুচরা ও পাইকারি বাজার থেকে সংগ্রহ করা ১৯টি দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ডের ৩৪টি নমুনা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের Environmental Health and Ecotoxicology (EHE) Laboratory-তে পরীক্ষা করা হয়।
মাইক্রোপ্লাস্টিকমুক্ত ৮টি টুথপেস্ট
গবেষণা অনুযায়ী যেসব টুথপেস্টে কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি, সেগুলো হলো—
১. Genfresh Toothpaste (জেনফ্রেশ)
- দেশীয় ব্র্যান্ড।
- পরীক্ষায় কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়নি।
২. Parachute Just for Baby – Mango (প্যারাসুট জাস্ট ফর বেবি – ম্যাঙ্গো)
- শিশুদের জন্য তৈরি দেশীয় টুথপেস্ট।
- পরীক্ষায় নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
৩. Close-Up Red Hot Zinc Fresh Technology
- দেশে উৎপাদিত এই নির্দিষ্ট ভ্যারিয়েন্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি।
৪. Parodontax Expert Gum Care
- ভারতে উৎপাদিত।
- মাড়ির যত্নে ব্যবহৃত এই টুথপেস্টও পরীক্ষায় মাইক্রোপ্লাস্টিকমুক্ত পাওয়া গেছে।
৫. Sensodyne Fresh Gel
- সংবেদনশীল দাঁতের জন্য তৈরি জেল-ভিত্তিক টুথপেস্ট।
- পরীক্ষায় কোনো প্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়নি।
৬. Colgate MaxFresh
- ভারতে উৎপাদিত এই ভ্যারিয়েন্টটি পরীক্ষায় নিরাপদ তালিকায় স্থান পেয়েছে।
৭. Colgate Active Salt
- কোলগেটের এই ভ্যারিয়েন্টেও মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি।
৮. Kodomo Orange
- থাইল্যান্ড থেকে আমদানিকৃত শিশুদের টুথপেস্ট।
- পরীক্ষায় মাইক্রোপ্লাস্টিকমুক্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
কেন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ? মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা, যা দাঁত ব্রাশ করার সময় অজান্তেই শরীরে প্রবেশ করতে পারে। গবেষকেরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে এসব কণার স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে গবেষণা চলছে। যদিও মানবদেহে এর সব ধরনের প্রভাব এখনো নিশ্চিতভাবে নির্ধারিত হয়নি, তবুও অপ্রয়োজনীয় মাইক্রোপ্লাস্টিকের সংস্পর্শ কমানো জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
ESDO-এর পর্যবেক্ষণ
- পরীক্ষিত ৩৪টি নমুনার মধ্যে ২৬টিতে (৭৬.৫%) মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।
- ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত প্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে।
- শিশুদের জন্য বাজারজাত ৬টি টুথপেস্টের মধ্যে ৪টিতেও মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।
- টুথপেস্টের মোড়ক বা লেবেলে কোথাও মাইক্রোপ্লাস্টিক বা সিনথেটিক পলিমারের উপস্থিতির তথ্য উল্লেখ ছিল না।
নিরাপদ টুথপেস্ট বেছে নেওয়ার পরামর্শ
বিশ্বস্ত ও নিবন্ধিত ব্র্যান্ডের পণ্য ব্যবহার করুন। ESDO বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গবেষণা ও হালনাগাদ তথ্য অনুসরণ করুন। শিশুদের জন্য টুথপেস্ট কেনার সময় পরীক্ষিত ও নিরাপদ পণ্যকে অগ্রাধিকার দিন। কেবল “হারবাল” বা “ন্যাচারাল” লেখা দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে পণ্যের উপাদান ও নির্ভরযোগ্য গবেষণার তথ্য যাচাই করুন।