Home Blog Page 30

ক্রাইম সাংবাদিকতার পথচলা: এক সাহসী অভিযাত্রা—২

 – মো. কামাল উদ্দিনঃ এই পথচলা কখনোই কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। সহজ ছিল না পদে পদে বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়া, যখন কলমের নিব থেকে প্রতিধ্বনিত হয়েছে সমাজের অন্ধকারতম সত্য। অনেকেই ছিলেন বিরুদ্ধ পক্ষে—হুমকি দিয়েছেন, ভয় দেখিয়েছেন, প্রতিহিংসার জাল বিছিয়েছেন আমার চারপাশে। এমনকি মৃত্যুর কাছাকাছিও গিয়েছি একাধিকবার। তবু থেমে যাইনি। কলম ছিল আমার অস্ত্র, সত্য ছিল আমার ঢাল। আমি বিশ্বাস করেছি এবং আজও করি—একজন প্রকৃত সাংবাদিক কখনো ভয়ের কাছে নত হয় না। তিনি সামনে এগিয়ে যান, সমাজের জন্য ঝুঁকি নেন, সত্যের পক্ষে অবস্থান নেন। আমার দীর্ঘ পেশাগত জীবনে বহুবার আমাকে “ডাঙাবাজ ক্রাইম সাংবাদিক” নামে অভিহিত করা হয়েছে। কেউ কেউ তা বিদ্রুপ করে বলেছে, আবার কেউ তা বলেছে শ্রদ্ধার সঙ্গে। কিন্তু আমি জানি, আমার কাজের ফলেই অপরাধের অন্তরালে লুকিয়ে থাকা অনেক গোপন তথ্য প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে এসেছে। অপরাধীর মুখোশ খুলে ফেলা, প্রশাসনের চোখে আঙুল দিয়ে দেখানো—এই কাজগুলো সহজ ছিল না, কিন্তু তৃপ্তিদায়ক ছিল অসীমভাবে। আমি বিশ্বাস করি, ক্রাইম সাংবাদিকতা শুধুই অপরাধের বিবরণ তুলে ধরা নয়, এটি সমাজ বদলের এক অদৃশ্য কিন্তু অদম্য হাতিয়ার। আমার লেখা প্রতিটি প্রতিবেদন শুধু তথ্য বহন করেনি, বরং একেকটি প্রতিবেদন হয়ে উঠেছে সমাজ পরিবর্তনের সোপান।  আজ যখন দেখি অপরাধ জগত প্রতিনিয়ত রূপ পাল্টাচ্ছে—তাদের কৌশল পরিবর্তন হচ্ছে, প্রযুক্তির অপব্যবহার বাড়ছে, প্রশাসনের সঙ্গে আঁতাতও গভীরতর হচ্ছে—তখনো মনে হয়, আমার দায়িত্ব শেষ হয়নি। সত্যের সন্ধানে এই অভিযাত্রা থামার নয়। যতদিন না অপরাধের অন্ধকার দূর হয়, ততদিন এই লড়াই চলবে। ক্রাইম সাংবাদিকতা: উৎপত্তি, বিকাশ ও দায়বদ্ধতা  ক্রাইম সাংবাদিকতা গণমাধ্যমের একটি বিশেষায়িত শাখা। এখানে সাংবাদিকের দায়িত্ব শুধু খবর প্রকাশে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তা হয়ে ওঠে সমাজের বিবেকের আয়না। অপরাধের সংবাদ যেমন পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে, তেমনি অপরাধ প্রতিরোধে নীতিনির্ধারকদেরও সক্রিয় হতে বাধ্য করে। এই সাংবাদিকতার মূল কাজ হলো—অপরাধ বিষয়ক তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও জনসমক্ষে উপস্থাপন। এতে অপরাধের প্রকৃতি, কারণ, সামাজিক প্রভাব এবং প্রতিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। তবে এটি শুধু তথ্য পরিবেশন নয়, বরং অপরাধের নেপথ্য কাহিনি খুঁজে বের করার এক নিরন্তর সংগ্রাম। ক্রাইম সাংবাদিকতার ইতিহাস ও জনক-ক্রাইম সাংবাদিকতার সূচনা একক কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে হয়নি। এটি সময়ের প্রয়োজনে, সমাজের চাহিদা মেটাতে ধাপে ধাপে বিকশিত হয়েছে। তবে এই ধারার ইতিহাসে কিছু অগ্রণী নাম ও প্রতিষ্ঠান অবিস্মরণীয় হয়ে আছেন।
১. জোসেফ পুলিৎজার (১৮৪৭–১৯১১) তিনি ছিলেন আমেরিকার একজন কিংবদন্তি সাংবাদিক ও সংবাদপত্র প্রকাশক। তাঁর সম্পাদিত পত্রিকাগুলো, বিশেষ করে New York World, অপরাধ ও অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদনের মাধ্যমে নতুন মাত্রা যুক্ত করে। সেই সময় “হলুদ সাংবাদিকতা” বা Yellow Journalism নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, পুলিৎজার তাঁর পত্রিকায় তথ্যনিষ্ঠ, জনস্বার্থভিত্তিক অপরাধ বিষয়ক সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে একটি নতুন ধারার সূচনা করেন।
২. নেলি ব্লাই (১৮৬৪–১৯২২) 
নেলি ব্লাই ছিলেন এক সাহসী অনুসন্ধানী নারী সাংবাদিক। তাঁর সবচেয়ে আলোড়ন তোলা প্রতিবেদন ছিল নিউ ইয়র্কের এক মানসিক হাসপাতালে গোপনে ঢুকে সেখানকার নারীদের উপর চালানো নির্যাতনের তথ্য উন্মোচন। তিনি নিজের নাম, পরিচয় গোপন করে ভেতর থেকে সত্য বের করে আনেন। তাঁর প্রতিবেদন শুধু পাঠকদের মন জয় করেনি, প্রশাসনকেও নড়েচড়ে বসতে বাধ্য করেছে।
৩. “পেনি প্রেস” ও অপরাধ সংবাদ
১৮৩০-এর দশকে আমেরিকায় “পেনি প্রেস” নামে সস্তা সংবাদপত্রগুলোর আবির্ভাব ঘটে, যেমন The Sun, The New York Herald। এই পত্রিকাগুলো অপরাধ সংক্রান্ত সংবাদকে জনপ্রিয় করে তোলে। এ সময়ই অপরাধ রিপোর্টিং গণমানুষের সংবাদ হয়ে ওঠে, যেখান থেকে ক্রাইম সাংবাদিকতার আধুনিক ভিত্তি গড়ে ওঠে।
একজন ক্রাইম সাংবাদিকের দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ  একজন ক্রাইম সাংবাদিকের কাজ শুধু অপরাধের বর্ণনা দেওয়া নয়। তাঁকে হতে হয় সাহসী, নিরপেক্ষ এবং অনুসন্ধানী। তার দায়িত্ব হলো—অপরাধের প্রকৃত তথ্য অনুসন্ধান করা,নির্ভরযোগ্য সূত্রের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করা, ভুয়া বা মিথ্যা অভিযোগের ফাঁদে পা না দেওয়া, নিরাপত্তা বজায় রেখে ন্যায়বিচারের পক্ষে কলম চালানো। তবে এই পেশার চ্যালেঞ্জও কম নয়— হুমকি ও প্রতিহিংসার ভয়, প্রশাসনিক চাপ, রাজনৈতিক প্রভাব, ভুয়া তথ্যের জাল থেকে নিজেকে রক্ষা করা। ক্রাইম সাংবাদিকতা কেবল পেশা নয়—এটি একটি দায়িত্ব, একটি আদর্শের লড়াই। আজকের বাংলাদেশে যখন সত্য বলা কঠিন হয়ে পড়েছে, তখন একজন সত্যনিষ্ঠ ক্রাইম সাংবাদিক যেন অন্ধকারে আলোর প্রদীপ। আমি, মো. কামাল উদ্দিন, এই পেশায় আমার জীবন উৎসর্গ করেছি এই বিশ্বাস নিয়ে যে, অপরাধকে অন্ধকারে রাখলে তা আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। তাই তাকে আলোর মুখে আনাই আমার কর্তব্য। যতদিন কলম চালাতে পারি, ততদিন আমার এই সাহসী অভিযাত্রা চলবে—সত্যের সন্ধানে, সমাজের স্বার্থে, ন্যায়ের পক্ষে।
[চলবে]

যে ৮ টুথপেস্টে কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি

0

আব্দুল ওয়াহেদ চৌধুরী বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া টুথপেস্ট নিয়ে এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ESDO) পরিচালিত এক বছরের গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, পরীক্ষা করা ৩৪টি টুথপেস্ট নমুনার মধ্যে ২৬টিতেই (৭৬.৫ শতাংশ) মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তবে স্বস্তির খবর হলো, ৮টি টুথপেস্টে কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়নি।গবেষণাটি ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত হয়। দেশের বিভিন্ন সুপারশপ, খুচরা ও পাইকারি বাজার থেকে সংগ্রহ করা ১৯টি দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ডের ৩৪টি নমুনা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের Environmental Health and Ecotoxicology (EHE) Laboratory-তে পরীক্ষা করা হয়।

মাইক্রোপ্লাস্টিকমুক্ত ৮টি টুথপেস্ট

গবেষণা অনুযায়ী যেসব টুথপেস্টে কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি, সেগুলো হলো—

১. Genfresh Toothpaste (জেনফ্রেশ)

  • দেশীয় ব্র্যান্ড।
  • পরীক্ষায় কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়নি।

২. Parachute Just for Baby – Mango (প্যারাসুট জাস্ট ফর বেবি – ম্যাঙ্গো)

  • শিশুদের জন্য তৈরি দেশীয় টুথপেস্ট।
  • পরীক্ষায় নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

৩. Close-Up Red Hot Zinc Fresh Technology

  • দেশে উৎপাদিত এই নির্দিষ্ট ভ্যারিয়েন্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি।

৪. Parodontax Expert Gum Care

  • ভারতে উৎপাদিত।
  • মাড়ির যত্নে ব্যবহৃত এই টুথপেস্টও পরীক্ষায় মাইক্রোপ্লাস্টিকমুক্ত পাওয়া গেছে।

৫. Sensodyne Fresh Gel

  • সংবেদনশীল দাঁতের জন্য তৈরি জেল-ভিত্তিক টুথপেস্ট।
  • পরীক্ষায় কোনো প্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়নি।

৬. Colgate MaxFresh

  • ভারতে উৎপাদিত এই ভ্যারিয়েন্টটি পরীক্ষায় নিরাপদ তালিকায় স্থান পেয়েছে।

৭. Colgate Active Salt

  • কোলগেটের এই ভ্যারিয়েন্টেও মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি।

৮. Kodomo Orange

  • থাইল্যান্ড থেকে আমদানিকৃত শিশুদের টুথপেস্ট।
  • পরীক্ষায় মাইক্রোপ্লাস্টিকমুক্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

কেন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ?  মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা, যা দাঁত ব্রাশ করার সময় অজান্তেই শরীরে প্রবেশ করতে পারে। গবেষকেরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে এসব কণার স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে গবেষণা চলছে। যদিও মানবদেহে এর সব ধরনের প্রভাব এখনো নিশ্চিতভাবে নির্ধারিত হয়নি, তবুও অপ্রয়োজনীয় মাইক্রোপ্লাস্টিকের সংস্পর্শ কমানো জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

ESDO-এর পর্যবেক্ষণ

  • পরীক্ষিত ৩৪টি নমুনার মধ্যে ২৬টিতে (৭৬.৫%) মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।
  • ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত প্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে।
  • শিশুদের জন্য বাজারজাত ৬টি টুথপেস্টের মধ্যে ৪টিতেও মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।
  • টুথপেস্টের মোড়ক বা লেবেলে কোথাও মাইক্রোপ্লাস্টিক বা সিনথেটিক পলিমারের উপস্থিতির তথ্য উল্লেখ ছিল না।

নিরাপদ টুথপেস্ট বেছে নেওয়ার পরামর্শ

বিশ্বস্ত ও নিবন্ধিত ব্র্যান্ডের পণ্য ব্যবহার করুন।  ESDO বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গবেষণা ও হালনাগাদ তথ্য অনুসরণ করুন। শিশুদের জন্য টুথপেস্ট কেনার সময় পরীক্ষিত ও নিরাপদ পণ্যকে অগ্রাধিকার দিন। কেবল “হারবাল” বা “ন্যাচারাল” লেখা দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে পণ্যের উপাদান ও নির্ভরযোগ্য গবেষণার তথ্য যাচাই করুন।

 

দৈনিক আমাদের চট্টগ্রাম-এর ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শুভেচ্ছা ও সফলতা কামনা

— মো. কামাল উদ্দিন  আগামী ১ আগস্ট ২০২৬ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দৈনিক আমাদের চট্টগ্রাম-এর গৌরবময় ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। দীর্ঘ দেড় দশকের পথচলায় পত্রিকাটি সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন, জনস্বার্থ রক্ষা এবং চট্টগ্রামের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রার কথা সাহসিকতার সঙ্গে তুলে ধরে পাঠকমহলে একটি আস্থার ঠিকানা হিসেবে নিজস্ব অবস্থান সুদৃঢ় করেছে। এই গৌরবোজ্জ্বল আয়োজনের সফল বাস্তবায়নের জন্য আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই দৈনিক আমাদের চট্টগ্রাম-এর সম্পাদক ও প্রকাশক মিজানুর রহমান চৌধুরীকে। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব, সংবাদপত্রের প্রতি নিবেদন, পেশাদারিত্ব এবং নিরলস পরিশ্রমের ফলেই পত্রিকাটি আজ ১৫ বছরের সফল পথচলার মাইলফলকে পৌঁছেছে। সংবাদপত্রকে তিনি শুধু একটি প্রকাশনা হিসেবে নয়, বরং সমাজের সত্য, ন্যায় এবং মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।  একজন সম্পাদক হিসেবে তাঁর বিচক্ষণতা, সাহসী সিদ্ধান্ত এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চা নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্যও অনুকরণীয়। তাঁর নেতৃত্বে দৈনিক আমাদের চট্টগ্রাম আগামী দিনেও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ, মানবিক মূল্যবোধ এবং গণমানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে আরও সমৃদ্ধ হবে—এটাই প্রত্যাশা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩১ নম্বর হলে আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠান সর্বাঙ্গীণ সফল হোক, অংশগ্রহণকারী অতিথি, সাংবাদিক, শুভানুধ্যায়ী ও পাঠকদের মিলনমেলায় পরিণত হোক—এই কামনা করছি। দৈনিক আমাদের চট্টগ্রাম-এর ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সফল হোক। সম্পাদক ও প্রকাশক মিজানুর রহমান চৌধুরীর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার এই অগ্রযাত্রা আরও অনেক দূর এগিয়ে যাক—এই হোক আমাদের প্রত্যাশা।

কোর্টের বারান্দায় একদিন: বিচারপ্রার্থীদের কান্না, দীর্ঘশ্বাস আর রাষ্ট্রের বিবেকের সামনে কিছু প্রশ্ন

 মো. কামাল উদ্দিন আজ সকাল ঠিক ১০টায় আদালতে পৌঁছেছিলাম। উদ্দেশ্য ছিল একটি মামলা দায়ের করা। সঙ্গে ছিলেন আমার ভাতিজা, বিজ্ঞ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মফিজ। ভেবেছিলাম, নিয়মমাফিক কাজটি শেষ করে ফিরে যাব। কিন্তু আদালতের বাস্তবতা যেন আবারও বুঝিয়ে দিল—বিচার চাওয়া যত সহজ, বিচার পাওয়া তত সহজ নয়। জানতে পারলাম, যে আদালতে মামলাটি দায়ের হওয়ার কথা, সেই আদালতের বিচারক অন্য আদালতে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে শুরু হলো দীর্ঘ প্রতীক্ষা। আর সেই অপেক্ষার সময়টুকুই আমাকে নিয়ে গেল এক ভিন্ন জগতে—যেখানে প্রতিটি মুখ একটি গল্প, প্রতিটি চোখে একটি দীর্ঘশ্বাস, প্রতিটি পদক্ষেপে জমে আছে জীবনের না-পাওয়া হিসাব। আদালতের বারান্দায় দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছিল, এটি কেবল একটি সরকারি ভবন নয়; এটি যেন মানুষের কান্না, বেদনা, আশা, প্রতারণা, অন্যায়, নির্যাতন, ভালোবাসা, বিচ্ছেদ, ক্ষমতার লড়াই এবং ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষার এক বিশাল জীবন্ত জাদুঘর। ছবিটির দিকে তাকালে দেখা যায়—একজন মা কালো পোশাকে কোলে শিশুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁর মুখে ক্লান্তি, চোখে অনিশ্চয়তা। পাশে আরেক নারী বেঞ্চে বসে আছেন, মুখ ঢাকা। হয়তো তিনি নিজের সম্মান রক্ষার লড়াইয়ে এসেছেন, হয়তো স্বামীর নির্যাতনের বিচার চাইতে, হয়তো সন্তানদের ভবিষ্যৎ বাঁচানোর শেষ চেষ্টা করছেন। সেই শিশুটি কিছুই জানে না—সে শুধু মায়ের বুকের উষ্ণতা খুঁজছে। অথচ তার শৈশবের প্রথম স্মৃতিই হয়তো হয়ে থাকবে আদালতের এই করিডোর। ভাবছিলাম, এই শিশুদের কী অপরাধ? তারা তো আদালতে জন্মায়নি। সমাজের অন্যায়, পারিবারিক ভাঙন, ক্ষমতার অপব্যবহার আর মানুষের নিষ্ঠুরতার কারণেই তাদের ছোট্ট জীবন আদালতের বারান্দায় শুরু হয়। এই দৃশ্য দেখে বুকটা হাহাকার করে উঠল। অপেক্ষার সময় দেখা হলো পটিয়ার পরিচিত মুখ কাসেমের সঙ্গে। স্থানীয় নির্বাচনে জয়ী হয়েও নানা রাজনৈতিক বাস্তবতায় তিনি তাঁর প্রাপ্য দায়িত্ব পাননি বলে অনেকেই অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে তাঁর প্রতিদন্ধি কাসেম চেয়ারম্যান এর ছোট ভাই হত্যার একটি মামলায় মিথ্যা আসামি হয়ে কারাগারে যেতে হয় এবং আজ আদালতে হাজিরা দিতে এসেছেন। কিছুক্ষণ কথা হলো। তাঁর চোখেও দেখলাম ক্লান্তি। রাজনীতি, মামলা আর ক্ষমতার লড়াই—সবকিছু মিলে একজন মানুষের জীবন কীভাবে বদলে যেতে পারে, তারও এক নীরব সাক্ষী এই আদালত। পরে দেখা হলো সাংবাদিক আহমেদ কবির, জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য ইউনুস ভাই, আন্দোলনের সহযোদ্ধা এবং বহু আইনজীবী বন্ধুর সঙ্গে। আদালত যেন এক বিশাল মিলনমেলা, কিন্তু এখানে আনন্দের নয়—অপেক্ষার, উৎকণ্ঠার, বিচারপ্রার্থনার। চারদিকে তাকিয়ে দেখলাম—শত শত মানুষ। কেউ বাদী, কেউ বিবাদী, কেউ সাক্ষী, কেউ জামিনের আশায়, কেউ রায়ের অপেক্ষায়। কিন্তু অবাক হয়ে দেখলাম, এত মানুষের ভিড়ে একজন মানুষের মুখেও প্রকৃত হাসি নেই।  একজন বৃদ্ধ লাঠিতে ভর দিয়ে ধীরে ধীরে আদালতের সিঁড়ি বেয়ে উঠছেন। তাঁর মুখে বয়সের ভার, চোখে অসহায়ত্ব। হয়তো জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও জমির একটি মামলার রায় দেখতে চান। পাশে একজন বৃদ্ধা মা কাঁদছেন। হয়তো তাঁর ছেলেকে পুলিশ ধরে এনেছে, হয়তো তিনি নিজের শেষ সম্বল বিক্রি করে আইনজীবীর ফি জোগাড় করেছেন। এই কান্না কেবল একজন মায়ের নয়—এটি অসহায় মানুষের কান্না। সবচেয়ে বেশি কষ্ট লাগল গরিব মানুষের দিকে তাকিয়ে। অনেকেই দিনমজুর। আজ আদালতে এসেছেন বলে আজকের রোজগার বন্ধ। একজন রিকশাচালক আদালতের সিঁড়িতে বসে শুকনো রুটি খাচ্ছেন। একজন কৃষক ময়লা গামছা দিয়ে ঘাম মুছছেন। একজন শ্রমিক তাঁর মামলার তারিখ শুনে হতাশ হয়ে আবার বাড়ি ফিরছেন। হয়তো পরের তারিখে আসতেও তাঁকে ধার করতে হবে।
এই মানুষগুলোর কাছে একটি তারিখ মানে শুধু একটি দিন নয়—একটি কর্মদিবস হারানো, একটি পরিবারের রাতের খাবার অনিশ্চিত হয়ে যাওয়া। হাজতখানার সামনে গিয়ে আরও বেদনাদায়ক দৃশ্য দেখলাম। পুলিশের পাহারায় একের পর এক আসামিকে আনা হচ্ছে। কেউ মাথা নিচু করে হাঁটছেন, কেউ স্বজনের দিকে তাকানোর চেষ্টা করছেন। দূরে দাঁড়িয়ে থাকা স্ত্রী, মা, বাবা কিংবা সন্তানের চোখে শুধু জল। একজন বৃদ্ধা মায়ের কণ্ঠে শুনলাম—”বাবা, একটু ভালো থাকিস।” এই একটি বাক্যের মধ্যে পৃথিবীর সমস্ত মায়ের ভালোবাসা লুকিয়ে আছে। তবে এই করুণ দৃশ্যের মাঝেও একটি আশার আলো দেখলাম। আদালতের করিডোরে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কাজ করছেন অনেক নারী আইনজীবী। কালো কোট পরে যুক্তি, আইন ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে তাঁরা বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অংশ নিচ্ছেন। একসময় যে পেশা ছিল পুরুষদের আধিপত্যে, আজ সেখানে নারীদের দৃপ্ত পদচারণা সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রতীক। আদালতের প্রতিটি দেয়াল যেন অসংখ্য মানুষের অশ্রু শুষে নিয়েছে। প্রতিটি বেঞ্চ জানে কত মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষার ইতিহাস। প্রতিটি ফাইলের ভেতরে লুকিয়ে আছে একটি পরিবারের সুখ-দুঃখ, ভালোবাসা, বিশ্বাসঘাতকতা, সম্পত্তির বিরোধ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কিংবা মিথ্যা অভিযোগের গল্প। একজন সাংবাদিক হিসেবে আজ আমার মনে হয়েছে, আদালতের প্রকৃত সংবাদ শুধু রায়ের কপি নয়; প্রকৃত সংবাদ হলো সেই মায়ের চোখের জল, যে শিশুকে কোলে নিয়ে বিচার চাইতে এসেছে। প্রকৃত সংবাদ হলো সেই বৃদ্ধের দীর্ঘশ্বাস, যিনি জীবনের শেষ বয়সেও ন্যায়বিচারের অপেক্ষায়। প্রকৃত সংবাদ হলো সেই গরিব শ্রমিকের কষ্ট, যিনি একটি তারিখের জন্য দিনের উপার্জন হারিয়েছেন। প্রকৃত সংবাদ হলো সেই নির্যাতিত নারীর সাহস, যিনি সমস্ত ভয়কে জয় করে আদালতের দরজায় দাঁড়িয়েছেন।  বিচারব্যবস্থা শুধু আইন দিয়ে চলে না; এটি চলে মানবিকতা, সময়ানুবর্তিতা, জবাবদিহি এবং মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ দিয়ে। বিচার যদি বিলম্বিত হয়, তবে অনেক সময় সেটি বিচার নয়—নতুন এক যন্ত্রণার নাম হয়ে দাঁড়ায়।
আজ আদালত থেকে ফিরে মনে হয়েছে, আমাদের রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব শুধু আদালতের সংখ্যা বাড়ানো নয়; মানুষের দুর্ভোগ কমানো, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, মিথ্যা মামলার অপব্যবহার রোধ করা এবং দরিদ্র মানুষের জন্য সহজলভ্য আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা। কারণ আদালতের বারান্দায় দাঁড়িয়ে আমি বুঝেছি—এখানে কেউ আনন্দ নিয়ে আসে না। এখানে আসে শেষ আশ্রয়ের বিশ্বাস নিয়ে।  হয়তো একদিন এই দেশের আদালতের করিডোরে অপেক্ষা থাকবে, কিন্তু হতাশা থাকবে না; মামলা থাকবে, কিন্তু মিথ্যা মামলা থাকবে না; বিচার হবে, কিন্তু বছরের পর বছর নয়—সময়ের মধ্যে। সেদিন আদালতের এই বারান্দা শুধু দীর্ঘশ্বাসের নয়, ন্যায়বিচারের স্বস্তির প্রতীক হয়ে উঠবে।  আজকের এই আদালত সফর আমাকে একটি কথাই নতুন করে শিখিয়েছে—মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ অর্থ নয়, ক্ষমতা নয়; প্রকৃত সম্পদ হলো ন্যায়বিচার। আর ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই একটি রাষ্ট্র সত্যিকার অর্থে মানবিক, সভ্য ও গণতান্ত্রিক হয়ে ওঠে।

“আলো-আঁধারির নেভালে: কর্ণফুলীর মোহনায় কিছু মানুষ, কিছু গল্প, কিছু কবিতা-

মো. কামাল উদ্দিনঃ  কখনো কখনো মানুষের জীবনে এমন কিছু সন্ধ্যা আসে, যার কোনো পূর্বপরিকল্পনা থাকে না, কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজনও থাকে না। তবুও সেই ক্ষণিক সময়গুলো বছরের পর বছর হৃদয়ের অ্যালবামে রঙিন ছবি হয়ে বেঁচে থাকে। রাতের পতেঙ্গা নেভালের আড্ডাটাও ছিল ঠিক তেমনই—কোলাহল থেকে দূরে, ব্যস্ততা থেকে কিছুটা মুক্ত, আর কর্ণফুলীর মোহনায় রাতের ঝিকিমিকি আলোর সঙ্গে মিশে থাকা এক টুকরো নির্মল সময়। ইট-পাথরের নগরী মানুষকে জীবিকা দেয়, কিন্তু প্রকৃতি মানুষকে বাঁচার শক্তি দেয়। দিনের পর দিন লেখালেখির ব্যস্ততা, সংবাদ সংগ্রহ, মানুষের সুখ-দুঃখের গল্প, সামাজিক নানা দায়িত্ব—সবকিছুর ভিড়ে নিজের জন্য সময় বের করা যেন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। তাই হঠাৎ করেই সিদ্ধান্ত—চলুন, কিছু সময় শহরের কোলাহল ছেড়ে কর্ণফুলীর মোহনায় গিয়ে বসা যাক। রাত তখন গভীর হওয়ার অপেক্ষায়। আকাশজুড়ে মেঘের আনাগোনা, মাঝেমধ্যে চাঁদের ম্লান আলো, নদীর বুকে জাহাজের সারি, দূরে জ্বলজ্বল করা আলোগুলো যেন অন্ধকারের বুকে ছড়িয়ে থাকা নক্ষত্র। হালকা বাতাস এসে মুখ ছুঁয়ে দিচ্ছিল, আর মনে হচ্ছিল—প্রকৃতি যেন নীরবে বলছে, “এখানে কিছুক্ষণ সব দুঃশ্চিন্তা রেখে যাও।” আমি রেলিংয়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে কর্ণফুলীর কালো জলের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। সেই জলরাশি যেন অসংখ্য গল্প লুকিয়ে রেখেছে নিজের বুকে। কত মানুষ আসে, কত মানুষ চলে যায়, কিন্তু নদী সব গল্প নিজের বুকেই জমা রাখে। সেদিনের আড্ডার সঙ্গী ছিলেন তিনজন ভিন্ন স্বভাবের, ভিন্ন ব্যক্তিত্বের মানুষ—নাজমা আপা, শারমিন আপা এবং ইতু (ইতি)। তিনটি ভিন্ন নদীর মতো তাঁদের চরিত্র, অথচ শেষ পর্যন্ত সবাই মিশে গেলেন একই আড্ডার স্রোতে। নাজমা আপা—ব্যস্ততার মাঝেও প্রাণবন্ত এক মানুষ নাজমা আপা যেন কর্মব্যস্ততার আরেক নাম। মনে হচ্ছিল অফিসের দেয়াল ছেড়ে তিনি এসেছেন ঠিকই, কিন্তু অফিস তাঁকে ছাড়েনি। মোবাইল ফোন যেন তাঁর আরেকটি সহচর। একের পর এক কল, বিভিন্ন কাজের সমন্বয়—নেভালের সেই খোলা পরিবেশও যেন কিছুক্ষণের জন্য তাঁর কর্মস্থলে পরিণত হয়েছিল। তবুও তাঁর হাসি ছিল প্রাণখোলা। মাঝে মাঝে কথার ফাঁকে এমন রসিকতা করছিলেন যে সবাই হেসে উঠছিলাম। তিনি হঠাৎ বললেন, — “ডাব খেতে ইচ্ছে করছে।” অনেক খোঁজাখুঁজির পরও ডাব পাওয়া গেল না। শেষ পর্যন্ত পেঁয়াজু, ঝালমুড়ি, মাছ ভাজা আর চা দিয়েই ছোট্ট আয়োজন। তবে চায়ের স্বাদ নিয়ে সবারই একটাই মন্তব্য “চা আরেকটু ভালো হলে ক্ষতি ছিল না!”
শারমিন আপা—হাসির আড়ালে ঘরের টান
শারমিন আপার চোখেমুখে এক ধরনের কোমলতা ছিল। আড্ডায় ছিলেন, হাসছিলেন, গল্পও করছিলেন; কিন্তু কোথাও যেন তাঁর মনটা পড়ে ছিল পরিবারের কাছে। ঘরে ফিরতে দেরি হয়ে যাবে—এই চিন্তা তাঁকে বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছিল সময়ের কথা। তবুও তাঁর কণ্ঠে ভেসে এলো গান। সেই সুরে রাতের বাতাস যেন আরও নরম হয়ে উঠল। মনে হচ্ছিল কর্ণফুলীর ঢেউও বুঝি থেমে থেমে সেই গান শুনছে। ইতু—স্বাধীনচেতা হাসির ভেতর লুকানো কবিতার অনুপ্রেরণা তারপর আসে ইতুর কথা। মানুষের সঙ্গে প্রথম পরিচয় হয় নাম দিয়ে, কিন্তু মনে জায়গা হয় আচরণ দিয়ে। ইতুকে দেখে ঠিক এমনটাই মনে হলো। তাঁর মধ্যে ছিল এক অদ্ভুত প্রাণশক্তি। কখনো গল্প, কখনো হাসি, কখনো আবার হঠাৎ নীরবতা। মনে হচ্ছিল তিনি যেন প্রকৃতির সঙ্গেই কথা বলছেন।
মনে প্রশ্ন জাগছিল—আমি কি তাঁকে আগে কোথাও দেখেছি? হয়তো দেখিনি। আবার মনে হচ্ছিল, দেখেছি। কিছু মানুষকে প্রথম দেখাতেই আপন মনে হয়। হয়তো সেই অনুভূতিরই নাম পরিচয়ের আগের পরিচয়। তিনি আকাশের দিকে তাকিয়ে বললেন, “ওই যে চাঁদ… ওকে নিয়ে একটা কবিতা লিখুন না!” আমি মুচকি হেসে কয়েক মুহূর্ত চুপ করে রইলাম। তারপর মোবাইলের নোটে কয়েকটি লাইন লিখে পড়ে শোনালাম। তিনি হেসে বললেন— “আপনি যদি আমাদের সঙ্গে কয়েক দিন সী-বিচে থাকেন, তাহলে তো একটা পুরো কবিতার বই হয়ে যাবে!” কথাটা শুনে সবাই হেসে উঠলাম। কিন্তু সত্যি বলতে কী, সেই কথার ভেতরেই ছিল এক ধরনের আন্তরিক অনুপ্রেরণা। একজন লেখকের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি তখনই, যখন তাঁর লেখা লিখতে কেউ উৎসাহ দেয়। ইতুর হাসিটা ছিল একেবারে শিশুর মতো নির্মল। কোনো কৃত্রিমতা নেই, কোনো অহংকার নেই। তাঁর হাসি দেখে মনে হচ্ছিল—মানুষের মুখের হাসিও কখনো কখনো কবিতা হয়ে যায়। এরপর শারমিন আপা আর ইতুর কণ্ঠে ভেসে এলো গান। কোকিলকণ্ঠের সেই সুর কর্ণফুলীর বাতাসে মিশে গিয়ে যেন রাতটাকে আরও স্নিগ্ধ করে তুলল। বিউটি আপার গাড়ি আর পথের আনন্দ সেদিন আমরা এসেছিলাম নাজমা-প্রকাশ বিউটি আপার গাড়িতে। বিউটি আপা ভীষণ প্রাণবন্ত ও রসিক মানুষ। পথের ক্লান্তিকে তিনি হাসিতে উড়িয়ে দিতে জানেন। তাঁর সহজ কথাবার্তা পুরো যাত্রাটিকে আরও আনন্দময় করে তুলেছিল। কিন্তু সময় কারও জন্য অপেক্ষা করে না। নাজমা আপার ফোন শেষ হলো, অথচ ততক্ষণে শারমিন আপার ঘরে ফেরার তাড়া আরও বেড়ে গেছে। তাই ইচ্ছা থাকলেও আড্ডা আর দীর্ঘ হলো না। ফেরার আগে একবার কর্ণফুলীর দিকে তাকিয়ে মনে হলো এই নদী কত মানুষের গল্প জানে! কত না-বলা কথা, কত না-লেখা কবিতা, কত হাসি, কত দীর্ঘশ্বাস—সবই সে নীরবে নিজের বুকে বহন করে চলেছে।
সেই রাতেই কয়েকটি পঙ্‌ক্তি লিখেছিলাম—
আলো-আঁধারির নদীর বুকে
জেগে ছিল চাঁদের আলো,
তিনটি হাসি, একটি কলম—
লিখে গেল নীরব ভালো।
কেউ ব্যস্ত মোবাইল কথায়,
কেউ ঘরের টানে ফেরার পথ,
কেউ বা বলল—”আরও লিখুন”,
জন্ম নিল শত শত রথ।
কর্ণফুলী শুধু নদী নয়,
স্মৃতিরও এক গভীর তীর,
মানুষ চলে, সময় ফুরায়—
থেকে যায় কিছু অনুভব, কিছু অধীর।
জীবনের সব সুখ বড় আয়োজনের মধ্যে লুকিয়ে থাকে না। কখনো কখনো চারজন মানুষের প্রাণখোলা আড্ডা, এক কাপ অসম্পূর্ণ স্বাদের চা, ঝালমুড়ির কাগজের ঠোঙা, নদীর হাওয়া, রাতের চাঁদ, আর একজনের বলা “আরও লিখুন”—এই সামান্য ঘটনাগুলোই একজন লেখকের কাছে হয়ে ওঠে অমূল্য সম্পদ। হয়তো ভবিষ্যতে এই রাতের কথা আর কেউ মনে রাখবে না। কিন্তু একজন লেখকের ডায়েরিতে, একজন কবির কলমে, একজন মানুষের হৃদয়ে—পতেঙ্গার সেই আলো-আঁধারির রাত, কর্ণফুলীর মোহনার বাতাস, শারমিনের সুর, নাজমা আপার ব্যস্ততা, বিউটি আপার প্রাণখোলা হাসি এবং ইতুর সেই অনুপ্রেরণামাখা বাক্য “আরও লিখুন, একটা কবিতার বই হয়ে যাবে”—চিরকাল অমলিন হয়ে থাকবে। এখান থেকেই হয়তো জন্ম নেবে আরও কিছু কবিতা, আরও কিছু গল্প, আরও কিছু অমর স্মৃতি।

ধেয়ে আসছে মৌসুমি নিম্নচাপ, বৃদ্ধি পাচ্ছে বাতাসের গতিবেগ

0

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে, যা বর্তমানে মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। রোববার (২৬ জুলাই) এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা জানান, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন ওড়িশা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে একই এলাকায় (২০ দশমিক ৭° উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮ দশমিক ৩° পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে।  রোববার দুপুর ১২টায় এটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৪২৫ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৪১৫ কিলোমিটার পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৪৫ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৬৫ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।  আফরোজা সুলতানা আরও জানান, মৌসুমি নিম্নচাপটি আরও উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর এবং আরও ঘনীভূত হতে পারে। এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দরসহ উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।  বর্তমানে নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সঙ্গে নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে। এ অবস্থায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে এসে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে বিক্রেতাদের জন্য আসছে বড় চমক

ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে কেনাবেচাকে আরও সহজ, নিরাপদ ও কার্যকর করতে একাধিক নতুন সুবিধা চালু করতে যাচ্ছে মেটা। এর মধ্যে রয়েছে নিয়মিত বিক্রেতাদের জন্য আলাদা অ্যাপ, সেলফির মাধ্যমে বিনা মূল্যে পরিচয় যাচাই, নতুন ভিডিও ইন্টারফেস এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) বিভিন্ন টুল। মেটার তথ্য অনুযায়ী, নিয়মিত পণ্য বিক্রি করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য ‘সেলার’ নামে একটি স্বতন্ত্র অ্যাপ চালু করা হবে। এই অ্যাপের মাধ্যমে বিক্রেতারা পণ্যের তালিকা পরিচালনা, ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বিক্রির অগ্রগতি সহজে পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে প্রতি মাসে ৪৩ কোটির বেশি নতুন পণ্যের তালিকা প্রকাশ করা হয়। তাই নিয়মিত বিক্রেতাদের জন্য কেনাবেচার প্রক্রিয়া আরও সুশৃঙ্খল করতেই এই অ্যাপ আনা হচ্ছে।  ব্যবহারকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ‘ফেসবুক ভেরিফায়েড’ নামে একটি বিনা মূল্যের যাচাইকরণ সুবিধাও চালু করা হবে। এতে ব্যবহারকারীরা সেলফির মাধ্যমে নিজেদের পরিচয় যাচাই করতে পারবেন। যাচাই সম্পন্ন হলে তাদের প্রোফাইলে সাদা বৃত্তের মধ্যে একটি টিকচিহ্ন দেখা যাবে, যা ফেসবুক মার্কেটপ্লেস, ফেসবুক গ্রুপ এবং ফেসবুক ডেটিংয়েও প্রদর্শিত হবে। মেটার দাবি, এই ব্যবস্থা ভুয়া অ্যাকাউন্ট ও প্রতারণার ঝুঁকি কমাবে এবং ব্যবহারকারীদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বাড়াবে। ভিডিও দেখার অভিজ্ঞতাও উন্নত করা হচ্ছে। পরীক্ষামূলকভাবে নির্বাচিত কয়েকটি বাজারে ফুল-স্ক্রিন ভিডিও ইন্টারফেস চালু করা হবে। তবে ব্যবহারকারীরা চাইলে আগের ফিডভিত্তিক ভিডিও প্রদর্শন পদ্ধতিতেই ফিরে যেতে পারবেন। এ ছাড়া মার্কেটপ্লেসের সেলার অ্যাপ ও ফেসবুক গ্রুপে এআইনির্ভর নতুন কিছু সুবিধা যুক্ত করা হবে। এসব সুবিধার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পণ্যের বিবরণ তৈরি, গ্রুপে প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত খুঁজে পাওয়া এবং বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর সহজে জানা যাবে। মেটা জানিয়েছে, নতুন এআইভিত্তিক টুলগুলো ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন কাজ আরও সহজ করবে এবং ফেসবুক ব্যবহারের সামগ্রিক অভিজ্ঞতা উন্নত করবে।

বিদায়ী রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার, ৯০ দিনের মধ্যেই নতুন নিয়োগ: আইনমন্ত্রী

0

চট্টগ্রাম ব্যুরো:  সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন (চুপ্পু)-এর বিষয়ে সরকার সব দিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন তিনি। রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে নবীন আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সবকিছু পর্যালোচনা করেই বিদায়ী রাষ্ট্রপতির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। সরকারপ্রধান ও আমাদের ওপর এতটুকু ভরসা রাখতে হবে।” নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নিয়োগ একটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। তাই রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এর আগে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী দাবি করেন, গত ১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে নথিভুক্ত উপায়ে ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হয়েছে। আন্তর্জাতিক সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের আমলে উন্নয়ন প্রকল্পের নামে ব্যাপক লুটপাট হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে পিরোজপুরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্পের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কাগজে-কলমে প্রকল্পের কাজ শেষ দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি। আইনমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিচার বিভাগ, আইনজীবী ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি তারিক আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, জেলা ও দায়রা জজ কাজী আবদুল হান্নান, মহানগর দায়রা জজ মো. হাসানুল ইসলাম, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এ.জি.এম. মনিরুল হাসান সরকার, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোহাগ তালুকদার, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অ্যাডহক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন চৌধুরী। ছবির ক্যাপশন: চট্টগ্রামে নবীন আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান।

বিগত সময়ে দেশের প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি: পর্যটনমন্ত্রী

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, অতীত সময়ে দেশের প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি। তবে বর্তমানে দেশকে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজে স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, দেশ ভালো থাকলে দেশের মানুষও ভালো থাকবে। একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিকের প্রধান লক্ষ্য থাকে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশপ্রেমের যে শিক্ষা দিয়ে গেছেন, তা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আফরোজা খানম রিতা আরও বলেন, দেশপ্রেম ছাড়া কোনো জাতি বা রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক কখনো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হতে পারেন না। তিনি উল্লেখ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন থাকার শিক্ষা দিয়েছেন। তাই অন্যায়ের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস না করে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, দেশপ্রেম, সততা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান—এই তিনটি আদর্শ ধারণ করতে পারলে কেউ পথভ্রষ্ট হবে না এবং দেশকে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের লক্ষ্যে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

ফুড লাভার সাদিয়া আয়মান, তবু কীভাবে থাকেন ফিট?

0

ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান। নাটকের পর্দায় নিজের সাবলীল অভিনয় আর ভিন্নধর্মী চরিত্রে দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। ভালো গল্প ও শক্তিশালী চরিত্রকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করায় রূপালি পর্দায় তাকে খুব একটা দেখা যায় না। অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও ভক্তদের আগ্রহের কমতি নেই। বিশেষ করে তার খাদ্যাভ্যাস ও ফিটনেস নিয়ে কৌতূহল থাকে অনেকেরই। সম্প্রতি এক অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে এসে নিজের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে এই অভিনেত্রী জানালেন ভিন্ন এক গল্প। সাদিয়া জানান, তিনি ভীষণই ফুড লাভার। শুধু খেতেই নয়, রান্না করতেও ভালোবাসেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি ফুড লাভার। নিজেও রান্না করতে পছন্দ করি। মাঝেমধ্যে নিজের জন্য রান্না করে খাই। সোশ্যাল মিডিয়ায় খুব বেশি পোস্ট করি না, তবে মাঝে মধ্যে স্টোরি শেয়ার করি।’ তবে খাবারের প্রতি এতটা ভালোবাসা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে নিজের ফিটনেস ধরে রাখেন এমন প্রশ্নের জবাবে সাদিয়া বলেন, ‘ফিটনেস মেইনটেইন করা আমাদের দায়িত্ব। আমরা তো ২৪ ঘণ্টা খাই না। যখন খাই, মন ভরে খাই। এরপর আবার ডায়েট করি, ব্যালেন্স করি এবং সেটা খুবই ডেডিকেটেডভাবে মেনে চলি।’

স্বাস্থ্যকর খাবার খেলে খুব একটা ওজন বাড়ে না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘হেলদি ফুড খেলে খুব একটা ওয়েট গেইন হয় না। আসলে সবকিছুই নির্ভর করে ব্যালেন্স আর মেইনটেইন করার ওপর।’