Home Blog Page 27

পুরো আগস্টের আবহাওয়া কেমন থাকবে, জানাল বিডব্লিউওটি

0

চলতি আগস্টে দেশজুড়ে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগরে ২-৩টি মৌসুমি লঘুচাপ বা নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে। উজানে ভারী বৃষ্টির প্রভাবে উত্তরাঞ্চল, সিলেট ও ময়মনসিংহে বন্যার ঝুঁকিরও আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি)। শনিবার (০১ আগস্ট) প্রকাশিত আগস্ট মাসের পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিডব্লিউওটির তথ্যমতে, মাসের প্রথম সপ্তাহে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এ সময়ে সমুদ্র তুলনামূলক শান্ত থাকতে পারে। দ্বিতীয় সপ্তাহে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিভাগে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় বঙ্গোপসাগরে একটি মৌসুমি লঘুচাপ বা নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে সমুদ্রবন্দরে সতর্কসংকেত জারির প্রয়োজন হতে পারে। পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড় ধস এবং উত্তরাঞ্চলে বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। মাসের তৃতীয় ও শেষ সপ্তাহেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। সিলেট, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রংপুর বিভাগে ভারী বৃষ্টির কারণে একাধিক নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। মাসের শেষ সপ্তাহে দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলেও বৃষ্টির প্রবণতা বজায় থাকতে পারে। একই সময়ে বঙ্গোপসাগরে নতুন একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।  পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, আগস্টে বড় ধরনের কোনো ঘূর্ণিঝড় বা তাপপ্রবাহের আশঙ্কা নেই। তবে বৃষ্টির বিরতিতে আর্দ্রতাজনিত ভ্যাপসা গরম অনুভূত হতে পারে। এ ছাড়া আগস্টের ১৪ তারিখে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ এবং ২৮ আগস্ট চন্দ্রগ্রহণ ঘটলেও এর কোনোটিই বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে না।

সদরঘাট থানার অভিযানে এজাহারভুক্ত আসামি মুহাম্মদ জিলানী আটক; পলাতক অন্য আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সাহেবপাড়াবাসী

এবাদুল হোসেন
ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি।

চট্টগ্রাম মহানগরের সদরঘাট থানাধীন সাহেবপাড়ায় সংঘটিত আলোচিত হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় প্রথমবারের মতো একজন এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে সদরঘাট থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি হলেন মামলার ২ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি মুহাম্মদ জিলানী (৩০)। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ৩০ জুলাই ২০২৬ রাত সাড়ে ৭টার দিকে বন্দর থানাধীন মুন্সিপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কঠোর পুলিশি নিরাপত্তায় চট্টগ্রাম মহানগর আদালতে সোপর্দ করা হয়। পুলিশ আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, গত ১২ জুলাই ২০২৬ তারিখে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সদরঘাট থানাধীন সাহেবপাড়া এলাকায় সংঘটিত হামলার ঘটনায় ২৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে মামলা রুজু হয়। মামলায় দাঙ্গা, অনধিকার প্রবেশ, মারধর, গুরুতর জখম, হত্যাচেষ্টা, চুরি, ভাঙচুর, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ পেনাল কোডের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার এজাহারে বাদী পারুল বেগম অভিযোগ করেন, সংঘবদ্ধ একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ভাইদের মাছের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মাছের ফ্রিজার, কর্মচারীদের আবাসিক কক্ষ এবং একাধিক বসতবাড়িতে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। এজাহারে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা প্রথমে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বাইরে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে অফিসে প্রবেশ করে। পরে চুক্তির জন্য সংরক্ষিত প্রায় ১৫ লাখ টাকা, ক্যাশে থাকা নগদ অর্থ, ব্যবসায়িক হিসাবের খাতা, বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবই, জমা বই এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলাকারীরা মাছের ফ্রিজার রুমে ঢুকে প্রায় ২ হাজার ৪০০ কেজি মাছ, যার আনুমানিক মূল্য ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা, লুট করে নিয়ে যায়। একই সময়ে কর্মচারীদের আবাসিক কক্ষে ঢুকে মোবাইল ফোন, টেলিভিশন ও অন্যান্য মূল্যবান মালামাল লুটপাট এবং ভাঙচুরের অভিযোগও করা হয়েছে। পরে হামলাকারীরা “মা-বাবা দোয়া ফিসিং ট্রেডার্স” প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে নগদ অর্থ লুট, অফিসের আসবাবপত্র, ল্যাপটপ, এসি, ফ্রিজ ভাঙচুর এবং বাইরে থাকা তিনটি মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত করে বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। এরপর তারা বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার লুট, ব্যাপক ভাঙচুর এবং পরিবারের সদস্যদের মারধর করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারী গুরুতর আহত হন এবং প্রতিষ্ঠানের এক কিশোর কর্মচারী হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বলেও মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। বাদীপক্ষের দাবি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মাছের ফ্রিজার, কর্মচারীদের আবাসিক কক্ষ এবং একাধিক বসতবাড়িতে সংঘটিত হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরে প্রায় ৫২ লাখ টাকারও বেশি আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আদালতে দাখিল করা পুলিশি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তারকৃত আসামি মুহাম্মদ জিলানীর বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে বলে তদন্তকারী কর্মকর্তার দাবি। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মামলার তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে জেলহাজতে রাখা প্রয়োজন। এদিকে, মামলার প্রথম গ্রেপ্তারের ঘটনায় সাহেবপাড়া এলাকায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে এলেও স্থানীয়দের মধ্যে এখনও উদ্বেগ বিরাজ করছে। কারণ, মামলার অন্য এজাহারভুক্ত ও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অনেকেই এখনও পলাতক বলে এলাকাবাসীর দাবি। সাহেবপাড়া এলাকার স্থায়ী বাসিন্দারা বলেন, “একজনকে গ্রেপ্তার করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। এই হামলার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক পলাতক আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হোক। কোনো অপরাধী যেন আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে পার পেয়ে যেতে না পারে।” তারা আরও বলেন, “১২ জুলাইয়ের ঘটনার পর থেকে এলাকার সাধারণ মানুষ এখনও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। ব্যবসায়ী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় দিন গুনছে। তাই আমরা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাই, অবশিষ্ট পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা হোক। তাহলেই সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনের প্রতি আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে এবং ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর সাহস পাবে না।” বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখ্য, মামলার এজাহার ও পুলিশি প্রতিবেদনে বর্ণিত অভিযোগগুলো বর্তমানে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ।

 

লোকশিল্প, লোক সাহিত্য চর্চা ও গবেষণা কেন্দ্রের আয়োজনে ‘লোক উৎসব ২৬’এ প্রাণের বন্যা- বাংলার লোক সম্পদ কখন হারিয়ে যাওয়ার বিষয় নয় প্রয়োজন চর্চা ও নিবিড় গবেষণা

বাঙালির হাজার বছরের লোকশিল্প, লোকসাহিত্য, লোকগাঁথা, যাবতীয় লোকাচার ও সার্বিক লোকায়ত ভাব-ভাবনার বিষয়াদিকে উপজীব্য করে ‘লোক উৎসব-২০২৬’-এর গৃহীত কর্মসূচি ৩০ জুলাই বিকেল ৫টায় চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউটে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হয়। কর্মসূচিতে ছিল বর্ণাঢ্য উদ্বোধন, লোকসংগীত পরিবেশন, ফোক মোটিফের ওপর বিষয়ভিত্তিক আলোচনা, লোকনৃত্য, পুথিপাঠ, গাজী কালুর গীত, বাইশ কবির মনসামঙ্গল পাঠ, লোকবিষয়ক ছড়া-কবিতা আবৃত্তি প্রভৃতি। শ্রাবণের বর্ষণমুখর দিনে লোকবিষয়ক গুণীজনদের উপস্থিতি ও শিল্পীদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠানে এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বস্ত্র নকশাশিল্পী ও সন্দীপনার কেন্দ্রীয় সভাপতি রওশন আরা চৌধুরী। উৎসব আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক খ্যাতিমান ভাস্কর ডি. কে. দাশ মামুন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কথামালা ও বিভিন্ন পরিবেশনায় অংশ নেন অধ্যাপক ড. আবুল কাশেম, সাবেক উপাচার্য, কক্সবাজার বিশ্ববিদ্যালয়; অধ্যাপক ড. প্রভাত চন্দ্র বড়ুয়া, সাবেক উপাচার্য, ইউএসটিসি; অধ্যক্ষ সচ্চিতানন্দ রায়; আবু তাহের মাহমুদ, বিশিষ্ট ব্যাংকার; অধ্যক্ষ শামসুদ্দিন আহমদ, কক্সবাজার সরকারি কলেজ। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য গবেষক ডা. আ আ মুক্তাদির, সাংবাদিক বেলায়েত হোসেন, লায়ন দুলাল কান্তি বড়ুয়া, সাংবাদিক মুকুল শিকদার, অধ্যাপক স্বদেশ চক্রবর্তী, ইতিহাস চর্চা কেন্দ্রের সভাপতি সোহেল মোহাম্মদ ফখরুদ্দীন, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক সংগঠক টিপু সুলতান, কবিয়াল আব্দুল লতিফ, সাংবাদিক কাঞ্চন মহাজন, কবি দিলীপ কুমার দাশ, বিশিষ্ট শ্রমিক সংগঠক কামাল উদ্দিন, অধ্যাপক জসিম উদ্দিন চৌধুরী, ডা. ডি. কে. ঘোষ, সাহিত্যিক অধ্যাপক মহি মোহাম্মদ, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মোহাম্মদ হোসেন, অধ্যাপক অজিত কান্তি দাশ, কবিয়াল হরিপদ দেয়ারী, কবিয়াল সন্তোষ কুমার দে, বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম নবী, নাট্যকর্মী মেজবাহ চৌধুরী, শিল্পী সমীর চন্দ্র সেন, জাহানারা পারুল, কবিয়াল নির্মল শীল, সংগঠক প্রণব রাজ বড়ুয়া, কবিয়াল পণ্ডিত অরুণ কান্তি নাথ, শিল্পী মুসলিম আলী জনি, ডা. শিউলি চৌধুরী, অধ্যাপক আখেরুন নেসা দিনা, শিল্পী বৃষ্টি দাশ, শিল্পী পম্পী দাশ, শিল্পী বিথী সিংহ, খন্দকার হাসান আরাফাত, আশীষ কান্তি মুহুরী, টুবেল নন্দী, নয়ন মনি, মিলন কান্তি রুদ্র, হিমু, আব্দুল ওয়াহেদ, মর্জিনা আক্তার, গীতা রানী সিংহ, অসিত কুমার রক্ষিত, মো. ইসমাইল, অঞ্চল চৌধুরী, কে. কে. বাবুল প্রমুখ। নাট্যকর্মী মেজবাহ চৌধুরী ও অধ্যাপক নাজজেদা নাহার ত্বরার সঞ্চালনায় শিল্পী, কবি, বুদ্ধিজীবী ও বিশিষ্টজনেরা বলেন, বাংলা লোকশিল্প ও লোকসাহিত্য বাঙালির কাছে প্রবহমান সুপেয় নদীর জলস্রোতের ন্যায়। হাজার বছরের বাঙালির কৃষ্টি-সংস্কৃতি আজ পরদেশি সংস্কৃতির আগ্রাসনে কোনঠাসা হতে চলেছে। এ ঐতিহ্য তরক্ষায় প্রয়োজন নিজস্ব সংস্কৃতির প্রতি গভীর ভালোবাসা, আন্তরিকতা এবং নিবিড় চর্চা। আয়োজনের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামে একটি লোকশিল্প ও লোকসাহিত্য গবেষণা কেন্দ্র এবং লোকজ জাদুঘর (মিউজিয়াম) প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানানো হয়।

যশোর থেকে গ্রেপ্তার চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন, আটক পাঁচ সহযোগী

নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে যশোর থেকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের একটি বিশেষ দল। বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে পরিচালিত অভিযানে তাঁর সঙ্গে আরও পাঁচ সহযোগীকেও আটক করা হয়। গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম। তিনি জানান, অভিযানে ডেভিড ইমনসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আটক হওয়া পাঁচ সহযোগীই অস্ত্রধারী শুটার হিসেবে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ডেভিড ইমন বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চট্টগ্রামে সংঘটিত একাধিক চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে তাঁর নাম বারবার উঠে আসে।

কে এই ডেভিড ইমন?

মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা এবং মো. মুসার ছেলে। পুলিশের তথ্যমতে, তিনি ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ নগরের বাকলিয়া এলাকায় সংঘটিত আলোচিত জোড়া হত্যা মামলার অন্যতম আসামি। এছাড়া একই বছরের ২৩ মে রাতে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সংঘটিত সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলাতেও তাঁর নাম রয়েছে। এসবসহ বিভিন্ন অপরাধে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, ডেভিড ইমন আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারে অত্যন্ত দক্ষ এবং তাঁর নিয়ন্ত্রণে ১৫ থেকে ২০টি অস্ত্র ছিল বলে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। বাকলিয়ার জোড়া হত্যা মামলায় হামলাকারী সন্ত্রাসীদের সমন্বয় এবং মোটরসাইকেল সরবরাহের দায়িত্বও তিনি পালন করেছিলেন বলে অভিযোগ পুলিশের।

বড় সাজ্জাদ বাহিনীর অন্যতম নেতৃত্বে ছিলেন

পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশে অবস্থানরত শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রামে অপরাধচক্র পরিচালনায় নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন দুজন। তাঁদের একজন ছিলেন ডেভিড ইমন, অন্যজন মোহাম্মদ রায়হান। এর আগে একই চক্রের নেতৃত্বে ছিলেন ছোট সাজ্জাদ, যিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বড় সাজ্জাদের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কে অন্তত ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছে। এই চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করত বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই এই চক্রের মূল সদস্যদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ডেভিড ইমন ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তদন্তের মাধ্যমে চক্রটির অন্যান্য সদস্যদেরও আইনের আওতায় আনার অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সুন্দরবন রক্ষায় বাঘ সংরক্ষণের বিকল্প নেই

বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বক্তারা বলেন, সুন্দরবন রক্ষায় বাঘ সংরক্ষণের বিকল্প নেই। রয়েল বেঙ্গল টাইগার শুধু বাংলাদেশের জাতীয় গর্ব নয়, সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার অন্যতম প্রধান উপাদান। তাই সুন্দরবন ও বাঘ রক্ষায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল ১১টায় উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী সিপিজি কার্যালয়ে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে সাতক্ষীরা সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি (সিএমসি) ও সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ। সিএমসি সভাপতি মাহামুদা বেগমের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বুড়িগোয়ালিনী স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) এরফান উদ্দিন। সিএমসি সদস্য আবু ফরিদের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন ফরেস্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আয়ুব আলী, কলাগাছিয়া বনবিভাগ কেন্দ্রের ইনচার্জ সুলজ কুমার দ্বীপ, ফরেস্ট জামে মসজিদের ইমাম রেজাউল করিম, সিপিজি সদস্য পঞ্চি রানী ও রুহুল আমিন, সিএমসি সদস্য আব্দুর রশিদ এবং উপকূল প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল হালিম।  বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, বন উজাড়, মানব-বন্যপ্রাণীর সংঘাত এবং বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডের কারণে সুন্দরবনের বাঘের আবাসস্থল ক্রমেই হুমকির মুখে পড়ছে। এই সংকট মোকাবিলায় বন বিভাগের পাশাপাশি সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি, সামাজিক সংগঠন এবং স্থানীয় জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তারা আরও বলেন, সুন্দরবন টিকে থাকলে উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা এবং লাখো মানুষের জীবিকা সুরক্ষিত থাকবে। তাই বাঘ সংরক্ষণকে কেবল একটি প্রাণী রক্ষার উদ্যোগ হিসেবে নয়; বরং সুন্দরবনের সামগ্রিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার আন্দোলন হিসেবে দেখতে হবে। আলোচনা সভায় বক্তারা বিশ্ব বাঘ দিবসের প্রতিপাদ্য ‘সবাই হই সচেতন, বাঘ করি সংরক্ষণ’ বাস্তবায়নে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

সাবেক ইউপি সদস্য ও সংবাদকর্মী জামাল উদ্দিনের ওপর সশস্ত্র হামলা, অপহরণ ও নির্যাতন; দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি

ফরহাদ রহমান টেকনাফ প্রতিনিধি কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য ও সংবাদকর্মী জামাল উদ্দিনের ওপর সংঘটিত সশস্ত্র হামলা, অপহরণ ও নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংবাদিক মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। জানা গেছে, সোমবার (২৭ জুলাই) রাত আনুমানিক ৯টা ১০ মিনিটে হ্নীলা বাসস্টেশনের ছৈয়দুল্লাহ মার্কেট এলাকা থেকে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত অস্ত্রের মুখে জামাল উদ্দিনকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অপহরণের সময় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে হামলাকারীরা কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলিও ছোড়ে।  এরপর দুর্বৃত্তরা তাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর ও নির্যাতন চালায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হ্নীলা মঈন উদ্দিন মেমোরিয়াল কলেজ সংলগ্ন সড়ক ও জনপথ বিভাগের পাশের এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন তার চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। প্রথমে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজারে পাঠানো হয়। একজন সাবেক জনপ্রতিনিধি ও সংবাদকর্মীর ওপর এমন সশস্ত্র হামলা ও অপহরণের ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক উল্লেখ করে বিভিন্ন মহল বলেছে, এ ধরনের ঘটনা শুধু একজন ব্যক্তির ওপর হামলা নয়, বরং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জননিরাপত্তার জন্যও হুমকিস্বরূপ।  বক্তারা ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে আহত জামাল উদ্দিনের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন।

তিন মাসে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ১ লাখ ৪২ হাজার

0

দেশব্যাপী চলমান বিশেষ অভিযান ও নিয়মিত অভিযানে গত প্রায় তিন মাসে মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৯৮৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। এর মধ্যে বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৩৯ হাজার ২৬৭ জন এবং বিভিন্ন মামলা ও নিয়মিত অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন ১ লাখ ২ হাজার ৭২২ জন। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১ মে থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময়ে পুলিশ ৩২৫টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২ হাজার ৮০২ রাউন্ড গুলি ও কার্তুজ, ১০৩টি ম্যাগাজিন, ৪৬টি ককটেল, প্রায় ২ দশমিক ২৫ কেজি গানপাউডার, ৬৩৮টি দেশীয় অস্ত্র, ১৮টি অস্ত্রের যন্ত্রাংশ, ১৭টি অস্ত্র ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম এবং ১০ হাজার ৩০০টি চকলেট বোমা উদ্ধার করেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র ও সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন জানান, উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ১০১টি পিস্তল, ৩৫টি শুটারগান, ৩৮টি এলজি, ১৯টি রিভলভার, ৯২টি বন্দুক, ১৫টি পাইপগান, ৭টি শটগান, ৩টি রাইফেল, ২টি এসএমজি, ১২টি এয়ারগান এবং একটি পেনগান। এ ছাড়া একই সময়ে মাদকবিরোধী অভিযানে ৯১ লাখ ২২ হাজার ৯৯৬ পিস ইয়াবা, ৯ হাজার ৮০টি পুরিয়া হেরোইন, ৪ হাজার ৯৫ বোতল ফেনসিডিল, ৮ হাজার ২১১ বোতল বিদেশি মদ, ৪২৩ বোতল দেশি মদ, ৮ হাজার ৫৫২ পুরিয়া গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ১৭ হাজার ৬৬টি মামলা করা হয়েছে এবং ২৪ হাজার ৮২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

নদীর ওপারে কবরস্থান, লাশ দাফনে ভোগান্তি

একদিকে বসতভিটা, অন্যদিকে শেষ ঠিকানা কবরস্থান। আর এই দুয়ের মাঝে বাঁধ সেধেছে সুতিখালী নদী। পাবনার সাঁথিয়ায় নাগডেমরা ইউনিয়নের ভিটাপাড়া গ্রামে নদী পারাপারের কোনো মাধ্যম না থাকায় পরম আত্মীয়ের লাশটি দাফন করতেও স্বজনদের নামতে হয় কোমরসমান পানিতে, কখনো বা যেতে হয় সাঁতরে। এ যেন মৃত্যুর পরও এক অনাকাঙ্ক্ষিত ভোগান্তির নাম। শুধু লাশের মিছিলেই নয়, গ্রামের কৃষিজীবী মানুষের জীবনযাত্রাও আটকে আছে এই সুতিখালী নদীতে। নদীর উত্তর পাড়ে ছড়িয়ে থাকা কয়েকশ বিঘা আবাদি জমির ফসল ঘরে তুলতে প্রতিনিয়ত চরম বিড়ম্বনা ও বাড়তি খরচের মুখে পড়ছেন স্থানীয় কৃষকরা। বর্ষা হোক বা শুষ্ক মৌসুম বছরের পর বছর একই দুর্ভোগ বয়ে বেড়াচ্ছেন তারা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জীবনের ঝুঁকি আর দৈনন্দিন বিড়ম্বনা থেকে বাঁচতে ১০ বছর আগে নাগডেমরা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য সরোয়ার হোসেনের উদ্যোগে গ্রামবাসী চাঁদা তুলে সুতিখালী নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেন। তবে অপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত ও অর্থসংকটে কাজটি মাঝপথেই থমকে যায়। ফলে নদীর মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা কংক্রিটের পিলারের কঙ্কালটি এখন কেবলই এলাকাবাসীর দীর্ঘশ্বাসের প্রতীক।  সেতুর পরিকল্পনাকারী ও সাবেক ইউপি সদস্য সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘জনদুর্ভোগ কমাতে গ্রামবাসীকে এক করে কাজে হাত দিয়েছিলাম। কিন্তু নানা জটিলতায় তা শেষ করতে পারিনি। এখন সরকারিভাবে এটি বাস্তবায়নের জোর দাবি জানাচ্ছি।’সেতুর পরিকল্পনাকারী ও সাবেক ইউপি সদস্য সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘জনদুর্ভোগ কমাতে গ্রামবাসীকে এক করে কাজে হাত দিয়েছিলাম। কিন্তু নানা জটিলতায় তা শেষ করতে পারিনি। এখন সরকারিভাবে এটি বাস্তবায়নের জোর দাবি জানাচ্ছি। গ্রামের কৃষকদের আক্ষেপ, বছরের পর বছর জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কপালে জোটেনি কোনো স্থায়ী সমাধান। নদীর ওপারে যাতায়াত সহজ হলে শুধু কৃষির গতিই বাড়ত না, পুরো এলাকার অর্থনৈতিক চেহারা বদলে যেত। নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান জানান, তিনি গ্রামবাসীর দুর্দশা নিরসনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। সাঁথিয়া উপজেলা প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম জানান, সুতিখালী নদীর ওই পয়েন্টটি সম্প্রতি পরিদর্শন করা হয়েছে। তিনি বলেন, গ্রামবাসীর তোলা অসম্পূর্ণ কলামের ওপর ৯০ মিটারের একটি পূর্ণাঙ্গ সেতু নির্মাণ কারিগরিভাবে সম্ভব নয়। সেখানে সম্পূর্ণ নতুন সেতু করতে হবে। সড়কটি প্রকৌশল অধিদপ্তরের আইডি ভুক্ত না থাকায় এতদিন প্রক্রিয়াটি আটকে ছিল। বর্তমানে আইডিভুক্ত করার আবেদন প্রক্রিয়াধীন, অনুমোদন পেলেই প্রকল্পের আওতায় সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে দেশজুড়ে ভারী বৃষ্টির আভাস

0

উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট মৌসুমি নিম্নচাপটি আরও শক্তিশালী হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সোমবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় প্রকাশিত পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-উত্তর ওড়িশা উপকূলে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে সোমবার সন্ধ্যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ-উত্তর ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এর প্রভাবে দেশের চার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় এবং রংপুর, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক স্থানে অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ এবং কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে। এ সময়ে সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসেও বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এ সময় খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক স্থানে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় রয়েছে এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে এটি প্রবল অবস্থায় বিরাজ করছে। ফলে আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

বাড়ার পর আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ

আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন এই মূল্য তালিকা অনুযায়ী, আজ (২৮ জুলাই) দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট হলমার্ক করা স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকায় (ভ্যাটসহ)। বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং সোমবার (২৭ জুলাই) নতুন দর ঘোষণা করে। সংস্থাটি জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধির কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, প্রতি ভরি ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।  মাত্র তিন দিন আগেই, ২৪ জুলাই, প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা করা হয়েছিল। তবে এবার এক লাফে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে গতকাল নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট হলমার্ক করা রুপার দাম ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৪ হাজার ৫৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৩ হাজার ৯০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ২ হাজার ৯৭৪ টাকা নির্ধারণ করেছে বাজুস। বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলংকারের নকশা ও কারুকাজ অনুযায়ী মজুরি আলাদাভাবে যোগ হবে। এ ছাড়া বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে পৃথকভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।