Home Blog Page 26

প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর ১০ দিনের

আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ৮১) উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক যাবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছানোর কথা রয়েছে তার। তিনি জাতিসংঘ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়া ছাড়াও বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। তার সম্মানে আয়োজিত হবে নাগরিক সংবর্ধনা। এ ছাড়া ক্যালিফোর্নিয়ার সানফ্রান্সিসকোতে দুদিনের একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর ৮ থেকে ১০ দিনের হবে বলে সরকারের নির্ভরযোগ্য সূত্র এবং যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সংশ্লিষ্ট নেতারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ফলে দীর্ঘ চল্লিশ বছর পর জাতিসংঘ সদর দপ্তরের মিলনায়তনে একই সঙ্গে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান ও সভাপতির আসন যেন সমসাময়িক বিশ্ব রাজনীতিতে বিরল এক কূটনৈতিক দৃশ্যপট প্রত্যক্ষ করতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। সরকারপ্রধানের সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সফরসূচি ও অন্যান্য কর্মসূচি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বলে জানা গেছে।  এদিকে দীর্ঘ দুই দশক বিরতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফর ঘিরে সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসী ও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে অভাবনীয় উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। ২০০৬ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের আমলে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়েছিলেন তারেক রহমান। আবারও দীর্ঘদিন পর তার যুক্তরাষ্ট্র সফরকে স্মৃতিময় করে রাখতে এবং দলীয় প্রধান তথা দেশের প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে এক বিশাল নাগরিক সংবর্ধনা সভার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন কর্মসূচি সফল করতে এরই মধ্যে অনলাইনে বিশেষ ভার্চুয়াল যৌথ প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন করেছেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নীতিনির্ধারক ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের অসংখ্য নেতাকর্মী দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে জড়ো হবেন নিউইয়র্কে।  এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী গতকাল কালবেলাকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো শিডিউল চূড়ান্ত হয়নি। সফরসূচি চূড়ান্ত করা নিয়ে কার্যক্রম চলছে।  উল্লেখ্য যে, সরকার গঠনের পর প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে গত ২১ থেকে ২৬ জুন মালয়েশিয়া এবং চীন সফর করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার ওই দ্বিপক্ষীয় রাষ্ট্রীয় সফরে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে জনশক্তি রপ্তানি, পণ্য আমদানি-রপ্তানি, করিডোর স্থাপনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এমওইউ এবং চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এরপর কয়েকটি দেশ সফরের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগদানের আগে প্রধানমন্ত্রী আপাতত অন্য কোনো দেশ সফরে যাচ্ছেন না বলে সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের সময়সূচি ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি প্রসঙ্গে কূটনৈতিক ও দলীয় সূত্রগুলো বলছে, আগামী ২১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর বহর নিউইয়র্কে পৌঁছানোর সম্ভাব্য সূচি নির্ধারিত রয়েছে। অধিবেশনে যোগদানের পাশাপাশি তিনি সফরকালে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নিতে পারেন। পরে ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে জাতিসংঘের সদর দপ্তরের মূল মিলনায়তনে তিনি সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে তার বহুল প্রতীক্ষিত ঐতিহাসিক ভাষণ তুলে ধরবেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন পর দলীয় চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র আগমন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সংশ্লিষ্ট একাধিক নেতা জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছাবেন। ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি জাতিসংঘের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। ২৫ সেপ্টেম্বর তাকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হবে। ২৬ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সানফ্রান্সিসকোতে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর সানফ্রান্সিসকো থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান ভূঁইয়া মিল্টন কালবেলাকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাকর্মীরা অতীতে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন পর যুক্তরাষ্ট্র আসবেন এটা আমাদের জন্য খুশির খবর। আশা করি তাকে ঘিরে সব কর্মসূচি সফল হবে এবং আমরা তাকে সংবর্ধনা দেব। বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য গিয়াস আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগদানের জন্য নিউইয়র্কে আসবেন। তাকে বরণ করতে আমরা বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করছি প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর ফলপ্রসূ হবে। বিএনপি চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ও ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির সভাপতি বদরুল আলম চৌধুরী শিপলু কালবেলাকে বলেন, প্রায় বিশ বছর পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্র আসবেন, এটি আমাদের জন্য খুশির খবর। এবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের সভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ তথা পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এ জয় বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মর্যাদার প্রতীক। বিশ্ব রাজনীতির এ জটিল সময়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতিত্ব করা বাংলাদেশের জন্য বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণে এক বিশাল সুযোগ তৈরি করবে। ফ্লোরিডা স্টেট বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইমরানুল হক চাকলাদার বলেন, দীর্ঘদিন পর প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর ঘিরে আমরা আনন্দিত এবং আশাবাদী। ইনশাআল্লাহ তাকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হবে। এদিকে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কোনো কমিটি নেই। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা-ক্ষোভ ও বিভাজন তৈরি হয়েছে। পদপদবি না পেয়েও অনেক নেতাকর্মী ক্ষুব্ধ এবং কমিটি না থাকায় অনেকেই পৃথকভাবে কর্মসূচি পালন করেছেন। অথচ বছর দুই আগেও শেখ হাসিনার পতনের দাবিতে সক্রিয় এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো। সর্বশেষ ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হয়ে যুক্তরাষ্ট্র গিয়েছিলেন বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির শীর্ষ নেতারা। সে সময় নিউইয়র্কে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে হেনস্তার ঘটনায় বিএনপির সাংগঠনিক সক্ষমতায় নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও প্রশ্ন তৈরি হয়।যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতা জানান, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আমলে হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হলেও আজ তাদের কোনো দলীয় পরিচয় নেই। এদিকে প্রায় দেড় বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির ব্যানারে কোনো কর্মসূচি পালন থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে বিএনপি। গত বছরের ১৭ জানুয়ারি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়, যা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিতে তোলপাড় হয়। যদিও নেতাকর্মীদের দাবি, এখানে দলীয় শৃঙ্খলা কিংবা কোনো ধরনের নিয়ম ভঙ্গের মতো কিছু ঘটেনি। নেতাকর্মীরা শুধু চলমান কর্মসূচি দলীয় ব্যানারে পালন করছেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, শেখ হাসিনার পতন আন্দোলনে বহির্বিশ্বে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপির নেতাকর্মীদের ভূমিকা ছিল নজিরবিহীন। গত ১৫ বছর অনেকেই বাংলাদেশে আসতে পারেননি। অনেকের পরিবার মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পার হলেও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটি গঠনের দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। সর্বশেষ ২০০৫ ও ২০১১ সালে আব্দুল লতিফ (সম্রাট) ও জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে কমিটি দেওয়া হয়, যা ২০১১ সালে ভেঙে দেওয়া হয়। ২০১৫ সালের পর তারেক রহমান কয়েকবার কমিটি গঠনের ব্যাপারে আলোচনা ও লন্ডনে বৈঠক করলেও, তা আলোর মুখ দেখেনি। এমন অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্ক গেলে তার কাছে দ্রুত কমিটি গঠনসহ অন্যান্য সাংগঠনিক বিষয়ে দাবি-দাওয়া জানাবেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।  আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভাষণকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে একটি অভূতপূর্ব দৃশ্যপট তৈরি হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন প্রধান পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের নতুন পথচলা, ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক নীতি, টেকসই উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক সংকট সমাধানে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরবেন—তখন জাতিসংঘ অধিবেশনের সভাপতির আসনে বসে সেই সভা পরিচালনা করবেন বাংলাদেশেরই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে একই দেশের সরকারপ্রধান মূল মঞ্চে ভাষণে আর তারই ক্যাবিনেটের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বসভার সর্বোচ্চ আসনে থেকে সেই অধিবেশন নিয়ন্ত্রণ করছেন—এমন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সমীকরণ আধুনিক বিশ্ব কূটনীতিতে অত্যন্ত বিরল। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও শাসনব্যবস্থার ভিন্নতা জাতিসংঘে বাংলাদেশের নেতৃত্বের প্রসঙ্গ এলে অনেকেই ১৯৮৬ সালের কথা স্মরণ করেন। ওই বছর বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে সভাপতিত্বের গুরুদায়িত্ব পালন করেছিলেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সে সময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ওই সময় বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারব্যবস্থা বজায় ছিল এবং তৎকালীন শাসন কাঠামোতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অবস্থান ও বিশ্বমঞ্চের সমীকরণটি ভিন্ন ছিল। স্বাধীন বাংলাদেশের পাঁচ দশকের ইতিহাসে প্রথমবার সংসদীয় গণতন্ত্রের অধীনে একই মন্ত্রিসভার শীর্ষ দুই প্রতিনিধি— প্রধান নির্বাহী হিসেবে ‘প্রধানমন্ত্রী’ এবং শীর্ষ কূটনীতিক হিসেবে ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী’—একই সময়ে বিশ্বমঞ্চের ক্ষমতার কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।  রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ দুই দশক পর তারেক রহমানের নিউইয়র্ক গমন যেমন বিএনপির জন্য রাজনৈতিক পুনর্জাগরণের প্রতীক, তেমনি জাতিসংঘের মতো মূল বৈশ্বিক মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ এবং বাংলাদেশি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্ব একই সঙ্গে ঘটা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে এক নতুন উচ্চতায় উন্নীত করবে। ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যে বাংলাদেশের এ ঐতিহাসিক ও মর্যাদাপূর্ণ কূটনৈতিক উপস্থিতি বিশ্বদরবারে দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট সবাই। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি এবং সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শামছুল আলম কালবেলাকে বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী এবং সভাপতি হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর যৌথ উপস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য একটি অত্যন্ত গৌরবময় ও মর্যাদাপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করবে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, জাতিসংঘের এই ৮১তম অধিবেশন বিশ্ব কূটনীতির ইতিহাসে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিএনপি সরকার গঠনের পর এটা বিরাট সাফল্য।

চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় বক্তারা চট্টগ্রামের পরিকল্পিত উন্নয়নে নাগরিক ফোরাম কাজ করে যাবে-

চট্টগ্রাম, ২ আগস্ট ২০২৬: চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের একাদশ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভা আজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের রূপকার ও সংগঠনটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন। ফোরামের মহাসচিব মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন সঞ্চালনায় আলোচনায় বক্তব্য রাখেন যথাক্রমে: প্রাক্তন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ হাশেম, মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম, মিতুল দাশ গুপ্ত, কাজী গোলাপুর রহমান, ওসমান গনি, মনসুর আলম, মোহাম্মদ নূর, কাজী মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ প্রমুখ । সভায় ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন বলেন, ২০১৫ সাল থেকে প্রতিষ্ঠার পর চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম নিরবচ্ছিন্নভাবে আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছে। তবে এই সংগ্রামের ইতিহাস আরও প্রাচীন — এটি আশির দশকের শেষভাগে শুরু হওয়া চট্টগ্রাম উন্নয়নের জনপ্রিয় ও দেশ কাঁপানো আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বহন করছে, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৫ সালে চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা সমস্যা পুনরায় ভয়াবহ রূপ ধারণ করলে নগরবাসীর পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই এই সংগঠনটি গঠন করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত জলাবদ্ধতা নিরসন, কালুরঘাট নতুন সেতু নির্মাণ, ওয়াসার পানিকে লবণ মুক্ত করে যথাযথ সরবরাহ নিশ্চিত করা, গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা, কভিড মহামারীর সময়ে চট্টগ্রামে চট্টগ্রামে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা, অযৌক্তিক হারে হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধি প্রতিরোধসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে সংগঠনটি কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে ।
সংগঠনের মূল নীতি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়। এটা কোনো সরকারের পক্ষে বা বিপক্ষেও নয়। এই সংগঠন কেবল নাগরিকের অধিকার রক্ষা, জনজীবনের দৈনন্দিন সমস্যা সমাধান এবং চট্টগ্রামের প্রতি যেকোনো অন্যায়ের প্রতিবাদে কথা বলে। তিনি নগরবাসীর সমর্থন ও আশীর্বাদ নিয়ে ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং সবাইকে ন্যায্য দাবির সংগ্রামে সংগঠনের সাথে একাত্ম হওয়ার আহবান জানান। ফোরামের মহাসচিব সাংবাদিক মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম অতীতের মতো সব সময়ই চট্টগ্রামবাসীর স্বার্থকে সামনে রেখে কাজ করেছে, ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখবে। আমরা চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধান এবং এখানকার মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করছি, দেশের সামগ্রিক স্বার্থেই কাজ করছি, এর বিনিময়ে আমরা কখনো কিছু চাই না। এই সংগঠন নিঃস্বার্থভাবে চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। অন্যান্য বক্তারা নতুন কালুরঘাট সেতু নির্মাণের কাজ দ্রুত দৃশ্যমান করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধানে সরকারের প্রতি আহবান জানান। চলমান মেগা প্রকল্পগুলো সঠিক সময়ে সম্পন্ন করার পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে বিস্তারিত নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করে চট্টগ্রামকে জলাবদ্ধতামুক্ত করার জন্য জোর দাবি জানান। সভায় জনাব মোহাম্মদ উল্লাহ, আবুল কালামসহ সংগঠনের সাথে সংশ্লিষ্ট যাঁরা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের স্মরণ করা হয় এবং তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয় ।

চট্টগ্রামে লায়ন সাইফুল ইসলাম ও লায়ন জাহাঙ্গীর আলমের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক হৃদপিণ্ডে দেশের পর্যটন, প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান এবং মানবিক সেবা খাতের এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হয়েছে। ২ আগস্ট (রবিবার) সন্ধ্যায় বন্দরনগরী চট্টগ্রামের অভিজাত পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লু বে ভিউতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক দ্বিপাক্ষিক ব্যবসায়িক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান অতিথি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও লায়ন সাইফুল ইসলাম সোহেল এবং মানবিক ও ব্যবসায়িক সংগঠক আইডিয়াল হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান লায়ন মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের মধ্যে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি সম্পন্ন হয়। গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে অতিথি গ্রুপের সার্বিক ব্যবসায়িক অগ্রগতি পর্যালোচনা, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সেবার সম্প্রসারণ এবং আগামী দিনের জন্য একটি যুগোপযোগী ও দূরদর্শী ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। একই সাথে দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়ন এবং নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেন। বাণিজ্যিক প্রসারের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে দরিদ্র মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কল্যাণে পরস্পরের সহযোগিতার বিষয়টিও বৈঠকে বিশেষ প্রাধান্য পায়। বৈঠকে অতিথি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও লায়ন সাইফুল ইসলাম সোহেলের দূরদর্শী নেতৃত্ব, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং আন্তর্জাতিক মানের ব্যবসায়িক দক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করেন লায়ন মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও মানবকল্যাণে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে এক দূরদর্শী নেতৃত্ব: বিপিসি চেয়ারম্যান মো. শামীমুজ্জামানের নেতৃত্বে অগ্রযাত্রার প্রেরণা

লেখক: মো. কামাল উদ্দিন
লেখক, সাংবাদিক, টেলিভিশন উপস্থাপক, গবেষক এবং উপ-সম্পাদক, দ্য ডেইলি ট্যুরিস্ট

বাংলাদেশ আজ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জাতীয় উন্নয়নের এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। অবকাঠামো, যোগাযোগ, প্রযুক্তি ও শিল্পখাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির পাশাপাশি দেশের পর্যটন শিল্পও অর্থনীতির অন্যতম সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন বালুকাময় সমুদ্রসৈকত, বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন, মনোরম পাহাড়, নদ-নদী, দ্বীপ, জলপ্রপাত, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এবং সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অধিকারী বাংলাদেশ পর্যটনের ক্ষেত্রে অপরিসীম সম্ভাবনার দেশ। তবে এই সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ এখনো অনেকটাই বাকি। এই বিপুল সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতামূলক পর্যটন শিল্পে রূপ দিতে প্রয়োজন দূরদর্শী নেতৃত্ব, সুপরিকল্পিত কৌশল, উদ্ভাবনী উদ্যোগ এবং দৃঢ় অঙ্গীকার। এ রূপান্তরের নেতৃত্বে যাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব এবং বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মো. শামীমুজ্জামান। সম্প্রতি তাঁর কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করে দ্য ডেইলি ট্যুরিস্ট-এর পক্ষ থেকে একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার গ্রহণের সৌভাগ্য আমার হয়েছে। লেখক, সাংবাদিক, টেলিভিশন উপস্থাপক, পর্যটন গবেষক এবং পত্রিকাটির উপ-সম্পাদক হিসেবে বাংলাদেশের পর্যটনের সম্ভাবনা, নীতিগত দিকনির্দেশনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগের সুযোগ, পর্যটন গন্তব্যের ব্র্যান্ডিং, টেকসই পর্যটন এবং এ খাত নিয়ে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বিষয়ে তাঁর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করার সুযোগ পাই। মো. শামীমুজ্জামানের সঙ্গে আমার পেশাগত পরিচয়ের সূচনা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালনের সময়। তখন থেকেই তাঁকে আমি একজন অত্যন্ত দক্ষ, সুশৃঙ্খল, সৎ এবং দূরদর্শী সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দেখেছি। সময়ের সঙ্গে তাঁর পেশাদারিত্ব, সততা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং জাতীয় উন্নয়নে নিবেদিত ভূমিকা তাঁকে সর্বমহলে সম্মানিত করেছে। আলোচনায় তিনি বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের ভবিষ্যৎ কেবল অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর নির্ভর করে না; বরং বিশ্বমানের আতিথেয়তা, পর্যটকদের নিরাপত্তা, পরিবেশগত স্থায়িত্ব, ডিজিটাল রূপান্তর, দক্ষ মানবসম্পদ এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সেবাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, পর্যটনকে শুধু বিনোদনের শিল্প হিসেবে নয়, বরং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উন্নয়নের শক্তিশালী চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। তিনি জানান, সরকার দেশের প্রধান পর্যটন গন্তব্যগুলোকে আধুনিকায়ন, আবাসন সুবিধা উন্নয়ন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব জোরদার এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য নতুন ও আকর্ষণীয় পর্যটন পণ্য ও সেবা চালুর লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে কক্সবাজার, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ, পার্বত্য চট্টগ্রাম, সুন্দরবন, কুয়াকাটা, সিলেট, মহেশখালী, সোনাদিয়া দ্বীপ এবং দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের উন্নয়নে। এসব গন্তব্যকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করে বৈশ্বিক পর্যটন বাজারে বাংলাদেশকে একটি প্রতিযোগিতামূলক গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়েই কাজ চলছে। বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণার অভিজ্ঞতা এবং গবেষণাভিত্তিক গ্রন্থ “বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প”–এর লেখক হিসেবে আমি দেশের অসংখ্য পর্যটন কেন্দ্র পরিদর্শন করেছি। মাঠপর্যায়ের গবেষণার অভিজ্ঞতা থেকে আমার দৃঢ় বিশ্বাস, টেকসই পরিকল্পনা, পেশাদার ব্যবস্থাপনা এবং দূরদর্শী নেতৃত্ব অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হতে পারে। সাক্ষাৎকালে আমি দ্য ডেইলি ট্যুরিস্ট-এর কার্যক্রম এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা, গবেষণাভিত্তিক প্রতিবেদন ও গঠনমূলক সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করি। তিনি এ উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান এবং দেশের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরতে পত্রিকাটির ভূমিকার উচ্চ প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দ্য ডেইলি ট্যুরিস্ট তথ্যসমৃদ্ধ ফিচার, গবেষণাভিত্তিক প্রতিবেদন, পর্যটন গন্তব্যের গল্প, বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং উন্নয়নমূলক কার্যক্রম তুলে ধরে পর্যটন সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাঁর বিশ্বাস, ভবিষ্যতেও পত্রিকাটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, টেকসই ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে সরকার, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, বেসরকারি উদ্যোক্তা, গবেষক, গণমাধ্যমকর্মী এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ও সহযোগিতা অপরিহার্য।তাঁর যে বিষয়টি আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে, তা শুধু তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা নয়; বরং তাঁর বিনয়, পরিশীলিত দৃষ্টিভঙ্গি, দূরদর্শী চিন্তাভাবনা এবং গভীর দেশপ্রেম। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে আধুনিক, টেকসই এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত শিল্পে পরিণত করার আন্তরিক প্রত্যয় স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। একজন সাংবাদিক ও পর্যটন গবেষক হিসেবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, পর্যটনের উন্নয়ন শুধু পর্যটক আকর্ষণের বিষয় নয়; এটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, পরিবেশ রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এই যাত্রায় দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্য ডেইলি ট্যুরিস্ট বস্তুনিষ্ঠ, গবেষণানির্ভর এবং উন্নয়নমুখী সাংবাদিকতার মাধ্যমে এ খাতের পাশে থাকার অঙ্গীকার অব্যাহত রাখবে।পর্যটন গবেষণা ও সাংবাদিকতায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে আমি বিশ্বাস করি, মো. শামীমুজ্জামানের গতিশীল নেতৃত্ব, পেশাদারিত্ব, সততা এবং দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন টেকসই পর্যটন উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বিশ্বদরবারে বাংলাদেশকে একটি আকর্ষণীয় ভ্রমণ গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করবে। আমি আন্তরিকভাবে প্রত্যাশা করি, তাঁর দক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। একই সঙ্গে দ্য ডেইলি ট্যুরিস্ট পেশাদারিত্ব, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং নিষ্ঠার সঙ্গে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার এই জাতীয় অভিযাত্রায় সবসময় পাশে থাকবে।

টুঙ্গিপাড়ায় গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে নির্মিত তোরণে আগুন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় নির্মিত ‘৩৬ জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ তোরণে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার দুপুরে (১ আগস্ট) উপজেলার শিশু পার্কের সামনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সব শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের স্মরণে তোরণ নির্মাণ করে পৌর স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল। পরে রাতেই সেই তোরণে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের স্মরণে তোরণটি নির্মাণ করা হয়। পরে আনুমানিক রাত ১২টার দিকে কে বা কারা আগুন ধরিয়ে দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল করে। এতে পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক গোলাম সাগর ও পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইয়েন মুন্সীর ছবিসহ পদবি পুড়ে যায়। টুঙ্গিপাড়া পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইয়েন মুন্সী বলেন, দুপুরে তোরণটি নির্মাণ করার পর আমরা গোপালগঞ্জ-৩ আসনের এমপি এসএম জিলানীর সঙ্গে কোটালীপাড়ায় একটা অনুষ্ঠানে ছিলাম। পরে জানতে পারি, রাত ১২টার দিকে কে বা কারা সেই তোরণে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। যারা এই কাজ করেছে তারা জুলাই যোদ্ধাদের অপমান করেছে। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।  টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী বলেন, বিষয়টি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, সেটা তদন্ত করা হচ্ছে। তবে এ ব্যাপারে রোববার দুপুর পর্যন্ত থানায় কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

চট্টগ্রামে দলীয় ক্লাব ভাঙচুর নিয়ে নতুন বিতর্ক ‘বাদী পক্ষকে হয়রানি করতেই পরিকল্পিত নাটক’—অভিযোগ স্থানীয়দের

এবাদুল হোসেন
ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম সদরঘাট থানাধীন মোহাম্মদ গল্লি এলাকায় একটি দলীয় ক্লাব ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই এলাকাজুড়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ভাঙচুরের ঘটনা নয়; বরং চলমান একটি মামলার বাদী পক্ষকে সামাজিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং মানসিকভাবে চাপে ফেলতেই পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩০ জুলাই রাতে আবু তালেব লিটনের নির্দেশে মোহাম্মদ কাওসার ওরফে ভুসসা, আক্তার মাঝি, মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন সাজু, মোহাম্মদ তুফান, শওকতসহ আরও কয়েকজন এ ঘটনায় জড়িত ছিলেন বলে তারা দাবি করেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মোহাম্মদ তুফান জাতীয় দৈনিক সরেজমিন বার্তাকে বলেন, “আমরা কিছুদিন আগে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলাম। সেই ঘটনার জের ধরেই কিছু দুষ্কৃতিকারী এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে।” অন্যদিকে, মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন সাজু, যিনি নিজেকে সাবেক ওয়ার্ড যুবদল সভাপতি হিসেবে পরিচয় দেন, বলেন, “আমাদের কারও সঙ্গে কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ নেই। আমাদের দলীয় অফিসে হামলার ঘটনাটি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দকে জানানো হয়েছে। আমরা আশা করছি, তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। আমরা কোনো সংঘাতে জড়াতে চাই না।” স্থানীয়দের ভাষ্য, সাহেবপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। তাদের দাবি, গত ৫ আগস্টের পর থেকে একটি সংঘবদ্ধ চক্র রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। পাশাপাশি চাঁদা দাবি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, হামলা-মামলার হুমকি এবং সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হয়রানির অভিযোগও তুলেছেন কয়েকজন বাসিন্দা। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। স্থানীয়দের আরও দাবি, সম্প্রতি একটি এজাহারভুক্ত মামলার ২ নম্বর আসামি গ্রেপ্তার হওয়ার পর মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে অস্থিরতা দেখা দেয়। তাদের ধারণা, এরই ধারাবাহিকতায় বাদী পক্ষকে চাপে ফেলা, জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা এবং মামলার গতিপথ প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে দলীয় ক্লাব ভাঙচুরের ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। তবে এ দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। এলাকার একাধিক বাসিন্দা বলেন, সাহেবপাড়ার সাধারণ মানুষ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করতে চান। তারা কোনো ধরনের সহিংসতা, প্রভাব বিস্তার বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দেখতে চান না। তাদের প্রত্যাশা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করবে এবং যার বিরুদ্ধে প্রমাণ মিলবে, তার বিরুদ্ধেই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সচেতন মহলের মতে, কোনো অপরাধের অভিযোগ উঠলে তদন্তের মাধ্যমেই সত্য-মিথ্যা নির্ধারণ হওয়া উচিত। গুজব, প্রতিশোধ বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যেমন সমীচীন নয়, তেমনি তদন্তে অপরাধের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করাও জরুরি। এ বিষয়ে সদরঘাট থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তার বক্তব্য, “দলীয় ক্লাব ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। ঘটনাস্থলের তথ্য-উপাত্ত, সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত পরিচালনা করা হবে। তদন্তে যার বিরুদ্ধে সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলবে, তার বিরুদ্ধেই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন এবং কোনো অপরাধী যেন আইনের বাইরে না থাকে, সে বিষয়েও আমরা সতর্ক রয়েছি।”

জরুরি নিখোঁজ সংবাদ: ১২ বছরের শিশু মোহাম্মদ তামিমকে খুঁজে পেতে সবার সহযোগিতা কামনা

চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকা থেকে মোহাম্মদ তামিম (১২) নামে এক শিশুর রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। প্রায় ২৪ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরা চরম উৎকণ্ঠা ও দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। নিখোঁজ শিশুটির বাবা আশরাফ আলী জানান, তিনি হালিশহর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, তামিমের সর্বশেষ তোলা ছবি না থাকায় জিডি গ্রহণ করা সম্ভব নয়। এ ঘটনায় তিনি হতাশা প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা এবং প্রশাসনের প্রতি বিনীত আবেদন জানিয়েছেন, যাতে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবং তার সন্তানকে উদ্ধারে সর্বাত্মক উদ্যোগ নেওয়া হয়। বর্তমান সময়ে দেশে শিশু নিখোঁজের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে নিখোঁজ শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তাই প্রতিটি নিখোঁজের ঘটনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত অনুসন্ধান পরিচালনা করা অত্যন্ত জরুরি। সবার প্রতি মানবিক আহ্বান আপনার আশপাশে, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন, বাজার, পার্ক কিংবা অন্য কোথাও যদি ছবিতে থাকা এই শিশুটিকে দেখতে পান বা তার সম্পর্কে কোনো তথ্য জেনে থাকেন, তাহলে অনুগ্রহ করে নিকটস্থ থানায় অথবা তার পরিবারের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করুন। আপনার একটি তথ্য হয়তো একটি অসহায় পরিবারের মুখে আবারও হাসি ফিরিয়ে দিতে পারে। আসুন, মানবিক দায়িত্ব থেকে সবাই এই নিখোঁজ সংবাদটি বেশি বেশি শেয়ার করি।
হয়তো আপনার একটি শেয়ারই ১২ বছরের ছোট্ট তামিমকে তার বাবা-মায়ের বুকে নিরাপদে ফিরিয়ে দিতে পারে।
আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করি, ছোট্ট তামিম যেন সুস্থ ও নিরাপদ অবস্থায় দ্রুত তার পরিবারের কাছে ফিরে আসে। আমীন।

এলএনজি সরবরাহ কমায় দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট

0

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ কমে যাওয়ায় সারা দেশে তীব্র গ্যাস-সংকট দেখা দিয়েছে। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এ সংকটে শিল্প-কারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, সিএনজি পরিবহন এবং আবাসিক গ্রাহক—সব খাতেই ভোগান্তি বাড়ছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কম থাকায় রান্নার চুলা জ্বলছে না, আর সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের। রোববার (২ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, গ্যাস নিতে শত শত যানবাহনের দীর্ঘ সারি। চালকদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় গ্যাস না পাওয়ায় আয়-রোজগার কমে গেছে। অন্যদিকে শিল্প-কারখানাগুলোও পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর সেটি বন্ধ রয়েছে। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের সরবরাহ কমে গেছে। বর্তমানে বিদেশি প্রকৌশলীরা টার্মিনালটি মেরামতের কাজ করছেন। তবে এটি পুরোপুরি সচল করতে আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত সময় লাগতে পারে জানানো হয়েছে।  বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে সরবরাহ করা হয় প্রায় ২৬৫ কোটি ঘনফুট। কিন্তু একটি এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় সরবরাহ নেমে এসেছে প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুটে। ফলে গ্যাসের ঘাটতি বেড়ে প্রায় ৪৫ শতাংশে পৌঁছেছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালের অক্ষত বয়লার চালুর চেষ্টা চলছে। এটি চালু করা গেলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট অতিরিক্ত গ্যাস যোগ হবে, যা চলমান সংকট কিছুটা লাঘব করতে পারে। এদিকে গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনও কমে গেছে। ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়েছে। তবে গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিষয়ে বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন ছড়ালেও পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, বর্তমানে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।

বাংলাদেশে তৈরি হোন্ডা এনএক্স২০০ যাচ্ছে মেক্সিকোতে

বাংলাদেশে উৎপাদিত হোন্ডা এনএক্স২০০ মোটরসাইকেল এবার রপ্তানি হচ্ছে মেক্সিকোতে। জাপানের হোন্ডা মোটর কোম্পানি লিমিটেড ও বাংলাদেশ সরকারের শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ স্টিল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের (বিএসইসি) যৌথ উদ্যোগ বাংলাদেশ হোন্ডা প্রাইভেট লিমিটেড (বিএইচপিএল) মেক্সিকোতে মোটরসাইকেল রপ্তানি শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। এর মাধ্যমে কোম্পানিটি বৈশ্বিক বাজারে তাদের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করল। এর আগে গুয়াতেমালায় সফলভাবে হোন্ডা মোটরসাইকেল রপ্তানি হয়। কোম্পানির ভাষ্য, এটি আন্তর্জাতিক বাজারে হোন্ডার বৈশ্বিক মানসম্পন্ন মোটরসাইকেল সরবরাহের প্রতিশ্রুতিরই ধারাবাহিকতা। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান বলেন, ‘সরকার উৎপাদন, রপ্তানি ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে। মেক্সিকোতে বাংলাদেশ হোন্ডার রপ্তানি দেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’ বাংলাদেশ হোন্ডা প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুসুমু মরিসাওয়া বলেন, ‘মেক্সিকোতে রপ্তানি সম্প্রসারণ হোন্ডার উৎপাদন সক্ষমতা, গুণগত মান এবং কর্মীদের নিবেদিত প্রচেষ্টার প্রতিফলন। গুয়াতেমালার পর মেক্সিকোতেও রপ্তানি শুরু করতে পেরে প্রতিষ্ঠানটি গর্বিত। পাশাপাশি স্থানীয় উৎস থেকে যন্ত্রাংশ সংগ্রহ বৃদ্ধি, উৎপাদন প্রতিযোগিতা শক্তিশালী করা এবং নতুন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের লক্ষ্যে কাজ অব্যাহত থাকবে।’ প্রতিষ্ঠানটির চিফ মার্কেটিং অফিসার শাহ মুহাম্মদ আশেকুর রহমান বলেন, ‘মেক্সিকোতে এনএক্স২০০ রপ্তানি বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা ও হোন্ডার বৈশ্বিক মানের স্বীকৃতি। দেশীয় বাজারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি এই উদ্যোগ রপ্তানি বহুমুখীকরণ, শিল্পায়ন, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।’ প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ সরকার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), ডিউটি এক্সেম্পশন অ্যান্ড ড্রব্যাক অফিস (ডিইডিও), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), শুল্ক কর্তৃপক্ষ, ব্যাংকিং অংশীদার, সরবরাহকারী, ডিলার এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের প্রতি সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।  বাংলাদেশ হোন্ডা প্রাইভেট লিমিটেড জানায়, ভবিষ্যতেও নতুন আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের রফতানি বহুমুখীকরণ ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখতে তারা কাজ করে যাবে।

 

বর্ষার শেষদিকেও নৌকা তৈরির ব্যস্ততা

বর্ষা প্রায় শেষের পথে। অনেক খাল-বিলের পানি কমতে শুরু করেছে। তবে এখনো কমেনি কারিগরদের নৌকা তৈরির ব্যস্ততা। কাঠে বাটালির আঘাত, হাতুড়ির টোকা আর নিখুঁত মাপে কাঠ জোড়া লাগিয়ে তৈরি হচ্ছে একের পর এক নৌকা। কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের নাইঘর গ্রামে এমন চিত্র দেখা মিলেছে। কয়েক বছর আগেও বর্ষা মৌসুমে হাতেগোনা কয়েকটি নৌকার অর্ডার মিলত। এখন বর্ষার শেষ দিকেও কাজের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন কারিগররা। ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার স্মৃতি এখনো তাড়া করে বেড়ায় এ উপজেলার মানুষকে। সে অভিজ্ঞতাই আবার ফিরিয়ে এনেছে নৌকার কদর। এক সময় ব্রাহ্মণপাড়ায় নৌকার ব্যবহার ছিল বেশ পরিচিত দৃশ্য। কিন্তু যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে কমতে থাকে নৌকার প্রয়োজনীয়তা। নদী-খালনির্ভর জীবনযাত্রার পরিবর্তনে স্থানীয় কারিগরদের কাছেও নৌকা তৈরি গুরুত্ব হারায়। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে গোমতী ও শালদা নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে সৃষ্ট বন্যা সেই চিত্র বদলে দেয়। আকস্মিক বন্যায় বহু মানুষ নৌকার অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এখন অনেক পরিবার বর্ষা এলেই আগেভাগে একটি নৌকা কিনে রাখেন। ফলে ২০২৪ সালের পর থেকে প্রতি বর্ষা মৌসুমে কারিগরদের ব্যস্ততা বাড়ে। সরেজমিন দেখা যায়, নাইঘর গ্রামে ব্রাহ্মণপাড়া-শশীদল সড়কের পাশে নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত দুই ভাই সুভাষ ও সাদন সূত্রধর। পৃথক কর্মশালায় চলছে তাদের নৌকা তৈরির কাজ। বছরের অধিকাংশ সময় তারা কাঠের আসবাবপত্র তৈরি করেন। কিন্তু বর্ষা এলেই নৌকা তৈরিতে মনোযোগ দেন। চলতি বর্ষার শুরু থেকে কয়েকটি নৌকা তৈরির কাজ পেয়েছেন তারা। স্থানীয়রা জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বন্যার আশঙ্কা বেড়েছে। তাই নৌকাকে দুর্যোগের সময় পরিবারের নিরাপত্তার অন্যতম উপকরণ হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে। ফলে বর্ষার শেষদিকেও নৌকা কিনছেন অনেকে। নৌকার কারিগর সুভাষ সূত্রধর বলেন, আগে বর্ষা এলেও দু-চারটির বেশি নৌকা বিক্রি হতো না। নৌকা তৈরি ছিল অতিরিক্ত একটি কাজ। কিন্তু ২০২৪ সালের বন্যার পর থেকে মানুষ নৌকার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে বুঝেছে। এখন বর্ষাকালে আগের তুলনায় নৌকার বিক্রি বেশি। এবারও ভালোই কাজ পেয়েছি। স্থানীয় এক নৌকার ক্রেতা জহির মিয়া বলেন, কিছুদিনের টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে কয়েকদিন আগে শুনেছি গোমতী নদীর পানি বাড়ছে। এটা শুনে ২০২৪ সালের আগস্টের বন্যার ভয়াবহতা আর নৌকার অভাবে কষ্টের কথা মনে পড়ে যায়। এ জন্য একটা নৌকার অর্ডার করেছিলাম। আজকে নিতে এসেছি। নৌকার আরেক কারিগর সাদন সূত্রধর বলেন, উপজেলায় কিছু এলাকায় নৌকার প্রয়োজনীয়তা নেই বললেই চলে। তবে ২৪ সালের বন্যায় নৌকা না থাকায় মানুষ অনেক কষ্ট পেয়েছে। ফলে বর্ষা এলেই মানুষ নৌকা কিনছে। তাই নিয়মিত কাজের পাশাপাশি নৌকা তৈরিতে অতিরিক্ত সময় দিতে হচ্ছে।