
লেখক: মো. কামাল উদ্দিন
লেখক, সাংবাদিক, টেলিভিশন উপস্থাপক, গবেষক এবং উপ-সম্পাদক, দ্য ডেইলি ট্যুরিস্ট
বাংলাদেশ আজ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জাতীয় উন্নয়নের এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। অবকাঠামো, যোগাযোগ, প্রযুক্তি ও শিল্পখাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির পাশাপাশি দেশের পর্যটন শিল্পও অর্থনীতির অন্যতম সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন বালুকাময় সমুদ্রসৈকত, বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন, মনোরম পাহাড়, নদ-নদী, দ্বীপ, জলপ্রপাত, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এবং সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অধিকারী বাংলাদেশ পর্যটনের ক্ষেত্রে অপরিসীম সম্ভাবনার দেশ। তবে এই সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ এখনো অনেকটাই বাকি। এই বিপুল সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতামূলক পর্যটন শিল্পে রূপ দিতে প্রয়োজন দূরদর্শী নেতৃত্ব, সুপরিকল্পিত কৌশল, উদ্ভাবনী উদ্যোগ এবং দৃঢ় অঙ্গীকার। এ রূপান্তরের নেতৃত্বে যাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব এবং বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মো. শামীমুজ্জামান। সম্প্রতি তাঁর কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করে দ্য ডেইলি ট্যুরিস্ট-এর পক্ষ থেকে একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার গ্রহণের সৌভাগ্য আমার হয়েছে। লেখক, সাংবাদিক, টেলিভিশন উপস্থাপক, পর্যটন গবেষক এবং পত্রিকাটির উপ-সম্পাদক হিসেবে বাংলাদেশের পর্যটনের সম্ভাবনা, নীতিগত দিকনির্দেশনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগের সুযোগ, পর্যটন গন্তব্যের ব্র্যান্ডিং, টেকসই পর্যটন এবং এ খাত নিয়ে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বিষয়ে তাঁর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করার সুযোগ পাই। মো. শামীমুজ্জামানের সঙ্গে আমার পেশাগত পরিচয়ের সূচনা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালনের সময়। তখন থেকেই তাঁকে আমি একজন অত্যন্ত দক্ষ, সুশৃঙ্খল, সৎ এবং দূরদর্শী সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দেখেছি। সময়ের সঙ্গে তাঁর পেশাদারিত্ব, সততা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং জাতীয় উন্নয়নে নিবেদিত ভূমিকা তাঁকে সর্বমহলে সম্মানিত করেছে। আলোচনায় তিনি বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের ভবিষ্যৎ কেবল অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর নির্ভর করে না; বরং বিশ্বমানের আতিথেয়তা, পর্যটকদের নিরাপত্তা, পরিবেশগত স্থায়িত্ব, ডিজিটাল রূপান্তর, দক্ষ মানবসম্পদ এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সেবাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, পর্যটনকে শুধু বিনোদনের শিল্প হিসেবে নয়, বরং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উন্নয়নের শক্তিশালী চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। তিনি জানান, সরকার দেশের প্রধান পর্যটন গন্তব্যগুলোকে আধুনিকায়ন, আবাসন সুবিধা উন্নয়ন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব জোরদার এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য নতুন ও আকর্ষণীয় পর্যটন পণ্য ও সেবা চালুর লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে কক্সবাজার, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ, পার্বত্য চট্টগ্রাম, সুন্দরবন, কুয়াকাটা, সিলেট, মহেশখালী, সোনাদিয়া দ্বীপ এবং দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের উন্নয়নে। এসব গন্তব্যকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করে বৈশ্বিক পর্যটন বাজারে বাংলাদেশকে একটি প্রতিযোগিতামূলক গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়েই কাজ চলছে। বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণার অভিজ্ঞতা এবং গবেষণাভিত্তিক গ্রন্থ “বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প”–এর লেখক হিসেবে আমি দেশের অসংখ্য পর্যটন কেন্দ্র পরিদর্শন করেছি। মাঠপর্যায়ের গবেষণার অভিজ্ঞতা থেকে আমার দৃঢ় বিশ্বাস, টেকসই পরিকল্পনা, পেশাদার ব্যবস্থাপনা এবং দূরদর্শী নেতৃত্ব অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হতে পারে। সাক্ষাৎকালে আমি দ্য ডেইলি ট্যুরিস্ট-এর কার্যক্রম এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা, গবেষণাভিত্তিক প্রতিবেদন ও গঠনমূলক সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করি। তিনি এ উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান এবং দেশের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরতে পত্রিকাটির ভূমিকার উচ্চ প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দ্য ডেইলি ট্যুরিস্ট তথ্যসমৃদ্ধ ফিচার, গবেষণাভিত্তিক প্রতিবেদন, পর্যটন গন্তব্যের গল্প, বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং উন্নয়নমূলক কার্যক্রম তুলে ধরে পর্যটন সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাঁর বিশ্বাস, ভবিষ্যতেও পত্রিকাটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, টেকসই ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে সরকার, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, বেসরকারি উদ্যোক্তা, গবেষক, গণমাধ্যমকর্মী এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ও সহযোগিতা অপরিহার্য।তাঁর যে বিষয়টি আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে, তা শুধু তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা নয়; বরং তাঁর বিনয়, পরিশীলিত দৃষ্টিভঙ্গি, দূরদর্শী চিন্তাভাবনা এবং গভীর দেশপ্রেম। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে আধুনিক, টেকসই এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত শিল্পে পরিণত করার আন্তরিক প্রত্যয় স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। একজন সাংবাদিক ও পর্যটন গবেষক হিসেবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, পর্যটনের উন্নয়ন শুধু পর্যটক আকর্ষণের বিষয় নয়; এটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, পরিবেশ রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এই যাত্রায় দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্য ডেইলি ট্যুরিস্ট বস্তুনিষ্ঠ, গবেষণানির্ভর এবং উন্নয়নমুখী সাংবাদিকতার মাধ্যমে এ খাতের পাশে থাকার অঙ্গীকার অব্যাহত রাখবে।পর্যটন গবেষণা ও সাংবাদিকতায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে আমি বিশ্বাস করি, মো. শামীমুজ্জামানের গতিশীল নেতৃত্ব, পেশাদারিত্ব, সততা এবং দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন টেকসই পর্যটন উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বিশ্বদরবারে বাংলাদেশকে একটি আকর্ষণীয় ভ্রমণ গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করবে। আমি আন্তরিকভাবে প্রত্যাশা করি, তাঁর দক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। একই সঙ্গে দ্য ডেইলি ট্যুরিস্ট পেশাদারিত্ব, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং নিষ্ঠার সঙ্গে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার এই জাতীয় অভিযাত্রায় সবসময় পাশে থাকবে।