এলএনজি সরবরাহ কমায় দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট

0
46

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ কমে যাওয়ায় সারা দেশে তীব্র গ্যাস-সংকট দেখা দিয়েছে। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এ সংকটে শিল্প-কারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, সিএনজি পরিবহন এবং আবাসিক গ্রাহক—সব খাতেই ভোগান্তি বাড়ছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কম থাকায় রান্নার চুলা জ্বলছে না, আর সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের। রোববার (২ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, গ্যাস নিতে শত শত যানবাহনের দীর্ঘ সারি। চালকদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় গ্যাস না পাওয়ায় আয়-রোজগার কমে গেছে। অন্যদিকে শিল্প-কারখানাগুলোও পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর সেটি বন্ধ রয়েছে। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের সরবরাহ কমে গেছে। বর্তমানে বিদেশি প্রকৌশলীরা টার্মিনালটি মেরামতের কাজ করছেন। তবে এটি পুরোপুরি সচল করতে আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত সময় লাগতে পারে জানানো হয়েছে।  বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে সরবরাহ করা হয় প্রায় ২৬৫ কোটি ঘনফুট। কিন্তু একটি এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় সরবরাহ নেমে এসেছে প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুটে। ফলে গ্যাসের ঘাটতি বেড়ে প্রায় ৪৫ শতাংশে পৌঁছেছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালের অক্ষত বয়লার চালুর চেষ্টা চলছে। এটি চালু করা গেলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট অতিরিক্ত গ্যাস যোগ হবে, যা চলমান সংকট কিছুটা লাঘব করতে পারে। এদিকে গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনও কমে গেছে। ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়েছে। তবে গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিষয়ে বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন ছড়ালেও পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, বর্তমানে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here