চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ মডেল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১৪ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, ২৮ জুলাই ২০২৬ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পাঁচলাইশ থানাধীন মুরাদপুর ১ নম্বর রেলগেট এলাকার পাকা সড়কে মিছিল করার প্রস্তুতিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। পাঁচলাইশ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোজাম্মেল হক ও পরিদর্শক (তদন্ত) অমিতাভ দত্তের নেতৃত্বে এসআই মো. সাজ্জাদ হোসেনসহ পুলিশের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে। এসময় মিছিলের প্রস্তুতি নেওয়া অবস্থায় মো. কামরুল হাসান, হুমায়ুন কবির, মো. ইমরান হোসেন, নাজমুস সালেহীন নাঈম, মো. এমরান হোসেন, তানিম হাসান, মেহেদী হাসান শুভ, মো. ফরহাদ উল্ল্যাহ, মো. আরাফাত, মো. ইফাত রহমান, মো. পারভেজ, মো. হায়দার, মো. নয়ন হোসেন ইমন ও মো. আব্দুল্লাহ আরমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ মডেল থানায় ২৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে একটি মামলা করা হয়েছে। মামলাটি সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯-এর সংশোধিত বিভিন্ন ধারায় দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিদের যথাযথ আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
একজন মহান ভাষাবিজ্ঞানীর স্মৃতিতে অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান—আমার লেখকজীবনের এক অমলিন আলোকবর্তিকা
কিছু মানুষ তাঁদের কর্ম দিয়ে শুধু একটি সময়কে সমৃদ্ধ করেন না, তাঁরা পরবর্তী প্রজন্মের চিন্তা, চেতনা ও সৃষ্টিশীলতার ভিতও নির্মাণ করে যান। তাঁদের চলে যাওয়া তাই নিছক একজন মানুষের প্রস্থান নয়; এটি জ্ঞান, মনন ও প্রজ্ঞার এক উজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান। কিন্তু তাঁদের সৃষ্টিকর্ম, উচ্চারণ ও ভালোবাসার স্মৃতি থেকে যায়—প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। আজ ২৭ আগস্ট—শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামানের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি বাংলা ভাষা, সাহিত্য, লোকসংস্কৃতি ও ভাষাবিজ্ঞানের এই বরেণ্য মনীষীকে। তিনি ছিলেন শুধু একজন ভাষাবিজ্ঞানী নন; তিনি ছিলেন শিক্ষক, গবেষক, সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক এবং বাংলা ভাষার নিবেদিতপ্রাণ সাধক। তাঁর দীর্ঘ জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও সাহিত্যকর্ম বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির জগতে একটি সমৃদ্ধ উত্তরাধিকার রেখে গেছে। তবে তাঁর সঙ্গে আমার সম্পর্কের জায়গাটি আমার কাছে আরও ব্যক্তিগত, আরও আবেগের এবং আরও স্মৃতিময়। কারণ আমার লেখকজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তিনি আমার মতো একজন সাধারণ লেখকের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, আমার লেখাকে মূল্যায়ন করেছিলেন এবং তাঁর মূল্যবান কথায় আমাকে নতুন করে লেখার সাহস জুগিয়েছিলেন।
‘নারী কথা’ ও মনিরুজ্জামান স্যারের সেই ঐতিহাসিক মূল্যায়ন ২০০৯ সাল। আমার লেখকজীবনের একটি স্মরণীয় সময়। সে সময় আমার লেখা দুটি বই একই সঙ্গে শৈলী প্রকাশন থেকে প্রকাশিত হয়েছিল—‘নারী কথা’ এবং ‘টক টক কথা’। এর মধ্যে ‘নারী কথা’ আমার কাছে শুধু একটি বই নয়; নারীজীবন, নারীর অধিকার, সমাজের বাস্তবতা ও নারীর প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আমার ভাবনা ও পর্যবেক্ষণের একটি প্রকাশ ছিল। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘নারী কথা’ বইয়ের প্রকাশনা উৎসব। সেই অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের অন্যতম বরেণ্য ভাষাবিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান। একজন সাধারণ লেখক হিসেবে আমার জন্য সেটি ছিল এক বিরাট সম্মানের মুহূর্ত। একদিকে একজন নবীন লেখকের বই, অন্যদিকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য গবেষণার একজন প্রতিষ্ঠিত মহীরুহ। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর মূল্যায়নের প্রতি আমার ছিল গভীর আগ্রহ ও কৌতূহল।কিন্তু সেদিন তিনি যা বলেছিলেন, তা আমার প্রত্যাশার সীমাকেও অতিক্রম করেছিল। তিনি আমার লেখাকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে আমাকে ‘অসাধারণ লেখক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। আজও সেই শব্দগুলো আমার কাছে শুধু প্রশংসা নয়—একটি দায়িত্ব, একটি বিশ্বাস এবং একটি অনুপ্রেরণার নাম। একজন বড় মাপের ভাষাবিজ্ঞানী যখন একজন সাধারণ লেখকের সৃষ্টিকে এভাবে মূল্যায়ন করেন, তখন সেই প্রশংসা ব্যক্তিগত আনন্দের সীমায় থাকে না; তা হয়ে ওঠে লেখকজীবনের এক অমূল্য প্রেরণার উৎস। আমি আজও মনে করি, সেদিন ড. মনিরুজ্জামান শুধু আমার বইয়ের আলোচনা করেননি—তিনি একজন লেখকের আত্মবিশ্বাসকে স্পর্শ করেছিলেন। তাঁর একটি প্রশংসা—আমার কাছে আজও অমূল্য সম্পদ জীবনে অনেক প্রশংসা পাওয়া যায়, অনেক কথা শোনা যায়। সময়ের সঙ্গে সেসব কথার অধিকাংশই হারিয়ে যায়। কিন্তু কিছু কথা হৃদয়ে স্থায়ীভাবে বসে যায়। ড. মনিরুজ্জামান স্যারের সেই মূল্যায়ন আমার কাছে ঠিক তেমনই। আমি পেশায় সাংবাদিকতা করেছি, লিখেছি, গবেষণা করেছি, নানা বিষয়ে বই প্রকাশ করেছি; কিন্তু আমার লেখকজীবনের বহু অর্জনের ভিড়েও তাঁর সেই মূল্যায়নের স্মৃতি আজও আলাদা আলোয় জ্বলজ্বল করে। কারণ প্রশংসাটি এসেছিল এমন একজন মানুষের কাছ থেকে, যিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গভীরতর জগতের একজন প্রতিষ্ঠিত গবেষক ও ভাষাবিজ্ঞানী। তাঁর মতো একজন মনীষীর মুখে আমার মতো একজন সাধারণ লেখকের জন্য এমন মূল্যায়ন—এটি আমার কাছে নিঃসন্দেহে এক বিরল সৌভাগ্য। শুধু মঞ্চে নয়—দৈনিক আজাদীর পাতায়ও তিনি আমাকে মূল্যায়ন করেছিলেন ড. মনিরুজ্জামানের সঙ্গে আমার সেই স্মৃতি আরও গভীর হয়ে আছে আরেকটি কারণে। ‘নারী কথা’ প্রকাশনা অনুষ্ঠানে আলোচনার পাশাপাশি তিনি আমার বই ও লেখালেখিকে নিয়ে দৈনিক আজাদী পত্রিকায় একটি দীর্ঘ প্রবন্ধ লিখেছিলেন। একজন প্রতিষ্ঠিত ভাষাবিজ্ঞানী একজন সাধারণ লেখকের বই নিয়ে সংবাদপত্রে বড় পরিসরে লিখছেন—এটি আমার জন্য কতটা সম্মানের ও আনন্দের ছিল, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আজ যখন পেছনে ফিরে তাকাই, মনে হয়—সেটি শুধু একটি প্রবন্ধ ছিল না; আমার মতো একজন লেখকের প্রতি একজন মনীষীর আস্থা ও ভালোবাসার একটি দলিল ছিল। সেই সময়ের স্মৃতি আজও আমার লেখকসত্তাকে নাড়া দেয়।
‘টক টক কথা’ এবং আরেক মহান ভাষাবিজ্ঞানী ড. মাহবুবুল হক একই সময়ে প্রকাশিত আমার দ্বিতীয় বই ছিল ‘টক টক কথা’। এই বইকে ঘিরেও আমার জীবনে আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায় তৈরি হয়েছিল। বইটির মূল আলোচক ছিলেন আরেকজন বরেণ্য ভাষাবিজ্ঞানী—অধ্যাপক ড. মাহবুবুল হক। একই সময়ে আমার দুটি বই—একটির আলোচনায় অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান, অন্যটির আলোচনায় অধ্যাপক ড. মাহবুবুল হক। তখন হয়তো বুঝিনি, কিন্তু আজ উপলব্ধি করি—আমার লেখকজীবনের সেই সময়টি ছিল এক অসাধারণ সৌভাগ্যের অধ্যায়। দুই মহান ভাষাবিজ্ঞানীর সান্নিধ্য, তাঁদের মূল্যায়ন এবং তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া উৎসাহ আমার লেখকজীবনের স্মৃতির ভাণ্ডারে আজও সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায়গুলোর একটি। সময় কত নির্মম! আজ সেই স্মৃতিগুলো মনে করতে গিয়ে হৃদয়ের ভেতর এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়। যাঁদের সামনে বসে কথা শুনেছি, যাঁদের কণ্ঠে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গভীর ব্যাখ্যা শুনেছি, যাঁদের কাছ থেকে পেয়েছি উৎসাহ—আজ তাঁরা কেউই আমাদের মাঝে নেই। অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। আজ তাঁর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। দুই বছর কেটে গেছে। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়, সময় যেন খুব বেশি দূরে যেতে পারেনি। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সেই অনুষ্ঠান, ‘নারী কথা’ বইয়ের প্রকাশনা, মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি, তাঁর মূল্যায়নের সেই শব্দগুলো—সবকিছু যেন এখনো স্মৃতির পর্দায় জীবন্ত। মানুষের শারীরিক উপস্থিতি হারিয়ে যায়, কিন্তু কিছু মানুষের কণ্ঠস্বর হারায় না। তাঁদের বলা কিছু কথা আমাদের ভেতরে দীর্ঘদিন প্রতিধ্বনিত হতে থাকে।
ড. মনিরুজ্জামান স্যারের সেই প্রশংসার কথাও আমার কাছে তেমনই এক অমলিন প্রতিধ্বনি।
একজন লেখকের কাছে একজন শিক্ষকের মূল্যায়ন
একজন লেখকের জীবনে পাঠক গুরুত্বপূর্ণ, প্রকাশক গুরুত্বপূর্ণ, সহকর্মী গুরুত্বপূর্ণ—কিন্তু একজন গুণী মানুষের মূল্যায়ন কখনো কখনো তার চেয়েও বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
কারণ সেই মূল্যায়ন লেখককে শুধু আনন্দ দেয় না, তাকে আরও ভালো লেখার দায়িত্বও দেয়।
ড. মনিরুজ্জামান স্যারের সেই মূল্যায়ন আমার কাছে আজও এক ধরনের নৈতিক দায়।
তিনি যখন আমার মতো একজন সাধারণ লেখকের মধ্যে সম্ভাবনা দেখেছিলেন, তখন তাঁর সেই বিশ্বাসকে সম্মান করার জন্য আরও বেশি লিখতে হয়েছে, আরও বেশি পড়তে হয়েছে, আরও গভীরে যেতে হয়েছে।
তাঁর প্রশংসা আমাকে অহংকার শেখায়নি; বরং শিখিয়েছে—একজন লেখকের পথ দীর্ঘ, আর সেই পথের শেষ নেই।
মনিরুজ্জামান স্যার—একটি প্রতিষ্ঠান
ড. মনিরুজ্জামান ছিলেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চার এক অনন্য প্রতিষ্ঠান।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি অসংখ্য শিক্ষার্থীকে শিক্ষা দিয়েছেন। বাংলা বিভাগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের নেতৃত্ব, কলা অনুষদের ডিনের দায়িত্ব, নজরুল ইনস্টিটিউটের পরিচালকসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে তিনি তাঁর বহুমাত্রিক প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন।
ভাষা, সাহিত্য ও লোকসংস্কৃতি নিয়ে তাঁর বিপুল গবেষণা ও প্রকাশনা বাংলা জ্ঞানচর্চাকে সমৃদ্ধ করেছে।
তাঁর প্রায় ৩৫টি গ্রন্থ এবং শতাধিক গবেষণাপ্রবন্ধ তাঁর দীর্ঘ সৃষ্টিশীল সাধনার সাক্ষ্য বহন করে।
*‘ভাষা ও সাহিত্য সাধনা’, ‘উপভাষা চর্চার ভূমিকা’, ‘বর্ণে বর্ণে নজরুল’, ‘ভাষা সমস্যা ও অন্যান্য প্রসঙ্গ’, ‘ভাষাতত্ত্ব অনুশীলন’*সহ তাঁর বহু গ্রন্থ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য গবেষণার মূল্যবান সম্পদ।
তাঁর কর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন এবং একুশে পদকেও ভূষিত হন।
কিন্তু একজন মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় শুধু তাঁর পুরস্কারে নয়—তিনি কত মানুষের মনে আলো জ্বালাতে পেরেছেন, তার মধ্যেই তাঁর প্রকৃত মহত্ত্ব।
আমার জীবনে ড. মনিরুজ্জামান তেমনই একজন আলোকবর্তিকা।
শেষ কথায়—শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা
স্যার, আপনি আজ নেই।
কিন্তু আপনার সঙ্গে আমার সেই স্মৃতি আছে।
‘নারী কথা’ বইয়ের সেই প্রকাশনা উৎসব আছে।
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সেই মঞ্চ আছে।
আপনার কণ্ঠে উচ্চারিত সেই প্রশংসার শব্দ আছে।
দৈনিক আজাদীর পাতায় আমার বই ও লেখালেখিকে নিয়ে আপনার লেখা সেই মূল্যবান প্রবন্ধের স্মৃতি আছে।
আর আছে একজন সাধারণ লেখকের হৃদয়ের গভীরে একজন মহান মানুষের প্রতি অসীম কৃতজ্ঞতা।
আজ আপনাকে স্মরণ করতে গিয়ে মনে হচ্ছে—মানুষের মৃত্যু হয়, কিন্তু মানুষের দেওয়া অনুপ্রেরণার মৃত্যু হয় না।
আপনি আমার জীবনে যে সামান্য আলো জ্বেলে দিয়েছিলেন, সেই আলো হয়তো আপনার কাছে ছিল একটি মুহূর্তের উচ্চারণ; কিন্তু আমার কাছে সেটি আজও দীর্ঘ লেখকজীবনের এক উজ্জ্বল প্রদীপ।
আজ একই সঙ্গে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি আরেক মহান ভাষাবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. মাহবুবুল হককে—যিনি আমার ‘টক টক কথা’ বইয়ের আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন। সময়ের নির্মমতায় আজ দুই মহান ভাষাবিজ্ঞানীই আমাদের মাঝে নেই।
তবু তাঁরা হারিয়ে যাননি।
বাংলা ভাষার প্রতিটি শুদ্ধ উচ্চারণে, গবেষণার প্রতিটি পাতায়, সাহিত্যের প্রতিটি আলোকিত বাক্যে এবং তাঁদের স্পর্শ পাওয়া মানুষের স্মৃতিতে তাঁরা বেঁচে থাকবেন।
অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান স্যারের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা ও গভীর কৃতজ্ঞতা।
হে মহান আল্লাহ, আমার শ্রদ্ধেয় দুই শিক্ষকতুল্য মনীষী—অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান ও অধ্যাপক ড. মাহবুবুল হককে ক্ষমা করুন, তাঁদের কবরকে নূরে ভরে দিন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।
— মো. কামাল উদ্দিন
লেখক, সাংবাদিক ও গবেষক
ফিফা কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার স্বীকারোক্তি, বিশ্বকাপের পর নতুন করে বিতর্ক
বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পরও ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগের আলোচনা থামছে না। এর মধ্যেই নতুন করে বিস্ফোরক তথ্য সামনে এসেছে। বিভিন্ন ফুটবল ম্যাচ ও টুর্নামেন্টের সম্প্রচার স্বত্ব পেতে ফিফার কর্মকর্তাদের বিপুল অঙ্কের ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন আর্জেন্টিনার দুই ক্রীড়া বিপণন ব্যবসায়ী। বুয়েনস এইরেস টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্জেন্টিনার স্পোর্টস মার্কেটিং প্রতিষ্ঠান ফুল প্লের মালিক হুগো জিনকিস ও তার ছেলে মারিয়ানো জিনকিস মার্কিন তদন্তকারীদের কাছে ঘুষ দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।২০১৫ সালে ফিফাকে ঘিরে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল। অভিযোগ ছিল, অর্থের বিনিময়ে ফিফা, কনকাকাফ ও কনমেবল আয়োজিত বিভিন্ন ম্যাচ ও টুর্নামেন্টের সম্প্রচার স্বত্ব বণ্টনে অনিয়ম করা হয়েছে। ওই বছরের ২৭ মে সুইজারল্যান্ডের জুরিখের একটি পাঁচতারকা হোটেল থেকে মার্কিন বিচার বিভাগের অনুরোধে ফিফার সাতজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী সময়ে দুর্নীতির অভিযোগের জেরে তৎকালীন ফিফা সভাপতি সেপ ব্লাটারও পদ হারান। দীর্ঘদিন ধরে চলা সেই তদন্তে এবার নতুন তথ্য যুক্ত হয়েছে। মার্কিন তদন্তকারীদের কাছে জিনকিস বাবা-ছেলে জানিয়েছেন, ফিফার ম্যাচ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টের আকর্ষণীয় সম্প্রচার স্বত্ব পাওয়ার জন্য তারা কর্মকর্তাদের লাখ লাখ মার্কিন ডলার ঘুষ দিয়েছিলেন। তাদের প্রতিষ্ঠান ফুল প্লে বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব ও কোপা আমেরিকার মতো গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টের সম্প্রচার স্বত্ব পাওয়ার জন্য এসব অর্থ প্রদান করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ঘিরেও বিভিন্ন সময়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে জিনকিসদের এই স্বীকারোক্তি ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার স্বচ্ছতা ও ভাবমূর্তি নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
কিছুটা কমলেও স্বস্তি নেই সবজি ডিমে, বেড়েছে চিনি-আটার দাম
রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে তরিতরকারির দাম কিছুটা কমেছে। বেশ কিছু সবজির কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে। অন্যদিকে ডিমের দামও প্রতি ডজনে ৫ টাকা কমেছে। এর পরও সবজি ও ডিমের দাম বেশিরভাগ ক্রেতার কাছে অসহনীয় পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভোক্তারা। এর মধ্যে নতুন করে তাদের খরচের চাপ বাড়িয়েছে চিনি ও আটার বাড়তি দাম। বাজারে এ দুটি পণ্যের দাম কেজিপ্রতি ৫ টাকা বেড়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবজির বাজারে উত্তাপ আগের চেয়ে কিছুটা কম। বেশিরভাগ সবজি ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। আগে যেখানে পছন্দের সব সবজি ৮০ টাকার ওপরে ছিল। খুচরা পর্যায়ে ঢ্যাঁড়শ, পটোল, চিচিঙ্গা, ঝিঙে, ধুন্দল, মুলার মতো সবজিগুলো ৬০ থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। আর কাঁকরোল, বরবটি, কচুর লতি ও মুখির কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে দাম কমে শসা ৫০ টাকা, চালকুমড়া ৫০ ও লাউয়ের পিস ৭০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। দাম কমে বেগুন, করলার কেজিও ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাকা টমেটোর কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং গাজরের কেজি ১১০ থেকে ১২০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচের দাম আরও কমে ১২০ টাকাতেও বিক্রি হচ্ছে। তরিতরকারি দাম কমলেও এখনো তা কিনে খেতে কষ্ট হচ্ছে বেশিরভাগ মানুষের। গতকাল রাজধানীর শনিরআখড়া বাজারে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মো. ইউসুফ তালুকদার বলেন, সবজির দাম অত্যধিক বেড়েছিল। এখন কিছুটা কমেছে। কিন্তু এটাকে স্বস্তিদায়ক বলা যাবে না। কারণ এখনো ৭০-৮০ টাকার ঘরে রয়েছে দাম। ৫০ টাকায় নেমে এলে সীমিত আয়ের মানুষের কাছে কিছুটা স্বস্তির হতো। দুঃখের বিষয় হচ্ছে, দাম বাড়ার সময় যেভাবে এক লাফে বেড়ে যায়, কমার সময় সেভাবে কমে না। এ বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. রাজীব হোসেন বলেন, সবজির সরবরাহ বাড়ছে। এখন দাম পড়তির দিকে আছে। আবহাওয়া ঠিকঠাক থাকলে দাম আরও কমবে। কাঁচামরিচের দাম অনেক কমে গেছে। আমদানির মরিচ বাজারে ওঠার পর থেকেই দাম কমছে। অন্য তরিতরকারির দামও কমে আসবে, তবে আরেকটু সময় লাগবে। এদিকে, ডিমের বাজার এখনো চড়া। তবে, চলতি সপ্তাহে অনেক বাজারে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম ডজনে ৫ টাকা কমে ১৪৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। আর পাড়া-মহল্লার দোকানে দোকানে আগের মতো ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারিতেও বাজার এখন পড়তির দিকে রয়েছে বলে জানান ডিম ব্যবসায়ীরা। মালিবাগ বাজারের ডিম ব্যবসায়ী মো. শরীফ বলেন, পাইকারিতে ফার্মের বাদামি ডিমের পিস ১১ টাকা ৮০ পয়সা থেকে কমে ১১ টাকা ৪০ পয়সা হয়েছে। নতুন দামে কেনা ডিমের ডজন ১৪৫ টাকায় বিক্রি করা যাচ্ছে। বাজারের এ প্রবণতা বজায় থাকলে ডজন ১৪০ টাকা বা তার নিচে নেমে আসবে। মুরগির বাজারে ব্রয়লার মুরগির কেজি আগের মতোই ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এখনো অনেকের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। অন্যদিকে, ভোক্তার খরচের চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে আটার বাড়তি দাম। খুচরা বিক্রেতারা জানালেন, প্যাকেটজাত আটার কেজি বর্তমানে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। আগে যা ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হতো। একইভাবে ময়দার দামও বেড়েছে। ময়দার এক কেজির প্যাকেট এখন ৭০ থেকে ৭৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আগে যা ছিল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা। এর মধ্যে চিনির বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মাঝে দাম বাড়ার পর কিছুটা কমে গিয়েছিল। এখন তা আবার বাড়তে শুরু করেছে। বাজারে এখন খোলা চিনির কেজি ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হঠাৎ দাম অত্যধিক বাড়ায় অনেক দোকানে আবার খোলা চিনি বিক্রি বন্ধ রেখেছেন খুচরা বিক্রেতারা। কদমতলী এলাকার মুদিপণ্য ব্যবসায়ী মো. মিলন হোসেন বলেন, পাইকারিতে চিনির সরবরাহ ওঠানামা করায় বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ১০৫ টাকা কেজি থেকে দাম বেড়ে ১১০ টাকা, পরে ১১৫ টাকা হয়েছে। এখন ১২০ টাকাতেও বিক্রি হচ্ছে। অস্বাভাবিকভাবে দাম বাড়ায় অনেক দোকানি চিনি বিক্রিই বন্ধ রেখেছেন। কখন কোন মোবাইল কোর্ট এসে মামলা করে দেয় এই ভয়ে। এদিকে কোম্পানিগুলো চিনির প্যাকেট সরবরাহ প্রায় বন্ধই করে দিয়েছে। তারাও দাম বাড়াবে বলে জানিয়েছে। অনেক দোকানে প্যাকেটজাত চিনি নেই। ক্রেতারা চাইলে তাদের ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। আটা-চিনির পাশাপাশি ভোজ্যতেলেও হোঁচট খাচ্ছেন ভোক্তারা। কোথাও কোথাও খোলা সয়াবিনের দাম বেড়েছে। বোতলজাত সয়াবিনের দাম না বাড়লেও দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি হিসেবে বোতলের সরবরাহ কমিয়েছে কোম্পানিগুলো। কথা হলে নিউমার্কেট বনলতা বাজারের খুচরা বিক্রেতা আলী আজগর বলেন, দাম না বাড়লেও তীর ও রুপচাঁদা বোতল সরবরাহ করা হচ্ছে না। অন্যরাও কমিয়েছে। অপরদিকে খোলা তেলের দাম বেড়েছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা পর্যায়ে কোথাও কোথাও খোলা পাম অয়েলের লিটার এখন ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ১৬৫ টাকা ছিল। অপরদিকে খোলা সয়াবিনের লিটার ১৯২ থেকে ১৯৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হয়। পাইকারিতে দাম বেড়ে যাওয়ায় খুচরাতেও দাম বাড়াতে হয়েছে খুচরা বিক্রেতাদের। এখনো বোতলজাত তেলের দাম বাড়েনি। খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, কোম্পানিগুলো দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি হিসেবে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। ফলে অনেক দোকানেই চাহিদা অনুযায়ী বোতলজাত তেল মিলছে না।
আমি নিজেই মদ খেয়েছি, থানায় এসে বললেন সেই তরুণী
রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে মধ্যরাতে মোটরসাইকেলে দুই যুবকের মাঝে বসা যে তরুণীকে ‘নিথর’ অবস্থায় দেখা যায়, তিনি নিজেই মদ্যপ অবস্থায় থাকার কথা জানিয়েছেন। শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরের পর টঙ্গী পশ্চিম থানায় পুলিশের মুখোমুখি হওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। ওই তরুণী বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি নিজেই মদ খেয়েছি। কেউ তো খাওয়ায় দেয় নাই। ওই লোকগুলো (বাইকের) আসছে আমাকে সাহায্য করতে।’ এ দিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওই তরুণীকে তার বোনের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। একই সঙ্গে ভাইরাল ভিডিওতে থাকা মোটরসাইকেলের দুই আরোহীকে শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা চলছে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধ (উত্তর) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘আমরা মেয়েটিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে, পারিবারিকভাবে বিভিন্ন সমস্যায় মানসিক চাপে ছিল। সে নিজ বাড়িতে গিয়ে মদ পান করে।’তিনি আরও বলেন, ‘পরবর্তীতে মদ্যপ অবস্থায় ওই তরুণদের সঙ্গে যায়। আমরা মোটরসাইকেলে থাকা দুইজনকে খুঁজছি। তারা হয়তো ভয়ে সামনে আসছে না। তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’ ডিসি শফিকুল ইসলাম আরও জানান, তরুণীটিকে আপাতত তার বোনের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে মোটরসাইকেল আরোহী দুই ব্যক্তিকে শনাক্ত করে তাদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ। এদিকে জিজ্ঞাসাবাদে ওই তরুণী পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। তার দাবি, তিনি পারিবারিকভাবে বিভিন্ন সমস্যার কারণে মানসিক চাপে ছিলেন। সেই মানসিক অশান্তি থেকেই তিনি নিজ বাড়িতে গিয়ে মদ পান করেন। পরে মদ্যপ অবস্থায় অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। তরুণীর ভাষ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তিকে তিনি তার চাচা হিসেবে চিনতেন। অচেতন হয়ে পড়ার পর তাদের দেখতে পেয়ে তিনি তাদের ফোন করেন। ফোন পেয়ে ওই দুই ব্যক্তি এসে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যান বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বর্তমানে টঙ্গীতে থাকেন বলেও জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়া তার একাধিক বিয়ের তথ্যকে তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। তরুণীর দাবি, তার সাবেক স্বামী শাহরিয়ার তাকে বিপদে ফেলতে বিভিন্ন মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন। এসব কারণে তিনি মানসিকভাবে অশান্তিতে ছিলেন বলেও গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে দাবি করেন। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মোটরসাইকেলের মাঝখানে এক তরুণীকে অনেকটা নিস্তেজ অবস্থায় বসিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকে ওই তরুণীকে মৃত কিংবা গুরুতর অসুস্থ বলে ধারণা করে বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্য করেন। পরে জানা যায়, তরুণীটি জীবিত এবং বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের দাবি ছড়িয়ে পড়লেও সেগুলোর সবকটির সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। বিশেষ করে তরুণীকে কেন ওই অবস্থায় মোটরসাইকেলে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি কারা, তারা কোথা থেকে তাকে নিয়ে যাত্রা করেছিলেন এবং ঠিক কী পরিস্থিতিতে তরুণীটি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন- এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ ভাইরাল ভিডিওতে থাকা মোটরসাইকেলটির নম্বর শনাক্ত করেছে। মোটরসাইকেলটির মালিক ও দুই আরোহীর পরিচয় নিশ্চিত করে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা চলছে। টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, মোটরসাইকেলের মালিকানা, ভিডিওর উৎস, ঘটনাস্থলের তথ্য এবং অন্যান্য বিষয় যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তরুণীটি যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার সঙ্গে ভাইরাল ভিডিওকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন দাবির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ফলে তদন্তে এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তির বক্তব্য। তাদের শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে ওই রাতের ঘটনার বিষয়ে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ। এদিকে তরুণীটি বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন এবং তাকে তার বোনের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনার সঙ্গে কোনো অপরাধের যোগসূত্র রয়েছে কি না, নাকি এটি অসুস্থ অবস্থায় একজন তরুণীকে উদ্ধারের ঘটনা- তা নিশ্চিত হতে পুলিশের তদন্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
বিদ্রোহের কবি নজরুল—মানবতার চিরন্তন আলো নজরুল বর্ষ উদযাপনে চট্টগ্রামে বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের শ্রদ্ধাঞ্জলি
চট্টগ্রাম, ২৭ আগস্ট ২০২৬:
বিদ্রোহ, সাম্য, প্রেম ও মানবতার অমর কবি, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করেছে বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম। জাতীয় কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঘোষিত ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনের অংশ হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক ডিসি হিলের নজরুল স্মৃতি ফলকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের মহাসচিব মো. কামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে সংগঠনের সদস্য, সাংবাদিক, কবি, সাহিত্যিক, সংস্কৃতিকর্মী ও নজরুলপ্রেমীরা নজরুল স্মৃতি ফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হয় সেই মহান কবিকে, যাঁর কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছিল শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, সাম্যের আহ্বান এবং মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসার অমর বাণী। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও কবিতার আড্ডা। এতে বক্তারা বলেন, নজরুল কেবল বিদ্রোহের কবি নন—তিনি ছিলেন মানবমুক্তি, অসাম্প্রদায়িকতা, সাম্য ও সম্প্রীতির কবি। তাঁর সাহিত্য আজও অন্যায়, বৈষম্য, সাম্প্রদায়িকতা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে মানুষকে সাহসী হতে অনুপ্রাণিত করে। তাঁর কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় আজও জ্বালিয়ে রাখে স্বাধীনতা ও মানবতার দীপশিখা। আলোচনা পর্বে নজরুলের সাহিত্য, দর্শন, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও বাঙালির সাংস্কৃতিক জীবনে তাঁর অবদান নিয়ে বক্তব্য রাখেন উপস্থিত কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মীরা। পরে নজরুলের কবিতা আবৃত্তি, স্মৃতিচারণ ও সাহিত্য-আড্ডার মধ্য দিয়ে আয়োজনটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক মহসিন কাজী, ইতিহাসবিদ সোহেল মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন, লেখক হানিফ মান্নান, সাংস্কৃতিক নেতা সজল দাশ, মোহাম্মদ রোখন উদ্দিন, হামিদ হোসাইন, মুজিব রহমান চৌধুরী, মোহাম্মদ রাকিবসহ বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের নেতৃবৃন্দ, সদস্য ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নজরুলপ্রেমী মানুষ। বক্তারা বলেন, সময় বদলায়, প্রজন্ম বদলায়, কিন্তু নজরুলের সৃষ্টি ও চেতনার মৃত্যু নেই। তাঁর ‘অগ্নিবীণা’র আগুন আজও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা, তাঁর প্রেমের কবিতা আজও হৃদয়ে জাগায় ভালোবাসা, আর তাঁর সাম্যের দর্শন আজও মানবসমাজকে দেখায় বৈষম্যহীন পৃথিবীর স্বপ্ন। মহাসচিব মো. কামাল উদ্দিন বলেন, “নজরুল আমাদের কাছে শুধু একজন কবি নন; তিনি আমাদের বিবেক, প্রতিবাদ ও মানবতার প্রতীক। তাঁর সাহিত্য নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং নজরুলের অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক চেতনাকে সমাজে ছড়িয়ে দেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। নজরুল বর্ষে আমরা সেই দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার করছি।” নজরুল স্মৃতি ফলকে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদন। তবে কবিতা, আলোচনা ও স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে যেন আবারও উচ্চারিত হলো—নজরুলের মৃত্যু নেই; তিনি বেঁচে আছেন মানুষের অধিকার, সাম্য, প্রেম ও মুক্তির প্রতিটি উচ্চারণে।
পারল না ভারত, দিনুশা-বীরত্বে কলম্বো টেস্ট বাঁচাল শ্রীলঙ্কা
আবারও নিজের জাত চেনালেন সুনাল দিনুশা। ভারতের বিপক্ষে কলম্বো টেস্টের প্রথম ইনিংসে ঠিক আগের দিন দলের বিপর্যয়ে সেঞ্চুরি করেছিলেন। তবে তারপরও ফলোঅন এড়াতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। এবার চরম প্রতিকূল অবস্থায় নেমে অসাধারণ বীরত্বপূর্ণ আরেক ইনিংস খেললেন তিনি। পঞ্চম দিনের উইকেটে ভারতীয় বোলারদের হতাশায় পুড়িয়ে জোড়া সেঞ্চুরিতে ম্যাচ বাঁচিয়েছেন পঞ্চম টেস্ট খেলতে নামা বাঁহাতি ব্যাটার। কলম্বো টেস্টের পঞ্চম দিনে হাতে শেষ চার উইকেট নিয়ে নেমেও অলআউট হয়নি শ্রীলঙ্কা। দিনের শেষ ঘণ্টায় গিয়ে ৯ উইকেটে ৪২৯ রান তোলার পর ড্র মেনে নেয় দুই দল। ফলোঅনে পড়ে ততক্ষণে ২১৬ রানের লিড নিয়ে নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। তখন দিনের খেলার বাকি আর ১৫ ওভার। ওই সময়ের ভেতর ফল বের করা অসম্ভব জেনে আর খেলা চালানোর দরকার মনে করেনি দুই দল। প্রথম ইনিংসে ১০৩ রান করা দিনুশা দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত থাকেন ১৩৩ রানে। এছাড়া টপ অর্ডারে পাসিন্দু সুরিয়াবান্দারা আগের দিন করেছিলেন ৯২ রান, কামিন্দু মেন্ডিসের ব্যাট থেকে আসে ৫৫ রান। শেষ দিনে দিনুশার সঙ্গে অসামান্য ৫৭ রানের জুটিতে সঙ্গ দেওয়া কেশরা নুয়ানিতা করেন ৪৬ রান। লাহিরু কুমারা ৫৮ রানের জুটিতে সঙ্গ দেন দিনুশাকে, ৫৮ বল সামলে করেন ২ রান। প্রথম ইনিংসে ভারতের ৫০৩ রানের জবাবে ২৯০ রানে অলআউট হয়ে ফলোঅনে পড়ে শ্রীলঙ্কা। সাম্প্রতিক সময়ে ফলোঅন করানো থেকে দূরে থাকে দলগুলো। কিন্তু ভারত এবার ফলোঅন করিয়ে আবার লঙ্কানদের ব্যাট করতে দিয়ে ফল বের করতে পারেনি। বরং লম্বা স্পেলে ক্লান্ত হয়ে পড়েন মোহাম্মদ সিরাজ, প্রসিধ কৃষ্ণ, রবীন্দ্র জাদেজারা।এই টেস্ট ড্র হলেও গল টেস্টে বড় জয়ে সিরিজ নিশ্চিত করেছে ভারত। তবে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে যাওয়ার দৌড়ে এই ম্যাচ জিততে না পারায় আগামীতে বেশ ভালোভাবেই ভোগাতে পারে গিল-রাহুলদের।
সন্ত্রাসীদের সঙ্গে পুলিশের গোলাগুলি, অস্ত্রসহ কালা মোবারক গ্রেপ্তার
ফটিকছড়িতে পুলিশের সঙ্গে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গোলাগুলির পর একাধিক হত্যা মামলার আসামি মুহাম্মদ মোবারক হোসেন ওরফে কালা মোবারক ওরফে গলাকাটা মোবারকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ৪টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২৩ রাউন্ড গুলি ও ৩টি ম্যাগাজিনসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোরে উপজেলার লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর পল্লানপাড়া এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। পুলিশের দাবি, তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে অস্ত্রধারীরা গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। গ্রেপ্তার অন্য তিনজন হলেন ফটিকছড়ির শাহনগরের মোহাম্মদ রাইহান ওরফে রায়হান (৪০), মো. ফরিদ (৫০) ও মো. নাছির (৫২)। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার মোবারক বড় সাজ্জাদ বাহিনীর প্রধান শুটার। তিনি বাহিনীর শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ও রায়হানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলেও দাবি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ফটিকছড়ির জামাল ও সাদ্দাম হত্যা, রাউজানের মাসুদ হত্যা এবং নগরের সরোয়ার বাবলা হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। পুলিশ জানায়, গত ১৩ জুন পাহাড়তলী এলাকায় মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। ওই মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের পর মোবারকের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। অভিযানে উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একটি ৯ এমএম বিদেশি পিস্তল, একটি ৭.৬৫ এমএম বিদেশি পিস্তল, একটি বিদেশি রিভলবার ও একটি দেশীয় পিস্তল। এর মধ্যে ৯ এমএম পিস্তলটি ব্রাজিলের তৈরি, ৭.৬৫ এমএম পিস্তলটি ইতালির এবং রিভলবারটি পাকিস্তানের তৈরি বলে জানিয়েছে পুলিশ। এছাড়া ৯ এমএমের ১৮ রাউন্ড ও ৭.৬৫ এমএমের পাঁচ রাউন্ড গুলি, ৩টি ম্যাগাজিন, ৩টি পিস্তলের গুলির খোসা এবং চারটি শটগানের গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, উদ্ধার হওয়া ৯ এমএম ‘তরাস’ পিস্তলটি প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার লুট হওয়া সরকারি অস্ত্র বলে ধারণা করা হচ্ছে। অস্ত্রটি কীভাবে অপরাধীদের হাতে পৌঁছেছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে অস্ত্রসহ সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন। উদ্ধার অস্ত্রের উৎস, এসব অস্ত্রের মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধ এবং গ্রেপ্তারদের সঙ্গে বিভিন্ন সন্ত্রাসী চক্রের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করব: রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাষ্ট্রীয় দায়িত্বপালন ও রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পূর্ণ দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করবেন তিনি। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের আগে আমি দল, সংসদ ও মন্ত্রীপরিষদ থেকে পদত্যাগ করে এসেছি। আমি এখন সম্পূর্ণভাবে একজন দলনিরপেক্ষ মানুষ। দলনিরপেক্ষভাবেই আমি আমার দায়িত্বপালন করে যাবো।’ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বঙ্গভবনের দরবার হলে সকাল সাড়ে ১১টায় বঙ্গভবনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতির প্রথম দরবারে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর কারো প্রতি আমার কোনো রাগ-অনুরাগ থাকবে না। দেশ, রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থই হবে আমার একমাত্র লক্ষ্য।’ তিনি যে কোনো পরিস্থিতিতে জনগণের আস্থা অর্জন, সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিতের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও আনুগত্য রাখতে হবে।’ এসময় তিনি বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও সততার সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তিনি বঙ্গভবনের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরে বলেন, ‘বঙ্গভবন হলো রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। এর মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।’ রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ‘বঙ্গভবনের দৈনন্দিন কার্যক্রম এবং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত-সংক্রান্ত সব বিষয় অত্যন্ত কঠোরভাবে গোপনীয়তা বজায় রেখে পরিচালনা করতে হবে, যাতে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়।’ এসময় তিনি রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী ও দায়িত্বশীল এবং অপচয় রোধের আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘দেশের জনগণের অর্থেই সরকারি সম্পদ এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পরিচালিত হয়। তাই এসব সম্পদের সঠিক, দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।’ তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজেদের জীবনে শৃঙ্খলা মেনে চলার পাশাপাশি নিয়মিত নৈতিক মনোবল ও সুন্দর চরিত্র গঠনে সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একইসাথে তিনি যুদ্ধপরবর্তী দেশ ও রাষ্ট্রগঠনে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগ ও কৃতিত্ব শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। একইসঙ্গে তিনি পূর্ববর্তী সব রাষ্ট্রপতির কথাও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। বঙ্গভবনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা এখানে একটা পরিবার। সবাই একই জায়গায় কাজ করি। আমরা যখন সুযোগ পাবো, সেই সময় পরস্পরের সঙ্গে কথা বলে সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করবো।’