কর্ণফুলী নদী বাঁচাও আন্দোলন: নদী রক্ষা মানে দেশ রক্ষা

By admin
3 Min Read

সাইফুল ইসলামঃ
পরিবেশবাদী সংগঠন এ্যাড ভিশন বাংলাদেশ এর কর্নধার মাসুদ রানর নেতৃত্বে  “রক্ষা করো নদী, রক্ষা করো পৃথিবী—নদী বাঁচান, দেশ বাঁচান।” এই অঙ্গীকারের স্লোগানকে সামনে রেখে গতকাল ২৭ শে সেপ্টেম্বর বিকেল পাঁচটায় চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হলো কর্ণফুলী নদী রক্ষার্থে এক বিশেষ আলোচনা সভা। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সংগঠক সাজেদুল আলম চৌধুরী মিল্টন। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় পরিবেশ ও মানবাধিকার সংগঠনের সম্মানিত চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সাংবাদিক, লেখক ও টেলিভিশন উপস্থাপক মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন। বিশেষ বক্তা ছিলেন মানবাধিকার কর্মী এস এম আজিজ, আইনজীবী ও সংগঠক আশরাফী বিনতে মোতালেব, সমাজকর্মী ও আইনজীবী আব্দুল আলীম চৌধুরী কুসুম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী সংগীতশিল্পী মাসুদ রানা, সংগঠনের জেলা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বাঙালি, মুক্তিযোদ্ধা মোঃ এস এম লিয়াকত হোসেনসহ অসংখ্য পরিবেশপ্রেমী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি। বক্তারা তাদের আলোচনায় তুলে ধরেন, কর্ণফুলী নদী কেবল চট্টগ্রামের জীবনরেখা নয়, সমগ্র বাংলাদেশের অর্থনীতি, পরিবেশ ও সংস্কৃতির অন্যতম ভিত্তি। কিন্তু বর্তমানে দখল, দুষণ, বালু উত্তোলন, শিল্পবর্জ্য ফেলা এবং নদীতীর দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ কর্ণফুলীর অস্তিত্বকে মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। তাদের মতে, এই নদীকে রক্ষা করতে না পারলে চট্টগ্রামের অস্তিত্বও হুমকির মুখে পড়বে। বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখক মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন তার আবেগঘন বক্তব্যে বলেন— “কর্ণফুলী নদী শুধু পানি নয়, এটি ইতিহাস, সংস্কৃতি, বাণিজ্য ও মানুষের জীবন। এ নদীর বুকে একসময় ভেসেছে কবি নজরুলের সুর, সওদাগরের পালতোলা জাহাজ, আর জেলে-শ্রমিকদের গান। আজ দখল-দূষণে কর্ণফুলী দম বন্ধ হয়ে আসছে। নদীর বুক কেটে বালু লুট হচ্ছে, শিল্পকারখানার বর্জ্যে নদীর পানি দূষিত হয়ে পড়ছে। অথচ এই নদীই চট্টগ্রামের শ্বাস-প্রশ্বাস, এই নদীই আমাদের জীবিকার উৎস।” তিনি আরও বলেন— “কর্ণফুলী নদীকে বাঁচানো মানে চট্টগ্রামকে বাঁচানো, চট্টগ্রামকে বাঁচানো মানে বাংলাদেশকে বাঁচানো। তাই আমাদের আন্দোলন হতে হবে সর্বজনীন। নাগরিক সমাজ, শিক্ষার্থী, পরিবেশকর্মী, আইনজীবী, সাংবাদিক—সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আমরা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন, দূষণকারীদের শাস্তি দিন, নদীর প্রবাহকে অবাধ রাখুন। নদী রক্ষা করা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের নৈতিক দায়।” অন্য বক্তারাও বলেন, কর্ণফুলী নদীর উপর নির্ভর করে দেশের বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং অসংখ্য শিল্পকারখানা। কিন্তু যদি নদীর প্রবাহ নষ্ট হয়, পরিবেশের ভারসাম্য ভেঙে পড়বে এবং অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারা দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করেন কর্ণফুলী নদী দখলমুক্ত করতে হবে।শিল্পবর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে হবে। অবৈধ বালু উত্তোলন ও নদীর তলদেশ কাটা অবিলম্বে নিষিদ্ধ করতে হবে। নদীর দুই তীরকে সবুজায়ন ও সৌন্দর্যায়নের মাধ্যমে সংরক্ষণ করতে হবে। নদী রক্ষায় আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়, এই আন্দোলন কেবল আলোচনা সভায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। কর্ণফুলী নদীকে রক্ষার জন্য গণস্বাক্ষর অভিযান, মানববন্ধন, সচেতনতামূলক কর্মশালা এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সবাই একবাক্যে ঘোষণা করেন— “নদী বাঁচাও, দেশ বাঁচাও। কর্ণফুলী বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে।”

Share This Article
Leave a Comment