
সময়ের এক নির্মম বাস্তবতা হলো—যে মানুষ যত বেশি সৎ, তত বেশি তাকে নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। আর যে নেতৃত্ব সংকটকালে দাঁড়িয়ে সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে, তাকে ঘিরেই সবচেয়ে বেশি অপপ্রচার ছড়ানো হয়। চট্টগ্রামের প্রেক্ষাপটে হাসিব আজিজ সেই বাস্তবতারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ। আজ যারা তাঁর বদলিকে ব্যর্থতার গল্প বানাতে চাইছেন, তারা হয়তো ইতিহাসের সেই কঠিন সময়গুলো ভুলে গেছেন—যখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল ভঙ্গুর, পুলিশের মনোবল ছিল ভেঙে পড়া, আর সাধারণ মানুষের আস্থা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। সেই দিশাহারা মুহূর্তে একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেন হাসিব আজিজ। এটি ছিল কেবল একটি প্রশাসনিক নিয়োগ নয়, বরং ছিল একটি ভাঙা কাঠামোকে দাঁড় করানোর চ্যালেঞ্জ। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম যে কাজটি করেছেন, তা হলো—পুলিশ বাহিনীর ভেতরে শৃঙ্খলা ও তৎপরতা ফিরিয়ে আনা। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও প্রভাবশালীদের চাপের মধ্যে থেকে বের হয়ে এসে তিনি আইনকে আইনের জায়গায় দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছেন। এর ফলে শুরু হয় এক নতুন যাত্রা—যেখানে পুলিশ আবার জনগণের বন্ধু হয়ে উঠতে শুরু করে। চট্টগ্রামের মানুষ হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে সব উপলব্ধি করতে পারেনি, কিন্তু বাস্তবতা হলো—একটি বিপর্যস্ত পরিস্থিতি থেকে আইনশৃঙ্খলাকে নিয়ন্ত্রণে আনা কোনো সহজ কাজ নয়। এটি রাতারাতি সম্ভব হয় না; এর জন্য প্রয়োজন দৃঢ়তা, সততা এবং নিরলস পরিশ্রম। সেই তিনটি গুণই হাসিব আজিজের মধ্যে ছিল স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত। বিশেষ করে শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বেপরোয়া ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণে আনার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল অনন্য। এই একটি ক্ষেত্রেই বোঝা যায়—তিনি কেবল দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করেননি, বরং সমস্যার গভীরে গিয়ে সমাধান খুঁজেছেন। তাঁর নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী শুধু অপরাধ দমনেই নয়, নিজেদের হারানো গৌরবও ফিরে পেতে শুরু করে। দীর্ঘদিন ধরে যে বাহিনীটি রাজনৈতিক চাপ ও বিতর্কের কারণে জনআস্থা হারাচ্ছিল, সেই বাহিনীকে তিনি আবার মানুষের আস্থার জায়গায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছেন। এটি কোনো ছোট অর্জন নয়—এটি একটি প্রতিষ্ঠানের পুনর্জাগরণ। এখন প্রশ্ন উঠছে—তাঁর বদলি কি সম্মানহানি? এককথায় উত্তর—না। বরং এটি তাঁর যোগ্যতার স্বীকৃতি। একজন অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার কর্মকর্তা হিসেবে তিনি যে দায়িত্ব পালন করেছেন, সেটিই প্রমাণ করে তাঁর সক্ষমতা কতটা বিস্তৃত। নতুন দায়িত্বে যাওয়া মানেই পিছিয়ে যাওয়া নয়; বরং এটি আরও বড় পরিসরে কাজ করার সুযোগ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—তাঁর এখনো চাকরির বয়স রয়েছে। প্রশাসনিক কাঠামোর বাস্তবতায় তিনি যেকোনো সময় দেশের সর্বোচ্চ পুলিশ পদ—আইজিপি—হিসেবেও দায়িত্ব নিতে পারেন। তাঁর অভিজ্ঞতা, সততা ও সংকট মোকাবেলার দক্ষতা সেই সম্ভাবনাকে আরও বাস্তব করে তোলে। যারা আজ অপপ্রচার চালাচ্ছেন, তাদের উদ্দেশ্যে একটি কথাই বলা যায়—ইতিহাস কখনো অপপ্রচারের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না। ইতিহাস গড়ে ওঠে কাজের ওপর, সততার ওপর, মানুষের জন্য করা ত্যাগের ওপর। হাসিব আজিজ সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। সমালোচনা করা সহজ, কিন্তু সংকটকালে নেতৃত্ব দেওয়া কঠিন। যারা আজ প্রশ্ন তুলছেন, তারা কি সেই সময়ের বাস্তবতা উপলব্ধি করেছেন? তারা কি দেখেছেন—কীভাবে একটি দিশাহারা পুলিশ বাহিনী ধীরে ধীরে সংগঠিত হয়েছে? কীভাবে মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরতে শুরু করেছে? চট্টগ্রামের মানুষ একদিন হয়তো আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করবে—এই সময়টাতে কী ধরনের সংগ্রাম হয়েছিল, এবং সেই সংগ্রামে হাসিব আজিজ কী ভূমিকা রেখেছিলেন। কারণ, সত্য সবসময় সময়ের সঙ্গে স্পষ্ট হয়। পরিশেষে বলা যায়—হাসিব আজিজ কেবল একজন পুলিশ কর্মকর্তা নন; তিনি একটি সময়ের প্রতীক, একটি পুনর্জাগরণের গল্প। তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার সাময়িকভাবে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে, কিন্তু তাঁর কাজই তাঁর আসল পরিচয় হয়ে থাকবে। নেতৃত্বের মূল্যায়ন পদবী দিয়ে হয় না—হয় ইতিহাস দিয়ে। আর সেই ইতিহাসে হাসিব আজিজ একটি দৃঢ়, উজ্জ্বল নাম হয়ে থাকবেন।