
চট্টগ্রাম: পবিত্র মাহে রমজানের আধ্যাত্মিক তাৎপর্য, আত্মশুদ্ধি ও মানবিক মূল্যবোধকে সামনে রেখে রাজধানী টিভি, চট্টগ্রামের উদ্যোগে এক দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৭ মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ রমজান শনিবার নগরীর বহদ্দারহাটস্থ কাশবন রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সাংবাদিক, আইনজীবী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্টজনরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে মাহফিলের কার্যক্রম শুরু হয়। এতে মহান আল্লাহর বাণী স্মরণ করা হয়— “হে ঈমানগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে” (সূরা বাকারা: ১৮৩)। এরপর দেশ, জাতি এবং গণমাধ্যমের কল্যাণ ও অগ্রযাত্রা কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানী টিভি, চট্টগ্রামের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লাভ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট সাংবাদিক মিজানুর রহমান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক, গবেষক ও লেখক মো. কামাল উদ্দিন। অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন অ্যাডভোকেট এম. এন. লোকমান শাহ, এডভোকেট এম এন মোস্তফা নূর, এডভোকেট মোহাম্মদ নুরুল আলম, সাংবাদিক ওসমান জাহাঙ্গীর, সাংবাদিক মনির চৌধুরীসহ গণমাধ্যম ও আইন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা রমজানের শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, পবিত্র রমজান মাস মানুষকে আত্মসংযম, সহমর্মিতা ও ন্যায়নীতির শিক্ষা দেয়। তিনি বলেন, গণমাধ্যম সমাজের আয়না—সাংবাদিকদের দায়িত্ব সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে সমাজকে সঠিক পথ দেখানো। তিনি রাজধানী টিভির এই মহতী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটির উত্তরোত্তর সাফল্য ও অগ্রযাত্রা কামনা করেন। বিশেষ অতিথি সাংবাদিক ও লেখক মো. কামাল উদ্দিন তাঁর বক্তব্যে বলেন, গণমাধ্যম কেবল সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যম নয়; এটি সমাজের বিবেক হিসেবে কাজ করে। সাংবাদিকদের দায়িত্ব সত্য তুলে ধরা এবং মানুষের ন্যায়বিচার ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা। তিনি রাজধানী টিভি চট্টগ্রামের এই আয়োজনকে প্রশংসনীয় উল্লেখ করে বলেন, এমন উদ্যোগ পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ঐক্য ও মানবিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করে।অ্যাডভোকেট এম. এন. লোকমান শাহ তাঁর বক্তব্যে বলেন, রমজান মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে এবং ন্যায় ও সত্যের পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করে। তিনি বলেন, গণমাধ্যম যদি সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কাজ করে, তাহলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। বক্তারা আরও বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীলতা এবং নৈতিকতার চর্চা সমাজকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই সাংবাদিকদের সততা, নিষ্ঠা ও সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে গণমাধ্যমের উন্নতি, দেশের স্থিতিশীলতা এবং মানুষের কল্যাণ কামনা করা হয়। পরে উপস্থিত অতিথি, সাংবাদিক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের অংশগ্রহণে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পুরো আয়োজনটি ছিল আন্তরিকতা, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় ভরপুর এক অনন্য মিলনমেলা।