
-মো.কামাল উদ্দিনঃ
বাংলাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি সারাদেশের সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছে। প্রতি বছর এই উৎসবে লাখো ভক্ত মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড় জমান, পরিবার-পরিজন নিয়ে উপভোগ করেন আনন্দমুখর পরিবেশ। তবে উৎসব আনন্দের সাথে নিরাপত্তার বিষয়টিও সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হয়ে ওঠে। এ বছর সেই উদ্বেগকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তায় রূপ দিয়েছেন সিএমপির পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ সাহেব। দুর্গাপূজায় যেন কোনো ধরনের আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে, পূজার মণ্ডপগুলোতে আগত সনাতন ধর্মপ্রাণ মানুষ যেন নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করতে পারেন—এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে কমিশনার সাহেব শুরু থেকেই দায়িত্বশীল ও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি সরাসরি নগরীর ১৬টি থানার অফিসার ইনচার্জদের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য। প্রয়োজনে থানার অফিস বন্ধ রেখে সরাসরি রাস্তায় দায়িত্ব পালন করতে বলেছেন তিনি। প্রতিটি পূজা মণ্ডপে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে ফুটপাত, প্রবেশ ও প্রস্থান পথেও পুলিশ সদস্যদের অবস্থান নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছেন। তার এই দৃঢ় অবস্থান মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মধ্যে এক নতুন উদ্দীপনা ও দায়িত্ববোধ সৃষ্টি করেছে। চট্টগ্রামসহ নগরীর প্রতিটি থানায় আমরা অনুসন্ধান চালিয়ে জেনেছি, কমিশনার সাহেবের নির্দেশনায় পুলিশের সদস্যরা দিন-রাত নিদ্রাহীনভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান—“আমরা উৎসবের আনন্দে সাধারণ মানুষ যেন নিশ্চিন্তে ঘরে ফিরতে পারে, সেই নিশ্চয়তা দিতেই গতকাল থেকে নিঃশ্বাসহীন সময় পার করছি। পরিবার-পরিজনের সাথে উৎসব উদযাপন করতে পারিনি, তবে মানুষের হাসি আমাদের সবচেয়ে বড় আনন্দ।” পূজার মণ্ডপে ঘুরে দেখা গেছে, ভক্ত ও সাধারণ মানুষ পুলিশের উপস্থিতিতে নিশ্চিন্তভাবে পূজা উদযাপন করছেন। অনেকে জানিয়েছেন, পুলিশের সজাগ দৃষ্টি ও সার্বক্ষণিক টহলের কারণে কোনো আশঙ্কা ছাড়াই তারা উৎসবে অংশ নিচ্ছেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা পুলিশের এই আন্তরিক ভূমিকা ও কমিশনার হাসিব আজিজ সাহেবের উদ্যোগে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেছেন—“এবারের পূজায় আমরা পুলিশের কাছ থেকে যে সহযোগিতা ও সেবা পাচ্ছি তা প্রশংসার যোগ্য। কমিশনার সাহেবের নির্দেশনা সত্যিই আমাদের নিরাপদ অনুভব করাচ্ছে।” শারদীয় দুর্গাপূজা কেবল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নয়, এটি বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যের প্রতীক। তাই এ উৎসবকে ঘিরে সমাজের সব মানুষই সমান আনন্দে মেতে ওঠে। আর এই উৎসবকে নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন রাখতে পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ সাহেব যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা নিঃসন্দেহে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। সিএমপি কমিশনারের দূরদর্শিতা, কঠোর নির্দেশনা ও মাঠপর্যায়ে সরাসরি তদারকি এই বছরের দুর্গাপূজায় নিরাপত্তার নতুন আস্থা তৈরি করেছে। পুলিশের নিঃস্বার্থ পরিশ্রম ও জনগণের পাশে দাঁড়ানোর এই মানসিকতা প্রমাণ করে— বাংলাদেশ পুলিশ কেবল একটি বাহিনী নয়, বরং জনতার প্রকৃত বন্ধু।