মোহাম্মদ ইব্রাহিম :
চট্টগ্রামে ছয় দিন ধরে অব্যাহত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বায়েজিদ-ফৌজদারহাট লিংক রোডে ভূমিধসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে বৃষ্টির ফলে সড়কের এক পাশে পাহাড় থেকে মাটি ও গাছপালা পড়ে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। এতে করে প্রায় ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের এক পাশ পাঁচ দিন ধরে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং বর্তমানে একমুখী যান চলাচল চলছে।
বায়েজিদ লিংক রোডটি চট্টগ্রামের প্রথম বাইপাস সড়ক হিসেবে পরিচিত, যা ঢাকা থেকে আসা যানবাহনকে শহরের মধ্য দিয়ে না গিয়েই রাঙ্গামাটি, রাউজান, কাপ্তাই ও রাঙ্গুনিয়ায় পৌঁছানোর সুযোগ দেয়। সড়কটি ফৌজদারহাট থেকে শুরু হয়ে শেরশাহ এলাকায় শেষ হয় এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ৬ কিলোমিটার। পাহাড় কেটে নির্মিত এই সড়কটি পরিবেশবিদদের উদ্বেগের কারণও হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ খাড়া পাহাড় কাটার ফলে বর্ষাকালে ভূমিধসের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) জানিয়েছে, বৃষ্টির কারণে ভূমিধসের আশঙ্কায় সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। বৃষ্টি থেমে গেলে সড়কটি পুনরায় চালু করা হবে। জেলা প্রশাসনও পাহাড়ে বসবাসরতদের নিরাপত্তার জন্য সরে যাওয়ার অনুরোধ করেছে এবং মাইকিং করেছে।
চট্টগ্রামে অব্যাহত বৃষ্টিপাতের ফলে শুধু বায়েজিদ লিংক রোড নয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের পাহাড়ি এলাকায়ও ভূমিধসের শঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর ২৪ ঘণ্টায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা জানিয়েছে, তবে ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড় ধস ও জলাবদ্ধতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন পাহাড় কাটা ও অবৈধ দখল বন্ধে নানা পদক্ষেপ নিয়েও কার্যকর সমাধান করতে পারেনি। পাহাড় কাটার ফলে ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে এবং নগরীর জলাবদ্ধতার সমস্যা জটিল হচ্ছে। সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদ বিন আনোয়ার জানান, বৃষ্টির অবস্থা বিবেচনায় সড়কটি নিরাপত্তার কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং বৃষ্টি কমলে যান চলাচল স্বাভাবিক হবে।
সার্বিকভাবে, বায়েজিদ লিংক রোডে ভূমিধসের শঙ্কা ও অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে এবং স্থানীয় প্রশাসন ও সিডিএ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।