রাজধানীর প্রগতি সরণির কুড়িল চৌরাস্তা এলাকায় মিছিল থেকে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের এক কর্মীকে আটকের পর পথচারীরা তাকে ছাড়িয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) কুড়িল চৌরাস্তা এলাকায় ছাত্রলীগের একটি মিছিল বের হওয়ার কথা জানা গেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, একদল ব্যক্তি ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় পেছন থেকে কয়েকজন তাদের ধাওয়া করলে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। দৌড়ে পালানোর সময় এক ব্যক্তিকে একজন আটক করেন। পরে কয়েকজন পথচারী তাকে ছাড়িয়ে নিতে এগিয়ে আসেন। তাদের কয়েকজন ওই ব্যক্তিকে নিজেদের এলাকার ছেলে বলে দাবি করেন। ভিডিওতে দেখা ঘটনাটির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ভোটার এলাকা স্থানান্তরের আবেদন প্রক্রিয়া জেনে নিন
স্থানীয় সরকার নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ায় ভোটার এলাকা স্থানান্তরের কার্যক্রম আবারও চালু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ফলে আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে ভোটাররা আগের নিয়মে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কার্যালয়ে আবেদন করে ভোটার এলাকা স্থানান্তর করতে পারবেন। একই সঙ্গে অনলাইন সেবাও পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী নভেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনায় গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ভোটার স্থানান্তর কার্যক্রম বন্ধ রেখেছিল ইসি। তবে নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ায় আবারও এ কার্যক্রম চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত চিঠি দেশের সব উপজেলা ও থানা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে ভোটার স্থানান্তরের আবেদন আগের নিয়মে গ্রহণ, যাচাই-বাছাই এবং নিষ্পত্তি করতে হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় তথ্য হালনাগাদ ও ইস্যুর কার্যক্রমও সম্পন্ন করতে হবে। যেভাবে ভোটার এলাকা স্থানান্তরের আবেদন করবেন ১. সরাসরি আবেদন ভোটাররা উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিস এবং রেজিস্ট্রেশন অফিসারের কার্যালয়ে গিয়ে নির্ধারিত ফরমে সরাসরি আবেদন করতে পারবেন। ২. অনলাইনে আবেদন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের সিস্টেম ম্যানেজারকে ভোটার স্থানান্তরের অনলাইন লিংক সচল করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। অনলাইন সেবা চালু হলে ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও আবেদন করা যাবে। ৩. যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তি আবেদন জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কার্যালয় তথ্য যাচাই-বাছাই করবে। যাচাই শেষে স্থানান্তরের আবেদন নিষ্পত্তি এবং প্রয়োজনীয় তথ্য হালনাগাদ করা হবে। ভোটার স্থানান্তরের পুরো কার্যক্রম সঠিকভাবে তদারক করতে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এবং সিনিয়র জেলা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এদিকে প্রবাসীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটাধিকার নিশ্চিত করে তফসিল ঘোষণার দাবিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে স্মারকলিপি দিয়েছে লেবার পার্টি।
বিশ্ববাজারে কমেছে তেলের দাম
ইরান কূটনৈতিক সমাধানের জন্য প্রস্তুত থাকার ইঙ্গিত দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। বুধবার প্রায় ৪ শতাংশ বাড়ার পর বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) তেলের দরে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যায়। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার দর ৯৪ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ১০২ দশমিক ১৩ ডলারে নেমেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৫৯ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৩৯ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯১ দশমিক ৫৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসানে তারা কূটনৈতিক আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তবে দুই দেশের মধ্যে কীভাবে সেই সমাধানে পৌঁছানো হবে, তা নিয়ে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাতের কারণে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপর প্রভাব ফেলছে।
গুলশানে গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু: ৯ লাখ টাকায় আপস
রাজধানীর বারিধারায় ফুটপাতে বসে থাকা নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মীমকে (২৪) গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার ঘটনায় নিহতের পরিবারের সঙ্গে আসামিপক্ষের ৯ লাখ টাকায় আপস হয়েছে। আপসনামায় বাদীপক্ষ স্বাক্ষর করে জানিয়েছে, আসামি জামিনে মুক্তি পেলে বা খালাস পেলে তাদের কোনো আপত্তি নেই। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদিরের আদালতে আসামিদের হাজির করা হলে আসামিপক্ষের আইনজীবী আলমগীর হোসেন আপসের বিষয়টি আদালতকে জানান।আইনজীবী বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে ৯ লাখ টাকায় আপস হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ওই অর্থ নিহতের পরিবারের সদস্যদের দেওয়া হয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে কোনো ভয়ভীতি বা চাপ প্রয়োগ করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি আরও জানান, নিহত মেহেদী বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী ছিলেন। তার পরিবারের সদস্যদের দেখাশোনার বিষয় বিবেচনা করেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে অর্থ দেওয়া হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে আসামির জামিন বা খালাসের বিষয়ে কোনো আপত্তি নেই বলে আপসনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, আপসের বৈঠক একটি ডেভেলপার কোম্পানির কার্যালয়ে হয়। সেখানে দুই পক্ষের প্রতিনিধি ও নিহতের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। ঘটনাটি ঘটে গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে বারিধারার ১ নম্বর সড়কে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নেওয়ার সময় একটি নীল রঙের প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মেহেদীকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর গাড়ি থেকে কিশোর আজান আলী শরীফ বেরিয়ে আসার ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করলেও প্রথমে মামলায় তার নাম ছিল না। পরে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে বুধবার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। নিহতের ভাই মোক্তাদীর ইসলাম বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা করেন। মামলায় প্রথমে গাড়িচালক আকাশ মারককে আসামি করা হয়। পরে আজানের গাড়ি চালানোর বিষয়টি সামনে আসায় মামলার তদন্ত ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। জানা গেছে, আজান আলী শরীফ গুলশানের একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী। তার বাবা বাংলাদেশ বিমানের পাইলট আব্বাস আলী শরীফ। দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত প্রোটন এস৭০ গাড়িটি তার মা সিগমা আব্বাসের নামে নিবন্ধিত বলে জানা গেছে। এদিকে মামলায় নাম থাকা আকাশ মারক এখনও পলাতক রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
“ঝড়, বিতর্ক ও প্রত্যাবর্তন: কোতোয়ালী পেরিয়ে গুলশানে আবু জায়েদ নাজমুন নূর-একজন পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা প্রশ্নের সবচেয়ে শক্ত জবাব -নতুন দায়িত্ব, নতুন আস্থা, নতুন অধ্যায়””
মো. কামাল উদ্দিনঃ
পুলিশের পোশাক রাষ্ট্রীয় আইন, শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও জনগণের আস্থার প্রতীক। এই দায়িত্বে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের চেয়ে বড় হয়ে ওঠে রাষ্ট্র ও মানুষের প্রতি কর্তব্য। তাই পুলিশের পথ কখনো মসৃণ নয়—প্রশংসার পাশাপাশি সমালোচনা, সাফল্যের পাশাপাশি কঠিন পরিস্থিতির দায়ও থাকে।
একজন কর্মকর্তাকে বিচার করতে হলে একটি ঘটনা, বদলি বা বিতর্ক দিয়ে নয়; তার সামগ্রিক দায়িত্ববোধ, কর্মদক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও পরবর্তী দায়িত্বের ধারাবাহিকতা দিয়ে বিচার করাই যুক্তিসঙ্গত।
এই বাস্তবতায় গুরুত্বপূর্ণ নাম আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূর।
চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহ্যবাহী কোতোয়ালী থানার দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় তিন মাসের মাথায় ২১ সেপ্টেম্বরের পুলিশ সদর দপ্তরের প্রজ্ঞাপনে জনস্বার্থে তাকে ঢাকা মহানগর পুলিশে বদলি করা হয়। পরদিনই নতুন দায়িত্বের দরজা খুলে যায়। ২৩ সেপ্টেম্বর ডিএমপি কমিশনারের আদেশে তাকে গুলশান মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে পদায়ন করা হয়।
তাহলে কোতোয়ালী থেকে ডিএমপিতে বদলি কি ‘অপমানের বদলি’?
প্রশাসনিক বাস্তবতা তা বলে না।
বদলি মানেই শাস্তি নয়
পুলিশ প্রশাসনে বদলি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এক কর্মস্থল থেকে অন্যত্র পাঠানো হলেই সেটিকে শাস্তি, অপমান বা ব্যর্থতার প্রতীক বলা যায় না। আবু জায়েদ নাজমুন নূরের ক্ষেত্রেও চট্টগ্রাম থেকে ডিএমপিতে বদলির পর তাকে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ গুলশান থানার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ কোতোয়ালীর অধ্যায় শেষ হলেও তার পেশাগত যাত্রা থামেনি; বরং নতুন ও আরও সংবেদনশীল দায়িত্বে তা এগিয়েছে।
বিতর্কের চেয়ে বড় দায়িত্ব
একজন ওসির কাজ মামলা নেওয়া বা থানার প্রশাসন পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়। জননিরাপত্তা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, তদন্ত, সামাজিক উত্তেজনা মোকাবিলা এবং নাগরিকদের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক—সবই তাকে সামলাতে হয়। অনেক সময় যে সিদ্ধান্তই নেওয়া হোক, কোনো না কোনো পক্ষ অসন্তুষ্ট হয়। সেখানেই পেশাদারিত্বের পরীক্ষা।
জায়েদ নূরকে ঘিরে অতীতের আলোচনা ও সমালোচনার সবকিছুকে এক কথায় সত্য বা মিথ্যা বলা যায় না। অভিযোগ থাকলে প্রমাণ, তদন্ত ও প্রশাসনিক মূল্যায়নই চূড়ান্ত। তবে একটি বিতর্ক দিয়ে পুরো কর্মজীবনকে সংজ্ঞায়িত করাও ন্যায়সংগত নয়।
কোতোয়ালী থেকে গুলশান
চট্টগ্রামের কোতোয়ালী নগরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ থানা। পুরোনো বাণিজ্যিক এলাকা, আদালতকেন্দ্রিক কার্যক্রম, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিপুল জনসমাগমের কারণে এখানে দায়িত্ব পালন সহজ নয়। সময়টা প্রায় তিন মাস হলেও দায়িত্বের প্রকৃতি তাকে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা দিয়েছে।
সেখান থেকে সরাসরি ডিএমপিতে এসে গুলশান থানার দায়িত্ব পাওয়া তার পেশাগত জীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
গুলশান কূটনৈতিক এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক ও বাণিজ্যিক অঞ্চল এবং রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কারণে অত্যন্ত সংবেদনশীল। এখানে শুধু কঠোরতা নয়, প্রয়োজন বিচক্ষণতা; শুধু আইন প্রয়োগ নয়, তার সঠিক পদ্ধতি; শুধু অপরাধ দমন নয়, নিরপরাধ মানুষের নিরাপত্তা ও মর্যাদাও নিশ্চিত করা জরুরি।
সুতরাং এই দায়িত্ব তার জন্য বড় পেশাগত পরীক্ষা।
মূল্যায়নের মাপকাঠি হবে কাজ
দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবন ও পুলিশ প্রশাসন পর্যবেক্ষণের অভিজ্ঞতা থেকে আমার উপলব্ধি—একজন কর্মকর্তাকে পুরো কর্মজীবন দিয়ে বিচার করতে হয়। একটি ঘটনা দিয়ে কাউকে চূড়ান্তভাবে সংজ্ঞায়িত করা যায় না, একটি বদলি দিয়ে ব্যর্থ বলা যায় না, আবার একটি পদায়ন দিয়েও সবকিছুর ঊর্ধ্বে রাখা যায় না।
চূড়ান্ত মূল্যায়ন হবে তার কাজ, আচরণ, সিদ্ধান্ত ও আইনের প্রতি আনুগত্যে।
গুলশানে আবু জায়েদ নাজমুন নূর যদি নাগরিকবান্ধব পুলিশিং, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত সাড়া, সুষ্ঠু তদন্ত ও জবাবদিহিতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারেন, সেটিই হবে তার পেশাগত সক্ষমতার সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ।
নতুন দায়িত্ব, নতুন সুযোগ
কোনো কর্মকর্তাকে ‘বিতর্কিত’ বলে চিহ্নিত করা সহজ; প্রকৃত মূল্যায়ন কঠিন। কারণ প্রতিদিন তাকে কঠিন ও কখনো অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে হয়। রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে জনপ্রিয়তার চেয়ে আইন, বিধি, দায়িত্ব ও জনস্বার্থই হওয়া উচিত মূল ভিত্তি।
এই দৃষ্টিতে গুলশানের দায়িত্বকে আমি আবু জায়েদ নাজমুন নূরের নিজেকে নতুনভাবে প্রমাণ করার সুযোগ হিসেবে দেখি। তিনি অতীতের আলোচনাকে নয়, অভিজ্ঞতাকে সঙ্গে নিয়ে এগোতে পারেন। প্রমাণ করতে পারেন—একজন পুলিশ কর্মকর্তার পরিচয় কোনো শিরোনামে নয়, তার কর্মে।
এবার গুলশান দেখুক তার পুলিশিং
কোতোয়ালী তাকে রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল পরিবেশ, জনসমাগম, নগর অপরাধ, প্রশাসনিক চাপ ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের বাস্তবতা শিখিয়েছে। এখন সেই অভিজ্ঞতার পরীক্ষা হবে গুলশানে।
গুলশানের মানুষ দেখবে তার পুলিশিং, সহকর্মীরা দেখবেন নেতৃত্ব, ঊর্ধ্বতনরা দেখবেন প্রশাসনিক দক্ষতা। সাধারণ মানুষ দেখবে থানার দরজা কতটা উন্মুক্ত, পুলিশ কত দ্রুত সাড়া দেয় এবং আইন কতটা নিরপেক্ষভাবে প্রয়োগ হয়।
ঝড়ের পর নতুন অধ্যায়
পেশাগত জীবনে সমালোচনা, ভুল বোঝাবুঝি ও বিতর্ক আসতেই পারে। কিন্তু পেশাদারের শক্তি হলো—এসবের মধ্যেও দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত না হওয়া।
কোতোয়ালীর অধ্যায় শেষ হয়েছে, ঢাকা মহানগর পুলিশের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে, আর তার ধারাবাহিকতায় গুলশান থানার দায়িত্ব এসেছে তার কাঁধে।
কোতোয়ালী থেকে গুলশান—এটি কেবল কর্মস্থল পরিবর্তনের গল্প নয়; এটি একজন পুলিশ কর্মকর্তার নতুন করে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ।
সমালোচনা থাকবে, প্রশ্ন থাকবে, নজরদারিও থাকবে। তবে শেষ পর্যন্ত মূল্যায়ন হবে দায়িত্ব পালনের মানে।
ঝড় পেরিয়ে তিনি গুলশানে।
এবার তার কথা বলবে তার কাজ।
ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ, বাতিল ১০৩ অনাপত্তি সনদ
ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। মৎস্য অধিদপ্তরের ইলিশ আমদানির ১০৩টি অনাপত্তি সনদ (এনওসি) বাতিলের পর আমদানির প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর ১০৩টি অনাপত্তি সনদ বাতিল করা হয়। এরপর থেকেই ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ রয়েছে। তবে হঠাৎ করে ইলিশ আমদানি বন্ধের নির্দিষ্ট কারণ মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, আমদানি করা ভারতীয় ইলিশকে দেশীয় বা পদ্মার ইলিশ হিসেবে বিক্রি করে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা, কম মূল্য দেখিয়ে আমদানির মাধ্যমে অর্থ পাচারের সম্ভাবনা এবং দেশীয় ইলিশ উৎপাদনে আগ্রহ বাড়ানোর মতো বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আমদানি নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। এদিকে আকস্মিকভাবে ইলিশ আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন আমদানিকারকেরা। বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, তুলনামূলক বেশি লাভের আশায় সাম্প্রতিক সময়ে ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বেড়ে যায়। আমদানির সময় প্রতি কেজি ইলিশের মূল্য ৪৮ সেন্ট থেকে ২ মার্কিন ডলার পর্যন্ত দেখানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। নির্ধারিত রাজস্ব পরিশোধের পর এসব ইলিশ বন্দর থেকে খালাস করা হয়। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রতি কেজি প্রায় ৫০০ টাকার মধ্যে আমদানি করা ভারতীয় ইলিশ দেশের বাজারে পদ্মার ইলিশ হিসেবে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করা হয়েছে। সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যেও এ নিয়ে বিভ্রান্তির কথা জানা গেছে। ক্রেতা রহিম বলেন, আমদানিকৃত ভারতীয় ইলিশ দেখতে অনেকটা বাংলাদেশের পদ্মার ইলিশের মতো হওয়ায় অনেকে দেশি ইলিশ মনে করে তা কিনে ফেলছেন। স্বাদে পার্থক্য থাকলেও বাহ্যিক মিলের কারণে এ ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে বলে জানান তিনি। বাজার তদারকির সময় চড়া দামে ভারতীয় ইলিশ বিক্রির অভিযোগে কয়েকজন বিক্রেতাকে জরিমানা করার তথ্যও পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, বাজারে ভারতীয় ইলিশের সরবরাহ বাড়লে দেশীয় ইলিশ আহরণে জেলেদের আগ্রহ কমে যেতে পারে। পাশাপাশি বাজারমূল্যের তুলনায় কম দাম দেখিয়ে ইলিশ আমদানি করা হলে ‘আন্ডার ইনভয়েসিং’-এর মাধ্যমে অর্থ পাচারের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে। ইলিশ আমদানিকারক সৈয়েদ মহিদুল হক রুবাই বলেন, হঠাৎ করে আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। আমদানির উদ্দেশ্যে ভারতে কেনা ইলিশ এখন কম দামে ফেরত দিতে হতে পারে। এর সঙ্গে আমদানি খরচের লোকসানও রয়েছে বলে জানান তিনি। বেনাপোলের মৎস্য ও মান নিয়ন্ত্রণ অফিসের পরিদর্শক আসাওয়াদুল ইসলাম বলেন, মৎস্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় ইলিশ আমদানি বন্ধ রাখা হয়েছে। আমদানি বন্ধ হওয়ায় বেনাপোলের বাজারেও ভারতীয় ইলিশের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। চলতি বছরে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৫৩৫ মেট্রিক টন ইলিশ আমদানি হয়েছে বলেও জানান তিনি। মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ভারত থেকে বাংলাদেশে ১ হাজার ৭৩৯ দশমিক ৫০ টন ইলিশ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে মঙ্গলবার পর্যন্ত বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৫৩৫ মেট্রিক টন ইলিশ আমদানি হয়েছে। ১০৩টি অনাপত্তি সনদ বাতিলের পর অবশিষ্ট অনুমোদনের আওতায় ইলিশ আমদানি করা যাবে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
রাষ্ট্রীয় পুলিশ পদকের স্বীকৃতি পাচ্ছেন বাবুল আজাদ কঠিন সময়ে পাহাড়তলী থেকে ডবলমুরিং, চকবাজার হয়ে ডিবিতে; সাহস, মেধা ও পেশাদারিত্বে উজ্জ্বল এক পুলিশ কর্মকর্তার পথচলা-
-মো.কামাল উদ্দিনঃ
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে সাহস, মেধা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দেওয়া পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আজাদ ২০২৬ সালের পুলিশ সপ্তাহে রাষ্ট্রীয় পুলিশ পদক পাওয়ার স্বীকৃতি অর্জন করছেন। পাহাড়তলী থানায় দায়িত্ব পালনকালে সর্বোচ্চ পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেন ওসি বাবুল আজাদ। সেই সফলতার স্বীকৃতিতে গত বছর পেয়েছেন আইজিপি ব্যাজ।
দীর্ঘদিনের দায়িত্ব পালনের ধারাবাহিকতায় কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলার আসামিদের গ্রেফতারে তার ভূমিকা তাকে পুলিশের মাঠপর্যায়ের একজন আলোচিত কর্মকর্তায় পরিণত করেছে।
একজন পুলিশ কর্মকর্তার জন্য রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের এই স্বীকৃতি শুধু একটি পদক নয়, বরং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তার সাহস, পেশাদারিত্ব ও অবদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ মূল্যায়ন।
বাবুল আজাদের কর্মজীবনের সাম্প্রতিক অধ্যায় আরও তাৎপর্যপূর্ণ। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির একটি কঠিন সময়ে তিনি পাহাড়তলী থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় পুলিশের জন্য মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দায়িত্ব থেকে পিছিয়ে না গিয়ে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যান তিনি।
এরপর দায়িত্ব পান ডবলমুরিং থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে। চট্টগ্রাম নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ও ঘনবসতিপূর্ণ এই থানায় দায়িত্ব পালনকালে অপরাধ দমন, আসামি গ্রেফতার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিনি মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ছিলেন।
পরবর্তীতে চকবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বাবুল আজাদ। নগরীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই থানায় দায়িত্ব পালনকালে তার নেতৃত্বে একাধিক অভিযান পরিচালিত হয়। বিশেষ করে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার এবং অস্ত্র উদ্ধারের কয়েকটি ঘটনায় তার নেতৃত্বাধীন টিমের ভূমিকা আলোচনায় আসে।
হাসিব আজিজের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে বাবুল আজাদ
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের তৎকালীন পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ, বিপিএম-এর নেতৃত্বে অপরাধ দমনে নেওয়া কঠোর অবস্থানের সময় মাঠপর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন বাবুল আজাদ।
কমিশনারের কৌশলগত নির্দেশনা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তদারকি এবং মাঠপর্যায়ের চৌকস পুলিশ কর্মকর্তাদের সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে নগরীতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অভিযান পরিচালিত হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় চকবাজার এলাকায় পরিচালিত একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি ও পেশাদার কিলার হিসেবে পুলিশের তালিকায় থাকা আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ওরফে রিমন ওরফে ইমন গ্রেফতার হয়। পরবর্তী অভিযানে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও আসামি গ্রেফতার এবং অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের ঘটনা ঘটে।
এই অভিযানের মাধ্যমে শুধু কয়েকজন অপরাধীকে গ্রেফতার নয়, একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী নেটওয়ার্কের বিভিন্ন স্তর সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মাঠপর্যায়ের এই ধরনের অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে বাবুল আজাদের সাহস, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং টিম পরিচালনার দক্ষতা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
কঠিন দায়িত্বে দৃঢ়তা
পুলিশের দায়িত্ব কখনোই শুধু থানার চেয়ারে বসে প্রশাসনিক কাজ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিশেষ করে একজন অফিসার ইনচার্জকে একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ দমন, মামলা তদন্তের তদারকি, অপরাধীদের গ্রেফতার, জননিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের অভিযোগ মোকাবিলা করতে হয়।
বাবুল আজাদের দায়িত্ব পালনের ধারাবাহিকতায় দেখা যায়, তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ থানায় দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রতিটি থানার পরিবেশ ও অপরাধের ধরন ছিল ভিন্ন। পাহাড়তলী থেকে ডবলমুরিং, ডবলমুরিং থেকে চকবাজার এবং সর্বশেষ নগর গোয়েন্দা পুলিশের দায়িত্বে যাওয়া তার কর্মজীবনে দায়িত্বের পরিধি বৃদ্ধিরই ইঙ্গিত বহন করে।
অপপ্রচারের জবাব কাজেই
একজন সক্রিয় পুলিশ কর্মকর্তাকে ঘিরে নানা ধরনের আলোচনা, সমালোচনা কিংবা অভিযোগ থাকতেই পারে। বাবুল আজাদকে নিয়েও বিভিন্ন মহলে নানা বক্তব্য শোনা যাচ্ছে। কিন্তু একজন পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তার মূল্যায়ন হওয়া উচিত তার দায়িত্ব পালনের রেকর্ড, আইনানুগ কার্যক্রম, অভিযান, গ্রেফতার, উদ্ধার এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে।
অপপ্রচার দিয়ে একজন কর্মকর্তার দীর্ঘ কর্মজীবনের মূল্যায়ন করা যায় না। একইভাবে প্রশংসাও যেন অন্ধ সমর্থনে পরিণত না হয়। একজন পুলিশ কর্মকর্তার সবচেয়ে বড় পরিচয় তার কাজ।
বাবুল আজাদের ক্ষেত্রে তার ধারাবাহিক দায়িত্ব পরিবর্তন এবং গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দায়িত্ব পাওয়া তার পেশাগত যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
থানার ওসি থেকে গোয়েন্দা পুলিশের দায়িত্বে
চকবাজার থানার দায়িত্ব পালনের পর বাবুল আজাদ বর্তমানে নগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। থানার মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা এখন তিনি গোয়েন্দা কার্যক্রমে কাজে লাগাচ্ছেন।
ডিবির দায়িত্ব আরও বিস্তৃত ও তথ্যনির্ভর। সংঘবদ্ধ অপরাধ, অস্ত্রের উৎস, অপরাধী চক্রের যোগাযোগ, পলাতক আসামিদের অবস্থান এবং অপরাধের নেপথ্যের নেটওয়ার্ক শনাক্ত করতে গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ফলে থানায় দীর্ঘদিনের মাঠঅভিজ্ঞতা বাবুল আজাদের বর্তমান দায়িত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
রাষ্ট্রীয় পুলিশ পদক: দায়িত্বের স্বীকৃতি
২০২৬ সালের পুলিশ সপ্তাহে রাষ্ট্রীয় পুলিশ পদকের স্বীকৃতি বাবুল আজাদের পেশাগত জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। একজন পুলিশ কর্মকর্তার জন্য এই ধরনের স্বীকৃতি দায়িত্ব পালনে আরও জবাবদিহি ও দায়িত্বশীলতার প্রত্যাশাও তৈরি করে।
পদক অর্জনের পাশাপাশি একজন কর্মকর্তার সামনে থাকে আরও বড় দায়িত্ব। কারণ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি যেমন সম্মানের, তেমনি তা ভবিষ্যতে আরও দক্ষতা, সততা, পেশাদারিত্ব এবং জনগণের নিরাপত্তায় কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যাশাও বাড়িয়ে দেয়।
চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে সংঘবদ্ধ অপরাধ, অবৈধ অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। এসব অপরাধের বিরুদ্ধে তথ্যভিত্তিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
বাবুল আজাদের কর্মজীবনের সাম্প্রতিক ধারাবাহিকতা তাই বলছে, পাহাড়তলীর কঠিন সময় থেকে শুরু করে ডবলমুরিং, চকবাজার এবং বর্তমানে গোয়েন্দা পুলিশের দায়িত্ব—প্রতিটি ধাপই তার পেশাগত জীবনের নতুন পরীক্ষা।
রাষ্ট্রীয় পুলিশ পদকের স্বীকৃতি সেই পথচলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এখন নতুন দায়িত্বে তার সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ, আরও বড় প্রত্যাশা এবং আরও বড় দায়িত্ব।
একজন পুলিশ কর্মকর্তার আসল পরিচয় তার পদ নয়, তার কাজ। আর সেই কাজের স্বীকৃতিই শেষ পর্যন্ত তাকে মানুষের কাছে পরিচিত করে। বাবুল আজাদের সামনে এখন সেই কাজকে আরও এগিয়ে নেওয়ার নতুন অধ্যায়।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে মানবিক পুলিশিংয়ের নতুন দিগন্ত আইসিআরসি ও এপিবিএনের যৌথ প্রশিক্ষণ: আইন প্রয়োগে মানবাধিকার, পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতায় হাসিব আজিজের নেতৃত্বে নতুন ভাবনা
মো. কামাল উদ্দিনঃ
আইন প্রয়োগ মানেই শুধু অপরাধ দমন কিংবা শৃঙ্খলা রক্ষা নয়; আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় আইন প্রয়োগের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে মানবাধিকার, মানবিকতা, প্রয়োজনীয়তা, আনুপাতিকতা, জবাবদিহিতা ও পেশাদারিত্ব। সেই আধুনিক ধারণাকে আরও সুসংহত করতে আন্তর্জাতিক কমিটি অব দ্য রেড ক্রস (ICRC) এবং বাংলাদেশ পুলিশের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)-এর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগের মানদণ্ডবিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ।
“International Law Enforcement Standards Training” শীর্ষক দুই দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণে এপিবিএনের সদস্যদের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন, আইন প্রয়োগের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, মানবিক মূল্যবোধ এবং বাস্তব পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
এ প্রশিক্ষণ শুধু একটি নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নয়; বরং বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, মানবাধিকার ও আধুনিক পুলিশিংয়ের ধারণার সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
আইন প্রয়োগে শক্তির চেয়ে বিবেক ও ভারসাম্য
প্রশিক্ষণের শুরুতেই ICRC-এর ম্যান্ডেট, কার্যক্রম ও বিশ্বব্যাপী মানবিক ভূমিকা এবং বাংলাদেশে ICRC-এর বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের ধারণা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড কীভাবে বাস্তব পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করা যায়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিশেষ করে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়তা, আনুপাতিকতা, সতর্কতা ও জবাবদিহিতার নীতি কীভাবে অনুসরণ করা উচিত, তা বাস্তব উদাহরণ ও পরিস্থিতিভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়।
জনসমাবেশ, আটক, হেফাজত, সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের সময় একজন পুলিশ সদস্যকে কখন, কতটুকু এবং কীভাবে আইন প্রয়োগ করতে হবে, সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করা হয়।
SOP থেকে De-escalation, বদলে যাচ্ছে পুলিশিংয়ের ভাষা
প্রশিক্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল Standard Operating Procedures (SOPs) প্রণয়ন ও প্রয়োগ। পাশাপাশি বলপ্রয়োগের পরিবর্তে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উত্তেজনা প্রশমন বা De-escalation কৌশল কীভাবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
আধুনিক পুলিশিংয়ে পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত না করে সংলাপ, পরিস্থিতি বিশ্লেষণ, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক পদক্ষেপের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণে সেই ধারণাগুলোকেই বাস্তবভিত্তিকভাবে তুলে ধরা হয়।
FDNM Policing-এর আলোকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বাস্তবায়নের বিষয়টিও প্রশিক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব পায়। বাস্তব পরিস্থিতিভিত্তিক অনুশীলনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের বোঝানো হয়, আইন প্রয়োগের সময় কীভাবে মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডকে কার্যকরভাবে সমন্বয় করা যায়।
আটক ব্যক্তির অধিকার ও মানবিক সুরক্ষা
প্রশিক্ষণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ICRC-এর Protection কার্যক্রম। বাংলাদেশে পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রমের পাশাপাশি আটক ব্যক্তিদের সুরক্ষা, তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ এবং Protection of Family Links (PFL) সম্পর্কেও অংশগ্রহণকারীদের অবহিত করা হয়।
প্রশিক্ষণে কেস স্টাডি, গ্রুপ ওয়ার্ক এবং রোল প্লের মাধ্যমে আইন প্রয়োগের বিভিন্ন বাস্তব পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়। এর মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, বরং বাস্তব দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড প্রয়োগের সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়।
হাসিব আজিজের নেতৃত্বে এপিবিএনে পেশাদারিত্বের নতুন মাত্রা
এপিবিএনের বর্তমান প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি হাসিব আজিজ। তাঁর নেতৃত্বে বাহিনীর পেশাগত দক্ষতা, আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং দায়িত্ব পালনে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য তৈরির উদ্যোগ বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
একটি আধুনিক আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর শক্তি শুধু অস্ত্র, জনবল কিংবা অভিযান পরিচালনার সক্ষমতায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃত পেশাদারিত্ব প্রকাশ পায় আইনের প্রতি আনুগত্য, মানবাধিকারের প্রতি সম্মান, পরিস্থিতি বিবেচনায় সঠিক সিদ্ধান্ত, দায়িত্বশীল বলপ্রয়োগ এবং জনগণের প্রতি জবাবদিহিতার মধ্য দিয়ে।
এই জায়গাতেই হাসিব আজিজের নেতৃত্বে এপিবিএনের আন্তর্জাতিক মানদণ্ডভিত্তিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নতুন মাত্রা তৈরি করতে পারে। কারণ সময়ের সঙ্গে অপরাধের ধরন যেমন পরিবর্তিত হচ্ছে, তেমনি পরিবর্তিত হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জও। তাই একজন আধুনিক পুলিশ কর্মকর্তার হাতে শুধু আইন প্রয়োগের ক্ষমতা থাকলেই হবে না; সেই ক্ষমতা কখন প্রয়োগ করতে হবে, কতটুকু প্রয়োগ করতে হবে এবং কীভাবে মানবিকতার সঙ্গে প্রয়োগ করতে হবে, সেই বোধও থাকতে হবে।
পুলিশের হাতে আইন, দায়িত্বে মানবিকতা
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের আইনের প্রতিনিধি। একজন নাগরিকের অধিকার রক্ষা এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব একই সঙ্গে তাঁদের ওপর বর্তায়। ফলে আইন প্রয়োগের প্রতিটি সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মানুষের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার।
ICRC-এর সঙ্গে এপিবিএনের এ ধরনের প্রশিক্ষণ সেই জায়গাটিকেই আরও শক্তিশালী করে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের আলোকে প্রশিক্ষিত একজন পুলিশ সদস্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় যেমন অধিক পেশাদার হতে পারেন, তেমনি তাঁর সিদ্ধান্তে মানবিকতা, প্রয়োজনীয়তা ও আনুপাতিকতার প্রতিফলন ঘটার সুযোগও বাড়ে।
প্রশিক্ষণের মূল দর্শন
দুই দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণের মূল দর্শনকে এক কথায় বলা যায়—
“আইন প্রয়োগে শক্তি নয়, শক্তির দায়িত্বশীল প্রয়োগ; কর্তৃত্ব নয়, কর্তৃত্বের জবাবদিহিতা; শুধু অপরাধ দমন নয়, মানুষের অধিকার ও মর্যাদার সুরক্ষা।”
সমাপনী দিনে ICRC-এর সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি এবং এপিবিএন হেডকোয়ার্টার্সের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘটে। প্রশিক্ষণটি এপিবিএন সদস্যদের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও আইন প্রয়োগের মানদণ্ড সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক ধারণা অর্জনের পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্ব ও মানবিক মূল্যবোধকে আরও সুদৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র তৈরি করেছে।
হাসিব আজিজের নেতৃত্বে এপিবিএনের এই আন্তর্জাতিক মানদণ্ডভিত্তিক প্রশিক্ষণ উদ্যোগ তাই কেবল একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হিসেবে নয়, বরং আধুনিক, মানবিক, দায়িত্বশীল ও পেশাদার আইন প্রয়োগের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।