Home Blog Page 22

বাংলাদেশ থেকে ১ হাজার ট্যাক্সিচালক নেবে দুবাই, সরাসরি সাক্ষাৎকার ২৯-৩০ আগস্ট

0

বাংলাদেশ থেকে এক হাজার ট্যাক্সিচালক নিয়োগ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই। এ লক্ষ্যে আগামী ২৯ ও ৩০ আগস্ট রাজধানীর বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সরাসরি সাক্ষাৎকার ও বাছাই অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি আল আনাস ওভারসিজ (আরএল-২৭৩৫) নিয়োগ কার্যক্রমের স্থানীয় আয়োজন ও সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে। প্রার্থীদের সরাসরি সাক্ষাৎকার নিতে দুবাইয়ের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসবে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ মে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানির প্রতিনিধিরা বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের আগ্রহের কথা জানান। কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমানে বিশ্বের ২৭টি দেশ থেকে প্রায় ১৫ হাজার কর্মী তাদের প্রতিষ্ঠানে ট্যাক্সি ও লিমোজিন চালক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৮ হাজারই বাংলাদেশি। বাংলাদেশি কর্মীদের পরিশ্রমী হিসেবে উল্লেখ করে তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে নিয়োগের কথাও জানানো হয়। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রার্থীদের কমপক্ষে এসএসসি পাস হতে হবে এবং বয়স হতে হবে ২৩ থেকে ৪৯ বছরের মধ্যে। চাকরির মেয়াদ দুই বছর, যা নবায়নযোগ্য। নির্বাচিত কর্মীরা প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী কমিশনভিত্তিক আয় করার সুযোগ পাবেন। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় ড্রাইভিং লাইসেন্স, মেডিকেল পরীক্ষা ও এমিরেটস আইডি সংক্রান্ত ব্যয় কোম্পানি বহন করবে। কর্মীদের আবাসনের ব্যবস্থাও করা হবে। তবে গাড়ি পাওয়ার তিন মাস পর আবাসন বাবদ নির্ধারিত অর্থ মাসিক বেতন থেকে কর্তন করা হবে। সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে আগ্রহী প্রার্থীদের সঙ্গে মূল পাসপোর্ট, পাসপোর্টের রঙিন ফটোকপি, সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের পাসপোর্ট সাইজ ছবি, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও এর রঙিন কপি, জীবনবৃত্তান্ত এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের রঙিন কপি রাখতে বলা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানানোয় যমুনা অয়েলের সিবিএ নেতা এয়াকুবকে হুমকির অভিযোগ

0

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ অয়েল অ্যান্ড গ্যাস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের মহাসচিব এবং যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের (সিবিএ) বারবার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ এয়াকুবকে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি জ্বালানি তেল আমদানির বিষয়ে তথ্যভিত্তিক বক্তব্য দেন সিবিএ নেতা মোহাম্মদ এয়াকুব। বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থ এবং জ্বালানি খাতের শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা করে বেসরকারি খাতে জ্বালানি তেল আমদানির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন, তিনি ও তার সংগঠন সেই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাবেন। একই সঙ্গে তিনি সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতি ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিকভাবে সমর্থন জানান। এয়াকুবের দাবি, তার এ বক্তব্যের পর দেশ ও শ্রমিকের স্বার্থবিরোধী একটি চক্র তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। সরকারের সিদ্ধান্ত এবং শ্রমিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বক্তব্য না দেওয়ার জন্য তাকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সিবিএ নেতা মোহাম্মদ এয়াকুব বলেন, তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেই বক্তব্য দিয়েছেন। কিন্তু বক্তব্যের পর জ্বালানি খাতের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কতিপয় কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি তাকে বিভিন্নভাবে চাপ ও হুমকি দিচ্ছেন। বিশেষ করে, তিনি কেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নাম উল্লেখ করে বক্তব্য দিয়েছেন—এমন প্রশ্ন তুলে তাকে হয়রানি ও চাপের মুখে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, একজন নাগরিক ও শ্রমিক নেতা হিসেবে নিজের মতামত প্রকাশের কারণে এভাবে হুমকির সম্মুখীন হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এতে তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হুমকি ও হয়রানি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেন মোহাম্মদ এয়াকুব। এয়াকুব আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশ, জনগণ ও শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন। তিনি আশা করেন, জ্বালানি খাতের শ্রমিকদের স্বার্থের বিষয়টিও সরকার যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এদিকে মোহাম্মদ এয়াকুবকে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ অয়েল অ্যান্ড গ্যাস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন, যমুনা অয়েল কোম্পানি শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন (সিবিএ)সহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। সংগঠনগুলোর নেতারা অভিযোগ করেন, সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে দেশ ও রাষ্ট্রবিরোধী একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে দেশের জ্বালানি খাতে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি এবং অরাজকতা তৈরির পাঁয়তারা করছে। তারা এ ধরনের হুমকি ও চাপের ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

বোয়ালখালীতে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, অবৈধভাবে গাছ কেটে ভূমি দখল ও নারীকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে মনোয়ার বেগম নামক এক নারীর জায়গা অবৈধভাবে দখলের অভিযোগ উঠেছে হারুন, জাবেদ ও রাহাতের বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠেছে, তিন ব্যক্তি এলাকার প্রভাবশালী ও ভূমি দস্যু। এই বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মনোয়ারা বেগম। জানা গেছে, চরণদ্বীপ ইউপিতে ভুক্তভোগীর পরিবারের সাথে হারুনের দীর্ঘদিন যাবৎ জমির সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। যার জন্য আদালতেও মামলা চলমান রয়েছে। এরই মধ্যে মনোয়ার বেগম এর ভোগদখলরত ৭৭, ৮২, ৮৩ ও ৮৪ দাগের জায়গায় অবৈধভাবে গাছ কটে পিলার বসিয়ে সীমানা নির্ধারণ করে এই হারুন। গত ১৫ই ও ১৬ই আগস্ট সকাল আনুমানিক সকাল ৭টায় এই ঘটনা ঘটেছে মর্মে জানায় মনোয়ারা বেগম। এই সময় পুরো বিষয়টি ভিডিওতে ধারন করেন মনোয়ারা বেগম। মনোয়ারা বেগম চট্টলচিত্রকে জানান, ঘটনার সময় তারা সাউন্ড বক্সে উচ্চস্বরে গান বাজিয়ে বিভিন্নভাবে তাদের পরিবারকে ভয়ভিতি প্রদর্শন করেন। এই হারুন ও তার সহযোগীরা আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করে একপর্যায়ে প্রাণে হত্যার হুমকি দেয়। ভুক্তভোগীর ছেলে রোকন জানান, আমি একজন প্রবাসী রেমিটেন্স যোদ্ধা। তারা আমাদের জমি আগেও অবৈধভাবে দখল করেছে। এই জায়গাটি একশত বছরের পুরানো সম্পত্তি। আমাদের জায়গার সকল নথীপত্র আমাদের রয়েছে। আমরা তাদের সাথে কোন বিরোধে জড়াতে চায়না। তারা এর আগেও আমার নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে যা বিজ্ঞা আদালত মিথ্যা মর্মে খারিজ করে দিয়েছে। তাদের অপরাধের শাস্তির বিচার আমি প্রশানের নিকট চায়।
ভুক্তভোগী জানান, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ও প্রাণঘাতী ঘটনার আশঙ্কায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্বজনদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। পরে বোয়ালখালী থানায় উপস্থিত হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। তবে অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলোর বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি এখন পুলিশের তদন্তের ওপর নির্ভর করছে।

ইউনিফর্মের ভেতর যে মানুষটি: এপিবিএনের এসপি আসমা বেগম রিটার সঙ্গে এক বিকেলের কথামালা

কিছু সাক্ষাৎ হয় নির্ধারিত সময়ের ঘেরাটোপে, কিছু সাক্ষাৎ সময়কে অতিক্রম করে মনে থেকে যায়। কিছু মানুষকে প্রথম দেখাতেই মনে হয়—এই পরিচয়টি হয়তো একদিন কোনো গল্পের অংশ হবে। আর কোনো কোনো কর্মস্থল কেবল ইট-পাথরের ভবন থাকে না; তার ভেতরে জমে থাকে ইতিহাস, দায়িত্ব, সাহস, মানুষের কান্না, স্বস্তি আর অসংখ্য অদৃশ্য গল্প। ঢাকার এপিবিএন সদর দপ্তরে আমার সাম্প্রতিক সফরটি তেমনই এক বিকেলের গল্প। ঘড়ির কাঁটায় ঠিক বিকেল ৩টা। সাংবাদিকতার দীর্ঘ পথচলায় সরকারি-বেসরকারি বহু প্রতিষ্ঠান, বহু কর্মকর্তা, বহু মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি। পুলিশ নিয়ে লিখেছি, পুলিশের কর্মকাণ্ড নিয়ে অনুসন্ধান করেছি, এপিবিএনের ওপর লিখেছি, এমনকি এ বাহিনীকে নিয়ে ডকুমেন্টারিও নির্মাণ করেছি। ফলে এপিবিএন আমার কাছে কেবল একটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাম নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দীর্ঘদিনের পেশাগত আগ্রহ, গবেষণা ও পরিচয়ের এক আলাদা অধ্যায়। সেদিন সেই পরিচিত প্রতিষ্ঠানেরই নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করলাম। আর সেখানে আমার অপেক্ষায় ছিলেন একজন নারী পুলিশ কর্মকর্তা—পুলিশ সুপার আসমা বেগম রিটা। প্রথম সাক্ষাৎ। অথচ কথার শুরুতেই মনে হলো, আনুষ্ঠানিকতার বরফটা যেন কোথাও জমতে দিলেন না তিনি। ইউনিফর্ম মানুষকে দায়িত্বের পরিচয় দেয়, কিন্তু আচরণ মানুষটিকে আলাদা করে চেনায়। রিটাকে প্রথম দেখায় আমার মনে হলো—এই নারী কর্মকর্তা তাঁর পোশাকের কঠোরতার আড়ালে খুবই স্বাভাবিক, অমায়িক ও সংবেদনশীল একজন মানুষ। চোখে চশমা, পরিপাটি ব্যক্তিত্ব, সংযত হাসি, কথায় স্বচ্ছতা—সবকিছুর মধ্যে ছিল আধুনিকতার ছাপ। তাঁর কথার বাচনভঙ্গি ছিল মৃদু, কিন্তু বক্তব্যে ছিল আত্মবিশ্বাস। তিনি এমনভাবে কথা বলছিলেন, যেন সাংবাদিকের সঙ্গে তিনি কোনো আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং করছেন না; বরং একটি বিষয়কে নিজের মতো করে ব্যাখ্যা করছেন। একাধিকবার তাঁর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের আন্তরিকতাও সেই সৌজন্যেরই বহিঃপ্রকাশ। মিডিয়ার মানুষদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে যে দ্রুততা, আন্তরিকতা ও পারস্পরিক আস্থা প্রয়োজন, তাঁর আচরণে সেটি স্পষ্ট। আমার কাছে এটিই ছিল তাঁর প্রথম বড় পরিচয়—তিনি একজন পুলিশ সুপার, কিন্তু তার আগে তিনি একজন মানুষ। এপিবিএনের মিডিয়া উইংয়ের দায়িত্বে তিনি নতুন। দায়িত্বটি সহজ নয়। কারণ পুলিশের কাজের অনেকটাই মাঠে দৃশ্যমান হলেও একটি বাহিনীর প্রকৃত কর্মদক্ষতা, অভিযান, উদ্ধার, অপরাধ দমন, জনসেবা ও মানবিক উদ্যোগকে মানুষের সামনে তুলে ধরার কাজটিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। আজকের পৃথিবীতে তথ্যই শক্তি। আর ভুল তথ্য, গুজব কিংবা অসম্পূর্ণ তথ্যের যুগে একটি বাহিনীর প্রকৃত কাজ মানুষের সামনে সঠিকভাবে তুলে ধরাও এক ধরনের দায়িত্ব। রিটা সেই জায়গাতেই নতুনভাবে কাজ করছেন। তিনি জানেন, সাংবাদিক শুধু খবরের বাহক নন; সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, তথ্য চান, সত্যতা যাচাই করেন এবং সমাজের সামনে একটি প্রতিষ্ঠানের কাজকে মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি করেন। সেদিনের আলাপচারিতায় তাঁর মধ্যে সাংবাদিকবান্ধব সেই মানসিকতাটিই সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে। রিটার সঙ্গে কথা বলতে বলতে তাঁর শিক্ষাজীবনের প্রসঙ্গও উঠে এলো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্রী হিসেবে রাষ্ট্র, প্রশাসন, আইন ও সমাজের সম্পর্ক সম্পর্কে তাঁর একাডেমিক ভিত্তি রয়েছে। কিন্তু শুধু রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পাঠেই তিনি আটকে নেই; ইতিহাসের প্রতিও তাঁর আগ্রহ রয়েছে। এখানেই আমার কৌতূহল আরও বেড়ে গেল। কারণ একটি প্রতিষ্ঠানের বর্তমানকে বুঝতে হলে তার অতীতটিকেও জানতে হয়। আর এপিবিএনের ইতিহাস বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এপিবিএনকে নিয়ে আমাদের সমাজে নানা ধরনের তথ্য প্রচলিত আছে। কিন্তু ইতিহাসের ক্ষেত্রে আবেগ নয়, দলিলই শেষ কথা। বাংলাদেশ পুলিশের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এপিবিএনের যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৫ সালে এবং ১৯৭৯ সালের Armed Police Battalions Ordinance-এর মাধ্যমে এর আইনগত কাঠামো সুসংহত হয়। স্বাধীনতার পর পরিবর্তিত বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাস্তবতায় একটি বিশেষায়িত সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা থেকেই এর বিকাশ। সময়ের সঙ্গে সেই বাহিনীর দায়িত্বও বদলেছে, বিস্তৃত হয়েছে। আজকের এপিবিএন শুধু অস্ত্রধারী একটি বিশেষ বাহিনী নয়। সন্ত্রাস ও সশস্ত্র অপরাধ দমন, মাদক নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ, বিশেষ নিরাপত্তা, রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সাইবার অপরাধ মোকাবিলা এবং সাধারণ মানুষের হারানো সম্পদ উদ্ধারের মতো নানা ক্ষেত্রেই তাদের কার্যক্রম বিস্তৃত। একটি বাহিনীর বিবর্তন আসলে একটি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা-চাহিদার বিবর্তনেরও গল্প। রিটা যখন জুলাই মাসের এপিবিএনের কর্মকাণ্ডের বিবরণ তুলে ধরছিলেন, তখন মনে হচ্ছিল—এ যেন কোনো অফিসিয়াল রিপোর্ট নয়, বরং এক মাসের কর্মজীবনের শত শত মানুষের গল্প। বিভিন্ন ইউনিটের অভিযানে জুলাই মাসে উদ্ধার করা হয়েছে ৮৪৪টি মোবাইল ফোন। বিকাশ ও নগদ প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া ৯ লাখ ৫৮ হাজার ১৪৮ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে প্রতারণায় ব্যবহৃত ১৩টি সিম, একটি ফেসবুক আইডি, তিনটি হোয়াটসঅ্যাপ এবং একটি ই-মেইল অ্যাকাউন্ট। নিষ্পত্তি হয়েছে চারটি ফেসবুক আইডি-সংক্রান্ত অভিযোগ এবং সমাধান হয়েছে দুটি সাইবার বুলিংয়ের ঘটনা। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে জুলাই মাসে ৫০৮ জনকে সহায়তা দিয়েছে এপিবিএন। সংখ্যাগুলো নিছক সংখ্যা নয়। ৮৪৪টি মোবাইলের পেছনে হয়তো ৮৪৪টি পরিবারের উদ্বেগ ছিল। ৯ লাখ ৫৮ হাজার ১৪৮ টাকার পেছনে হয়তো ছিল কারও সঞ্চয়, কারও ব্যবসার টাকা, কারও সংসারের প্রয়োজন। একজন মানুষের হারানো ফোন ফিরে পাওয়া কখনো কখনো তার কাছে কয়েক হাজার টাকার চেয়েও বেশি মূল্যবান। কারণ ফোনের সঙ্গে হারিয়ে যায় ব্যক্তিগত ছবি, যোগাযোগ, প্রয়োজনীয় নথি, স্মৃতি এবং অনেক অদৃশ্য সম্পর্ক। তাই পুলিশের এই কাজের মধ্যে শুধু অপরাধ দমন নেই—আছে হারিয়ে যাওয়া স্বস্তি ফিরিয়ে দেওয়ার মানবিকতা। মাদক একটি সমাজকে ভিতর থেকে ধ্বংস করে। জুলাই মাসে এপিবিএনের বিভিন্ন অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ১২ হাজার ৪২১টি ইয়াবা, ১ দশমিক ১৮ কেজি গাঁজা, ৩২ লিটার মদ, ২৮৫ কার্টন বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেট, ৭২টি বিদেশি সিগারেট এবং ৭২টি বিয়ার। এসব ঘটনায় ১০টি মামলা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১১ জনকে। মাদকবিরোধী অভিযানকে শুধু পুলিশের অভিযান হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি মূলত একটি প্রজন্মকে রক্ষার যুদ্ধ। কারণ একজন মাদক ব্যবসায়ী শুধু মাদক বিক্রি করে না—সে একটি পরিবারের ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে, একটি তরুণের স্বপ্নকে হত্যা করে, কখনো একটি পরিবারের শান্তি ছিনিয়ে নেয়। তাই মাদকবিরোধী প্রতিটি অভিযান সামাজিক অর্থেও গুরুত্বপূর্ণ। অস্ত্র উদ্ধারের ক্ষেত্রেও জুলাইয়ে সাফল্য এসেছে। উদ্ধার হয়েছে দুটি ওয়ানশুটার গান ও ১৬ রাউন্ড গুলি, দেশীয় ধারালো অস্ত্রসহ অন্যান্য সামগ্রী। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চোরাচালানবিরোধী অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ১ হাজার ৭৪৪ গ্রাম স্বর্ণ। এসব ঘটনায় ১১টি মামলা হয়েছে এবং পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া উদ্ধার হয়েছে ৯১০ কেজি কসমেটিকস, ১৮৭টি শাড়ি ও বিভিন্ন পণ্য, দুটি মোবাইল/ল্যাপটপ, ৩২২ কেজি সামুদ্রিক কাঁকড়া, দুটি এফডিএমএন কার্ড এবং বিপুল পরিমাণ খাদ্যপণ্য ও অন্যান্য মালামাল। সীমান্ত ও চোরাচালানের পথ শুধু অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না; এর সঙ্গে কখনো কখনো যুক্ত থাকে মাদক, অস্ত্র, মানবপাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধের অন্ধকার জগত। সেই অন্ধকার পথ বন্ধ করার দায়িত্বে এপিবিএনের ভূমিকা তাই গুরুত্বপূর্ণ। জুলাইয়ের সাফল্যের মধ্যে কয়েকটি ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ১২ এপিবিএনের অভিযানে বিভিন্ন ব্যাচের জিডির ভিত্তিতে উদ্ধার হয়েছে ১৮৫টি হারানো মোবাইল ফোন। ভুলক্রমে চলে যাওয়া বিকাশ ও নগদের ৭৩ হাজার ১৯৮ টাকাও উদ্ধার করা হয়েছে। পরে প্রকৃত মালিকদের কাছে তা হস্তান্তর করা হয়েছে। ১৩ এপিবিএনের অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ৩০০ দশমিক ৭ গ্রাম স্বর্ণ, যার বাজারমূল্য প্রায় ৪৭ লাখ ২০ হাজার ৯৯০ টাকা। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৮ এপিবিএনের অভিযানে চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার মূল আসামিসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে নয়জনকে। ১৪ এপিবিএনের অভিযানে ৫ হাজার ৮০০ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে একজনকে। আর ১৬ এপিবিএনের অভিযানে একটি ওয়ানশুটার বন্দুক ও ১৬ রাউন্ড তাজা গুলিসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে একজনকে। এই চারটি ঘটনা যেন চারটি আলাদা আয়না—যেখানে এপিবিএনের চার ধরনের সক্ষমতা প্রতিফলিত হয়েছে। দীর্ঘ আলাপচারিতায় এপিবিএন প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি হাসিব আজিজের প্রসঙ্গও বারবার এসেছে। হাসিব আজিজ আমার কাছে অপরিচিত নন। দীর্ঘদিনের পেশাগত সম্পর্কের পাশাপাশি ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের জায়গা থেকেও তাঁকে দেখার সুযোগ হয়েছে। একজন পুলিশ কর্মকর্তার মূল্যায়ন শুধু তাঁর পদ দিয়ে করা যায় না। মাঠে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস, পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত, পেশাগত জ্ঞান এবং অধীনস্থদের ওপর আস্থা—সব মিলিয়েই একজন নেতৃত্বের প্রকৃত পরিচয় তৈরি হয়। আমার চোখে হাসিব আজিজ সেই অর্থে একজন সাহসী ও চৌকস পুলিশ কর্মকর্তা। রিটার কথাতেও তাঁর নেতৃত্বের প্রতি সেই আস্থার প্রতিফলন ছিল। একজন অধীনস্থ কর্মকর্তা যখন তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাজের কথা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বলেন, তখন সেটি কেবল আনুষ্ঠানিক প্রশংসা থাকে না; তার মধ্যে সাংগঠনিক আস্থার একটি বার্তাও থাকে। আজকের অপরাধী আর আগের দিনের অপরাধী এক নয়। অপরাধের ধরন বদলেছে। অপরাধের মাধ্যম বদলেছে। অপরাধী মোবাইল ব্যবহার করে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে, ডিজিটাল লেনদেন ব্যবহার করে। তাই পুলিশিংও বদলাতে বাধ্য। আগে পুলিশের হাতে ছিল লাঠি, অস্ত্র, ওয়্যারলেস আর নথি। এখন তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডিজিটাল ফরেনসিকস, সাইবার ট্র্যাকিং, তথ্য বিশ্লেষণ, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং দ্রুত যোগাযোগব্যবস্থা। এপিবিএনের জুলাই মাসের কার্যক্রমে সেই পরিবর্তনেরই ছাপ দেখা যায়। সাইবার প্রতারণা থেকে হারানো মোবাইল উদ্ধার—দুটিই এখন আধুনিক পুলিশিংয়ের অংশ। আমি সাংবাদিক, লেখক, গবেষক, টেলিভিশন উপস্থাপক। দীর্ঘদিন ধরে সংবাদ, ইতিহাস ও নাগরিক সমস্যার নানা বিষয় নিয়ে কাজ করছি। পুলিশ নিয়ে লেখার সময় আমার কলম যেমন প্রশংসা করতে জানে, তেমনি প্রশ্ন করতেও জানে। কারণ সাংবাদিকের কাজ কোনো প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্র হওয়া নয়; সাংবাদিকের কাজ সত্যকে সামনে আনা। সেদিন রিটার সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা তাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিনি প্রশ্ন এড়িয়ে যাননি। তথ্য দিয়েছেন। ব্যাখ্যা করেছেন। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন। একজন মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তার কাছে আমি ঠিক এই বিষয়টিই প্রত্যাশা করি—দরজা খোলা রাখা, প্রশ্নকে স্বাগত জানানো এবং তথ্যের জায়গায় আস্থা তৈরি করা। সেদিন আমাদের জন্য নাশতার আয়োজনও করেছিলেন তিনি। সাংবাদিকদের সঙ্গে একটি অনানুষ্ঠানিক পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। ছিলেন সাংবাদিক মুজিবুর রহমান চৌধুরী, কক্সবাজার ক্লাব লিমিটেডের সভাপতি আবু সৈয়দ, আরিফুল ইসলাম চৌধুরী। অন্যদিকে দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর, বাসসের মোহাম্মদ ইসমাইলসহ আরও অনেকে ছিলেন। কথার মধ্যে কখনো খবর, কখনো অপরাধ, কখনো পুলিশিং, কখনো সমাজ—বিষয় বদলেছে, কিন্তু আলোচনার প্রাণ ছিল মানুষের নিরাপত্তা। ফেরার আগে অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল সাহেবের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলো। তাঁর সঙ্গেও বিভিন্ন অপরাধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হলো। একটি বিকেল যেন অনেকগুলো পেশাগত অভিজ্ঞতাকে এক জায়গায় এনে দিল। সেদিন রিটার একটি ছবি আমি নিজেই তুলেছি। ছবিতে তিনি তাঁর কর্মস্থলে বসে আছেন। সামনে কাগজপত্র, পরনে এপিবিএনের ইউনিফর্ম, চোখে চশমা, মুখে সংযত অভিব্যক্তি। কিন্তু ছবিটি আমার কাছে শুধু একজন পুলিশ সুপারের প্রতিকৃতি নয়। এটি একজন কর্মজীবী নারীর আত্মবিশ্বাসের ছবি। একজন নারী, যিনি রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করছেন। একজন কর্মকর্তা, যিনি অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর, কিন্তু মানুষের সঙ্গে আচরণে কোমল। একজন পুলিশ সুপার, যার হাতে দায়িত্বের ভার, কিন্তু কথায় নেই অহংকার। একজন আধুনিক পেশাজীবী, যিনি বোঝেন—আজকের দিনে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানুষের আস্থাও অর্জন করতে হয়। ছবির মানুষটি তাই আমার কাছে শুধু এসপি রিটা নন—তিনি একটি পরিবর্তনশীল পুলিশিং ব্যবস্থারও প্রতিচ্ছবি। সেদিন এপিবিএন সদর দপ্তর থেকে বের হওয়ার সময় মনে হলো—একটি প্রতিষ্ঠানকে বুঝতে হলে শুধু তার ভবনের দিকে তাকালে হয় না। তার মানুষগুলোর দিকে তাকাতে হয়। কেউ মাঠে অভিযান চালাচ্ছেন। কেউ অপরাধী ধরছেন। কেউ হারানো মোবাইল খুঁজে দিচ্ছেন। কেউ সাইবার প্রতারণার টাকা উদ্ধার করছেন। কেউ সীমান্ত ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে লড়ছেন। কেউ আবার সেই সমস্ত কর্মকাণ্ডের তথ্য মানুষের সামনে তুলে ধরছেন। সবাই মিলে একটি বাহিনী। আর সেই বাহিনীর নেতৃত্বে যদি থাকে সাহস, মেধা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা; আর মাঠের কর্মকর্তাদের মধ্যে থাকে মানবিকতা, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব—তাহলে একটি প্রতিষ্ঠান কেবল শক্তিশালী হয় না, মানুষের কাছেও গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে। আসমা বেগম রিটার সঙ্গে আমার প্রথম সাক্ষাৎ তাই শুধু একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল না। এটি ছিল একজন সাংবাদিকের চোখে একজন নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে নতুন করে দেখার সুযোগ। ইউনিফর্মের ভেতরে মানুষটিকে দেখার সুযোগ। আর সেই মানুষটির কথায়, আচরণে ও দায়িত্ববোধে যে অনুভূতিটি সবচেয়ে বেশি ধরা পড়ল, সেটি হলো—কর্তব্যের কঠোরতার সঙ্গে মানবিকতার কোমলতা মিলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা। সময়ের সঙ্গে পুলিশের অস্ত্র বদলাবে, প্রযুক্তি বদলাবে, অপরাধের ধরন বদলাবে। কিন্তু মানুষের নিরাপত্তার প্রশ্নটি বদলাবে না। সেই নিরাপত্তার জন্য যারা দিনরাত কাজ করেন, তাঁদের সাফল্যের গল্প লেখা দরকার—সমালোচনার জন্য যেমন কলম প্রয়োজন, তেমনি ভালো কাজের স্বীকৃতির জন্যও কলমের দায় আছে। সেদিনের বিকেলে তাই আমার নোটবুকে শুধু কিছু সংখ্যা জমা হয়নি। জমা হয়েছে একজন নারী পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে প্রথম পরিচয়ের স্মৃতি, একটি বাহিনীর কর্মব্যস্ত জুলাই মাসের গল্প, নেতৃত্বের কিছু কথা এবং সবচেয়ে বড় কথা—ইউনিফর্মের আড়ালে থাকা একজন মানুষের উষ্ণতার স্মৃতি।

জুলাইয়ে এপিবিএনের সাফল্য, প্রযুক্তি নির্ভর পুলিশিংয়ে নতুন দৃষ্টান্ত

অতিরিক্ত আইজিপি ও এপিবিএন প্রধান হাসিব আজিজের নেতৃত্বে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও জনবান্ধব পুলিশিংয়ের পথে আরও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। অপরাধ দমন থেকে শুরু করে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের হারানো সম্পদ উদ্ধারে এপিবিএনের বিভিন্ন ইউনিট ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। এপিবিএন হেডকোয়ার্টার্সের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও বিভিন্ন ইউনিটের সমন্বিত কার্যক্রমে এই সাফল্যের ধারা আরও বেগবান হয়েছে। বিশেষ করে জুলাই ২০২৬ মাসে তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে এপিবিএন অর্জন করেছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য।

এপিবিএনের পুলিশ সুপার আসমা বেগম রিটা

এ কার্যক্রমে মাঠপর্যায়ের দক্ষতা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দ্রুত সেবাদানের সমন্বয় ঘটেছে। এপিবিএনের পুলিশ সুপার আসমা বেগম রিটাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নেতৃত্ব ও তৎপরতায় বিভিন্ন ইউনিটের কার্যক্রমে জনবান্ধব ও সেবামূলক পুলিশিংয়ের চিত্র আরও দৃশ্যমান হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মোবাইল ফোন ও প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধার, মাদক ও অস্ত্র জব্দ, চোরাচালান প্রতিরোধ, আসামি গ্রেপ্তার এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে শত শত মানুষকে সহায়তার মধ্য দিয়ে জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এপিবিএনের সক্রিয়তা ও সক্ষমতার চিত্র আরও স্পষ্ট হয়েছে। এপিবিএন হেডকোয়ার্টার্সের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে বিভিন্ন ইউনিটের অভিযানে মোট ৮৪৪টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

একই সময়ে বিকাশ ও নগদ প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া ৯ লাখ ৫৮ হাজার ১৪৮ টাকা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া প্রতারণায় ব্যবহৃত ১৩টি সিম, একটি ফেসবুক আইডি, চারটি ফেসবুক আইডি-সংক্রান্ত অভিযোগের নিষ্পত্তি, তিনটি হোয়াটসঅ্যাপ, একটি ই-মেইল অ্যাকাউন্ট এবং প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা আরও ২ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। সাইবার বুলিংয়ের দুটি ঘটনাও সমাধান করা হয়েছে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে ৫০৮ জনকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযানে ১২ হাজার ৪২১টি ইয়াবা, ১ দশমিক ১৮ কেজি গাঁজা, ৩২ লিটার মদ, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২৮৫ কার্টন সিগারেট, ৭২টি বিদেশি সিগারেট ও ৭২টি বিয়ার উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় ১০টি মামলা দায়ের এবং ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় দুটি ওয়ানশুটার গান ও ১৬ রাউন্ড গুলি, একটি দেশীয় ধারালো দা এবং একটি লোহার দা উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। চোরাচালানবিরোধী অভিযানে ১ হাজার ৭৪৪ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১১টি মামলা দায়ের এবং পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি ৯১০ কেজি কসমেটিকস, ১৮৭টি শাড়ি ও বিভিন্ন পণ্য, দুটি মোবাইল/ল্যাপটপ, ৩২২ কেজি সামুদ্রিক কাঁকড়া, দুটি এফডিএমএন কার্ড এবং বিপুল পরিমাণ খাদ্যপণ্য ও অন্যান্য মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। এপিবিএনের অভিযানে ট্রাফিক আইনে ৩৩১টি মামলা করে ৯ লাখ ২৮ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। বিএসটিআই ও ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিভিন্ন অভিযানে আরও ৩১ লাখ ১১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৩৬ জনকে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত ১১ জন ও এজাহারনামীয় ১৬ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে হত্যা মামলায় দুইজন, অপহরণ মামলায় তিনজন এবং ধর্ষণ মামলায় দুইজন আসামি রয়েছে।

মানবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে অভিযানের মাধ্যমে ১৫ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ২১টি যানবাহন আটক এবং ৮৪ হাজার টাকা বাংলাদেশি মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে। জুলাই মাসে এপিবিএনের ৮, ১৪ ও ১৬ নম্বর ব্যাটালিয়নের মাধ্যমে মোট ৩১টি জিআর/সিআর মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলার সংশ্লিষ্ট আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বর্তমানে মামলাগুলো তদন্তাধীন রয়েছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, জুলাই মাসে ১২ এপিবিএনের অভিযানে বিভিন্ন ব্যাচের জিডির ভিত্তিতে ১৮৫টি হারানো মোবাইল ফোন এবং ভুলক্রমে চলে যাওয়া বিকাশ ও নগদের ৭৩ হাজার ১৯৮ টাকা উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ১৩ এপিবিএনের অভিযানে ৩০০ দশমিক ৭ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়, যার বাজারমূল্য ৪৭ লাখ ২০ হাজার ৯৯০ টাকা।

এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া ৮ এপিবিএনের অভিযানে চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার মূল আসামিসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ১৪ এপিবিএনের অভিযানে ৫ হাজার ৮০০টি ইয়াবাসহ একজনকে গ্রেপ্তার এবং ১৬ এপিবিএনের অভিযানে একটি ওয়ানশুটার বন্দুক ও ১৬ রাউন্ড তাজা গুলিসহ একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এপিবিএন হেডকোয়ার্টার্স জানিয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে জনগণের কাছে দ্রুত সেবা পৌঁছে দিতে বিভিন্ন ইউনিট নিরলসভাবে কাজ করছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং, দক্ষ অভিযান পরিচালনা এবং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে এপিবিএন যে সক্ষমতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিচ্ছে, জুলাই মাসের পরিসংখ্যান তারই একটি উল্লেখযোগ্য প্রতিফলন।

অতিরিক্ত আইজিপি ও এপিবিএন প্রধান হাসিব আজিজের নেতৃত্বে এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সক্রিয়তায় এপিবিএনের এই কার্যক্রম জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নাগরিক আস্থা আরও সুদৃঢ় করতে ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতেও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জননিরাপত্তা নিশ্চিত ও নাগরিক সেবা আরও সম্প্রসারণে এপিবিএন অঙ্গীকারবদ্ধ।

পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ৩৫ মিনিট ধরে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া

নেত্রকোনার মদনে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দুই প্রতিবেশী পরিবারের লোকজনের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছেন। রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার ৬ নম্বর তিয়শ্রী ইউনিয়নের কাওয়ালী বিন্নি গ্রামের সড়কের পাশে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রায় ৩৫ মিনিট ধরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ চলে। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, কাওয়ালী বিন্নি গ্রামের নজরুল ও প্রতিবেশী জাহাঙ্গীরের পক্ষের লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। গত ঈদুল ফিতরের সময় গরু জবাই ও একটি শিশুকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ঘটনাকে ঘিরে দুই পক্ষের বিরোধ আরও তীব্র রূপ নেয়। রোববার দুপুরে নজরুলের পক্ষের সেকুল মিয়া ফতেপুর হাটশিরা বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে জাহাঙ্গীরের পক্ষের লোকজন তার পথরোধ করে ধাওয়া দেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন- শাস্তুরা, কামাল, নজরুল, আতিউর রহমান, মোফাজ্জল, রবুল, সেকুল, আব্দুল হেকিম, জামাল, বাবলু, রাইস উদ্দিন, টিপু, লালন, বিপুল, রকি, জুলহাস, মোরশেদ ও বাক্কাসহ আরও কয়েকজন। আহতদের মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকিরা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ মীমাংসার জন্য একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি। প্রশাসনের হস্তক্ষেপেও বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে দাবি করেন তারা। ৬ নম্বর তিয়শ্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান বলেন,কাওয়ালী বিন্নি গ্রামের সংঘর্ষের ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। বিষয়টি মদন থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। মদন থানার ওসি (তদন্ত) অসীম কুমার জানান, সংঘর্ষের খবর পাওয়ার পরপরই হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

চা শিল্পের উন্নয়নে মনিটরিং ও পরামর্শক কমিটি গঠন, দায়িত্ব পেলেন যারা

0

দেশের চা শিল্পের উন্নয়ন ও বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে মনিটরিং ও পরামর্শক কমিটি গঠন করা হয়েছে। রোববার (১৬ আগস্ট) এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। প্রজ্ঞাপনে কমিটির কার্যপরিধিও নির্ধারণ করা হয়েছে। কমিটিতে বাণিজ্যমন্ত্রীকে সভাপতি এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ চা সংসদের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ চা সংসদের সাবেক চেয়ারম্যান এম ওয়াহিদুল হক এবং টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যানকে সদস্য করা হয়েছে। কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে, চা বাগানের বিদ্যমান ঋণ পরিশোধ সহজীকরণের লক্ষ্যে বাগান মালিকদের শ্রেণিকৃত ঋণ পুনঃতপশিলকরণ এবং নতুন করে ঋণ প্রদানের বিষয়ে সুপারিশ করা। পাশাপাশি চা খাতের জন্য ৬ শতাংশ সুদে একটি আবর্তক তহবিল গঠনের বিষয়ে মতামত দেবে কমিটি। এ ছাড়া চা-কে কৃষিপণ্য হিসেবে ঘোষণার পাশাপাশি বাগানের অব্যবহৃত জায়গায় বাণিজ্যিকভাবে সৌর প্যানেল স্থাপনের বিষয়ে মতামতসহ প্রতিবেদন আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রয়োজন হলে কমিটি সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে। কমিটির সভা প্রয়োজন অনুসারে অনুষ্ঠিত হবে এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। কমিটির সদস্যদের মধ্যে বাণিজ্য, অর্থ, কৃষি, ভূমি ও বিদ্যুৎ খাতের সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি চা শিল্পের প্রতিনিধিদের রাখা হয়েছে। ফলে চা শিল্পের ঋণ, অর্থায়ন, উৎপাদন ও বাগানের অব্যবহৃত জমির ব্যবহারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সমন্বিতভাবে সুপারিশ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনায় সিএমপির কনস্টেবল জাহাঙ্গীর আলমের মৃত্যু

ফেনীতে সড়ক দুর্ঘটনায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) খুলশী থানায় কর্মরত কনস্টেবল জাহাঙ্গীর আলমের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার পথে ফেনী সদর থানার কাজীরবাগ এলাকায় একটি অটোরিকশার সঙ্গে মিনি পিকআপের সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত ৭টা ২০ মিনিটের দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত জাহাঙ্গীর আলমের বয়স ৩৯ বছর। তিনি সিএমপির খুলশী থানায় ওয়্যারলেস অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। জাহাঙ্গীর আলম ফেনী সদর উপজেলার ৫ নম্বর কাজীরবাগ ইউনিয়নের গিল্লাবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা আব্দুল কাদের এবং মা ছালেহা বেগম। তার অকাল মৃত্যুতে সহকর্মীদের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একজন দায়িত্বশীল পুলিশ সদস্যকে হারিয়ে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন সহকর্মীরা। মহান আল্লাহর নিকট  মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।

সমুদ্রবন্দরে জেলেদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা, সতর্কসংকেত বহাল

0

দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্যের কারণে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ পরিস্থিতিতে সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে আবহাওয়ার সতর্কবার্তায় তথ্যটি জানানো হয়।  এতে বলা হয়েছে, ঝাড়খণ্ড এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে বর্তমানে লঘুচাপ হিসাবে দক্ষিণপূর্ব ঝাড়খণ্ড এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে।  এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।  ফলে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

0

কিশোরগঞ্জ পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১৬ আগস্ট) বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে জেলার পাকুন্দিয়ায় পৌঁছান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে সকাল থেকেই পাকুন্দিয়ার বিভিন্ন সড়কের দুই পাশে নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের ভিড় দেখা যায়। প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে ভোর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এসে জড়ো হয়েছেন। পাকুন্দিয়ার মির্জাপুর এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদে এদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পোনামাছ অবমুক্ত করার কর্মসূচি রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এ উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।