Home Blog Page 23

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: কর্নেল অলি আহমদের মনোনয়নপত্র বৈধ

0

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রোববার (১৬ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সিইসির কনফারেন্স কক্ষে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচনি কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন। এ সময় ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এদিকে, বেলা ১২টার দিকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শুরু করার কথা রয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থীদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। এরপর বৈধ প্রার্থীরা আগামী ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টার মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারবেন। একাধিক প্রার্থী থাকলে আগামী ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এতে ভোট দেবেন সংসদ সদস্যরা। রাষ্ট্রপতি পদে এবার মোট তিনটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। এর মধ্যে বিএনপির একটি এবং ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে দুটি মনোনয়নপত্র দেওয়া হয়। অলি আহমদের একটি মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়ায় একই দলের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া অপর মনোনয়নপত্রটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চালু হচ্ছে অটো ফাইন

মহাসড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত ও ট্রাফিক শৃঙ্খলা জোরদার করতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আধুনিক এআই প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু করছে হাইওয়ে পুলিশ। আগামী মঙ্গলবার থেকে দেশের ব্যস্ততম এই মহাসড়কে শুরু হবে প্রযুক্তিনির্ভর এ কার্যক্রম। হাইওয়ে পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, অবৈধ পার্কিং, উল্টোপথে চলাচলসহ বিভিন্ন ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করা হবে। এআই প্রযুক্তির ক্যামেরায় আইন অমান্যকারী যানবাহন শনাক্ত হওয়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত মালিকের মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে মামলার তথ্য পাঠানো হবে। মামলার তথ্য পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট যানবাহনের মালিক নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রচলিত মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি (মিডিয়া) মুনতাসিরুল ইসলাম জানান, প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থার ফলে মহাসড়কে সংঘটিত ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে মহাসড়কে যান চলাচলে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।

বোয়ালখালীতে স্বপ্নীল মুক্ত স্কাউট গ্রুপের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও নিম চারা বিতরণ

“সেবা হলো স্কাউটের ব্রত, গাছ লাগাই শতশত” — এই স্লোগানকে ধারণ করে বোয়ালখালী উপজেলায় স্বপ্নীল মুক্ত স্কাউট গ্রুপের উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও নিম চারা বিতরণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। সম্প্রতি আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সাংবাদিক মুজাহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি সফলভাবে আয়োজনের নেতৃত্বে ছিলেন বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আহ্বায়ক দিগন্ত নাগ এবং সদস্য সচিব রাষ্ট্রপতি অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত পাভেল মহাজন, পি.আর.এস।


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক জনাব মোঃ মাহাবুল আলম সওদাগর, বিশিষ্ট সমাজসেবক জনাব মোঃ জামাল উদ্দিন, বিশিষ্ট সমাজসেবক প্রণয় বড়ুয়া এবং সাংবাদিক বাবর মুনাফ। সংগঠনের সভাপতি লাবীব মোহাম্মদ তক্বী, পি.আর.এস এবং সম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মদ আসিফ মাহমুদ, পি.আর.এস -এর সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সুদীপ্ত দাশ, দুর্জয় দাশ, নাহিদ সুলতানা, সাথী চক্রবর্তী, স্বপ্না দে, উম্মে হাবিবা হীরা, সাফিয়া এবং ইমু প্রমুখ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর, স্বপ্নীল মুক্ত স্কাউট গ্রুপের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামের সারোয়াতলী, ধোরলা এবং আহল্লা করলডেঙ্গা ইউনিয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বৃক্ষরোপণ করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে ওই এলাকাগুলোর বিভিন্ন জামে মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংগঠনের সদস্যরা নিজ হাতে বৃক্ষরোপণ করেন। একই সাথে স্থানীয় জনগণের মাঝে ঔষধি গুণসম্পন্ন প্রচুর পরিমাণে নিম গাছের চারা বিতরণ করা হয়। বক্তারা বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। স্কাউট সদস্যদের এই উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশ সচেতনতা তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সতর্কবার্তা

হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে বড় ধরনের ভুয়া গোয়েন্দা তথ্যের বিষয়ে সতর্ক করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। মার্কিন গোয়েন্দা ব্যর্থতার কারণে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন আগেও ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে দাবি করে তিনি বলেছেন, এবার হরমুজ প্রণালি নিয়েও একই ধরনের ভুল হতে পারে। খবর তাসনিম নিউজ এজেন্সির। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি লিখেছেন, গোয়েন্দা ব্যর্থতার কারণে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই ভুল হিসাব করে আসছে। এর উদাহরণ ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। এখন হরমুজ প্রণালি নিয়ে আরও বড় ভুল হিসাব করা হচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনকে সতর্ক করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভুয়া খবরের চেয়েও খারাপ হলো ভুয়া গোয়েন্দা তথ্য। সাবধান। পোস্টের শেষে তিনি লেখেন, আল্লাহ মহান, পৃথিবীর যে কোনো শক্তির চেয়েও মহান। আমরা আল্লাহর ওপরই ভরসা করি। আরাগচির এই মন্তব্য এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালি নিয়ে করা দাবির পর। বুধবার ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। একই পোস্টে তিনি বলেন, আমি মনে করি, আমরা এটি ধরে রাখব। তবে ট্রাম্পের এমন দাবির মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী ট্র্যাক করা জাহাজের সংখ্যা কমে এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন আটটিতে নেমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে জাহাজগুলো এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ব্যবহার করতে ক্রমেই বেশি সতর্কতা অবলম্বন করছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনার মধ্যেই ওয়াশিংটন-তেহরানের সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরান এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রণালিতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ফলে ট্রাম্পের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের দাবি এবং আরাগচির ভুল গোয়েন্দা তথ্যের সতর্কবার্তা হরমুজ প্রণালি ঘিরে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করেছে।

সাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, কয়েকদিন ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

0

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূলে অবস্থানরত লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এটি পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূল এবং সংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, লঘুচাপটি আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে শক্তিশালী হতে পারে। এ অবস্থায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির পাশাপাশি কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও হতে পারে ভারী বর্ষণ। এ সময়ে সারা দেশে দিনের ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। শুক্রবারও খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং অন্যান্য কয়েকটি বিভাগের কিছু এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবারও একই ধরনের আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। রোববার রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বর্ষণ হতে পারে। সোমবারও রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং অন্যান্য কয়েকটি বিভাগের কিছু এলাকায় বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, এই সময়ে দেশের তাপমাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন না হলেও কিছু এলাকায় সামান্য ওঠানামা করতে পারে। ফলে আগামী কয়েকদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

শাহবাগে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করল ডিএসসিসি

0

রাজধানীর যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে পরীক্ষামূলকভাবে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) শাহবাগ মোড়ে এ সিগন্যাল ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আব্দুস সালাম বলেন, ‘নগরের অন্যতম প্রধান সমস্যা তীব্র যানজট। এ যানজটের কারণে প্রতিদিন মানুষের মূল্যবান কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। তাই যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, ঢাকা মহানগরীর ২০টি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনে প্রাথমিকভাবে স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডিএসসিসির আওতাধীন প্রাথমিকভাবে আটটি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনকে এ ব্যবস্থার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো, বাংলামটর, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, মিন্টো রোড, কাকরাইল সার্কেল, মৎস্য ভবন, কদম চত্বর, শিক্ষা ভবন ও শাহবাগ মোড়। আব্দুস সালাম বলেন, ‘আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালুর কার্যক্রম এখানেই শেষ নয়। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ঢাকা মহানগরীর আরও ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনে এ ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ডিএসসিসির আওতাধীন আরও ২২টি ইন্টারসেকশনে ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করা হবে।’ নগরবাসী ও গাড়িচালকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘সড়কে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং বন্ধ করতে হবে। চালক ও পথচারীদের সিগন্যাল ও ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। ট্রাফিক সতর্কীকরণ সাইন, রোড মার্কিং, জেব্রা ক্রসিং ও নির্দিষ্ট লেন অনুসরণ করতে হবে। ইন্টারসেকশনে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা বা ভাসমান দোকান রাখা যাবে না।’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার, প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মোয়াজ্জেম হোসেন, প্রফেসর ড. মুহাম্মদ হাদিউজ্জামান, ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মোহাম্মদ আনিসুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

আকবরশাহ থানার সফল ওসি কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণার অভিযোগ, বিভিন্ন মহলের প্রতিবাদ

স ম জিয়াউর রহমান, চট্টগ্রাম থেকে :
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) আকবরশাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের সুনাম ও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একদল অসাধু চক্র ও মাদককারবারী গ্রুপ অপপ্রচার ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নগরীর বিভিন্ন থানায় অত্যন্ত দক্ষতা, সততা ও সাহসিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসা এই চৌকস পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও ব্যবসায়ীরা। ​সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অপপ্রচারের বিষয়ে ওসি মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন নন। তিনি বলেন, “আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। তদন্ত সাপেক্ষে তারা যে সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন, সেটিই হবে।” ​এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় আকবরশাহ ও আশপাশের এলাকায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি এবং মাদকের একাধিক স্পট মাদক আখরা হিসেবে সক্রিয় ছিল। ফলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। নির্ভীক এই পুলিশ কর্মকর্তা আকবরশাহ থানায় দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই অপরাধীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করায় এলাকায় শান্তির পরিবেশ ফিরে। তার কঠোর ও সাহসী পদক্ষেপের কারণে এলাকা থেকে মাদকের আস্তানা ও অপরাধী চক্রের তৎপরতা অনেকাংশেই নির্মূল হয়েছে। ​এলাকার সচেতন নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের মতে, নতুন ওসি যোগ দেওয়ার পর আকবরশাহ থানা এলাকায় প্রায় ৯৫ শতাংশ অপরাধও কমে এসেছে। এতে স্বস্তি ফিরে এসেছে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে। আর এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে সুবিধা বঞ্চিত এবং অপরাধী চক্রের একটি দল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে বলে দাবি করেছেন তারা। ​সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এসব গুজবে কান না দিয়ে একজন সৎ ও সাহসী পুলিশ কর্মকর্তার পাশে দাঁড়ানোর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকার সাধারণ জনগণ। এদিকে চট্টগ্রামের মাদক বিরোধী সংগঠন অ্যান্টি ড্রাগ নেটওয়ার্কের উপদেষ্টা রোটারিয়ান এস এম আজিজ, সভাপতি স ম জিয়াউর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেন নিজামী আকবর শাহ থানার সাহসী ও চৌকস ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো : কামরুজ্জামান এর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা, বানোয়াট ও কাল্পনিক অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানান। বিবৃতিতে তারা বলেন, একজন সাহসী পুলিশ কর্মকর্তাকে আকবর শাহ থানা থেকে সরানোর জন্য মাদক চক্র অপপ্রচার চালাচ্ছে, কিন্তু তাদের এ কাজ সফল হবে না। অ্যান্টি ড্রাগ নেটওয়ার্ক সবসময়ই মো : কামরুজ্জামান এর পাশে থাকবেন এবং অপপ্রচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবেন।

ছয় অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরেও সতর্কসংকেত

0

দেশের ছয়টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবিরের দেওয়া সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। আবহাওয়া অফিস জানায়, এদিন সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নৌবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।  এদিকে সকালের পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, দেশের উপকূলীয় এলাকায় সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী পাঁচ দিন সারাদেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। সেই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূল এবং তৎসংলগ্ন উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হতে পারে। এর ফলে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিল স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। রিটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চাওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ এ রিট দায়ের করেন। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়- কোন নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি-(ক) উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহা হইলে সংসদে তাহার আসন শূন্য হইবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোনো নির্বাচনে সংসদ সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না।রিটকারী আইনজীবী জানান, ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে আইনজীবীরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারে না। তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ব্যাহত হয়। দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকাল ৪টা। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তফসিল অনুযায়ী, এদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এরই মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনকে ‘নির্বাচনী কর্তা’ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তফসিল অনুযায়ী, ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র বাছাই করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট। ভোটগ্রহণ হবে ২০ আগস্ট।

বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম গঠিত পাঁচ জেলার মানুষের অধিকার, উন্নয়ন ও চলমান সমস্যা সমাধানে ঐক্যবদ্ধ নাগরিক প্ল্যাটফর্ম

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম বিভাগের বৃহত্তর পাঁচ জেলা—চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, দীর্ঘদিনের চলমান সমস্যা সমাধান, নাগরিক সেবা নিশ্চিতকরণ এবং সমন্বিত উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম’ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ উপলক্ষে ১১ আগস্ট মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় চেরাগী পাহাড়স্থ দৈনিক আজাদী অফিসের পাশের ভবনে বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিক ও প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিশিষ্ট সমাজসেবক হামিদ হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় পাঁচ জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধি, সমাজকর্মী, সাংবাদিক, লেখক, পেশাজীবী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিতি যথাক্রমে- মনসুর আলম, বেলাল উদ্দিন, আনিস খোকন, মহাজন, মোঃ আলী আহমদ, এড মো. রায়হানুল ওয়াজেদ, বাবলু, আলী, মো: মুজিবুর রহমান চৌধুরী, আবু ছৈয়দ, মাহফুজুর রহমান, অরুপ চন্দ্র, ড: সানাউল্ল্যহ, মো: মহসিন, সোহেল রানা, আবু বক্কর, জসিম উদ্দিন, আজগর আলী মানিক, নুরুল আজিম, সাংবাদিক আকতার উদ্দিন রানা, মোঃ সোহেল রানা, আবদুল গফুর, শেখ নজরুল ইসলাম, আরিফুল ইসলাম সাগর, আবদুল মন্নান, মাসুদুর রহমান, শাহাজাদা ইব্রাহীম, ড: এনামুল হক, শাহাদাৎ, মিজানুর রহমান, জাহেদ তুষার, জুয়েল দেব, কাউছার, আয়ুব খান, মো: আবু, সাইফুল ইসলাম, জসিম উদ্দিন খন্দরকার, ফরহাদ মোস্তাক, সোহেল মো: ফখরুদ্দিন, ডবপ্লব বিজয়, আলী আজম, ইব্রাহীম বড়ুয়া, আলী আজগর খান, শামসুল আলম, দিল আফরোজ, ইলিয়স ইলু, সাংবাদিক জামাল উদ্দিন, জসিম, শাহরিয়া রিপন, এামুন, প্রকৌশলি ইমরান, সাংবাদিক মিজান সমকান্তি, ঘামীদ হোসেন, নুরহুদা, লায়ন নজরুল, সাংবাদিক জাহাঙ্গীর, রিয়জ, রতন বড়ুয়া, স.ম.জিয়া, দেলোয়ার, নজরুল ইসলম, জাবেদ, আবু ছিদ্দিক, মো: শাকিম, সাংবাদিক জাহাঙ্গির আলম, আবদুল মান্নান, পংকজ পাল, শামসুল হায়দার তুষার, ওহীম দাশ, মো: ইদ্রিস, খোকন মজুমদার, অধ্যাপক জিতেন্দ্র লাল বড়ুয়া, শারমিন তাহেরা, আরিফ চৌ:, লিঠু সুত্রধর, সাংবাদিক কামাল উদ্দিন খোকন, কাহীনুর, মো: ইদ্রীস, ফখরুল ইসলাম পলাশ, মো: ইউনুস, আবদুল হালেদ, শাহ আলম বউ বাজার, আজগর খান, মো: গিয়াস উদ্দিন, সাংকাদিক কামাল, ওসমান গণি, শফিউল আলম, সেলিমউল্ল্যহ চৌ, প্রকৌশলী অসুখ, নুর মোহাম্মদ, মুন্নি বেগম, ছৈয়দ মো: সেলিম, মো: দিদারুল আলম, মিনহাজুল ইসলাম, জমির ফটিক ছড়ি, রুবেল বড়ুয়া, ইরফানুল ইসলাম, মো: রহিম, সাংবাদিক শহীদুল হক বাবলু, দুলাল কান্তি বড়ুয়া, মো: শওকত হোসেন, মামুদুল আলম, মহিউদ্দীন বাবলু, নিশী চৌ:, নজরুল মো: রাশেদ, আবুল কাশেম, মো: মফিজুর রহমান, মো: ইসহাক, আবদুল মান্নান, সাংকাদিক নুর মো: রানা, মো: নাজিম উদ্দিন, মনজুরুল আলম, খুশি নিরব, সাইফুল মজুমদার, এম নুরুল হুদা চৌধুরী, আজগর হোসেন তালুকদার, ওহিমা আক্তার ডলি, ওয়হিদুল আলম, শিউলি আক্তার, নুর হুদা, লাভলী ডিউ, নিলুফা রহমান, আবদুল বাতেন, এস কফিল উদ্দিন, বিপ্লব দাশ গুপ্ত, মো: সেলিম, আহমেদ কবির, মাহফুজুর রহমান, মো: ইরফানুল ইসলাম, এম হামিদ হোসাইস, আক্তার হোসাইন, জিয়াউর রহমান ও মো: মাহবুবুর রহমান প্রমুখ। সভায় বক্তারা বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান, প্রাকৃতিক সম্পদ, পর্যটন সম্ভাবনা, পাহাড়-সমুদ্র ও নদীঘেরা বৈচিত্র্যময় প্রকৃতির কারণে বৃহত্তর চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। দেশের অর্থনীতি, বন্দর, পর্যটন, মৎস্য, কৃষি, বনজ সম্পদ ও আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। কিন্তু সম্ভাবনার তুলনায় এ অঞ্চলের অনেক সমস্যা এখনো কাঙ্ক্ষিতভাবে সমাধান হয়নি। বক্তারা আরও বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা, যানজট, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বন্দর ও যোগাযোগব্যবস্থার সমস্যা যেমন রয়েছে, তেমনি কক্সবাজারে পর্যটন ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ ও অবকাঠামো, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানে পাহাড়ি জনপদের যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, পর্যটন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধার নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব সমস্যা বিচ্ছিন্নভাবে নয়, বরং বৃহত্তর আঞ্চলিক স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিতভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।সভায় বক্তারা অভিমত প্রকাশ করেন, বৃহত্তর চট্টগ্রামের পাঁচ জেলার নাগরিকদের অভিন্ন স্বার্থ ও অধিকার নিয়ে একটি শক্তিশালী, দায়িত্বশীল ও নিরপেক্ষ নাগরিক প্ল্যাটফর্ম সময়ের দাবি। এ প্ল্যাটফর্ম কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়; বরং সাধারণ মানুষের কথা বলা, উন্নয়ন-সমস্যা চিহ্নিত করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যৌক্তিক দাবি তুলে ধরার জন্য কাজ করবে। নাগরিক ফোরাম গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন মো. কামাল উদ্দিন সভায় বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম গঠনের প্রয়োজনীয়তা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত যুক্তি তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক ও লেখক মো. কামাল উদ্দিন। তিনি বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রামের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে পাঁচ জেলার নাগরিকদের মধ্যে সমন্বয় সৃষ্টি করা জরুরি। কোনো একটি জেলার সমস্যা অন্য জেলার সমস্যা থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। যোগাযোগ, পর্যটন, পরিবেশ, নদী, পাহাড়, সমুদ্র, অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের বিষয়গুলো পারস্পরিকভাবে সম্পর্কিত। তাই নাগরিকদের একটি সম্মিলিত প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এসব বিষয় সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম হবে নাগরিক স্বার্থের কণ্ঠস্বর। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ, পেশা ও ব্যক্তিগত রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে বৃহত্তর চট্টগ্রামের মানুষের স্বার্থে কাজ করাই হবে এ ফোরামের প্রধান লক্ষ্য। নাগরিক সমস্যা চিহ্নিত করা, তথ্য সংগ্রহ, গবেষণা, জনমত সৃষ্টি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা এবং প্রয়োজনে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে দাবি আদায়ে ভূমিকা রাখবে ফোরাম। ১০১ সদস্যের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত সভায় দীর্ঘ আলোচনা ও উপস্থিত প্রতিনিধিদের মতামত পর্যালোচনা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে ১০১ সদস্যবিশিষ্ট বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সর্বসম্মতিক্রমে কক্সবাজার ক্লাব লিমিটেডের সভাপতি ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ আবু সাঈদকে চেয়ারম্যান, সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহাফুজুর রহমানকে কার্যকরী সভাপতি, ড.মুহাম্মদ সানাউল্লাহকে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান, হামিদ হোসাইনকে ভাইস চেয়ারম্যান , সাংবাদিক ও লেখক মো. কামাল উদ্দিনকে মহাসচিব এবং সৈয়দ মোহাম্মদ সেলিম সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। সভায় বলা হয়, প্রাথমিকভাবে নেতৃত্বের কাঠামো নির্ধারণ করা হলেও ১০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অন্যান্য পদ-পদবি চূড়ান্ত করার জন্য পরবর্তীতে একটি সাধারণ সভার আয়োজন করা হবে। ওই সাধারণ সভায় পাঁচ জেলার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে আলোচনা ও মতামতের ভিত্তিতে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব বণ্টন করা হবে এবং এরপর ১০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। পাঁচ জেলার সমন্বয়ে কাজ করবে ফোরাম নবগঠিত বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের আওতায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলার নাগরিক প্রতিনিধিদের সমন্বিত করা হবে। প্রতিটি জেলার স্থানীয় সমস্যা ও সম্ভাবনা চিহ্নিত করে তা ফোরামের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে। ফোরামের সম্ভাব্য কর্মপরিকল্পনার মধ্যে থাকবে— বৃহত্তর চট্টগ্রামের নাগরিক সমস্যা চিহ্নিত ও তালিকাভুক্ত করা; শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর দাবি উত্থাপন; চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা, যানজট ও নাগরিক দুর্ভোগ নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ; কক্সবাজারের পর্যটন উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখা; পাহাড়ি তিন জেলা খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান নিয়ে কাজ করা; পাহাড়, নদী, বন ও সমুদ্রের পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা সৃষ্টি; বৃহত্তর চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক ও পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগানোর জন্য সুপারিশ প্রণয়ন; নাগরিক অধিকার ও ন্যায্য দাবির বিষয়ে জনমত সৃষ্টি; গবেষণা ও তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরি করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন; উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো। সভায় উপস্থিত প্রতিনিধিরা আশা প্রকাশ করেন, বৃহত্তর চট্টগ্রামের পাঁচ জেলার নাগরিকদের সমন্বয়ে গঠিত এই ফোরাম ভবিষ্যতে একটি শক্তিশালী নাগরিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে উঠবে এবং মানুষের অধিকার ও আঞ্চলিক উন্নয়নের প্রশ্নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। সভা থেকে বৃহত্তর চট্টগ্রামের সর্বস্তরের নাগরিক, পেশাজীবী, লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষক, আইনজীবী, চিকিৎসক, ব্যবসায়ী, সমাজকর্মী, তরুণ ও নারী প্রতিনিধিদের এই নাগরিক উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়—বৃহত্তর চট্টগ্রামের মানুষের কথা বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরতে হবে, আর সেই লক্ষ্যেই ঐক্য, সমন্বয় ও নাগরিক অংশগ্রহণের ভিত্তিতে এগিয়ে যাবে ‘বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম’।