বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম গঠিত পাঁচ জেলার মানুষের অধিকার, উন্নয়ন ও চলমান সমস্যা সমাধানে ঐক্যবদ্ধ নাগরিক প্ল্যাটফর্ম

By admin
8 Min Read

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম বিভাগের বৃহত্তর পাঁচ জেলা—চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, দীর্ঘদিনের চলমান সমস্যা সমাধান, নাগরিক সেবা নিশ্চিতকরণ এবং সমন্বিত উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম’ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ উপলক্ষে ১১ আগস্ট মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় চেরাগী পাহাড়স্থ দৈনিক আজাদী অফিসের পাশের ভবনে বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিক ও প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিশিষ্ট সমাজসেবক হামিদ হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় পাঁচ জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধি, সমাজকর্মী, সাংবাদিক, লেখক, পেশাজীবী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিতি যথাক্রমে- মনসুর আলম, বেলাল উদ্দিন, আনিস খোকন, মহাজন, মোঃ আলী আহমদ, এড মো. রায়হানুল ওয়াজেদ, বাবলু, আলী, মো: মুজিবুর রহমান চৌধুরী, আবু ছৈয়দ, মাহফুজুর রহমান, অরুপ চন্দ্র, ড: সানাউল্ল্যহ, মো: মহসিন, সোহেল রানা, আবু বক্কর, জসিম উদ্দিন, আজগর আলী মানিক, নুরুল আজিম, সাংবাদিক আকতার উদ্দিন রানা, মোঃ সোহেল রানা, আবদুল গফুর, শেখ নজরুল ইসলাম, আরিফুল ইসলাম সাগর, আবদুল মন্নান, মাসুদুর রহমান, শাহাজাদা ইব্রাহীম, ড: এনামুল হক, শাহাদাৎ, মিজানুর রহমান, জাহেদ তুষার, জুয়েল দেব, কাউছার, আয়ুব খান, মো: আবু, সাইফুল ইসলাম, জসিম উদ্দিন খন্দরকার, ফরহাদ মোস্তাক, সোহেল মো: ফখরুদ্দিন, ডবপ্লব বিজয়, আলী আজম, ইব্রাহীম বড়ুয়া, আলী আজগর খান, শামসুল আলম, দিল আফরোজ, ইলিয়স ইলু, সাংবাদিক জামাল উদ্দিন, জসিম, শাহরিয়া রিপন, এামুন, প্রকৌশলি ইমরান, সাংবাদিক মিজান সমকান্তি, ঘামীদ হোসেন, নুরহুদা, লায়ন নজরুল, সাংবাদিক জাহাঙ্গীর, রিয়জ, রতন বড়ুয়া, স.ম.জিয়া, দেলোয়ার, নজরুল ইসলম, জাবেদ, আবু ছিদ্দিক, মো: শাকিম, সাংবাদিক জাহাঙ্গির আলম, আবদুল মান্নান, পংকজ পাল, শামসুল হায়দার তুষার, ওহীম দাশ, মো: ইদ্রিস, খোকন মজুমদার, অধ্যাপক জিতেন্দ্র লাল বড়ুয়া, শারমিন তাহেরা, আরিফ চৌ:, লিঠু সুত্রধর, সাংবাদিক কামাল উদ্দিন খোকন, কাহীনুর, মো: ইদ্রীস, ফখরুল ইসলাম পলাশ, মো: ইউনুস, আবদুল হালেদ, শাহ আলম বউ বাজার, আজগর খান, মো: গিয়াস উদ্দিন, সাংকাদিক কামাল, ওসমান গণি, শফিউল আলম, সেলিমউল্ল্যহ চৌ, প্রকৌশলী অসুখ, নুর মোহাম্মদ, মুন্নি বেগম, ছৈয়দ মো: সেলিম, মো: দিদারুল আলম, মিনহাজুল ইসলাম, জমির ফটিক ছড়ি, রুবেল বড়ুয়া, ইরফানুল ইসলাম, মো: রহিম, সাংবাদিক শহীদুল হক বাবলু, দুলাল কান্তি বড়ুয়া, মো: শওকত হোসেন, মামুদুল আলম, মহিউদ্দীন বাবলু, নিশী চৌ:, নজরুল মো: রাশেদ, আবুল কাশেম, মো: মফিজুর রহমান, মো: ইসহাক, আবদুল মান্নান, সাংকাদিক নুর মো: রানা, মো: নাজিম উদ্দিন, মনজুরুল আলম, খুশি নিরব, সাইফুল মজুমদার, এম নুরুল হুদা চৌধুরী, আজগর হোসেন তালুকদার, ওহিমা আক্তার ডলি, ওয়হিদুল আলম, শিউলি আক্তার, নুর হুদা, লাভলী ডিউ, নিলুফা রহমান, আবদুল বাতেন, এস কফিল উদ্দিন, বিপ্লব দাশ গুপ্ত, মো: সেলিম, আহমেদ কবির, মাহফুজুর রহমান, মো: ইরফানুল ইসলাম, এম হামিদ হোসাইস, আক্তার হোসাইন, জিয়াউর রহমান ও মো: মাহবুবুর রহমান প্রমুখ। সভায় বক্তারা বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান, প্রাকৃতিক সম্পদ, পর্যটন সম্ভাবনা, পাহাড়-সমুদ্র ও নদীঘেরা বৈচিত্র্যময় প্রকৃতির কারণে বৃহত্তর চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। দেশের অর্থনীতি, বন্দর, পর্যটন, মৎস্য, কৃষি, বনজ সম্পদ ও আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। কিন্তু সম্ভাবনার তুলনায় এ অঞ্চলের অনেক সমস্যা এখনো কাঙ্ক্ষিতভাবে সমাধান হয়নি। বক্তারা আরও বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা, যানজট, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বন্দর ও যোগাযোগব্যবস্থার সমস্যা যেমন রয়েছে, তেমনি কক্সবাজারে পর্যটন ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ ও অবকাঠামো, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানে পাহাড়ি জনপদের যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, পর্যটন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধার নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব সমস্যা বিচ্ছিন্নভাবে নয়, বরং বৃহত্তর আঞ্চলিক স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিতভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।সভায় বক্তারা অভিমত প্রকাশ করেন, বৃহত্তর চট্টগ্রামের পাঁচ জেলার নাগরিকদের অভিন্ন স্বার্থ ও অধিকার নিয়ে একটি শক্তিশালী, দায়িত্বশীল ও নিরপেক্ষ নাগরিক প্ল্যাটফর্ম সময়ের দাবি। এ প্ল্যাটফর্ম কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়; বরং সাধারণ মানুষের কথা বলা, উন্নয়ন-সমস্যা চিহ্নিত করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যৌক্তিক দাবি তুলে ধরার জন্য কাজ করবে। নাগরিক ফোরাম গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন মো. কামাল উদ্দিন সভায় বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম গঠনের প্রয়োজনীয়তা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত যুক্তি তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক ও লেখক মো. কামাল উদ্দিন। তিনি বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রামের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে পাঁচ জেলার নাগরিকদের মধ্যে সমন্বয় সৃষ্টি করা জরুরি। কোনো একটি জেলার সমস্যা অন্য জেলার সমস্যা থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। যোগাযোগ, পর্যটন, পরিবেশ, নদী, পাহাড়, সমুদ্র, অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের বিষয়গুলো পারস্পরিকভাবে সম্পর্কিত। তাই নাগরিকদের একটি সম্মিলিত প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এসব বিষয় সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম হবে নাগরিক স্বার্থের কণ্ঠস্বর। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ, পেশা ও ব্যক্তিগত রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে বৃহত্তর চট্টগ্রামের মানুষের স্বার্থে কাজ করাই হবে এ ফোরামের প্রধান লক্ষ্য। নাগরিক সমস্যা চিহ্নিত করা, তথ্য সংগ্রহ, গবেষণা, জনমত সৃষ্টি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা এবং প্রয়োজনে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে দাবি আদায়ে ভূমিকা রাখবে ফোরাম। ১০১ সদস্যের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত সভায় দীর্ঘ আলোচনা ও উপস্থিত প্রতিনিধিদের মতামত পর্যালোচনা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে ১০১ সদস্যবিশিষ্ট বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সর্বসম্মতিক্রমে কক্সবাজার ক্লাব লিমিটেডের সভাপতি ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ আবু সাঈদকে চেয়ারম্যান, সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহাফুজুর রহমানকে কার্যকরী সভাপতি, ড.মুহাম্মদ সানাউল্লাহকে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান, হামিদ হোসাইনকে ভাইস চেয়ারম্যান , সাংবাদিক ও লেখক মো. কামাল উদ্দিনকে মহাসচিব এবং সৈয়দ মোহাম্মদ সেলিম সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। সভায় বলা হয়, প্রাথমিকভাবে নেতৃত্বের কাঠামো নির্ধারণ করা হলেও ১০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অন্যান্য পদ-পদবি চূড়ান্ত করার জন্য পরবর্তীতে একটি সাধারণ সভার আয়োজন করা হবে। ওই সাধারণ সভায় পাঁচ জেলার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে আলোচনা ও মতামতের ভিত্তিতে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব বণ্টন করা হবে এবং এরপর ১০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। পাঁচ জেলার সমন্বয়ে কাজ করবে ফোরাম নবগঠিত বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের আওতায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলার নাগরিক প্রতিনিধিদের সমন্বিত করা হবে। প্রতিটি জেলার স্থানীয় সমস্যা ও সম্ভাবনা চিহ্নিত করে তা ফোরামের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে। ফোরামের সম্ভাব্য কর্মপরিকল্পনার মধ্যে থাকবে— বৃহত্তর চট্টগ্রামের নাগরিক সমস্যা চিহ্নিত ও তালিকাভুক্ত করা; শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর দাবি উত্থাপন; চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা, যানজট ও নাগরিক দুর্ভোগ নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ; কক্সবাজারের পর্যটন উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখা; পাহাড়ি তিন জেলা খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান নিয়ে কাজ করা; পাহাড়, নদী, বন ও সমুদ্রের পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা সৃষ্টি; বৃহত্তর চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক ও পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগানোর জন্য সুপারিশ প্রণয়ন; নাগরিক অধিকার ও ন্যায্য দাবির বিষয়ে জনমত সৃষ্টি; গবেষণা ও তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরি করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন; উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো। সভায় উপস্থিত প্রতিনিধিরা আশা প্রকাশ করেন, বৃহত্তর চট্টগ্রামের পাঁচ জেলার নাগরিকদের সমন্বয়ে গঠিত এই ফোরাম ভবিষ্যতে একটি শক্তিশালী নাগরিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে উঠবে এবং মানুষের অধিকার ও আঞ্চলিক উন্নয়নের প্রশ্নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। সভা থেকে বৃহত্তর চট্টগ্রামের সর্বস্তরের নাগরিক, পেশাজীবী, লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষক, আইনজীবী, চিকিৎসক, ব্যবসায়ী, সমাজকর্মী, তরুণ ও নারী প্রতিনিধিদের এই নাগরিক উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়—বৃহত্তর চট্টগ্রামের মানুষের কথা বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরতে হবে, আর সেই লক্ষ্যেই ঐক্য, সমন্বয় ও নাগরিক অংশগ্রহণের ভিত্তিতে এগিয়ে যাবে ‘বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম’।

Share This Article
Leave a Comment