Home Blog Page 24

চান্দগাঁওয়ে বুইশ্যার দুই সহযোগী গ্রেপ্তার

রোমানা আক্তার, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানাধীন বহদ্দারহাট কাঁচাবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বুইশ্যার অন্যতম দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন—মো. নাইম ইসলাম সাকিব (২৬) ও মো. রাহাত (২৪)। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চান্দগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে এসআই হৃদয় মাহমুদ লিটন, এএসআই অসিত নাথ, এএসআই শাহ আলমসহ সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করেন। সোমবার (১০ আগস্ট ২০২৬) রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটের দিকে বহদ্দারহাট কাঁচাবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেপ্তার মো. নাইম ইসলাম সাকিবের বিরুদ্ধে চান্দগাঁও থানায় পূর্বে একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইনে একটি মামলা এবং দণ্ডবিধির ৩৯৯ ও ৪০২ ধারায় ২০২৫ সালের ৭ মার্চ ও ২০২৩ সালের ২৬ আগস্ট পৃথক দুটি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে, গ্রেপ্তার মো. রাহাতের বিরুদ্ধেও পূর্বে চান্দগাঁও থানায় মামলা রয়েছে। ২০২২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৯২ ধারায় মামলা করা হয়। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার দুজন শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বুইশ্যার অন্যতম সহযোগী হিসেবে এলাকায় কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে চান্দগাঁও থানার মামলা নম্বর-০৫, তারিখ ৭ আগস্ট ২০২৬, দণ্ডবিধির ৩৯৯/৪০২ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পরে তাদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়। চান্দগাঁও থানা পুলিশ জানিয়েছে, নগরীতে সন্ত্রাস, মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বায়েজিদ বোস্তামী থানার হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি কক্সবাজারে গ্রেপ্তার

রোমানা আক্তার, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি মো. জিয়াবুল হককে কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। র‍্যাব-৭, চট্টগ্রাম ও র‍্যাব-১৫, কক্সবাজারের যৌথ আভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে কক্সবাজার সদর থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, জিয়াবুল হক বায়েজিদ বোস্তামী থানার একটি হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে তিনি কক্সবাজার সদর থানা এলাকায় অবস্থান করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার অবস্থান শনাক্ত করে র‍্যাব-৭ ও র‍্যাব-১৫-এর যৌথ দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সাজাপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে র‍্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

পরিত্যক্ত ভবনে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের আস্তানা, ভবন ভাঙার দাবি

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের ২৮ নম্বর দক্ষিণ পাঠানটুলি সিটি কর্পোরেশন বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের পুরাতন পরিত্যক্ত ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন ও কিশোর গ্যাংয়ের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভবনটি দ্রুত ভেঙে ফেলে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

 

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফুল আলমের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন ডবলমুরিং থানা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সাবেক ও বর্তমান নেতারা।

মতবিনিময়ে উপস্থিত ছিলেন ডবলমুরিং থানা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মো. জাহেদ হোসেন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নুর উদ্দিন সোহেল, ২৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি এস এম জামাল উদ্দিন জসীম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া, সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুস সবুর আকবর, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আবদুর রহমান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী আবদুর রহিম, বিএনপি নেতা মো. ইলিয়াস এবং ডবলমুরিং থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হানিফ খান রুবেলসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, বিদ্যালয়ের পুরাতন পরিত্যক্ত ভবনটি বর্তমানে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ভবনটির বিভিন্ন কক্ষে বহিরাগতদের আনাগোনা, মাদক সেবন এবং কিশোরদের আড্ডা চলে। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তারা বলেন, পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি দ্রুত অপসারণ করে সেখানে শিক্ষার্থীদের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। একই সঙ্গে বিদ্যালয়কেন্দ্রিক নিরাপত্তা জোরদার এবং মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

মতবিনিময় শেষে বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেন উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয়রা।

৯ দিন লড়াই করে হেরে গেলেন গুলিবিদ্ধ ছাত্রদল নেতা

নরসিংদীর পলাশে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের গুলিতে আহত ছাত্রদল নেতা ইব্রাহিম আল মাসুম ৯ দিন পর মারা গেছেন। সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত ইব্রাহিম আল মাসুম ডাঙ্গা ইউনিয়নের হাসনহাটা গ্রামের মমিন হাজীর ছেলে। তিনি ডাঙ্গা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। এর আগে গত ১ আগস্ট রাতে ডাঙ্গা ইউনিয়নের হাসনহাটা ফকিরবাড়ির এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রতিপক্ষের হামলা ও গুলিতে আহত হন ছাত্রদল নেতা ইব্রাহিম। এছাড়াও গুরুতর আহত হন ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অন্তত ১০জন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফকির বাড়ি এলাকার বিজয়, সবুজ, ইকবাল ও সানির সঙ্গে একই এলাকার মাসুম, মামুন ও জয়নাল আবেদীনের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে পূর্ব বিরোধ ছিল। এর জের ধরে ফকির বাড়ি এলাকায় একটি মুদি দোকানে অবস্থান করছিল মাসুম, মামুন ও জয়নালসহ আরও কয়েকজন।  এ সময় পূর্ব শত্রুতার জেরে বিজয়, সবজু, ইকবাল ও সানি দলবলসহ তাদের ওপর হামলা করে। এ ঘটনায় ছাত্রদল নেতা মাসুম পেটে গুলিবিদ্ধ হন। এক পর্যায়ে বাধা দিতে গিয়ে প্রতিপক্ষের এলোপাতাড়ি কুপে গুরুতর আহত হয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মামুন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীনসহ আরও ১০ জন।পরে আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে আহত মাসুমকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন জানান, এ ঘটনায় ছাত্রদল নেতা মাসুমের বোনজামাই হাসান মো. মহসিন বাদি হয়ে গত ৪ আগস্ট পলাশ থানায় ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন। জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে সে ব্যাপারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

অরুণাচল প্রদেশের ২৭ স্থানকে নাম দেওয়ার ভারতীয় পদক্ষেপ নিয়ে চীনের বার্তা

অরুণাচল প্রদেশের ২৭টি স্থানের নাম ভারতের সরকারি মানচিত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। এ পদক্ষেপকে ‘আত্মপ্রবঞ্চনা’ আখ্যা দিয়ে তারা বলেছে, এটি দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতির ধারার পরিপন্থী এবং সীমান্ত বিরোধ মীমাংসার প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলতে পারে। রোববার (০৯ আগস্ট) চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র গ্লোবাল টাইমস এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, ভারত একতরফাভাবে অরুণাচল প্রদেশের ২৭টি স্থানের নাম নির্ধারণ করলেও এতে সীমান্ত পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে এবং তা দুই দেশের বৃহত্তর স্বার্থে কোনো ভূমিকা রাখবে না। চীনের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি ইনস্টিটিউটের গবেষণা বিভাগের পরিচালক চিয়ান ফেংকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতকে সীমান্ত ইস্যুকে বড় ধরনের বিরোধে পরিণত করা থেকে বিরত থাকা উচিত। এ ধরনের পদক্ষেপ দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের উন্নতির ধারাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এর আগে শুক্রবার ভারত অরুণাচল প্রদেশের ২৭টি স্থানের নাম সরকারি মানচিত্রে তাদের প্রচলিত ভারতীয় নাম হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে। এসব স্থানের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ভূখণ্ড, পর্বত গিরিপথ, একটি হ্রদ ও একটি স্মৃতিস্তম্ভ। চীনের পক্ষ থেকে অরুণাচল প্রদেশের বিভিন্ন স্থানের নাম পরিবর্তনের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মধ্যেই ভারত এ পদক্ষেপ নিল।  চীনের দাবি, অরুণাচল প্রদেশ তাদের ভূখণ্ডের অংশ। ২০১৭ সাল থেকে চীনের বেসামরিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় অঞ্চলটির বিভিন্ন স্থানের জন্য ছয় দফায় মোট ১১২টি মানসম্মত নাম প্রকাশ করেছে। এসব নামের মধ্যে গ্রাম, পর্বত গিরিপথ, নদী ও পর্বতের নাম রয়েছে। প্রতিটির সঙ্গে চীনা ও তিব্বতি নাম এবং ভৌগোলিক স্থানাঙ্কও দেওয়া হয়েছে। এপ্রিল মাসে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেছিলেন, চীন ভারত কর্তৃক অবৈধভাবে প্রতিষ্ঠিত তথাকথিত অরুণাচল প্রদেশকে স্বীকৃতি দেয় না। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, চীন-ভারত সম্পর্ক বর্তমানে মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে এবং সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে বেইজিংয়ের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি। চীনের সাংহাই ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর সাউথ এশিয়া অ্যান্ড ইন্ডিয়ান ওশান স্টাডিজের অধ্যাপক গুও শুয়েতাং বলেন, ২৭টি স্থানের নাম নির্ধারণ ভারতের একতরফা প্রশাসনিক পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে ওই এলাকার ওপর ভারতের নিয়ন্ত্রণের দাবি আরও জোরালো করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতের সীমান্ত আলোচনায় অতিরিক্ত সুবিধা নেওয়ার পথ তৈরি করা হচ্ছে। তবে এ ধরনের পদক্ষেপের বাস্তব কোনো অর্থ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বরং এটি দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত আলোচনার পরিবেশ ও পারস্পরিক আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলে চীনা সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। চীনের দাবি, সীমান্ত বিরোধ সমাধানের একমাত্র পথ হলো সমান মর্যাদার ভিত্তিতে আলোচনা এবং ঐতিহাসিক ও আইনগত নীতির আলোকে একটি ন্যায্য সমঝোতা। একতরফা পদক্ষেপের মাধ্যমে উত্তেজনা সৃষ্টি বা বর্তমান পরিস্থিতি পরিবর্তনের চেষ্টা দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা ও সীমান্ত স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর বলেও বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

বিশ্ববাজারে বাড়ল রুপার দাম, কমেছে প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের

আন্তর্জাতিক বাজারে সোমবার রুপার দাম বেড়েছে। তবে একই সময়ে প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম কমেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। আজ বাজারে স্পট রুপার দাম ০.৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৪ দশমিক ১৪ ডলারে উঠেছে। অন্যদিকে, প্লাটিনামের দাম ০.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৭৩৭ দশমিক ৪২ ডলারে নেমেছে। প্যালাডিয়ামের দামও ১.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৩৬০ দশমিক ৭৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। মূল্যবান ধাতুর বাজারে বিনিয়োগকারীদের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক তথ্য ও ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার নীতির পরবর্তী গতিপথের দিকে। এদিকে সোমবার গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৮টা ৫৬ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম ০.১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৪৫ দশমিক ০৯ ডলারে দাঁড়ায়।  এর আগে শুক্রবার স্বর্ণের দাম সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। দুর্বল মার্কিন নন-ফার্ম পেরোলসের তথ্য প্রকাশের পর সেদিন স্বর্ণের দাম ১৭ জুনের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে। আর মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দামও ০.১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪০৪ দশমিক ৮০ ডলারে উঠেছে।

ভার্চুয়াল নয়, নাগরিকদের উপস্থিতিতেই চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের নতুন কমিটি: এম এ হাশেম রাজু

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের নতুন কমিটি কোনো মোবাইল ফোন বা ভার্চুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে নয়, চট্টগ্রামের নাগরিকদের সরাসরি উপস্থিতিতে গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান প্রার্থী এম এ হাশেম রাজু। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম চট্টগ্রামের মানুষের অধিকার, স্বার্থ ও বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা নিয়ে কথা বলার একটি প্ল্যাটফর্ম। ফলে এই সংগঠনের নেতৃত্ব ও কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াও হতে হবে স্বচ্ছ, গণতান্ত্রিক এবং নাগরিকদের সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে। এম এ হাশেম রাজু বলেন, “চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম চট্টগ্রামের মানুষের অধিকার ও স্বার্থের কথা বলার একটি নাগরিক প্ল্যাটফর্ম। তাই এই সংগঠনের নেতৃত্ব ও কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তও চট্টগ্রামের নাগরিকদের উপস্থিতিতে, স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হওয়া উচিত।” ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেনের নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এম এ হাশেম রাজু। তিনি বলেন, ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন বর্তমানে লন্ডনে বসবাস করছেন। ফলে চট্টগ্রামের নাগরিকদের দৈনন্দিন সমস্যা, তাদের প্রত্যাশা এবং স্থানীয় বিভিন্ন সংকট নিয়ে সরাসরি মাঠে থেকে কাজ করার ক্ষেত্রে তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন থাকা স্বাভাবিক। তিনি আরও বলেন, “মোবাইল ফোনে ভার্চুয়াল কমিটি গঠন করে চট্টগ্রামের নাগরিকদের প্রতিনিধিত্ব দাবি করা গ্রহণযোগ্য নয়। চট্টগ্রামের মানুষের মতামত ও উপস্থিতিকে গুরুত্ব দিয়ে সরাসরি সভা করে নতুন কমিটি গঠন করতে হবে।” রাজু বলেন, নাগরিক সংগঠনের নেতৃত্বে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। চট্টগ্রামের মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে একটি কার্যকর ও শক্তিশালী নাগরিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনের চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম হবে আরও শক্তিশালী, গণমুখী, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক একটি নাগরিক সংগঠন। যেখানে দল-মত নির্বিশেষে চট্টগ্রামের নাগরিকদের স্বার্থ ও অধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বড় সাজ্জাদের ফুফাতো ভাই ও সহযোগী গোলাম সারোয়ার খান ডিবির হাতে গ্রেপ্তার

 শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত বড় সাজ্জাদের ফুফাতো ভাই ও সহযোগী গোলাম সারোয়ার খানকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ডমেস্টিক ফ্লাইটের বহির্গমন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, ৮ আগস্ট ২০২৬ সকাল ১১টার দিকে বিশ্বস্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির একটি আভিযানিক দল বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে গোলাম সারোয়ার খানকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে প্রস্তুত করা কাগজপত্র ব্যবহার করে নিজেকে বার্মিজ নাগরিক হিসেবে দাবি করছিলেন। ওই পরিচয়ে ডেনমার্কের ট্রাভেল ডকুমেন্ট সংগ্রহের পাশাপাশি বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করে ওমানে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। ডিএমপির দাবি, গোলাম সারোয়ার খান শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের ফুফাতো ভাই ও সহযোগী। বড় সাজ্জাদের অধীনে তিনি ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। পুলিশ আরও জানায়, বড় সাজ্জাদের পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে গোলাম সারোয়ার খানের বিরুদ্ধে। চট্টগ্রাম মহানগরী এলাকায় সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার বিষয়টিও চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) খতিয়ে দেখছে। গ্রেপ্তারের পর আসামিকে আদালতে সোপর্দ করে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনের জন্য ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জাল কাগজপত্র ব্যবহার, বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা এবং তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধচক্র সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

দেড়শতে নটআউট ডিম, ব্রয়লারের কেজি দুইশ

এতদিন পাড়া-মহল্লায় বেশি দামে বিক্রি হলেও বাজারগুলোতে ফার্মের বাদামি ডিমের ডজন ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা কেনা গেছে। এখন বাজারের ডিমের দোকানগুলোতেই প্রতি ডজনের দাম ১৫০ টাকা হয়েছে। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে ডজনপ্রতি দাম ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়ে গেছে। আর পাড়া-মহল্লাগুলোতে কোথাও কোথাও এর বেশি দামেও বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ব্রয়লার মুরগির ডিম দুদিন আগেও ১৯০ টাকাতেও পাওয়া গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার তা ২০০ টাকা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের একটি পক্ষ বলছে, বৃষ্টিপাতের প্রভাবে ডিম ও মুরগির সরবরাহ কমে গেছে। তাই দাম বাড়তি। অন্য একটি পক্ষ বলছে, সরবরাহ কমার পাশাপাশি আজ শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনকে কেন্দ্র করে দাম বাড়িয়েছেন সরবরাহকারীরা। মালিবাগ বাজারের ডিম ব্যবসায়ী মো. শরীফ জানান, কয়েকদিনের ব্যবধানে পাইকারি পর্যায়ে ফার্মের বাদামি ডিমের দাম নতুন করে বেড়েছে। গতকাল ১০০ পিসের দাম ১ হাজার ২০০ টাকায় কেনা পড়েছে। কয়েকদিন আগেও যা ১ হাজার ১২০ থেকে ১ হাজার ১৩০ টাকা ছিল। অন্যান্য খরচ মিলিয়ে নতুন ডিমের ডজন ১৫০ টাকা বিক্রি করতে হচ্ছে। কারণ জানতে চাইলে এ বাজারের বিক্রেতারা জানান, বৃষ্টির কারণে দাম বেড়েছে। এক দিনের বেশি দুদিন বৃষ্টি হলেই সরবরাহ কম দেখিয়ে সরবরাহকারীরা দাম বাড়িয়ে দেন। তার প্রভাব খুচরা দামেও পড়ে। এক মাস আগে ডিমের ডজন ১২০ থেকে ১২৫ টাকা বিক্রি করেছি। এখন তা লাফিয়ে বেড়ে ১৫০ টাকা হয়েছে। কদমতলী এলাকার খুচরা বিক্রেতা মো. মিলন হোসেন বলেন, ডিমের দাম ডজনে ৫ টাকা বেড়েছে। কেনা দামই বাড়তি। বুধবার ফার্মের বাদামি ডিমের ডজন ১৪০ টাকা বিক্রি করেছি। আজ (গতকাল) তা ১৪৫ টাকা বিক্রি করছি। আর বাছাই করা বড় ডিমের ডজন ১৫০ টাকা বিক্রি করছি। কারণ জানতে চাইলে এ বিক্রেতা বলেন, বৃষ্টি হলে দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা দেয়। তবে, শুক্রবারের বাজারকে কেন্দ্র করে অনেক সময় দাম বাড়ে। আবার রবি-সোমবার তা কিছুটা কমেও যায়। কারণ শুক্রবার মুরগি ও ডিমের চাহিদা বাড়তি থাকে। এ সময় বৃষ্টির অজুহাত পেলে পাইকাররা অনেক সময় বাড়তি দামে সরবরাহ করেন। এদিকে ব্রয়লার মুরগির দামও বেড়েছে বলে জানান মালিবাগ বাজারের খুচরা বিক্রেতা মো. ফারুক মিয়া। তিনি বলেন, গত সপ্তাহের শেষে বাড়তি দামে বিক্রি হলেও পরে তা কমে যায়। বুধবার ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৯০ টাকা বিক্রি করা গেছে। এখন পাইকারিতে বাড়তি দামে কিনতে হয়েছে। ফলে খুচরায় দাম বাড়াতে হয়েছে। মুরগির কেজি এখন ২০০ টাকা বিক্রি করছি। সোনালি মুরগির দামও বাড়তি রয়েছে বলে জানান কদমতলী সাদ্দাম মার্কেটের মুরগি ব্যবসায়ী মো. জিসান। তিনি জানান, শুক্রবারের বাজার ঘিরে পাইকারিতে সোনালি মুরগির দাম বাড়তি থাকে। বাড়তি দামে কেনা এ মুরগি (বড় আকারের) গতকাল খুচরায় ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছেন। আগের দিন বুধবার যা ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকায় বিক্রি করা গেছে। আর কালারবার্ডের দাম ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকা বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ৩২০ টাকা ছিল। ব্যবসায়ীরা বৃষ্টির কথা বললেও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সিন্ডিকেট ডিম ও মুরগির দাম বাড়াচ্ছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএ) সভাপতি সুমন হাওলাদার। প্রান্তিক খামারিদের সংগঠনের এ নেতা বলেন, উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিকভাবে বাড়ায় দাম বাড়তি, এটা সঠিক। বৃষ্টিতেও প্রভাব পড়ে। কিন্তু যেভাবে দাম বাড়ানো হচ্ছে, ততটা প্রভাবও পড়ে না। রাজধানীতে ডিম-মুরগি আশপাশের এলাকাগুলো থেকে আসে। সেখানে বৃষ্টি-বন্যার প্রভাব নেই। মূলত দামটা বাড়াচ্ছে বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সিন্ডিকেট চক্র। ছোট খামারিদের হাতে এখন ডিম-মুরগি তেমন নেই। বড়দের হাতে আছে, তারাই দাম বাড়াচ্ছে।

সিঙ্গাপুর থেকে এলএনজি কেনার অনুমোদন

সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে এক কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা। শুক্রবার (০৭ আগস্ট) অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম জুমে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জানানো হয়, জিটুজি (সরকার থেকে সরকার) ভিত্তিতে আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড থেকে ২০২৬ সালের ১১-১২ আগস্ট ডেলিভারির জন্য এক কার্গো এলএনজি কেনা হবে। প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ দশমিক ৫৫ মার্কিন ডলার।  একটি এলএনজি কার্গোতে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ থাকে। সে হিসেবে এ কার্গোর মোট মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৭ কোটি ২৪ লাখ ৮ হাজার মার্কিন ডলার (প্রায় ৭২.৪১ মিলিয়ন ডলার)।