Home Blog Page 14

ইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকায়নে আইডিবির সঙ্গে বিলিয়ন ডলারের চুক্তি সই

0

দেশের জ্বালানি তেল পরিশোধনের সক্ষমতা তিনগুণ বৃদ্ধির জন্য ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ প্রকল্পে অর্থায়নে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা দিচ্ছে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি)। এ লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি) গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আল জাসের উপস্থিতিতে ইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়নের চুক্তিটি প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি মোস্তফা জুলফিকার হাসান গণমাধ্যমের কাছে তথ্যটি নিশ্চিত করেন। উল্লেখ্য, চুক্তির আওতায় ইস্টার্ন রিফাইনারির আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

ফটিকছড়িতে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যুঃ স্বামী সহ ২ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

মোঃ সাইফুল ইসলাম : চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে সামিহা হাকিম নিহা (১৯) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) রাতে উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের কান্দিরপাড় এলাকায় নিজ বাড়িতে তার মৃ’ত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের মা রুপা আকতার বাদী হয়ে ফটিকছড়ি থানায় হত্যা মামলা রুজু করেছেন। মামলায় গৃহবধূর স্বামী মারুফ পারভেজ সহ দুজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। সংবাদ পেয়ে মঙ্গলবার রাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহার মরদেহ উ’দ্ধা’র করে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী মারুফ পারভেজ সেখানে ছিলেন না বলে জানা গেছে। নিহা ফটিকছড়ি পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রাজু সুলতানের বাড়ির লোকমান হাকিমের মেয়ে। নিহতের মা রুপা আকতারের দাবি, বিয়ের পর থেকেই তার মেয়ের সাথে স্বামীর পারিবারিক বিরোধ চলছিল। বিভিন্ন সময় যৌতুকের দাবীতে নিহাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নি’র্যা’ত’ন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি বলে জানান তিনি। রুপা আকতারের অভিযোগ, মৃ’ত্যু’র ঘটনাটিকে আ’ত্ম’হ’ত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। মুলতঃ তাকে পিটিয়ে নতুবা শ্বাসরুদ্ধকরে মেরে ফেলা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। ফটিকছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রবিউল আলম খান বলেন, পুলিশ ম’র’দে’হ উদ্ধার করে ম’য়’না’ত’দ’ন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ম’র্গে পাঠিয়েছি। এ ঘটনায় নি’হ’তে’র মা মামলা করেছেন। ওসি আরও বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃ’ত্যু’র প্রকৃত কারণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। সেই সাথে মামলাটি ত’দ’ন্ত করে প্রয়োজনীয় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

খাগড়াছড়িতে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন

স ম জিয়াউর রহমান, চট্টগ্রাম থেকে :
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে খাগড়াছড়িতে নানা বর্ণাঢ্য কর্মসূচি পালন করেছে জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনসমূহ। আনন্দ শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, ভাস্কর্যে শ্রদ্ধা নিবেদন ও বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয়। এসব কর্মসূচিতে দলটির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। ​প্রতিষ্ঠানবার্ষিকীর প্রথম পর্বে খাগড়াছড়ি খাদ্য গুদামসংলগ্ন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাস্কর্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে এক পরিবেশবান্ধব বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। ​সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শহরের চেঙ্গী স্কয়ার এলাকায় রঙিন বেলুন উড়িয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এমপি ওয়াদুদ ভূইয়া। শোভাযাত্রাটি চেঙ্গী স্কয়ার থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাপলা চত্বর অতিক্রম করে খাগড়াছড়ি টাউন হলে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রা শেষে টাউন হল প্রাঙ্গণে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ​আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান ম্রাসা থোয়াই মারমা, খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রবীণ চন্দ্র চাকমা, সাধারণ সম্পাদক এমএন আবছার বক্তব্য রাখেন। আলোচনা সভায় জেলা ও বিভিন্ন উপজেলার বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই বিশেষ দিনে জেলার তৃণমূল পর্যায় থেকেও সর্বস্তরের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে পুরো শহরকে উৎসবমুখর করে তোলেন।

“পুলিশের পোশাকে কর্তব্যের দৃঢ়তা, হৃদয়ে সুর ও সাহিত্যের কোমলতা- এসআই নওশের কোরাইশি—আইনের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ এক মানবিক পুলিশ কর্মকর্তার গল্প

একজন মানুষকে চেনার জন্য তাঁর পদবি জানা যথেষ্ট নয়। তাঁকে চিনতে হয় তাঁর কাজের ভেতর দিয়ে, মানুষের সঙ্গে তাঁর আচরণের ভেতর দিয়ে, দায়িত্ব পালনের সময় তাঁর সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে এবং অবসরের নীরব মুহূর্তে তাঁর হৃদয়ের ভাষা শুনে। কারণ, পোশাক একজন মানুষের পেশার পরিচয় বহন করে; কিন্তু মানবিকতা বহন করে তাঁর চরিত্র। চট্টগ্রাম মহানগরীর ঐতিহ্যবাহী ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোতোয়ালি থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই নওশের কোরাইশি—পেশাগত পরিচয়ে একজন পুলিশ কর্মকর্তা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রতিদিনের নানা জটিল পরিস্থিতি সামাল দেওয়াই তাঁর কর্মজীবনের বাস্তবতা। কিন্তু এই কঠোর পেশাগত পরিচয়ের আড়ালেও রয়েছে অন্য এক নওশের কোরাইশি—যিনি গান ভালোবাসেন, কবিতা লেখেন, সাহিত্যকে অনুভব করেন, সংস্কৃতির প্রতি অনুরাগী এবং দেশ ও মানুষের প্রতি ভালোবাসাকে নিজের চিন্তা-চেতনার অংশ হিসেবে ধারণ করেন। এই দুই সত্তার সমন্বয়ই তাঁকে আলাদা করে দেখতে শেখায়। কোতোয়ালির ব্যস্ততায় একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানা চট্টগ্রাম মহানগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি থানা। নগরীর কেন্দ্রীয় এলাকার নানা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, ব্যবসায়িক অঞ্চল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনসমাগমস্থল এবং বিভিন্ন ধরনের সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে এখানকার পুলিশ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব সবসময়ই চ্যালেঞ্জপূর্ণ। একজন সেকেন্ড অফিসারকে কখনো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, কখনো অপরাধের তথ্য যাচাই করতে হয়, কখনো মানুষের অভিযোগ শুনতে হয়, আবার কখনো উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে দ্রুত ও বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এই দায়িত্বের প্রতিটি মুহূর্তে প্রয়োজন পেশাদারিত্ব, ধৈর্য, বিচক্ষণতা এবং আইনের প্রতি অটল আনুগত্য। এসআই নওশের কোরাইশির দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও এই পেশাগত গুণাবলিগুলোই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একজন পুলিশ কর্মকর্তার প্রকৃত মূল্যায়ন হওয়া উচিত তাঁর পদ, পোশাক কিংবা পরিচয় দিয়ে নয়—বরং তিনি দায়িত্ব কতটা আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করছেন এবং জনগণের নিরাপত্তায় কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখছেন, তার ভিত্তিতে। কঠোর পেশার মানুষ, অথচ হৃদয়ে শিল্পের স্পর্শ পুলিশের পেশাকে অনেকেই শুধু কঠোরতার সঙ্গে দেখেন। কিন্তু একজন পুলিশ কর্মকর্তারও যে একটি কোমল হৃদয় থাকে, অনুভূতি থাকে, স্বপ্ন থাকে—সেটি অনেক সময় আমাদের চোখের আড়ালে থেকে যায়। নওশের কোরাইশির বিশেষত্ব এখানেই।
তিনি গান করেন। কবিতা লেখেন। সাহিত্য ভালোবাসেন। শব্দ ও সুরের প্রতি তাঁর যে অনুরাগ, তা তাঁর ব্যক্তিসত্তার একটি সুন্দর দিক। দিনভর আইনশৃঙ্খলা, মামলা, অপরাধ, দায়িত্ব ও ব্যস্ততার মধ্যে থাকার পরও যে মানুষ কবিতার কাছে ফিরে যেতে পারেন, গানের মধ্যে প্রশান্তি খুঁজে নিতে পারেন, সাহিত্যের সৌন্দর্যে নিজেকে আবিষ্কার করতে পারেন—তাঁর মধ্যে নিঃসন্দেহে একটি সংবেদনশীল মন কাজ করে। এক হাতে দায়িত্বের কঠোরতা, অন্যদিকে হৃদয়ে সুরের কোমলতা—এই বৈপরীত্যই একজন মানুষকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। সাহিত্যপ্রেমী মানুষের হৃদয়ে মানুষের গল্প থাকে
সাহিত্য মানুষকে শুধু বই পড়তে শেখায় না; সাহিত্য মানুষকে মানুষ বুঝতে শেখায়। কবিতা কখনো একজন মানুষের চোখের জলকে ভাষা দেয়, গান কখনো না বলা অনুভূতিকে সুর দেয়, আর সাহিত্য কখনো সমাজের অদৃশ্য বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে আসে। একজন পুলিশ কর্মকর্তা যদি সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাহলে তাঁর ব্যক্তিত্বে মানবিক উপলব্ধির একটি অতিরিক্ত মাত্রা তৈরি হয়। মানুষের সুখ-দুঃখ, ভয়, হতাশা, প্রত্যাশা—এসব অনুভূতিকে বোঝার ক্ষমতা একজন পুলিশ কর্মকর্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পুলিশের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক কেবল আইন প্রয়োগের সম্পর্ক নয়; এটি আস্থা, নিরাপত্তা ও মানবিকতার সম্পর্কও। দেশপ্রেম—কথায় নয়, দায়িত্ব পালনের মধ্যেও দেশপ্রেমের বহুমাত্রিক প্রকাশ রয়েছে। কেউ লেখেন, কেউ গান করেন, কেউ সমাজসেবায় যুক্ত হন, আবার কেউ নিজের পেশাগত দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে দেশ ও মানুষের সেবা করেন। একজন পুলিশ কর্মকর্তার জন্য দেশের প্রতি ভালোবাসার সবচেয়ে বাস্তব প্রকাশ হতে পারে—আইনের প্রতি শ্রদ্ধা, নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সততার সঙ্গে পালন করা। রাতের শহরে যখন অধিকাংশ মানুষ নিরাপদ ঘরে, তখনও কোনো পুলিশ সদস্য দায়িত্বে থাকেন। উৎসবের দিনে মানুষ যখন আনন্দে, তখনও পুলিশের অনেক সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। কোনো সংকট দেখা দিলে সবার আগে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর দায়িত্বও অনেক সময় তাঁদেরই। এই দায়িত্ববোধই রাষ্ট্র ও জনগণের প্রতি তাঁদের অঙ্গীকারের অংশ। সাংবাদিক ও পুলিশের সম্পর্ক—পারস্পরিক শ্রদ্ধার জায়গা চট্টগ্রামের সাংবাদিক সমাজের সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনের পেশাগত যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকরা সমাজের বিভিন্ন ঘটনা, সমস্যা, অপরাধ ও মানুষের কথা তুলে ধরেন; পুলিশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং অপরাধ তদন্ত করে।
এই দুই পেশার মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, দায়িত্বশীল যোগাযোগ ও পেশাগত সৌহার্দ্য থাকলে উপকৃত হয় সাধারণ মানুষ। এসআই নওশের কোরাইশির সাংবাদিকবান্ধব মনোভাব তাঁর ব্যক্তিত্বের আরেকটি ইতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করা যায়। একজন পুলিশ কর্মকর্তা যদি সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্বকে সম্মান করেন এবং সাংবাদিকরা পুলিশের পেশাগত সীমাবদ্ধতা ও দায়িত্বকে সম্মান করেন, তাহলে উভয়ের মধ্যে সুস্থ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আর সেই সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত জনগণের তথ্যের অধিকার ও নিরাপত্তার জন্যই ইতিবাচক ফল বয়ে আনে। রাজনীতির ঊর্ধ্বে পুলিশ, আইনের প্রতি অঙ্গীকার একটি আধুনিক রাষ্ট্রে পুলিশের সবচেয়ে বড় পরিচয় কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নয়। পুলিশের সবচেয়ে বড় পরিচয়—তিনি আইনের রক্ষক। জনগণের প্রত্যাশাও এখন স্পষ্ট—পুলিশ হবে রাজনৈতিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে, আইন প্রয়োগে নিরপেক্ষ এবং মানুষের কাছে জবাবদিহিমূলক। একজন কর্মকর্তার অতীত নিয়ে নানা আলোচনা থাকতে পারে, নানা মত থাকতে পারে; কিন্তু তাঁর বর্তমান দায়িত্ব পালনের মূল্যায়ন হওয়া উচিত প্রমাণ, কর্মদক্ষতা, আচরণ ও পেশাগত রেকর্ডের ভিত্তিতে। কোনো অভিযোগ থাকলে যথাযথ তদন্ত হবে; ভালো কাজ থাকলে তার স্বীকৃতিও হবে—এটাই একটি সুস্থ প্রশাসনিক সংস্কৃতির পরিচয়। সাবেক ও বর্তমান নেতৃত্বের অধীনে দায়িত্ব পালন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের নেতৃত্বে বিভিন্ন সময়ে নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাবেক পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ সাহেবের দায়িত্বকালেও এবং বর্তমানে পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী সাহেবের নেতৃত্বেও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ তার পেশাগত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এই সাংগঠনিক কাঠামোরই একজন মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা হিসেবে কোতোয়ালি থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই নওশের কোরাইশির দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন কর্মকর্তা যত বেশি জনগণের কাছাকাছি থাকবেন, তাঁর দায়িত্বও তত বেশি সংবেদনশীল হবে। তাই তাঁর প্রতিটি আচরণ, সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপের সঙ্গে পুলিশের ভাবমূর্তিও কোনো না কোনোভাবে যুক্ত থাকে। ভালো পুলিশ কর্মকর্তা মানেই শুধু কঠোর কর্মকর্তা নন আমাদের সমাজে অনেক সময় ধারণা থাকে—ভালো পুলিশ কর্মকর্তা মানেই কঠোর পুলিশ কর্মকর্তা।
আসলে বিষয়টি এত সরল নয়। একজন ভালো পুলিশ কর্মকর্তা প্রয়োজনের সময় কঠোর হবেন, কিন্তু অপ্রয়োজনীয়ভাবে কঠোর হবেন না। অপরাধীর বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ করবেন, কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রতি মানবিক থাকবেন। আইন ভঙ্গকারীকে ছাড় দেবেন না, আবার নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি থেকেও রক্ষা করবেন। কঠোরতা যেখানে প্রয়োজন সেখানে দৃঢ়তা, আর মানবিকতা যেখানে প্রয়োজন সেখানে সহমর্মিতা—এই ভারসাম্যই একজন আদর্শ পুলিশ কর্মকর্তার বড় গুণ।
নওশের কোরাইশি—একজন বহুমাত্রিক মানুষ
একজন মানুষকে যদি কয়েকটি শব্দে চেনাতে হয়, নওশের কোরাইশির পরিচয় হতে পারে—
তিনি একজন পুলিশ কর্মকর্তা, যাঁর কাঁধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব।
তিনি একজন দায়িত্বশীল পেশাজীবী, যাঁর কাছে কর্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি একজন গানপ্রেমী মানুষ, যাঁর হৃদয়ে সুরের বসতি।
তিনি একজন কবিতামনস্ক মানুষ, যিনি শব্দের সৌন্দর্য অনুভব করেন।
তিনি একজন সাহিত্যপ্রেমী, যিনি সংস্কৃতির সঙ্গে নিজের সম্পর্ক ধরে রেখেছেন।
তিনি একজন দেশপ্রেমিক, যাঁর পেশাই তাঁকে প্রতিদিন মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্বে দাঁড় করায়।
তিনি একজন সাংবাদিকবান্ধব কর্মকর্তা, যিনি গণমাধ্যমের পেশাগত ভূমিকার সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ককে গুরুত্ব দেন।
আর সবকিছুর ওপরে তিনি একজন মানুষ—যাঁর পরিচয়ের সবচেয়ে সুন্দর দিকটি হওয়া উচিত তাঁর মানবিকতা।
শেষের কথাটি হোক আস্থার
আজকের দিনে জনগণ এমন পুলিশ চায়, যাঁকে দেখে ভয় নয়—আস্থা জন্মাবে।
যাঁর কাছে অভিযোগ নিয়ে গেলে মানুষ কথা বলার সুযোগ পাবে।
যিনি আইনকে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে রাখবেন।
যিনি অপরাধের বিরুদ্ধে দৃঢ় থাকবেন।
যিনি সাধারণ মানুষের মর্যাদা রক্ষা করবেন।
যিনি সাংবাদিকের প্রশ্নকে শত্রুতা হিসেবে নয়, গণমাধ্যমের দায়িত্ব হিসেবে দেখবেন।
যিনি নিজের পেশাকে শুধু চাকরি নয়, দায়িত্ব ও সেবার জায়গা হিসেবে বিবেচনা করবেন।
এসআই নওশের কোরাইশির প্রতি প্রত্যাশাও ঠিক তেমনই।
কোতোয়ালি থানার সেকেন্ড অফিসার হিসেবে তিনি তাঁর দায়িত্ব আরও নিষ্ঠা, সততা, পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও মানবিকতার সঙ্গে পালন করবেন—এটাই প্রত্যাশা।
পুলিশের পোশাক তাঁর পেশার পরিচয়।
আইনের প্রতি অঙ্গীকার তাঁর দায়িত্বের পরিচয়।
গান তাঁর হৃদয়ের পরিচয়।
কবিতা তাঁর অনুভূতির পরিচয়।
সাহিত্য তাঁর মননের পরিচয়।
দেশপ্রেম তাঁর চেতনার পরিচয়।
আর মানুষের প্রতি ভালো আচরণ—হোক তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়।
চট্টগ্রামের পুলিশ হোক জনতার আস্থার পুলিশ, কোতোয়ালি হোক নিরাপত্তা ও সেবার নির্ভরতার ঠিকানা।
আর সেই পথের একজন দায়িত্বশীল সৈনিক হিসেবে এসআই নওশের কোরাইশির কর্মজীবন আরও সুন্দর, সফল ও গৌরবময় হোক—এই শুভকামনা রইল।
পদ নয়, কর্মই হোক পরিচয়।
ক্ষমতা নয়, দায়িত্বই হোক শক্তি।
ভয় নয়, আস্থাই হোক পুলিশের সবচেয়ে বড় অর্জন।

মোহাম্মদপুরে র‍্যাব-২’র রাতভর অভিযান, অস্ত্র ও বিপুল মাদকসহ আটক ১৫

0

রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় রাতভর অভিযান চালিয়ে বিদেশি পিস্তল, ওয়ান শুটারগান, তাজা গুলি, সামুরাই এবং বিপুল পরিমাণ মাদকসহ ১৫ জনকে আটক করেছে র‍্যাব-২। র‍্যাব-২ সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদপুর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বিভিন্ন স্থান থেকে ১৫ জনকে আটক করা হয়। অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ওয়ান শুটারগান, তাজা গুলি, একটি সামুরাইসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ মাদকও জব্দ করা হয়েছে। র‍্যাব-২ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। অভিযানে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও মাদকের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী সময়ে জানানো হবে। রাজধানীতে অস্ত্র ও মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলেও জানিয়েছে র‍্যাব।

ডবলমুরিংয়ে ১২ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১২ কেজি গাঁজা ও মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকারসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে ডবলমুরিং মডেল থানা পুলিশ। সোমবার (৩১ আগস্ট) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডবলমুরিং মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শাহীনূর আলমের নেতৃত্বে এসআই সোহাগ রানা সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার বাউরিয়া এলাকার মো. সৌরভ চৌধুরী (৩২) এবং কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গাংরা এলাকার মো. মেহেরাবুল আলম চৌধুরী ওরফে অর্নব (২১)। পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় গ্রেপ্তারদের হেফাজত থেকে ১২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ঢাকা মেট্রো-গ-১৬-৮৩০৬ নম্বরের একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুইজনের বিরুদ্ধে ডবলমুরিং মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলাটি ৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে মামলা নম্বর-৩০ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১৯(খ)/৩৮ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

চট্টগ্রামে ১ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) দক্ষিণ বিভাগ। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পাহাড়তলী থানাধীন এ কে খান বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন নূর-এ-মদিনা সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সামনে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। নগর গোয়েন্দা পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের স্পেশাল টিম-১ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—হাটহাজারী উপজেলার ফতেহপুর এলাকার আবুল কালাম (৫৫) এবং কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মো. সেলিম (২৮)। পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় গ্রেপ্তার দুজনের হেফাজত ও দখল থেকে মোট ১ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। প্তারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জুলাই যোদ্ধার কাছে চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগ, জুলাই ফাউন্ডেশনের ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

0

প্রতারণা, মারধর ও চাঁদা দাবির অভিযোগে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ১৪ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামলা করার আবেদন করেছেন গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধা গিয়াস উদ্দিন। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালতে তিনি এ আবেদন করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী ইলতুতমিশ সওদাগর এ্যানী জানান, গিয়াস উদ্দিন গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধা হলেও প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা পাননি। বরং তিনি মারধর ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে অভিযোগের বিষয়ে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার পর আদালত প্রাঙ্গণে গিয়াস উদ্দিন অভিযোগ করেন, জুলাই ফাউন্ডেশনের একটি কক্ষে তাকে নিয়ে মারধর করা হয়েছে। সেখানে আরও কয়েকজন জুলাই যোদ্ধাকে মারধর করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ ঘটনার বিচার দাবি করেন গিয়াস উদ্দিন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে ব্যবহার করে এনসিপি, কয়েকজন সমন্বয়ক ও সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এসব অভিযোগের বিচার দাবি করেন তিনি। মামলার আসামিরা হলেন—জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ভেরিফিকেশন অফিসার ইফতেখার হোসেন, এক্সিকিউটিভ মেম্বার সাবরিনা আফরোজ সেবন্তী, সাইদুর রহমান শাহিদ, মেহেদী হাসান প্রিন্স, সাগর, আফজালু রহমান সায়েম, হারুন অর রশীদ, কামরুল হোসেন, আলিফ, জাহিদ, মোমেনুজ্জামান দিপু, সাজ্জাদ মোস্তফা, ফাতেমা আফরিন পায়েল ও ইয়াছিন মোল্লা। মামলার অভিযোগে গিয়াস উদ্দিন বলেন, জুলাই যোদ্ধা হিসেবে তিনি জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন থেকে চেক নিতে যান। চেক না পেয়ে পরে বাংলামোটরে এনসিপির কার্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, তাসনিম জারা ও স্নিগ্ধকে জানান। তারা তাকে ফাউন্ডেশনে গেলে চেক দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন। এরপর ফাউন্ডেশনে গেলে আসামিরা তাকে বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করে ‘আজ নয়, কাল’ আসতে বলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে গত বছরের ৩ মে চেক নিতে তিনি রমনা মডেল থানাধীন জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনে যান। অভিযোগে বলা হয়, ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা তাকে জানান, চেকে উল্লেখ করা ৩ লাখ টাকার অর্ধেক অর্থাৎ দেড় লাখ টাকা দিলে ব্যাংক থেকে চেকটি নগদায়ন করে দেওয়া হবে। এতে গিয়াস উদ্দিন অস্বীকৃতি জানালে তাকে একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে মেহেদী হাসান প্রিন্স ও সাগর তার দুই হাত ধরে রাখেন। এ সময় সাইদুর রহমান শাহিদ ও আফজালু রহমান সায়েম তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তাকে দেয়ালের দিকে ঠেলে দেওয়া হলে রডের সঙ্গে মাথায় আঘাত লেগে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, জ্ঞান ফেরার পর গিয়াস উদ্দিন তার শরীর থেকে রক্তপাত হতে দেখেন। তিনি চিৎকার ও কান্নাকাটি করলে শাহিদ, সায়েম ও কামরুল তাকে মারধর করে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে হারুন ও কামরুল তাকে ফাউন্ডেশনের লিফটের সামনে রেখে যান। সেখান থেকে তার ছেলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। গিয়াস উদ্দিনের দাবি, ঘটনার পর তিনি থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। পরে তাকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে মামলায় আনা এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

এপিবিএন হেডকোয়ার্টার্সে অতিরিক্ত ডিআইজি (ইন্টেলিজেন্স) জনাব মোহাম্মদ নাজমুল আলম, পিপিএম মহোদয়ের বিদায় সংবর্ধনা

0
আজ ৩০ আগস্ট ২০২৬ খ্রিঃ তারিখে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) হেডকোয়ার্টার্সে অতিরিক্ত ডিআইজি (ইন্টেলিজেন্স) জনাব মোহাম্মদ নাজমুল আলম, পিপিএম মহোদয়ের ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে বদলিজনিত নতুন কর্মস্থলে যোগদান উপলক্ষে এক আবেগঘন ও আন্তরিক বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এপিবিএন-এর ডিআইজি (প্রশাসন) জনাব মোহাম্মদ শাহজাহান, পিএইচডি মহোদয়। সভাপতির বক্তব্যে তিনি জনাব মোহাম্মদ নাজমুল আলম, পিপিএম মহোদয়ের কর্মদক্ষতা, সততা, নিষ্ঠা, নেতৃত্বগুণ ও পেশাদারিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এপিবিএন হেডকোয়ার্টার্সে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে নতুন কর্মস্থল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে তাঁর সর্বাঙ্গীণ সাফল্য, সুস্বাস্থ্য ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন। বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এপিবিএন হেডকোয়ার্টার্সের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ও বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সদস্যরা তাঁর কর্মময় জীবনের নানা স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা স্মরণ করে আবেগঘন বক্তব্য প্রদান করেন এবং নতুন কর্মস্থলে তাঁর সফলতা ও সমৃদ্ধ কর্মজীবন কামনা করেন। কর্মস্থল বদল হয়, কিন্তু কর্মের স্মৃতি, সহকর্মীদের ভালোবাসা ও অর্জনের স্বীকৃতি থেকে যায়। এপিবিএন হেডকোয়ার্টার্সে তাঁর অবদান ও স্মৃতি সহকর্মীদের মাঝে দীর্ঘদিন অমলিন হয়ে থাকবে। নতুন কর্মস্থলের পথচলা হোক সাফল্যময় ও গৌরবময়। এপিবিএন হেডকোয়ার্টার্সের পক্ষ থেকে জনাব মোহাম্মদ নাজমুল আলম, পিপিএম মহোদয়ের প্রতি রইল আন্তরিক শুভকামনা ও অভিনন্দন।

চট্টগ্রাম উন্নয়নে সিডিএ চেয়ারম্যানের চলমান উদ্যোগকে নাগরিক ফোরামের স্বাগতঃ নগরীর সমস্যা সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান, ধারাবাহিক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সিদ্ধান্ত

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম নগরীর উন্নয়ন, নাগরিক সমস্যা নিরসন ও পরিকল্পিত নগরায়ণে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)-এর চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনের চলমান বিভিন্ন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করতে প্রশাসন, সিডিএ, নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। চট্টগ্রামের চলমান বিভিন্ন সমস্যা, নাগরিক দুর্ভোগ, নগর উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুর ২টায় নগরীর চকবাজারস্থ বালি আর্কেড কনভেনশন সেন্টারে এ বৈঠকি সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ ও মহাসচিব মো. কামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কেন্দ্রীয় ও মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় চট্টগ্রাম নগরীর দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে নগরীর যানজট, জলাবদ্ধতা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, পরিবেশের ভারসাম্য, নাগরিক সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পায়। সিডিএ চেয়ারম্যানের উদ্যোগের প্রশংসা সভায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনের চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন বক্তারা। তারা বলেন, চট্টগ্রাম একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী ও দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। অথচ দীর্ঘদিন ধরে নানা নাগরিক সমস্যা ও পরিকল্পনাহীনতার কারণে নগরবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বক্তারা বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য এমন একজন চেয়ারম্যানের প্রয়োজন ছিল, যিনি নগরীর বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। সিডিএ চেয়ারম্যানের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে চট্টগ্রামের উন্নয়ন নিয়ে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে বলে তারা মন্তব্য করেন। তারা বলেন, উন্নয়ন শুধু প্রকল্প গ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না; সেই উন্নয়নের সুফল যেন সাধারণ নাগরিকের কাছে পৌঁছে, সেটিই হতে হবে মূল লক্ষ্য। নগর পরিকল্পনা, পরিবেশ, যোগাযোগব্যবস্থা ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের নেতৃবৃন্দ বলেন, চট্টগ্রামের স্বার্থে যেকোনো ইতিবাচক ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানাবেন। একই সঙ্গে সিডিএ চেয়ারম্যানকে নগর উন্নয়নের ক্ষেত্রে আরও সাহসী, কার্যকর ও জনবান্ধব পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা। নাগরিক ফোরামের সহযোগিতার আশ্বাস সভায় বক্তারা বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম কোনো উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করতে চায় না; বরং চট্টগ্রামের মানুষের স্বার্থে ইতিবাচক উদ্যোগের পাশে থেকে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে চায়। চট্টগ্রামের উন্নয়নকে একটি সমন্বিত নাগরিক আন্দোলনে পরিণত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, সিডিএ, সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এবং নাগরিক সমাজ একসঙ্গে কাজ করলে চট্টগ্রামের বহু সমস্যা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব। মহানগর কমিটিকে আরও সক্রিয় করার সিদ্ধান্ত সভায় বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের চট্টগ্রাম মহানগর কমিটিকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। নেতৃবৃন্দ বলেন, মহানগর কমিটিকে শুধু সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নগরবাসীর বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় হতে হবে। নাগরিকদের অভিযোগ ও প্রত্যাশাগুলো চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তা তুলে ধরার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।
এ জন্য মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সংগঠনের কার্যক্রম বিস্তৃত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। ধারাবাহিক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সিদ্ধান্ত সভায় পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পায়। নগরীর ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, অপরিকল্পিত নির্মাণ এবং সবুজ এলাকা কমে যাওয়ায় পরিবেশের ওপর যে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, তা মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আলোকে বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের উদ্যোগে চট্টগ্রাম নগরী ও বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। নেতৃবৃন্দ বলেন, শুধু একটি দিনের কর্মসূচি হিসেবে বৃক্ষরোপণ করলে এর কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না। তাই নিয়মিত বৃক্ষরোপণ, পরিচর্যা এবং রোপণ করা গাছের সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। এ কর্মসূচিতে তরুণ সমাজ, শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ নাগরিকদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তারা বলেন, সবুজ চট্টগ্রাম শুধু একটি স্লোগান নয়—এটি আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলার অঙ্গীকার। চট্টগ্রামের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান বৈঠকে বক্তারা আরও বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় বিভাজন নয়, প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ। ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে চট্টগ্রামের সামগ্রিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তারা বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়ন শুধু নগরকেন্দ্রিক নয়; চট্টগ্রাম জেলা ও বৃহত্তর চট্টগ্রামের অন্যান্য অঞ্চল—কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের উন্নয়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নাগরিক ফোরাম ভবিষ্যতে বৃহত্তর চট্টগ্রামের মানুষের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করবে। সভায় নেতৃবৃন্দ সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনের চলমান উন্নয়ন উদ্যোগের প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত ও সমর্থন জানিয়ে বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নের স্বার্থে ইতিবাচক যেকোনো পদক্ষেপে নাগরিক ফোরাম গঠনমূলক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। যাঁরা উপস্থিত ছিলেন বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মহসিন বাবুল, চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ হামিদ হোসাইন, সিনিয়র সহসভাপতি লায়ন জিল্লুর রহমান শাকিল, মজিবুর রহমান চৌধুরী, মির্জা নুরুল আলম মাস্টার, জালাল উদ্দীন, জানে আলম বাবলু, মোহাম্মদ উদ্দিন মহিউদ্দিন, মোহাম্মদ বেলাল, হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ শফিউদ্দিনসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। সভা শেষে নেতৃবৃন্দ চট্টগ্রামের উন্নয়ন, নাগরিক অধিকার, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়নে বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।