“পুলিশের পোশাকে কর্তব্যের দৃঢ়তা, হৃদয়ে সুর ও সাহিত্যের কোমলতা- এসআই নওশের কোরাইশি—আইনের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ এক মানবিক পুলিশ কর্মকর্তার গল্প

By admin
9 Min Read

একজন মানুষকে চেনার জন্য তাঁর পদবি জানা যথেষ্ট নয়। তাঁকে চিনতে হয় তাঁর কাজের ভেতর দিয়ে, মানুষের সঙ্গে তাঁর আচরণের ভেতর দিয়ে, দায়িত্ব পালনের সময় তাঁর সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে এবং অবসরের নীরব মুহূর্তে তাঁর হৃদয়ের ভাষা শুনে। কারণ, পোশাক একজন মানুষের পেশার পরিচয় বহন করে; কিন্তু মানবিকতা বহন করে তাঁর চরিত্র। চট্টগ্রাম মহানগরীর ঐতিহ্যবাহী ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোতোয়ালি থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই নওশের কোরাইশি—পেশাগত পরিচয়ে একজন পুলিশ কর্মকর্তা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রতিদিনের নানা জটিল পরিস্থিতি সামাল দেওয়াই তাঁর কর্মজীবনের বাস্তবতা। কিন্তু এই কঠোর পেশাগত পরিচয়ের আড়ালেও রয়েছে অন্য এক নওশের কোরাইশি—যিনি গান ভালোবাসেন, কবিতা লেখেন, সাহিত্যকে অনুভব করেন, সংস্কৃতির প্রতি অনুরাগী এবং দেশ ও মানুষের প্রতি ভালোবাসাকে নিজের চিন্তা-চেতনার অংশ হিসেবে ধারণ করেন। এই দুই সত্তার সমন্বয়ই তাঁকে আলাদা করে দেখতে শেখায়। কোতোয়ালির ব্যস্ততায় একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানা চট্টগ্রাম মহানগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি থানা। নগরীর কেন্দ্রীয় এলাকার নানা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, ব্যবসায়িক অঞ্চল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনসমাগমস্থল এবং বিভিন্ন ধরনের সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে এখানকার পুলিশ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব সবসময়ই চ্যালেঞ্জপূর্ণ। একজন সেকেন্ড অফিসারকে কখনো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, কখনো অপরাধের তথ্য যাচাই করতে হয়, কখনো মানুষের অভিযোগ শুনতে হয়, আবার কখনো উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে দ্রুত ও বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এই দায়িত্বের প্রতিটি মুহূর্তে প্রয়োজন পেশাদারিত্ব, ধৈর্য, বিচক্ষণতা এবং আইনের প্রতি অটল আনুগত্য। এসআই নওশের কোরাইশির দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও এই পেশাগত গুণাবলিগুলোই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একজন পুলিশ কর্মকর্তার প্রকৃত মূল্যায়ন হওয়া উচিত তাঁর পদ, পোশাক কিংবা পরিচয় দিয়ে নয়—বরং তিনি দায়িত্ব কতটা আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করছেন এবং জনগণের নিরাপত্তায় কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখছেন, তার ভিত্তিতে। কঠোর পেশার মানুষ, অথচ হৃদয়ে শিল্পের স্পর্শ পুলিশের পেশাকে অনেকেই শুধু কঠোরতার সঙ্গে দেখেন। কিন্তু একজন পুলিশ কর্মকর্তারও যে একটি কোমল হৃদয় থাকে, অনুভূতি থাকে, স্বপ্ন থাকে—সেটি অনেক সময় আমাদের চোখের আড়ালে থেকে যায়। নওশের কোরাইশির বিশেষত্ব এখানেই। তিনি গান করেন। কবিতা লেখেন। সাহিত্য ভালোবাসেন। শব্দ ও সুরের প্রতি তাঁর যে অনুরাগ, তা তাঁর ব্যক্তিসত্তার একটি সুন্দর দিক। দিনভর আইনশৃঙ্খলা, মামলা, অপরাধ, দায়িত্ব ও ব্যস্ততার মধ্যে থাকার পরও যে মানুষ কবিতার কাছে ফিরে যেতে পারেন, গানের মধ্যে প্রশান্তি খুঁজে নিতে পারেন, সাহিত্যের সৌন্দর্যে নিজেকে আবিষ্কার করতে পারেন—তাঁর মধ্যে নিঃসন্দেহে একটি সংবেদনশীল মন কাজ করে। এক হাতে দায়িত্বের কঠোরতা, অন্যদিকে হৃদয়ে সুরের কোমলতা—এই বৈপরীত্যই একজন মানুষকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। সাহিত্যপ্রেমী মানুষের হৃদয়ে মানুষের গল্প থাকে সাহিত্য মানুষকে শুধু বই পড়তে শেখায় না; সাহিত্য মানুষকে মানুষ বুঝতে শেখায়। কবিতা কখনো একজন মানুষের চোখের জলকে ভাষা দেয়, গান কখনো না বলা অনুভূতিকে সুর দেয়, আর সাহিত্য কখনো সমাজের অদৃশ্য বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে আসে। একজন পুলিশ কর্মকর্তা যদি সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাহলে তাঁর ব্যক্তিত্বে মানবিক উপলব্ধির একটি অতিরিক্ত মাত্রা তৈরি হয়। মানুষের সুখ-দুঃখ, ভয়, হতাশা, প্রত্যাশা—এসব অনুভূতিকে বোঝার ক্ষমতা একজন পুলিশ কর্মকর্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পুলিশের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক কেবল আইন প্রয়োগের সম্পর্ক নয়; এটি আস্থা, নিরাপত্তা ও মানবিকতার সম্পর্কও। দেশপ্রেম—কথায় নয়, দায়িত্ব পালনের মধ্যেও দেশপ্রেমের বহুমাত্রিক প্রকাশ রয়েছে। কেউ লেখেন, কেউ গান করেন, কেউ সমাজসেবায় যুক্ত হন, আবার কেউ নিজের পেশাগত দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে দেশ ও মানুষের সেবা করেন। একজন পুলিশ কর্মকর্তার জন্য দেশের প্রতি ভালোবাসার সবচেয়ে বাস্তব প্রকাশ হতে পারে—আইনের প্রতি শ্রদ্ধা, নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সততার সঙ্গে পালন করা। রাতের শহরে যখন অধিকাংশ মানুষ নিরাপদ ঘরে, তখনও কোনো পুলিশ সদস্য দায়িত্বে থাকেন। উৎসবের দিনে মানুষ যখন আনন্দে, তখনও পুলিশের অনেক সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। কোনো সংকট দেখা দিলে সবার আগে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর দায়িত্বও অনেক সময় তাঁদেরই। এই দায়িত্ববোধই রাষ্ট্র ও জনগণের প্রতি তাঁদের অঙ্গীকারের অংশ। সাংবাদিক ও পুলিশের সম্পর্ক—পারস্পরিক শ্রদ্ধার জায়গা চট্টগ্রামের সাংবাদিক সমাজের সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনের পেশাগত যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকরা সমাজের বিভিন্ন ঘটনা, সমস্যা, অপরাধ ও মানুষের কথা তুলে ধরেন; পুলিশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং অপরাধ তদন্ত করে। এই দুই পেশার মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, দায়িত্বশীল যোগাযোগ ও পেশাগত সৌহার্দ্য থাকলে উপকৃত হয় সাধারণ মানুষ। এসআই নওশের কোরাইশির সাংবাদিকবান্ধব মনোভাব তাঁর ব্যক্তিত্বের আরেকটি ইতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করা যায়। একজন পুলিশ কর্মকর্তা যদি সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্বকে সম্মান করেন এবং সাংবাদিকরা পুলিশের পেশাগত সীমাবদ্ধতা ও দায়িত্বকে সম্মান করেন, তাহলে উভয়ের মধ্যে সুস্থ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আর সেই সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত জনগণের তথ্যের অধিকার ও নিরাপত্তার জন্যই ইতিবাচক ফল বয়ে আনে। রাজনীতির ঊর্ধ্বে পুলিশ, আইনের প্রতি অঙ্গীকার একটি আধুনিক রাষ্ট্রে পুলিশের সবচেয়ে বড় পরিচয় কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নয়। পুলিশের সবচেয়ে বড় পরিচয়—তিনি আইনের রক্ষক। জনগণের প্রত্যাশাও এখন স্পষ্ট—পুলিশ হবে রাজনৈতিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে, আইন প্রয়োগে নিরপেক্ষ এবং মানুষের কাছে জবাবদিহিমূলক। একজন কর্মকর্তার অতীত নিয়ে নানা আলোচনা থাকতে পারে, নানা মত থাকতে পারে; কিন্তু তাঁর বর্তমান দায়িত্ব পালনের মূল্যায়ন হওয়া উচিত প্রমাণ, কর্মদক্ষতা, আচরণ ও পেশাগত রেকর্ডের ভিত্তিতে। কোনো অভিযোগ থাকলে যথাযথ তদন্ত হবে; ভালো কাজ থাকলে তার স্বীকৃতিও হবে—এটাই একটি সুস্থ প্রশাসনিক সংস্কৃতির পরিচয়। সাবেক ও বর্তমান নেতৃত্বের অধীনে দায়িত্ব পালন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের নেতৃত্বে বিভিন্ন সময়ে নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাবেক পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ সাহেবের দায়িত্বকালেও এবং বর্তমানে পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী সাহেবের নেতৃত্বেও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ তার পেশাগত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এই সাংগঠনিক কাঠামোরই একজন মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা হিসেবে কোতোয়ালি থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই নওশের কোরাইশির দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন কর্মকর্তা যত বেশি জনগণের কাছাকাছি থাকবেন, তাঁর দায়িত্বও তত বেশি সংবেদনশীল হবে। তাই তাঁর প্রতিটি আচরণ, সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপের সঙ্গে পুলিশের ভাবমূর্তিও কোনো না কোনোভাবে যুক্ত থাকে। ভালো পুলিশ কর্মকর্তা মানেই শুধু কঠোর কর্মকর্তা নন আমাদের সমাজে অনেক সময় ধারণা থাকে—ভালো পুলিশ কর্মকর্তা মানেই কঠোর পুলিশ কর্মকর্তা। আসলে বিষয়টি এত সরল নয়। একজন ভালো পুলিশ কর্মকর্তা প্রয়োজনের সময় কঠোর হবেন, কিন্তু অপ্রয়োজনীয়ভাবে কঠোর হবেন না। অপরাধীর বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ করবেন, কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রতি মানবিক থাকবেন। আইন ভঙ্গকারীকে ছাড় দেবেন না, আবার নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি থেকেও রক্ষা করবেন। কঠোরতা যেখানে প্রয়োজন সেখানে দৃঢ়তা, আর মানবিকতা যেখানে প্রয়োজন সেখানে সহমর্মিতা—এই ভারসাম্যই একজন আদর্শ পুলিশ কর্মকর্তার বড় গুণ।
নওশের কোরাইশি—একজন বহুমাত্রিক মানুষ
একজন মানুষকে যদি কয়েকটি শব্দে চেনাতে হয়, নওশের কোরাইশির পরিচয় হতে পারে—
তিনি একজন পুলিশ কর্মকর্তা, যাঁর কাঁধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব।
তিনি একজন দায়িত্বশীল পেশাজীবী, যাঁর কাছে কর্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি একজন গানপ্রেমী মানুষ, যাঁর হৃদয়ে সুরের বসতি।
তিনি একজন কবিতামনস্ক মানুষ, যিনি শব্দের সৌন্দর্য অনুভব করেন।
তিনি একজন সাহিত্যপ্রেমী, যিনি সংস্কৃতির সঙ্গে নিজের সম্পর্ক ধরে রেখেছেন।
তিনি একজন দেশপ্রেমিক, যাঁর পেশাই তাঁকে প্রতিদিন মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্বে দাঁড় করায়।
তিনি একজন সাংবাদিকবান্ধব কর্মকর্তা, যিনি গণমাধ্যমের পেশাগত ভূমিকার সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ককে গুরুত্ব দেন।
আর সবকিছুর ওপরে তিনি একজন মানুষ—যাঁর পরিচয়ের সবচেয়ে সুন্দর দিকটি হওয়া উচিত তাঁর মানবিকতা।
শেষের কথাটি হোক আস্থার
আজকের দিনে জনগণ এমন পুলিশ চায়, যাঁকে দেখে ভয় নয়—আস্থা জন্মাবে।
যাঁর কাছে অভিযোগ নিয়ে গেলে মানুষ কথা বলার সুযোগ পাবে।
যিনি আইনকে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে রাখবেন।
যিনি অপরাধের বিরুদ্ধে দৃঢ় থাকবেন।
যিনি সাধারণ মানুষের মর্যাদা রক্ষা করবেন।
যিনি সাংবাদিকের প্রশ্নকে শত্রুতা হিসেবে নয়, গণমাধ্যমের দায়িত্ব হিসেবে দেখবেন।
যিনি নিজের পেশাকে শুধু চাকরি নয়, দায়িত্ব ও সেবার জায়গা হিসেবে বিবেচনা করবেন।
এসআই নওশের কোরাইশির প্রতি প্রত্যাশাও ঠিক তেমনই।
কোতোয়ালি থানার সেকেন্ড অফিসার হিসেবে তিনি তাঁর দায়িত্ব আরও নিষ্ঠা, সততা, পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও মানবিকতার সঙ্গে পালন করবেন—এটাই প্রত্যাশা।
পুলিশের পোশাক তাঁর পেশার পরিচয়।
আইনের প্রতি অঙ্গীকার তাঁর দায়িত্বের পরিচয়।
গান তাঁর হৃদয়ের পরিচয়।
কবিতা তাঁর অনুভূতির পরিচয়।
সাহিত্য তাঁর মননের পরিচয়।
দেশপ্রেম তাঁর চেতনার পরিচয়।
আর মানুষের প্রতি ভালো আচরণ—হোক তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়।
চট্টগ্রামের পুলিশ হোক জনতার আস্থার পুলিশ, কোতোয়ালি হোক নিরাপত্তা ও সেবার নির্ভরতার ঠিকানা।
আর সেই পথের একজন দায়িত্বশীল সৈনিক হিসেবে এসআই নওশের কোরাইশির কর্মজীবন আরও সুন্দর, সফল ও গৌরবময় হোক—এই শুভকামনা রইল।
পদ নয়, কর্মই হোক পরিচয়।
ক্ষমতা নয়, দায়িত্বই হোক শক্তি।
ভয় নয়, আস্থাই হোক পুলিশের সবচেয়ে বড় অর্জন।

Share This Article
Leave a Comment