Home Blog Page 15

বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি গঠন নগরীর নাগরিক সমস্যা সমাধানে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ঘোষণা ২০১৫ সাল থেকে চট্টগ্রামের মানুষের অধিকার ও সমস্যা নিয়ে কাজ করছি – মো. কামাল উদ্দিন

চট্টগ্রাম মহানগরের দীর্ঘদিনের নাগরিক সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানে কার্যকর নাগরিক আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত ৩০ আগস্ট, রবিবার বিকেল ৪টায় নগরীর সিআরবি এলাকার তাসফিয়া রেস্টুরেন্টে এ উপলক্ষে এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান আবু সৈয়দের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মুখ্য আলোচক ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব মো. কামাল উদ্দিন। সভায় চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা, জনদুর্ভোগ, উন্নয়ন ও নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে জলাবদ্ধতা, যানজট, সড়ক যোগাযোগ, খাল-নালা ও নদী দখল-দূষণ, পরিবেশ বিপর্যয়, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নাগরিক স্বাস্থ্যসেবা, জননিরাপত্তা ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে বক্তারা মতামত তুলে ধরেন। সভায় বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র চট্টগ্রাম। দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর, শিল্প-কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এ অঞ্চলে থাকলেও নাগরিক জীবনে নানা সংকট দীর্ঘদিন ধরে বিরাজ করছে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের পাশাপাশি নাগরিক সমাজেরও দায়িত্বশীল ও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। সভায় মুখ্য আলোচকের বক্তব্যে কেন্দ্রীয় মহাসচিব মো. কামাল উদ্দিন বলেন, “আমরা ২০১৫ সালে চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম গঠন করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা সমাধানের দাবিতে দীর্ঘ আন্দোলন করে আসছি। চট্টগ্রামের মানুষের নাগরিক অধিকার, উন্নয়ন ও ন্যায্য দাবিগুলো নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরে মাঠে কাজ করছি।” তিনি বলেন, “সময় ও বাস্তবতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বৃহত্তর চট্টগ্রামের মানুষের সমস্যা ও প্রত্যাশার পরিধিও বেড়েছে। তাই সময়ের দাবিতে সংগঠনের সাংগঠনিক পরিধি বৃদ্ধি করা হয়েছে। শুধু চট্টগ্রাম মহানগর নয়, বৃহত্তর চট্টগ্রামের পাঁচ জেলার মানুষের অভিন্ন স্বার্থ, সমস্যা ও সম্ভাবনাকে সামনে রেখে নতুন সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।” মো. কামাল উদ্দিন বলেন, “চট্টগ্রামের সঙ্গে কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িকে সম্পৃক্ত করে বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের কেন্দ্রীয় পরিষদ গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামকে মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ—এই তিনটি সাংগঠনিক অঞ্চলে বিন্যস্ত করা হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় আজ চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি গঠন করা হলো।” বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের অরাজনৈতিক চরিত্র তুলে ধরে মহাসচিব বলেন, “এই সংগঠন সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও জনকল্যাণমূলক। কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া আমাদের উদ্দেশ্য নয়। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ ও পেশার ঊর্ধ্বে উঠে বৃহত্তর চট্টগ্রামের মানুষের ন্যায্য নাগরিক অধিকার ও দাবির পক্ষে কথা বলাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।” তিনি বলেন, “নাগরিক ফোরাম শুধু সমস্যা তুলে ধরে থেমে থাকতে চায় না। আমরা সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করতে চাই, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বাস্তবসম্মত সমাধানের প্রস্তাব দিতে চাই এবং জনগণকে সম্পৃক্ত করে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ে ভূমিকা রাখতে চাই।” তিনি আরও বলেন, “চট্টগ্রামের উন্নয়ন মানে শুধু বড় বড় প্রকল্প গ্রহণ নয়; প্রকল্পের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোও নিশ্চিত করতে হবে। নগরবাসীর জীবনযাত্রা সহজ না হলে উন্নয়নের প্রকৃত সুফল পাওয়া সম্ভব নয়।” সভায় চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, জলাবদ্ধতা চট্টগ্রাম নগরীর অন্যতম প্রধান সমস্যা। সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও আবাসিক এলাকায় পানি জমে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। এছাড়া যানজট, গণপরিবহনের বিশৃঙ্খলা, ফুটপাত দখল, অপরিকল্পিত সড়ক ব্যবস্থাপনা, খাল-নালা দখল ও ভরাট, কর্ণফুলীসহ বিভিন্ন জলাধারের দূষণ, পাহাড় কাটা, পরিবেশ বিপর্যয় এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। নাগরিক ফোরামের নেতৃবৃন্দ বলেন, এসব সমস্যা কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়। প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। নতুন মহানগর কমিটি এ ক্ষেত্রে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, মহানগর কমিটি নগরীর বিভিন্ন এলাকার নাগরিক সমস্যা পর্যায়ক্রমে চিহ্নিত করবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত গ্রহণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান প্রস্তাব তৈরি করা হবে। পরবর্তীতে এসব সমস্যা সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে। প্রয়োজন হলে সংবাদ সম্মেলন, স্মারকলিপি, মানববন্ধন, গোলটেবিল আলোচনা ও শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলনের মাধ্যমে নাগরিক দাবিগুলো তুলে ধরা হবে। সভায় কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান আবু সৈয়দ ও কেন্দ্রীয় মহাসচিব মো. কামাল উদ্দিন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এম হামিদ হোসাইন, মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন মানিক, নাহিদা আকতার নাজু, ওয়াহিদুল্লাহ, লায়ন মো. জিল্লুর রহমান শাকিল, দুলাল কান্তি বড়ুয়া, মিনহাজ উদ্দিন চৌধুরী, অরুপ, এস বি সুমি, এম আলী রুহি, বিপ্লব বড়ুয়া, মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান, বেলাল উদ্দিন, মনজু আলম, বিপ্লব বিজয়, রিপন চৌধুরী, সৈয়দ মোহাম্মদ সেলিম, মহসিন বাবলু, মোহাম্মদ ওয়াহিদুল আলম, আসিশ, ওমর আলী রনি, রাজু ও বাউল জুয়েলসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সভায় আলোচনা শেষে বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি ঘোষণা করা হয়। সভাপতি: এম হামিদ হোসাইন, সিনিয়র সহসভাপতি: লায়ন মো. জিল্লুর রহমান শাকিল, সহ-সভাপতি: মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন মানিক, সহ-সভাপতি: নাহিদা আকতার নাজু, সহ-সভাপতি: ওয়াহিদুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক: দুলাল কান্তি বড়ুয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক : মোহাম্মদ উদ্দিন (মহিউদ্দিন), সহ-সভাপতি: মিনহাজ উদ্দিন চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক: অরুপ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক: এস বি সুমি, প্রচার সম্পাদক: এম আলী রুহি, তথ্য ও প্রচার সম্পাদক: বিপ্লব বড়ুয়া, দপ্তর সম্পাদক: মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান, সভায় নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সভাপতির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান আবু সৈয়দ বলেন, চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি গঠনের মাধ্যমে নগরীর নাগরিক আন্দোলন আরও সুসংগঠিত হবে। তিনি নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দকে দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে মানুষের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নাগরিক সমস্যা সমাধানে জনগণের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নগরবাসীর কথা শুনে তাদের সমস্যা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরতে হবে। সভায় উপস্থিত অন্যান্য নেতৃবৃন্দও নবগঠিত কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরের নাগরিক সমস্যা সমাধানে ঐক্যবদ্ধ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের বিকল্প নেই। সভা শেষে বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়। আগামী দিনে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা চিহ্নিত করে ধারাবাহিক কর্মসূচি গ্রহণ এবং নাগরিকদের সম্পৃক্ত করে বৃহত্তর নাগরিক আন্দোলন গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

সিদ্ধার্থ-মুগ্ধের তিন দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ

রংপুর নগরীতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজন হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। তবে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়া, নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগসহ সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তাদের দুই দিন প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে রংপুরের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলাম এ আদেশ দেন। পরে সংবাদ সম্মেলনে মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার পরও বেশ কিছু নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই এবং নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগের পর অধিকতর তদন্তের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল।’ তিনি বলেন, ‘আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়নি। তবে তাদের পক্ষে লিগ্যাল এইডের আইনজীবীরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শুনানিতে যুক্ত ছিলেন। শুনানি শেষে আদালত দুই দিন প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে জেলগেটে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন।’ এর আগে রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে ডোপ টেস্টের জন্য সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষায় তাদের শরীরে মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। এ ঘটনায় নগরীর কোতোয়ালি থানায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে মামলাটি থানা থেকে মহানগর ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলীকে নিযুক্ত করা হয়।

চট্টগ্রামে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার, সমঅধিকার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে অংশীজনদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সম্মেলন–২০২৬’। রোববার (৩০ আগস্ট) চট্টগ্রামের থিয়েটার ইনস্টিটিউটে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, যুগান্তর সমাজ উন্নয়ন সংস্থা (JSUS), সেন্টার ফর ডিসএবলস কনসার্ন (CDC), স্বপ্নীল ব্রাইট ফাউন্ডেশন ও সংশপ্তকের যৌথ আয়োজনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বিটিভি ও বাংলাদেশ বেতারের উপস্থাপক দিলরুবা খানম ছুটির সঞ্চালনায় সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের কর্ণফুলী এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম ম্যানেজার জনি রোজাজিও। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মোঃ সাইদুজ্জামান। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ রূপন কুমার দাস। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর চৌধুরী মঞ্জুরুল হক এবং চট্টগ্রাম জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কামরুল পাশা ভুইয়া। সম্মেলনে প্রায় ৩০০ জন অংশগ্রহণ করেন। এতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, সমঅধিকার নিশ্চিত করা এবং সমাজের বিভিন্ন অংশীজনের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য লোকদেখানো সমর্থনের পরিবর্তে আস্থা, ক্ষমতার অংশীদারত্ব ও প্রকৃত স্বকীয়তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সার্বজনীন প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবন-অভিজ্ঞতাকে বিশেষজ্ঞতা হিসেবে মূল্যায়ন করতে হবে। তারা আরও বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমান সুযোগ ও মর্যাদা নিশ্চিত করা গেলে একটি সমতাভিত্তিক, মর্যাদাপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। সম্মেলনে আয়োজক সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বপ্নীল ব্রাইট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মোঃ আলী সিকদার, যুগান্তর সমাজ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ইয়াসমীন পারভিন, সেন্টার ফর ডিসএবলস কনসার্নের নির্বাহী পরিচালক লুৎফুন্নেছা রূপসা এবং সংশপ্তকের প্রধান নির্বাহী লিটন চৌধুরী। এ ছাড়া ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন রীতা দোলন রোজারিও, শারমিন আক্তার, রিপা চাকমা, পায়েল খ্রীস্টিনা দাশ ও স্মীতা দে।

চরণদ্বীপে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ইসলামি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা

স ম জিয়াউর রহমান, চট্টগ্রাম থেকে :
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চরণদ্বীপ দরবার শরীফ শাহী ময়দানে আল্লামা শাহ অছিয়র রহমান একাডেমির উদ্যোগে ইসলামি সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৩০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টায় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। প্রাত্যহিক সমাবেশ শেষে ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষে স্বাগত র‍্যালি বের করা হয়৷ র‍্যালি শেষে অনুষ্ঠানের মূল পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। দু’জাহানের কামলিওয়ালা নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর পবিত্র জীবন, আদর্শ ও মানবিক শিক্ষার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচিত করা এবং তাদের নৈতিক ও চারিত্রিক গুণাবলির বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যে এ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ক্বেরাত প্রতিযোগিতা, হামদ ও নাতে রাসূল (সা.) এবং বিষয়ভিত্তিক ইসলামি বক্তব্য অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। তাদের পরিবেশনা উপস্থিত শিক্ষক, অভিভাবক ও অতিথিদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চরণদ্বীপ দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন হযরতুলহাজ্ব শাহসূফী শেখ আবু মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ফারুকী। এতে বক্তারা বলেন, হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (দ.) ছিলেন সমগ্র মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। তাঁর জীবন ও আদর্শ শিক্ষার্থীদের মাঝে তুলে ধরার মাধ্যমে তাদের মধ্যে নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, মানবিকতা, সৌজন্যবোধ ও দেশপ্রেমের মতো গুণাবলি বিকশিত করা সম্ভব। বক্তারা আরও বলেন, শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চাই একটি সুন্দর ও আদর্শ সমাজ গঠনের ভিত্তি। তাই শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের পাশাপাশি তাদের নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি বিকাশে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হলে শিক্ষার্থীদের মাঝে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। আল্লামা শাহ অছিয়র রহমান একাডেমির অধ্যক্ষ ও সচিব এসএম সানাউল্লাহ ফারুকী বলেন, “মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর জীবন ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের উদ্দেশ্যেই আমাদের এ আয়োজন। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের নৈতিক, ধর্মীয় ও সৃজনশীল বিকাশে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।” অনুষ্ঠানে একাডেমির শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। আয়োজনটি অত্যন্ত সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।

বাগীশিক কেন্দ্রীয় সংসদের ৮ম মেয়াদের নবগঠিত নির্বাহী কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত

স ম জিয়াউর রহমান, চট্টগ্রাম থেকে :
বাংলাদেশ গীতা শিক্ষা কমিটি (বাগীশিক) কেন্দ্রীয় সংসদের নবনির্বাচিত কমিটির পরিচিতি সভা ২৯ আগষ্ট শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় সংগঠনের আন্দরকিল্লাস্থ বাগীশিক অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। বাগীশিক কেন্দ্রীয় সভাপতি শ্রী ঝুন্টু চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এড.শুভাশীষ শর্মার সঞ্চালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. অঞ্জন কুমার দাশ। সভায় সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন ব্যাংকার শ্রী দেশপ্রিয় চৌধুরী বিনয়, প্রভাষক শ্রী পলাশ কান্তি নাথ রণী, ব্যবসায়ি শ্রী প্রীতম চৌধুরী, খাদ্য অধিদপ্তরের উর্ধতন কর্মকর্তা শ্রী সুনীল দত্ত, এড.ভুপাল চৌধুরী, এড.প্রণব মজুমদার, জনতা ব্যাংকের এজিএম মৌসুমী নাথ, সংগঠক শ্রী অর্জুন কুমার নাথ,শ্রী অরুণ কান্তি মল্লিক, সাংবাদিক এস.প্রকাশ পাল,পলাশ দত্ত ,মোহন চৌধুরী, অধ্যাপক কৃষ্ণ প্রসাদ ধর, জনি কান্তি পাল, সুমন কুমার বনিক, রনজিতা দাশ, সুমন দত্ত, অর্চনা রানী ভঞ্জ, নীলকান্ত দাশ বিশু, তন্ময় চক্রবর্তী বাসু, জীবন কৃষ্ণ সাহা, বিপ্লব পাল চৌধুরী, লায়ন সুভাষ চন্দ্র দাশ, বিপ্লব আচার্য, সমর কান্তি দাশ, লাবনী প্রভা দত্ত, রিংকু ভট্টাচার্য, ঝন্টু শীল, দেবাশীষ দত্ত ক্রেডিট, এড. রিমন দাশ, অনিতা ঘোষ, কৈলাশ বিহারী সেন, সুজন দেবনাথ, সজীব মজুমদার, যীশু সেন, তপন কান্তি নাথ, আশীষ কুমার পাঠক, বিকাশ চৌধুরী, ডা. রুপম রুদ্র, নির্মল মজুমদার, দেবাশীষ মজুমদার, সুজিত দাশ, বৃষ্টি বৈদ্য, গৌরাঙ্গ প্রসাদ ভট্টাচার্য, অনুপম নাথ, টিটু দাশ, রাধারানী চৌধুরী প্রমুখ। নবগঠিত কমিটির পরিচিতি পর্ব শেষে উপস্থিত সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে পূর্ববর্তী উপদেষ্টা পরিষদ বিলুপ্ত ঘোষণা করতঃ ২৫ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয় এবং নবগঠিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠান আয়োজনের লক্ষ্যে এড. প্রণব মজুমদারকে আহবায়ক এবং অরুন কান্তি মল্লিককে সদস্য সচিব মনোনীত করে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট অভিষেক উদযাপন উপ-কমিটি গঠন করা হয়। সভায় বাগীশিক কেন্দ্রীয় সংসদের সহযোগিতায় এবং সংশ্লিষ্ট জেলা সংসদের উদ্যোগে বিভিন্ন জেলায় প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন এবং সংগঠনের অভিষেক অনুষ্ঠান উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি প্রণয়ন করা হয়।

উত্তর ধর্মপুরে কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

স ম জিয়াউর রহমান, চট্টগ্রাম থেকে :
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ধর্মপুর ০১নং ওয়ার্ডে সদ্য এস.এস.সি ও দাখিল পরীক্ষায় সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকাল ৩টায় উত্তর ধর্মপুর উচ্চ বিদ্যালয় হলরুমে মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ, ধর্মপুর ০১নং ওয়ার্ড শাখার উদ্যোগে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআনুল কারীম থেকে তেলাওয়াত করেন রাহাত চৌধুরী। এরপর নাতে রাসুল (দ.) ও মাইজভাণ্ডারী কালাম পরিবেশন করেন মেজবাহ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে ধর্মপুর ০১নং ওয়ার্ডের ৪২ জন কৃতী শিক্ষার্থী, যারা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সদ্য এস.এস.সি ও দাখিল পরীক্ষায় সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাঁদের কৃতিত্বের স্বীকৃতি ও ভবিষ্যৎ পথচলায় উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর হাতে সম্মাননা স্মারক ও ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহানশাহ সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী উচ্চ বিদ্যালয়, মানিকপুরের প্রধান শিক্ষক ও উত্তর ধর্মপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক বটন কুমার দে। মোটিভেশনাল স্পিকার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের আইনজীবী এবং উত্তর ধর্মপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মোহাম্মদ মোস্তফা করিম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ, ফটিকছড়ি ‘খ’ জোনের সাংগঠনিক সমন্বয়কারী মাস্টার মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উত্তর ধর্মপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ফরিদুল আলম, জাহানপুর আমজাদ আলী ইন্সটিটিউশনের সহকারী প্রধান শিক্ষক খোরশেদুল আলম, উত্তর নিশ্চিন্তাপুর ছাপা মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ইব্রাহীম, উত্তর ধর্মপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রকাশ বড়ুয়া, মাইজভাণ্ডার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক রফিকুল আলম, ধর্মপুর আবেদীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক বেলাল উদ্দীন, উত্তর ধর্মপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুর রউফ ও রবিউল হোসেন এবং রোসাংগিরী উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মহসিন কায়সার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এলাকার শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব রফিকুল আলম, নিলয় গ্রাফিক্সের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ হোসেন, ধর্মপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক শফিউল বশর, মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ, উত্তর খিরাম শাখার কর্মকর্তা মহিউদ্দিন পিয়ারু, আরিফুল ইসলাম, রোকনসহ ধর্মপুর ০১নং ওয়ার্ড শাখার সকল কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের সাফল্য শুধু তাদের পরিবারের নয়, বরং পুরো এলাকার জন্য গর্বের বিষয়। লো ফলাফলের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিকতা, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধে সমৃদ্ধ হয়ে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ার গঠনের ক্ষেত্রেও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করেন বক্তারা। বক্তারা আরও বলেন, মাইজভাণ্ডারী দর্শনের মানবপ্রেম, নৈতিকতা, সাম্য, সহমর্মিতা ও সেবার আদর্শ ধারণ করে শিক্ষার্থীদের অর্জিত জ্ঞান ও যোগ্যতাকে সমাজ ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্যের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন ও ক্যারিয়ার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেওয়া হয়। কৃতী শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসে পুরো আয়োজন হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ, ধর্মপুর ০১নং ওয়ার্ড শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং উত্তর সর্ত্তা দরগাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ আলী।

মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ মাহমুদাবাদ শাখার উদ্যোগে ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) ও চন্দ্র বার্ষিকী ফাতেহা উপলক্ষে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত

স ম জিয়াউর রহমান, চট্টগ্রাম থেকে :
মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ, হাটহাজারী “ক” জোনের আওতাধীন মাহমুদাবাদ শাখা (কোড-১৩৩)-এর ব্যবস্থাপনায় ২৬ আগস্ট ২০২৬ইং, বুধবার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপন এবং বিশ্বঅলী শাহানশাহ সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর চন্দ্র বার্ষিকী ফাতেহা উপলক্ষে মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি কেন্দ্রীয় পর্ষদের সদস্য এইচ এম জসিম উদ্দিন জিকু। মাহফিলে প্রধান আলোচক হিসেবে তকরির পেশ করেন হযরত খোশাল শাহ (রহ.) জামে মসজিদের খতিব মুফতি ওমর ফারুক নঈমী। বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন উম্মুল আশেকীন মুনাওয়ারা বেগম এতিমখানা ও হেফাজখানা শিক্ষক মাওলানা শাফায়াত হোসাইন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ, সূর্যগীরি আশ্রম শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাংবাদিক লায়ন ডা. বরুণ কুমার আচার্য বলাই, হাটহাজারী “ক” জোনের সাংগঠনিক সমন্বয়কারী মো. হাবিবুল ইসলাম চৌধুরী। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, মনিয়াপুকুর শাখার সাবেক সভাপতি মনজুরুল ইসলাম দুলু, উদালিয়া শাখার এম সাজ্জাদ, রুবেল শীল, ঝুমুর সর্দার এবং মাদরাসা গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারীর সাবেক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ তামজিদ হোসাইন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শাখার সভাপতি আলী আকবর। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কমিটির উপদেষ্টা আবদুল হাকিম বাবুল, উপদেষ্টা মোঃ শফিউল আজম চেয়ারম্যান, এনামুল হক, ওসমান, মোহাম্মদ হাছান হেলাল, হুমায়ুন কবির, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ লোকমান, আবদুল শাক্কুর, হাসানুল করিম, আব্দুল গফুর মানিক, আজিজ উদ্দীন বিপলুসহ কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের সম্পাদক ও সদস্যবৃন্দ এবং সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে একজন অসুস্থ ব্যক্তিকে চিকিৎসা সহায়তা বাবদ নগদ অর্থ প্রদান করা হয়। পাশাপাশি ২০ জন অসহায় মানুষের মাঝে চালসহ ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। পরিশেষে মিলাদ, কিয়াম পরিচালনা করেন উদালিয়া শাখার ধর্মীয় সম্পাদক মাওলানা জাহেদুল ইসলাম, মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়। মোনাজাত শেষে উপস্থিত আশেকানদের মাঝে উন্মুক্ত তাবরুক বিতরণ করা হয়।

র‍্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশের রুনা খান

0

২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ ‘র‍্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার’ পেয়েছেন বাংলাদেশের সমাজসেবী ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেন্ডশিপের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক রুনা খান। ‘এশিয়ার নোবেল’ হিসেবে পরিচিত এ সম্মাননায় এবার তার সঙ্গে নির্বাচিত হয়েছেন সিঙ্গাপুরের কূটনীতিক টমি কোহ এবং মিয়ানমারের মানবাধিকারকর্মী বো চি। সোমবার (৩১ আগস্ট) ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় র‍্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন ২০২৬ সালের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে। রুনা খান ২০০২ সালে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেন্ডশিপ প্রতিষ্ঠা করেন। আন্তর্জাতিক সামাজিক উদ্দেশ্যভিত্তিক এই সংস্থাটি সমাজের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে আসছে। ফ্রেন্ডশিপের লক্ষ্য হলো এমন একটি সমাজ গড়ে তোলা, যেখানে বিশেষ করে দুর্গম ও দীর্ঘদিন অবহেলিত জনগোষ্ঠী মর্যাদা ও আশার সঙ্গে বেঁচে থাকার সমান সুযোগ পাবে। দুই দশকের বেশি সময় ধরে সংস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ সেবা থেকে বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করছে। পাশাপাশি পরিবেশগত সংকট, চরম দারিদ্র্য, বৈষম্য ও অবিচারের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করছে। পুরস্কারজয়ী টমি কোহ সিঙ্গাপুরের কূটনীতিক, আইনজীবী, অধ্যাপক ও লেখক। আর বো চি মিয়ানমারের একজন মানবাধিকারকর্মী। ফিলিপাইনের সপ্তম প্রেসিডেন্ট র‍্যামন ম্যাগসাইসাইয়ের নামে এই পুরস্কারের নামকরণ করা হয়। ১৯৫৭ সালের ১৭ মার্চ এক বিমান দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। একই বছর প্রতিষ্ঠিত হয় র‍্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন। পরের বছর, ১৯৫৮ সাল থেকে এ পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়। র‍্যামন ম্যাগসাইসাইয়ের জন্মদিন ৩১ আগস্ট। প্রতিবছর তার জন্মদিন উপলক্ষে ম্যানিলা থেকে পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। এবার তার ১১৯তম জন্মবার্ষিকীতে ২০২৬ সালের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হলো। এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ৬৮তম র‍্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার উৎসবের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। আগামী ১৫ নভেম্বর ম্যানিলার মেট্রোপলিটন থিয়েটারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। র‍্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশনের মতে, ২০২৬ সালের বিজয়ীদের এমন কাজের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যা ম্যাগসাইসাইয়ের নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত স্থায়ী মূল্যবোধকে ধারণ করে। এর মধ্যে রয়েছে অন্যের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করা, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জন্য সুযোগ তৈরি করা এবং মানুষকে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সহায়তা করা। ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ছয়টি শ্রেণিতে র‍্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার দেওয়া হতো। শ্রেণিগুলো ছিল সরকারি সেবা, জনসেবা, সামাজিক নেতৃত্ব, সাংবাদিকতা-সাহিত্য-সৃজনশীল যোগাযোগকলা, শান্তি ও আন্তর্জাতিক বোঝাপড়া এবং উদীয়মান নেতৃত্ব। ২০০০ সালে ফোর্ড ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তায় ‘উদীয়মান নেতৃত্ব’ শ্রেণিতে পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়। তবে ২০০৯ সাল থেকে ‘উদীয়মান নেতৃত্ব’ ছাড়া অন্য কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণিতে পুরস্কারটি সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি।

দুপুরের মধ্যে ৬ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস

0

দেশের ছয়টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে দুপুরের মধ্যে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে হতে পারে অস্থায়ী বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি। এমন পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সোমবার (৩১ আগস্ট) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় এসব এলাকায় অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনার কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আজ বিশ্ব গুম প্রতিরোধ দিবস—আজও আমার ভাই ফিরে আসেনি

কিছু অপেক্ষার কোনো শেষ নেই।
কিছু প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই।
আর কিছু শোক মানুষকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাড়িয়ে বেড়ায়।
আজ বিশ্ব গুম প্রতিরোধ দিবস।
এই দিনটি পৃথিবীর অসংখ্য নিখোঁজ মানুষের স্বজনদের বেদনা নতুন করে জাগিয়ে তোলে। এ দিনে আমারও মনে পড়ে আমার ছোট ভাই আকতার উদ্দিনের কথা।
১৯৯৭ সালের ১১ আগস্ট চট্টগ্রামের কালুরঘাট কামাল বাজার এলাকা থেকে আমার ভাই আকতারকে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
সেদিনের সেই ভাইটি আজ কোথায়?
সে কি বেঁচে আছে?
নাকি তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে তার মরদেহ গুম করা হয়েছে?
২৯ বছর পেরিয়ে গেছে।
ক্যালেন্ডারের অসংখ্য পাতা বদলেছে, বহু সরকার এসেছে ও বিদায় নিয়েছে, পৃথিবী থেকে বহু মানুষ হারিয়ে গেছে—কিন্তু আমাদের অপেক্ষার অবসান হয়নি।
আমি তখন চান্দগাঁও ও বোয়ালখালী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলাম। পুলিশ সদর দপ্তরেও একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েছি। বছরের পর বছর প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেছি, লিখেছি, প্রতিবাদ জানিয়েছি এবং জবাব চেয়েছি। কিন্তু আজও আমার ভাই জীবিত না মৃত—সে বিষয়ে আমরা কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাইনি।
আমার দৃঢ় বিশ্বাস, তৎকালীন প্রশাসনের রহস্যজনক ভূমিকার কারণে আমার ভাইকে খুঁজে বের করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের সন্দেহ, তাকে হত্যা করে তার মরদেহ গুম করা হয়ে থাকতে পারে। আমি চাই, এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হোক এবং প্রকৃত ঘটনা জাতির সামনে প্রকাশ করা হোক।
সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হলো—
আমার মা এই অপেক্ষা সহ্য করতে পারেননি।
নিখোঁজ সন্তানের শোকে তিনি ধীরে ধীরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। প্রতিটি দরজায়, প্রতিটি পরিচিত মুখে এবং প্রতিটি অচেনা ফোনকলে তিনি হয়তো তাঁর আকতারকে খুঁজে বেড়াতেন।
“আমার আকতার কি ফিরবে?”
এই প্রশ্নটি যেন প্রতিদিন তাঁর হৃদয়ে নতুন করে বেদনা জাগিয়ে তুলত।
শেষ পর্যন্ত ২০০১ সালের ২ আগস্ট আমার মা আমাদের ছেড়ে চিরবিদায় নেন।
নিখোঁজ সন্তানের মরদেহটুকুও তিনি দেখতে পাননি।
তাকে দাফন করতে পারেননি।
শেষবারের মতো ছেলের মুখে হাত রেখে বলতে পারেননি—
“বাবা, তুই আমাকে ছেড়ে কোথায় গেলি?”
একজন মায়ের জন্য এর চেয়ে বড় বেদনা আর কী হতে পারে?
মা চলে গেছেন।
কিন্তু তাঁর সেই প্রশ্ন আজও আমাদের ঘরে ঘরে প্রতিধ্বনিত হয়।
আকতার কোথায়?
আজ আমি কোনো প্রতিশোধ চাই না।
আমি কারও বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগও করতে চাই না।
আমি শুধু সত্য জানতে চাই।
আমার ভাই যদি বেঁচে থাকে, তাকে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হোক।
আর যদি সে আর পৃথিবীতে না থাকে, তবে তার পরিণতির সত্য আমাদের জানানো হোক এবং তার মরদেহের সন্ধান দেওয়া হোক। যারা দায়ী, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাদের আইনের আওতায় আনা হোক।
আমরা জানি, এত বছর পর হয়তো আকতার আর আমাদের দরজায় এসে দাঁড়াবে না।
তবুও একজন ভাই হিসেবে আমার হৃদয়ে যে প্রশ্নটি এত বছর ধরে অনুত্তরিত রয়েছে, তার উত্তর পাওয়ার অধিকার আমার আছে।
একজন স্বজনের দীর্ঘ অপেক্ষারও ন্যায়বিচার প্রাপ্য।
২৯ বছর ধরে আমি অপেক্ষা করছি।
২৯ বছর ধরে লিখছি।
২৯ বছর ধরে প্রশ্ন করে চলেছি।
আজ বিশ্ব গুম প্রতিরোধ দিবসে সেই প্রশ্নই আবার রাষ্ট্র, প্রশাসন এবং বিবেকবান মানুষের কাছে তুলে ধরতে চাই—
আমার ভাই আকতার উদ্দিন কোথায়?
আমি আমার ভাইকে ফিরে পেতে চাই—
জীবিত হলে জীবিত, মৃত হলে অন্তত সত্যসহ।
এই সত্য উদঘাটন ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় আমি আমার ভাইয়ের গুম হওয়ার ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইনশাআল্লাহ।
কারণ, সময় অনেক কিছু মুছে দিতে পারে—
কিন্তু একজন মায়ের কান্না, একজন ভাইয়ের অপেক্ষা এবং সত্যের দাবি কখনো মুছে দিতে পারে না।
আজও আমার হৃদয়ের গভীর থেকে একটি কথাই উচ্চারিত হয়—
“আকতার, তুই যেখানে থাকিস—তোর ভাই তোকে আজও খুঁজছে।”
আর আমার প্রয়াত মায়ের আত্মার কাছে আমার একটাই অঙ্গীকার—
“মা, তোমার আকতারের সত্য আমি খুঁজে বের করব। যতদিন বেঁচে আছি, এই লড়াই থামবে না।”
আল্লাহ আমার ভাইকে রহম করুন, সত্য প্রকাশ করুন এবং আমাদের ন্যায়বিচার পাওয়ার তাওফিক দিন। আমিন।