Home Blog Page 3

রাউজানে পুলিশের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গুলিবিনিময়, আহত ১২ আগ্নেয়াস্ত্র-গুলিসহ একজন গ্রেপ্তার, বিপুল অস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

চট্টগ্রামের রাউজানে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ অপরাধীচক্রের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযানে গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ১২ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দিদার হোসেন (৩৭) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে রাউজান থানাধীন ৮ নম্বর কদলপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কদলপুর জয়গির বড়ুয়া পাড়া এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে মোঃ জানে আলম ওরফে ডাকাত আলম এবং মোহাম্মদ আজিজ ওরফে আজিজ বসের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি ও আদায় করে আসছিল। সর্বশেষ ২৫ সেপ্টেম্বর তারা আবু বক্কর চৌধুরীর বাড়িতে গিয়ে চাঁদা দাবি করে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। বিষয়টি যাচাই করে সত্যতা পাওয়ার পর চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম, বিপিএম রাউজান থানা পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার রাতে জানে আলম ওরফে ডাকাত আলমের বসতঘরের সামনে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বসতঘরের ভেতরে থাকা জানে আলম ওরফে ডাকাত আলম (৪২), মোহাম্মদ আজিজ ওরফে আজিজ বস (৫২), দিদার হোসেন (৩৭), মোঃ রুবেল (২৭), মোঃ মামুন-অর-রশিদ ওরফে মামুন (৩৫) এবং মোঃ বাঁচা (৪৫)সহ কয়েকজন পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এ সময় আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এতে এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ জান্নাতুন নাঈম রাজন, এসআই মোঃ নোবনেদ আলম, এসআই মোঃ রায়েজিদ মৃধা, এসআই মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, এএসআই মোঃ জুয়েল চন্দ্র বিশ্বাস, এএসআই মোঃ রফিউল হোসেনসহ মোট ১২ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। অভিযান চলাকালে দিদার হোসেনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অন্যরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দিদার হোসেনের হেফাজত ও তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে—

  • ১টি ডিবিবিএল (দোনলা বন্দুক)
  • ১টি এসবিবিএল (একরলা কাটা বন্দুক)
  • ১১৯ রাউন্ড চায়না রাইফেলের গুলি
  • ৬ রাউন্ড সীসা কার্তুজ
  • ৪টি রামদা
  • ২টি কিরিচ
  • ২টি গুলি রাখার পাউচ

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার ব্যক্তি ও পলাতক সহযোগীদের সংঘবদ্ধ ও অস্ত্রধারী অপরাধী হিসেবে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, গত ২৯ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে কদলপুর এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তিনজনকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাদের কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি এলজি, দুই রাউন্ড সীসা কার্তুজ, একটি রামদা ও একটি ছোরা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ডাকাতির প্রস্তুতি ও অস্ত্র আইনে দুটি পৃথক মামলা করা হয়। অন্যদিকে, ফটিকছড়িতে মন্দিরে চুরির পৃথক ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর ভোরে ফটিকছড়ি থানার সুন্দরপুর ইউনিয়নের সার্বজনীন শ্রী শ্রী শিব ও মগধেশ্বরী মন্দির এবং ৩০ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ২টার দিকে বেলখাং ইউনিয়নের শ্রী শ্রী মা মনসা চণ্ডী মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। তদন্তের পর পুলিশ চুরি হওয়া বিভিন্ন মালামালের মধ্যে পিতলের ঘট, পঞ্চপাত্র, শিশি, ঘণ্টা, পিতলের সই, স্টিলের প্লেট, চামচ, পিতলের বড় ঘট, কোষা, বদনা, কাসার গামলা, গ্লাস, পিতলের থালা, আরতি, দুর্গামূর্তি, পিতলের বাটি, প্রণামী বাক্সের ১ হাজার ২০০ টাকা এবং আসামিদের ব্যবহৃত একটি সিএনজি উদ্ধার করে। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বিভিন্ন মসজিদ ও মন্দিরের দানবাক্স ভেঙে চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার চারজন হলেন—মোঃ ইউসুফ (৩২), মোঃ হানেম (৪২), মোঃ সাহাব উদ্দিন (৪১) ও রুহুল আমিন (২৯)। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সর্বোচ্চ ৭ টাকা ১১ পয়সায় সৌরবিদ্যুৎ কিনবে বিতরণ সংস্থা

বেসরকারি উদ্যোগে বাণিজ্যিক বা মার্চেন্ট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের ক্ষেত্রে বিদ্যুতের দাম ও গ্রিড ব্যবহারের মাশুল নির্ধারণ নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতার অবসান হয়েছে। গণশুনানি শেষে মার্চেন্ট বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুতের ক্রয়মূল্য ও জাতীয় গ্রিড ব্যবহারের মাশুল নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিতরণ সংস্থাগুলো মার্চেন্ট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ৬ টাকা ৯৮ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৭ টাকা ১১ পয়সায় কিনবে। আগামী অক্টোবর থেকে এ হার কার্যকর হবে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিইআরসি। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মার্চেন্ট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে একক ক্রেতা হিসেবে বিদ্যুৎ কিনতে পারবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। ৩৩ কেভি সংযোগে প্রতি ইউনিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ টাকা ৯৮ পয়সা এবং ১৩২ কেভি সংযোগে ৭ টাকা ১১ পয়সা। মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্টের (এমপিপি) উদ্যোক্তারা বড় গ্রাহকের কাছে সরাসরি বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে উৎপাদক ও ক্রেতা নিজেদের মধ্যে বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করবেন। তবে সরকারি সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামো ব্যবহার করলে নির্ধারিত ‘ওপেন অ্যাকসেস ট্যারিফ’ দিতে হবে। বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গ্রাহকের সংযোগের ধরন অনুযায়ী এই মাশুল প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২২ পয়সা থেকে ১ টাকা ৯০ দশমিক ৯৭ পয়সা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র সরাসরি জাতীয় গ্রিডে এবং গ্রাহক সরকারি বিতরণ সংস্থার মাধ্যমে যুক্ত থাকলে সঞ্চালন ভোল্টেজ অনুযায়ী মাশুল দিতে হবে। ২৩০ কেভিতে প্রতি ইউনিটে মোট মাশুল ১ টাকা ৫৯ দশমিক ৮৯ পয়সা, ১৩২ কেভিতে ১ টাকা ৬০ দশমিক ২৫ পয়সা এবং ৩৩ কেভিতে ১ টাকা ৬০ দশমিক ৯৭ পয়সা। এই মাশুলের মধ্যে সঞ্চালন, বিতরণ, বিদ্যুতের হিসাব ব্যবস্থাপনা ও বিল নিষ্পত্তির খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সঞ্চালন মাশুল ২৩০ কেভিতে প্রতি ইউনিট ৩৭ দশমিক ৮৯ পয়সা, ১৩২ কেভিতে ৩৮ দশমিক ২৫ পয়সা এবং ৩৩ কেভিতে ৩৮ দশমিক ৯৭ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ গ্রহণের প্রান্তে বিতরণ মাশুল প্রতি ইউনিট ১ টাকা ১৭ পয়সা এবং হিসাব ব্যবস্থাপনা ও বিল নিষ্পত্তির জন্য আরও ৫ পয়সা দিতে হবে। বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গ্রাহক সঞ্চালন ব্যবস্থার দুই প্রান্তে আলাদা বিতরণ সংস্থার আওতায় থাকলে অতিরিক্ত ৩০ পয়সা বিতরণ মাশুল দিতে হবে। সে ক্ষেত্রে ২৩০ কেভিতে মোট মাশুল হবে ১ টাকা ৮৯ দশমিক ৮৯ পয়সা, ১৩২ কেভিতে ১ টাকা ৯০ দশমিক ২৫ পয়সা এবং ৩৩ কেভিতে ১ টাকা ৯০ দশমিক ৯৭ পয়সা। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গ্রাহক একই বিতরণ সংস্থার আওতায় থাকলে অতিরিক্ত ৩০ পয়সা মাশুল দিতে হবে না। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রান্তে বিতরণ লসও আরোপ করা হবে না। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোকে এ হিসাবের ক্ষেত্রে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অধীন একটি সংস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অন্যদিকে, একই বিতরণ সংস্থার আওতায় থেকে সঞ্চালন ব্যবস্থা ব্যবহার না করলে মোট মাশুল হবে প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২২ পয়সা। বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে সঞ্চালন ও বিতরণ লসের হিসাবও প্রযোজ্য হবে। সঞ্চালন লসের জন্য পাওয়ার গ্রিডের প্রকাশিত মাসিক প্রকৃত গড় হার এবং বিতরণ লসের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভোল্টেজে সর্বশেষ সমাপ্ত অর্থবছরের অর্জিত হার কার্যকর হবে। বিতরণ সংস্থাভেদেও পৃথক মাশুল নির্ধারণ করেছে বিইআরসি। পিডিবির জন্য প্রতি ইউনিট ৭০ পয়সা, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের জন্য ১ টাকা ৪৩ পয়সা, ডিপিডিসির জন্য ৮৫ পয়সা, ডেসকোর জন্য ৯৯ পয়সা, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির জন্য ৮৭ পয়সা এবং নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির জন্য ১ টাকা ৪ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। মার্চেন্ট কেন্দ্রের উৎপাদিত ও সরবরাহ করা বিদ্যুতের হিসাব ব্যবস্থাপনা এবং বিল নিষ্পত্তির দায়িত্ব পালন করবে পিডিবি। নির্ধারিত হারে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে বিল করার পর সংশ্লিষ্ট বিতরণ সংস্থাকে তাদের প্রযোজ্য মাশুল অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ করবে পিডিবি। ২০২৫ সালে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে মার্চেন্ট পাওয়ার নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। এর আওতায় এক এলাকায় স্থাপিত বিদ্যুৎকেন্দ্র সরকারি সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন ব্যবহার করে অন্য এলাকার বড় গ্রাহকের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবে। নীতিমালা অনুযায়ী, মার্চেন্ট বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঘোষিত মাসিক উৎপাদনের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ সরকারি বিতরণ সংস্থার কাছে বিক্রি করা যাবে। বাকি বিদ্যুৎ বড় গ্রাহকদের কাছে সরাসরি বিক্রি করতে পারবেন উদ্যোক্তারা। এর আগে গত ২৩ আগস্ট মার্চেন্ট পাওয়ারের বিদ্যুতের দাম ও গ্রিড ব্যবহারের মাশুল নিয়ে গণশুনানি করে বিইআরসি। কমিশনের কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি সরকারি বিতরণ সংস্থার কাছে বিক্রি করা সৌরবিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিট ৬ টাকা ৪৮ পয়সা নির্ধারণের সুপারিশ করেছিল। গণশুনানিতে বড় শিল্পগ্রাহক হারিয়ে রাজস্ব কমার আশঙ্কার কথা জানিয়েছিল পিডিবি ও কয়েকটি বিতরণ কোম্পানি। তাদের আশঙ্কা ছিল, শিল্পগ্রাহকেরা দিনে মার্চেন্ট সৌরবিদ্যুৎ কিনে রাতে আবার বিতরণ কোম্পানির বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারেন। অন্যদিকে উদ্যোক্তারা দাবি করেন, সঞ্চালন, বিতরণ ও অন্যান্য মাশুল বেশি হলে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

১৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে পেনশনারের মৃত্যু হলে বিধবা স্ত্রী কী পাবেন?

0

শতভাগ পেনশন সমর্পণ করে অবসরে যাওয়া কোনো পেনশনার ১৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে মারা গেলে তার বিধবা স্ত্রী বা বিপত্নীক স্বামী পুনঃস্থাপিত পেনশন পাবেন কি না—এ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি স্পষ্ট না থাকায় অনেক পরিবার আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। এরই একটি উদাহরণ জনতা ব্যাংকের সাবেক সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মো. শাহজাহান শাহের পরিবার। ২০১০ সালে অবসরে যাওয়ার পর পারিবারিক প্রয়োজনে তিনি তার শতভাগ পেনশন সমর্পণ করে এককালীন অর্থ তুলে নেন। পরে সেই অর্থও ব্যয় হয়ে যায়। এরপর স্ত্রী পিয়ারা বেগমকে নিয়ে দুই ছেলের আয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন তিনি। ২০২০ সালের দিকে অসুস্থ হয়ে পড়েন শাহজাহান। পরের বছর তিনি মারা গেলে পরিবারের আর্থিক সংকটের পাশাপাশি একাকিত্বেও পড়েন সত্তরোর্ধ্ব পিয়ারা বেগম। এখন প্রয়োজন হলে ছেলেদের কাছেই তাকে নির্ভর করতে হয়। পিয়ারা বেগমের দাবি, শতভাগ পেনশন সমর্পণকারীদের ১৫ বছর পর পেনশন পুনঃস্থাপনের বিধান থাকলে, সেই সময় পূর্ণ হওয়ার আগে পেনশনার মারা গেলে তার বিধবা স্ত্রীকেও এ সুবিধার আওতায় আনা উচিত। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ ধরনের আবেদন শুধু পিয়ারা বেগমের নয়। শতভাগ পেনশন সমর্পণ করে অবসরে যাওয়া এবং ১৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে মারা যাওয়া পেনশনারদের অনেক বিধবা স্ত্রী একই দাবি জানিয়েছেন। গত কয়েক বছরে এ বিষয়ে বেশ কিছু আবেদনও জমা পড়েছে। তবে এমন আবেদনকারীর সঠিক সংখ্যা মন্ত্রণালয়ের কাছে নেই। সরকারি বিধান অনুযায়ী, ১৯৯৪ সালে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শতভাগ পেনশন সমর্পণের সুযোগ চালু হয়। ২০১৭ সালের ৩০ জুন এ ব্যবস্থা বন্ধ করে পরদিন থেকে পেনশনের ৫০ শতাংশ সংরক্ষণের বিধান চালু করা হয়। এর আগে প্রায় ২৩ বছরে ১ লাখ ৭ হাজার ৬৫২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী শতভাগ পেনশন সমর্পণ করে অবসরে যান। শতভাগ পেনশন সমর্পণকারীদের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষার জন্য ২০১৮ সালের ৮ অক্টোবর অর্থ মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে বলা হয়, অবসর গ্রহণের তারিখ থেকে ১৫ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর তাদের মাসিক পেনশন পুনঃস্থাপন করা হবে। ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে এ সুবিধা কার্যকর করা হয়। পরে ২০১৯ সালের আরেক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০১৮ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী কোনো শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী পেনশনারের পেনশন পুনঃস্থাপিত হয়ে থাকলে তার মৃত্যুর পর বিধবা স্ত্রী, বিপত্নীক স্বামী ও প্রতিবন্ধী সন্তান থাকলে তারা পুনঃস্থাপিত পেনশনের সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি নির্ধারিত নিয়মে চিকিৎসা ও উৎসব ভাতাও পাওয়ার কথা বলা হয়। তবে সমস্যাটি তৈরি হয়েছে পেনশন পুনঃস্থাপনের ১৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই পেনশনার মারা গেলে। এ পরিস্থিতিতে বিধবা স্ত্রী বা বিপত্নীক স্বামী পেনশন পাবেন কি না, সে বিষয়ে কোনো প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট নির্দেশনা নেই। অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুবিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য, মূল পেনশনারের পেনশন পুনঃস্থাপিত না হলে তার মৃত্যুর পর সেটি পারিবারিক পেনশন হিসেবে উত্তরাধিকারীদের কাছে যাওয়ার সুযোগ নেই। তাদের মতে, বিধবা স্ত্রী বা বিপত্নীক স্বামীর পেনশন পাওয়ার পূর্বশর্ত হলো পেনশনারের পেনশন পুনঃস্থাপিত হওয়া। অন্যদিকে, বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টদের অনেকে। তাদের মতে, এককালীন পেনশনের অর্থ অনেক সময় চিকিৎসা, ঋণ পরিশোধ বা পারিবারিক জরুরি প্রয়োজনে ব্যয় হয়ে যায়। পরে পেনশনার মারা গেলে তার প্রবীণ স্ত্রী বা পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সংকটে পড়তে পারেন। তাদের মতে, ১৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে পেনশনার মারা গেলে বিধবা স্ত্রী বা বিপত্নীক স্বামীকে বিশেষ বিবেচনায় পেনশন সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে সরকার নতুন করে ভাবতে পারে। এতে খুব বেশি সংখ্যক মানুষকে সুবিধা দিতে হবে না এবং সরকারের আর্থিক ব্যয়ের পরিমাণও তুলনামূলকভাবে সীমিত হতে পারে।

কিশোর অপরাধীদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নিতে মাঠপর্যায়ের পুলিশকে আইজিপির নির্দেশ

0

অপরাধীর কোনো দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে অপরাধ হিসেবে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। একই সঙ্গে কিশোর অপরাধীদের বিরুদ্ধেও যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিতে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে পুলিশ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত আগস্ট ২০২৬ মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় এসব নির্দেশনা দেন আইজিপি। সভায় আলী হোসেন ফকির বলেন, অপরাধীর একমাত্র পরিচয় সে অপরাধী। অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো দলীয় পরিচয় বিবেচনার সুযোগ নেই। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিও অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। মাদক কারবার ও মাদকের বিস্তার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন আইজিপি। আসন্ন দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে উদযাপনে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলেন তিনি। একই সঙ্গে গুজব ও অপপ্রচার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. সায়েদুর রহমান। তিনি কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি এসব অপরাধী গোষ্ঠীর পেছনে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি রয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিটি পুলিশ ইউনিটকে নিজস্ব নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়নেরও নির্দেশ দেন অতিরিক্ত আইজি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্ভাব্য অপপ্রচারের বিষয়ে সতর্ক থাকার পাশাপাশি দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ সদস্যদের যথাযথভাবে বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশনা দেন তিনি। সায়েদুর রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কমিউনিটি পুলিশিংকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হবে। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি। সভায় আগস্ট মাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাসহ দেশের সার্বিক অপরাধ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় ডাকাতি, দস্যুতা, হত্যা, ধর্ষণ, পুলিশ আক্রান্ত ও অপহরণ মামলার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া মুলতবি মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, মামলার তদন্ত ও বিচারের অগ্রগতি এবং সাজার হার নিয়েও বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। সভায় মহানগর পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার পুলিশ সুপাররা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।

রাউজানে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ ৩ জন গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের রাউজানে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্র ও কার্তুজসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও রাউজান থানা পুলিশ। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার তিনজনের মধ্যে দুজন রায়হান নামে এক ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং অপরজন তার নিয়ন্ত্রণাধীন একটি কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দিতেন। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৩টা ২৫ মিনিটে রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মীর বাগিচা মুনিরিয়া যুব তাবলিক নির্মাণাধীন মাদ্রাসার সামনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএমের নির্দেশনায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় রাত্রিকালীন স্পেশাল-৮ ডিউটিতে থাকা রাউজান থানা পুলিশের একটি টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, একটি দল ডাকাতির উদ্দেশ্যে ওই এলাকায় জড়ো হয়েছে। পরে রাউজান থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. শাহাদাত হোসেন সাজ্জাদ (৩০), মো. জাফর (৩৮) ও মো. সাফায়েত হোসেন সিফাত (১৯)। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারদের তল্লাশি করে একটি দেশীয় তৈরি এলজি, দুটি সীসা কার্তুজ, একটি রামদা ও একটি ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে পুলিশ জানায়, শাহাদাত হোসেন সাজ্জাদ ও মো. জাফর রায়হানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদা আদায়, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং উত্তোলিত বালুর অর্থ সংগ্রহ করে রায়হানের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগের কথাও জানিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া পুলিশ বলছে, সাফায়েত হোসেন সিফাত রায়হানের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দিতেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে। ওই গ্যাংয়ের সদস্যরা এলাকায় ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, রায়হানের নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় পরিচালিত কথিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও তাদের বিষয়ে তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। একই সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় ডাকাতির প্রস্তুতি ও অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে রাউজান থানায় পৃথক মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কোতোয়ালীতে ৪৪০০ পিস ইয়াবাসহ দুইজন গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) কোতোয়ালী থানাধীন নতুন রেলওয়ে স্টেশনের সামনে ৭ নম্বর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ফুটওভার ব্রিজের নিচে পাকা সড়কে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাহেদুল কবিরের নেতৃত্বে এসআই মো. সোহেল রানা, ইনচার্জ, বক্সিরহাট পুলিশ ফাঁড়ি, কোতোয়ালী থানা, সিএমপি, চট্টগ্রামসহ সঙ্গীয় ফোর্স এ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় মো. ইউনুছ প্রকাশ সোনা মিয়া (২৩) ও ছলিমা খাতুন (৪৫) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের হেফাজত থেকে ৪ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(গ) ধারায় মামলা করা হয়েছে। মামলাটির নম্বর-৫৮, তারিখ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬। পরে গ্রেপ্তার দুজনকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

খুলশীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) খুলশী থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) খুলশী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, খুলশী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আবদুর রহিমের দিকনির্দেশনায় অপারেশন অফিসার এসআই (নিঃ) গোলাম মোহাম্মদ নাসিম হোসেনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. সোহেল প্রকাশ মনু (২২), আরিফুল ইসলাম (২৩), মো. দেলোয়ার হোসেন প্রকাশ সাঈদ (২৩), আশরাফুজ জামান প্রকাশ জনি (২১), মো. পারভেজ (৬০) ও মো. শাহাবউদ্দিন (৪৫)। পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে খুলশী থানার মামলা নম্বর-৭, তারিখ ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ৬, ৮, ৯, ১০ ও ১১ ধারায় মামলা রয়েছে। পরে তাদের সংশ্লিষ্ট মামলায় বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

বোয়ালখালীতে বালুর অবৈধ বাণিজ্যের অভিযোগ-বৈধ বালুমহাল নেই, অথচ প্রতিদিন শত শত ট্রাক। চরণদ্বীপ, খরণদ্বীপ ও কধুরখীলে ৩০টির বেশি বালু বিক্রয়কেন্দ্রের অভিযোগ। রাজস্ব, পরিবেশ ও জনদুর্ভোগের দায় কার?

মো. কামাল উদ্দিনঃ
বালুমহাল নেই, অথচ বালুর ব্যবসা চলছে প্রকাশ্যে। নদী থেকে বৈধভাবে বালু উত্তোলনের সুযোগ নেই, অথচ প্রতিদিন রাতের আঁধারে শত শত ভারী ট্রাক বোঝাই করে বালু আসছে। চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার চরণদ্বীপ, খরণদ্বীপ ও কধুরখীল এলাকায় একের পর এক বালু বিক্রয়কেন্দ্র গড়ে ওঠার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব এলাকায় ৩০টিরও বেশি বালু বিক্রয়কেন্দ্র সক্রিয় রয়েছে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, এই বিপুল পরিমাণ বালু আসছে কোথা থেকে?
কোন বালুমহাল থেকে আসছে? সেই বালুমহাল বর্তমানে বৈধভাবে ইজারা দেওয়া হয়েছে কি না? ইজারার মেয়াদ আছে কি না? বালু উত্তোলনের অনুমোদিত সীমানা ও পরিমাণ কত? আর বোয়ালখালীর প্রতিটি বিক্রয়কেন্দ্রের কাছে বালুর বৈধ উৎসের কাগজপত্রই বা কোথায়? এই প্রশ্নগুলোর স্বচ্ছ উত্তর এখন বোয়ালখালীর সাধারণ মানুষের দাবি।বালুমহাল নেই, কিন্তু বালুর ব্যবসা থেমে নেই- বালু উত্তোলন ও বিপণনের ক্ষেত্রে সরকারি আইন ও বিধিমালা রয়েছে। নদী বা নির্দিষ্ট স্থান থেকে ইচ্ছেমতো বালু উত্তোলন করে এনে যেকোনো স্থানে স্তূপ করে বিক্রি করার সুযোগ নেই। বালুমহাল ঘোষণা, ইজারা, নির্ধারিত সীমানা, সরকারি রাজস্ব এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করেই বালু উত্তোলন ও বিপণনের বৈধতা তৈরি হয়। কিন্তু বোয়ালখালীর চিত্র নিয়ে এখন যে অভিযোগ উঠেছে, তা এসব বিধিবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, সেটিই তদন্তের বিষয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চরণদ্বীপ, খরণদ্বীপ ও কধুরখীলের বিভিন্ন স্থানে বালু এনে স্তূপ করা হচ্ছে। এরপর সেখান থেকে ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনে করে বালু বিক্রি করা হচ্ছে। যদি এসব কার্যক্রম বৈধ হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিটি কেন্দ্রের অনুমোদন, বালুর উৎস ও ইজারার কাগজপত্র থাকার কথা। আর যদি বৈধ না হয়, তাহলে এতদিন ধরে প্রকাশ্যে এই বাণিজ্য কীভাবে চলছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
রাউজানের বালুমহালের নামেই কি বোয়ালখালীতে বালু?-স্থানীয়ভাবে দাবি করা হচ্ছে, বোয়ালখালীর বিভিন্ন বালু বিক্রয়কেন্দ্রে রাউজানের নোয়াপাড়া ও বাগোয়ান এলাকার বালুমহালের নাম ব্যবহার করে বালু সরবরাহ করা হচ্ছে।
এখানেই প্রয়োজন পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক তদন্ত।
কারণ কোনো বিক্রয়কেন্দ্রের মালিক শুধু কোনো একটি বালুমহালের নাম বললেই বালুর উৎস বৈধ প্রমাণিত হয় না। সংশ্লিষ্ট বালুমহালের ইজারার কাগজ দেখতে হবে।
ইজারাদারের নাম জানতে হবে। ইজারার মেয়াদ যাচাই করতে হবে। ইজারার সীমানা যাচাই করতে হবে।
কত পরিমাণ বালু উত্তোলনের অনুমতি রয়েছে তা দেখতে হবে। বাস্তবে কত বালু উত্তোলন হচ্ছে তা নিরূপণ করতে হবে। এরপর দেখতে হবে সেই বালু কোথায় যাচ্ছে।
বোয়ালখালীর কোন কোন বিক্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছে।
প্রতিদিন কত ট্রাক যাচ্ছে। সরকার কত টাকা রাজস্ব পাচ্ছে। এই পুরো সরবরাহব্যবস্থার হিসাব না করলে প্রকৃত চিত্র বের হবে না। ইজারা না থাকলে বালু উত্তোলন হচ্ছে কীভাবে?- স্থানীয় সূত্রের দাবি, রাউজানের নোয়াপাড়া ও বাগোয়ান এলাকার সংশ্লিষ্ট দুই বালুমহালের ইজারা বা টেন্ডার নিয়ে গত এক বছরে জটিলতা রয়েছে এবং বৈধ ইজারা না থাকলেও সেখানে বালু উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। এই তথ্যের সত্যতা জেলা প্রশাসনের নথি দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন।
যদি সত্যিই সংশ্লিষ্ট বালুমহালের বৈধ ইজারা না থাকে, তাহলে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে তা শত শত ট্রাকে করে বোয়ালখালীতে এনে বিক্রি করার আইনগত ভিত্তি কী? আর যদি কোনো সরকারি অনুমোদন, খাস আদায় বা অন্য কোনো বৈধ ব্যবস্থার মাধ্যমে বালু উত্তোলনের সুযোগ থাকে, তাহলে সেই সরকারি নথি প্রকাশ করা প্রয়োজন। কারণ প্রশ্নটি খুবই সরল।
ইজারা না থাকলে বালু উত্তোলন হচ্ছে কীভাবে?
আর বৈধ ব্যবস্থা থাকলে সেই ব্যবস্থার কাগজ কোথায়?অনাপত্তিপত্র কি বালু উত্তোলনের ইজারা?-আপনার সরবরাহ করা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের নথিতে একটি নির্দিষ্ট স্থানে বালু সংরক্ষণ ও বিপণনের জন্য অনাপত্তি প্রদানের কথা উল্লেখ রয়েছে। নথিতে নির্দিষ্ট জমির দাগ, খতিয়ান, মালিকানা এবং তদন্তের ভিত্তিতে স্থানটি বালু সংরক্ষণের উপযোগী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে একটি বিষয় পরিষ্কার থাকা জরুরি। কোনো নির্দিষ্ট জমিতে বালু সংরক্ষণ বা বিপণনের বিষয়ে অনাপত্তি থাকা এবং নদী বা বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলনের বৈধ ইজারা থাকা এক বিষয় নয়। একটি বিক্রয়কেন্দ্রে বালু রাখার অনুমতি থাকলেও সেই বালু কোথা থেকে এসেছে, সেটি বৈধভাবে উত্তোলন করা হয়েছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট বালুমহালের ইজারা বৈধ কি না, তা আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে। সুতরাং বোয়ালখালীর প্রতিটি বালু বিক্রয়কেন্দ্রের ক্ষেত্রে শুধু জমির কাগজ বা অনাপত্তি নয়, বালুর উৎসের বৈধতা যাচাই করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। -৩০টির বেশি বিক্রয়কেন্দ্রের বৈধতা কোথায়?- চরণদ্বীপ, খরণদ্বীপ ও কধুরখীল এলাকায় ৩০টিরও বেশি বালু বিক্রয়কেন্দ্র থাকার অভিযোগ সত্য হলে প্রশাসনের উচিত এসব কেন্দ্রের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করা। প্রতিটি কেন্দ্রের ক্ষেত্রে যাচাই করা প্রয়োজন জমির মালিক কে, জমির দাগ ও খতিয়ান কী, বালু সংরক্ষণের অনুমতি আছে কি না, বিক্রয়ের অনুমতি আছে কি না, বালুর উৎস কোন বালুমহাল, সংশ্লিষ্ট বালুমহালের ইজারাদার কে, ইজারার মেয়াদ কতদিন, বালু পরিবহনের কাগজপত্র কী এবং সরকারি রাজস্ব পরিশোধের প্রমাণ আছে কি না।
একই সঙ্গে দেখতে হবে এসব কেন্দ্রের অবস্থান পরিবেশ, জনবসতি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসাকেন্দ্র, সরকারি স্থাপনা ও সড়কের জন্য কোনো ঝুঁকি তৈরি করছে কি না।
এই তালিকা প্রকাশ করা হলে একদিকে বৈধ ব্যবসায়ীরা স্বস্তি পাবেন, অন্যদিকে অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াও সহজ হবে।-রাতের আঁধারে ভারী ট্রাকের বহর -স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের তুলনায় রাতের বেলায় বালুবাহী ভারী ট্রাকের চলাচল বেড়ে যায়।
১০ ও ১২ চাকার ট্রাকসহ বিভিন্ন ভারী যানবাহনে করে বালু পরিবহনের অভিযোগ রয়েছে। যদি প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক ভারী ট্রাক চলাচল করে থাকে, তাহলে বিষয়টি শুধু বালু ব্যবসার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।
এটি সড়ক নিরাপত্তা, জনদুর্ভোগ, পরিবেশ, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি অবকাঠামোর স্থায়িত্বের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়। যে সড়ক স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াতের জন্য নির্মিত, সেই সড়কে নিয়মিত অতিরিক্ত ওজনের ভারী ট্রাক চলাচল করলে রাস্তার ওপর তার প্রভাব পড়া স্বাভাবিক। রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার সংস্কারের জন্য আবার সরকারি অর্থ ব্যয় করতে হয়।
অর্থাৎ একটি বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের সুবিধা যদি কোনো একটি পক্ষ পায়, অথচ সেই কর্মকাণ্ডের কারণে রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হলে জনগণের অর্থে তা সংস্কার করতে হয়, তাহলে বিষয়টি অবশ্যই জনস্বার্থের দৃষ্টিতে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। স্কুল, কলেজ ও হাসপাতালের পথেও ট্রাক- স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার ও চিকিৎসাকেন্দ্রমুখী সড়ক দিয়েও ভারী বালুবাহী ট্রাক চলাচল করে।
একজন অভিভাবক বলেন, “আমরা বৈধ ব্যবসা বন্ধের কথা বলছি না। কিন্তু আমাদের সন্তানরা যে রাস্তায় স্কুলে যায়, সেই রাস্তায় যদি নিয়মিত ভারী ট্রাক চলাচল করে, তাহলে তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি প্রশাসনকে দেখতে হবে।” একজন রোগীর স্বজন বলেন, “অ্যাম্বুলেন্স ও রোগীবাহী গাড়িকে দ্রুত চলাচল করতে হয়। ভারী ট্রাকের কারণে যদি রাস্তা সংকুচিত বা যানজটপূর্ণ হয়, তাহলে রোগীদের দুর্ভোগ বাড়ে।” একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “বৈধ ব্যবসায়ীরা নিয়ম মেনে ব্যবসা করতে চান। কিন্তু অবৈধ ব্যবসার কারণে বৈধ ব্যবসায়ীরাও প্রশ্নের মুখে পড়েন। প্রশাসন কাগজপত্র যাচাই করে বৈধ ও অবৈধ ব্যবসা আলাদা করুক।” পরিবেশের প্রশ্নও উপেক্ষা করা যাবে না- বালু উত্তোলনের সঙ্গে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, নদীর তীর, তীরভাঙন, জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় পরিবেশের বিষয় জড়িত।
বিশেষ করে যেখানে বৈধ বালুমহাল নেই, সেখানে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ থাকলে বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন।
কোথা থেকে বালু কাটা হচ্ছে, কত গভীর পর্যন্ত কাটা হচ্ছে, নদীর তীর থেকে কত দূরে উত্তোলন করা হচ্ছে এবং উত্তোলনের ফলে নদীর গতিপথ বা তীরভাঙনের ওপর কী প্রভাব পড়ছে, তা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও প্রশাসনের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।সন্ত্রাসী প্রভাবের অভিযোগও তদন্তের দাবি রাখে- বালুমহাল ও বালু ব্যবসাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন পক্ষের প্রভাব, ভয়ভীতি এবং সংঘবদ্ধ নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে বলেও স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করছেন। তবে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে প্রমাণ ছাড়া সন্ত্রাসী বা অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা সমীচীন নয়। অভিযোগ থাকলে পুলিশ ও প্রশাসনের তদন্ত করা উচিত। বালু বিক্রয়কেন্দ্রগুলোর নিয়ন্ত্রণ কার হাতে? কোনো সংঘবদ্ধ চক্র এর সঙ্গে যুক্ত কি না?
কেউ ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে কি না?
অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগ আছে কি না?
বালু ব্যবসাকে কেন্দ্র করে কোনো মামলা, সংঘর্ষ বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে কি না?
এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের মাধ্যমেই বেরিয়ে আসতে পারে। প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন-সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখানেই।
প্রশাসনের চোখের সামনে যদি এতগুলো বালু বিক্রয়কেন্দ্র থাকে, যদি প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক ট্রাক চলাচল করে, যদি স্থানীয়রা নিয়মিত অভিযোগ করেন এবং যদি বালুর উৎসের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থাকে, তাহলে নিয়মিত ও সমন্বিত নজরদারি হচ্ছে কি না, সেটি জানা প্রয়োজন। কয়েকটি বিচ্ছিন্ন অভিযান সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। একটি কেন্দ্র বন্ধ হওয়ার পর যদি অন্য কেন্দ্রগুলো একইভাবে চালু থাকে, তাহলে মূল উৎসে হাত না দিলে অবৈধ বালু বাণিজ্য বন্ধ করা সম্ভব হবে না।
প্রয়োজন হলো উৎস থেকে বিক্রয়কেন্দ্র পর্যন্ত পুরো সরবরাহব্যবস্থার তদন্ত। জেলা প্রশাসনের কাছে ১৫টি সরাসরি প্রlশ্ন-১। বোয়ালখালী উপজেলার কর্ণফুলী নদীতে বর্তমানে বৈধভাবে ঘোষিত কোনো বালুমহাল আছে কি? ২। না থাকলে বোয়ালখালীতে বিক্রি হওয়া বালুর উৎস কী?
৩। চরণদ্বীপ, খরণদ্বীপ ও কধুরখীলে কতটি অনুমোদিত বালু বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে? ৪। ৩০টির বেশি কেন্দ্রের যে অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসন কি তার তালিকা তৈরি করেছে? ৫। প্রতিটি কেন্দ্র কোন বালুমহাল থেকে বালু সংগ্রহ করে? ৬। সংশ্লিষ্ট বালুমহালের ইজারা বর্তমানে বৈধ কি না? ৭। ইজারার মেয়াদ শেষ হয়ে থাকলে বালু উত্তোলন হচ্ছে কীভাবে? ৮। প্রতিদিন কত ট্রাক বালু বোয়ালখালীতে প্রবেশ করছে? ৯। ট্রাকগুলোর বালুর উৎস যাচাই করা হচ্ছে কি? ১০। গত এক বছরে অবৈধ বালু উত্তোলন ও বিক্রয়ের বিরুদ্ধে কতটি মামলা হয়েছে?
১১। কত টাকা জরিমানা আদায় হয়েছে? ১২। কতটি ট্রাক বা বালু উত্তোলনের যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয়েছে?
১৩। সরকারি রাজস্বের সম্ভাব্য ক্ষতির কোনো হিসাব করা হয়েছে কি? ১৪। ভারী ট্রাক চলাচলে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের সংস্কার ব্যয় কে বহন করবে? ১৫। বালু ব্যবসাকে কেন্দ্র করে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র বা সন্ত্রাসী প্রভাবের অভিযোগ থাকলে তার বিরুদ্ধে কী তদন্ত হয়েছে? বোয়ালখালী আসনের সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ-বোয়ালখালী আসনের সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এটি কোনো ব্যক্তিবিশেষের বৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে অবস্থান নয়। এটি জনস্বার্থ, সরকারি সম্পদ, সরকারি রাজস্ব, পরিবেশ এবং সড়ক নিরাপত্তার প্রশ্ন। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করে বৈধ ও অবৈধ বালু ব্যবসার একটি স্বচ্ছ তালিকা প্রকাশ, বালুর উৎস যাচাই, অবৈধ উত্তোলন বন্ধ, সরকারি রাজস্ব নিশ্চিত এবং জনগণের সড়ক রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দাবি জানাতে পারেন। একই সঙ্গে কোনো বৈধ ব্যবসায়ী যেন হয়রানির শিকার না হন এবং অবৈধ ব্যবসা যেন কোনো প্রভাবশালী পরিচয়ের আড়ালে চলতে না পারে, সেটিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। জেলা প্রশাসকের সরাসরি হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি- চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে দাবি, বোয়ালখালীতে শুধু বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, একটি পূর্ণাঙ্গ বিশেষ তদন্ত পরিচালনা করা হোক। জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে ভূমি প্রশাসন, পুলিশ, পরিবেশ অধিদপ্তর, সড়ক কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টিম গঠন করা যেতে পারে। প্রথমে সব বালু বিক্রয়কেন্দ্রের তালিকা তৈরি করতে হবে। এরপর প্রতিটি কেন্দ্রের জমির কাগজ যাচাই করতে হবে। বালুর উৎস যাচাই করতে হবে। সংশ্লিষ্ট বালুমহালের ইজারা যাচাই করতে হবে। ইজারার মেয়াদ ও সীমানা যাচাই করতে হবে। বালু পরিবহনের কাগজপত্র পরীক্ষা করতে হবে। সরকারি রাজস্বের হিসাব করতে হবে। সড়কের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করতে হবে। পরিবেশগত প্রভাব যাচাই করতে হবে। এবং তদন্তে আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। বোয়ালখালীর মানুষের প্রশ্ন খুবই স্পষ্ট। বৈধ বালুমহাল কোথায়? বালু আসছে কোথা থেকে? কার অনুমতিতে আসছে? কোন ইজারার ভিত্তিতে আসছে? সরকার কত টাকা রাজস্ব পাচ্ছে? আর যদি সবকিছু বৈধই হয়, তাহলে সেই বৈধতার কাগজ প্রকাশ্যে আনতে সমস্যা কোথায়? কর্ণফুলী নদী কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। সরকারি বালুমহালও কারও ব্যক্তিগত উত্তরাধিকার নয়। জনগণের রাস্তা কোনো বালু ব্যবসার ব্যক্তিগত পরিবহনপথ নয়। আর সরকারি রাজস্ব কোনো অদৃশ্য হিসাবের বিষয় নয়। বোয়ালখালীতে বালুর ব্যবসা চলুক, কিন্তু আইনের বাইরে নয়। বৈধ ব্যবসা থাকুক, কিন্তু অবৈধ বালু নয়। বালু বিক্রি হোক, কিন্তু জনগণের রাস্তা, পরিবেশ ও জননিরাপত্তার বিনিময়ে নয়। এখন সময় এসেছে শুধু বালুর স্তূপ দেখার নয়, বালুর উৎসের কাগজপত্রও দেখার। জনগণ জানতে চায় সত্যটা কী। আর সেই সত্য উদঘাটনের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের।
“সড়ক যে পরিমাণ যানবাহন ও ওজন বহনের জন্য নির্মিত, তার চেয়ে অতিরিক্ত ওজনের ভারী ট্রাক নিয়মিত চলাচল করলে সড়কের স্থায়িত্ব কমে যেতে পারে। বিশেষ করে রাতদিন ভারী বালুবাহী ট্রাক চলাচল করলে রাস্তার পেভমেন্ট, কালভার্ট ও সেতুর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। তাই সড়কের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী যানবাহনের ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত কারিগরি পরিদর্শন জরুরি।”
“বালু উত্তোলন, পরিবহন ও বিক্রয়ের প্রতিটি ধাপের জন্য সংশ্লিষ্ট আইন ও সরকারি অনুমোদন অনুসরণ করতে হয়। কোনো স্থানে বালু বিক্রি করা হচ্ছে বলেই বালুর উৎস বৈধ হয়ে যায় না। বালুর উৎস, ইজারা, পরিবহন ও বিক্রয়ের কাগজপত্র যাচাই করা প্রশাসনের দায়িত্ব। আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
“একটি এলাকায় যদি নিয়মিত বিপুলসংখ্যক বালুবাহী ট্রাক চলাচল করে এবং একই সঙ্গে রাস্তার ক্ষতি ও জনদুর্ভোগের অভিযোগ ওঠে, তাহলে বিষয়টি শুধু ব্যবসায়িক খবর নয়, এটি জনস্বার্থের অনুসন্ধানের বিষয়। প্রশাসনের উচিত বালুর উৎস, বিক্রয়কেন্দ্রের অনুমোদন এবং সরকারি রাজস্বের হিসাব জনসমক্ষে পরিষ্কার করা।”
“ভারী ট্রাকের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল সড়কে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে স্কুল, বাজার, হাসপাতাল ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ভারী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। কোনো বালুবাহী ট্রাকের কাগজপত্র বা কার্যক্রমে আইনভঙ্গের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
“বালু উত্তোলন ও বিক্রয়কে কেন্দ্র করে যদি সরকারি রাজস্ব, পরিবেশ, সড়ক এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের প্রশ্ন ওঠে, তাহলে বিষয়টি প্রশাসনিক স্বচ্ছতার সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দায়িত্ব হলো বৈধ ব্যবসার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে অবৈধ কার্যক্রমের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা। জনগণের সামনে তথ্য প্রকাশ করা হলে আস্থাও বাড়বে।”
–মো. কামাল উদ্দিনঃ সাংবাদিক, লেখক ও গবেষক,
ডেপুটি এডিটর, দৈনিক দি টুরিস্ট, যুগ্ম সম্পাদক, দৈনিক ভোরের আওয়াজ,সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রাম সিনিয়র’স প্রেসক্লাব ও মহাসচিব, বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম (GCCF)

চন্দনাইশের প্রতারক মামুনের প্রতারণায় সর্বশান্ত সৌদি আরব মদিনা শহরের বহু প্রবাসী।

বিশেষ প্রতিবেদন :

দক্ষিণ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ থানার জাফরাবাদ ৮নং ওয়ার্ড বৈলতলী ইউনিয়নের হোসেন তালুকদার বাড়ির মামূনর রশীদ, তা বাদশা মিয়া মাতা মরিয়ম খাতুন উক্ত এ-ই প্রতারক মামুনের প্রতারণার শিকার হয়ে আজ দিশেহারা অনেক প্রবাসী। যাদের মধ্যে রয়েছে সাতকানিয়া চট্টগ্রাম, নোয়াখালী সহ আরও বিভিন্ন এলাকার মানুষ। ব্যাবসার কথা বলে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ১০ হাজার থেকে শুরু করে লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত সংগ্রহ করে পালিয়ে যায় বলে ভুক্তভোগী সাতকানিয়ার খোকন আমাদের বিশেষ প্রতিনিধির নিকট উক্ত প্রতারকের বেশ কয়েকটি লেনদেন জনিত অডিও কল রেকর্ড প্রেরণ করেন। এবং দেশের আইনের কাছে ও চন্দনাইশে তার এলাকা বাসীর কাছে ভুক্তভোগী আকুল আবেদন জানান যাতে প্রতারক মামুনের সঠিক অবস্থান সম্পর্কে অবগত করে তার পিতা মাতাকে তার প্রতারণা করে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ গুলো ফিরিয়ে পেতে সাহায্য করেন।

ভোটের এক দিনের আড়ালে হাজার দিনের প্রস্তুতি ব্যালটের পেছনে মানুষ, মানুষের পেছনে প্রশিক্ষণ: নির্বাচনী প্রশিক্ষণের বিস্তৃত পরিসর নিয়ে মহাপরিচালক মোহাম্মদ হাসানুজ্জামানের সঙ্গে একান্ত আলাপ

মো. কামাল উদ্দিনঃ

একটি নির্বাচন বাইরে থেকে যতটা সহজ মনে হয়, এর ভেতরের কর্মযজ্ঞ ততটাই বিস্তৃত, জটিল ও বহুমাত্রিক। ভোটের দিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে ভোটকেন্দ্র খুলে যায়, মানুষ ভোট দেয়, ভোট গণনা হয় এবং ফলাফল ঘোষণার মধ্য দিয়ে একটি দৃশ্যমান অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে। কিন্তু সেই একটি দিনের পেছনে থাকে দীর্ঘ প্রস্তুতি, পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ, ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি, আইন, আচরণবিধি, জনসম্পৃক্ততা এবং অসংখ্য মানুষের দায়িত্বশীল কর্মযজ্ঞ।

অর্থাৎ নির্বাচন কেবল ভোটের দিনের ঘটনা নয়। নির্বাচন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। আর সেই প্রক্রিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল।

এই বাস্তবতার বিভিন্ন দিক নিয়ে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হাসানুজ্জামানের সঙ্গে

আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে আমার একান্ত সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি অত্যন্ত ধৈর্য, আন্তরিকতা ও খোলামেলা মনোভাব নিয়ে নির্বাচনী প্রশিক্ষণের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন।

আলাপচারিতায় উঠে আসে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দক্ষতা উন্নয়ন, অফিস পরিচালনা, আচরণ ও শিষ্টাচার, দায়িত্ববোধ, যোগাযোগের ধরন, প্রশাসনিক দক্ষতা, সরকারি ক্রয় ও উপকরণ ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নির্বাচনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব সচিবালয়ের অধীনে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের পাশাপাশি আঞ্চলিক, জেলা এবং উপজেলা বা থানা পর্যায়ে মাঠ কার্যালয় রয়েছে। ফলে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নের জন্য প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের পরিধিও স্বাভাবিকভাবেই বিস্তৃত।

নির্বাচন শুধু ভোটের দিন নয়

সাক্ষাৎকারের শুরুতেই আলোচনায় আসে একটি মৌলিক প্রশ্ন। নির্বাচনকে আমরা সাধারণত ভোটগ্রহণের

দিনকে কেন্দ্র করে দেখি। কিন্তু একটি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য যে দীর্ঘ প্রস্তুতির প্রয়োজন, তার কতটা জুড়ে রয়েছে প্রশিক্ষণ?

মহাপরিচালক মোহাম্মদ হাসানুজ্জামানের বক্তব্যের মূল সুর ছিল, নির্বাচন পরিচালনা একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া। এখানে শুধু ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে একটি ব্যালট বাক্স বা ভোটিং পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা দিলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। একজন কর্মকর্তা কীভাবে দায়িত্ব পালন করবেন, কীভাবে ভোটার ও প্রার্থীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আচরণ করবেন, কীভাবে সংকট মোকাবিলা করবেন, কীভাবে আইন ও বিধি অনুসরণ করবেন, কীভাবে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবেন, এসব বিষয়ও প্রশিক্ষণের অংশ।

কারণ একটি নির্বাচনকে কার্যকর করার ক্ষেত্রে শুধু নিয়ম জানা যথেষ্ট নয়। নিয়ম বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন দক্ষতা, সংযম, দায়িত্ববোধ এবং পেশাগত আচরণ।

প্রশিক্ষণ মানে শুধু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নয়

সাক্ষাৎকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল প্রশিক্ষণের পরিধি নিয়ে তাঁর বিস্তৃত দৃষ্টিভঙ্গি।

নির্বাচন একটি জাতীয় প্রক্রিয়া। তাই এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক শ্রেণি-পেশার মানুষের ভূমিকা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী নির্বাচন পর্যবেক্ষক, গণমাধ্যমকর্মী, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্যান্য অংশীজনের জন্যও প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

এখানে প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য কাউকে কোনো রাজনৈতিক অবস্থানে নিয়ে যাওয়া নয়। বরং প্রত্যেক অংশীজনকে তাঁর নিজ নিজ দায়িত্ব, অধিকার, আচরণবিধি এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মৌলিক বিষয় সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেওয়া।

আধুনিক নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় এই অংশীজনভিত্তিক ধারণাটি ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক কার্যক্রমেও ভোটার শিক্ষা, পর্যবেক্ষণ এবং নির্বাচনী প্রশিক্ষণসংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমের উপস্থিতি দেখা যায়।

একজন কর্মকর্তার আচরণও নির্বাচনের অংশ

সাক্ষাৎকারে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনোযোগ

আকর্ষণ করে। সেটি হলো কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আচরণ ও শিষ্টাচার।

একজন সরকারি কর্মকর্তা আইন জানেন, বিধি জানেন, দায়িত্ব জানেন, কিন্তু মানুষের সঙ্গে তাঁর আচরণ যদি যথাযথ না হয়, তাহলে একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় প্রশাসনিক সেবার মান প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

একজন ভোটার যখন ভোটকেন্দ্রে যান, তিনি নির্বাচন কমিশনের একজন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর আচরণের মধ্য দিয়েই অনেক সময় পুরো নির্বাচন ব্যবস্থাকে উপলব্ধি করেন।

সুতরাং প্রশিক্ষণের মধ্যে আচরণ, শিষ্টাচার, যোগাযোগের ভাষা, মানুষের সঙ্গে কথা বলার ধরন এবং দায়িত্ব পালনের সময় ধৈর্য ও সংযমের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

এটি কেবল একটি অফিস ব্যবস্থাপনার বিষয় নয়। এটি নাগরিকের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পর্কেরও বিষয়।

কথা বলার ভাষা থেকে দায়িত্ব পালনের দর্শন

একজন কর্মকর্তার কথা বলার ধরন তাঁর পেশাগত পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

ভোটার, প্রার্থী, সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক কিংবা সাধারণ

মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময় একজন কর্মকর্তাকে একই সঙ্গে বিনয়ী, স্পষ্ট এবং দায়িত্বশীল হতে হয়।

কোনো উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে অপ্রয়োজনীয় মন্তব্য পরিস্থিতিকে জটিল করতে পারে। আবার যথাযথ তথ্য ও শান্ত আচরণ অনেক সমস্যাকে শুরুতেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

তাই প্রশিক্ষণকে শুধু বই, বিধি বা নির্দেশিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন।

অফিস পরিচালনাও নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার অংশ

নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে মাঠপর্যায়ের অফিসগুলোর কার্যকর ব্যবস্থাপনা সরাসরি যুক্ত।

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অধীনে ১০টি আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়, ৬৪টি জেলা পর্যায়ের নির্বাচন কার্যালয় এবং উপজেলা বা থানা পর্যায়ে ৫১৪টি কার্যালয় রয়েছে।

এত বিস্তৃত সাংগঠনিক কাঠামোর কার্যক্রম সমন্বয় করতে হলে শুধু নির্বাচনকালীন প্রশিক্ষণ যথেষ্ট নয়। অফিস পরিচালনা, নথি ব্যবস্থাপনা, জনসেবা, সময় ব্যবস্থাপনা,

প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, তথ্য সংরক্ষণ, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আন্তঃদপ্তর যোগাযোগের মতো বিষয়েও দক্ষতা প্রয়োজন।

একটি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার পেছনে ভোটকেন্দ্রের দৃশ্যমান কাজের পাশাপাশি এই অদৃশ্য প্রশাসনিক কাঠামোটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সরকারি ক্রয় ও উপকরণ ব্যবস্থাপনা

আলোচনায় আসে সরকারি ক্রয়ব্যবস্থা ও নির্বাচনী উপকরণ ব্যবস্থাপনার বিষয়ও।

একটি বড় নির্বাচন পরিচালনায় বিপুল পরিমাণ উপকরণ, সরঞ্জাম, কাগজপত্র, প্রযুক্তিগত সামগ্রী এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদান ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন হয়।

এখানে পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা, বিধিবিধান অনুসরণ, প্রয়োজন নিরূপণ, সংরক্ষণ এবং সময়মতো সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

একটি উপকরণ যথাসময়ে সঠিক জায়গায় পৌঁছানো থেকে শুরু করে তার হিসাব সংরক্ষণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপই নির্বাচন ব্যবস্থাপনার অংশ।

অর্থাৎ নির্বাচন পরিচালনার দক্ষতা শুধু ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত কর্মকর্তার দক্ষতার ওপর নির্ভর করে না। এর

পেছনে রয়েছে একটি বড় প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনাগত কাঠামো।

প্রযুক্তির যুগে বদলে যাচ্ছে প্রশিক্ষণের ধরন

বর্তমান পৃথিবীতে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ক্রমেই প্রযুক্তিনির্ভর হচ্ছে। ভোটার তথ্য, নির্বাচন ব্যবস্থাপনা, তথ্যপ্রযুক্তি, যোগাযোগ, তথ্য প্রকাশ এবং বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম যুক্ত হচ্ছে।

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের বর্তমান ওয়েবসাইটেও ভোটকেন্দ্র অনুসন্ধান, ভোটারসংক্রান্ত সেবা, পর্যবেক্ষকসংক্রান্ত তথ্য এবং বিভিন্ন নির্বাচনী তথ্য ডিজিটালভাবে উপস্থাপনের ব্যবস্থা রয়েছে।

ফলে প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

তবে প্রযুক্তি যত আধুনিকই হোক, শেষ পর্যন্ত সেটি পরিচালনা করবেন মানুষ। তাই প্রযুক্তির পাশাপাশি মানুষের দক্ষতা, সতর্কতা, দায়িত্ববোধ এবং নৈতিকতার ওপরও সমান গুরুত্ব দিতে হয়।

পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমের ভূমিকা

একটি নির্বাচনের সঙ্গে গণমাধ্যমের সম্পর্ক অত্যন্ত

গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকরা নির্বাচনের তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেন। পর্যবেক্ষকেরা নির্ধারিত কাঠামোর মধ্যে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেন। নাগরিক সংগঠন ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানও বিভিন্নভাবে জনসচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

কিন্তু প্রত্যেকের কাজের ক্ষেত্র আলাদা।

এই পার্থক্য, দায়িত্ব, সীমাবদ্ধতা এবং আচরণবিধি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে নির্বাচনকেন্দ্রিক কাজ আরও শৃঙ্খলিত হতে পারে।

সাক্ষাৎকারে মহাপরিচালকের আলোচনায় প্রশিক্ষণকে এই বৃহত্তর অংশীজনের সঙ্গে যুক্ত করার যে দৃষ্টিভঙ্গি উঠে এসেছে, সেটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

শুধু নিয়ম জানলেই হবে না, নিয়মের চেতনা বুঝতে হবে

আইন ও বিধি একটি নির্বাচনী ব্যবস্থার কাঠামো নির্ধারণ করে। কিন্তু আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে মানুষের বিচারবোধ, দায়িত্ববোধ এবং পেশাগত সততা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

একজন কর্মকর্তা যদি নিয়মের শব্দ জানেন কিন্তু নিয়মের উদ্দেশ্য না বোঝেন, তাহলে বাস্তব পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হতে পারে।

তাই প্রশিক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হওয়া উচিত

নিয়ম মুখস্থ করানো নয়, বরং নিয়মের উদ্দেশ্য, প্রয়োগ এবং বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে তার সম্পর্ক বোঝানো।

এখানেই আধুনিক প্রশিক্ষণের সঙ্গে প্রচলিত প্রশিক্ষণের পার্থক্য তৈরি হয়।

প্রশিক্ষণ হবে বাস্তবভিত্তিক

একটি প্রশিক্ষণ তখনই কার্যকর হয়, যখন প্রশিক্ষণ শেষে একজন মানুষ বাস্তব কর্মক্ষেত্রে তার প্রয়োগ করতে পারেন।

ভোটকেন্দ্রে হঠাৎ কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলো। কোনো ভোটার নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। কোনো প্রার্থী বা এজেন্টের সঙ্গে মতবিরোধ তৈরি হলো। কোনো প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দিল। কোনো তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হলো।

এসব পরিস্থিতি কাগজে পড়ার চেয়ে বাস্তব অনুশীলনের মাধ্যমে শেখা অনেক বেশি কার্যকর হতে পারে।

তাই নির্বাচনী প্রশিক্ষণে বাস্তব পরিস্থিতি, সম্ভাব্য সংকট, সিদ্ধান্ত গ্রহণের অনুশীলন এবং যোগাযোগ দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া সময়ের দাবি।

ঋণখেলাপি প্রসঙ্গেও প্রয়োজন গবেষণাভিত্তিক আলোচনা

সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে ঋণখেলাপিদের প্রসঙ্গও আলোচনায় আসে। এ বিষয়ে আলাদা একটি গবেষণাভিত্তিক লেখা করার পরামর্শ দেন মহাপরিচালক মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান।

বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে কাজ করতে হলে আবেগ বা রাজনৈতিক বক্তব্যের পরিবর্তে তথ্য, আইন, পরিসংখ্যান এবং প্রামাণ্য নথিকে ভিত্তি করতে হবে।

কারা ঋণখেলাপি, কোন আইনি বিধানের অধীনে তাঁদের অবস্থান নির্ধারিত হয়, নির্বাচনে প্রার্থিতা বা অন্যান্য যোগ্যতার সঙ্গে এর সম্পর্ক কী, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তথ্য কী বলছে এবং সময়ের সঙ্গে আইনি কাঠামোতে কী পরিবর্তন এসেছে, এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে একটি পৃথক গবেষণামূলক প্রতিবেদন করা যেতে পারে।

এ ধরনের বিষয় নির্বাচনী সাংবাদিকতায় তথ্যনির্ভর অনুসন্ধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হতে পারে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যোগ্যতার প্রশ্ন

আলোচনায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতার বিষয়টিও উঠে আসে।

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে মনে রাখা প্রয়োজন। কোনো পদে প্রার্থিতার যোগ্যতা নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট

আইন ও বিধিমালা। উদাহরণ হিসেবে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ২৬ ধারায় চেয়ারম্যান বা সদস্য পদে যোগ্যতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নাগরিক হওয়া, নির্দিষ্ট বয়স পূর্ণ হওয়া এবং সংশ্লিষ্ট ভোটার তালিকায় নাম থাকার মতো শর্ত উল্লেখ রয়েছে।

তবে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য আইন ও যোগ্যতার বিধান এক নয়। তাই কোনো সাধারণ বক্তব্য দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বর্তমান আইন ও বিধিমালা পৃথকভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

এই জায়গাতেই তথ্যনির্ভর সাংবাদিকতার গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি।

নির্বাচনী প্রশিক্ষণের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ

বর্তমান সময়ে নির্বাচন ব্যবস্থাপনার সামনে চ্যালেঞ্জও বদলেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত তথ্য ছড়িয়ে পড়া, ভুল তথ্য, প্রযুক্তির ব্যবহার, সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কনটেন্ট, তথ্য যাচাই, জনসচেতনতা এবং দ্রুত যোগাযোগের মতো বিষয়গুলো নির্বাচন ব্যবস্থাপনার আলোচনায় ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক কার্যক্রমেও

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভ্রান্ত তথ্য মোকাবিলা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ঝুঁকি এবং নাগরিক পর্যবেক্ষণ নিয়ে কর্মশালার উল্লেখ রয়েছে।

ফলে ভবিষ্যতের নির্বাচনী প্রশিক্ষণকে কেবল প্রচলিত প্রশাসনিক প্রশিক্ষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার সুযোগ কমছে। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তুকেও পরিবর্তিত হতে হবে।

মানুষই নির্বাচনী ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু

প্রযুক্তি থাকবে, আইন থাকবে, নির্দেশনা থাকবে, প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল থাকবে। কিন্তু এসব বাস্তবায়ন করবেন মানুষ।

তাই নির্বাচনী ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হলো দক্ষ, দায়িত্বশীল এবং পেশাদার মানুষ।

একজন প্রশিক্ষিত কর্মকর্তা শুধু নিজের দায়িত্ব পালন করেন না। তিনি একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা তৈরিতেও ভূমিকা রাখেন।

একজন দায়িত্বশীল সাংবাদিক শুধু সংবাদ প্রকাশ করেন না। তিনি সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছানোর দায়িত্বও পালন করেন।

একজন সচেতন পর্যবেক্ষক শুধু নির্বাচন দেখেন না।

তিনি নির্ধারিত কাঠামোর মধ্যে নিজের দায়িত্ব পালন করেন।

একজন সচেতন নাগরিক শুধু ভোট দেন না। তিনি নিজের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কেও সচেতন থাকেন।

এই সম্মিলিত দায়িত্ববোধের জায়গা থেকেই একটি নির্বাচনকে দেখতে হয়।

শেষ কথায় ফিরে আসে সেই এক দিনের ভোট

সাক্ষাৎকার শেষ হওয়ার পরও মনে হলো, আমরা যে নির্বাচনকে একটি দিনের ঘটনা হিসেবে দেখি, তার প্রকৃত গল্প আসলে অনেক দীর্ঘ।

ভোটকেন্দ্রের দরজা খোলার অনেক আগে শুরু হয় সেই গল্প। শুরু হয় পরিকল্পনা দিয়ে। তারপর আসে আইন ও বিধি, প্রশাসনিক প্রস্তুতি, জনবল নির্বাচন, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি, উপকরণ, যোগাযোগ, ভোটার শিক্ষা, পর্যবেক্ষণ, গণমাধ্যম এবং মাঠপর্যায়ের অসংখ্য মানুষের নিরলস কাজ।

ভোটের দিন তার একটি দৃশ্যমান প্রকাশ মাত্র।

সাক্ষাৎকারে মহাপরিচালক মোহাম্মদ হাসানুজ্জামানের সঙ্গে দীর্ঘ আলাপচারিতায় তাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে উপলব্ধিটি তৈরি হয়েছে তা হলো, একটি

নির্বাচনকে বুঝতে হলে শুধু ব্যালটের দিকে তাকালে হবে না; ব্যালটের পেছনে থাকা মানুষগুলোর প্রস্তুতির দিকেও তাকাতে হবে।

কারণ একটি ভোটের মূল্য শুধু ভোট দেওয়ার মুহূর্তে তৈরি হয় না। তার আগে তৈরি হয় দক্ষতা, দায়িত্ববোধ, নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধা, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং মানুষের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পর্কের মধ্য দিয়ে।

সেই অর্থে নির্বাচন শুধু একটি দিনের আয়োজন নয়।

ভোটের এক দিনের আড়ালে সত্যিই লুকিয়ে থাকে দীর্ঘ প্রস্তুতির এক বিশাল কর্মযজ্ঞ।

আর সেই কর্মযজ্ঞের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের নাম হচ্ছে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ।

আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে প্রবেশের পর থেকেই আমার মনে একটি আলাদা ধরনের অনুভূতি কাজ করছিল। নির্বাচন নিয়ে আমরা প্রতিদিন নানা কথা বলি, সংবাদ লিখি, আলোচনা করি, মতামত প্রকাশ

করি। কিন্তু একটি নির্বাচন কীভাবে ভেতর থেকে প্রস্তুত হয়, সেই বিশাল কর্মযজ্ঞের মানুষগুলোর সঙ্গে সরাসরি বসে কথা বলার সুযোগ সব সময় আসে না।

এই সাক্ষাৎকারের উদ্দেশ্যও তাই ছিল একটু ভিন্ন। শুধু পদে থাকা একজন কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়া নয়, বরং নির্বাচনী প্রশিক্ষণের ভেতরের দর্শন, দায়িত্ব, বাস্তবতা এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে তাঁর কাছ থেকে সরাসরি জানা।

নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হাসানুজ্জামানের সঙ্গে যখন মুখোমুখি বসার সুযোগ হলো, প্রথমেই যে বিষয়টি আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করল, তা তাঁর স্বাভাবিক ও আন্তরিক আচরণ।

একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর মধ্যে যে আনুষ্ঠানিকতার আবরণ থাকার কথা, কথোপকথন শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটি অনেকটা সহজ হয়ে এলো। তিনি মনোযোগ দিয়ে প্রশ্ন শুনছিলেন, প্রশ্নের ভেতরের উদ্দেশ্য বোঝার চেষ্টা করছিলেন এবং উত্তর দেওয়ার সময় তাড়াহুড়ো করছিলেন না।

আমার কাছে একজন সাক্ষাৎকারদাতার এই আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সাংবাদিকের প্রশ্ন যত

গুরুত্বপূর্ণই হোক, উত্তরদাতা যদি নিজের বক্তব্য পরিষ্কারভাবে তুলে ধরার সুযোগ না পান, তাহলে সাক্ষাৎকার পূর্ণতা পায় না।

আমি তাই শুরু থেকেই প্রশ্নগুলোকে একের পর এক ছুড়ে দেওয়ার পরিবর্তে আলোচনার স্বাভাবিক ধারায় এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছি। একটি প্রশ্ন থেকে যে প্রসঙ্গ তৈরি হয়েছে, সেখান থেকেই পরবর্তী প্রশ্ন এসেছে। ফলে পুরো কথোপকথনটি অনেকটা আনুষ্ঠানিক প্রশ্নোত্তরের বাইরে গিয়ে একটি গভীর আলোচনার রূপ নেয়।

মোহাম্মদ হাসানুজ্জামানের আচরণে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি আমার চোখে পড়েছে, তা হলো তাঁর ধৈর্য।

দীর্ঘ সময় ধরে নানা ধরনের প্রশ্ন করেছি। কিছু প্রশ্ন ছিল প্রশাসনিক, কিছু ছিল প্রশিক্ষণসংক্রান্ত, কিছু ছিল নির্বাচন ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পৃক্ত, আবার কিছু প্রশ্ন ছিল তুলনামূলকভাবে বিশ্লেষণধর্মী।

তিনি কোনো প্রশ্নকে অপ্রয়োজনীয় বলে এড়িয়ে যাননি। বরং প্রশ্নের ধরন অনুযায়ী উত্তরকে কখনো সংক্ষিপ্ত করেছেন, কখনো বিস্তারিত ব্যাখ্যায় গেছেন।

কথা বলার সময় তাঁর মধ্যে অস্থিরতা লক্ষ্য করিনি। প্রশ্ন শেষ হওয়ার আগেই উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেননি। বরং পুরো প্রশ্ন শুনে কয়েক মুহূর্ত ভেবে তারপর বক্তব্য শুরু করেছেন।

একজন সাক্ষাৎকারদাতার এই অভ্যাস সাংবাদিকের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। কারণ এতে বক্তব্যে হঠাৎ আবেগের পরিবর্তে চিন্তার প্রতিফলন বেশি থাকে।

তাঁর বাচনভঙ্গিও আমার কাছে আলাদাভাবে উল্লেখ করার মতো মনে হয়েছে।

তিনি খুব উচ্চকণ্ঠে কথা বলেননি, আবার এত নিচু স্বরেও নয় যে বক্তব্য অস্পষ্ট হয়ে যায়। তাঁর কণ্ঠে ছিল স্বাভাবিক দৃঢ়তা। কথা বলার সময় অপ্রয়োজনীয় শব্দের ব্যবহার কম এবং বক্তব্যকে বিষয়ভিত্তিক রাখার চেষ্টা ছিল স্পষ্ট।

প্রশাসনিক বিষয় ব্যাখ্যা করার সময় তাঁর ভাষা ছিল দায়িত্বশীল ও পরিমিত। কোনো বিষয়কে অতিরঞ্জিত করার প্রবণতা লক্ষ্য করিনি। আবার কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টাও চোখে পড়েনি।

কখনো কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি একটি বিষয়কে উদাহরণ দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। আবার কোথাও একটি বিষয়ের সঙ্গে অন্য একটি বিষয়ের সম্পর্ক তুলে ধরেছেন।

এতে বোঝা যায়, নির্বাচনী প্রশিক্ষণকে তিনি শুধু একটি দাপ্তরিক কার্যক্রম হিসেবে দেখেন না। এর সঙ্গে প্রশাসনিক দক্ষতা, মানবিক আচরণ, যোগাযোগ এবং দায়িত্ববোধের একটি সমন্বিত সম্পর্ক রয়েছে বলেই তাঁর কথায় প্রতীয়মান হয়েছে।

সাংবাদিক হিসেবে আমি মনে করি, একটি ভালো সাক্ষাৎকারের সাফল্য শুধু উত্তরদাতার ওপর নির্ভর করে না। প্রশ্নকর্তার প্রস্তুতিও সেখানে সমান গুরুত্বপূর্ণ।

আমি চেষ্টা করেছি প্রচলিত কিছু প্রশ্নের মধ্যে সাক্ষাৎকারকে সীমাবদ্ধ না রেখে এমন জায়গায় যেতে, যেখানে একজন কর্মকর্তা তাঁর কাজকে কীভাবে দেখেন, প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তাকে কীভাবে ব্যাখ্যা করেন এবং ভবিষ্যতের নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় কী ধরনের দক্ষতার প্রয়োজন হতে পারে, সেসব বিষয় উঠে আসে।

তাই আলোচনায় শুধু নির্বাচন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ নয়, বরং অফিস ব্যবস্থাপনা, আচরণ ও শিষ্টাচার, মানুষের সঙ্গে কথা বলার ধরন, দায়িত্ববোধ, প্রশাসনিক দক্ষতা, সরকারি ক্রয় ও উপকরণ ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিভিন্ন অংশীজনের ভূমিকার মতো বিষয়ও সামনে আসে।

সাক্ষাৎকারের সময় আমার মনে হচ্ছিল, নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে আমরা অনেক সময় আইন, ভোট, প্রার্থী, কেন্দ্র ও ফলাফলের দিকে বেশি তাকাই। কিন্তু একজন সাধারণ নাগরিক যখন কোনো সরকারি

প্রতিষ্ঠানের দরজায় যান, তখন প্রতিষ্ঠানের প্রথম পরিচয় তিনি পান সেখানে কর্মরত মানুষের আচরণের মধ্য দিয়ে।

একজন কর্মকর্তা কীভাবে একজন সাধারণ মানুষকে গ্রহণ করছেন, কীভাবে তাঁর কথা শুনছেন, কীভাবে প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন এবং কোনো জটিল পরিস্থিতিতে কীভাবে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করছেন, এসব বিষয়ও প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তির সঙ্গে যুক্ত।

সেই জায়গা থেকেই নির্বাচনী প্রশিক্ষণে আচরণ ও শিষ্টাচারের বিষয়টি আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে।

কারণ নির্বাচন পরিচালনা শুধু প্রযুক্তি বা প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার বিষয় নয়। এর সঙ্গে মানুষের অনুভূতি, প্রত্যাশা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থার বিষয়টিও জড়িয়ে থাকে।

মহাপরিচালকের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনায় ধীরে ধীরে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে উঠল। নির্বাচনী প্রশিক্ষণকে

শুধু নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সীমিত প্রশিক্ষণ হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত পরিসর ধরা যাবে না।

নির্বাচনের সঙ্গে বহু মানুষ ও প্রতিষ্ঠান প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত।

প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, নির্বাচনকর্মী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যমকর্মী, সাংবাদিক, নির্বাচন পর্যবেক্ষক, মানবাধিকারকর্মী, সামাজিক সংগঠন এবং সচেতন নাগরিক সমাজের বিভিন্ন অংশ নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে যুক্ত।

প্রত্যেকের দায়িত্ব আলাদা। প্রত্যেকের সীমারেখাও আলাদা। কিন্তু একটি গ্রহণযোগ্য ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন প্রক্রিয়ার জন্য প্রত্যেকের নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন।

এই জায়গায় প্রশিক্ষণ শুধু দক্ষতা অর্জনের মাধ্যম নয়, দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হওয়ারও একটি প্রক্রিয়া।

সাক্ষাৎকারটি যত দীর্ঘ হচ্ছিল, আমার মনে হচ্ছিল আলোচনাটি আরও গভীরে যাচ্ছে।

সাধারণত দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে একসময় উত্তরদাতার মধ্যে ক্লান্তি চলে আসে। কিন্তু এখানে আমার পর্যবেক্ষণ ছিল ভিন্ন। দীর্ঘ সময় কথা বলার পরও তিনি আলোচনার বিষয় থেকে বিচ্ছিন্ন হননি।

কোনো প্রশ্নের সঙ্গে অন্য কোনো প্রসঙ্গ যুক্ত হলে সেটিও ব্যাখ্যা করেছেন। কোথাও বিষয়টি প্রশাসনিক বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়েছেন, কোথাও প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে যুক্ত করেছেন।

একজন সাংবাদিক হিসেবে এই ধরনের সাক্ষাৎকার আমার কাছে শুধু তথ্য সংগ্রহের কাজ নয়। এটি একটি প্রতিষ্ঠানের ভেতরের চিন্তাভাবনা বোঝার সুযোগও।

একজন সাংবাদিক যখন প্রশ্ন করেন, তখন তাঁর প্রশ্ন সব সময় আরামদায়ক হবে এমন নয়। বিশেষ করে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন হলে সেখানে প্রশাসনিক কাঠামো, আইন, দায়িত্ব, জবাবদিহি এবং বাস্তবতার নানা দিক উঠে

আসতে পারে।

আমি লক্ষ্য করেছি, তিনি প্রশ্নকে ব্যক্তিগতভাবে নেওয়ার পরিবর্তে বিষয় হিসেবে দেখেছেন। ফলে প্রশ্নোত্তরে একটি স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় ছিল।

এ ধরনের পরিবেশ একজন সাংবাদিককে আরও গভীরে যেতে সাহায্য করে।

আমিও চেষ্টা করেছি কোনো প্রশ্নকে অযথা উত্তেজনাপূর্ণ না করে তথ্যভিত্তিক রাখতে। কারণ আমার কাছে সাংবাদিকতার মূল শক্তি হলো প্রশ্ন করার সাহসের সঙ্গে তথ্যের প্রতি দায়বদ্ধতা।

দীর্ঘ আলাপ শেষে আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে উপলব্ধিটি তৈরি হয়েছে, তা হলো নির্বাচনকে শুধু ভোটের দিন দিয়ে বিচার করলে নির্বাচন ব্যবস্থাপনার প্রকৃত চিত্র পাওয়া যায় না।

একটি নির্বাচন সামনে রেখে বহু স্তরে প্রস্তুতি নিতে হয়। মানুষকে প্রস্তুত করতে হয়। কর্মকর্তাদের দক্ষ করতে হয়। অফিসকে প্রস্তুত রাখতে হয়। প্রয়োজনীয় উপকরণ ও

প্রযুক্তির ব্যবস্থাপনা করতে হয়। দায়িত্ব ও আচরণ সম্পর্কে ধারণা দিতে হয়। বিভিন্ন অংশীজনকে তাঁদের নিজ নিজ ভূমিকা সম্পর্কে সচেতন করতে হয়।

অর্থাৎ ব্যালটের আগে মানুষকে প্রস্তুত করতে হয়।

আর সেই মানুষ তৈরির প্রক্রিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হলো প্রশিক্ষণ।

এই সাক্ষাৎকারে মোহাম্মদ হাসানুজ্জামানের বক্তব্য, তাঁর আচরণ, প্রশ্ন গ্রহণের ধরন এবং বিষয় ব্যাখ্যার পদ্ধতি পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে আমার কাছে মনে হয়েছে, নির্বাচনী প্রশিক্ষণকে শুধু একটি দাপ্তরিক কাজ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি একটি বৃহত্তর প্রশাসনিক ও সামাজিক দায়িত্বের অংশ।

সাক্ষাৎকার শেষে যখন তাঁর কার্যালয় থেকে বেরিয়ে আসছিলাম, তখন মনে হচ্ছিল, একটি নির্বাচনের গল্প আসলে ভোটকেন্দ্রের দরজা দিয়ে শুরু হয় না।

তার অনেক আগে শুরু হয় প্রস্তুতি।

প্রশিক্ষণ হয়, মানুষ তৈরি হয়, দায়িত্ব ভাগ হয়, প্রশাসনিক কাঠামো সক্রিয় হয়, প্রযুক্তি প্রস্তুত হয়, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং অসংখ্য মানুষ নিজেদের অবস্থান থেকে একটি জাতীয় প্রক্রিয়ায় যুক্ত হন।

সেই দীর্ঘ প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সামনে বসেই আমি কথা বলেছি নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হাসানুজ্জামানের সঙ্গে।

আমার প্রশ্ন ছিল একজন সাংবাদিকের প্রশ্ন। তাঁর উত্তর ছিল একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার উত্তর। কিন্তু সেই প্রশ্নোত্তরের ভেতর দিয়ে যে বিষয়টি সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে তা হলো, একটি নির্বাচন শুধু ব্যালটের হিসাব নয়।

এটি মানুষ, দায়িত্ব, দক্ষতা, আচরণ, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি, আইন এবং আস্থার সমন্বিত একটি প্রক্রিয়া।

আর সেই কারণেই এই সাক্ষাৎকারকে আমি শুধু একটি সাক্ষাৎকার হিসেবে দেখছি না। এটি নির্বাচনের নেপথ্যে থাকা মানুষ ও প্রস্তুতির  জানালা হিসেবে দেখছি।

“লেখকঃসাংবাদিক গবেষক টেলিভিশন উপস্থাপক।