Home Blog Page 4

বোয়িং কেনার পেছনে ‘গোপন এজেন্ডা নেই’: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

0

বোয়িংয়ের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো ‘গোপন এজেন্ডা নেই’ বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, দেশের প্রয়োজন ও চাহিদা বিবেচনায় উন্মুক্ত পরিবেশে চুক্তির মাধ্যমে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জাতিসংঘ সফর-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশের উড়োজাহাজের বহর আরও বাড়ানো প্রয়োজন। বোয়িং কেনার পেছনে কোনো গোপন এজেন্ডা নেই। প্রয়োজন অনুযায়ী বোয়িং বা অন্য কোনো নির্মাতার কাছ থেকেই উড়োজাহাজ কেনা হবে। চুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, বোয়িংয়ের সঙ্গে উন্মুক্ত পরিবেশেই চুক্তি হয়েছে এবং বিষয়টি গণমাধ্যমের সঙ্গে শেয়ার করা হয়েছে। কোনো দেশ বা প্রতিষ্ঠানকে সন্তুষ্ট করার জন্য নয়, বরং প্রয়োজনের ভিত্তিতেই উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। চুক্তি অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে চারজন মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। বাংলাদেশের বিমান বহরে ঐতিহাসিকভাবে বোয়িংয়ের আধিক্য থাকলেও ভবিষ্যতে মিশ্র বহর প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, নতুন নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালু এবং বাংলাদেশকে এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে হলে বিভিন্ন ধরনের উড়োজাহাজের সমন্বয়ে বহর গড়ে তোলা প্রয়োজন। চাপের মুখে বোয়িং কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এমন ধারণাও নাকচ করেন তিনি। তার ভাষ্য, যাত্রীচাহিদা এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক কার্যক্রম বিবেচনা করেই বহরের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করা হচ্ছে। এদিকে ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে পুনরায় ফ্লাইট চালুর বিষয়ে হুমায়ুন কবির জানান, বিষয়টি নিয়ে কারিগরি মূল্যায়ন চলছে। কারিগরি সমস্যার কারণে রুটটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছিল। এখন পুনরায় চালুর সম্ভাবনা ও প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরের সময় ২২ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এর আগে ৩০ এপ্রিল বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার জন্য আরেকটি চুক্তি করা হয়। দুই দফার চুক্তিতে মোট ২৫টি উড়োজাহাজ কিনতে বাংলাদেশের ব্যয় হবে ৭০ হাজার কোটি টাকার বেশি।

পুঁজিবাজারে ১৭ হাজার ৩৩২ ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীর টাকা ফেরত দেওয়া শুরু

0

পুঁজিবাজারে পাঁচটি ডিফল্টার ব্রোকারেজ হাউজের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ১৭ হাজার ৩৩২ বিনিয়োগকারীর অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিল (আইপিএফ) থেকে পর্যায়ক্রমে তাদের পাওনা পরিশোধ করা হবে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই টাওয়ারের মাল্টিপারপাস হলে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রথম পর্যায়ে মশিহর সিকিউরিটিজের যাচাই করা ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের হাতে চেক তুলে দেওয়া হয়। ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, পাঁচটি ডিফল্টার ব্রোকারেজ হাউজের কারণে মোট ১৭ হাজার ৯২৫ জন বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৭ হাজার ৩৩২ জন, অর্থাৎ প্রায় ৯৭ শতাংশ বিনিয়োগকারী আইপিএফ থেকে অর্থ ফেরত পাবেন। প্রাথমিক পর্যায়ে একজন বিনিয়োগকারী সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পাওনা পুরোপুরি ফেরত পাবেন। আগামী দুই মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এই অর্থ পরিশোধ করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচটি ব্রোকারেজ হাউজ হলো—মশিহর সিকিউরিটিজ, তামহা সিকিউরিটিজ, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ, শাহ মোহাম্মদ সাগীর অ্যান্ড কোম্পানি এবং বাংকো সিকিউরিটিজ। প্রথম ধাপে মশিহর সিকিউরিটিজের বিনিয়োগকারীদের অর্থ দেওয়া হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে বাকি চার প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদেরও পর্যায়ক্রমে অর্থ পরিশোধ করা হবে। চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান পুঁজিবাজার, ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের তথ্যপ্রবাহ আরও কার্যকর ও সমন্বিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আর্থিক তথ্য, লেনদেন ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম একটি সমন্বিত সফটওয়্যারের আওতায় আনা গেলে নজরদারি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে। এতে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার পাশাপাশি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়বে। দীর্ঘদিন ধরে ব্রোকারেজ হাউজে অর্থ আটকে থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তাদের অর্থ ফেরত দিতে আইপিএফ থেকে অর্থ পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিগ্রস্ত ১৭ হাজার ৩৩২ বিনিয়োগকারীর অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। অনুষ্ঠানে বিএসইসির কমিশনার নাফিস আল তারেক, ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার এবং আইপিএফ ফান্ডের চেয়ারম্যান নাসরিন বেগমসহ পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচনী প্রশিক্ষণের বিস্তৃত পরিসর নিয়ে মহাপরিচালক হাসানুজ্জামানের সঙ্গে একান্ত আলাপ নির্বাচন ব্যবস্থাপনা থেকে আচরণ, অফিস পরিচালনা, ক্রয়ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ

মো. কামাল উদ্দিনঃ
নির্বাচন মানেই কি শুধু ভোটের দিন, ভোটকেন্দ্র, ব্যালট পেপার কিংবা ভোট গণনা? নাকি একটি গ্রহণযোগ্য ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন আয়োজনের পেছনে থাকে দীর্ঘ প্রস্তুতি, প্রশিক্ষণ, দক্ষ জনবল, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি, আইন, আচরণবিধি, পর্যবেক্ষণ এবং বহুমাত্রিক অংশীজনের সমন্বিত ভূমিকা?
আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান-এর সঙ্গে দীর্ঘ সময়ের একান্ত আলাপচারিতায় এই প্রশ্নগুলোর অনেকটাই নতুনভাবে সামনে এসেছে।
শান্ত, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাৎকারে তিনি নির্বাচন ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক, প্রশিক্ষণের দর্শন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেশাগত দক্ষতা, অফিস ব্যবস্থাপনা, আচরণ ও শিষ্টাচার, সরকারি ক্রয়ব্যবস্থা এবং নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
তাঁর বক্তব্য ও বিষয় উপস্থাপনের ধরন থেকে স্পষ্ট হয়েছে, নির্বাচনী প্রশিক্ষণকে তিনি কেবল একটি দাপ্তরিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হিসেবে দেখেন না। বরং নির্বাচনকে একটি বৃহৎ প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক অংশীজনের জ্ঞান, দক্ষতা, দায়িত্ববোধ ও পেশাদারিত্ব বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।
প্রশিক্ষণের পরিধি শুধু নির্বাচন কর্মকর্তাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব সচিবালয়ের অধীনে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট রয়েছে। একই সঙ্গে কমিশনের মাঠপর্যায়ে আঞ্চলিক, জেলা এবং উপজেলা ও থানা পর্যায়ে নির্বাচন কার্যালয়ের বিস্তৃত কাঠামো রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এর অধীনে ১০টি আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়, ৬৪টি সিনিয়র জেলা বা জেলা নির্বাচন কার্যালয় এবং ৫১৪টি উপজেলা বা থানা নির্বাচন কার্যালয় রয়েছে।
তবে প্রশিক্ষণের প্রয়োজন কেবল নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। নির্বাচনকে ঘিরে আরও বহু শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকেন।
এর মধ্যে রয়েছেন নির্বাচন পর্যবেক্ষক, সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী, মানবাধিকারকর্মী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন অংশীজন।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটেও স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষক এবং নির্বাচনী সংবাদ সংগ্রহে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য পৃথক নীতিমালা ও নির্দেশিকার তথ্য রয়েছে।
অর্থাৎ একটি আধুনিক নির্বাচন ব্যবস্থায় শুধু ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষিত করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। বরং নির্বাচনকে ঘিরে যাঁরা তথ্য সংগ্রহ করবেন, পর্যবেক্ষণ করবেন, বিশ্লেষণ করবেন কিংবা জনসচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখবেন, তাঁদেরও দায়িত্ব ও সীমারেখা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন।
নির্বাচন ব্যবস্থাপনা মানে বহুমাত্রিক প্রস্তুতি
মহাপরিচালক হাসানুজ্জামানের সঙ্গে আলোচনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি উঠে এসেছে তা হলো, নির্বাচন ব্যবস্থাপনা একটি বহুমাত্রিক কর্মপ্রক্রিয়া।
ভোট গ্রহণ, ভোট গণনা কিংবা ফলাফল প্রকাশের বাইরেও একজন নির্বাচনী কর্মকর্তাকে অনেক ধরনের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন করতে হয়।
অফিস পরিচালনা, সময় ব্যবস্থাপনা, নথি ব্যবস্থাপনা, দায়িত্ববোধ, সহকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয়, সাধারণ মানুষের সঙ্গে আচরণ, বাচনভঙ্গি, শিষ্টাচার, পেশাগত নৈতিকতা, সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং ক্রয় ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলোও একটি দক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
একজন কর্মকর্তা কতটা জ্ঞানী, সেটি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি তিনি সেই জ্ঞান দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কতটা দক্ষতার সঙ্গে প্রয়োগ করতে পারেন, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
একটি প্রতিষ্ঠানের মানুষের সঙ্গে তার আচরণই অনেক সময় পুরো প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি তৈরি করে। তাই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শুধু বিধি-বিধান শেখানো নয়, দায়িত্বশীল আচরণ ও সেবামুখী মানসিকতাও গড়ে তোলা প্রয়োজন।
আচরণ ও বাচনভঙ্গিও পেশাদারিত্বের অংশ
একজন সরকারি কর্মকর্তা প্রতিদিন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। সেখানে তাঁর ভাষা, আচরণ, ধৈর্য, শ্রবণক্ষমতা এবং সমস্যাকে বোঝার সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
সাক্ষাৎকারে মহাপরিচালকের আলোচনায় এই মানবিক ও পেশাগত দিকটির গুরুত্বও উঠে আসে।
প্রশিক্ষণ তাই শুধু বইয়ের জ্ঞান নয়। বাস্তব পরিস্থিতিতে কীভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কীভাবে একজন নাগরিকের কথা শুনতে হবে, কীভাবে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সামলাতে হবে এবং কীভাবে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে, তারও প্রস্তুতি।
আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় জনগণের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক অনেকাংশে নির্ভর করে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আচরণ ও সেবার মানের ওপর। নির্বাচন কমিশনের মতো একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারি ক্রয় ও সম্পদ ব্যবস্থাপনাও প্রশিক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ
সাক্ষাৎকারে সরকারি ক্রয় ও ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
একটি বড় নির্বাচন পরিচালনার জন্য বিপুল পরিমাণ সামগ্রী, সরঞ্জাম ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়। এসব ক্ষেত্রে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার, নিয়ম মেনে ক্রয়, প্রয়োজন নির্ধারণ, সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এখানে প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য শুধু নিয়ম মুখস্থ করানো নয়; বরং নিয়মের পেছনের নীতি ও দায়িত্ববোধ সম্পর্কে কর্মকর্তাদের সচেতন করা।
সরকারি অর্থ জনগণের অর্থ। তাই সরকারি সম্পদের প্রতিটি ব্যবহারের সঙ্গে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা জড়িয়ে থাকে।
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রশিক্ষণ
বিশ্বব্যাপী নির্বাচন ব্যবস্থাপনা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রযুক্তির ব্যবহার, তথ্যের দ্রুত প্রবাহ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য, সাইবার ঝুঁকি, নাগরিক পর্যবেক্ষণ এবং গণমাধ্যমের পরিবর্তিত ভূমিকা নির্বাচনী ব্যবস্থাপনাকে নতুন বাস্তবতার সামনে দাঁড় করিয়েছে।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক কার্যক্রমেও নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক পর্যবেক্ষণ নিয়ে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়টি দেখা যায়। কমিশনের ওয়েবসাইটে এশীয় নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নাগরিক পর্যবেক্ষণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভ্রান্ত তথ্য মোকাবিলা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর ঝুঁকি নিয়ে কর্মশালার তথ্যও রয়েছে।
ফলে আধুনিক নির্বাচনী প্রশিক্ষণের পরিসরও ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে।
দেশের নিজস্ব বাস্তবতা ও আইনগত কাঠামোকে ভিত্তি করে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া এখন সময়ের দাবি। একটি দক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থাপনা কাঠামোকে একই সঙ্গে স্থানীয় বাস্তবতা ও বৈশ্বিক পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে হয়।
ঋণখেলাপি প্রসঙ্গ: প্রয়োজন তথ্যভিত্তিক গবেষণা
আলাপচারিতার একপর্যায়ে ঋণখেলাপি প্রসঙ্গও উঠে আসে।
এ বিষয়ে মহাপরিচালক হাসানুজ্জামান বিষয়টি নিয়ে আলাদাভাবে একটি গবেষণামূলক লেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বিষয়টি নিঃসন্দেহে গবেষণার দাবি রাখে। ঋণখেলাপি, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা, আর্থিক দায়বদ্ধতা, ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধানের মধ্যে সম্পর্ককে আবেগের পরিবর্তে তথ্য, আইন, পরিসংখ্যান ও নীতিগত বিশ্লেষণের আলোকে দেখা প্রয়োজন।
এ ধরনের গবেষণা শুধু নির্বাচনী আলোচনাকেই সমৃদ্ধ করবে না, বরং রাষ্ট্রীয় আর্থিক শৃঙ্খলা ও জনপ্রতিনিধিত্বের প্রশ্নেও নতুন আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রশ্ন
সাক্ষাৎকারে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিভিন্ন পদে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টিও উঠে আসে।
এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়। বর্তমানে উপজেলা পরিষদ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে যোগ্যতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নাগরিক হওয়া, ২৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া এবং সংশ্লিষ্ট ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকার শর্ত উল্লেখ রয়েছে; সেখানে শিক্ষাগত যোগ্যতার পৃথক কোনো শর্ত উল্লেখ নেই।
তবে নির্বাচনসংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা সময়ের সঙ্গে সংশোধিত হতে পারে। তাই কোনো নির্দিষ্ট নির্বাচনের ক্ষেত্রে সর্বশেষ কার্যকর আইন, বিধি ও নির্বাচন কমিশনের প্রজ্ঞাপনই চূড়ান্ত ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
এখানেই নির্বাচনী প্রশিক্ষণের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আইন পরিবর্তিত হলে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদেরও পরিবর্তিত বিধান সম্পর্কে দ্রুত ও সঠিকভাবে প্রশিক্ষিত হতে হয়।
নির্বাচনকে বুঝতে হলে নির্বাচন-পূর্ব প্রস্তুতিকে বুঝতে হবে
আমাদের সাধারণ ধারণায় নির্বাচন বলতে ভোটের দিনটিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। অথচ একটি নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার অনেক আগে থেকেই শুরু হয় বিশাল প্রস্তুতি।
কর্মকর্তা নির্বাচন, দায়িত্ব বণ্টন, প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম প্রস্তুত, ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা সমন্বয়, পর্যবেক্ষণ, গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনা, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, যোগাযোগব্যবস্থা এবং পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম—সবকিছু মিলিয়েই একটি নির্বাচন।
এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার অন্যতম ভিত্তি হলো প্রশিক্ষণ।
প্রশিক্ষণ যত বাস্তবমুখী, আধুনিক ও দায়িত্বকেন্দ্রিক হবে, মাঠপর্যায়ের কাজও তত বেশি সুশৃঙ্খল হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
একজন মহাপরিচালকের সঙ্গে সাক্ষাৎকার, কিন্তু খুলে গেল একটি বৃহৎ চিন্তার দরজা
আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে মহাপরিচালক মোহাম্মদ হাসানুজ্জামানের সঙ্গে আমার এই দীর্ঘ সাক্ষাৎকার আমার কাছে নিছক প্রশ্নোত্তরের একটি পর্ব ছিল না।
বরং এটি ছিল নির্বাচনকে ভিন্ন একটি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার সুযোগ।
আমরা প্রায়ই নির্বাচনকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, প্রার্থী, ভোটার ও ফলাফলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করে দেখি। কিন্তু সেই দৃশ্যের আড়ালে থাকে হাজার হাজার মানুষের দায়িত্ব, অসংখ্য প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, দীর্ঘ প্রশিক্ষণ, আইনগত প্রস্তুতি, প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা এবং বিশাল সাংগঠনিক কর্মযজ্ঞ।
মহাপরিচালক হাসানুজ্জামান অত্যন্ত ধৈর্য ও আন্তরিকতার সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে আমার বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। তাঁর আলোচনায় নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি উঠে এসেছে মানবসম্পদ উন্নয়ন, পেশাগত আচরণ, প্রশাসনিক দক্ষতা, দায়িত্বশীলতা এবং অংশীজনভিত্তিক প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা।
একজন সাক্ষাৎকারগ্রহীতা হিসেবে আমার কাছে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মনে হয়েছে একটি বিষয়—নির্বাচন কেবল একটি দিনের আয়োজন নয়; এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতির নাম।
শেষ কথা
আগারগাঁও থেকে ফেরার পথে মনে হলো, একটি ভোটের পেছনে আসলে কত মানুষের শ্রম, কত দিনের প্রস্তুতি এবং কত স্তরের ব্যবস্থাপনা কাজ করে, তার খুব সামান্য অংশই সাধারণ মানুষের চোখে ধরা পড়ে।
একটি ব্যালটের পেছনে থাকে আইন।
আইনের পেছনে থাকে প্রতিষ্ঠান।
প্রতিষ্ঠানের পেছনে থাকে প্রশিক্ষিত মানুষ।
আর প্রশিক্ষিত মানুষের পেছনে থাকে জ্ঞান, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও নিরন্তর প্রস্তুতি।
সেই অর্থে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ শুধু কর্মকর্তা তৈরির প্রক্রিয়া নয়; এটি একটি আধুনিক নির্বাচন ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা নির্মাণের প্রক্রিয়া।
আর সেই সক্ষমতা যত জ্ঞাননির্ভর, প্রযুক্তিসচেতন, আইনসম্মত, মানবিক ও পেশাদার হবে, নির্বাচনী ব্যবস্থাপনাও তত বেশি প্রাতিষ্ঠানিক পরিপক্বতার দিকে এগোতে পারবে।

কদমতলীতে কাস্টমস কর্মকর্তার ল্যাপটপ-মোবাইল ছিনতাই, গ্রেফতার ১

চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানার কদমতলী এলাকায় কাস্টমস কর্মকর্তার ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের ঘটনায় এক দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় ছিনতাই হওয়া ল্যাপটপটিও উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটের দিকে কদমতলী আটমাসিং থেকে রেললাইনগামী সড়কে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মো. হাসানুজ্জামান খান (৪১) বাসার উদ্দেশে যাওয়ার পথে অজ্ঞাতপরিচয় ছিনতাইকারীরা তাকে জোরপূর্বক আটক করে একটি মোবাইল ফোন ও একটি ল্যাপটপ ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে অজ্ঞাতপরিচয় তিনজনকে আসামি করে মামলা করা হয়। মামলাটি কোতোয়ালি থানার মামলা নম্বর-৪০, তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬; পেনাল কোডের ৩৯২ ধারায় এটি করা হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সাইফুল ইসলাম সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করেন। সদরঘাট থানা পুলিশের সহযোগিতায় সদরঘাট থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মো. আনোয়ার হোসেন (৩১)কে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের দাবি, গ্রেফতার আনোয়ার হোসেন একাধিক মামলার আসামি। তার কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া ল্যাপটপটি উদ্ধার করা হয়েছে। পরে গ্রেফতার আসামিকে যথাযথ পুলিশ প্রহরায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বাকলিয়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, গ্রেফতার ১৫

চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া থানাধীন সৈয়দ শাহ রোডে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সৈয়দ শাহ রোডের মোরশেদ টাওয়ারের সামনে সড়কে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় সংঘর্ষকারীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি রাস্তায় চলাচলরত সিএনজি অটোরিকশার গ্লাস ভাঙচুর করে। এতে জনসাধারণের জানমালের ক্ষতি ও নাশকতার আশঙ্কা তৈরি হয়। খবর পেয়ে পুলিশের টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে সংঘর্ষে সরাসরি জড়িত ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

হতদরিদ্র মেয়ের বিয়েতে আর্থিক সহায়তা দিল এন.ই.এইচ.আর.এফ চট্টগ্রাম জেলা কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:
পরিবেশ ও মানবাধিকার রক্ষায় নিয়োজিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার নিবন্ধিত (নিবন্ধন নং: সি.এইচ.এস-৫৮৫) অন্যতম সামাজিক সংগঠন ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্ট এন্ড হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন (এন.ই.এইচ.আর.এফ) এর চট্টগ্রাম জেলা কমিটির পক্ষ থেকে এক হতদরিদ্র মেয়ের বিয়েতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। চট্টগ্রাম কর্ণফুলী থানাধীন মইজ্জারটেক এলাকার এক অসহায় পিতাকে মেয়ের বিয়ের খরচের জন্য এই সহায়তা প্রদান করা হয়।২৭ সেপ্টেম্বর (রবিবার) বন্দরনগরী চট্টগ্রামের একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত সংগঠনের নবগঠিত জেলা কমিটির পরিচিতি সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই আর্থিক সহায়তার অর্থ তুলে দেওয়া হয়। সংগঠনের চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি লায়ন মোহাম্মদ ফারুক আহম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এন.ই.এইচ.আর.এফ এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ আবদুল আজিজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মোঃ জামাল উদ্দিন। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ আবদুল আজিজ বলেন, সংগঠনের পক্ষ থেকে আজকে যে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে, তা একজন হতদরিদ্র পিতার জন্য অত্যন্ত সহায়ক হবে। সমাজে পিছিয়ে পড়া ও দরিদ্র মানুষের কষ্ট লাঘবে এই ধরনের মানবিক ও সহায়তামূলক কার্যক্রম আমাদের ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম জেলার পরিবেশগত বিপর্যয় রোধ এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক মানবাধিকার রক্ষায় আমাদের মাঠপর্যায়ে জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে। একইসাথে সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সকল নেতৃবৃন্দকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুমিনুল হক খোকন ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক
আব্দুল্লাহ আল মামুনের যৌথ সঞ্চালনায় সভায় সংগঠনের জেলা নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ইনাম ইলাহি চৌধুরী। সহ-সভাপতি অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, মোহাম্মদ ওয়াহিদুর রহমান। সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুর উদ্দিন। সহ-সাধারণ সম্পাদক আব্বাস উদ্দীন, প্রিয়ংকা দত্ত। সাংগঠনিক সম্পাদক লায়ন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সোয়াবুল ইসলাম নিরব। দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ নাইম উদ্দিন ও সহ-দপ্তর সম্পাদক মহিউদ্দীন। মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা শ্রাবনী সুলতানা, সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা উম্মে সালমা, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মনোয়ারা বেগম মনি, সমাজকল্যাণ সম্পাদক শামীমা আক্তার চুমকী, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ শাহীন, আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট সুজা উদ্দিন, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ মোস্তফা এবং সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক মোস্তফা কামাল। কার্যনির্বাহী সদস্য কবির আহাম্মদ, হোসনে আরা বেগম ও আইনুন নাহারসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। পরিচিতি সভা শেষে সভাপতি সবাইকে নৈশভোজে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান এর খাবার গ্রহণ করার অনুরোধ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

ছাত্রদল নেতা জিসানকে অপহরণের পর সড়কে মিলল মরদেহ

কক্সবাজারের চকরিয়ায় কাকারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক ইসফাতুল ইসলাম জিসানকে (২৮) অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অপহরণের প্রায় চার ঘণ্টা পর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কচ্ছপিয়া ঢালা এলাকা থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে কাকারা মাঝের স্টেশনের একটি দোকানের সামনে থেকে জিসানকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা তুলে নিয়ে যায় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, অপহরণের পর জিসানকে চকরিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সবুজবাগ এলাকার ‘কবির টাওয়ারে’ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ। পরে মরদেহ মহাসড়কের পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। চকরিয়া থানার অপারেশন অফিসার ইসমাইল হোসেন মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জিসানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এদিকে জিসান হত্যার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চকরিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউল করিম বাপ্পি। তিনি বলেন, জিসান ছাত্রদলের একজন সক্রিয় ও উদীয়মান নেতা ছিলেন। তাকে অপহরণ করে হত্যার ঘটনায় তারা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা না হলে সাধারণ ছাত্রসমাজকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে চকরিয়া উপজেলা ছাত্রদল।

চট্টগ্রামের যানজট নিরসনে নাগরিক ফোরামের ২৫ দফা স্মারকলিপি নাগরিক উদ্যোগকে স্বাগত কবীর ভূঁইয়ার, যানজট নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রাম মহানগরীর অসহনীয় যানজট নিরসন, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, অবৈধ পার্কিং বন্ধ, লাইসেন্সবিহীন ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের নিয়ন্ত্রণ, ফিটনেসবিহীন ও কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধ এবং অননুমোদিত ব্যাটারিচালিত যানবাহন নিয়ন্ত্রণসহ নগরীর সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ২৫ দফা দাবি জানিয়েছে বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম।
রোববার ২৭ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম নগরীর দামপাড়া পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) হোসাইন মোহাম্মদ কবীর ভূঁইয়ার কাছে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি ও সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান এবং কেন্দ্রীয় মহাসচিব সাংবাদিক লেখক মো. কামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে নাগরিক ফোরামের প্রতিনিধি দল স্মারকলিপি প্রদান করে।
স্মারকলিপি গ্রহণকালে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) হোসাইন মোহাম্মদ কবীর ভূঁইয়া নাগরিক ফোরামের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। নগরীর যানজট নিরসনে নাগরিক সমাজের গঠনমূলক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন। নাগরিকদের উত্থাপিত সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে তিনি ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন।
চট্টগ্রামের যানজট এখন নাগরিক জীবনের বড় সংকট
স্মারকলিপিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম শুধু বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মহানগরী নয়, এটি দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর, শিল্প, ব্যবসা বাণিজ্য, পর্যটন ও আঞ্চলিক যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। দেশের অর্থনীতির একটি বড় অংশের সঙ্গে এ নগরীর কার্যক্রম সরাসরি সম্পৃক্ত।
প্রতিদিন লাখো মানুষ কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজে নগরীর সড়ক ব্যবহার করেন। কিন্তু দীর্ঘদিনের যানজট, ফুটপাত দখল, অবৈধ পার্কিং, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা, অনিয়ন্ত্রিত গণপরিবহন, লাইসেন্সবিহীন চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, কালো ধোঁয়া এবং অতিরিক্ত শব্দের কারণে নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
নাগরিক ফোরামের নেতারা বলেন, যানজটকে শুধু ট্রাফিক পুলিশের সমস্যা হিসেবে দেখলে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এর সঙ্গে নগর পরিকল্পনা, সড়ক ব্যবস্থাপনা, গণপরিবহন, ফুটপাত, বাজার ব্যবস্থাপনা, পার্কিং, পরিবেশ এবং নাগরিক সচেতনতার বিষয়গুলোও সরাসরি জড়িত।
কামাল উদ্দিন: আমরা সমালোচনা নয়, সমাধানের অংশীদার হতে চাই
বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের কেন্দ্রীয় মহাসচিব মো. কামাল উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রামবাসী দীর্ঘদিন ধরে যানজটের দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। প্রতিদিন একজন কর্মজীবী মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকছেন, শিক্ষার্থীরা সময়মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে পারছেন না, রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স যানজটে আটকে পড়ছে এবং ব্যবসা বাণিজ্যেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
তিনি বলেন, “আমরা কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করার জন্য নয়, নগরবাসীর স্বার্থে একটি গঠনমূলক প্রস্তাব নিয়ে পুলিশের কাছে এসেছি। আমরা চাই প্রশাসন ও নাগরিক সমাজ পরস্পরের সহযোগী হয়ে কাজ করুক। চট্টগ্রামের যানজট নিরসন সম্ভব, তবে এর জন্য নিয়মিত অভিযান, পরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।”
কামাল উদ্দিন আরও বলেন, “শুধু অভিযান চালিয়ে কয়েকদিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখলে হবে না। যে কারণে যানজট তৈরি হচ্ছে, সেই কারণ চিহ্নিত করে স্থায়ী সমাধানের পথে যেতে হবে। কোথাও ফুটপাত দখল, কোথাও অবৈধ পার্কিং, কোথাও গণপরিবহনের বিশৃঙ্খলা আবার কোথাও বাজারের পণ্য ওঠানামাই যানজটের মূল কারণ। তাই এলাকাভিত্তিক পরিকল্পনা প্রয়োজন।”
তিনি নাগরিক ফোরামের স্মারকলিপি গ্রহণ ও নাগরিকদের বক্তব্য শোনার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) কবীর ভূঁইয়াকে ধন্যবাদ জানান এবং চট্টগ্রামকে নিরাপদ, স্বচ্ছন্দ ও নাগরিকবান্ধব নগর হিসেবে গড়ে তুলতে পুলিশের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মাহফুজুর রহমান: মাঠের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ট্রাফিক পরিকল্পনা প্রয়োজন
বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি ও সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় মাঠপর্যায়ের বাস্তবতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, একজন পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে মাঠে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি জানেন, যানজটের প্রতিটি এলাকার সমস্যা এক নয়। কোথাও সড়কের ওপর অবৈধ পার্কিং, কোথাও ফুটপাত দখল, কোথাও যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা এবং কোথাও ভারী যানবাহনের চাপ যানজটের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
মাহফুজুর রহমান বলেন, “প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকার জন্য আলাদা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা করতে হবে। শুধু যানজট সৃষ্টি হওয়ার পর পুলিশ মোতায়েন না করে কোন সময় কোথায় যানজট তৈরি হয়, কেন তৈরি হয় এবং কোন ব্যবস্থা নিলে তা কমবে, সে বিষয়ে তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা করা দরকার।”
তিনি নাগরিক সমাজকে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার অংশীদার করার আহ্বান জানান এবং নাগরিক ফোরাম মাঠপর্যায়ের সমস্যা চিহ্নিত করে পুলিশকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও উল্লেখ করেন।
ইতিহাস গবেষক সোহেল মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন: চট্টগ্রামের ঐতিহ্য ও ভবিষ্যৎ দুটিই রক্ষা করতে হবে
ইতিহাস গবেষক সোহেল মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন বলেন, চট্টগ্রামের ইতিহাস শুধু অতীতের গৌরবের ইতিহাস নয়, এটি একটি চলমান নগর সভ্যতার ইতিহাস। বন্দর, নদী, পাহাড়, বাজার, বাণিজ্যপথ ও মানুষের জীবনযাত্রাকে কেন্দ্র করে শত শত বছর ধরে চট্টগ্রামের নগরজীবন বিকশিত হয়েছে।
তিনি বলেন, “একটি ঐতিহাসিক নগর যখন অপরিকল্পিতভাবে সম্প্রসারিত হয় এবং তার সড়ক, ফুটপাত, বাজার ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিবর্তিত হয় না, তখন মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে। চট্টগ্রামের উন্নয়ন পরিকল্পনায় নগরীর ইতিহাস, ঐতিহ্য, ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য এবং ভবিষ্যৎ জনসংখ্যার চাপকে একসঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে।”
সোহেল মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন আরও বলেন, “চট্টগ্রামের রাস্তাঘাট শুধু যানবাহন চলাচলের জায়গা নয়, এগুলো নগর সভ্যতার অংশ। ফুটপাত দখল হলে শুধু একজন পথচারীর চলাচল বাধাগ্রস্ত হয় না, নগরীর নাগরিক সংস্কৃতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই যানজট নিরসনের পাশাপাশি পথচারীবান্ধব ও ঐতিহ্যসম্মত নগর ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা প্রয়োজন।”
তিনি চট্টগ্রামের পুরোনো বাণিজ্যিক এলাকা, বাজার ও ঐতিহাসিক সড়কগুলোর জন্য আলাদা ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি নগরীর উন্নয়ন পরিকল্পনায় ইতিহাসবিদ, নগর বিশেষজ্ঞ, পরিবেশবিদ, প্রকৌশলী, সাংবাদিক ও নাগরিক প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়ার আহ্বান জানান।
সৈয়দ মোহাম্মদ সেলিম: ফুটপাত পথচারীর জন্য
নাগরিক ফোরামের নেতা সৈয়দ মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ফুটপাত দখল চট্টগ্রাম নগরীর যানজটের অন্যতম বড় কারণ। ফুটপাত দখল হয়ে গেলে সাধারণ পথচারী বাধ্য হয়ে মূল সড়কে নেমে আসেন। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি যেমন বাড়ে, তেমনি যানজটও তৈরি হয়।
তিনি বলেন, “ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের জন্য। সেখানে দোকান, মালামাল, মোটরসাইকেল কিংবা ব্যক্তিগত গাড়ি রাখার সুযোগ থাকা উচিত নয়। একদিন অভিযান চালিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর যদি আবার দখল হয়ে যায়, তাহলে সেই অভিযান কার্যকর ফল দেবে না। তাই নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।”
তিনি ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
হামিদ হোসাইন: নাগরিকদের দুর্ভোগ কমাতে কার্যকর উদ্যোগ চাই
চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সভাপতি হামিদ হোসাইন বলেন, চট্টগ্রামের যানজট এখন নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনের বড় দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, “একজন মানুষ কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য যে সময় রাস্তায় ব্যয় করেন, তার একটি বড় অংশ যানজটে নষ্ট হয়ে যায়। একজন রোগী হাসপাতালে যাওয়ার সময় যানজটে আটকে গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তাই যানজটকে ছোট সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।”
হামিদ হোসাইন বলেন, নাগরিক ফোরাম কোনো সংঘাত বা সমালোচনার রাজনীতি করতে চায় না। তারা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নাগরিক সমস্যার সমাধানে কাজ করতে চান।
তিনি অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) কবীর ভূঁইয়ার ইতিবাচক মনোভাবকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নাগরিকদের যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়নে পুলিশ প্রশাসন এগিয়ে এলে নাগরিক ফোরাম সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
দুলাল কান্তি বড়ুয়া: ধারাবাহিক অভিযান ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়
চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক দুলাল কান্তি বড়ুয়া বলেন, যানজট নিরসনে অভিযান যেমন প্রয়োজন, তেমনি অভিযানের ধারাবাহিকতা আরও বেশি প্রয়োজন।
তিনি বলেন, “কয়েকদিন অভিযান পরিচালনার পর যদি আবার ফুটপাত দখল হয়, অবৈধ পার্কিং শুরু হয় এবং যত্রতত্র গাড়ি দাঁড়িয়ে যায়, তাহলে আগের পরিস্থিতিই ফিরে আসে। তাই নিয়মিত মনিটরিং এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা দরকার।”
তিনি রিয়াজউদ্দিন বাজার, টেরিবাজার, চকবাজার, আগ্রাবাদ, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, অক্সিজেন, চাকতাই ও খাতুনগঞ্জসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে এলাকাভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গ্রহণের দাবি জানান।
লায়ন জিল্লুর রহমান শাকিল: প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বাড়াতে হবে
নাগরিক ফোরামের নেতা লায়ন জিল্লুর রহমান শাকিল বলেন, আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার ছাড়া যানজট নিয়ন্ত্রণ কঠিন।
তিনি বলেন, “সিসিটিভি ক্যামেরা, তথ্যভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড়ের যানবাহনের গতিপ্রবাহ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে কোথায় কী ধরনের সমস্যা হচ্ছে তা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব। প্রযুক্তির সঙ্গে দক্ষ জনবল ও মাঠপর্যায়ের কার্যকর ব্যবস্থাপনা যুক্ত হলে যানজট নিয়ন্ত্রণে আরও ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে।”
তিনি জরুরি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও অন্যান্য জরুরি সেবার যানবাহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সড়কে প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত চলাচলের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান।
কবীর ভূঁইয়ার উদ্যোগকে স্বাগত নাগরিক ফোরামের
স্মারকলিপি গ্রহণকালে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) হোসাইন মোহাম্মদ কবীর ভূঁইয়া নাগরিক ফোরামের প্রতিনিধিদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন। নাগরিক ফোরামের পক্ষ থেকে তাঁর এ উদ্যোগ ও ইতিবাচক মনোভাবকে স্বাগত জানানো হয়।
ফোরামের নেতারা বলেন, জনগণের কথা শোনার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের সমস্যা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণের মানসিকতা প্রশাসন ও নাগরিক সমাজের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করে। তারা আশা করেন, স্মারকলিপিতে উত্থাপিত দাবিগুলো সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে পর্যালোচনা করে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
২৫ দফা দাবিতে যা রয়েছে
নাগরিক ফোরামের ২৫ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে যানজটপ্রবণ এলাকাকে বিশেষ ট্রাফিক জোন ঘোষণা, পিক আওয়ারে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন, ফুটপাত সম্পূর্ণ দখলমুক্ত রাখা, অবৈধ পার্কিং বন্ধ, অননুমোদিত ব্যাটারিচালিত যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, লাইসেন্সবিহীন ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন অপসারণ, কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান এবং হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধ করা।
এ ছাড়া রিয়াজউদ্দিন বাজার ও টেরিবাজারে পৃথক ট্রাফিক পরিকল্পনা, চাকতাই ও খাতুনগঞ্জে ভারী যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, আগ্রাবাদ ও বন্দর এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থা, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর ও অক্সিজেনে বিশেষ নজরদারি, সিএনজি অটোরিকশার শৃঙ্খলা, বাসের নির্দিষ্ট স্টপেজ, স্কুল, কলেজ ও হাসপাতাল এলাকায় বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা, সিসিটিভি ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা, জরুরি যানবাহনের জন্য গ্রিন করিডর, ট্রাফিক আইন প্রয়োগে ধারাবাহিকতা এবং নাগরিক অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপিতে সিএমপি, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, বিআরটিএ, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত কার্যক্রমের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
উপস্থিত ছিলেন যারা
স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচিতে বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন এস. এ. মান্নান, বিপ্লব বড়ুয়া, ড. হামিদ হোসাইন, লায়ন মোহাম্মদ মজিবুর রহমান শাহিন, ডা. মো. আনোয়ার হোছাইন (সাদ্দাম), সৈয়দ মোহাম্মদ সেলিম, নাহিদা নাজু, এস. বি. সুমী, লায়ন মো. মীর হোসেন মাসুম, মো. হোসেন , সোহেল, মহিউদ্দীন, দুলাল কান্তি বড়ুয়া, লায়ন মিনহাজুর রহমান চৌধুরী, মোহাম্মদ আলী, মোহাম্মদ মনজুর আলম, মো. বেলাল উদ্দীন, লায়ন ফরহাদুল হাসান মোস্তফা, লায়ন জিল্লুর রহমান শাকিল, শাহ আলম সাজু তালুকদার, মোহাম্মদ মনজুর, মোহাম্মদ বাপ্পি, মোহাম্মদ আলম, মোহাম্মদ ওসমান, হামিদ হোসাইন ও ওয়াহিদ আলম মাস্টার।
কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি ও সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান এবং কেন্দ্রীয় মহাসচিব মো. কামাল উদ্দিন।
চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সভাপতি হামিদ হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক দুলাল কান্তি বড়ুয়াসহ ফোরামের নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
“সমাধানের অংশীদার হতে চায় নাগরিক ফোরাম”
বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের নেতৃবৃন্দ বলেন, চট্টগ্রামের যানজট নিরসন কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। পুলিশ প্রশাসন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, সিডিএ, বিআরটিএ, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠন, ব্যবসায়ী সমাজ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তাদের মতে, চট্টগ্রামের যানজট নিরসনে তাৎক্ষণিক অভিযান যেমন প্রয়োজন, তেমনি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও প্রয়োজন। যানজটের কারণ চিহ্নিত করে এলাকাভিত্তিক ব্যবস্থা, আধুনিক গণপরিবহন, পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা, পথচারীবান্ধব ফুটপাত, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, “আমরা শুধু সমস্যা তুলে ধরতে চাই না, সমস্যার সমাধানের অংশীদার হতেও চাই।”
চট্টগ্রামের সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা হলে শুধু যানজট কমবে না, নগরবাসীর সময় বাঁচবে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল হবে, রোগী ও জরুরি সেবার যানবাহন দ্রুত চলাচলের সুযোগ পাবে এবং নগরীর সামগ্রিক জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
সবশেষে নাগরিক ফোরামের নেতৃবৃন্দ অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) হোসাইন মোহাম্মদ কবীর ভূঁইয়ার ইতিবাচক মনোভাবকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, প্রশাসন ও নাগরিক সমাজের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমেই চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার কার্যকর সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে।
স্মারকলিপি প্রদান শেষে পুলিশ লাইন ক্যান্টিনে বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে একটি টেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে চট্টগ্রাম নগরীর যানজট নিরসনে পুলিশের কার্যক্রমের পাশাপাশি নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের পক্ষ থেকে জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রশাসনের উদ্যোগের সঙ্গে নাগরিকদের সচেতনতা ও স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা যুক্ত হলে যানজট নিরসনে কার্যকর পরিবর্তন আনা সম্ভব।

Shared post

  • Reply
Great job 👍
  • Reply
Congratulations
  • Reply
 

Well Done Applause Sticker

  • Reply

নদী আছে, শুধু নেই প্রাণ

হাওর-বাঁওড় আর নদনদীঘেরা সুনামগঞ্জ। উত্তরে ভারতের মেঘালয় ও খাসিয়া পাহাড়। সেখান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি একসময় প্রাণ ফিরিয়ে দিত জেলার নদীগুলোতে। এসব নদী ছিল মানুষের জীবন ও জীবিকার অন্যতম অবলম্বন। নদীপথে চলত লঞ্চ, কার্গো ও বড় বড় নৌযান। জেলেরা নদীতে মাছ ধরতেন, আর এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ছিল নৌকা। সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই চিত্র। নদী আছে, কিন্তু অনেক নদীতে নেই আগের সেই স্রোত। কোথাও পলি জমে তলদেশ ভরাট হয়েছে, কোথাও দখলে সংকুচিত হয়েছে নদীর বুক। কোথাও বর্জ্য ও প্লাস্টিকের দূষণ, আবার কোথাও নির্বিচারে বালু-পাথর উত্তোলনে বদলে গেছে নদীর তলদেশ ও দুই পাড়ের চেহারা। কয়েকটি নদী শুকিয়ে পরিণত হচ্ছে মরা খাল কিংবা চরে। সুনামগঞ্জের ২৬টি নদীর বাস্তব পরিস্থিতি খুঁজতে গিয়ে উঠে এসেছে এমনই উদ্বেগজনক চিত্র। সুনামগঞ্জের অন্যতম আলোচিত নদী জাদুকাটা। ভারতের খাসিয়া-জৈন্তিয়া পাহাড় থেকে নেমে আসা এ নদীর স্বচ্ছ পানি, নীলাভ প্রবাহ ও দুই পাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দীর্ঘদিন ধরে পর্যটকদের আকর্ষণ করে আসছে। তবে অবাধে বালু-পাথর উত্তোলনে নদীটি এখন অস্তিত্বের সংকটে। জাদুকাটায় অবৈধ ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কোথাও নদীর তলদেশ কেটে বালু তোলা হচ্ছে, আবার কোথাও কাটা হচ্ছে নদীর পাড়। এতে নদীর স্বাভাবিক তলদেশ, প্রবাহ ও পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিদরা। সুনামগঞ্জের নদীগুলোর সংকটের অন্যতম দৃশ্যমান উদাহরণ পুরোনো সুরমা বা মরা সুরমা। প্রায় ৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ এ নদী সুনামগঞ্জ, শান্তিগঞ্জ, দিরাই ও শাল্লা হয়ে ধনু নদীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। একসময় এ নদীপথে বড় নৌযান চলাচল করলেও পলি ও বালু জমে নদীর অনেক অংশ নাব্যতা হারিয়েছে। কোথাও নদীর তলদেশ এতটাই ভরাট হয়েছে যে সেখানে এখন ধান চাষ হচ্ছে। কোথাও আবার মানুষ হেঁটেই নদী পার হচ্ছেন। শান্তিগঞ্জের নারায়ণপুর থেকে পাথারিয়া-শরিফপুর পর্যন্ত প্রায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার অংশের বিভিন্ন জায়গা শুকিয়ে বা ভরাট হয়ে যাওয়ার চিত্র দেখা যায়। হেমন্তে স্থানীয়রা নদীর বুকে ধান চাষ করেন। এমনকি নদীর তলদেশকে মাঠ বানিয়ে যুবকেরা ফুটবল-ক্রিকেট প্রতিযোগিতার আয়োজনও করেন। জাদুকাটার পাশাপাশি নাব্যতা সংকটে ভুগছে রক্তি নদীও। প্রতিবছর মার্চে বিশ্বম্ভরপুরের কাটাখালী-নিয়ামতপুর-সুরমা পর্যন্ত প্রায় দুই থেকে তিন কিলোমিটার এলাকায় ভরাটের কারণে নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নদী দখলের সমস্যা। গৌরারং ইউনিয়নের নিয়ামতপুর, ফিরোজপুর ও নলুয়ারপাড় এলাকায় নদী দখল করে গড়ে উঠেছে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রস্থ কমে কোথাও কোথাও সরু খালে পরিণত হয়েছে রক্তি। অর্থাৎ, এ নদীর সংকট শুধু নাব্যতা হারানো নয়—এর সঙ্গে রয়েছে পলি জমা ও অবৈধ দখলের চাপ। সুনামগঞ্জের প্রাণ সুরমা নদীও রেহাই পায়নি সংকট থেকে। পলি জমে নাব্যতা কমার পাশাপাশি নদীর তীর দখল, বাজারের বর্জ্য, পলিথিন, প্লাস্টিক, গৃহস্থালি ও শিল্পবর্জ্য নদীটির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। জামালগঞ্জ এলাকায় সুরমার দুই পাড়ে গড়ে ওঠা বড় বাজারগুলো থেকে বর্জ্য ও পলিথিন নদীতে ফেলার অভিযোগ রয়েছে। এতে নদীর পানি ও পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা ও পরিবেশবিদরা। সুনামগঞ্জের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নদী কুশিয়ারাও নানা সংকটে জর্জরিত। নদীভাঙন, বালু উত্তোলন ও দখল এর অন্যতম প্রধান সমস্যা। নদীভাঙনে বদলে যাচ্ছে এলাকার মানচিত্র। শাল্লার বিভিন্ন অংশে নদীপথ পরিবর্তনের পাশাপাশি কোথাও চর জেগে উঠছে, যা পরে চাষাবাদের উপযোগী হয়ে উঠছে। আবার নদীভাঙনে বাড়িঘর ও বসতভিটা বিলীন হয়ে বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন অনেক পরিবার। সরেজমিনে দেখা যায়, কুশিয়ারা ও কালনীর মিলনস্থল মার্কুলী টুকচানপুরে স্থায়ীভাবে বাঁধ দেওয়ার পর সেখানে গড়ে উঠেছে বসতি ও বাজার। রক্তি, আপার ধোলাই, সোমেশ্বরী, মনাই, মাই, বৌলাই, কংস, পাটনাই, জাদুকাটা, নাইন্দা, কানদী, কুশিয়ারা, চামতি, দারাইন, মহাসিং, ডাউকা, বিবিয়না, হেরা চামতি, কামারখালী, চলতি, পুরাতন সুরমা, নলজুর ও সুরমাসহ বিভিন্ন সরকারি ও স্থানীয় তালিকায় সুনামগঞ্জের একাধিক নদীর নাম রয়েছে। তবে তালিকাভেদে নদীর সংখ্যা ও নামের কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। কোথাও শাখা-উপনদী, কোথাও মৃত নদীকেও আলাদাভাবে গণনা করা হয়েছে। কিন্তু সংখ্যা যা-ই হোক, মূল প্রশ্ন একটাই—নদীগুলো কি তাদের স্বাভাবিক প্রবাহ ধরে রাখতে পারছে? বাস্তব চিত্র বলছে, সংকট গভীর। কোথাও বালু-পাথর উত্তোলনের চাপ, কোথাও পলি জমে নাব্যতা কমেছে। কোথাও নদী দখল হয়েছে, কোথাও বাজারের বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে পানি। আবার কোনো কোনো নদী হারিয়ে ফেলছে তার স্বাভাবিক প্রবাহ ও অস্তিত্ব। নদী হারিয়ে গেলে শুধু একটি জলধারা হারায় না। হারিয়ে যায় নৌপথ, মাছ, কৃষির পানি, হাওরের স্বাভাবিক জলপ্রবাহ ও জীববৈচিত্র্য। এর সঙ্গে সংকটে পড়ে নদীকে ঘিরে গড়ে ওঠা মানুষের জীবন, জীবিকা ও স্থানীয় অর্থনীতি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানিয়েছেন, সুনামগঞ্জের নদী রক্ষায় প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। নদীগুলো খনন করা গেলে নৌপথ সচল হওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্য ও জেলার অর্থনীতিতেও গতি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পুরো ঘটনা জেনে সালমান মুক্তাদিরের মন্তব্য করা উচিত ছিল: রাশেদ খান

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুরের ঘটনায় মন্তব্য করার আগে পুরো ঘটনা জানা উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তার দাবি, ঘটনাটি কোনো চাঁদাবাজির কারণে নয়; বরং জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন রাশেদ খান। পোস্টে তিনি দাবি করেন, নিউ গিনি প্রোপার্টিজ লিমিটেডের সঙ্গে সাবেক কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তার জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সংলগ্ন এলাকায় ওই কর্মকর্তাদের প্রায় ২৩ কাঠা জমি রয়েছে, যার মধ্যে ৮ কাঠা জমি নিয়ে বিরোধ চলছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। রাশেদ খানের দাবি, সাবেক সরকারি কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন—অতীতে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে ওই ৮ কাঠা জমি দখল করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নিউ গিনি প্রোপার্টিজের মালিক নাজিম উদ্দীনের কাছ থেকে সম্প্রতি ৫ হাজার বর্গফুট জায়গা ভাড়া নিয়ে সালমান মুক্তাদির স্টুডিও স্থাপন করেন। রাশেদ খান আরও দাবি করেন, নিউ গিনি প্রোপার্টিজের নতুন কয়েকটি গেট স্থাপনের পর জমির অন্য মালিকদের প্রবেশ নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েকজন লোক গেট ভাঙতে গেলে ভুলবশত সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতেও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত এবং সংশ্লিষ্টরা চাইলে আইনের আশ্রয় নিতে পারতেন। তার দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে বিএনপি বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা নেই। সালমান মুক্তাদিরের বক্তব্য প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, ‘পুরো ঘটনা জেনে তারপর মন্তব্য করা উচিত ছিল।’ তার দাবি, সব পক্ষের সঙ্গে কথা না বলে বিএনপির লোকজনকে চাঁদা না দেওয়ার কারণে স্টুডিও ভাঙচুর করা হয়েছে—এমন বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। রাশেদ খান আশা প্রকাশ করেন, সালমান মুক্তাদির এবার ঘটনার প্রকৃত তথ্য তুলে ধরবেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ঘটনার জন্য তারা ব্যথিত এবং জড়িতদের যথাযথ শাস্তি ও সালমান মুক্তাদিরের ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে বলে আশা করেন।