
আজ ১৬ জুলাই ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) বিকেলে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও ভাষাতত্ত্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মনীষী, জ্ঞানতাপস ও বহুভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কবি আল মাহমুদ লেখক মিলনায়তনে ইতিহাসের পাঠশালা (দি একাডেমি অব হিস্ট্রি বাংলাদেশ)-এর উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ইতিহাসের পাঠশালার পরিচালক ও ভাষাগবেষক ডা. ম. আ. আ. মুক্তাদীর। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর নাতনী, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক সংগঠক, লেখক ও কবি কাওসার জাহান ফরিদা মনি শহীদুল্লাহ। আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন প্রবীণ লেখক ও ভাষাগবেষক আ. ব. ম. মহিউদ্দিন খান চৌধুরী, ইতিহাসের পাঠশালার পরিচালক ও সম্পাদক সোহেল মোহাম্মদ ফখরুদ-দীন, কবি মতিয়ারা চৌধুরী মিনু, রিয়াদ মাহমুদ খান, রেখা ইসলাম, ইয়াসমিন আরা শেলি, মোহাম্মদ মুনির, বকুল, রফিকুল ইসলাম হামজা, মায়ারাজ, শাহেদ বিপ্লবসহ সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ইতিহাস-গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশিষ্টজন। বক্তারা বলেন, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ছিলেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্য গবেষণার এক অনন্য দিকপাল। বাংলা, আরবি, ফারসি, উর্দু, সংস্কৃত, পালি, ইংরেজিসহ বহু ভাষায় তাঁর অসাধারণ দখল তাঁকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বিশেষ মর্যাদা এনে দেয়। ভাষাতত্ত্ব, সাহিত্য, ইতিহাস ও সংস্কৃতি নিয়ে তাঁর গবেষণা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। আলোচনায় তাঁর অমর বাণী—”যে দেশে গুণের সমাদর নেই, সে দেশে গুণী জন্মায় না”—বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়। বক্তারা বলেন, ড. শহীদুল্লাহ আজীবন জ্ঞানচর্চা, মুক্তবুদ্ধি, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করেছেন। বাংলা ভাষার উৎপত্তি, চর্যাপদ গবেষণা, মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্য এবং ভাষাবিজ্ঞানে তাঁর অবদান জাতির জন্য এক অমূল্য সম্পদ। প্রধান অতিথি কাওসার জাহান ফরিদা মনি শহীদুল্লাহ তাঁর বক্তব্যে পারিবারিক স্মৃতিচারণ করে বলেন, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ জ্ঞানকে মানবকল্যাণের প্রধান শক্তি হিসেবে বিশ্বাস করতেন এবং নতুন প্রজন্মকে গবেষণা, মানবিক মূল্যবোধ ও ভাষাপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানাতেন।