ডেনমার্কের ইতিহাস ও চট্টগ্রামের গর্বিত নক্ষত্র – গোলাম সারোয়ার খান

By admin
5 Min Read

–মো.কামাল উদ্দিনঃ
উত্তর ইউরোপের আকাশে, নীল ধনুকের নীচে যেখানে শীতল বাতাসে ইতিহাসের সুবাস মিশে আছে, সেখানে জেগে আছে এক দেশ—ডেনমার্ক।  যে দেশ এক সময়ের ভাইকিংদের যোদ্ধা, সমুদ্রের নাবিক, আর দূরভ্রমণের প্রতীক। খ্রিষ্টপূর্ব অষ্টম শতাব্দী থেকে দশম শতাব্দী পর্যন্ত এই অঞ্চলের মানুষ পরিচিত হয়ে ওঠে “ভাইকিং” নামে। তাদের নৌকা শুধু জলযান ছিল না, বরং স্বপ্নের ডানা, বিজয়ের প্রতীক এবং ইতিহাসের পৃষ্ঠা। রাজা হারাল্ড ব্লুটুথ তখন দেশকে একত্রিত করে খ্রিষ্টধর্মের আলো ছড়িয়ে দেন। তার নাম আজও বেঁচে আছে প্রযুক্তি বিশ্বের প্রতীক হিসেবে—“Bluetooth”। মধ্যযুগের সময় ডেনমার্ক ধীরে ধীরে রাজতন্ত্রে রূপান্তরিত হয়। ভাল্ডেমার দ্য গ্রেটের নেতৃত্বে দেশ শক্তিশালী হয়, দক্ষিণ সুইডেন ও নরওয়ের বৃহৎ অঞ্চল শাসন করে। ১৪শ শতাব্দীতে ক্যালমার ইউনিয়ন গড়ে ওঠে—ডেনমার্ক, নরওয়ে ও সুইডেন একত্রে রাজত্ব করে। কিন্তু রাজনীতির জটিলতায় সুইডেন বেরিয়ে যায়, ফলে ডেনমার্ক-নরওয়ে একত্রে রাজত্ব চালিয়ে যায়। ১৫৩৬ সালে লুথারিয়ান প্রোটেস্ট্যান্ট সংস্কার আন্দোলন দেশের ধর্মীয় ও সামাজিক রূপান্তর আনে। ১৭শ শতাব্দীর যুদ্ধে দক্ষিণ সুইডেন হারালেও দেশ নতুনভাবে নিজেকে গড়ে তোলে। ১৮১৪ সালে নেপোলিয়নিক যুদ্ধের পর নরওয়ে সুইডেনের অধীনে চলে যায়, এবং ডেনমার্ক হয় ক্ষুদ্র রাজ্য, কিন্তু সাংস্কৃতিক ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ।আধুনিক ইউরোপীয় রাষ্ট্র ১৮৪৯ সালে সংবিধানিক রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়। রাজা থাকলেও সংসদ নির্বাচিত জনগণের হাতে ক্ষমতা। দুই বিশ্বযুদ্ধের সময় ডেনমার্ক নিরপেক্ষ অবস্থান নেয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানি দেশ দখল করলেও, ডেনিশ জনগণ ইহুদি নাগরিকদের রক্ষা করে—এক মানবিক ইতিহাসের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। যুদ্ধ শেষে ডেনমার্ক পুনর্গঠন শুরু করে, ১৯৪৯ সালে ন্যাটো সদস্য হয়, ১৯৭৩ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেয়। পেনহেগেন আজ কেবল রাজধানী নয়, বরং এক মানবিক ও পরিবেশবান্ধব আদর্শ নগরী। চট্টগ্রামের গর্বিত সন্তান – গোলাম সারোয়ার খান ডেনমার্কের ইতিহাসের সঙ্গে এক চট্টগ্রামের সন্তান আজ অঙ্গীভূত। গোলাম সারোয়ার খান, জন্মগ্রহণ করেন আনোয়ারা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পরিবারে। তার বাবা সরফরাজ খান, ছিলেন সেই সময়ের একজন জমিদার এবং রাজনীতিবিদ, যিনি রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর হাত ধরে বিএনপির রাজনীতি তিলে তিলে এগিয়ে নেন। গোলাম সারোয়ার খান সেই ঐতিহ্য, নীতি, দেশপ্রেম ও মানবিক চেতনার উত্তরাধিকারী। ২৫ বছর আগে তিনি বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন—কোনও আর্থিক সংকটের কারণে নয়, বরং রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে। ডেনমার্কে এসে তিনি হারাননি নিজেকে; বরং জ্বেলে তুলেছেন আলোকশিখা— মেধা, শ্রম, নীতি, এবং মানবতার আলো দিয়ে। আজ তিনি প্রবাসী বাঙালি তরুণদের জন্য এক জ্বলন্ত উদাহরণ, যেখানে সাফল্য কেবল অর্থ নয়, মানে সততা, উদারতা, চিন্তা ও কর্মদক্ষতা। আন্তর্জাতিক প্রভাব ও নেতৃত্ব গোলাম সারোয়ার খান এখন:আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশনের দক্ষিণ এশিয়ার কর্মকর্তাডেনমার্ক বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ইউরোপীয়ান বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক তিনি দেশপ্রেমকে শুধুমাত্র আবেগের সীমায় রাখেন না; তিনি এটিকে কর্মদক্ষতা ও মানবিক দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত করেন। দেশনেতা তারেক রহমান তাঁকে নেতৃত্ব ও প্রজ্ঞায় গভীর আস্থা রাখেন। “আগামী বাংলাদেশ গড়ার জন্য যুবশক্তি প্রস্তুত করতে হবে”—এই চিন্তা তাঁর প্রতিটি কর্মকাণ্ডে প্রতিফলিত হয়। মানবিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব আমি তাঁকে চিনি তিরিশ বছর ধরে। তার হাসি, কথাবার্তা, চলন—সবই সাধারণ মানুষের হৃদয়ে পৌঁছায়। তিনি নেতা হলেও কখনও নিজেকে “বড় মানুষ” ভাবেন না; বরং সব মানুষের সঙ্গে মিশে যান। তার ব্যস্ততম সময়ের মাঝেও দেশের ভাবনা ভুলে যান না। সম্প্রতি ২৩ অক্টোবর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে নবযোগদানকৃত জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ, সেখানে তার চিন্তা-চেতনা, দেশপ্রেম এবং অসাম্প্রদায়িকতার আদর্শে প্রেরণা ছড়িয়ে গেল। ইতিহাস ও প্রেরণার সংযোগ গোলাম সারোয়ার খান বলেন, “ডেনমার্কের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে হলে প্রথমে তাদের ইতিহাস জানতে হবে।” ৭০০–৮০০ বছরের ইতিহাস বোঝা, তাদের সংস্কৃতি, নীতি এবং সামাজিক মানসিকতা উপলব্ধি করা—এটাই তাঁকে তৈরি করেছে বহুমুখী প্রতিভাধর নেতা হিসেবে। ডেনমার্কের ইতিহাসের আলোয় তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছেন: একজন পণ্ডিত, একজন দেশপ্রেমিক, একজন মানবাধিকার কর্মী, এবং একজন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি। ডেনমার্কের আকাশে আজ জ্বলজ্বল করছে এক নক্ষত্র—চট্টগ্রামের গর্ব, আনোয়ারার সন্তান গোলাম সারোয়ার খান। তিনি শুধু একজন প্রবাসী নন; তিনি ইতিহাসের আলোয় নিজেকে গড়ে তোলেন, মানবিক, রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক মূল্যবোধকে প্রাধান্য দেন। বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য তার জীবন আর কর্ম প্রমাণ দেয়— সাফল্য আসে সততা, মেধা, শ্রম, উদারতা এবং ইতিহাস বোঝার সঙ্গে। গোলাম সারোয়ার খান আজ কেবল ডেনমার্কে নয়, বিশ্বের মানচিত্রে একটি আলোকিত পথের প্রতীক। যেখানে ইতিহাস, দেশপ্রেম, মানবিকতা এবং নেতৃত্ব একসাথে বেঁধে দিয়েছে এক অনন্য অধ্যায়।

Share This Article
Leave a Comment