মনির চৌধুরী: সময়ের স্রোতে অবিচল এক সংবাদযোদ্ধা

By admin
4 Min Read

-মো.কামাল উদ্দিনঃ
টেলিভিশন সাংবাদিকতায় কিছু নাম কেবল পরিচয় নয় তারা একেকটি মানদণ্ড। সময়ের চাপে, রাজনৈতিক
টানাপোড়েনে, সত্যের ওপর নানামুখী আঘাতের ভিড়ে যাঁরা মাথা নিচু না করে দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন, তাঁরাই প্রকৃত অর্থে নায়ক। মনির চৌধুরী ঠিক তেমনই একজন মানুষ—যিনি নীরবে, নিষ্ঠায় ও প্রজ্ঞায় সাংবাদিকতার কঠিন দায়িত্ব বহন করে চলেছেন দীর্ঘদিন। তিনি শুধু খবর পরিবেশন করেন না, তিনি খবরকে বোঝেন। ঘটনা আর বাস্তবতার মাঝখানে যে সূক্ষ্ম ফারাক মনির চৌধুরী সেই ফারাক ধরতে জানেন। মাঠের সাংবাদিকতা থেকে শুরু করে নিউজরুমের সিদ্ধান্ত, রিপোর্টিংয়ের তীক্ষ্ণতা থেকে উপস্থাপনার ভারসাম্য সবকিছু মিলিয়ে তিনি একজন চৌকস, বুদ্ধিদীপ্ত ও সম্পূর্ণ বহুমুখী সাংবাদিক। চট্টগ্রাম একটি সাধারণ অঞ্চল নয়। এটি ইতিহাসের শহর, আন্দোলনের শহর, বন্দর ও বাণিজ্যের শহর, আবার একই সঙ্গে সামাজিক ও নাগরিক দাবির শহর। এই শহরের সংবাদ ব্যবস্থাপনা মানে কেবল ক্যামেরা তাক করা নয়—এটি দায়িত্ব, সংবেদনশীলতা ও সাহসের সমন্বয়। চ্যানেল S-এর চট্টগ্রাম বিভাগ তাই এমন একজন নেতৃত্বের দাবিদার ছিল, যিনি এই শহরের নাড়ি-নক্ষত্র বুঝে সংবাদকে পথ দেখাতে পারবেন।মনির চৌধুরী সেই জায়গায় একজন স্বাভাবিক নির্বাচন। কারণ তিনি জানেন—কোন সংবাদে চিৎকার দরকার, আর কোন সংবাদে নীরবতা বেশি শক্তিশালী। তিনি বোঝেন, সব ‘ব্রেকিং নিউজ’ সত্যের পক্ষে নয়; আবার অনেক নীরব খবরই সময় বদলে দেয়। তাঁর সাংবাদিকতা আবেগনির্ভর নয়, কিন্তু মানবিক। তিনি ক্ষমতার ভাষা জানেন, আবার সাধারণ মানুষের ভাষাও তাঁর আয়ত্তে। চ্যানেল S-এর চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্ব তাঁর হাতে তুলে দেওয়া মানে একটি স্পষ্ট বার্তা এই চ্যানেল দায়িত্বশীল সাংবাদিকতায় বিশ্বাস করে। এখানে গুজব নয়, তথ্য; পক্ষপাত নয়, ভারসাম্য; ভয় নয়, পেশাগত সাহসই হবে মূল শক্তি। মনির চৌধুরী শুধু একজন সংবাদ কর্মকর্তাই নন; তিনি একজন দূরদর্শী পরিকল্পনাকারী, সংকটের সময়ে দ্রুত সিদ্ধান্তগ্রাহক এবং নিউজরুমের শিক্ষণীয় রূপকার। তাঁর নেতৃত্বে সাংবাদিকরা পায় প্রেরণা, স্বচ্ছতার সংস্কৃতি এবং দায়িত্ববোধ। তিনি জানেন, একটি শক্তিশালী নিউজ টিম গড়ে ওঠে সম্মান, সত্যনিষ্ঠা ও নৈতিকতার ভিত্তিতে। চট্টগ্রামের নানা সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঘটনার জটিলতায় যিনি নিখুঁত সমন্বয় করতে পারেন, তিনি কেবল একজন দক্ষ সম্পাদক নয়, একজন সময়োপযোগী রণনেতা। তিনি জানেন, কখন মাঠে নামতে হবে, কখন বিশ্লেষণ করতে হবে, আর কখন সতর্ক নীরবতা রাখা প্রয়োজন—সত্যকে অক্ষুণ্ণ রাখতে। এই সময়টা টেলিভিশন সাংবাদিকতার জন্য সহজ নয়। রাজনৈতিক চাপ, কর্পোরেট স্বার্থ, দ্রুততার অসুস্থ প্রতিযোগিতা—সব মিলিয়ে সত্য প্রায়ই কোণঠাসা। ঠিক এই সংকটকালেই মনির চৌধুরীর মতো একজন সাংবাদিক প্রয়োজন, যিনি জানেন কোথায় আপস করা যাবে না। তিনি কোনো দলের প্রতিনিধি নন, তিনি সত্যের পক্ষের মানুষ। আর ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—যাঁরা সত্যের পক্ষে থাকেন, সময় শেষে তাঁরাই মানুষের বিশ্বাস অর্জন করেন। মনির চৌধুরীকে চ্যানেল S-এর চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া তাই নিছক একটি সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নয়। এটি একটি দর্শনের ঘোষণা— সাংবাদিকতা এখনো বিবেকের জায়গা থেকে পরিচালিত হতে পারে। যোগ্যতা এখনো নেতৃত্বের প্রধান মানদণ্ড হতে পারে। সাংবাদিকতার উদ্দেশ্য কেবল খবর প্রচার নয়; এটি হলো সমাজের আস্থা, মানুষের জানার অধিকার, এবং সত্যের প্রতি অবিচলতা রক্ষা। চট্টগ্রাম, চ্যানেল S এবং এই সময়ের সাংবাদিকতার জন্য মনির চৌধুরী কেবল একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নন, তিনি একজন প্রয়োজনীয় নায়ক। তিনি প্রতীক, যে প্রতিকূলতায়ও সত্যকে আলোকিত করতে জানেন, যে অন্ধকারে সততার আলো জ্বালাতে সক্ষম। তাঁর নেতৃত্বে চট্টগ্রাম বিভাগ শুধু খবরের কেন্দ্র নয়, এটি হবে এক আদর্শ, এক মানদণ্ড যেখানে সাংবাদিকতার মর্যাদা ও জনসাধারণের আস্থা একত্রে জাগ্রত হয়।

Share This Article
Leave a Comment