
নোয়াখালীর কবিরহাটে আলোচিত আলাউদ্দিন হত্যা মামলায় পিবিআই নোয়াখালী জেলার চৌকস টিমের অভিযানে গ্রেফতার হয়েছে মামলার অন্যতম সন্দিগ্ধ আসামি মোঃ লুৎফুর রহমান ওরফে লাতু (৫৯)। মামলা নং–০২, তারিখ ০৬ জুন ২০২৪, ধারা ৩০২/৩৪ পেনাল কোডে দায়ের করা এ মামলায় দীর্ঘ তদন্তের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) রাশেদুল হকের নেতৃত্বে ১ ডিসেম্বর ২০২৫ সন্ধ্যা ৫টা ৪৫ মিনিটে কবিরহাট থানার যাদবপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। গ্রেফতারের সময় স্থানীয় কবিরহাট থানা-পুলিশ সহযোগিতা করে। তদন্তে উঠে এসেছে—১ মে ২০২৪ রাত ৯টার দিকে নিহত আলাউদ্দিনকে চুরি করার সন্দেহে এজাহারনামীয় ১ নম্বর আসামি এ.কে.এম সিরাজ উল্যাহ (চেয়ারম্যান)–এর নির্দেশে লুৎফুর রহমানসহ অন্য আসামিরা লোহার রড, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করে গুরুতর জখম করে। ঘটনাস্থল ছিল চেয়ারম্যানের বাড়ির পুকুরঘাট এলাকা।পরে আরও ‘বিচার বাকী আছে’—এই বলে আলাউদ্দিনকে চেয়ারম্যানের বাড়ির সম্মুখস্থ দু’তলা আজিমা দরবার হলে আটকে রাখার নির্দেশ দেন সিরাজ উল্যাহ। নির্দেশ অনুযায়ী লুৎফুর রহমান ভিকটিমকে ঘরে নিয়ে আটকে রাখে তদন্ত অনুযায়ী ১ মে রাত ৯টার পর থেকে ২ মে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে কোনো এক সময়ে সুযোগ বুঝে গুরুতর আহত আলাউদ্দিন পালিয়ে কবিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে ৬ মে বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। এজাহার ও তদন্তে প্রকাশ—চেয়ারম্যান সিরাজ উল্যাহ ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হওয়ায় তার স্বজনরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আলাউদ্দিনের পরিবারকে ‘সমাধানের’ আশ্বাস দেয়। ফলে আলাউদ্দিনের বাবা-মা ও আত্মীয়রা ময়নাতদন্ত ছাড়াই চট্টগ্রাম মেডিকেল থেকে লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়িতে দাফন করেন। কিন্তু পরে প্রতিশ্রুত ‘বিচারের’ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় আলাউদ্দিনের পরিবার আদালতের শরণাপন্ন হলে মামলাটি রুজু হয়। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়।
গ্রেফতারের পর ধৃত আসামি লুৎফুর রহমান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। তিনি বলেন—
তিনি চেয়ারম্যান সিরাজ উল্যাহর সহায়-সম্পত্তি দেখাশোনা করতেন। চেয়ারম্যানের নির্দেশে মারধরের পর তাকে আজিমা দরবার হলে আটকে রাখা হয়। ২ মে সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন আলাউদ্দিন পালিয়ে গেছে। আলাউদ্দিন পালিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পিবিআই নোয়াখালীর পুলিশ সুপার আর এম ফয়জুর রহমান (পিপিএম)–এর নির্দেশে মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে তদন্ত করা হয়। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে জোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে পিবিআই জানায়।