মো.কামাল উদ্দিনঃ
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ শুধু একটি ভূখণ্ডের স্বাধীনতার লড়াই ছিল না; এটি ছিল হাজার বছরের জাতিসত্তার অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পাকিস্তানি সেনারা এবং তাদের দেশীয় দোসররা যে হত্যাযজ্ঞ চালায়, তার ভয়াবহতা আজও বিশ্ব বিবেককে নাড়া দেয়। স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে যে, এই যুদ্ধে প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ শহীদ হয়েছেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, স্বাধীনতার পর থেকে নানা সময় শহীদ সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। একদিকে বাংলাদেশের জাতীয় চেতনা ও সাহিত্য-সংস্কৃতিতে “৩০ লক্ষ শহীদ” অমর হয়ে আছে, অন্যদিকে কিছু আন্তর্জাতিক গবেষণায় কম সংখ্যক মৃত্যুর হিসাব দেওয়া হয়েছে। এই দ্বন্দ্বকে কাজে লাগিয়ে পাকিস্তানপন্থী ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী গোষ্ঠী শহীদ সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করে আসছে। প্রশ্ন হচ্ছে, এই বিতর্ক আসলে কার স্বার্থে? ইতিহাস বিকৃতি রোধে আমাদের কী ভূমিকা থাকা উচিত?
১৯৭১ সালে পরাজয়ের পর পাকিস্তানি সেনাদের পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডার লে. জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজী হামুদুর রহমান কমিশনের কাছে এক চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি দেন। নিয়াজী স্বীকার করেন—বাংলাদেশের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা দমন করতে গিয়ে পাকিস্তানি সেনারা ১২ থেকে ১৫ লক্ষ বাঙালিকে হত্যা করেছে। দখলদার বাহিনীর সেনারা বিশেষ করে পাঞ্জাবি ও পাঠান সৈনিকরা নারীদের উপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছে। এমনকি এক বছরের শিশু কন্যাও তাদের পাশবিকতা থেকে রক্ষা পায়নি। পাকিস্তানি সেনারা বাংলাদেশে কয়েক শত কোটি টাকার সম্পদ ধ্বংস করেছে। এই গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের দায় তিনি স্পষ্টভাবে চাপান তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান, সেনাপ্রধান জেনারেল টিক্কা খান এবং পাকিস্তানি সামরিক নেতৃত্বের ওপর। এই স্বীকারোক্তি শুধু একটি ব্যক্তিগত মন্তব্য নয়—এটি পাকিস্তানি রাষ্ট্রযন্ত্রের গণহত্যার সরকারি স্বীকৃতি। অতএব শহীদ সংখ্যা নিয়ে যে কেউ প্রশ্ন তোলে, তাকে প্রথমেই নিয়াজীর এই বক্তব্যের মুখোমুখি হতে হবে।
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে “অপারেশন সার্চলাইট”-এর মাধ্যমে পাকিস্তানি সেনারা ঢাকায় গণহত্যা শুরু করে। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ও সেনাপ্রধান টিক্কা খান ছিলেন এর নেপথ্যের মূল নায়ক। ইয়াহিয়া খান মুক্তিকামী বাঙালিদের দমন করার জন্য পরিকল্পিত সামরিক অভিযান চালান।
টিক্কা খান, যাকে “বুচার অফ বাংলাদেশ” বলা হয়, ঢাকায় প্রবেশের প্রথম দিন থেকেই গণহত্যার নৃশংসতা শুরু করেন।
রাতারাতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা পরিণত হয় লাশের স্তূপে। অধ্যাপক, ছাত্র, বুদ্ধিজীবী, সাধারণ মানুষ—কেউ রক্ষা পায়নি। পরে নয় মাসে পাকিস্তানি সেনারা সারাদেশে পদ্ধতিগতভাবে গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া, মানুষ হত্যা, নারীদের ওপর গণধর্ষণ চালাতে থাকে। আন্তর্জাতিক ইতিহাসবিদরা একে গণহত্যার (Genocide) সঠিক সংজ্ঞার সঙ্গে মিলে গেছে বলে স্বীকার করেছেন। সরকারি প্রচলিত পরিসংখ্যান বাংলাদেশ সরকার বলছে, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ। এই সংখ্যা সরকারি নথি, ভাষণ, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে গভীরভাবে প্রতিষ্ঠিত। আন্তর্জাতিক গবেষণা ও ভিন্ন অনুমান তবে কিছু বিদেশি গবেষণা ভিন্ন চিত্র দিয়েছে—British Medical Journal (২০০৮) : নিহত সংখ্যা ১,২৫,০০০ – ৫,০৫,০০০। Christian Gerlach (২০১৮) : মৃত্যুর সংখ্যা ৫ লাখের কিছু বেশি হতে পারে, তবে ৩০ লাখ নয়। Peace Research Institute ও Uppsala University : প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫৮,০০০ জনের মৃত্যুর অনুমান করেছিল, যা পরবর্তীতে উচ্চতর রেঞ্জে উন্নীত হয়।
কিছু স্বাধীন গবেষক অনুমান করেছেন ৩ লাখ থেকে ৫ লাখ জন নিহত হয়েছেন।
কেন এই পার্থক্য? যুদ্ধ চলাকালে সঠিকভাবে মৃতের সংখ্যা নথিভুক্ত করা সম্ভব হয়নি। গণহত্যা, পাল্টা হামলা, শরণার্থী মৃত্যু, দুর্ভিক্ষে মৃত্যু—সব একসাথে হিসাব করা হয়নি। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পাকিস্তান সবসময় সংখ্যাকে কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করেছে। তবে মনে রাখতে হবে, নিয়াজীর নিজের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পাকিস্তানি সেনারা ১২–১৫ লক্ষ মানুষ হত্যার দায় স্বীকার করেছে। অতএব, কম সংখ্যার দাবিগুলো আসলে অপরাধ ঢাকার প্রচেষ্টা। যুদ্ধ চলাকালে প্রায় ১ কোটি মানুষ ভারত শরণার্থী হয়ে আশ্রয় নেয়। এই বিপুল জনসমাগমে শরণার্থী শিবিরগুলোতে দুর্ভিক্ষ, রোগ, অপুষ্টি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। একটি গবেষণা বলছে, শরণার্থীদের মধ্যে অতিরিক্ত মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৫৬২,৯১৫ জনের, যা ৩,২৩,৫৬২ থেকে ৮,০২,২৬৮ জন পর্যন্ত হতে পারে।প্রচলিত প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রথম দুই মাসে ৩ লাখ রোগে এবং আরও ৩ লাখ অপুষ্টিতে মারা যায়—অর্থাৎ ৬ লাখ শরণার্থীর প্রাণহানি ঘটে। অতএব শহীদদের পাশাপাশি শরণার্থী মৃত্যুর বিষয়টিও মুক্তিযুদ্ধের মানবিক বিপর্যয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শহীদ সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক একাডেমিক গবেষণা থেকে বেশি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে।
১. পাকিস্তানের দায় আড়াল করা
যত কম সংখ্যা দেখানো হবে, তত কম “গণহত্যার দায়” তাদের ওপর বর্তাবে।
২. শহীদদের ত্যাগকে খাটো করা
৩ লাখ বললে তা “যুদ্ধের সাধারণ প্রাণহানি” মনে হতে পারে, কিন্তু ৩০ লাখ মানেই একটি জাতিগত নিধনযজ্ঞ।
৩. ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনাকে ধ্বংস করাই এর লক্ষ্য। প্রশ্ন হচ্ছে—৩০ লাখ না ৩ লাখ, কোনটি সত্য? আসলে মুক্তিযুদ্ধের মূল সত্যটি হলো—বাংলাদেশে সংগঠিতভাবে গণহত্যা হয়েছে। হাজার হাজার নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। লাখো মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছেন। গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই মানবিক বিপর্যয়ের সামনে কোনো সংখ্যা কখনোই যথেষ্ট হতে পারে না। নিয়াজীর স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে যে পাকিস্তান রাষ্ট্র সুপরিকল্পিতভাবে বাঙালিদের নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক আসলে একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। এর উদ্দেশ্য শহীদদের আত্মত্যাগকে খাটো করা এবং পাকিস্তানি সেনাদের অপরাধ আড়াল করা।
আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই—৩০ লক্ষ শহীদ কেবল একটি সংখ্যা নয়, এটি আমাদের জাতির আত্মা, মুক্তির প্রতীক।
ইয়াহিয়া খান, টিক্কা খান, নিয়াজীসহ পাকিস্তানি সামরিক নেতৃত্ব এক ভয়ংকর গণহত্যার অপরাধী। মুক্তিযুদ্ধকে খাটো করার যে কোনো প্রচেষ্টা ইতিহাসের শত্রুতার শামিল। অতএব প্রজন্ম থেকে প্রজন্মকে আমরা জানাতে চাই—বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ কোনো সাধারণ যুদ্ধ ছিল না, এটি ছিল এক অভূতপূর্ব গণহত্যার বিরুদ্ধে স্বাধীনতার মহাযুদ্ধ।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুধু একটি রাজনৈতিক বিপ্লব ছিল না—এটি ছিল অস্তিত্বের সংগ্রাম, যেখানে লাখো মানুষ প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন। সেই আত্মত্যাগই আমাদের স্বাধীনতার মূলভিত্তি। কিন্তু আজও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের নির্দিষ্ট সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক, বিভ্রান্তি ও প্রশ্ন রয়ে গেছে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে দীর্ঘ গবেষণা ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণে কর্ণেল (অব.) অলী আহমদ এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। তাঁর লেখা ও বক্তব্য মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আলোচনায় বারবার উদ্ধৃত হয়। ২০০৩ সালে অক্সফোর্ড ব্রুকস বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পন্ন তাঁর পিএইচডি গবেষণা— “Revolution, Military Personnel and the War of Liberation in Bangladesh”—নিঃসন্দেহে একটি মূল্যবান দলিল। সেখানে তিনি মুক্তিযুদ্ধে সেনা অফিসারদের ভূমিকা নিয়ে বিস্তৃত বিশ্লেষণ করেছেন। তবে লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, সেই গবেষণায় মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয়নি। অথচ এই প্রশ্নটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অন্যতম কেন্দ্রীয় ও সংবেদনশীল অধ্যায়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে, বিশেষত ২০১২ সালের ২৩ মার্চ জাতীয় প্রেসক্লাবে দেওয়া বক্তব্যে, কর্ণেল অলী আহমদ বলেন— “সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী যারা নিহত হয়েছেন, তারাই প্রকৃত শহীদ; আর এ সংখ্যা সর্বোচ্চ আনুমানিক ৩০ হাজার।” এই বক্তব্য প্রচলিত সরকারি হিসাব— ৩০ লক্ষ শহীদ—এর সঙ্গে তীব্র বৈপরীত্য তৈরি করে।
এখানে কয়েকটি প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে—১. তাঁর গবেষণা থিসিসে শহীদদের সংখ্যা কেন স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি? ২. যদি গবেষণার পরিসরে তা স্থান না-ও পেয়ে থাকে, তবে পরবর্তীতে কোন নির্ভরযোগ্য দলিল, সাক্ষ্য বা প্রমাণের ভিত্তিতে তিনি ভিন্ন পরিসংখ্যান উল্লেখ করলেন? ৩. শহীদদের সংখ্যা নিয়ে অস্পষ্ট বা প্রমাণহীন বক্তব্য কি জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে না? কারণ, শহীদের সংখ্যা কোনো সাধারণ পরিসংখ্যান নয়—এটি জাতির আত্মত্যাগ ও অস্তিত্ব সংগ্রামের প্রতীক। তাই একজন মুক্তিযোদ্ধা ও গবেষক হিসেবে কর্ণেল অলী আহমদের বক্তব্যের ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা আরও গভীর হয়ে ওঠে।
১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের পর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে যে নতুন রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়, কর্ণেল অলী আহমদ তখন তাঁর নিকটতম সহযোগীদের একজন ছিলেন। সে সময় তথ্য-উপাত্ত আজকের মতো বিপুল না হলেও, আর্কাইভ ও প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহের সুযোগ ছিল অনেক বেশি। প্রশ্ন জাগে—তখন কেন মুক্তিযুদ্ধের পরিসংখ্যানকে প্রামাণ্যভাবে প্রতিষ্ঠা করা হলো না?
আবার ১৯৯১ সালে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর, কর্ণেল অলী আহমদ ক্ষমতায় থেকে মন্ত্রিত্বের গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন। তখনও তাঁর হাতে ছিল রাজনৈতিক সদিচ্ছা বাস্তবায়নের সুযোগ, প্রশাসনিক কর্তৃত্ব এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা। তাহলে কেন তখনও মুক্তিযুদ্ধের প্রাণহানি, নির্যাতন, অবদান ও ক্ষয়ক্ষতির নির্ভুল পরিসংখ্যানকে রাষ্ট্রীয়ভাবে একক ও স্বীকৃত মানদণ্ডে উন্নীত করা গেল না? বাধা কোথায় ছিল—নীতিনির্ধারণে, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ে, নাকি রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের হিসাব-নিকাশে? ইতিহাস কেবল আবেগে টিকে না, প্রমাণে টিকে। মুক্তিযুদ্ধের পরিসংখ্যান কোনো দলীয় সম্পত্তি নয়—এটি জাতির সম্মিলিত স্মৃতি, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জবাবদিহির দলিল। তাই প্রশ্ন উঠতেই পারে—কী কারণে এতদিনেও তা সম্ভব হয়নি, আর আজ কীভাবে তা সম্ভব করা যায়? শহীদের রক্তের প্রতি প্রকৃত ঋণশোধ হবে তখনই, যখন আমরা বিভ্রান্তি দূর করে ইতিহাসের সত্যকে প্রমাণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করব। কর্ণেল অলী আহমদের কাছে জাতির প্রত্যাশা—তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা, গবেষক ও অভিজ্ঞ রাজনীতিক হিসেবে এই বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেবেন। কারণ শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি কেবল ইতিহাসকেই আঘাত করে না, জাতির আত্মপরিচয়কেও দুর্বল করে। অতএব এখন প্রয়োজন ব্যক্তিগত ব্যাখ্যা নয়, বরং স্বচ্ছ, তথ্যসমৃদ্ধ ও দায়িত্বপূর্ণ উত্তর—যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে আর কোনো দ্বিধা বা বিভ্রান্তিতে না থাকে।
লেখকঃ সাংবাদিক,গবেষক,টেলিভিশন উপস্থাপক ও মহাসচিব, চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম।