‘শিক্ষামূলক প্রচারণায় দৈনিক ভোরের আওয়াজ ও দৈনিক সময়ের আলো-এর যৌথ মতামত–মো.কামাল উদ্দিনঃ

5 Min Read

মো.কামাল উদ্দিনঃ
দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা, আইন মেনে সংবাদ পরিবেশন ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্যের বিরুদ্ধে সতর্কতার আহ্বান: পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজের গঠনমূলক প্রতিবাদের আলোকে দৈনিক ভোরের আওয়াজ ও দৈনিক সময়ের আলোর যৌথ মতামত” লেখার স্বাধীনতা প্রত্যেকেরই অধিকার। তবে এটি মানে এই নয় যে, সব লেখা একই রকম হবে বা একই মত প্রকাশ করবে। একজন সাংবাদিক হিসেবে আমি আমার নিজের চিন্তাভাবনা ও মূল্যবোধের আলোকে লিখি। আমার লেখা যেই উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে—তার পক্ষে বা বিপক্ষে হতে পারে—এটি সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা।
কিন্তু আমার লেখার উপর ভিত্তিহীন, মনগড়া বা বিভ্রান্তিমূলক মন্তব্য দেওয়া কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যজনের লেখায় অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টি করা একজন সভ্য মানুষের কাজ হতে পারে না। এমন মন্তব্যকারীদের প্রতি আমি স্পষ্টভাবে বলছি—আপনারা আপনারা নিজস্ব ভুল বোঝাপড়ার জন্য দায়ী।
যারা আমার লেখাকে হালকা মনে করে, বিনা কারণে বিতর্কিত মন্তব্য করছেন, তাদের আমি অনুরোধ করছি—আমার ফেসবুক পেজ থেকে সরাসরি চলে যান। আমার লেখার উপর কেউ অহেতুক বিতর্কিত মন্তব্য করলে, আমি আইনানুগ ব্যবস্থা নেবার অধিকার সংরক্ষণ করছি এবং প্রয়োজনে তাদের নৈতিকভাবে দায়ী ঘোষণা করতে বাধ্য হব।
আমি কখনো আমার লেখার উপর মতামত আহ্বান করি না। তাই নিজের স্বাধীনতা ও শান্তির জন্য অনুরোধ—অপ্রয়োজনীয় ও বিভ্রান্তিমূলক মন্তব্য থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়ে আমি এই লেখাটি উপস্থাপন করছি –
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মাননীয় কমিশনার হাসিব আজিজ সাহেব সম্প্রতি একটি গঠনমূলক ও সময়োপযোগী প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁর এই প্রতিবাদ মূলত বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচারের বিরুদ্ধে, যা জনমনে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অযথা আতঙ্ক তৈরি করে। আমরা, দৈনিক ভোরের আওয়াজদৈনিক সময়ের আলো, দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে সর্বাধিক প্রয়োজন দায়িত্বশীলতা। সংবাদ কেবল একটি তথ্য নয়—এটি মানুষের মনোজগতে প্রভাব বিস্তার করে, সমাজকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে অথবা উল্টোভাবে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। তাই যেকোনো ভ্রান্ত, বিকৃত বা অর্ধসত্য সংবাদ কেবল পুলিশ ও প্রশাসনের প্রতি জনআস্থা নষ্ট করে না, বরং তা জাতীয় স্বার্থেরও পরিপন্থী। কমিশনার হাসিব আজিজ যথার্থভাবেই বলেছেন— “অপপ্রচার কখনোই আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক নয়।” তাঁর এই বক্তব্য আমাদের গণমাধ্যমের জন্য এক অনন্য শিক্ষা। আমাদের যৌথ আহ্বানঃ ১️সংবাদ প্রচারের আগে তথ্য যাচাই অপরিহার্য করা হোক।২️বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার থেকে সর্বদা বিরত থাকা হোক। ৩️পুলিশের ইতিবাচক কর্মকাণ্ড, জনসেবামূলক উদ্যোগ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রচেষ্টা গণমাধ্যমে নিয়মিতভাবে প্রচারিত হোক। ৪️জনগণের কাছে সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ বার্তা পৌঁছে দিয়ে সমাজে শান্তি, আস্থা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা হোক।
আমরা মনে করি, পুলিশ কমিশনার সাহেবের এই প্রতিবাদ সংবাদমাধ্যমকে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার দিকে আরও মনোযোগী করবে। দৈনিক ভোরের আওয়াজদৈনিক সময়ের আলো বিশ্বাস করে—সুস্থ সাংবাদিকতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঠিক দিকনির্দেশনা মিলিত হলে সমাজে ন্যায়, শান্তি ও আস্থার পরিবেশ নিশ্চিত হবে।
বাংলাদেশের আইনে ছবি-ভিডিও ধারণ ও প্রচার সম্পর্কিত বিষয়-বাংলাদেশে ছবি বা ভিডিও ধারণ ও প্রচার নিয়ে স্পষ্ট কিছু আইন বিদ্যমান, যা সাংবাদিক, প্রশাসন ও সাধারণ নাগরিক সবার জানা জরুরি।
১. সংবিধান অনুযায়ী গোপনীয়তার অধিকার-বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে—প্রত্যেক নাগরিকের ব্যক্তিগত জীবন, ঘরবাড়ি ও যোগাযোগে গোপনীয়তার অধিকার রয়েছে। অর্থাৎ কারো অনুমতি ছাড়া তার ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও ধারণ ও প্রচার গোপনীয়তা লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হতে পারে।
২. ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮-কারো অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করলে তা অপরাধ।যদি সেই ছবি/ভিডিওর কারণে মানহানি, অপমান বা হয়রানি ঘটে, তবে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে। ৩. দণ্ডবিধি (Penal Code), ১৮৬০
অনুমতি ছাড়া ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করে মানহানি করলে ধারা ৫০০-৫০১ অনুযায়ী অপরাধ। ছবি/ভিডিও দিয়ে ভয় দেখানো বা ব্ল্যাকমেইল করলে ধারা ৫০৩ অনুযায়ী অপরাধ। ৪. সরকারি কর্মকর্তা/পুলিশের ছবি বা ভিডিও দায়িত্ব পালনের সময় সার্বজনীন স্থানে পুলিশ বা সরকারি কর্মকর্তার ছবি/ভিডিও ধারণ সাধারণত অপরাধ নয়। তবে যদি তা তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করে, নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে বা অপমানজনকভাবে ব্যবহার করা হয়, তবে তা অপরাধ বলে গণ্য হবে।
বিশেষ স্থানে যেমন—সেনানিবাস, আদালত, কারাগার বা সংবেদনশীল সরকারি দপ্তর—ছবি/ভিডিও তোলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ৫. সাইবার ট্রাইব্যুনাল-অনুমতি ছাড়া ছবি/ভিডিও প্রচার হলে ভুক্তভোগী থানায় জিডি/মামলা করতে পারবেন। মামলা হলে বিষয়টি সাইবার ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন হবে। সারসংক্ষেপ-অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত ছবি/ভিডিও ধারণ বা প্রচার আইনত অপরাধ।  সরকারি কর্মকর্তা/পুলিশের ছবি সার্বজনীন স্থানে তোলা সবসময় অপরাধ নয়, তবে অপব্যবহার করলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।  সংবেদনশীল এলাকায় অনুমতি ছাড়া ছবি/ভিডিও ধারণ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। দৈনিক ভোরের আওয়াজদৈনিক সময়ের আলো মনে করে—দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা, সত্য প্রচার এবং আইন মেনে সংবাদ পরিবেশনই হবে একটি গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ বাংলাদেশের পথপ্রদর্শক।

Share This Article
Leave a Comment