ওসি আফতাব উদ্দিনের নেতৃত্বে চান্দগাঁও থানার দুর্ধর্ষ অভিযান: কালুরঘাটে বালু ব্যবসায়ী গুলির মূল আসামিসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার, গ্রেফতার ৫-মো.কামাল উদ্দিনঃ

3 Min Read

মো.কামাল উদ্দিনঃ
চট্টগ্রাম মহানগরের চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিনের বিচক্ষণ নেতৃত্ব ও সাহসী অভিযানে আবারও বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে পুলিশ। কালুরঘাট এলাকায় এক বালু ব্যবসায়ীকে লক্ষ্য করে সংঘটিত গুলির ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামিসহ মোট ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে বিপজ্জনক দেশীয় অস্ত্র, ধারালো রামদা, রড ও একটি দেশীয় তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পেছনের কাহিনি:
গত সপ্তাহে চট্টগ্রামের কালুরঘাট এলাকায় একটি বালু ঘাটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আধিপত্য বিস্তারকারী দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ চরমে পৌঁছায়। এরই জেরে একদল দুর্বৃত্ত প্রকাশ্য দিবালোকে এক সাহসী বালু ব্যবসায়ীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুরুতর আহত ব্যবসায়ীকে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনা এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নড়বড়ে করে তোলে এবং জনগণের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযানের বিস্তারিত:
ঘটনার পরপরই ওসি আফতাব উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি গোয়েন্দা টিম গঠন করে তদন্ত শুরু করা হয়। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ১ আগস্ট গভীর রাতে চান্দগাঁও থানার আওতাধীন একটি এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
অভিযান পরিচালনার সময় পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্য এবং তারা ডাকাতির পরিকল্পনা করছিল। তাদের সঙ্গে থাকা ব্যাগ ও আশপাশ থেকে উদ্ধার করা হয় একাধিক দেশীয় তৈরি ধারালো অস্ত্র, রড, রামদা এবং একটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র।
মূল হোতা ধরা পড়েছে:
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন হচ্ছেন বালু ব্যবসায়ী গুলির ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামি। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন এবং বিভিন্ন এলাকায় গা-ঢাকা দিয়ে অবস্থান করছিলেন বলে পুলিশ জানায়। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরেই চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
জনগণকে আশ্বস্ত করলেন ওসি আফতাব উদ্দিন:
গ্রেফতারের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওসি আফতাব উদ্দিন বলেন—
“আমি নিশ্চিত করতে চাই, এই ঘটনায় কোনো নিরীহ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন। আমরা শুধু প্রকৃত অপরাধীকেই আইনের আওতায় আনছি। যারা গুলি চালিয়েছে, যারা অপরাধ সংগঠিত করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধী যেই হোক না কেন, ছাড় নেই।” তিনি আরও বলেন,
“চান্দগাঁও থানাকে নিরাপদ রাখতে আমরা নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য, সাধারণ মানুষ যেন শান্তিতে বসবাস করতে পারে।”
আইনি ব্যবস্থা: পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা রুজু করা হয়েছে। এছাড়া আহত ব্যবসায়ীর দায়েরকৃত মামলায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে তদন্ত কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে তাদের রিমান্ড আবেদন করা হবে, যাতে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে গুলির পেছনের মূল পরিকল্পনাকারী ও অস্ত্র সরবরাহকারীদের চিহ্নিত করা যায়।
অভিযানে প্রশংসার জোয়ার:
এই সফল অভিযানের খবরে স্থানীয় বাসিন্দারা ওসি আফতাব উদ্দিনকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তারা বলেন,
“ওসি সাহেব না থাকলে এরা ধরাই পড়তো না। ওনার মতো পুলিশ অফিসার দেশের প্রতিটি থানায় দরকার। তিনি আমাদের অভিভাবকের মতো কাজ করছেন।”
ওসি আফতাব উদ্দিনের নেতৃত্বে এই অভিযান শুধু অপরাধীদের গ্রেফতারই নয়, বরং আইনের শাসনের শক্ত বার্তা। অপরাধ করে কেউ রেহাই পাবে না—এই বিশ্বাস আজ চান্দগাঁওবাসীর হৃদয়ে প্রোথিত। এটি ছিল একটি উদাহরণস্বরূপ অভিযান, যা অন্য থানাগুলোকেও অনুপ্রাণিত করবে। পুলিশের পেশাদারিত্ব, দায়িত্ববোধ ও সততার চিত্র ফুটে উঠেছে এই অভিযানে।

Share This Article
Leave a Comment